📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 পশ্চিমা চলচ্চিত্রে প্রদর্শিত মুসলমানদের চরিত্র বৈশিষ্ট্য

📄 পশ্চিমা চলচ্চিত্রে প্রদর্শিত মুসলমানদের চরিত্র বৈশিষ্ট্য


পশ্চিমা চলচ্চিত্রে সাধারণত মুসলমানদের যেসব চরিত্র বৈশিষ্ট্যে দেখানো হয়, তা মৌলিকভাবে ছয় ভাগে বিভক্ত করা যায়।
০১. মুসলমানারা -বিত্তশালী ও বিলাসী।
০২. মুসলমানরা-সন্ত্রাসী ও বিপর্যয়-বিশৃংখলা সৃষ্টিকারী।
০৩. মুসলমনারা-প্রবৃত্তি পূজারী
০৪. মুসলমানরা-প্রান্তিক ও হাসি-তামাশার পাত্র।
০৫. মুসলমানরা-শয়তান ও নির্দয়-নির্মম।
০৬. মুসলমানরা-ভবিষ্যতের জন্য বিপদ।

📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 মুসলমানরা—বিত্তশালী ও বিলাসী

📄 মুসলমানরা—বিত্তশালী ও বিলাসী


উদাহরণস্বরূপ এমন ছয়টি চলচ্চিত্রের নাম করা যায়, যেগুলোতে এমন কোনো না কোনো ধনাঢ্য বিত্তশালী আরব রয়েছে, যে অবশ্যই নিরর্থক ফালতু কাজে হস্তক্ষেপ করে। তার চেষ্টা থাকে অঢেল বিত্ত বৈভব দ্বারা সমগ্র দুনিয়াকে কবজা করার। যেসব চলচ্চিত্রে এসব দৃশ্য দেখানো হয়েছে সেগুলো হল-'নীল দরিয়ার মতি', 'অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি', 'প্রতিরোধের ঊর্ধ্বে', 'লোলিরো', 'উরুগুয়ের মরুভূমি' প্রভৃতি। এ ছাড়া ১৯৮৫ সালে 'পরিবেষ্টন' ও 'অপহরণকারীদের পলায়ন' নামে টেলিভিশনের জন্য এমন দুটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়েছে; যাতে আরবদের বেওকুফ নির্বোধ, বিত্তশালী এবং বিলাসী আয়াশপ্রিয় দেখানো হয়েছে।

📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 মুসলমানরা—সন্ত্রাসী ও বিপর্যয়-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী

📄 মুসলমানরা—সন্ত্রাসী ও বিপর্যয়-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী


মার্কিন চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠান হলিউডের নির্মিত 'অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি' নামক সিনেমায় দেখানো হয়েছে, এক আরব শাসক একটি সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের পরিকল্পনা করছে। বিষয়টি জানতে পেরে সিনেমার নায়িকা গোল্ডি হাওন সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেয়। এ কাজ আঞ্জাম দিতে গিয়ে নায়িকা আরব শাসকের হাতে ধরা পড়ে যায়। শাস্তিস্বরূপ তাকে আরব শাসকের সাথে বিবাহ বসতে বলা হয়, নতুবা তাকে আমেরিকায় ফিরে যেতে দেয়া হবে না। এভাবে আরব শাসক চায়, নায়িকার সাথে বিলাস করবে এবং তার মাধ্যমে যখন ইচ্ছা মার্কিন রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করবে। এক পর্যায়ে নায়িকা আরব শাসকের হাত থেকে মুক্তিলাভে সক্ষম হয়। মুক্তিলাভের পর মার্কিন টিভির পর্দায় আবির্ভূত হয়ে সে ঘটনার আদ্যোপান্ত বিবরণ তুলে ধরে। সবশেষে সে মন্তব্য করে, মুসলমানরা সন্ত্রাসী ও বিপর্যয়-বিশৃংখলা সৃষ্টিকারী। তাদের অস্তিত্ব আমাদের শান্তি-নিরাপত্তার জন্য অব্যাহত হুমকি। ৬

টিকাঃ
৬. ২০০৬ সালের এক রিপোর্টে দেখা যায়, ১১ই সেপ্টেম্বরের পর 'দ্য সিজ, শেখ, দ্য জুয়েল অব দ্য লাইন' ইত্যাদি নামে হলিউডে অন্তত ১২টি চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়েছে, যেগুলোতে মুসলমানদের নিকৃষ্ট হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে।-অনুবাদক

📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 মুসলমানরা—প্রবৃত্তি ও নফস পূজারী

📄 মুসলমানরা—প্রবৃত্তি ও নফস পূজারী


পশ্চিমা চলচ্চিত্রে এ দৃশ্য দেখাতে মোটেও দ্বিধা করা হয় না যে, আরব ও মুসলমানরা নারীদের ব্যাপারে একই রকম লালায়িত ও বুভুক্ষু। তারা প্রবৃত্তি পূজারী। তারা কোনোভাবেই নারীদের সাথে যৌনকর্মে পরিতৃপ্ত হয় না। তাদের সবচে দুর্বল দিক হলো নারী, বিশেষ করে ইউরোপিয়ান শ্বেতাঙ্গ নারীরা হলো তাদের সবচে' প্রিয় বস্তু। মুসলমান ও আরবদের সম্পর্কে এ ধরনের দৃশ্য প্রায় অধিকাংশ সিনেমাতেই দেখানো হয়। অথচ পশ্চিমারা দাবী করে, তারা সব বিষয়ে নিরপেক্ষ। যেমন 'মিউনিখের কীর্তি' নামক সিনেমাটি আরব বিশ্ব ও ইসরাঈলের সব জায়গাতেই প্রদর্শন করা হয়। এ সিনেমার নামকরা অভিনেতা হল স্পিনার ও ট্রান্স বিল। নির্মাতাদের দাবী, সিনেমাটি নিরপেক্ষ, কিন্তু এতে আবরদের বিরুদ্ধে পূর্ব থেকে চলে আসা ঘৃণা-বিদ্বেষ ও শত্রুতা অত্যন্ত সুন্দর মোড়কে উপস্থাপন করা হয়েছে, কিন্তু আরবরা তামাশা দেখার মতো তা উপভোগ করতে থাকে। পশ্চিমাদের ঠিকই উপলদ্ধি আছে, সিনেমার পর্দায় যাদের দেখানো হয় তারা সেসব ব্যক্তি, যারা সোনালী চুল আর সাদা চামড়ার সুন্দরী নারীদের সৌন্দর্যের উত্তাল সহ্য করতে পারে না। তাদের সামনে পানি পানি হয়ে যায়।

পশ্চিমারা ভালো করেই জানে, আরবদের ঘায়েল করার একমাত্র পথ সুন্দরী নারী। যখন মার্কিনীদের আরব বিশ্বের অবকাঠামো নির্মাণ সংক্রান্ত আলোচনা ব্যর্থ হয়ে যায় এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে কোটি কোটি ডলারের মার্কিন বিমান ক্রয়ে তাদের রাজি করাতে ব্যর্থ হয়, তখন তারা আরব প্রতিনিধি দলকে অভ্যর্থনা জানাতে লম্বা চুল আর সাদা চামড়ার সুন্দরী এয়ার হোস্টেস প্রেরণ করে। কারণ তারা বিলক্ষণ জানে, এতে সহজেই আরবরা মাত হয়ে যাবে। এই সুন্দরী নারী যখন কোনো দাবী করবে তখন তাদের পক্ষে সেটা প্রত্যাখ্যান করার কোনো সুযোগ থাকবে না। যে কাজ পূর্বে দশ কোটি ডলারেও সম্ভব ছিল না সে কাজ এখন বিশ কোটি ডলারে সিদ্ধান্ত হয়। কথোপকথন ছাড়াই অত্যন্ত সহজে সাদামাটাভাবে এটা প্রমাণ করে দেয়া হয়।

'রোলিরো' নামক সিনেমায় দেখানো হয়েছে, এক আরব শায়খ এক যুবতী নারীকে অনৈতিক কাজে রাজি করাতে ব্যর্থ হয়ে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। 'নীল দরিয়ার মতি' সিনেমায় দেখানো হয়েছে, সিনেমার নায়িকা এক আরব শাসকের জীবনী লেখার উদ্দেশে তথ্য সংগ্রহের জন্য তার প্রাসাদে প্রবেশ করে। সেখানে পৌছে নায়িকা অনুভব করতে পারে, সে আরব শাসকের জালে আটকা পড়ে গেছে এবং সে তার কাছে বন্দিনী। খুব দ্রুত নায়িকা অনুমান করে ফেলে, আরব শাসক যৌনতার দিক থেকে খুবই দুর্বল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00