📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 প্রকাশনার বৈশিষ্ট্য

📄 প্রকাশনার বৈশিষ্ট্য


প্রকাশিত উপকরণ ও মাধ্যম স্বয়ং নিজে কোন যোগাযোগ ও সংযোগের মাধ্যম নয়; বরং তার মূল উদ্দেশ্য সাধারণ লোকেরা তা পড়ুক, তার পয়গাম গ্রহণ করুক, সেটা ভালভাবে বুঝুক ও আত্মস্থ করুক। এক কথায়, তার অভ্যন্তরের পয়গামই মূল কথা। আর তখনই কেবল বলা যেতে পারে, মিডিয়ার মাধ্যমে দেয়া পয়গাম পৌছে গেছে, কিন্তু নিম্নবর্ণিত অবস্থাগুলোর কারণে যদি এই পয়গাম পৌঁছতে না পারে তাহলে আমরা আমাদের উদ্দেশ্য অর্জনে ব্যর্থ বলে অভিহিত করব।
০১. প্রকাশনা যদি সঠিক সময়ে প্রকাশিত না হয় এবং সেসব লোকের হাতে সময়মতো না পৌঁছে, যাদের সাথে এর সম্পর্ক।
০২. উপযুক্ত সময়ে পৌঁছলেও তা ব্যাপকভাবে পঠিত না হলে।
০৩. সঠিক সময়ে পৌঁছে গেছে, তা পাঠও করা হয়েছে, কিন্তু তার ভেতরের পয়গাম বোঝা হয়নি।
০৪. সঠিক সময়ে পৌছে গেছে, তা পাঠও করা হয়েছে, তার পয়গামও বোঝা গেছে, কিন্তু তা তৈরিতে সামান্য ভুল রয়ে গেছে। প্রকাশনায় উপস্থাপিত চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণার জ্ঞানগত ও শৈল্পিক দুর্বলতা, অনুপযুক্ত সময়ে সেসব প্রকাশনার প্রচার-প্রসার কিংবা অধিক ভুলের কারণে তার গুরুত্ব ও উপকারিতা নিঃশেষ হয়ে যায়।
০১. প্রকাশনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, বিপুল হারে তা প্রচার-প্রসার হয়, তার প্রভাব-প্রতিক্রিয়া সুদূরপ্রসারী ও স্থায়ী হয় এবং তা খুব সহজেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত করা যেতে পারে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর লোকেরা তা থেকে উপকৃত হতে পারে, একাধিকবার তা পাঠ করা যায় এবং একাধিক ব্যক্তি তা থেকে উপকৃত হয়। এভাবে প্রকাশনা তার নির্ধারিত পয়গাম ও উদ্দেশ্যাবলী মন মস্তিষ্কে সুদৃঢ় করে দিতে বুনিয়াদী ভূমিকা পালন করে। কারণ একই পয়গাম বার বার বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়ে থাকে।
লিখিত উপকরণ ও মাধ্যম এদিক দিয়েও অন্যের ওপর প্রভাবশীল হওয়ার শক্তি সামর্থ্য রাখে যে, পাঠক নিজের মতামত গঠনের ব্যাপারে সম্পূর্ণ স্বাধীন। পাঠক চিন্তা-ভাবনা দ্বারা কাজ নেয় এবং চিন্তা করে। দুই তিন বার তা পাঠ করে সে ওইসব বিষয়বস্তুর সমালোচনা করে অথবা গ্রহণ করে নেয়। এভাবে পাঠক ও লেখকের মাঝে একটি নিরব আলোচনা চলে, যা उभয়ের মাঝে চালু থাকে। এই নিরব অধ্যয়নের মাঝে পাঠককে সর্বাবস্থায় গ্রন্থের বিষয়বস্তুর প্রভাব-প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করতে হয়। এর অনিবার্য ফল হলো, পাঠকের মন মস্তিষ্কে সে চিন্তা-চেতনা ছেয়ে যায় এবং বিষয়বস্তুর প্রাণ পাঠকের চিন্তা-চেতনায় সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে, যা শিক্ষক থেকেও বেশি প্রভাবশালী ও প্রতিক্রিয়াশীল হয়। এর মৌলিক কারণ হলো, লিখিত শব্দাবলীর মধ্যে মন-মস্তিষ্কের ওপর প্রভাবশালী হওয়ার যাদুকরী শক্তি আছে। তবে শর্ত হলো, সে প্রকাশনা তৈরিতে শৈল্পিক দক্ষতা থাকতে হবে এবং বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় দিক দিয়ে শক্তিশালী পদ্ধতি হতে হবে। এরপরই লিখিত শব্দাবলী পাঠকের অনুমতি ছাড়াই অতি নিরবে তা হৃদয়ে পৌঁছে যায় এবং পাঠকের আবেগ অনুভূতি সে বিষয়বস্তুর প্রবক্তা ও জোরালো সমর্থক সাহায্যকারী হয়ে যায়।
০২. লিখিত শব্দাবলী ও বিষয়বস্তুর মর্ম উপলদ্ধি করতে পাঠক কারো মুখাপেক্ষী হয় না। সে সরাসরি তা থেকে উপকৃত হয় এবং সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে বিষয়বস্তুর মূল্য মান নির্ধারণ করে। কোন জিনিস তার ওপর চাপিয়ে দেয়া হয় না।
০৩. লিখিত বিষয় পড়া দ্বারা পাঠকের ব্যক্তিত্ব এবং আত্মবিশ্বাস শক্তিশালী হয়। সে নিজেই তার বিবেক ও চিন্তাশক্তি দ্বারা লিখিত বিষয়ের মর্মের গভীরে পৌঁছতে পারে এবং তার ইশারা-ইঙ্গিত ও জটিলতার সমাধান করে। অন্য ভাষায় সে শিক্ষকের ভূমিকা পালন করে। এটি প্রসিদ্ধ মনস্তাত্ত্বিক বাস্তবতা যে, পাঠক যখন নিজেই নিজের শিক্ষকের ভূমিকা পালন করে এবং নিজেকে উপদেশ ও শিক্ষা দেয়ার দায়িত্ব আঞ্জাম দিতে থাকে, তখন গ্রন্থের বিষয়বস্তু তার ব্যক্তিত্বের মধ্যে ভালভাবে গেঁথে যায়। এর অর্থ এটা ছাড়া আর কিছুই নয় যে, লিখিত বিষয়বস্তু বোঝার ক্ষেত্রে ইতিবাচক দিকের প্রাধান্য রয়েছে। দ্বিতীয়ত এর ফলে পাঠকের ব্যক্তিত্ব এবং কোনো বিষয়বস্তু দ্বারা আশ্বস্ত হওয়া, অন্যকে তা দ্বারা আশ্বস্ত করার বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তি ও যোগ্যতা প্রমাণিত হয়। একে মনস্তত্ত্ববিদরা কর্মের মাধ্যমে শিক্ষা নামে আখ্যায়িত করেন।
০৪. লিখিত শব্দাবলী পাঠ করার ফলে পাঠকের ওপর সামাজিক দায়িত্ব অর্পিত হয়। তার মধ্যে আরো বেশি জ্ঞান অর্জন এবং অন্যের নিকট তা স্থানান্তর করার আগ্রহ ও চেতনা সৃষ্টি হয়। যখন মূর্খ লোক শিক্ষিত লোকের মুখ থেকে নতুন জ্ঞান ও উদ্ভাবনের কথা শুনে তখন তার মধ্যে জ্ঞান অর্জনের আগ্রহ উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। অপরদিকে পাঠকের ইচ্ছা হয়, সে আরো জ্ঞান অর্জন করুক এবং তার জ্ঞান শুধু তার সমাজ, দেশ ও জীবন সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ না থাকুক; বরং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সমস্যা সংকট, চিন্তা-দর্শন, মতবাদ, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ সম্পর্কেও জ্ঞান অর্জন করুক।
০৫. লিখিত শব্দাবলী পাঠে পাঠকের জ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তিক কল্পনার জগতে ডুব দেয়ার সুযোগ ঘটে। সে পড়ার চেয়ে বেশি বুঝে ও চিন্তা করে। যতটা না সে বুঝে কল্পনার জগতে তার চেয়ে বেশি বিচরণ করে। কখনো চিন্তা করলে আরো বোঝার চেষ্টা করে। কখনো সে কল্পনার পাখা লাগিয়ে উড়ে এবং কখনো তার বিবেক ও বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তিকে সমস্যা সংকটের সমাধানে ব্যবহার করে।
০৬. পত্র পত্রিকা ও ম্যাগাজিনের লেখাগুলোতে নিম্নবর্ণিত শৈল্পিক বৈশিষ্ট্যাবলী নিহিত রয়েছে:
ক. সাধারণ ও বিশেষ সর্বশ্রেণীর জন্য সাংবাদিকতার লেখা নবতর জ্ঞানের ভাণ্ডার হয়।
খ. সাংবাদিকতার লেখা দ্বারা জাতির মধ্যে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ঐক্য সৃষ্টি হয়, যার ফলাফল অনেক গভীর ও সুদূরপ্রসারী।
গ. সাংবাদিকতার পাতায় প্রকাশিত সাক্ষাতকার, সেমিনারের রোয়েদাদ, গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ-নিবন্ধ, সামাজিক ও জ্ঞানমূলক জরিপ, বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন, সরকারের বিবৃতি ও ঘোষণা জাতির অর্থনৈতিক তৎপরতার অগ্রগতিতে মৌলিক ভূমিকা পালন করে।
ঘ. সাংবাদিকতা এমন এক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দর্পণ, যার মধ্যে জীবন প্রাণ-চাঞ্চল্য ও শক্তিতে ভরপুর দৃষ্টিগোচর হয়। তাতে ব্যক্তি, দল ও সরকারের চিত্র দেখা যায়।
ঙ. সাংবাদিকতাকে আমরা যুগের সাক্ষী এবং প্রত্যক্ষদর্শীও বলতে পারি, যার মধ্যে গোটা দুনিয়া গুটিয়ে যায়।
চ. আধুনিক যুগের সাংবাদিকতা মুদ্রণের অসাধারণ সহজলভ্যতা, রঙিন ছাপা, স্যাটেলাইটের সুযোগ-সুবিধা, উন্নত থেকে উন্নততর শৈল্পিক উদ্ভাবন, সর্বোন্নত বিন্যাস ও সংকলন পদ্ধতি, উপরন্তু সর্বনিম্ন মূল্য, বেশির থেকে বেশি তাজা সংবাদ এবং সকল প্রকার রুচিসম্পন্ন পাঠকের চিত্তাকর্ষক পঠনসামগ্রীর উপস্থিতি এবং সর্বত্র পাওয়া যাওয়ার কারণে অনেক আকর্ষণীয় ও হৃদয়গ্রাহী হয়ে গেছে। সাংবাদিকতা জীবনের এক বিরাট বড় অংশের ওপর তার আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। কারণ সাংবাদিকতা যত অসাধারণ দ্রুততার সাথে লোকদের নিকট পৌঁছতে পারে, অন্য কোেনা লেখা তত দ্রুত লোকদের নিকট পৌঁছতে পারে না। এজন্য সাংবাদিকতার প্রভাব-প্রতিক্রিয়াও বড় দ্রুততা এবং শক্তিমত্তার সাথে প্রসার লাভ করে।

📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 শ্রবণ উপকরণ

📄 শ্রবণ উপকরণ


মানব জীবনে রেডিও শ্রবণের যে প্রভাব-প্রতিক্রিয়া পড়ে তার বিশ্লেষণ করার পূর্বে সে সংবাদ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পড়া উচিত যাতে বলা হয়েছে, কোরিয়ার যুদ্ধের সময় কমিউনিস্ট সরকার যখন সিউল দখল করে নেয়, তখন সর্বপ্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সিউলের জনগণের নিকট বিদ্যমান সকল রেডিও জব্দ করে নেয়। অথচ রেডিও স্টেশন দখল করে নেয়ার পর এর কোন প্রয়োজন ছিল না। সমাজতান্ত্রিক সরকার এই পদক্ষেপ এজন্য গ্রহণ করেছিল, যাতে সিউলের জনগণ গোপন স্টেশন থেকে প্রচারিত রেডিওর কোনো সংবাদ শুনতে না পারে। সেকালে কোরিয়ায় রেডিও রাখা এবং ভিনদেশ থেকে প্রচারিত সংবাদ শ্রবণের শাস্তি ছিল মৃত্যুদন্ড। এ খবর দ্বারাই আপনি অনুমান করুন, মানুষের বিবেক বুদ্ধি ও চেতনা গঠনে রেডিও কত ভয়ানক ভূমিকা পালন করে।

📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 মানব জীবনে রেডিও'র প্রভাব-প্রতিক্রিয়া

📄 মানব জীবনে রেডিও'র প্রভাব-প্রতিক্রিয়া


মানব জীবনে রেডিও'র বিভিন্নমুখী প্রভাব-প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
০১. রেডিও মানব শরীরের শুধুমাত্র কানের সাথে সম্পর্ক রাখে এবং কানই তার কেন্দ্রবিন্দু। মানুষ যখন কোনো জিনিসের ওপর তার মানসিক মনোযোগ নিবদ্ধ করতে চায় তখন কিছু সময়ের জন্য সে তার চক্ষু বন্ধ করে নেয়। এভাবে সে তার স্মৃতিশক্তির ওপর জোর দিয়ে তাকে আরো বেশি সক্রিয় ও কর্মতৎপর করে তুলতে এবং তার কল্পনাশক্তিকে সচেতনতা ও পূর্ণ শক্তি দিয়ে কাজ করার সুযোগ দিতে চায়, যাতে সে কল্পনা তার স্মৃতিতে ভালভাবে স্থান করে নেয়।
অতঃপর কখনো ভুলে না যায়। আর রেডিও শুনে যে চিন্ত-ভাবনা তার মাঝে সৃষ্টি হয়েছে বিস্তারিত ও আংশিক কিছু তার স্মৃতি থেকে বিলীন হয়ে যায় না। একই আচরণ রেডিও তার শ্রবণকারীর সাথে করে। রেডিও মানুষের শ্রবণশক্তির মাধ্যমে ধীরে ধীরে জ্ঞান স্থানান্তর করে। এর ফলে রেডিও'র পয়গামের সকল অংশ শ্রোতার মেধায় জায়গা করে নেয়। এর পাশাপাশি রেডিও শ্রবণকারী অত্যন্ত চিন্তা ফিকির ও পরিকল্পনার সাথে কাজ করার অতিরিক্ত সুযোগ পেয়ে যায়। পরিশেষে কোনো বিশৃংখলা ও ঝামেলা ছাড়াই রেডিও'র পয়গামের সকল অংশ মানুষের মস্তিষ্কে স্থান করে নেয় এবং ভালভাবে শেকড় গেঁড়ে বসে।
০২. রেডিও'র পয়গাম সকল মানব সম্প্রদায়ের কাছে একইভাবে পৌঁছে যায়। মূর্খ-জ্ঞানী, উচ্চ-মধ্যম, উচ্চ শিক্ষিত-কম শিক্ষিত, এক কথায় সর্বশ্রেণীর নিকট একইভাবে পৌছে। রেডিও এদিক দিয়ে অত্যন্ত ভয়াবহ হাতিয়ার যে, বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর পারস্পরিক সম্পর্ক এবং তাদের সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক চেতনার প্রাচীর সুসংহত কিংবা দুর্বল করার ক্ষেত্রে রেডিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
০৩. রেডিও'র পয়গাম জাতীয় দূরত্ব ও সীমারেখার ঊর্ধ্বে উঠে সর্বশ্রেণীর নিকট বিনা বাধায় পৌঁছে যায়। রেডিওর পয়গাম মানব সমাজের নারী-পুরুষ, ছোট-বড় প্রত্যেক বয়সের মানুষের কাছ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। যদিও রেডিওর মোকাবেলায় টিভির আকর্ষণ ও কাছে টানার ক্ষমতা বেশি, কিন্তু রেডিও যেভাবে সহজেই শ্রোতার মন-মস্তিষ্কে পৌছে যায় এবং সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা ও সীমারেখার ঊর্ধ্বে উঠে সর্ব জায়গায় পৌঁছতে পারে, স্থানীয় টিভি তা পারে না। এই ভিত্তিতে বিভিন্ন ঘটনাবলী, তথ্য ও জ্ঞান শ্রোতা পর্যন্ত স্থানান্তর করে তার অভিরুচি ও প্রকৃতিকে প্রভাবিত করার সুযোগ সবখানে সব সময় রেডিওর রয়েছে। কারণ ট্রান্সমিটার আবিষ্কারের ফলে সহজেই রেডিও এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করা যায়। প্রতিটি শিক্ষিত, মূর্খ, গ্রাম্য, শহরী, সফরকারী, বাড়ীতে অবস্থানকারী, উপবেশনকারী, শয়নকারী এক কথায় সর্বশ্রেণীর লোক যখন ইচ্ছা যেখানে ইচ্ছা রেডিও শুনতে পারে। এজন্যই রেডিও আবিষ্কারের পর যত দ্রুত তা প্রসার লাভ করেছে, অন্য কোন মিডিয়া এত দ্রুত প্রসার লাভ করেনি।
রেডিও'র আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো, রেডিও যেভাবে সহজেই সর্বশ্রেণীর নিকট পৌঁছতে পারে, এতে সময় ও অবস্থানের কোন বাধা নেই, টিভি তা পারে না। রেডিও'র মোকাবেলায় টিভি দেখা জন্য বসার প্রয়োজন রয়েছে। টিভি দেখার জন্য মানুষের অবসর সময়ের প্রয়োজন পড়ে। পক্ষান্তরে রেডিও শোনার জন্য শুধু সুইচ অন করে দিলেই হয়। এক প্রোগ্রাম যদি ভাল না লাগে, তাহলে শুধু সুইচ ঘুরিয়ে দিলেই হবে। সঙ্গে সঙ্গে আপনি এক জগত থেকে অন্য জগতে পৌঁছে যাবেন। এভাবে ন্যূনতম কোনো প্রচেষ্টা এবং শারীরিক মানসিক কষ্ট ছাড়াই আপনি রেডিও থেকে উপকৃত হতে পারেন। আপনি কাজে ব্যস্ত থেকেও রেডিও শুনতে পারেন। এভাবে মিডিয়া জগতে রেডিও'র বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। আর যদি শক্তিশালী ট্রান্সমিটারের সাহায্যে রেডিও'র অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়, আওয়াজ যদি হয় হৃদয়গ্রাহী, বিষয়বস্তু অত্যন্ত দক্ষতা ও মেহনতের সাথে যদি প্রস্তুত করা হয় এবং উপস্থাপন হয় চমৎকার, আকর্ষণীয়, চিত্তাকর্ষক ও যাদুময়ী, তাহলে অন্য কোনো মিডিয়া রেডিও'র মোকাবেলা করতে সক্ষম নয়। বিশেষ করে রেডিওর সম্প্রচার যদি চিন্তা-গবেষণা, অভ্যন্তরীণ রং ও শক্তিসম্পন্ন হয়, আর সম্প্রচারিত বিষয়ের উদ্দেশ্য হয় জ্ঞান-বিবেক ও মেধা-মননের ওপর নৈশ হামলা চালানো এবং রুচি ও মানসিক ঝোঁকপ্রবণতার পরিবর্তন সাধন, তাহলে রেডিওর বিকল্প কোনো মিডিয়া নেই।
যেসব বস্তু শ্রোতাদের মনস্তত্ত্ব, তাদের অভিরুচি, অভ্যন্তরীণ চিন্তা-চেতনা, মতামত এবং মানসিক ঝোঁকপ্রবণতার পরিবর্তন ঘটায় কিংবা তার ওপর প্রভাব বিস্তার করে, তার মধ্যে বক্তৃতা, আলোচনা, কাব্য ইত্যাদির বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। আজকালের মিডিয়ায় নিম্নস্তরের চপল আবেগ অনুভূতিসমূহকে উত্তেজিতকরণে সিনেমার অশ্লীল গানগুলো বিরাট অংশ দখল করে রেখেছে।

📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 দেখার উপকরণ ও মাধ্যম

📄 দেখার উপকরণ ও মাধ্যম


মিডিয়া জগতে দেখার উপকরণ ও মাধ্যমকে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ, তাদের ওপর প্রভাবশীল হওয়া এবং তাদের অভিরুচি ও চিন্তা-চেতনা পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে অসাধারণ গুরুত্ব দেয়া হয়। এই হিসেবে মিডিয়া বিশেষজ্ঞগণ দেখার উপকরণ ও মাধ্যমকে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর ও প্রভাব বিস্তারকারী মনে করেন। যা দর্শকের ধমনী থেকে স্থানান্তরিত হয়ে তার আচরণ ও কাজে পরিবর্তিত হয়ে যায়। অন্য ভাষায়, তাৎক্ষণিকভাবে সতর্কীকরণ কিংবা চূড়ান্ত সুসংবাদের মর্যাদা অর্জিত হয়। তার প্রতিক্রিয়া দর্শকের ধমনীর শিরা-উপশিরা ও আচরণে সংগে সংগে চূড়ান্ত হয়ে যায়। বিজ্ঞাপন ও স্টিকারে বিদ্যমান চিত্র ও ছবিকে যদিও শব্দের পোশাক পরানো হয় না, কিন্তু তাৎক্ষণিক প্রভাব ও শক্তি বিস্তারে তার পূর্ণ দক্ষতা রয়েছে।
দেখার উপকরণ ও মাধ্যমের মধ্যে সবচে' কার্যকর ও শক্তিশালী হল সেগুলো, যেগুলো শব্দের পরিবর্তে শৈল্পি পন্থা-পদ্ধতিতে আদায় করা হয়। কারণ শৈল্পিক পদ্ধতিতে যে চিত্র ও রেখা অংকন করা হয়, তা স্বয়ং নিজস্ব ভাষা রাখে। এমন ভাষা ও ইঙ্গিত, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সর্বত্র বোঝা ও তার প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করা হয় তার মধ্যে সবচে' গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সে ভাষা ও ইঙ্গিত কিভাবে সহজ করে উপস্থাপন করা হবে, যাতে একজন সাধারণ মানুষও তার অভ্যন্তরীণ পয়গাম সহজেই বুঝতে পারে।
উন্নত বিশ্ব তাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সক্রিয় চিত্র ও ইলেক্ট্রনিক গেমসের মাধ্যমে অর্জন করে। ইহুদী ও খৃস্টানরা তাদের জাতীয়, ঐতিহাসিক এবং ধর্মীয় রহস্য ও পরিচায়ক বিষয়াবলী এবং তাদের শিল্প-পণ্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, জ্ঞান ও সামাজিক তৎপরতার মাধ্যমে বিকশিত করে এবং তার প্রচার-প্রসার করে। মিডিয়া হোক কিংবা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনার হোক, কোন জায়গাতেই তার প্রচার-প্রকাশ থেকে তারা বিরত থাকে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00