📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 পাশ্চাত্য টিভি কোম্পানীসমূহের মাধ্যমে মুসলমানদের চরিত্র হনন

📄 পাশ্চাত্য টিভি কোম্পানীসমূহের মাধ্যমে মুসলমানদের চরিত্র হনন


পাশ্চাত্য টেলিভিশনের ভূমিকা সেখানে নির্মিত চলচ্চিত্র থেকে কোনো অংশেই কম নয়। ডিশ এন্টিনা ও স্যাটেলাইটের কারণে আজ প্রতি মুহূর্তে আন্তর্জাতিক পরিম লে টিভি সংবাদ ও অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার অতি সহজ হয়ে পড়েছে। ফলে টিভি গোটা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের মন-মগজ ধোলাই ও প্রভাবিত এবং তাদের চিন্তা-চেতনা ও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করার এক সক্রিয় ও শক্তিশালী হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। আন্ত র্জাতিক টিভি নেটওয়ার্কের পুরোটাই সুচতুর ধুরন্ধর ইহুদীদের দখলে। টিভির সংবাদ ও চিত্রসমূহ লাগাতার নিরবচ্ছিন্নভাবে সম্প্রচারিত হওয়ার কারণে দর্শকরা এ বিচার করার সুযোগ পায় না, কোনটি ভাল আর কোনটি খারাপ। কারণ প্রতি মুহূর্তেই তারা বিভিন্ন ঘটনা প্রত্যক্ষ করে ও শ্রবণ করে। স্বচক্ষে ঘটনা প্রত্যক্ষ করাই একথার প্রমাণ যে, টিভির প্রতিটি সংবাদ ১০০% সত্য। সংবাদ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্প্রচার ছাড়াও সিরিজের মাধ্যমে দর্শক-শ্রোতাদের মগজ ধোলাই আর মানসিকতা প্রস্তুত করা হয়। এমনিভাবে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনও টিভিতে সম্প্রচার করা হয়। এর দ্বারা একদিকে শিল্পপণ্যের পরিচিতি করানো হয়, অপরদিকে শত্রুর বিরুদ্ধে দর্শক-শ্রোতাদের মন মগজ বিষিয়ে তোলা হয়। এর পাশাপাশি অনৈতিকতা অশ্লীলতাও সহজেই বিকশিত করা যায়। নিম্নের দৃষ্টান্তগুলো দ্বারাই ইহুদীদের ইসলাম বিরোধিতা, আরবদের সাথে হিংসা-বিদ্বেষ, শত্রুতা এবং মুসলিম উম্মাহকে ধোকা দেয়া ও প্রতারিতকরণে তাদের চালাকি, মেধাবী ও ষড়যন্ত্রপূর্ণ প্রকৃতি সহজেই অনুমান করা যায়।

মার্কিন টিভি কোম্পানী ন্যাশনাল ব্রডকাস্টিং (এন.বি.সি) ১৯৬৪ সালে 'বিকৃত তাওরাত' নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করে। এক খৃস্টান পাদরী নায়কের ভূমিকা পালন করে। এই ছবিতে অত্যন্ত মেধা ও দক্ষতার সাথে সাধারণ মার্কিনীদের একথা বোঝানোর পূর্ণ প্রয়াস চালানো হয়েছে যে, ইহুদী ও খৃস্টানদের মাঝে আকীদাগত মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই। আর হযরত ঈসা (আ.)-কে হত্যা করার বে অভিযোগ ইহুদীদের ওপর আরোপ করা হয় ইহুদীরা তা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। ৭

দ্বিতীয মার্কিন টিভি কোম্পানী আমেরিকান ব্রডকাস্টিং (এ.বি.সি) লাগাতার চার সপ্তাহ ধরে ইসরাঈলা গোয়েন্দা সংস্থা সম্পর্কে একটি সিরিজ প্রচার করে, তাতে ইহুদীদের মজলুম, ভদ্র, সম্ভ্রান্ত ও অভিজাত সম্প্রদায় হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

১৯৮২ সালে ইসরাঈলী বাহিনী লেবাননের ওপর কঠিন বোমাবর্ষণ করে। সাবরা, শাতিলা ও আইনুল হালওয়া শরণার্থী শিবিরে অবস্থানরত ফিলিস্তিনীদের ব্যাপকহারে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সাড়ে সতের হাজার ফিলিস্তিনী নারী, পুরুষ ও শিশু নিহত হয়। মার্কিন টিভি যখন এই ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের সংবাদ পরিবেশন করে, তখন এ ঊনার দায় থেকে ইহুদীদের সম্পূর্ণ মুক্ত ঘোষণা করে এর পুরো দায়-দায়িত্ব লেবাননের 'একটি গোষ্ঠী সরূনীদের ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টা চালায়। পশ্চিমা মিডিয়া বার বার ইহুদীদের যুক্ত ও নির্দোষ ঘোষণা করতে থাকে। এর সাথেই এ.বি.সি টিভি ইসরাঈলের সাবেক প্রেসিডেন্ট আজরা ওয়াইজ মিলিয়ন লিখিত 'শান্তির জন্য যুদ্ধ' নামক গ্রন্থের পরিচিতি প্রসঙ্গে লেখকের সাক্ষাতকার গ্রহণ করে। এ সাক্ষাতকারে বলা হয়, ইসরাঈলের সকল চেষ্টা-প্রচেষ্টা শান্তি-নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য। এ উদ্দেশ্যে লাখ লাখ মানুষ হত্যা করার প্রয়োজন হোক না কেন।

টিভি সিরিজ তৈরিকারী প্রসিদ্ধ মার্কিন কোম্পানী ক্যাননের মালিক ইহুদী। এ নামে তার একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ কোম্পানীও রয়েছে। আরব বিশ্বের প্রতিটি শহরে এ কোম্পানীর শাখা রয়েছে। যেখান থেকে সব ধরনের ভিডিও ক্যাসেট বিক্রি করা হয়। এমনিভাবে বৃটিশ ইহুদী পুঁজিপতি লর্ডগার্ড ইটিভি কোম্পানীর মালিক। এই কোম্পানী টিভি সিরিজ তৈরি করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সাপ্লাই করে। ডালাস নামক প্রসিদ্ধ সিরিজ এই কোম্পানীরই তৈরিকৃত। ফ্রান্স ও বৃটেনের টিভি কোম্পানীগুলোও ইহুদী পুঁজিপতিদের দখলে। এসব টিভি কোম্পানী বিভিন্ন সিরিজ তৈরি করে সাপ্লাই করে। তাদের তৈরিকৃত সিরিজ 'ওনায়তিবী', 'এয়ারপোর্ট কী কারওয়াই' 'গোল্ড আমীর' 'এক ফোলাদী আওরত' প্রভৃতির মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে ইহুদীদের বীর-বাহাদুর, শান্তির প্রতীক, মেধাবী, কর্মপ্রিয় ইত্যাদি বিশেষণে বিশেষিত বলে প্রমাণ করা হয়েছে।

বিবিসির তত্ত্বাবধানে টিভি সিরিজ তৈরিকারী এক কোম্পানী 'ইংলিশ শিখুন' নামে একটি ক্যাসেট তৈরি করেছে। এ শিক্ষা উপকরণের মাধ্যমেও সুপরিকল্পিতভাবে ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াতে তারা অলসতা করেনি। উদাহরণস্বরূপ এক ক্লাসে যেখানে বিভিন্ন দেশ ও জাতিগোষ্ঠীর ছাত্র রয়েছে। শিক্ষক প্রশ্ন করেন, তোমরা বলতে পার, নির্বোধ ও বোকার সমার্থক শব্দ কোনটি? ভারতীয় এক ছাত্র উত্তরে বলে, নির্বোধ ও বোকার সমার্থক শব্দ হলো 'মুসলমান'। 'কম্পন' নামক এক নাটক ১৯৮১ সালে মঞ্চে প্রদর্শন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এটিকে টিভির জন্য তৈরি করা হয়। এ নাটকে 'মুহাম্মদ আরব' নামক এক ব্যক্তি নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করে। তাকে প্রচুর বিত্ত-বৈভবের মালিক দেখানো হয়। সে দামী মদ ক্রয় করা এবং এক সুন্দরী ইংরেজ নারীকে উপহার দেয়ার জন্য দশ লাখ ডলার ব্যয় করে, কিন্তু দশ লাখ ডলার ব্যয় করার পরও সুন্দরী ইংরেজ নারী তার জালে আটকায় না এবং তার রূপ-লাবণ্য উপভোগে সফলকাম হয় না। নায়ক নামের জন্য মুহাম্মদ নির্বাচন এবং তার সাথে আরব জুড়ে দিয়ে আরবদের বদনাম করাই মুখ্য কৌশল। কারণ এই দু'টি শব্দের সাথে ইসলামের যাবতীয় চিন্তা-চেতনা জড়িয়ে আছে। এই শব্দ দু'টিকে যদি বদনাম করা যায় তাহলে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর রূপ বিকৃত করতে কোনো অসুবিধা হবে না।

টেলিভিশন যেহেতু লাখ লাখ বরং কোটি কোটি মানুষ দেখে। এ জন্য দামী দামী বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনগুলো টিভি কোম্পানীগুলোই পেয়ে থাকে। বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের একমাত্র উদ্দেশ্য, শিল্পপণ্যের সক্রিয় প্রচার প্রোপাগান্ডা চালানো, যাতে পণ্যটি বেশি বেশি বিক্রি হয়। তাই বিজ্ঞাপনে চিত্তাকর্ষক হৃদয়গ্রাহী পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়। নতুন নতুন প্যাকিংয়ের সাথে নতুন নতুন নাম দেয়া হয়, কিন্তু ইহুদীদের ধোকাবাজি, প্রতারণা ও চাতুর্যপূর্ণ কলুষ মস্তিষ্ক এসব বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনকেও ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহকে বদনামগ্রস্ত করার জন্য ব্যবহার করছে। এর জন্য এমন এমন চিত্তাকর্ষক পদ্ধতি গ্রহণ করা হচ্ছে, যার দিকে সম্ভবত শয়তানেরও কল্পনা যায় না।

সিএনএন-এর মতো প্রসিদ্ধ আন্তর্জাতিক টিভি কোম্পানীতে সাবানের একটি বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়। বিজ্ঞাপনে মডারেট ঘোষণা করছিল, এই সাবান প্রতিটি বস্তুকে পরিষ্কার করে, এমনকি পচা-গন্ধ আরবদেরও পরিষ্কার করে। এ ঘোষণার পর পরই টিভি স্কিনে আরবী পোশাক পরে এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটে, তার চেহারা, হাত ও পোশাকে ময়লাই ময়লা। এরপর এক অর্ধনগ্ন যুবতী নারী সামনে এসে তাকে ধাক্কা দিয়ে পানির হাউজে ফেলে দেয়। এরপর যুবতীও লাফ দিয়ে হাউজে পড়ে সাবান দিয়ে ডলে ডলে তাকে পরিষ্কার করে দেয়। অতঃপর বলে, আমাকে ক্ষমা করবেন। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি, এর থেকে বেশি পরিষ্কারকারী আর কোনো সাবান নেই। ইতোমধ্যে এক যুবক আসে। তার হাত থেকে একখানা কাগজ নিয়ে অর্ধনগ্ন যুবতীটি অত্যন্ত সোৎসাহে পড়তে থাকে, সবেমাত্র ল্যাবরেটরী থেকে এ সাবান সম্পর্কে রিপোর্ট এসেছে, এই সাবানের মধ্যে পরিষ্কার করার ভরপুর শক্তি বিদ্যমান রয়েছে, কিন্তু বিপদ হলো, আরবরা এত অপরিষ্কার যে, এই সাবানও কাজে আসে না। আসল কথা হলো আবরদের জন্য পরিষ্কার থাকা কখনোই সম্ভব না।

এনবিসি টিভিতে এক কোম্পানী বিজ্ঞাপন দেয়, আত্মরক্ষা ও ইজ্জত-সম্ভ্রম হেফাযতের খাতিরে এক বিশেষ রকমের তরল বস্তু ব্যবহার করে একজন দুর্বল লোকও নিজেকে রক্ষা করতে পারে। একদিকে এই ঘোষণা হচ্ছিল অপরদিকে এক অর্ধনগ্ন সুন্দরী যুবতী প্রশান্তির সাথে পায়চারি করছিল। হঠাৎ এক আরব এসে তার সাথে ধস্তাধস্তি করতে লাগল। এরপর সে ছুরির ভয় দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করতে উদ্যত হয়। যুবতী তার ইজ্জত-সম্ভ্রম রক্ষার জন্য ওই তরল বস্তুটি আরব লোকটির মুখে ছুঁড়ে মারে। এতে সে বেহুশ হয়ে পড়ে যায়। এরপর যুবতী তার মুখে থুথু নিক্ষেপ করে আপন রাস্তা গ্রহণ করে।

এক ইটালিয়ান সিনেমার পর্দায় যৌনশক্তি বৃদ্ধির এক ওষুধের বিজ্ঞাপন প্রচার হচ্ছিল। ইত্যবসরে পর্দার সামনে এক বৃদ্ধ লোক আরবী পোশাক পরে আবির্ভূত হয়। তার মাথার চুল সব সাদা হয়ে গেছে, কোমর ঝুঁকে পড়েছে। বৃদ্ধ হেলতে হেলতে একেক স্টলে যাচ্ছিল, যেখানে নগ্ন যৌন ম্যাগাজিন ও পুস্তক-পুস্তিকা বিক্রি হচ্ছে। ম্যাগাজিনের নগ্ন ছবি দেখে তার চোখে ছানাবড়া সৃষ্টি হয়। ইতোমধ্যে যৌনশক্তি বৃদ্ধির এক ওষুধ তার সামনে পেশ করা হয়। ওষুধ পান করেই সে উন্মাদ হস্তির মত ইটালির সড়কে মেয়েদের পেছনে দৌড়াতে থাকে এবং জানোয়ারের মতো মহাসড়কেই অনৈতিক কর্মে লিপ্ত হয়, যা দেখে আশেপাশের মানুষ অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে। টিভি এবং সিনেমার বিজ্ঞাপন ছাড়াও ইহুদী কারখানার বিভিন্ন পণ্যে এমন এমন বাক্য লেখা থাকে, যা মুসলমানদের চেতনাবোধ আহত ক্ষতবিক্ষত করে এবং তাদের দীন ধর্মকে লাঞ্ছিত করে।

বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইহুদীদের কারখানাগুলোতে বিভিন্ন পণ্যের প্যাকিংয়ে সূরা মারইয়াম এবং সূরা বাকারার শুরুর আয়াতগুলো মুদ্রণ করা হয়েছে।

লন্ডনে প্রসিদ্ধ ইহুদী ডিপার্টমেন্টাল স্টোর মার্ক স্পেন্সার নারী পুরুষের গোপন লেবাস জাঙ্গিয়ায় 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' কালেমা লিখিয়ে 'আল্লাহ' শব্দটি বিশেষ জায়গায় রাখা হয়েছে। আমেরিকা ও লন্ডনের বিভিন্ন যৌন বিষয়ক ম্যাগাজিনে নগ্ন যুবতীদের ছবি কুরআনের আয়াতের মাঝে দেখানো হয়েছে। আমেরিকা, বৃটেন ও ইউরোপের অন্যান্য শহরে নগ্ন ক্লাবগুলো মসজিদের মতো বানিয়ে ওপরে বিদ্যুৎ জ্বালানো সাইনবোর্ডে মক্কা লেখা হয়েছে। দীর্ঘ দিন পর্যন্ত 'মক্কা' শব্দটিকে বিকৃত করে 'মেক্কা' লেখা হতে থাকে। সাইপ্রাসের এক ইহুদী কারখানার মালিক তার কোম্পানীর তৈরি জুতার গোড়ালি অংশে 'আল্লাহ' শব্দ অঙ্কন করে দিয়েছে।

মার্কিন হোটেলগুলোতে টয়লেট পেপারে দীর্ঘ দিন ধরে জনপ্রিয় বড় বড় ওলামায়ে কেরামের ছবি ছাপা হতে থাকে। এর দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য ইসলাম ও তার ধারক- বাহকদের হেয় অপমান করা।

টিকাঃ
৭. ইহুদীরা তাদের পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টায় এভাবে সফলকাম হয়েছে যে, ভেটিকান সিটির পোপ জনপল কেন্দ্রীয় পরামর্শ সভায় আলোচনা-পর্যালোচনার পর এই বিবৃতি জারি করে যে, ইহুদীরা হযরত ঈসার হত্যার অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।
৮. মিসরী টিভিতে যে সিরিজ অথবা নাটক উপস্থাপিত হয়, সেগুলোতে এবং সিনেমায় খারাপ কাজের দৃশ্যে অভিনয়কারীর নাম আহমদ, মুহাম্মদ, আবদুল জব্বার, ওমর, আলী রাখা হয়। আপনাদেরই অবস্থা এ রকম, তা হলে অন্যদের সম্পর্কে আর অভিযোগ করার কী আছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00