📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 উড়ন্ত বিড়াল

📄 উড়ন্ত বিড়াল


মেট্রো গোল্ডেন কোম্পানী নির্মিত প্রথম সিনেমাটি হচ্ছে 'উড়ন্ত বিড়াল'। এটি শিশু ও যুবকদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ঠিক, কিন্তু যে মূলনীতি ও দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে নির্মাণ করা হয়েছে তাতে বড়দের জন্যই এটি বেশি উপযোগী এবং তারাই বেশি দেখতে আগ্রহী।

সিনেমার ঘটনাটি মোটামুটি এমন-একটি সুন্দর ছোট্ট বিড়াল দূর-দূরান্তে অবস্থিত একটি দ্বীপ থেকে উড়ে আসে, যেখানে শুধু বিড়ালরাই বাস করে। তাদের সকলেই খুব হুশিয়ার ও বুদ্ধিমান। বিড়ালটির গলায় একটি তাবিজ বাধা ছিল। তাবিজের কারণে তার মধ্যে এমন অসাধারণ শক্তি সঞ্চারিত হয়, যাতে সে প্রতিটি বস্তুর ওপর নিয়ন্ত্রণ লাভ করছিল। অনেক ঘটনা দুর্ঘটনা অতিক্রম করে এক মার্কিন বুদ্ধিজীবী চেষ্টা করে, যাতে কোনোভাবে বিড়ালটির তাবিজ ছিনিয়ে নিয়ে কোনো ভালো কাজে লাগানো যায় এবং এর মাধ্যমে তৃতীয় বিশ্বের সমস্যা সংকটগুলো নিরসন করা যায়। এ চিন্তায় সে বিড়ালটিকে খুব আদর ও সোহাগ করতে থাকে। বিড়ালটিও মার্কিন বুদ্ধিজীবীকে সহযোগিতা করতে চায় এবং তাকে অনেক উপকারী পরামর্শ দেয়। ইতোমধ্যে কোত্থেকে এক ভয়াবহ দলের আবির্ভাব হয়। যারা বিড়ালের তাবিজটি ছিনিয়ে নিয়ে গোটা বিশ্ব কবজা করে নিতে চেষ্টা করছিল। দলটির সবারই লেবাস ও চাল-চলন ছিল আরবদের মতো।

সবার হাতেই ছিল তরবারি। তারা একে অপরকে আহমদ, মুহাম্মদ, জাফর, আলী ইত্যাদি নামে ডাকে। এ দলের লীডারের নাম ওমর। তার আশ্রয়স্থল দেখানো হয় মসজিদ। সিনেমার বিভিন্ন স্থানে এমন এমন দৃশ্যের অবতারণা করা হয়, যেগুলোতে মসজিদের সীমারেখার মধ্যে নারী ও মদ নিয়ে ভোগ-বিলাসের জঘন্য দৃশ্য প্রদর্শন করা হচ্ছিল। আযান পর্যন্ত ভোগ বিলাসিতার এ দৃশ্য চলতে থাকে। যখন আযানের আওয়াজ ভেসে আসে তখন সবাই নামাযে শরীক হয়ে যায়। এ এভাবে দেখানো হয়েছে, মুসলমানদের পবিত্র স্থানগুলো বিশৃংখলা, অন্যায় ও অশ্লীলতার কেন্দ্র। এজন্য এগুলো নিশ্চিহ্ন করে দেয়া উচিত। সিনেমার সর্বশেষ দৃশ্যে দেখানো হয়েছে, সেই ভয়াবহ দলটির কারণে মসজিদকে শহীদ করে দেয়া হয়েছে।

টিকাঃ
৫. আমেরিকান সিয়াটেল প্রভৃতি শহরে শরাবখানার ইমারত মসজিদের আকৃতিতে বানানো হয়েছে এবং এগুলোর নামকরণও আরব মসজিদগুলোর মতো করা হয়েছে। লন্ডন, প্যারিস এবং তেলআবিবে নৈশ ক্লাব ও শরাবখানার ইমারতগুলো সবুজ গম্বুজ এবং মিনারা সজ্জিত করে সেগুলোর নাম মক্কা মুকাররমা এবং মদীনা মুনাওয়ারা রাখা হয়েছে।

📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 ধুলোর জাহাজ

📄 ধুলোর জাহাজ


মেট্রো গোল্ডেন কোম্পানীর দ্বিতীয় সিনেমাটি হচ্ছে, 'ধুলোর জাহাজ'। এটি নির্মাণ করা হয়েছিল ১৯৮১ সালে। এর মৌলিক উদ্দেশ্য ছিল বিজ্ঞানের উৎকর্ষ দেখানো। এ চলচ্চিত্রের কাহিনী হচ্ছে বিজ্ঞান সফর। মার্কিন বুদ্ধিজীবীদের একদল ধুলোর জাহাজে সফর করছে। সফরসঙ্গীদের মধ্যে এক অনিন্দ্যসুন্দরী নারীও ছিল। সফরের মাঝে জাহাজ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে সফরকারী দলটি আফ্রিকার জংলী মানুষখেকোদের হাতে ধরা পড়ে যায়। কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর আফ্রিকার জংলীরা তাদের হত্যা করার মনস্থ করে। ইতোমধ্যে তারা কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এরপর তারা আবার ধুলোর জাহাজে চলতে শুরু করে। কিছুদিন চলার পর জাহাজটি এমন জায়গায় অবতরণ করে, যেখানের বাসিন্দারা সবাই মুসলমান। সেখানের বেশিরভাগ লোক তাঁবুতে বাস করে। তাদের কাঁচা রাস্তাঘাট উটের চলাফেলার কারণে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। সেখানকার লোকেরা ধুলোর জাহাজ দেখে মনে করল, মনে হয় আসমান থেকে কোনো শয়তান অবতরণ করেছে। সুতরাং ভয়ে তারা সেজদায় লুটিয়ে পড়ে। মুআযিযন আযান দিতে উঁচু জায়গায় ওঠে। সবাই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে, হে আল্লাহ! আমাদের এই শয়তানের অনিষ্ট থেকে রক্ষা কর। এ সফরকারী দলের লোকেরা খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করার জন্য মুসলমান আরবদের শহরে প্রবেশ করে বুঝতে পারে, এরা শয়তান নয়, আমাদের মতোই মানুষ। তারা মুসাফির দলের লোকদের তাদের আমীরের শাহী মহলে নিয়ে যায়। দলটি যখন আমীরের দরবারে পৌঁছে তখন আমীর সুন্দরী নারী ও ওলামায়ে কেরামের মাঝে বসা ছিলেন। একই সাথে সেখানে কুরআনও পড়া হচ্ছিল আবার অনৈতিক কর্মকান্ডও চলছিল। আমীরের দৃষ্টি দলের অনিন্দ্যসুন্দরী নারীর প্রতি পড়ার সাথে সাথে তাকেও তার সেবিকাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার মনস্থ করেন। ফলে দলের সদস্য ও শহরবাসীদের মধ্যে প্রচন্ড লড়াই হয়। শেষ পর্যন্ত সুন্দরী নারীর কারণে সফরকারী দলের সবাই মুক্তি লাভ করে এবং ধুলোর জাহাজে করে সরে পড়ে।

গোটা সিনেমায় মুসলমানদের বিরুদ্ধে সর্বপ্রকারের শত্রুতা প্রদর্শন করা হয়েছে। যেখানেই সুযোগ পাওয়া গেছে সেখানেই ইসলাম ও মুসলমানদের হেয় করা হয়েছে। তাদের জংলী, মানুষখেকো ও বর্বর দৃশ্যে দেখানো হয়েছে। লড়াই-যুদ্ধ শেষ করে যখন তারা গনীমতের সম্পদ নিয়ে ফিরে তখন আযান ও না'রায়ে তাকবীর ধ্বনি দিতে দিতে ফিরে।

📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 পশ্চিমা চলচ্চিত্রে প্রদর্শিত মুসলমানদের চরিত্র বৈশিষ্ট্য

📄 পশ্চিমা চলচ্চিত্রে প্রদর্শিত মুসলমানদের চরিত্র বৈশিষ্ট্য


পশ্চিমা চলচ্চিত্রে সাধারণত মুসলমানদের যেসব চরিত্র বৈশিষ্ট্যে দেখানো হয়, তা মৌলিকভাবে ছয় ভাগে বিভক্ত করা যায়।
০১. মুসলমানারা -বিত্তশালী ও বিলাসী।
০২. মুসলমানরা-সন্ত্রাসী ও বিপর্যয়-বিশৃংখলা সৃষ্টিকারী।
০৩. মুসলমনারা-প্রবৃত্তি পূজারী
০৪. মুসলমানরা-প্রান্তিক ও হাসি-তামাশার পাত্র।
০৫. মুসলমানরা-শয়তান ও নির্দয়-নির্মম।
০৬. মুসলমানরা-ভবিষ্যতের জন্য বিপদ।

📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 মুসলমানরা—বিত্তশালী ও বিলাসী

📄 মুসলমানরা—বিত্তশালী ও বিলাসী


উদাহরণস্বরূপ এমন ছয়টি চলচ্চিত্রের নাম করা যায়, যেগুলোতে এমন কোনো না কোনো ধনাঢ্য বিত্তশালী আরব রয়েছে, যে অবশ্যই নিরর্থক ফালতু কাজে হস্তক্ষেপ করে। তার চেষ্টা থাকে অঢেল বিত্ত বৈভব দ্বারা সমগ্র দুনিয়াকে কবজা করার। যেসব চলচ্চিত্রে এসব দৃশ্য দেখানো হয়েছে সেগুলো হল-'নীল দরিয়ার মতি', 'অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি', 'প্রতিরোধের ঊর্ধ্বে', 'লোলিরো', 'উরুগুয়ের মরুভূমি' প্রভৃতি। এ ছাড়া ১৯৮৫ সালে 'পরিবেষ্টন' ও 'অপহরণকারীদের পলায়ন' নামে টেলিভিশনের জন্য এমন দুটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়েছে; যাতে আরবদের বেওকুফ নির্বোধ, বিত্তশালী এবং বিলাসী আয়াশপ্রিয় দেখানো হয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00