📄 আন্তর্জাতিক ইহুদী সংবাদ মাধ্যম
ইহুদী বুদ্ধিজীবীরা তাদের দ্বাদশতম প্রটোকলে সাহিত্য সাংবাদিকতার ওপর অসাধারণ গুরুত্বারোপ করে দাবী করেছিল, আমাদের সরকারগুলোর প্রচেষ্টা হবে মিডিয়ার ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। যদি অ-ইহুদীরা দশটি পত্রিকা বের করে তাহলে আমরা তার মোকাবেলায় ত্রিশটি পত্রিকা বের করব। লোকদের একথা স্বীকার করতে হবে, আমরা ইহুদীরাই মিডিয়ার একক মালিক। মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা অ-ইহুদীদের এমন জালে আটকে দেব, যার কল্পনাও তারা করতে পারবে না। ইহুদী মিডিয়ার রাজত্ব শুধু ইউরোপ, আমেরিকা ও ফ্রান্স পর্যন্তই সীমাবদ্ধ নেই; বরং দুনিয়ার সকল দেশ ও মহাদেশের রাজধানী, প্রসিদ্ধ অ-প্রসিদ্ধ সকল শহরেও তার রাজত্ব কর্তৃত্ব ছড়িয়ে আছে। এটি তাদের ১২তম দস্তাবেজের বাস্তবে রূপ। নিম্নে আমরা গোটা দুনিয়ার ইহুদী সংবাদ মাধ্যমের একটি সংক্ষিপ্ত জরিপ পেশ করছি। এই জরিপ দশ বছর পূর্বে করা হয়েছিল। মিডিয়ার মধ্যে টিভি, রেডিও, সিনেমা ও নাটক বাদ দিয়ে আমরা শুধু নিউজ এজেন্সী, দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক, দ্বিমাসিক, ত্রৈমাসিক, ষান্মাষিক ও বার্ষিক পত্র-পত্রিকাগুলোর কথাই আলোচনা করব। এসব পত্র-পত্রিকা ইংরেজি, আরবী, উর্দু, হিব্রু, ফ্রান্স, জার্মান, পর্তুগাল, স্প্যানিশ, রুশ এবং ইউরোপিয়ান ও আফ্রিকান স্থানীয় ভাষায় বের হয়।
গোটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সর্বমোট ১,৭৫৬টি দৈনিক এবং ৬৬৮টি সাপ্তাহিক পত্রিকা বের হয়। মাসিক, পাক্ষিক, ত্রৈমাসিক, ষান্মাষিক ও বার্ষিক পত্র-পত্রিকা এর বাইরে। যেদিকে আমরা ইতোপূর্বে মোটামুটি ইঙ্গিত দিয়েছি। নিউইয়র্ক পোস্ট, শিকাগো সান টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল, ডেইলী নিউজ, সান টাইমস, স্টার লেজার, নিউইয়র্ক টাইমস, এ্যারোজোনা নিউজ, টাইম, নিউজউইক এবং রিডার ডাইজেস্টের মতো দৈনিক, সাপ্তাহিক এবং মাসিক পত্রিকাগুলো আন্তর্জাতিক খ্যাতি ও মর্যাদা রাখে। এগুলো ইংরেজিতে প্রকাশিত এবং গোটা বিশ্বে পঠিত হয়।
নিম্নে আমরা কেবল সেসব দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক, ত্রৈমাসিক, ষান্মাসিক ও বার্ষিক পত্র-পত্রিকার একটি সংক্ষিপ্ত জরিপ পেশ করব, যেগুলো সরাসরি ইহুদীদের মালিকানা ও তত্ত্বাবধানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ইংরেজি ভাষা ছাড়া সেসব দেশের নিজস্ব ভাষা ও অন্যান্য ভাষায় প্রকাশিত হয়।
আমেরিকা: নিউজ এজেন্সী-১২টি, দৈনিক-১১টি, সাপ্তাহিক-১১১টি, পাক্ষিক-১১৬টি, মাসিক-১৬০টি, ত্রৈমাসিক-৬০টি এবং ষান্মাসিক ও বার্ষিক-১৪০টি, সর্বমোট-৬১০টি।
অস্ট্রেলিয়া: দৈনিক-২টি, সাপ্তাহিক-৮টি, মাসিক-৩টি, সর্বমোট-১৩টি।
বেলজিয়াম: দৈনিক-৩টি, ত্রৈ-দৈনিক-২টি, সাপ্তাহিক-৪টি এবং মাসিক-৩টি, সর্বমোট-১২টি।
বুলগেরিয়া: দৈনিক-১টি, সাপ্তাহিক-২টি এবং মাসিক-১টি, সর্বমোট-৪টি।
চেকোশ্লেভাকিয়া: দৈনিক-১টি, সাপ্তাহিক-২টি, মাসিক-২টি, সর্বমোট-৫টি।
ডেনমার্ক: দৈনিক-২টি, সাপ্তাহিক-৩টি, মাসিক-৩টি, ষান্মাসিক-২টি ও বার্ষিক-২টি, সর্বমোট-১২টি।
ফ্রান্স : নিউজ এজেন্সী-৩টি, দৈনিক-৮টি, সাপ্তাহিক-১৪টি, পাক্ষিক-৯টি, মাসিক-২০টি, ত্রৈমাসিক-৪টি, ষান্মাসিক-৮টি ও অনিয়মিত-১৪টি, সর্বমোট-৮০টি।
হল্যান্ড : দৈনিক-১টি, সাপ্তাহিক-৪টি, মাসিক-২টি, সর্বমোট-৭টি।
জার্মানী : দৈনিক-২টি, সাপ্তাহিক-৩টি, ত্রৈমাসিক-২টি, মাসিক-৪টি, পাক্ষিক-২টি, সর্বমোট-১৩টি।
বৃটেন : নিউজ এজেন্সী-৮টি, দৈনিক-১০টি, সাপ্তাহিক-১৮টি, পাক্ষিক-৬টি, মাসিক-১৫টি, দ্বিমাসিক-১২টি, ত্রৈমাসিক-১৬টি, ষান্মাসিক-১৪টি, বার্ষিক-৮টি, সর্বমোট-১০৭টি।
তুরস্ক : সাপ্তাহিক-৮টি, মাসিক-২টি, সর্বমোট-১০টি।
গ্রীস : দৈনিক-৩টি, সাপ্তাহিক-২টি, পাক্ষিক-৩টি, মাসিক-২টি, সর্বমোট-১০টি।
ইটালি : দৈনিক-২টি, সাপ্তাহিক-২টি, পাক্ষিক-২টি, সর্বমোট-৬টি।
হাঙ্গেরী : দৈনিক-২টি, সাপ্তাহিক-২টি, মাসিক-৪টি, সর্বমোট-৮টি।
নরওয়ে : দৈনিক-৩টি, সাপ্তাহিক-৪টি, পাক্ষিক-৩টি, মাসিক-৪টি, সর্বমোট-১৪টি।
পোল্যান্ড : দৈনিক-৩টি, সাপ্তাহিক-৬টি, ত্রৈ-দৈনিক-২টি, মাসিক-৪টি, ত্রৈমাসিক-৬টি, সর্বমোট-২১টি।
ইরান : মাত্র সাপ্তাহিক-১টি।
রুমানিয়া : দৈনিক-২টি, সাপ্তাহিক-৪টি, পাক্ষিক-২টি, মাসিক-৩টি, ষান্মাসিক-২টি, সর্বমোট-১৩টি।
রাশিয়া : দৈনিক-৬টি, সাপ্তাহিক-৮টি, ত্রৈ-দৈনিক-৪টি, সর্বমোট-১৮টি।
সুইডেন : দৈনিক-২টি, ত্রৈ-দৈনিক-২টি, সাপ্তাহিক-৪টি, মাসিক-৫টি, সর্বমোট-১৩টি।
সুইজারল্যান্ড: দৈনিক-২টি, সাপ্তাহিক-৪টি, মাসিক-৪টি, ত্রৈমাসিক-৬টি, পাক্ষিক-৪টি, সর্বমোট-২০টি।
কানাডা : নিউজ এজেন্সী-২টি, দৈনিক-৬টি, সাপ্তাহিক-১৪টি, পাক্ষিক-২টি, মাসিক-১৩টি, সর্বমোট-৩৭টি।
যুগোশ্লাভিয়া: সাপ্তাহিক-৪টি, মাসিক-২টি, সর্বমোট-৬টি।
আলজেরিয়া: সাপ্তাহিক-২টি, মাসিক-৩টি, বার্ষিক-৪টি, সর্বমোট-৯টি।
কেনিয়া : সাপ্তাহিক-২টি, মাসিক-৩টি, সর্বমোট-৫টি।
মরক্কো : সাপ্তাহিক-২টি, মাসিক-২টি, বার্ষিক-৪টি, সর্বমোট-৮টি।
দক্ষিণ আফ্রিকা : নিউজ এজেন্সী-২টি, দৈনিক-১টি, সাপ্তাহিক-৮টি, পাক্ষিক-৪টি, মাসিক-২২টি, দ্বিমাসিক-৬টি, অনিয়মিত-৪টি, বার্ষিক-৪টি, সর্বমোট-৫১টি।
ভারত : পাক্ষিক-১টি, মাসিক-৩টি, সর্বমোট-৪টি।
ইসরাঈল : নিউজ এজেন্সী-৩টি, দৈনিক-২৮টি, ত্রৈ-দৈনিক-২২টি, সাপ্তাহিক-৮২টি, পাক্ষিক-২৭টি, মাসিক-১১০টি, দ্বিমাসিক-৬টি, ত্রৈমাসিক-৪২টি, অনিয়মিত-৮৮টি, বার্ষিক-৩৪টি, সর্বমোট-৪৪২টি।
ফিলিপাইন : দৈনিক-২টি, সাপ্তাহিক-২টি, মাসিক-৩টি, ত্রৈমাসিক-২টি, সর্বমোট-৯টি।
সিংগাপুর : দৈনিক-২টি, সাপ্তাহিক-৪টি, মাসিক-২টি, ত্রৈমাসিক-২টি, সর্বমোট-১০টি।
নিউজিল্যান্ড : নিউজ এজেন্সী-৪টি, দৈনিক-৮টি, সাপ্তাহিক-১০টি, মাসিক-২২টি, ত্রৈমাসিক-৬টি, সর্বমোট-৫৫টি।
আমেরিকা ও বৃটেন থেকে যেসব পত্রিকা বের হয় তার বেশির ভাগের ওপরই ইহুদীদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। যেগুলোর ওপর প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ নেই সেগুলোর ওপর বিজ্ঞাপনের চাপ রয়েছে। দুই বছর পূর্বে ৬০টি মার্কিন দৈনিক বিশ্লেষণ করে যে ফলাফল সামনে আসে তাহলো, ৪৮টি পত্রিকায় দৈনন্দিন সামগ্রিকভাবে তিন থেকে সাত কলাম পর্যন্ত ইহুদী প্রোপাগান্ডার জন্য ওয়াকফ থাকে আর ৮টি দৈনিক ইহুদীদের সম্পর্কে যেকোনো সংবাদ, বিশ্লেষণ, ছবি, সম্পাদকীয়, মন্তব্য, মতামত ও প্রবন্ধ-নিবন্ধ কোনো কাটছাঁট ছাড়াই প্রকাশ করে। অথচ এগুলো ইহুদীদের প্রত্যক্ষ মালিকানাধীন নয়; বরং তারা ইহুদী বিজ্ঞাপনের চাপে এমনটি করতে বাধ্য হয়। এই হলো সংক্ষিপ্তভাবে এক নজরে আন্তর্জাতিক ইহুদী মিডিয়া ও সংবাদ মাধ্যম।
টিকাঃ
৮. ইতোপূর্বে আমরা আলোচনা করেছি, শুধু একটি ইহুদী পরিবার নিউ হাউস ফ্যামিলী গ্রুপই ৪৮টি দৈনিক এবং ২০টি প্রসিদ্ধ সাপ্তাহিক পত্রিকার মালিক। যেগুলো উত্তর আমেরিকার ৮৯টি শহর থেকে শুধু স্বদেশী ও হিব্রু ভাষায় প্রকাশিত হয়। এর দ্বারাই বিশ্বব্যাপী ইহুদীদের মিডিয়ার শক্তি সম্পর্কে অনুমান করা যায়।
📄 খৃস্টীয় সমাজ ধ্বংসে ইহুদী মিডিয়ার ভূমিকা
কুরআনুল কারীম ও ইতিহাস অধ্যয়নে জানা যায়, ইহুদীদের আল্লাহ তাআলা অসাধারণ নিয়ামত দ্বারা ভূষিত করেছেন, কিন্তু যখন তারা সেই নিয়ামতের অবমূল্যায়ন করল তখন আল্লাহ তাআলা তাদের থেকে নেতৃত্বের বাগডোর ছিনিয়ে নিলেন। এই জাতি আল্লাহর প্রেরিত অসংখ্য নবী-রাসূলকে হত্যা করেছে। কিতাবুল্লাহর মধ্যে রদবদল করেছে। কঠিন অপরাধের ফলস্বরূপ আল্লাহ তাআলা তাদের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত করেন। আর সেসব রোগই ইহুদীদের জাতীয় বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে। যেমন কাপুরুষতা, অপরাধপ্রবণ মস্তিষ্ক, পাষাণ হৃদয়, অকৃতজ্ঞতা, মিথ্যা, অপরাধপ্রবণতা, প্রতারণা, সম্পদের পূজা, হারামখোরী, প্রতিশ্রুতিভঙ্গ করা, খেয়ানত, অহংকার, অশ্লীলতা, নির্লজ্জতা, সুদখোরী এবং লাঞ্ছনা অপদস্থতা-এগুলো তাদের জাতীয় বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে। এসব কুৎসিত দাগগুলো ধোয়ার জন্য ইহুদীরা প্রথমে খৃস্টানদের, অতঃপর মুসলমানদের, এরপর গোটা মানবতাকে টার্গেট করে।
📄 খৃস্টবাদ সম্পর্কে ইহুদীদের আকীদা ও সংকল্প
খৃস্টান ধর্ম যত প্রাচীন, খৃস্টানদের সাথে ইহুদীদের দ্বন্দ্ব-শত্রুতাও তত প্রাচীন। ইহুদীদের ওপর এই অপবাদ আরোপ করা হতে থাকে যে, তারাই হযরত ঈসা (আ.)-কে ফাঁসি কাষ্ঠে ঝুলিয়েছে। ইহুদীদের সীমাহীন চাপের মুখে তাদের ললাটে সেঁটে থাকা এই কুৎসিত দাগ বিশ শতকের ষাটের দশকে রোমের পোপ চিরতরে ধুয়ে মুছে দেবার ঘোষণা দেন এবং তাদের এই অপরাধ থেকে বেকসুর খালাস দেন। খৃস্টজগত ইহুদীদের কুৎসিত দাগ ধুয়ে মুছে দেবার ঘোষণা দিলেও কিন্তু খৃস্টানদের সম্পর্কে ইহুদীদের আকীদা-বিশ্বাস সেভাবেই রয়ে গেছে, যা তাদের ধর্মীয় গ্রন্থসমূহে বিদ্যমান রয়েছে। আর সেগুলো বাস্তবায়নকে তারা নিজেদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য বানিয়ে রেখেছে। ইহুদীদের তালমূদ গ্রন্থ থেকে খৃস্টানদের সম্পর্কে ইহুদীদের আকীদা- বিশ্বাসের নির্বাচিত কিছু অংশ নিম্নে তুলে ধরা হলো।
০১. প্রত্যেক ইহুদীর অবশ্য কর্তব্য হলো, তারা দিনে কমপক্ষে তিন বার খৃস্টানদের অভিশাপ দেবে। এই প্রার্থনা করবে, হে আল্লাহ! খৃস্টানদের নিস্তনাবুদ করে দাও।
০২. খৃস্টানদের হত্যা করা প্রত্যেক ইহুদীর মৌলিক কর্তব্য। যদি তারা খৃস্টানদের হত্যা করতে না পারে, তাহলে তাদের হত্যার উপকরণ, কমপক্ষে ধ্বংসের উপকরণ সরবরাহ করবে।
০৩. খৃস্টানদের হত্যা করা ইহুদীদের একটি মৌলিক দায়িত্ব, যার বাস্তবায়ন প্রত্যেক ইহুদীর অত্যাবশ্যক কর্তব্য।
০৪. খৃস্টানদের হত্যা করা ইহুদীদের একটি অন্যতম কীর্তি, যে কীর্তির বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা হত্যাকারীকে ভরপুর প্রতিদান দেবেন।
০৫. খৃস্টানরা ধর্মান্তরিত হয়ে গেছে। যদি তারা ইহুদী ধর্ম গ্রহণ না করে তাহলে তারা আল্লাহ ও ইহুদীদের শত্রু।
০৬. খৃস্টানদের সাথে কৃত চুক্তি পালন করা ইহুদীদের জন্য মোটেই জরুরী নয়।
০৭. খৃস্টানদের গির্জা অপবিত্রতার কেন্দ্র। আর গির্জার মুখপাত্ররা ঘেউ ঘেউকারী কুত্তার ন্যায়।
০৮. ইহুদীদের উচিত তারা খৃস্টানদের সাথে বিবেকশূন্য, নির্বোধ এবং নিকৃষ্ট জানোয়ারের মতো আচরণ করবে।
০৯. খৃস্টানদের গির্জা ঘর পথভ্রষ্টতার কেন্দ্র এবং মূর্তিপূজার আড্ডা। তাদের ধ্বংস করা প্রত্যেক ইহুদীর মৌলিক দায়িত্ব।
১০. ইহুদীদের জন্য মিথ্যা শপথ করা ও মিথা সাক্ষ্য দেয়া জায়েয, যাতে তারা অ-ইহুদীদের ক্ষতি করতে পারে।
১১. ইহুদীরা আল্লাহ তাআলার নির্বাচিত জাতি আর অ-ইহুদীরা জানোয়ারের থেকেও নিকৃষ্ট।
১২. আমাদের ইহুদীদের আল্লাহ তাআলা খেদমতের জন্য দু'ধরনের জানোয়ার দান করেছেন। এক প্রকার হল গাধা, কুকুর, শূকর ও বিভিন্ন প্রকারের পাখি, অপরটি হল খৃস্টান, মুসলমান ও বৌদ্ধ।
১৩. মানুষ ও জানোয়ারের মধ্যে যে পার্থক্য ইহুদী আর অ-ইহুদীদের মাঝে সেই পার্থক্য। অ-ইহুদীরা কুকুর শূকর থেকেও নিকৃষ্ট। ইহুদীদের সামনে যদি ক্ষুধার্ত কুকুর আর অ-ইহুদী বসে থাকে, তাহলে তাদের মধ্যে কুকুর উত্তম।
আলোচ্য বিষয়গুলো হলো ইহুদীদের আকীদা-বিশ্বাসের সার-সংক্ষেপ, যা খৃস্টানদের সম্পর্কে তারা পোষণ করে থাকে। এসব আকীদা-বিশ্বাস বাস্তবায়ন করা ইহুদীদের মৌলিক লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, যাতে একদিকে তাদের কুৎসিত অবয়ব ও অপরাধমূলক কর্মকা ের ওপর পর্দা পড়ে, অপরদিকে গোটা মানবতা থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করা যায়। এ ক্ষেত্রে তারা প্রথম টার্গেট বানিয়েছে খৃস্টানদের। ইঞ্জিলে রদবদল করা, খৃস্ট ধর্মের পুরো কাঠামো পরিবর্তন করে ফেলা এবং খৃস্টজগতের গতি বিপরীতমুখে ফিরিয়ে দেবার কীর্তি ইহুদীরাই আঞ্জাম দিয়েছিল। ইসলামের আগমণ খৃষ্টানদের অনেকটা ধর্মের দিকে ধাবিত করেছিল। ধর্ম ও বিজ্ঞানের দ্বন্দ্ব-সংঘর্ষে বিকৃত খৃস্ট ধর্মের পরাজয়ে খৃস্টীয় সমাজব্যবস্থা সম্পূর্ণ টুকরো টুকরো হয়ে যায়। যেটুকু অবশিষ্ট ছিল ডারউইন ও ফ্রয়েড সেটুকু সম্পন্ন করে দেয়। কাল মার্কস খৃস্টীয় তাবুতে (কফিন) সর্বশেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। এই তিন ইহুদী প্রতারকের চিন্তা-চেতনা ও দর্শনের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণকেই ইহুদী মিডিয়া নিজেদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বানিয়ে নিয়েছে। ইহুদীরা খৃস্ট সমাজকে চিরতরে নির্মূল করার জন্য যেসব উপায়-উপকরণ কাজে লাগিয়েছে, তার মধ্যে সাহিত্য, চলচ্চিত্র, নাটক, শিক্ষা-দীক্ষা, সংবাদ মাধ্যম এবং পরবর্তীতে ইলেকট্রিক মিডিয়া উল্লেখযোগ্য।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও বৃটেনের উর্বর ভূমিকে ইহুদীরা তাদের কর্মতৎপরতার কেন্দ্রভূমি বানিয়েছে। তারা অতি পরিকল্পিতভাবে নাটক, গান ও অশ্লীল উপন্যাসের মাধ্যমে যুবক-যুবতীদের ওপর আগ্রাসন চালিয়েছে এবং তাদের পথভ্রষ্টতার অতল গহ্বরে ঠেলে দিয়েছে। পশ্চিমা নাটক বিশ্লেষণ করলে জানা যায়, এ বিশ্ব ভূ-খন্ড ও তাতে বিদ্যমান মানব সম্প্রদায়ের সৃষ্টি অনর্থক। পৃথিবী ও মানবের মাঝে যৌক্তিক কোনো সম্পর্ক ও যোগাযোগ নেই। আর না এই সৃষ্টির কোনো স্রষ্টা, মালিক ও পরিচালক আছে। প্রসিদ্ধ নাট্যকার টি উইলিয়ামস তার নাটকসমূহে প্রকাশ্যে নতুন যুগের বিভিন্ন রোগ ও দৈহিক সমস্যা দূর করার জন্য স্বাধীন যৌন সম্পর্কের আহবান জানিয়েছেন। তিনি লেখেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষের মাঝে স্বাধীন যৌন সম্পর্কের সুযোগ সৃষ্টি না হবে, তারা ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণতায় পৌছতে পারবে না। টি. উইলিয়ামস তার প্রসিদ্ধ নাটকে লেখেন, স্বাধীনভাবে যৌন পিপাসা ও প্রবৃত্তির চাহিদা নিবারণের মাধ্যমেই মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক সুন্দর ও সুখকর হতে পারে। ব্যক্তি ও সমাজের স্বাধীনতার উদ্দ্যেশই যৌন স্বাধীনতা। এটাই আমাদের নাটকের মূল লক্ষ্য-উদ্দেশ্য।
এমনিভাবে আরেক প্রসিদ্ধ নাট্যকার জন ওয়েটিং 'শয়তান' নামক এক নাটকে রাজনৈতিক উত্থান, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সম্পদ-প্রাচুর্য, সমরাস্ত্র ও স্বাধীন যৌন সম্পর্ক সফল জীবনের জন্য আবশ্যক সাব্যস্ত করেছেন। প্রসিদ্ধ বৃটিশ নাট্যকার গোলেজ কুপার তার এক নাটকে সমাজে ইজ্জত, সম্মান, অর্থ-বিত্ত, যশ-খ্যাতি ও জীবন মান উন্নত করার জন্য অনৈতিক কুকর্মকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করার জোরদার ওকালতি করেছেন এবং একে দর্শন বানিয়ে জ্ঞানগত ও মনস্তাত্ত্বিক দলীল-প্রমাণের আলোকে উপস্থাপন করেছেন। অন্যান্য পশ্চিমা নাট্যকার যেমন আলবেরকামী, স্নাক্রো, বারোল্ড পেন্টার, আর্থার এডামস, ইউজে অনীল মানব মস্তিষ্কে স্রষ্টা সম্পর্কে সন্দেহ-সংশয় এবং মানুষ সম্পর্কে হতাশা, নিরাশা ও ব্যর্থতার অনুভূতি সৃষ্টি করার প্রয়াস চালিয়েছেন।
মার্কিন সমাজে এ ধরনের নাটক মঞ্চস্থকারী অভিনেতা-অভিনেত্রী ও তারকা-শিল্পীদের প্রায় সকলেই ইহুদী। হেনরী ফোর্ডের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, ১৮৮৫ সাল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নাটক ও চলচ্চিত্র শিল্পের ওপর ইহুদীদের ইজারাদারী প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল। ঘন্টার পর ঘন্টা যখন মার্কিন নওজোয়ানরা যৌন উত্তেজক দৃশ্য, গান, নগ্ন শরীরের নৃত্য, চিত্তহারী ড্যান্স, ছলনাময়ী অঙ্গভঙ্গি এবং নাইট ক্লাবে নগ্ন নাচ-গান প্রত্যক্ষ করে, তখন তাদের শরীরে আগুন লেগে যায়। তারা জানোয়ারের মতো মদের বোতল হাতে অলিতে গলিতে নারীদের পেছনে ছুটতে থাকে। সংবাদ মাধ্যম, উপন্যাস ও বিভিন্ন কাহিনীর মাধ্যমে এ কাজে তাদের আরো বেশি করে উদ্বুদ্ধ করা হয়। যখন এসব নাটক ও চলচ্চিত্রের চাহিদা ফ্রান্স, বৃটেন ও ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে আসতে লাগল, তখন সুচতুর ইহুদীরা বাণিজ্যিক উদ্দেশে এসব নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয়কারীদের প্রস্তুত করে সেসব দেশে পাঠানো শুরু করে। একই অবস্থা চলচ্চিত্র অঙ্গনের। অশ্লীল গান-বাজনার সয়লাব ভালো ভালো ঘরকে প্রভাবিত করে। হেনরী ফোর্ডের বক্তব্য অনুযায়ী মার্কিনসমাজ ব্যবস্থা টুকরো টুকরো হয়ে গেল। ধর্মহীন শিক্ষাব্যবস্থা অবশিষ্ট চারিত্রিক ও নৈতিক মূল্যবোধ, সাধারণ ধর্মীয় অনুভূতি, সামাজিক বন্ধন ও গির্জার নিয়ন্ত্রণ নির্মূল করে দেয়। কোনো বিবেকবান মানুষ যদি ইহুদীদের এই অনৈতিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদ বা সমালোচনা করার সাহস দেখায় তাহলে মিডিয়ার শক্তি দিয়ে তাকে সমাজে সম্পূর্ণ কোণঠাসা করে তার বিবেকের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়।
মার্কিন নাটকের প্রসিদ্ধ সমালোচক বেরিসন গীরি ১৮৯৭ সালে স্বরচিত গ্রন্থ 'ড্রামেটিক মিরর'-এ মার্কিন নাটকের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে লেখেন, আশ্চর্যের বিষয় হলো, মার্কিন নাটকের ওপর সেই গোষ্ঠী থাবা বিস্তার করে আছে, যাদের জন্ম ও লালন- পালন সঠিক পদ্ধতিতে হয়নি। যাদের জাতীয় ইতিহাস লাঞ্ছনা-গঞ্জনায়, অপমান- অপদস্থতায় ভরপুর। এই গোষ্ঠী শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যবসায়ী ও ইজ্জত বিক্রিকারী। এরা উন্নত শাস্ত্রীয় পাণ্ডিত্য, সৌন্দর্যের রুচিবোধ এবং সজীব চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত। যেসব লোক বর্তমানে নাটক-ড্রামার ওপর ইজারাদারী প্রতিষ্ঠা করে আছে, তারা এই শিল্পে দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর যোগ্যও নয়। তাদের গোটা ইতিহাস লাঞ্ছনা-গঞ্জনা আর অপমান-অপদস্থতার ইতিহাস। অধিকাংশ অবস্থায় তাদের জীবনটাই অপরাধপ্রবণ। ফলে নাটকেও তাদের অভিনয়, কর্মকা অপরাধপ্রবণ, যা অবিকল তাদের জাতীয় বৈশিষ্ট্যের প্রতিবিম্ব।
একজন খৃস্টান লেখকের কলম দিয়ে এ ধরনের সমালোচনা পুরো ইহুদী সংবাদ মাধ্যমে ভূমিকম্প শুরু হয়ে যায়। এই সমালোচনার পর ইহুদী পুঁজিপতিরা একদিকে নাট্যাঙ্গনের ওপর পূর্ণ ইজারাদারী প্রতিষ্ঠা করে নেয়, অপরদিকে ইহুদী মিডিয়ার সমালোচকের বিরুদ্ধে তুফান দাঁড় করিয়ে দেয়। ইহুদী সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিন বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো মি. বেরিসনের গ্রন্থ 'ড্রামেটিক মিরর' নিজেদের প্রতিষ্ঠানে রাখতে অস্বীকৃতি জানায়। নাটক নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রতিষ্ঠানে এই সমালোচকের গ্রন্থের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। অপরদিকে ইহুদীরা সমালোচকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করে যে, তার সমালোচনায় তাদের নাটকের ওপর প্রভাব পড়েছে। আদালত সমালোচকের দশ লাখ টাকা জরিমানা করে। এই ঘটনার পর তারা নাকট, চলচ্চিত্র ও সাহিত্য সমালোচকদের অর্থের বিনিময়ে ক্রয় করে তাদের মুখ বন্ধ করে দেয় এবং তাদের সকল লেখাকে ইহুদী সংবাদপত্রে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।