📄 পশ্চিমা চলচ্চিত্র
ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে পাশ্চাত্য যে যুদ্ধ শুরু করেছে তা গোলাবারুদ ও কামানের যুদ্ধ নয়; বরং প্রকৃত অর্থে এ যুদ্ধ হলো মিডিয়ার যুদ্ধ। এই যুদ্ধের ব্যাপকতা, বিশালতা এত সুদূরপ্রসারী ও সুগভীর যে, এর প্রভাব-প্রতিক্রিয়ার কল্পনাই করা যায় না। এর কল্পনা মানুষের চিন্তাশক্তিকেও নিতান্ত অসহায় করে দিয়েছে। এই যুদ্ধ বন্দুক ও আণবিক বোমা থেকেও বহুগুণে বেশি বিপজ্জনক, বিপর্যয়কর ও ধ্বংসাত্মক। মুসলিম উম্মাহকে নির্মূল করার জন্য পাশ্চাত্য জগত একদিকে শিক্ষা অপরদিকে মিডিয়ার অস্ত্র সাজে সজ্জিত হয়ে দুর্দান্ত প্রতাপের সাথে ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছে। পশ্চিমা মিডিয়ার অন্যতম শক্তিশালী বিভাগ হলো চলচ্চিত্র, যা সম্পূর্ণ ইহুদীদের কর্তৃত্বে ও দখলে। তারা দিন রাত বিরামহীনভাবে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করে বিভিন্নভাবে এমন সব চলচ্চিত্র নির্মাণ করছে, যেসব চলচ্চিত্রে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহকে মূল টার্গেট বানানো হচ্ছে। তারা পরিকল্পিতভাবে এসব কাজ আঞ্জাম দিচ্ছে আর আমাদের সরকারগুলো সংস্কৃতির নামে সরকারী অর্থে এসব চলচ্চিত্রের বিকাশ ও বিস্তার ঘটাচ্ছে এবং জোর করে মুসলমানদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। সিনেমার এই যুদ্ধের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ টেলিভিশনকেও নিজের কবলে নিয়ে নিয়েছে। এখন সরাসরি ডিশ এন্টিনার মাধ্যমে আমাদের ঘরে বাড়ীতে বসে দিবালোকে আগ্রাসন চালাচ্ছে।
ক্রুসেড যুদ্ধে লজ্জাজনক ও গ্লানিকর পরাজয়ের পর পাশ্চাত্যজগত ইসলামী বিশ্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধের যে কৌশল ও পরিকল্পনা তৈরি করেছে, যেসব লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নির্ধারণ করেছে, সেদিকে সুস্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করে মার্কিন ক্যাথলিক চার্চের এক সংগঠনের প্রেসিডেন্ট মার্শাল বোল্ডাউন বলেন, পশ্চিমাজগত ইসলামকে শুধু চলমান সভ্যতার জন্যই বিপদজনক মনে করে না; বরং খৃস্টান বিশ্বের সাথে ইসলামী বিশ্বের হাজার বছর ধরে লড়াই সংঘর্ষ চলে আসছে এবং এই লড়াই অব্যাহতভাবে চলতে থাকবে।
ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে পশ্চিমা জগত প্রথমে জ্ঞান গবেষণা ও সাহিত্যের পথে এই লড়াই চালিয়ে আসছিল। গত এক শতাব্দী থেকে এই যুদ্ধের আগুন চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। চলচ্চিত্র অঙ্গনের ব্যাপকতা ও টেলিভিশনের প্রভাব-প্রতিক্রিয়া একথারই সাক্ষ্য দেয় যে, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার আলোকে পশ্চিমা ধ্যান-ধারণা ও চিন্তা-চেতনাকে ব্যাপক থেকে ব্যাপকতরভাবে লোকদের মন মস্তিষ্কে ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে। বাস্তব কথা হলো, ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহ সম্পর্কিত কোনো ঘটনা প্রচারে পশ্চিমা মিডিয়া ছাড় দেয়া তো দূরে থাক, সেটাকে একটু সহজভাবেও গ্রহণ করে না; বরং ধরন ও মোড়ক পাল্টিয়ে ধারাবাহিকভাবে নতুন নতুন আঙ্গিকে সেটা প্রচার করতে থাকে।
উদাহরণস্বরূপ মাহদী সুদানী মার্কিন চলচ্চিত্রে একটি আলোচিত নাম। তাকে মার্কিন চলচ্চিত্র ও নাটকে অত্যন্ত ঘৃণিত আকারে উপস্থাপন করা হয়। সকল খল চরিত্রে অভিনয়ের জন্য মাহদী সুদানীকে ব্যবহার করা হয়। ব্যক্তি মাহদী সুদানীর আড়ালে মূলতঃ ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহকে টার্গেট বানানোই তাদের উদ্দেশ্য। ১৮৮৫ সালে নির্মিত খারতুম নামক এক নাটকে মাহদী সুদানীকে ইসলামের লেবেলে অত্যন্ত ঘৃণিত ও বিকৃত আকারে উপস্থাপন করা হয়েছিল। নাটকটি লন্ডনে মঞ্চস্থ হয়। উদাহরণস্বরূপ এ শতাব্দীর শুরুর দিকে এ. আই. ডব্লিউ সোনি রচিত 'চার পালক' উপন্যাসের নাম করা যায়। এ উপন্যাসটি এমন এক কাহিনী অবলম্বনে রচিত হয়েছে, যা ইহুদী চলচ্চিত্র নির্মাতাদের দৃষ্টি এড়ায়নি। যদিও সমালোচক এটিকে ইংরেজি ভাষার উপন্যাসসমূহের মধ্যে অত্যন্ত নিম্নমানের সাব্যস্ত করেছেন, কিন্তু ১৯২৯ সালে প্রখ্যাত ইহুদী চলচ্চিত্র নির্মাতা আলেকজান্ডার এ উপন্যাসটিকে কোর্ডা ক্যারেজ উইল্টনের নির্দেশনায় চলচ্চিত্রের আকৃতি দান করে। দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ১৯৫৫ সালে 'নীল দরিয়ার উচ্ছাস', তৃতীয় চলচ্চিত্র ১৯৬৪ সালে 'পূর্ব সুদান' নামে সোলনা কোর্ডা ও চার্চ শ্যাডেড (দুজনই ইহুদী) নির্মাণ করে। চতুর্থ চলচ্চিত্র ১৯৭৯ সালে ফরম্যান র্যাশোট 'চার পালক' নামে ডান শর্পের নির্দেশনায় প্রস্তুত করে।
এ চারটি চলচ্চিত্রেরই লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ছিল, মাহদী সুদানীর ব্যক্তিত্বের আড়ালে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর ওপর আগ্রাসন চালানো।
সিনেমার ইতিহাস রচয়িতা জেফরে অবকার্ডাস 'চার পালক' সিনেমার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করতে গিয়ে লেখেন, চার পালক সিনেমায় নায়ককে একজন উদার ও পরোপকারীর দৃশ্যে দেখানো হয়েছে। সে আদ্যোপান্ত পরোপকার, আত্মত্যাগের প্রতীক ও আইন-কানুনের প্রতি আনুগত্যশীল। সে যে দেশের জন্য খেদমত আঞ্জাম দেয় সে দেশ তার কাছে খুব প্রিয়। তার অধীনস্থ কর্মচারীদেরও সে অত্যন্ত ভালবাসে। যে দেশে সে অবস্থান করে সে দেশের আদব-কায়দা, প্রথা-প্রচলন ও আকীদা-বিশ্বাসের সাথে তার কোনো সম্পর্কই নেই। অবশ্য স্থানীয় জনগণকে সে সব সময় বিদ্রোহ বিশৃংখলায় উদ্বুদ্ধ করতে প্রস্তুত থাকে। বিপ্লবী এবং জাতির পথপ্রদর্শকদের সে মাতৃভূমির অধিবাসীদের শত্রু বানিয়ে উপস্থাপন করে। 'চার পালক' শিরোনামে যত সিনেমা নির্মিত হয়েছে, সেগুলোর ধারাবাহিক পয়গাম হচ্ছে, জনগণ সে সময় পর্যন্ত সচ্ছল সুখী জীবন যাপন করতে সক্ষম নয় যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের ওপর অন্য জাতির ছায়া না থাকবে। আর দ্বিতীয় মৌলিক উদ্দেশ্য ছিল এ কথা দেখানো যে, মুসলমানদের কথা ও কাজে কোনো মিল নেই। তারা নৈতিক ও চারিত্রিক নীতিমালার কেনোই পরোয়া করে না। ভাষা, তাহযীব-তামাদ্দুন ও কৃষ্টি-কালচার থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত; বরং তাদের জীবনে এর কোনো স্পর্শই নেই।
১৯৮৫ সালে নির্মিত খারতুম নামক যে নাটকটি লন্ডনে মঞ্চস্থ হয়েছিল তা ১৯৬২ সালে সিনেমার রূপ দেয়া হয়। এই সিনেমায় একটি জল্লাদখানার দৃশ্য দেখানো হয়, যা মাহদী সুদানীর অনুসারীরা বৃটিশ সেনাবাহিনীর জন্য তৈরি করেছিল। এই সিনেমায় মাহদী সুদানীর অনুসারীদের হত্যা, রক্তপাত ও শত্রুর নাক-কান কর্তন ইত্যাদি চরিত্রে দেখানো হয়। তারা 'না'রায়ে তাকবীর-আল্লাহু আকবরের' গগনবিদারী শ্লোগান দিয়ে এ কাজগুলো আঞ্জাম দিচ্ছে। তখন মাহদীর অনুসারীরা বলছিল, হে আমাদের প্রভু! হে আমাদের পবিত্র সম্মানিত মাহদী! আমরা হাজারো সিপাহীর প্রাণ ও তাদের অস্ত্রশস্ত্র আপনার ওপর উৎসর্গ করেছি। একথা শুনে সাথে সাথে মাহদী সুদানী আসমানের দিকে তাকিয়ে বলতে থাকে, হে আমার প্রিয়, হে রাসূলে খোদা। এতটুকু বলার পর সে তার অনুসারীদের দিকে তাকিয়ে বলে, আমি কি তোমাদের অদৃশ্য সাহায্যের সুসংবাদ শোনাইনি? আমি কি তোমাদের বলিনি, তোমরা শত্রুর ওপর হামলা কর এবং তাদের গোলাবারুদের ভয় অন্তরে রেখো না।
পাশ্চাত্য নির্মিত নাটক ও চলচ্চিত্রে ইসলামের ইতিহাসের সাথে যেভাবে হত্যা রক্তপাতকে অত্যাবশ্যক বিষয়রূপে তুলে ধরা হয়েছে, খারতুম নাটকের পরিতবর্তিত সিনেমারূপ তারই একটি উদাহরণ। সিনেমার দৃশ্যে মাহদী সুদানীকে ব্যবহার করে তারা এই ম্যাসেজ দিতে চেয়েছে, ইসলামী ইতিহাস আর হত্যা-রক্তপাত একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি তার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এর সাথে ইসলামের জেহাদগুলো তুলনা করা যায়। মূলত: ইসলামের ওপর আগ্রাসন চালানোর জন্য ইহুদীরা মাহদী সুদানীকে ব্যবহার করেছে। এ ধারার যেসব সিনেমা নির্মিত হয় তার অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মোটা অংকের সম্মানী দেয়া হয়। আর এ কারণেই স্যার লরেন্স, লাপুর, চার্লটন হিসটন ও এ্যানথনী কুইনের মতো আমেরিকা ও বৃটেনের প্রসিদ্ধ অভিনেতারা এসব সিনেমায় অভিনয় করেছেন। মাহদী সুদানী তো শুধু বাহানা; বরং ইসলাম ও তার ইতিহাস বিকৃত করার জন্যই এরকম সিনেমা নির্মাণের ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
ইসলামের ওপর হামলা চালানোর জন্য চলচ্চিত্র নির্মাতা ও পরামর্শকরা যে সময় মাহদী সুদানীকে তাদের উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য ব্যবহার করেছে, সে সময় লরেন্সের মতো ব্যক্তিত্বকেও তার ষড়যন্ত্রপূর্ণ মেধা ও কীর্তির কারণে ব্যবহার করেছে। তার মাধ্যমে ইসলামী ইতিহাসের এমন বিকৃতি ঘটানো হয়েছে, যা সত্যের অপলাপ ও নিষ্কলুষ চাঁদে কালিমা লেপনের অপপ্রয়াস ছাড়া আর কিছুই নয়। যেসব বিষয় ইসলামী ইতিহাসের কীর্তি ছিল সেগুলোকে পশ্চিমের কীর্তি হিসেবে চালিয়ে দেয়া হয়েছে।১
এ প্রসঙ্গে 'লরেন্স অব এ্যারাবিয়ার'র আলোচনা করাও জরুরী। এ চলচ্চিত্রটি ১৯৬৩ সালে প্রস্তুত করা হয়েছে। ডেভিডলনের নির্দেশনায় শাম স্পেগাল এটি নির্মাণ করেন। এতে শাহ ফয়সালের মতো আরব বিশ্বের বিভিন্ন নেতৃবর্গকে দেখানো হয়েছে। এ সিনেমায় লরেন্সকে অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক ও আকর্ষণীয় আর আরব শায়খদের আহমক, বোকা, নির্বোধ, দাস, ফকীর ও নিঃস্ব করে উপস্থাপন করা হয়েছে। দেখানো হয়েছে, তাদের জন্য একে অপরকে হত্যা করা অতি সাধারণ বিষয়। অতিথির কাছ থেকে যতক্ষণ পর্যন্ত অর্থ আদায় না করা হয় ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে খাবার দেয়া হয় না। সিনেমার বিভিন্ন দৃশ্যে দেখানো হয়েছে, হত্যা ও রক্তপাত ঘটানোর সময় 'না'রায়ে তাকবীর-আল্লাহু আকবর' শ্লোগান দেয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা লরেন্সকে আরব ভূ- খন্ডের অধিবাসীদের কাছে অত্যন্ত জাঁকজমকের সাথে উপস্থাপন করার প্রয়াস চালানো হয়েছে, যাতে আরব বিশ্বের সেসব লোকদের সমর্থন ও প্রশংসা আদায় করা যায়, যারা মধ্যপ্রাচ্যে সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থ্যা প্রতিষ্ঠা ও ইহুদীদের আবর ভূ-খন্ডে পুনর্বাসনের রাস্তা সুগম করছে। ২ ইসরাঈলী প্রেসিডেন্ট ওয়াইজমেন তার 'অভিজ্ঞতা ও পদস্খলন' গ্রন্থে লেখেন, আমি ঘোষণা দিচ্ছি, জেনারেল লরেন্স আমাদের জন্য যে দামী খেদমত আঞ্জাম দিয়েছেন, এজন্য আমি তার শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি এবং তার খেদমতকে সম্মানের দৃষ্টিতে দেখছি। কারণ তিনি চাইতেন, ফিলিস্তিনী ভূ-খন্ডে ইহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হোক, যাতে পরবর্তীতে আরবদের ফায়দা হয়।
বাস্তবতা হচ্ছে, লরেন্স অব এ্যারাবিয়া সিনেমার সবটুকুতে ইসরাঈলের প্রেসিডেন্ট ওয়াইজমেনের কথারই বাস্তবায়ন ঘটানো হয়েছে। এতে ভাসা ভাসাভাবে মুসলিম ব্রাদারহুডের তৎপরতাকে বিদ্রোহের ভঙ্গিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। তুরস্কের বিরুদ্ধে আরব জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে খুব ফলাও করে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে লরেন্সের কীর্তিকে একটি বিপ্লবী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়। এই সিনেমায় শরীফ আলীকে আকার-আকৃতিতে আরবদের মতো দেখানো হয়েছে, যার ভূমিকায় অভিনয় করেছে এক ইহুদী অভিনেতা ওমর শরীফ, কিন্তু আরবদের আকার-আকৃতিকে সম্পূর্ণ বিকৃত করে দেখানো হয়েছে এতে আরবদের তুলনায় জায়নিস্ট ও পশ্চিমাদের প্রশংসাবাদকে দৃষ্টিতে রাখা হয়েছে।
চলচ্চিত্র জগতের সাথে ইসলামী বিশ্বের শত্রুতা একটি সুস্পষ্ট বিষয়। এতে কোনো ব্যতিক্রম নেই। কিছু কিছু আরব সরকার উত্তর আফ্রিকার শক্তিশালী ব্যক্তিবর্গের ওপর চলচ্চিত্র নির্মাণ করার জন্য নির্মাতাদের বিপুল অর্থ সরবরাহ করেছে, কিন্তু পরবর্তীতে তারা এই বলে আফসোস করেছেন, ইহুদী নির্মাতারা তাদেরকে ধোকা দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ উত্তর আফ্রিকা সম্পর্কে অনেক সিনেমা নির্মাণ করা হয়েছে। যেমন- সাগান দুর্গ (১৯৮৩), নতুন মারওয়ান (১৯৩৬), জেনারেল ডেকোরটা (১৯৩৭) ইত্যাদি। এসব সিনেমা নির্মাণে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করা হয়েছে। কিন্তু এসব সিনেমার কোথাও আমীর আবদুল কাদের আল জাযায়েরী, আবদুল করীম খাত্তা, আবদুল হামীদ বাদিস এবং ওমর মুখতার প্রমুখের আলোচনা নেই। যেসব চলচ্চিত্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নির্মাণ করা হয়েছে, তাতে আরবদের গাদ্দার, বিশ্বাসঘাতক হিসেবে দেখানো হয়েছে। তারা সামান্য অর্থের বিনিময়ে হাজার হাজার জার্মান সেনার সাথে ইংরেজ সেনাদেরও হত্যা করিয়েছে। আরব যুবকদের সামান্য অর্থ কিংবা সুন্দরী নারী দিয়ে একাজ করানো হতো।
'জেনারেল পাইন' নামক সিনেমাকে শ্রেষ্ঠ সিনেমা আখ্যা দিয়ে অস্কার পুরস্কারের পাশাপাশি আরো ছয়টি পুরষ্কার দেয়া হয়েছে। এই সিনেমা সম্পর্কে প্রোপাগান্ডা চালানো হয়, এটি সত্য, বাস্তব ও বস্তুনিষ্ঠতার ওপর প্রতিষ্ঠিত, কিন্তু বাস্তবে তা মিথ্যা ও অপবাদে ভরপুর, যা হলিউডের সিনেমার বৈশিষ্ট্য। এ সিনেমার দর্শক বাস্তবে এ পরিণতিতে উপনীত হবে যে, এতে বাস্তবতাকে সম্পূর্ণ বিকৃত করা হয়েছে। এই সিনেমায় ইহুদীদের কর্মকা কে ঔজ্জ্বল আর আরবদের লাঞ্ছিত অপমানিত বানিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। ইহুদীদের জানবায, বীর-বাহাদুর, দানশীল, ভদ্র ও ক্ষমাশীল আর আরবদের কাপুরুষ, অলস, গাদ্দার, বিশ্বাসঘাতক, খেয়ানতকারী, কপট, হত্যাকারী, লুন্ঠনকারী, জালেম ও রক্ত পিপাসু ইত্যাদি চরিত্রে উপস্থাপন করা হয়েছে। এমন দৃশ্যও দেখানো হয়েছে, মার্কিন সিপাহী নেশায় বুঁদ হওয়া সত্ত্বেও ইজ্জত ও সতীত্বের সংরক্ষক আর আরবরা তার উল্টো বিলাসী এবং নারী লোভী।
আলজেরিয়া সম্পর্কে দশটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়েছে। এসব চলচ্চিত্রে আলজেরিয়ার মুজাহিদদের ডাকাত, লুণ্ঠনকারী ও জালেম বানিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। আলজেরিয়া সম্পর্কিত দশটি চলচ্চিত্রের সবগুলোতেই এ দৃশ্য দেখানোর প্রয়াস চালানো হয়েছে, যারা ফ্রান্সের সাথে সশস্ত্র যুদ্ধে অগ্রসর হয়েছে তারা চোর, ডাকাত, হত্যাকারী, অপরাধী এবং দুশ্চিত্র। তাদের জন্য নিষ্পাপ শিশু ও নারীদের হত্যা করা অতি সাধারণ বিষয়। তারা আবার এ ধরনের কর্মকান্ড করে মসজিদে নামায আদায় করে।
হলিউডের চলচ্চিত্র নির্মাতারা সর্বদা পাশ্চাত্যের সামনে মুসলমানদের বিকৃত ও ঘৃণিত আকারে উপস্থাপনের চেষ্টা করে। পক্ষান্তরে ইহুদীদের ফরমাবরদার ও আনুগত্যশীল বানিয়ে পেশ করে। এর কারণ, যাতে কোনো মার্কিনী আরব কিংবা মুসলমান শব্দ শোনার সাথে সাথেই একথা চিন্তা করে, এ তো ধোকাবাজ, প্রতারক, হত্যাকারী ও লুন্ঠনকারী এবং যে আমেরিকা ও হযরত ঈসা (আ.)-এর প্রাণের শত্রু। ৩ অতএব, তাদের কর্মকা র সাথে এমন ঘৃণ্য অপছন্দনীয় দিক সংযুক্ত করে দেয়া হয়, যা কখনোই মানবীয় চরিত্র বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। এতে দর্শকরা ভাবতে শুরু করে, এমন মানুষ তো ধরিত্রী বক্ষের কঠিন বোঝা। তখন তাদের কামনা জাগে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এমন পশু স্বভাব লোকদের থেকে নাজাত পাওয়া উচিত।
প্রফেসর ডেগালস কিলজ এবং মাইকেল রামান ইয়ান তাদের যৌথ গ্রন্থে লেখেন, পশ্চিমা সিনেমায় আরবদের বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক ও অতিলোভী আকৃতিতে দেখানো হয়, যাতে দর্শকরা এ প্রত্যয় পোষণ করতে বাধ্য হয় যে, সকল অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের জন্য এই গোঁড়া সন্ত্রাসী আরবরাই দায়ী। যারা নিরীহ-নিষ্পাপ মানুষকে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় হত্যা করে এবং তারা তাদের ভোগ বিলাসিতা অটুট রাখার জন্য ইউরোপ আমেরিকায় তেল সরবরাহ বন্ধ করে তাদের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে নিক্ষেপ করে।
ম্যাচ গ্রন ফিল্ড নিউজউইকে লেখেন, আগামীতে আমরা যা কিছু দেখব, তাতে নিশ্চিত অতীতের পুনরাবৃত্তি করা হবে। সেখানে কোনো ঘটনা কম করে পেশ করা হবে না; বরং গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা অর্জন করার জন্য তাতে আরো রং চড়িয়ে প্রচার করা হবে এবং একথারও পুনরাবৃত্তি করা হবে, আরবরা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মাধ্যমে পশ্চিমাদের নিশ্চিহ্ন নির্মূল করে দিতে সচেষ্ট।
হলিউডে তৈরি সিনেমাগুলোতে মুসলমানদের চরিত্রের সাথে এমন দিকগুলো সম্পর্কিত করে দেয়া হয়, যা সাধারণতঃ কোনো মানুষের চরিত্র বৈশিষ্ট্য হয়তো হতে পারে না। অনুরূপ পাশ্চাত্যে তৈরি সিনেমাগুলোতে আরব নারীদের এমন নর্তকীর দৃশ্যে দেখানো হয়, যারা নগ্ন পেট ও বুকের প্রদর্শনী করে ফিরতে থাকে। অথবা কখনো তাদের কালো নগ্ন লেবাসে দেখানো হয়। আর পুরুষদের প্রকাশ্যতঃ কুফার দর্শনার্থী বানিয়ে আবাকাবা পরিহিত, কালো চশমা লাগানো অশ্বারোহী বেশে দেখানো হয়, যাদের একমাত্র কাজ ইউরোপীয় নারীদের অপহরণ করা। তাদের পশ্চাত দৃশ্যে থাকে তেলের খনি আর দুই হাতে বিপুল বিত্ত। আরব নারীদের হয়তো দেখানো হয় তারা সর্বদা যৌন ক্ষুধায় বিভোর, অথবা নর্তকী ও নাচ-গান ছাড়া তাদের আর কোন কাজ নেই। তারা হয়তো অশ্লীল কর্মে লিপ্ত, অথবা নিজের হীন কর্ম দ্বারা অন্যদের ভীত সন্ত্রস্ত করে রাখে। অথবা তাদের আপাদমস্তক বোরকা পরিহিত নারীরূপে দেখানো হয়। যাদের প্রত্যেকেই তাদের স্বামীদের পেছনে এমনভাবে পথ চলে, যেন তার স্বামী থেকে পৃথক হওয়া একেবারেই পছন্দনীয় নয়। ৪ বৃটেনে নির্মিত 'উপহার' নামে একটি সিনেমায় দেখানো হয়েছে, আরব আমীর ও শায়খরা প্যারিসে সফরে যাওয়ার সময় ডজনে ডজনে সুন্দরী নারী সাথে নিয়ে যায়। তাদের হোটেলে আবদ্ধ রেখে এসব আরব আমীর ও শায়খরা প্যারিসের পতিতাদের সাথে যৌন বিলাসিতায় মত্ত হয়। অন্যদিকে হোটেলে অবস্থানরত আরব নারীরা হোটেলের বৃদ্ধ কর্মচারীদের সাথে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়।
এখানে আমরা ইহুদী মালিকানাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা কোম্পানী মেট্রো গোল্ডেনের নির্মিত দু'টি সিনেমার কথা আলোচনা করব। যার একটি শিশু ও যুবকদের জন্য অপরটি বিজ্ঞানের উৎকর্ষ দেখানোর জন্য নির্মাণ করা হয়েছে, কিন্তু দুটো সিনেমাই আরবদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে। যা কাহিনীকারের মেধা ও ইহুদী ষড়যন্ত্রের প্রকৃষ্ট প্রমাণ পেশ করে।
টিকাঃ
১. জুরজী যায়দানের উপন্যাসগুলোতেও তাই করা হয়েছে।
২. পাশ্চাত্য মিডিয়া বাস্তবিক পক্ষে মধ্যপ্রাচ্যের সেসব শাসকদের প্রশংসা করে থাকে, যারা তাদের জেলখানাগুলো ষাট সত্তর হাজার লোক দিয়ে ভরে রেখেছে, যারা ইসরাঈলের সাথে সম্পর্ক সৃষ্টির বিরোধী এবং যারা নামায, রোযা আদায় এবং দাড়ি রাখার মত বিদ্রোহী কাজে জড়িত। অপরদিকে এসব মুসলিম শাসক ইসলামী নীতিমালার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত ব্যাংক, বীমা, কোম্পানী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ইহুদীদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে।
৩. ১৯৯৩ সালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বোমা হামলার মার্কিন ষড়যন্ত্র, অতঃপর ১৯৯৫ সালে ওকলোহোমায় ধ্বংসাত্মক বোমা হামলার পর পরই পাশ্চাত্য মিডিয়া আমেরিকা ও ইউরোপে অবস্থিত মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিষোদগার ছড়াতে কোনো ত্রুটি অবশিষ্ট রাখেনি। সময়ে সময়ে এরকম নাটক মঞ্চস্থ হয়েই চলেছে, যাতে মুসলিম চরিত্র হনন কর্ম অব্যাহত থাকে। ১১ সেপ্টেম্বরের পরও এ কাজই করা হয়েছে।
৪. এ তো হচ্ছে পাশ্চাত্য চলচ্চিত্র নির্মাতাদের উপস্থাপিত আরব নারীদের চরিত্র বৈশিষ্ট্য। ইহসান আবদুল কুদ্দুস, আহমদ বাহাউদ্দীন, মুহাম্মদ আতা তাবেয়ী এবং নজীবরাও কম করেননি। তারা আরব নারীদের যে চিত্র উপস্থাপন করেছেন, তা পাশ্চাত্যের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের উপস্থাপিত দৃশ্য থেকে কোনো অংশে কম নয়। নমুনা হিসেবে 'আরজুকা খুযনী মিন হাযাল বারমিল' গ্রন্থটি দেখা যেতে পারে। এ যেন ফারসী ভাষার সে প্রবাদ বাক্যের মতো, যার মর্ম হচ্ছে-'আমি অন্যের জন্য কখনো কাঁদছি না, কিন্তু আমি নিজে কি করছি।'
📄 উড়ন্ত বিড়াল
মেট্রো গোল্ডেন কোম্পানী নির্মিত প্রথম সিনেমাটি হচ্ছে 'উড়ন্ত বিড়াল'। এটি শিশু ও যুবকদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ঠিক, কিন্তু যে মূলনীতি ও দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে নির্মাণ করা হয়েছে তাতে বড়দের জন্যই এটি বেশি উপযোগী এবং তারাই বেশি দেখতে আগ্রহী।
সিনেমার ঘটনাটি মোটামুটি এমন-একটি সুন্দর ছোট্ট বিড়াল দূর-দূরান্তে অবস্থিত একটি দ্বীপ থেকে উড়ে আসে, যেখানে শুধু বিড়ালরাই বাস করে। তাদের সকলেই খুব হুশিয়ার ও বুদ্ধিমান। বিড়ালটির গলায় একটি তাবিজ বাধা ছিল। তাবিজের কারণে তার মধ্যে এমন অসাধারণ শক্তি সঞ্চারিত হয়, যাতে সে প্রতিটি বস্তুর ওপর নিয়ন্ত্রণ লাভ করছিল। অনেক ঘটনা দুর্ঘটনা অতিক্রম করে এক মার্কিন বুদ্ধিজীবী চেষ্টা করে, যাতে কোনোভাবে বিড়ালটির তাবিজ ছিনিয়ে নিয়ে কোনো ভালো কাজে লাগানো যায় এবং এর মাধ্যমে তৃতীয় বিশ্বের সমস্যা সংকটগুলো নিরসন করা যায়। এ চিন্তায় সে বিড়ালটিকে খুব আদর ও সোহাগ করতে থাকে। বিড়ালটিও মার্কিন বুদ্ধিজীবীকে সহযোগিতা করতে চায় এবং তাকে অনেক উপকারী পরামর্শ দেয়। ইতোমধ্যে কোত্থেকে এক ভয়াবহ দলের আবির্ভাব হয়। যারা বিড়ালের তাবিজটি ছিনিয়ে নিয়ে গোটা বিশ্ব কবজা করে নিতে চেষ্টা করছিল। দলটির সবারই লেবাস ও চাল-চলন ছিল আরবদের মতো।
সবার হাতেই ছিল তরবারি। তারা একে অপরকে আহমদ, মুহাম্মদ, জাফর, আলী ইত্যাদি নামে ডাকে। এ দলের লীডারের নাম ওমর। তার আশ্রয়স্থল দেখানো হয় মসজিদ। সিনেমার বিভিন্ন স্থানে এমন এমন দৃশ্যের অবতারণা করা হয়, যেগুলোতে মসজিদের সীমারেখার মধ্যে নারী ও মদ নিয়ে ভোগ-বিলাসের জঘন্য দৃশ্য প্রদর্শন করা হচ্ছিল। আযান পর্যন্ত ভোগ বিলাসিতার এ দৃশ্য চলতে থাকে। যখন আযানের আওয়াজ ভেসে আসে তখন সবাই নামাযে শরীক হয়ে যায়। এ এভাবে দেখানো হয়েছে, মুসলমানদের পবিত্র স্থানগুলো বিশৃংখলা, অন্যায় ও অশ্লীলতার কেন্দ্র। এজন্য এগুলো নিশ্চিহ্ন করে দেয়া উচিত। সিনেমার সর্বশেষ দৃশ্যে দেখানো হয়েছে, সেই ভয়াবহ দলটির কারণে মসজিদকে শহীদ করে দেয়া হয়েছে।
টিকাঃ
৫. আমেরিকান সিয়াটেল প্রভৃতি শহরে শরাবখানার ইমারত মসজিদের আকৃতিতে বানানো হয়েছে এবং এগুলোর নামকরণও আরব মসজিদগুলোর মতো করা হয়েছে। লন্ডন, প্যারিস এবং তেলআবিবে নৈশ ক্লাব ও শরাবখানার ইমারতগুলো সবুজ গম্বুজ এবং মিনারা সজ্জিত করে সেগুলোর নাম মক্কা মুকাররমা এবং মদীনা মুনাওয়ারা রাখা হয়েছে।
📄 ধুলোর জাহাজ
মেট্রো গোল্ডেন কোম্পানীর দ্বিতীয় সিনেমাটি হচ্ছে, 'ধুলোর জাহাজ'। এটি নির্মাণ করা হয়েছিল ১৯৮১ সালে। এর মৌলিক উদ্দেশ্য ছিল বিজ্ঞানের উৎকর্ষ দেখানো। এ চলচ্চিত্রের কাহিনী হচ্ছে বিজ্ঞান সফর। মার্কিন বুদ্ধিজীবীদের একদল ধুলোর জাহাজে সফর করছে। সফরসঙ্গীদের মধ্যে এক অনিন্দ্যসুন্দরী নারীও ছিল। সফরের মাঝে জাহাজ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে সফরকারী দলটি আফ্রিকার জংলী মানুষখেকোদের হাতে ধরা পড়ে যায়। কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর আফ্রিকার জংলীরা তাদের হত্যা করার মনস্থ করে। ইতোমধ্যে তারা কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এরপর তারা আবার ধুলোর জাহাজে চলতে শুরু করে। কিছুদিন চলার পর জাহাজটি এমন জায়গায় অবতরণ করে, যেখানের বাসিন্দারা সবাই মুসলমান। সেখানের বেশিরভাগ লোক তাঁবুতে বাস করে। তাদের কাঁচা রাস্তাঘাট উটের চলাফেলার কারণে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। সেখানকার লোকেরা ধুলোর জাহাজ দেখে মনে করল, মনে হয় আসমান থেকে কোনো শয়তান অবতরণ করেছে। সুতরাং ভয়ে তারা সেজদায় লুটিয়ে পড়ে। মুআযিযন আযান দিতে উঁচু জায়গায় ওঠে। সবাই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে, হে আল্লাহ! আমাদের এই শয়তানের অনিষ্ট থেকে রক্ষা কর। এ সফরকারী দলের লোকেরা খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করার জন্য মুসলমান আরবদের শহরে প্রবেশ করে বুঝতে পারে, এরা শয়তান নয়, আমাদের মতোই মানুষ। তারা মুসাফির দলের লোকদের তাদের আমীরের শাহী মহলে নিয়ে যায়। দলটি যখন আমীরের দরবারে পৌঁছে তখন আমীর সুন্দরী নারী ও ওলামায়ে কেরামের মাঝে বসা ছিলেন। একই সাথে সেখানে কুরআনও পড়া হচ্ছিল আবার অনৈতিক কর্মকান্ডও চলছিল। আমীরের দৃষ্টি দলের অনিন্দ্যসুন্দরী নারীর প্রতি পড়ার সাথে সাথে তাকেও তার সেবিকাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার মনস্থ করেন। ফলে দলের সদস্য ও শহরবাসীদের মধ্যে প্রচন্ড লড়াই হয়। শেষ পর্যন্ত সুন্দরী নারীর কারণে সফরকারী দলের সবাই মুক্তি লাভ করে এবং ধুলোর জাহাজে করে সরে পড়ে।
গোটা সিনেমায় মুসলমানদের বিরুদ্ধে সর্বপ্রকারের শত্রুতা প্রদর্শন করা হয়েছে। যেখানেই সুযোগ পাওয়া গেছে সেখানেই ইসলাম ও মুসলমানদের হেয় করা হয়েছে। তাদের জংলী, মানুষখেকো ও বর্বর দৃশ্যে দেখানো হয়েছে। লড়াই-যুদ্ধ শেষ করে যখন তারা গনীমতের সম্পদ নিয়ে ফিরে তখন আযান ও না'রায়ে তাকবীর ধ্বনি দিতে দিতে ফিরে।
📄 পশ্চিমা চলচ্চিত্রে প্রদর্শিত মুসলমানদের চরিত্র বৈশিষ্ট্য
পশ্চিমা চলচ্চিত্রে সাধারণত মুসলমানদের যেসব চরিত্র বৈশিষ্ট্যে দেখানো হয়, তা মৌলিকভাবে ছয় ভাগে বিভক্ত করা যায়।
০১. মুসলমানারা -বিত্তশালী ও বিলাসী।
০২. মুসলমানরা-সন্ত্রাসী ও বিপর্যয়-বিশৃংখলা সৃষ্টিকারী।
০৩. মুসলমনারা-প্রবৃত্তি পূজারী
০৪. মুসলমানরা-প্রান্তিক ও হাসি-তামাশার পাত্র।
০৫. মুসলমানরা-শয়তান ও নির্দয়-নির্মম।
০৬. মুসলমানরা-ভবিষ্যতের জন্য বিপদ।