📄 ধুলোর জাহাজ
মেট্রো গোল্ডেন কোম্পানীর দ্বিতীয় সিনেমাটি হচ্ছে, 'ধুলোর জাহাজ'। এটি নির্মাণ করা হয়েছিল ১৯৮১ সালে। এর মৌলিক উদ্দেশ্য ছিল বিজ্ঞানের উৎকর্ষ দেখানো। এ চলচ্চিত্রের কাহিনী হচ্ছে বিজ্ঞান সফর। মার্কিন বুদ্ধিজীবীদের একদল ধুলোর জাহাজে সফর করছে। সফরসঙ্গীদের মধ্যে এক অনিন্দ্যসুন্দরী নারীও ছিল। সফরের মাঝে জাহাজ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে সফরকারী দলটি আফ্রিকার জংলী মানুষখেকোদের হাতে ধরা পড়ে যায়। কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর আফ্রিকার জংলীরা তাদের হত্যা করার মনস্থ করে। ইতোমধ্যে তারা কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এরপর তারা আবার ধুলোর জাহাজে চলতে শুরু করে। কিছুদিন চলার পর জাহাজটি এমন জায়গায় অবতরণ করে, যেখানের বাসিন্দারা সবাই মুসলমান। সেখানের বেশিরভাগ লোক তাঁবুতে বাস করে। তাদের কাঁচা রাস্তাঘাট উটের চলাফেলার কারণে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। সেখানকার লোকেরা ধুলোর জাহাজ দেখে মনে করল, মনে হয় আসমান থেকে কোনো শয়তান অবতরণ করেছে। সুতরাং ভয়ে তারা সেজদায় লুটিয়ে পড়ে। মুআযিযন আযান দিতে উঁচু জায়গায় ওঠে। সবাই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে, হে আল্লাহ! আমাদের এই শয়তানের অনিষ্ট থেকে রক্ষা কর। এ সফরকারী দলের লোকেরা খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করার জন্য মুসলমান আরবদের শহরে প্রবেশ করে বুঝতে পারে, এরা শয়তান নয়, আমাদের মতোই মানুষ। তারা মুসাফির দলের লোকদের তাদের আমীরের শাহী মহলে নিয়ে যায়। দলটি যখন আমীরের দরবারে পৌঁছে তখন আমীর সুন্দরী নারী ও ওলামায়ে কেরামের মাঝে বসা ছিলেন। একই সাথে সেখানে কুরআনও পড়া হচ্ছিল আবার অনৈতিক কর্মকান্ডও চলছিল। আমীরের দৃষ্টি দলের অনিন্দ্যসুন্দরী নারীর প্রতি পড়ার সাথে সাথে তাকেও তার সেবিকাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার মনস্থ করেন। ফলে দলের সদস্য ও শহরবাসীদের মধ্যে প্রচন্ড লড়াই হয়। শেষ পর্যন্ত সুন্দরী নারীর কারণে সফরকারী দলের সবাই মুক্তি লাভ করে এবং ধুলোর জাহাজে করে সরে পড়ে।
গোটা সিনেমায় মুসলমানদের বিরুদ্ধে সর্বপ্রকারের শত্রুতা প্রদর্শন করা হয়েছে। যেখানেই সুযোগ পাওয়া গেছে সেখানেই ইসলাম ও মুসলমানদের হেয় করা হয়েছে। তাদের জংলী, মানুষখেকো ও বর্বর দৃশ্যে দেখানো হয়েছে। লড়াই-যুদ্ধ শেষ করে যখন তারা গনীমতের সম্পদ নিয়ে ফিরে তখন আযান ও না'রায়ে তাকবীর ধ্বনি দিতে দিতে ফিরে।
📄 পশ্চিমা চলচ্চিত্রে প্রদর্শিত মুসলমানদের চরিত্র বৈশিষ্ট্য
পশ্চিমা চলচ্চিত্রে সাধারণত মুসলমানদের যেসব চরিত্র বৈশিষ্ট্যে দেখানো হয়, তা মৌলিকভাবে ছয় ভাগে বিভক্ত করা যায়।
০১. মুসলমানারা -বিত্তশালী ও বিলাসী।
০২. মুসলমানরা-সন্ত্রাসী ও বিপর্যয়-বিশৃংখলা সৃষ্টিকারী।
০৩. মুসলমনারা-প্রবৃত্তি পূজারী
০৪. মুসলমানরা-প্রান্তিক ও হাসি-তামাশার পাত্র।
০৫. মুসলমানরা-শয়তান ও নির্দয়-নির্মম।
০৬. মুসলমানরা-ভবিষ্যতের জন্য বিপদ।
📄 মুসলমানরা—বিত্তশালী ও বিলাসী
উদাহরণস্বরূপ এমন ছয়টি চলচ্চিত্রের নাম করা যায়, যেগুলোতে এমন কোনো না কোনো ধনাঢ্য বিত্তশালী আরব রয়েছে, যে অবশ্যই নিরর্থক ফালতু কাজে হস্তক্ষেপ করে। তার চেষ্টা থাকে অঢেল বিত্ত বৈভব দ্বারা সমগ্র দুনিয়াকে কবজা করার। যেসব চলচ্চিত্রে এসব দৃশ্য দেখানো হয়েছে সেগুলো হল-'নীল দরিয়ার মতি', 'অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি', 'প্রতিরোধের ঊর্ধ্বে', 'লোলিরো', 'উরুগুয়ের মরুভূমি' প্রভৃতি। এ ছাড়া ১৯৮৫ সালে 'পরিবেষ্টন' ও 'অপহরণকারীদের পলায়ন' নামে টেলিভিশনের জন্য এমন দুটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়েছে; যাতে আরবদের বেওকুফ নির্বোধ, বিত্তশালী এবং বিলাসী আয়াশপ্রিয় দেখানো হয়েছে।
📄 মুসলমানরা—সন্ত্রাসী ও বিপর্যয়-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী
মার্কিন চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠান হলিউডের নির্মিত 'অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি' নামক সিনেমায় দেখানো হয়েছে, এক আরব শাসক একটি সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের পরিকল্পনা করছে। বিষয়টি জানতে পেরে সিনেমার নায়িকা গোল্ডি হাওন সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেয়। এ কাজ আঞ্জাম দিতে গিয়ে নায়িকা আরব শাসকের হাতে ধরা পড়ে যায়। শাস্তিস্বরূপ তাকে আরব শাসকের সাথে বিবাহ বসতে বলা হয়, নতুবা তাকে আমেরিকায় ফিরে যেতে দেয়া হবে না। এভাবে আরব শাসক চায়, নায়িকার সাথে বিলাস করবে এবং তার মাধ্যমে যখন ইচ্ছা মার্কিন রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করবে। এক পর্যায়ে নায়িকা আরব শাসকের হাত থেকে মুক্তিলাভে সক্ষম হয়। মুক্তিলাভের পর মার্কিন টিভির পর্দায় আবির্ভূত হয়ে সে ঘটনার আদ্যোপান্ত বিবরণ তুলে ধরে। সবশেষে সে মন্তব্য করে, মুসলমানরা সন্ত্রাসী ও বিপর্যয়-বিশৃংখলা সৃষ্টিকারী। তাদের অস্তিত্ব আমাদের শান্তি-নিরাপত্তার জন্য অব্যাহত হুমকি। ৬
টিকাঃ
৬. ২০০৬ সালের এক রিপোর্টে দেখা যায়, ১১ই সেপ্টেম্বরের পর 'দ্য সিজ, শেখ, দ্য জুয়েল অব দ্য লাইন' ইত্যাদি নামে হলিউডে অন্তত ১২টি চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়েছে, যেগুলোতে মুসলমানদের নিকৃষ্ট হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে।-অনুবাদক