📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 মিসরী মিডিয়ার দৃষ্টান্ত

📄 মিসরী মিডিয়ার দৃষ্টান্ত


নিম্নে মিসরী মিডিয়ার কিছু নমুনা ও দৃষ্টান্ত পেশ করা হলো।

০১. প্রসিদ্ধ সাংবাদিক যাকী আবদুল কাদের, মোস্তফা আমীন, নাজীব মাহফুজ ও ইহসান আবদুল কুদ্দুস প্রমুখ তাদের লেখায় প্রকাশ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ, ফ্রি-সেক্স ও অবাধ নারী স্বাধীনতার এবং নৃত্যকার, গীতিকার ও অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সম্মান দেয়ার জোরালো আহবান জানিয়েছেন। মোস্তফা আমীন নাচকে ইবাদতের সাথে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, কারখানায় কাজ করা তাদের উঁচু ইবাদতের সমার্থক। (আল আহরাম, ২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৫)

০২. ইহসান আবদুল কুদ্দুস, ইউসুফ আস সুবায়ী, আহমদ বাহাউদ্দীন, আনিস মানসূর ও মুহাম্মদ আত-তাবেয়ী প্রমুখ তাদের লেখায় পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রকাশ্য প্রশংসা করেছেন এবং সরকারের নিকট জোর আবেদন জানিয়েছেন, আধুনিক চিন্তা-ধারার অধিকারী পাশ্চাত্য জাতির মতো আমাদের সরকারেরও পতিতালয়ের লাইসেন্স দেয়া উচিত। আনিস মানসূর লেখেছেন, প্রবৃত্তিকে দাবিয়ে রাখা এবং অস্থির জীবন যাপনের পরিবর্তে সামান্য গুনাহ করায় কোনো ক্ষতি নেই। (আল আহরাম, ২১ মে, ১৯৬৬)

০৩. নারী সাংবাদিক আমীনা সাঈদ ছাত্রীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে লেখেছেন, মনস্তাত্ত্বিক অস্থিরতা আর টানাপড়েন থেকে রক্ষা পাওয়ার সহজ পদ্ধতি হলো, অনৈতিকতাকে সামান্য সময়ের জন্য গ্রহণ করে নেয়া। (সাবাহুল খায়র, ৩রা এপ্রিল, ১৯৬৬)

০৪. সাংবাদিক আনিস মানসূর তার রচিত 'হাওয়া' পুস্তিকায় পাশ্চাত্য ফ্যাশনকে প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বোরকাকে তাঁবুর সাথে তুলনা করেছেন। প্রসিদ্ধ মহিলা লেখিকা মাদীহা রোজ আল ইফসুফ ম্যাগাজিনে লেখেন, যৌন রোগ ও বিপথগামিতা থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় পতিতালয়ে গিয়ে বাস্তব প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা। এর দ্বারা যৌন বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জিত হওয়ার পাশাপাশি লজ্জা ও লাজুকতা নির্মূল হবে। (সাবাহুল খায়র, ৩রা ডিসেম্বর, ১৯৬৫)

কায়রো, বৈরুত, লন্ডন ও প্যারিস থেকে প্রকাশিত নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসমূহের মালিক, সম্পাদক ও সাংবাদিক খৃস্টান। এসব ম্যাগাজিনের মধ্যে আশ শুবকা, আস সাইয়াদ, হাওয়া, হুওয়া হিয়া, আল কাওয়াকেব নগ্ন ছবি এবং অশালীন কাহিনীর কারণে লাখ লাখ কপি বিক্রি হয়। এসব ম্যাগাজিনের পদাঙ্ক অনুসরণে আল আখবার ও আল জমহুরিয়ার অধিকাংশ কলাম লেখক খৃস্টান এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাংবাদিক নাস্তিক বেদীন। ১৯৬৩ সাল থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত মিসরী মিডিয়ার গতিপথ কি ছিল, তা সে সময়কার সংবাদপত্রের বিভিন্ন শিরোনাম দ্বারা সহজেই অনুমিত হয়।

ক. এক নৃত্যশিল্পী তার ছাত্র বন্ধুর ফ্ল্যাটে আত্মহত্যা করেছে। (আল আখবার, ২৯ জুন, ১৯৬২)

খ. ষোল বছর বয়সী এক ছাত্রী একা ইউরোপ সফর করেছে, তোমরাও অভিজ্ঞতা অর্জন কর। (আল আহরাম, ২৯ জুন, ১৯৬৩)

গ. হাঁটুর ওপরে পোশাক পরা একটি নতুন ফ্যাশন। (আশ শুবকা, ৪ঠা আগস্ট, ১৯৬৫)

ঘ. তোমরা নিজের স্ত্রীকে অন্যের স্ত্রীর মতো মনে করে দেখ। (আস সাইয়াদ, জুন ১৯৬৫)

ঙ. এ সপ্তাহের সবচে' সুন্দরী ও হার্টথ্রব নারী। (আল কাওয়াকেব, মে ১৯৫৬)

আশ-শুবকা ম্যাগাজিন আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আধুনিকমনা নারীদের সাক্ষাতকার নিয়ে সহশিক্ষা, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা ও অফিস-আদালতে নারী-পুরুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক সাথে কাজ করার উপকারিতার ওপর বিস্তারিত আলোকপাত করেছে। (আশ শুবকা, মার্চ, ১৯৬৪)

মাসিক হাওয়া, হুওয়া হিয়া, আস সাইয়াদ ও সাপ্তাহিক রোজ আল ইউসুফ পত্রিকাগুলো অবাধ যৌন স্বাধীনতা, স্বামীর কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, তালাকের প্রতি উৎসাহ, দাম্পত্য জীবনের ওপর সন্দেহ-সংশয়ের ছায়া ফেলা, জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহার, নারীদের প্যান্ট-শার্ট পরা, নারীদের চুল ছোট করা, পুরুষের চুল লম্বা করা, বিজ্ঞাপনী সংস্থায় নারীদের চাকরি করা ও বিজ্ঞাপনে মডেল গার্ল হওয়া ইত্যাদি বিষয়ের প্রতি অত্যন্ত জোর দিয়ে থাকে।

দৈনিক আল জমহুরিয়া ১৯৬০ সাল থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত তার প্রচার বৃদ্ধি করার জন্য দু'টি পদক্ষেপ গ্রহণ করে। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে অশ্লীল লেখকদের মোটা-অংকের অর্থ দিয়ে ইউরোপ-আমেরিকায় সংঘটিত বিভিন্ন যৌন ও এ সংক্রান্ত ঘটনাবলী ও কাহিনী ধারাবাহিক প্রচার শুরু করে।

দ্বিতীয় পদক্ষেপ হিসেবে প্রতিদিন পত্রিকার সাথে কুপন ছাপা শুরু করে। এতে পাঠক একদিকে পত্রিকা পড়তে পারত, অপরদিকে কোনো সিনেমা হলে কুপনটি প্রদর্শন করে অর্ধেক মূল্যে সিনেমাও দেখতে পারত।

প্রসিদ্ধ মিসরী খৃষ্টান সাংবাদিক লুইস এওয়াজ ও মূসা সাবরী তাদের লেখায় ফেরাউনী সভ্যতা এবং গ্রীক চিন্তাধারা গ্রহণ করার খোলাখুশি দাওয়াত দিয়েছেন, ইতিহাসের বস্তুতান্ত্রিক ব্যাখ্যা, মার্কসবাদের দাওয়াত এবং পিতা-মাতা ও সমাজের আধিপত্য থেকে মুক্তি পাওয়া, জায়নবাদের সাথে সম্পর্ক সুসংহত ও মজবুত করা এবং আরবদের পরিবর্তে পশ্চিমাদের সাথে জনগণের ভাগ্য সম্পৃক্ত করার প্রাণান্তকর প্রয়াস চালিয়েছেন।

গীতিকারদের মধ্যে আবদুল ওয়াহাব, উম্মে কুলসুম, আবদুল হালীম হাফিজ, ফরীদুল আতরাশ ও ফিরোজ প্রমুখ উপাস্যের মর্যাদা লাভ করে। এমনকি এক গায়িকার ইন্তেকালে কয়েকজন নওজোয়ান ছেলে-মেয়ে আত্মহত্যা করে।

📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 মিসরী টেলিভিশন

📄 মিসরী টেলিভিশন


আরব বিশ্বের দেশসমূহে মিডিয়ার ওপর সেখানকার সরকারগুলোর পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। মিডিয়ার চারপাশে সেসব লোকেরই আধিপত্য, যারা পরিপূর্ণভাবে পাশ্চাত্যের ছাঁচে ঢেলে সাজানো। এর পাশাপাশি যদি মিডিয়ার জন্য সরকারের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা, শক্তি, সমর্থন এবং সরকারের পক্ষ থেকে পরিপূর্ণ স্বাধীনতা থাকে তাহলে মিডিয়ার অসাধারণ শক্তি ও প্রভাব-প্রতিক্রিয়া সহজেই অনুমান করা যায়। জনমত গঠন এবং মেধা মনন প্রস্তুতের সকল উপায়-উপকরণের ওপর যখন কোন গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয় এবং তার সীমাহীন শক্তির পাশাপাশি যদি আর্থিক যোগানও থাকে তাহলে তার শক্তির কল্পনা করাও কঠিন ব্যাপার। স্যাটেলাইট ও ডিশ এন্টিনার এই যুগে টিভির সর্বগ্রাসী সুদূরপ্রসারী প্রভাব-প্রতিক্রিয়ার অনুমানও করা যায় না।

পশ্চিমা মিডিয়া বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য হচ্ছে, আমাদের কাজ শুধু প্রশিক্ষণ ও পথ প্রদর্শন পর্যন্তই সীমাবদ্ধ নয়; বরং আমাদের মৌলিক দায়িত্ব হলো, সমাজজীবনে যা কিছু ঘটে যাচ্ছে তার ঝলক জনগণকে সরাসরি দেখিয়ে দেয়া এবং দ্বিতীয় মৌলিক দায়িত্ব হলো, প্রত্যেক নাগরিকের ইচ্ছা অভিরুচির প্রশান্তির উপায়-উপকরণ সরবরাহ করা, যাতে প্রত্যেকে তার ইচ্ছা অভিরুচি অনুযায়ী প্রোগ্রাম অনুষ্ঠান দেখতে পারে।

শুধু মিসরী টিভিই নয়; বরং গোটা আরব বিশ্বের টিভি প্রোগ্রামগুলো এই পাশ্চাত্য দর্শনের আলোকে পরিচালিত হচ্ছে। যদি পাশ্চাত্যের ধ্বংসাত্মক দর্শন মেনে নেয়া হয় তাহলে এর অর্থ হবে, কল্যাণ, অকল্যাণ ও পবিত্রতার সাথে অপবিত্রতা, কলুষতা, নিরর্থক কাজকর্ম এবং সৌন্দর্য রূপ-লাবণ্যের সাথে কুৎসিত কদাকার চেহারাকেও এমন ভঙ্গিতে উপস্থাপন করা, যাতে মন্দ থেকে ভাল, অকল্যাণ থেকে কল্যাণ ও অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা কোনো পথ খুঁজে না পায়। কার্যতঃ মন্দকে এমন সুন্দর চিত্তাকর্ষক মোড়কে উপস্থাপন করা, যাতে এটাই সবার প্রিয় পছন্দনীয় বিষয়ে পরিণত হয়। অথচ আয়না দেখার উপকারিতাই হচ্ছে, তাতে দেখে চেহারার ময়লা ও দাগ দূর করা।

পক্ষান্তরে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মিডিয়ার মৌলিক দায়িত্ব, জাতিকে শিক্ষা-দীক্ষা ও পথ প্রদর্শনের গঠনমূলক মৌলিক দায়িত্ব সঠিকভাবে আঞ্জাম দেয়া, হিদায়াত ও সত্যের আলো ছড়িয়ে দেওয়া এবং কল্যাণ মঙ্গলের প্রতিচ্ছবি চিত্তাকর্ষক ভঙ্গিতে উপস্থাপন করা, কিন্তু সমস্যা হলো, মিডিয়াকে যেসব লোক নিয়ন্ত্রণ করে তারা এই মৌলিক নীতিমালার স্বীকৃতি দেয় না। আবার বেশির ভাগ লোকের পছন্দ অভিরুচি মোতাবেক অনুষ্ঠান উপস্থাপন করার বিষয়টিও তাদের নিকট গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ কিছু লোক আছে যারা অশ্লীল গান-বাজনা, আনন্দ-বিনোদন, অবাধ যৌন মেলামেশা এবং অনৈতিক সিনেমার পাগল ও প্রেমিক। আর কিছু লোক আছে যারা দীনী দাওয়াত, উন্নত চারিত্রিক মূল্যবোধ, জেহাদের প্রাণ ও আল্লাহর যমীনে আল্লাহর দীন বিজয়ী করার চেতনায় সিক্ত পবিত্র, সংযমী, আল্লাহভীতির জীবন যাপনে অভ্যস্ত এবং তার আহবানকারী। এখন এ দুই বিপরীতমূখী রুচি ও পছন্দের লোককে একই সাথে একই সময়ে সন্তুষ্ট রাখা সম্ভব নয়। এজন্য পশ্চিমা ফর্মুলা অনুযায়ী তারা প্রথম পথই বেছে নিয়েছে। যদি সাধারণ লোকের পছন্দ অভিরুচি অনুযায়ী অনুষ্ঠানমালা উপস্থাপনের দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা হয়, তাহলে-মিসরী জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ ইসলামকে পছন্দ করে এবং ইসলামের শিক্ষামালার আলোকে জীবন পরিচালনা করতে প্রত্যাশী-এই বাস্তবতা কেন পশ্চাতে নিক্ষেপ করা হয়।

১৯৯৫ সালের জুলাই মাসে মিসরী টেলিভিশনের ৩৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে তথ্য মন্ত্রণালয় এক আনন্দ সভার আয়োজন করে। সে সময় টিভি অনুষ্ঠানমালার ওপর একটি পর্যালোচনাও করা হয়। তাতে সরকারের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছে, নাচ, গান, ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দর্শক-শ্রোতাদের চেতনা জাগ্রত করার প্রচেষ্টা অত্যন্ত প্রশংসাযোগ্য, কিন্তু সে পর্যালোচনায় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে কোথাও দীনী ও চারিত্রিক প্রোগ্রামের কথা উল্লেখ করা হয়নি। প্রসিদ্ধ মিসরী রিসার্চ স্কলার ইবরাহীম গানেম 'মিসরী টেলিভিশন ও ইসলামী সংস্কৃতি' শিরোনামে একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেন, তাতে ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত মিসরী টেলিভিশনের মাঠ পর্যায়ের জরিপ বিদ্যমান রয়েছে। সেই জরিপে মিসরী টেলিভিশনের যে ত্রুটি ও দুর্বলতা সামনে আসে তা শুধু মিশরী টেলিভিশনের ক্ষেত্রেই নয়; বরং গোটা আরব বিশ্বের টেলিভিশনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কারণ আরব বিশ্বের মিডিয়া মিসরী মিডিয়ার ধাঁচেই পরিচালিত হয়। কেননা, আরব বিশ্বের মিডিয়াগুলো মিসরী মিডিয়ার ভাবশিষ্যরাই পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে।

📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 মিসরীয় মিডিয়া সম্পর্কে অভিজ্ঞতার ফল

📄 মিসরীয় মিডিয়া সম্পর্কে অভিজ্ঞতার ফল


মিসরী সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকদের মন-মস্তিষ্ক ও চেতনায় দীনের যে মর্যাদাবোধ রয়েছে এবং যেভাবে সকল সমস্যা সংকটের সমাধান তারা দীন ইসলামকেই মনে করে, মিসরী ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো সে অনুযায়ী প্রোগ্রাম উপস্থাপন করে না। তাদের সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানমালা দেখে মনে হয় দীন দুনিয়া আলাদা আলাদা ঘরে বিভক্ত এবং দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা সংকটের সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। নিম্নে মিসরী মিডিয়া সম্পর্কে অভিজ্ঞতার ফল তুলে ধরা হল-

০১. মিসরী মিডিয়ায় দীনী অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করার ধরন অতি নিম্ন মানের। তার মধ্যে কোনো আকর্ষণ ও নতুনত্ব নেই। আর না শৈল্পিক চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়।

০২. মিসরী নয়টি টিভি চ্যানেল দৈনিক ১৬৬ ঘন্টা অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করে। এর মধ্যে দীনী প্রোগ্রাম সম্প্রচারের হার মাত্র ৩%। তন্মধ্যে সূচনা অনুষ্ঠান, সমাপনী অনুষ্ঠান, কুরআন তিলাওয়াত এবং হামদ-না'ত ইত্যাদিও অন্তর্ভুক্ত।

০৩. ৯০ শতাংশ দীনী অনুষ্ঠানমালা তখন সম্প্রচার করা হয় যখন টিভির সামনে দর্শক-শ্রোতার সংখ্যা খুবই নগণ্য থাকে। এসব প্রোগ্রাম ৫ থেকে ১৫ মিনিটের বেশি দীর্ঘ হয় না, তাও আবার বেশির ভাগ সময় 'দুর্বল শরীরে সর্দি' প্রবাদের মতো কোনো ম্যাচ কিংবা কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের আগমন কিংবা পুলিশ অথবা এমনি কোনো আনন্দানুষ্ঠান উপলক্ষে দীনী প্রোগ্রামের সম্প্রচার মুলতবি করে দেয়া হয়।

০৪. ফিলিস্তীন সংক্রান্ত স্পর্শকাতর রাজনৈতিক সমস্যা, বিশেষ করে ফিলিস্তিনী ইন্তেফাদা ও হামাস আন্দোলন এবং ইসরাঈলের সাথে মিসরের সম্পর্ক, কূটনৈতিক যোগাযোগ ইত্যাদি বিষয়ের দিকে মিসরী টিভি কোনো দৃষ্টি দেয় না। অথচ ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ইসরাঈলের সাথে মিসরের সুসম্পর্ক ক্ষতিকর প্রমাণিত হবে কিনা, এমনিভাবে শিক্ষা-দীক্ষা, মাদকদ্রব্য, নারীদের চাকরি এবং মিসরী সমাজ দেহের অনিষ্ট অকল্যাণ নির্মূল করার জন্য দীন ও শরীয়তের ভূমিকা এমন কিছু বিষয়, যা মিসরী জনগণের সাথে সুগভীরভাবে জড়িয়ে আছে, কিন্তু মিডিয়া এর প্রতি কোনো গুরুত্বই দেয় না। অতি সুকৌশলে এ গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক বিষয়গুলো এড়িয়ে যায়। যদি ইসলামী শরীয়া বিষয়ে কোনো আলোচনা-পর্যালোচনা হয়ও, তবে তা হয় ইসলামী আইন প্রণয়নের দর্শন নিয়ে। ইসলামী সভ্যতা-সংস্কৃতি বিষয়ে মিসরী টিভি যেসব প্রোগ্রাম উপস্থাপন করে তা পর্যালোচনা করলে জানা যায়, মিসরী মিডিয়া ইসলামী সভ্যতা-সংস্কৃতির মাত্র দু'টি দিক নিয়ে আলোচনা করে। এক. ইসলামী দাওয়াত ও তার চাহিদা। দুই. আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি ও অবস্থান, কিন্তু ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে মোটেও আলোচনা করে না। যেমন- অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও শিক্ষা-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সমস্যা সংকট সমাধানে ইসলাম কি সমাধান পেশ করেছে এবং মুসলমানদের দীনী, আধ্যাত্মিক ও সামাজিক জীবন কিভাবে সঠিক সুন্দর হতে পারে প্রভৃতি। যারা মিসরী মিডিয়ার জন্য দীনী প্রোগ্রাম তৈরি করেন তারা অত্যন্ত সংকীর্ণ চিন্তা-ভাবনা করেন এবং নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রাধান্য দেন, সাধারণ জনগণের চাহিদা, অভিরুচি, মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ করেন না। তারা গোটা মিডিয়ার ওপর একতরফা ট্রাফিকের মতো থাবা বিস্তার করে আছে।

মিসরী তথ্য মন্ত্রণালয়ের দাবী অনুযায়ী পবিত্র রমযান মাসে অন্যান্য মাসের তুলনায় দীনী অনুষ্ঠামালা পঞ্চাশ শতাংশ বৃদ্ধি করে দেয়া হয়, কিন্তু এই দীনী অনুষ্ঠানমালার আসল বাস্তবতা কি? এ বিষয়ে একটি বিশ্লেষণমূলক পর্যালোচনা দৈনিক আশ-শারকুল আওসাত প্রকাশ করেছে, যার সার-সংক্ষেপ নিম্নরূপ-

০১. একেবারে ইফতারের সময় লক্ষ লক্ষ পাউন্ডের পুরস্কার সম্বলিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়, যা মিসরের সুন্দরী তারকাদের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। প্রত্যেক দিন নতুন নতুন নৃত্য ও গানের মাধ্যমে এ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়। আধ ঘণ্টার এই অনুষ্ঠানের পর পরই হাসি-কৌতুক, নাটক কিংবা যৌন সুড়সুড়িমূলক সিরিজ প্রচার করা হয়।

০২. মিসরী টিভির ৯৭% অনুষ্ঠান সুন্দরী নারীরা উপস্থাপন করে।

০৩. ৯৮% বিজ্ঞাপন উপস্থাপন করে নারীরা। ২৫% বিজ্ঞাপনে যৌন সুড়সুড়ি ও উসকানি থাকে।

০৪. ৯০% সিনেমায় নগ্নতা, ইজ্জত লুণ্ঠন, প্রেম-ভালবাসা, যৌন অপরাধ ও নৈতিক অবক্ষয়ের ঘটনা বিদ্যমান থাকে।

০৫. মিসরের সিনেমা হলগুলোতে ৮০% মার্কিন চলচ্চিত্র ও ১৭% ভারতীয় চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। এসব চলচ্চিত্রে কট্টরপন্থা ও যৌন মিলনের উন্মুক্ত দৃশ্য প্রদর্শিত হয়।

০৬. মিসরী সেন্সর বোর্ড বিশটি সিনেমাকে অশ্লীল সাব্যস্ত করে তার প্রদর্শন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, কিন্তু মিসরী টেলিভিশন পবিত্র রমযান মাসে সেগুলো প্রদর্শন করে।

আইনে শামস ইউনিভার্সিটির উচ্চতর গবেষণা ও প্রশিক্ষণ বিভাগ মিসরে বিদেশী সিনেমার প্রভাব-প্রতিক্রিয়ার ওপর একটি জরিপ পরিচালনা করে। উক্ত জরিপ থেকে জানা যায়, বিদেশী সিনেমায় মার-দাঙ্গা ও যৌন উগ্রতার আধিক্যের কারণে মিসরীয় নির্মাতারাও সেই পথ অবলম্বন করতে বাধ্য হয়েছে এবং পশ্চিমা ও ভারতীয় সিনেমাকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছে। তাদের নির্মিত বেশির ভাগ সিনেমা এ্যাকশন ও যৌন সুড়সুড়িমূলক। সেসব সিনেমার নায়ক বাহ্যিকভাবে সাদা পোশাকধারী হলেও কিন্তু আন্তর্জাতিক মাফিয়া ডন। যাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হত্যা, লুণ্ঠন ও রক্তপাত। তারা সামান্য কথাতেই রিভলবার ও মেশিনগান দিয়ে ডজনে ডজনে মানুষকে ভূনা করে রেখে দেয়। সশস্ত্র ডাকাতি করে, নারীদের অপহরণ ও ধর্ষণ করে। এসব করেও তারা বেঁচে যায় এবং মন ভরে যাবতীয় আরাম বিলাস ভোগ করে। এমনকি তার বাস্তবতা প্রকাশ হয়ে পড়ে।

📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 মিসরীয় সমাজে মিডিয়ার প্রভাব-প্রতিক্রিয়া ও পরিণতি

📄 মিসরীয় সমাজে মিডিয়ার প্রভাব-প্রতিক্রিয়া ও পরিণতি


এখানে উল্লিখিত সরেজমিন জরিপে পাওয়া কিছু ঘটনার আলোচনা রয়েছে, তা হলো, শিশুরা সিনেমা দেখে কিভাবে তার প্রভাব-প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করে। উদাহরণস্বরূপ 'আল ইখওয়াতুল আ'দা' (দুশমন ভাই) নামক একটি সিনেমা দেখে এক শিশু তার ঘুমন্ত ছোট ভাইকে গলা টিপে হত্যা করে। ষোল বছরের এক ছেলে 'মেছালী হিরো' (আদর্শ নায়ক) নামে একটি টিভি সিনেমা দেখে প্যাট্রোসের মোটরগাড়ী চুরি করে। এক ছাত্রী টিভির পর্দায় 'আর রাকেসা ওয়াস সিয়াসী' (নর্তকী ও রাজনীতিবিদ) নামক সিনেমা দেখে ড্যান্স ক্ল্যাবে চাকরি নেয়। এ সিনেমা দেখে সে মনে করে বসে, নর্তকী তার নৃত্য শিল্পের মাধ্যমে রাজনীতিক ও সম্পদশালীদের সহজেই মাত করতে পারে।

মিসরী সমাজে অপরাধের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে প্রসিদ্ধ চলচ্চিত্র নির্মাতা সালাহুদ্দীন আবু ইউসূফ বলেন, প্রতি যুগেই অপরাধ ছিল এবং এমন লোকও বিদ্যমান ছিল, যারা সামাজিক বন্ধন ও নৈতিক-চারিত্রিক সীমা লংঘন করে চলত। পূর্বে নেশা ও প্রতিশোধমূলক অপরাধ সংঘটিত হত, কিন্তু খুবই কম। তবে বিগত শতাব্দীর ষাটের দশকে অর্থনৈতিক অপরাধ বৃদ্ধি পায়, যেমন চুরি, ডাকাতি ও প্রতারণা ইত্যাদি। এর পাশাপাশি রাজনৈতিক অপরাধেরও প্রবৃদ্ধি ঘটে, কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি এত ভয়ানক আকার ধারণ করেছে যে, এ্যাকশন, মার-দাঙ্গ, সন্ত্রাস, অপহরণ, ধর্ষণের ঘটনা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। সালাহুদ্দীন আবু ইউসুফ আরো বলেন, ১৯৭০ সালের পর যেসব সিনেমা নির্মিত হয়েছে তা সব হলিউড ও বলিউডের এ্যাকশন ছবির অবিকল প্রতিচ্ছবি। উদাহরণস্বরূপ এক নাযুক সুন্দরী নারী, আদালত, মৃত্যুর ফাঁদ, তের কাজ, তিন শয়তান, প্রতিশোধের আগুন, মন্দ মানুষ, তিন ঝগড়াটে, প্রতিশোধের চক্কর প্রভৃতি সিনেমাগুলোতে এ্যাকশন, মারদাঙ্গা, যৌনতা ও নগ্নতার ছড়াছড়ি রয়েছে। ভারতীয় নির্মাতা অমিতাভ বচ্চনের সিনেমাগুলোও মিসরে খুব জনপ্রিয়। কারণ তার নির্মিত বেশির ভাগ সিনেমায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ্যাকশন ও যৌন সুড়সুড়ি বিদ্যমান রয়েছে। মিসরী সেন্সর বোর্ডের এক সদস্য হামদী সারওয়ার বলেন, অপরাধ বৃদ্ধিতে শুধু সিনেমাকেই কারণ সাব্যস্ত করা ঠিক নয়; বরং এতে অর্থনৈতিক ও সামাজিক কারণও রয়েছে। এছাড়া দীনী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের অনুপস্থিতিও একটি মৌলিক কারণ।

মিসরী মিডিয়ার ওপর ইহুদী খৃস্টান ও নাস্তিক বেদীন গোষ্ঠীর আধিপত্যের কারণে বেশির ভাগ সিনেমা নাটকে ইসলাম, ইসলামী শিক্ষা ও ব্যক্তিত্ব এবং দীনী পরিচায়ক বিষয়াবলীকে অত্যন্ত উপহাস বিদ্রূপের লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে, যাতে ইসলামের আকার আকৃতি বিকৃত করা যায় এবং মন-মস্তিষ্ক থেকে তার প্রাণ ও মূল্যবোধ বের করে দেয়া যায়; বরং অন্তরে ইসলাম সম্পর্কে আরো ঘৃণা সুদৃঢ় হয়। যেমন পশ্চিমা সমাজে তাদের দীন ধর্ম সম্পর্কে করা হয়। তবে পশ্চিমা সিনেমায় এ্যাকশন, যৌনতা, নগ্নতা ও অশ্লীলতা ছাড়া সাধারণতঃ তাদের ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত হানা হয় না। যদিও ব্যতিক্রম কিছু সিনেমা রয়েছে, যেখানে হযরত ঈসার যৌন জীবনকে পাশ্চাত্য ভঙ্গিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে কোথাও কোথাও কিছু প্রতিবাদও হয়েছে, কিন্তু সাধারণত: পশ্চিমা সিনেমায় তাদের ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের মর্যাদাবান আকার আকৃতিতে হাসপাতাল ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানসমূহে রোগী, নিঃস্ব দুঃস্থ এবং দুর্বল মানুষের সাহায্য সহায়তাকারীরূপে দেখানো হয়। এসব ক্ষেত্রে ইঞ্জিলের আয়াত এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যা দ্বারা খৃস্টীয় শিক্ষা ও নীতিমালা সুস্পষ্ট হয়ে যায় এবং দর্শক-শ্রোতাদের মন-মস্তিষ্কে ভালো প্রভাব পড়ে, কিন্তু পশ্চিমের এই মিডিয়াই যখন ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহ সম্পর্কে কোনো অনুমান উপস্থাপন করে, তখন তাতে ইসলামকে সম্পূর্ণ বিকৃত করে দেখানো হয়। মিসরী সিনেমা যেহেতু পাশ্চাত্যে নির্মিত সিনেমারই চর্বিত চর্বণ, সে জন্য এক শতাব্দী ধরে মিসরী সিনেমায় ইসলাম, মুসলিম উম্মাহ, ইসলামী ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ব্যক্তিত্বকে বিকৃত করা, খাটো করা ও হেয় করার ধারাবাহিকতা চলে আসছে। এসব সিনেমায় একাধিক বিবাহ, তালাক, ইবাদত, চরিত্র, লেনদেন ও সামাজিকতা সম্পর্কে ইসলামী শিক্ষা ও অবয়বকে বিশেষভাবে টার্গেট বানানো হয়। পিতা-মাতার যে সম্মান মর্যাদা ইসলামী সমাজে আছে, যুগ যুগ ধরে ইসলামী সমাজে যেভাবে যৌথ পারিবারিক ব্যবস্থা প্রচলন রয়েছে, পর্দাপ্রথার যে ইসলামী ধ্যান-ধারণা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্পর্কে ইসলামের যে প্রাকৃতিক কানুন ও ইনসাফপূর্ণ বন্টন পদ্ধতি রয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার জন্য পরোক্ষ প্রত্যক্ষ উসকানি দেয়া হয়। সূক্ষ্মভাবে এই ধারণা দেয়া হয়, এই ধর্ম অনেক কঠিন।

সমস্যা সংকটের কোনো সমাধান এতে নেই। ইসলামে প্রতিটি সমস্যার সমাধান কঠোরতা ও তলোয়ারের মধ্যে খোঁজা হয়। অতএব কট্টরপন্থা থেকে বাঁচার জন্য পশ্চিমা জীবনপদ্ধতি গ্রহণ কর। অন্য ভাষায়, মানব সোসাইটির সকল অনিষ্টের মূল কারণ ইসলাম। এর সমাধান পশ্চিমা জীবনপদ্ধতি গ্রহণ করা। যেমন 'উরীদু হাল্লান' (সংকটের সমাধান কাম্য)-মিসরী সিনেমায় ধারণা দেয়া হয়েছে।

মিসরী সিনেমায় সাধারণতঃ দীনী ব্যক্তিত্বে অভিনয়কারীদের নাম এমন রাখা হয়, যা দ্বারা কঠোরতা, জুলুম ও ত্রাসের প্রতিচ্ছবি মস্তিষ্কে ভেসে ওঠে। যেমন আবদুল জব্বার, আবদুল কাহহার, আবদুল জালাল ইত্যাদি। অতঃপর সেসব অভিনেতারূপী ব্যক্তিত্বকে সব সময় ক্রোধভরা ভয়ানক চেহারায় দেখানো হয়, যার চোখ লাল, ভ্রু টানা, চেহারা ভাঙ্গা, কথায় কথায় ক্রুদ্ধ কঠোর হয়, নিষ্পাপ শিশু ও স্ত্রীদের সাথে দুর্ব্যবহার করে, কন্যাদের শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা ও খেলাধুলার ওপর অবরোধ আরোপ করে। এক কথায় ঘরকে জেলখানা বানিয়ে দেখানো হয়, আর ঘরের বাইরে উক্ত অভিনেতার জীবন অন্য দেখানো হয়। একদিকে নামাযী অপরদিকে খারাপ ও অনৈতিক কাজে লিপ্ত। হাতে লম্বা তাসবীহও আছে আবার বন্ধুদের সাথে মদের আড্ডায়ও বিভোর।

দীনদার ও ভদ্র মানুষদের জন্য মিডিয়ায় সাধারণতঃ নিম্নের অভিযোগগুলো ব্যবহার করা হয়-সহজ, সরল, সাদাসিধা, বেওকুফ, নির্বোধ, কম জ্ঞানী, নাদান, ত্রুটিপূর্ণ বিবেকসম্পন্ন, স্থবির, অন্ধকারপ্রিয়, গোঁড়া, প্রতিক্রিয়াশীল, পশ্চাদপদ, উজ্জল চিন্তা ও মুক্তবুদ্ধির বিরোধী, উন্নতি ও প্রগতির অন্তরায়, কট্টরপন্থী, প্রাচীনতাপ্রিয়, সাম্রাজ্যবাদের ক্রীড়নক, অসভ্য, অভদ্র, সভ্যতা-সংস্কৃতি থেকে দূরে, যুগের চাহিদা সম্পর্কে বেখবর, ধর্ম ব্যবসায়ী, ইসলামকে অপহরণকারী, মৌলবাদী, মোল্লা ইত্যাদি। এর চেয়ে ভয়ানক হল, দীনী অভিধার সাথে উপহাস বিদ্রূপের বিষয়টা, যার প্রভাব-প্রতিক্রিয়া এর চাইতেও সঙ্গীন ও সুদূরপ্রসারী। যেমন অন্যায়-অপকর্ম এবং দুষ্কৃতির দৃশ্যে অভিনয়কারী অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নাম কোনো প্রসিদ্ধ ইসলামী ব্যক্তিত্বের নামে রাখা হয়। এসব নামের বিকৃতি ঘটিয়ে নিন্দনীয় অর্থে ব্যবহার করা হয়। যেমন যয়নব ও ফাতেমাকে যানুবা ও ফাতুমা বলা হয়, আবার বিশেষ হাওয়াই চেলাদেরও যানুবা ফাতুমা নামে ডাকা হয়। নায়ক যখন নায়িকার সাথে অনৈতিক কাজ করে তখন এটাকে চার রাকাত নামায ও যৌন প্রমোদকে জান্নাতে প্রবেশের সাথে তুলনা করা হয়। নায়ক নায়িকা সমুদ্র তীরে আমোদ-প্রমোদ করতে থাকে আর একে অপরকে বলতে থাকে, আমরা সমুদ্রে নামার সময় বিসমিল্লাহ বলে কেন আল্লাহর রাসূলের সুন্নতের ওপর আমল করব না। এভাবেই মিসরী মিডিয়া পশ্চিমা মিডিয়ার অনুকরণে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে অঘোষিত ক্রুসেড চালিয়ে যাচ্ছে।

মিসরী সমাজে ইবনূল কালব (কুকুরের বাচ্চা), ইবনুল খিনযীর (শুয়েরের বাচ্চা) ইত্যাদি শব্দের ব্যবহার ব্যাপক। বাপ তার ছেলেদের, বড় ভাই ছোট ভাইকে এসব শব্দে সম্বোধন করে। সাধারণতঃ আদর-ভালবাসা ও ক্রোধ-গোস্মা উভয় অবস্থাতেই একই পরিভাষা ব্যবহার করা হয়, কিন্তু সিনেমার যে নায়ক-নায়িকার নাম কোনো প্রসিদ্ধ ইসলামী ব্যক্তিত্বের নামে রাখা হয়েছে, তার ক্ষেত্রে এই পরিভাষাগুলো বার বার ব্যবহার করা হয়। এতে দর্শকদের ওপর অবশ্যই বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়বে। নাটক, সিনেমা ও উপন্যাসে বিভিন্নভাবে ইসলাম ও তার শিক্ষামালার বিরুদ্ধে বিরূপ প্রচারণা চালানো হয়।


দৈনিক আল আহরাম এবং সাপ্তাহিক রোজ আল ইউসুফসহ সংবাদ পত্রের কার্টুনে বছরের পর বছর শায়খ মাতলূফ (আযহারী শায়খ) এবং মুহাম্মদ আফেন্দিয়া (মোনাফিক আলেমেদীন)-এর নামে দীন সম্পর্কে কৌতুক করেছে।

টিকাঃ
৫. এ অভিধা পদ্ধতি এতটাই ব্যাপক যে, ইসলামপ্রিয় আরবী সাহিত্যিকদের মধ্যে নাজীব কিলানীও তাঁর উপন্যাসসমূহে এ পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00