📄 প্রসিদ্ধ মার্কিন পত্রিকাসমূহের প্রচার সংখ্যা
০১. দৈনিক ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল (নিউইয়র্ক), প্রচার সংখ্যা-৭,৭৫,০৮৬।
০২. দৈনিক নিউইয়র্ক ডেইলী নিউজ (নিউইয়র্ক), প্রচার সংখ্যা-৭,৮১,৭৯৬।
০৩. দৈনিক লস এঞ্জেলেস টাইমস (লস এঞ্জেলেস), প্রচার সংখ্যা-১১,৬৪,৩৮৮।
০৪. দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস (নিউইয়র্ক), প্রচার সংখ্যা-১২,০১,৯৭৭।
০৫. দৈনিক শিকাগো ট্রাইবন (শিকাগো), প্রচার সংখ্যা-৭,৩৩,৭৭৫।
০৬. দৈনিক নিউইয়র্ক পোস্ট (নিউইয়র্ক), প্রচার সংখ্যা-৪,৭০,৯৮৭।
০৭. দৈনিক শিকাগো সান টাইমস (শিকাগো), প্রচার সংখ্যা-৫,৩০,৮৫৬।
০৮. দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট (ওয়াশিংটন), প্রচার সংখ্যা-৮,৪৬,৬৩৫।
০৯. দৈনিক বোস্টন গ্লোব (বোস্টন), প্রচার সংখ্যা-৫,০৫,৭৪৪।
১০. মাসিক রিডার্স ডাইজেস্ট, প্রচার সংখ্যা-১,৬২,৬৯,৬৩৬।
১১. মাসিক ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, প্রচার সংখ্যা-৯৭,৬৩,৪০৬।
১২. সাপ্তাহিক টাইম, প্রচার সংখ্যা ৪০,৭৩,৫৩০।
১৩. সাপ্তাহিক নিউজউইক, প্রচার সংখ্যা-৩০,২৪,৭৭৭।
১৪. সাপ্তাহিক ইউএস নিউজ এন্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট, প্রচার সংখ্যা-২২,৩৬,০০৯।
📄 মার্কিন মিডিয়ার ওপর ইহুদীদের আধিপত্যের দাস্তান
আমেরিকা মহাদেশের ওপর ইহুদীদের প্রভাব-প্রতিপত্তির বিস্তারিত বিবরণ প্রসিদ্ধ মার্কিন লেখক হেনরী ফোর্ড স্বরচিত 'ইহুদীদের থেকে মানবতার শংকা' নামক গ্রন্থে তুলে ধরেছেন। এই হেনরী ফোর্ড সে ব্যক্তি, যিনি ব্যক্তিগত পরিশ্রম ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে মোটর তৈরি শিল্পের বিকাশ ঘটান। তার নির্মিত ফোর্ড মোটর গাড়ী গুণগত মানসম্পন্ন হওয়ার কারণে গোটা বিশ্বে অসাধারণ জনপ্রিয়তা ও প্রসিদ্ধি লাভ করে। হেনরী ফোর্ড যখন তার কোম্পানীর উন্নতি, অগ্রগতি ও বিকশিত হওয়ার রাস্তায় পদে পদে ইহুদীদের প্রভাব-প্রতিপত্তি দ্বারা বাধাগ্রস্ত ও ধোকা-প্রতারণার সম্মুখীন হতে লাগলেন, তখন অনেকটা বাধ্য হয়ে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ স্কলার ও গবেষকদের সহায়তায় আমেরিকা মহাদেশে ইহুদীদের অসাধারণ প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণ-উপকরণ, অর্থনৈতিক পলিসি এবং অ-ইহুদীদের সাথে তাদের আচরণ ও কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত একটি প্রতিবেদন তৈরি করেন। এ কাজের জন্য তিনি সে সময় বিশ লক্ষ ডলার ব্যয় করেন। প্রতিবেদন তৈরি হওয়ার পর ফোর্ডের কোম্পানীর মুখপত্র 'ডেরবন ইন্ডিপেন্ডেন্ডে' যখনই প্রথম কিস্তি প্রকাশিত হয়, সাথে সাথে ইহুদীদের মধ্যে হৈ চৈ শুরু হয়ে যায়। চতুর্দিক থেকে ফোর্ডের ওপর চাপ সৃষ্টি হতে থাকে। ইহুদীদের প্রভাবাধীন সংবাদপত্রের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তুফান সৃষ্টি করা হয়, এমনকি হত্যার হুমকি পর্যন্ত দেয়া হয়। বাধ্য হয়ে ফোর্ড গবেষণামূলক এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা বন্ধ করে দেন, কিন্তু পরে সেই প্রতিবেদন গ্রন্থাকারে বাজারে আসে। এ গ্রন্থ প্রকাশ হওয়ার সাথে সাথে ইহুদীরা সবগুলো কপি ক্রয় করে বিনষ্ট করে ফেলে। গ্রন্থের যেসব কপি বিভিন্ন লাইব্রেরীতে ছিল, তারা সেগুলোও অতি চতুরতার সাথে চুরি করে বিনষ্ট করে ফেলে, কিন্তু প্রসিদ্ধ মার্কিন সাংবাদিক ও ফোর্ডের ঘনিষ্ঠ বন্ধু জেরাল্ড কে স্মিথ-এর কাছে এ গ্রন্থের দুটি কপি সংরক্ষিত ছিল, যা ফোর্ড সৌজন্য হিসেবে তাকে দিয়েছিলেন। ফোর্ড তাকে ওসিয়ত করেছিলেন, আমার মৃত্যুর পর গ্রন্থটি অবশ্যই প্রকাশিত হওয়া উচিত, যাতে আমেরিকা ও বিশ্ব মানবতা ইহুদীদের ধ্বংসাত্মক ষড়যন্ত্র থেকে সতর্ক হতে পারে। এই গ্রন্থ পরবর্তীতে লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয়। এর আরবী অনুবাদ 'আল ইহুদী আল আলমী' নামে বৈরুত থেকে ইতোমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। গ্রন্থের ষোলটি কেন্দ্রীয় শিরোনাম থেকে নির্বাচিত কিছু শিরোনাম নিম্নে তুলে ধরা হলো।
০১. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদীদের আগমনের পটভূমি ০২. ইহুদীদের প্রভাব-প্রতিপত্তির গোপন অধ্যায় ০৩. ইহুদীরা মজলুম, না জালেম, না স্বৈরাচারী? ০৪. ইহুদীরাও কি একটি জাতি বা গোষ্ঠী? ০৫. জায়নবাদী চিন্তাবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের শিক্ষা-দীক্ষার পর্যালোচনা ০৬. ইহুদীরা তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি কিভাবে প্রয়োগ করে? ০৭. মার্কিন রাজনীতিতে ইহুদীদের কর্তৃত্ব ০৮. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীতের সাথে ইহুদী সঙ্গীত ০৯. মার্কিন সমাজে মদ, জুয়া ও চারিত্রিক অধঃপতনের পৃষ্ঠপোষক ইহুদীরা ১০. ধন-সম্পদের ওপর ইহুদীদের কর্তৃত্ব মানবতার জন্য সবচে' বড় বিপদ ১১. মার্কিন মিডিয়ার ওপর ইহুদীদের কর্তৃত্ব ও আধিপত্য
ফোর্ড মার্কিন সমাজের ওপর ইহুদীদের অসাধারণ থাবা এবং তাদের ব্যাপক প্রভাব-প্রতিপত্তির বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেন, মার্কিন সমাজের যেখানেই নৈতিক অধঃপতন ও ধ্বংস বিশৃংখলা পাওয়া যাবে, তার অন্তরালে ইহুদীদের হাত রয়েছে। মদ, জুয়া, বদকাজ, ঘুষ, যৌন ও আর্থিক ক্রাইম, হত্যা, লুণ্ঠন, সন্ত্রাস, ডাকাতি, রাহাজানি, জাতি-গোষ্ঠীসমূহের মাঝে রক্তপাত সৃষ্টি, লড়াই যুদ্ধ বাধানো, বিধ্বংসী সমরাস্ত্র নির্মাণ, মোটকথা সকল অনৈতিক ও মানবতাবিরোধী কর্মকান্ডে ইহুদীদের অংশ গ্রহণ শতকরা আশি থেকে নব্বই ভাগ। ফোর্ড মার্কিন চলচ্চিত্র ও সংবাদপত্র শিল্পের পর্যালোচনা করতে গিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে লেখেন, ১৮৮৫ সালের পূর্বে এ ময়দানের সাথে ইহুদীদের দূরতমও কোনো সম্পর্ক ছিল না, কিন্তু ইহুদীদের আগমণের সাথে সাথেই চলচ্চিত্র, মিডিয়া ও ব্যবসায়-বাণিজ্যের ওপর তাদের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা হয়ে যায়। তারা অর্থের সাহায্যে সকল ময়দানে আধিপত্য বিস্তার করে ফেলে। ১৮৮৫ সালের পূর্বে মার্কিন সমাজে নগ্নতা, অশ্লীলতা ও বদকাজের অস্তিত্ব ছিল অতি নগণ্য। কিন্তু ইহুদী জাতি নাটক, গ্রামোফোন, টেপ রেকর্ডার এবং পরবর্তীতে চলচ্চিত্র ও সংবাদপত্র শিল্পের মাধ্যমে মার্কিন সমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ১৮৯৪ সালে যখন এক সমালোচক স্বীয় পত্রিকায় চলচ্চিত্র শিল্পের ওপর ইহুদীদের একচেটিয়া ইজারাদারী এবং নাটক ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নৈতিকতার ধ্বসে অনৈতিকতার বিস্তার ও বিকাশ ঘটানোর ইহুদীবাদী ষড়যন্ত্রের মুখোশ উন্মোচন করেন, তখন ইহুদীরা উত্তেজিত হয়ে তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে। এই ঘটনায় ইহুদী পুঁজিপতিরা উক্ত পত্রিকায় তাদের বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত পত্রিকা মালিক সেই সমালোচককে চাকরি থেকে বিদায় করে ইহুদীদের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এরপরই ইহুদীরা আবার সংশ্লিষ্ট পত্রিকাটিতে তাদের বিজ্ঞাপন চালু করে।
একই অবস্থা হয়েছিল সে সময়ের প্রসিদ্ধ দৈনিক নিউইয়র্ক হেরাল্ডের। হেরাল্ডের সম্পাদক জেমস গর্ডন প্রাণপন চেষ্টায় তার পত্রিকাটিকে ইহুদীদের প্রভাব-প্রতিপত্তি ও চাপ থেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সুচতুর প্রতারক ইহুদীরা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তার ও তার পত্রিকার মুখ বন্ধ করে দেয়। মালিকের ইন্তেকালের পর পত্রিকাটি ইহুদীদের প্রতারণা ও ষড়যন্ত্রের সামনে টিকতে না পেরে বন্ধ হয়ে যায়। পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পেছনে একটি মর্মান্তিক কাহিনী রয়েছে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ হলো, মি. জেমস গর্ডন ইহুদীদের প্রতি বিশেষ কোনো বিদ্বেষ শত্রুতা পোষণ করতেন না। সাধারণ সংবাদপত্রের মতো ইহুদীরা এই পত্রিকাতেও বিজ্ঞাপন দিত। আর একটি পত্রিকার মূল আমদানীই হলো বিজ্ঞাপন। একবার এক প্রভাবশালী ইহুদী পুঁজিপতি অনৈতিক কর্ম ও হত্যাকা েজড়িয়ে পড়ে। অপরাধীর নাম উল্লেখ করে এই ঘটনার সংবাদ যখন পত্রিকার রিপোর্টার পত্রিকা সম্পাদকের কাছে পেশ করেন, তখন সম্পাদক পত্রিকার মালিককে জিজ্ঞেস করলেন, অপরাধীর নাম উল্লেখ করে পত্রিকায় সংবাদ ছাপা হবে কি না? ঘটনাটি ছাপা না হতেই সংবাদ বিদ্যুৎ গতিতে ইহুদী লবিতে ছড়িয়ে পড়ে। নিউইয়র্কের ইহুদীরা জানতে পারল, সংবাদটি হেরাল্ড পত্রিকায় আগামীকাল ছাপা হবে। আর কি! চতুর্দিক থেকে সম্পাদকের নিকট টেলিফোন আসা শুরু হলো। ইহুদীদের একটি প্রতিনিধি দলও পত্রিকা অফিসে উপস্থিত হয়, যাতে সংবাদটি পত্রিকায় ছাপা না হয়, কিন্তু জেমস তাদের সামনে মাথানত করতে অস্বীকার করেন। সংবাদ ছাপা হলো। দ্বিতীয় দিন থেকে ইহুদীরা লক্ষ লক্ষ ডলারের বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেয়। মি. জেমস হিম্মত হারালেন না। তিনি অ-ইহুদী পুঁজিপতি ও শিল্পপতিদের সাথে যোগাযোগ করে পাঁচ বছর পর্যন্ত তাদের বিজ্ঞাপন জেমসের পত্রিকায় ছাপা হবে মর্মে একা চুক্তিতে উপনীত হন। আমেরিকার অ-ইহুদীরা এ চুক্তিতে বিরাট খুশি হল। কারণ ইহুদী পুঁজিপতিদের মোকাবেলায় কোনো পত্রিকা তাদের বিজ্ঞাপন তেমন একটা গুরুত্ব দিত না। এ চুক্তির ফলে ইহুদী লবিতে হৈ চৈ পড়ে গেল। ইহুদীরা জোর প্রচেষ্টা চালাল যেন জেমস এই চুক্তি বাতিল করে তাদের থেকে বিজ্ঞাপনের দ্বিগুণ মূল্য নেয়, কিন্তু জেমস এত লোভনীয় অফার সত্ত্বেও তাদের কাছে মাথানত করলেন না। যদিও জেমস এই লড়াইয়ে বিজয় লাভ করেছিলেন, কিন্তু কয়েক বছর পর আমেরিকার এক পুঁজিপতি ইহুদী এ্যাডলফ উচ নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকাটি ক্রয় করে নিয়ে পানির মতো পুঁজি ঢেলে পত্রিকাটিকে একটি আন্তর্জাতিক পত্রিকায় রূপান্তরিত করেন। যার মৌলিক উদ্দেশ্য ছিল, যে কোনো মূল্যে ইহুদী স্বার্থ ও উদ্দেশ্যের সেবা করা। ১৯১৯ সালে জেমস ইন্তেকাল করেন। তার ইন্তেকালের পর ইহুদীরা তার পত্রিকাটি ক্রয় করার চেষ্টা করে। এজন্য তারা আবার বিজ্ঞাপন দেয়া বন্ধ করে দেয়, কিন্তু জেমসের ছেলেরা ইহুদীদের কাছে বিক্রয় করার পরিবর্তে পত্রিকাটি বন্ধ করে দেয়াই পছন্দ করলেন। এভাবে টাইমস হেরাল্ড বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পরই ইহুদীরা মিডিয়ার ওপর তাদের মজবুত থাবা প্রতিষ্ঠা করে। তাদের চিন্তা ছিল মিডিয়ার ওপর আধিপত্য বিস্তার করেই পুরো বিশ্বে শাসন ক্ষমতা পরিচালনা সম্ভব।
আমাদের সামনে মার্কিন চলচ্চিত্র সংস্থা, মার্কিন সংবাদ সংস্থা, রেডিও স্টেশন, টিভি কোম্পানী, বিজ্ঞাপনী এজেন্সী, প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান, সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিন সম্পর্কে যে রিপোর্ট রয়েছে তা থেকে জানা যায়, এসব সংস্থার নব্বই শতাংশের ওপর ইহুদীদের একচেটিয়া কর্তৃত্ব রয়েছে। মিডিয়াতে পুঁজি বিনিয়োগ থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ পর্যন্ত সর্বদিক দিয়ে তাদের আধিপত্য রয়েছে। হলিউড গোটা দুনিয়ায় চলচ্চিত্র নির্মাণের সবচে' বড় প্রতিষ্ঠান। পুরো বিশ্বে এখান থেকেই চলচ্চিত্র রফতানী হয়। এসব চলচ্চিত্রের কথা বাদ দিয়ে তাবৎ সিনেমা কোম্পানীর মালিক ইহুদীরা। উদাহরণস্বরূপ নিম্নবর্ণিত সিনেমা কোম্পানীগুলোর মালিক ইহুদী।
০১. ফোকাস কোম্পানী, মালিক-উইলিয়াম ফোকাস।
০২. গোল্ডেন কোম্পানী, মালিক-স্যামুয়েল গোল্ডেন।
০৩. মেট্রো কোম্পানী, মালিক-মুইস মাইবার।
০৪. ওয়ার্নার ব্রাদার্স এন্ড কোম্পানী, মালিক-হারনী ওয়ার্নার।
০৫. পেরামাউন্ট কোম্পানী, মালিক-বড কিন্স
ইহুদীরা এসব কোম্পানীর শুধু মালিকই নয়; বরং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, অভিনেতা-অভিনেত্রী, গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীতশিল্পী, ক্যামেরাম্যান ও পরিচালক সকলেই ইহুদী। ইহুদীদের এই একচ্ছত্র ইজারাদারীর প্রতিবাদ করতে গিয়ে ১৯৩৮ সালে ইন্ডিপেন্ডেন্ড ক্রিশ্চিয়ান নিউজ পত্রিকার সম্পাদক লেখেন, কারো অংশীদারিত্ব ছাড়াই মার্কিন চলচ্চিত্র শিল্পে একচেটিয়া মালিকানা ইহুদীদের। এই শিল্পে কর্মরত সকলেই হয় ইহুদী, না হয় ইহুদী ফ্যাক্টরীতে তৈরি। এসব ইহুদী মালিকানাধীন চলচ্চিত্র কোম্পানীর চলচ্চিত্র শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়; বরং গোটা বিশ্বেই সাপ্লাই হয়।
ফোর্ড ইহুদীদের অধীনে নির্মিত চলচ্চিত্রের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে লেখেন, চলচ্চিত্রে অভিনয় শিল্প এবং সমাজ জীবনের বিভিন্ন সমস্যা সংকটের চিত্রায়নের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই; বরং এসব সিনেমা দ্বারা তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য, ষোল থেকে আঠার বছর বয়সী যুবক-যুবতীদের মন-মস্তিষ্ক কিভাবে বরবাদ করা যায়। এ জন্য তারা যৌন চেতনার বিকাশ ও মার্কিন সমাজের চারিত্রিক মূল্যবোধ ধ্বংসের পেছনে পূর্ণ শক্তি ব্যয় করে। ফোর্ড লেখেন, তাদের মৌলিক উদ্দেশ্য অধিকতর আর্থিক মুনাফা অর্জন করা, এর পাশাপাশি অ-ইহুদীদের ধ্বংস ও বরবাদীর উপকরণ সরবরাহ করা। ফোর্ড আরো লেখেন, ইহুদী প্রতারকরা তাদের শিল্পকে বিকশিত করার জন্য সিনেমার অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ইচ্ছামতো ব্যবহার করে। ইহুদীদের চালবাজি হলো, চলচ্চিত্র নির্মাণের পূর্বে তারা প্রসাধনী ও ফ্যাশন সামগ্রী তৈরি করে এগুলো সমাজের বুকে ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা তৈরি করে, যাতে সিনেমার দর্শকরা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ফ্যাশন ও জীবনপদ্ধতি দেখে মার্কেট থেকে সেসব প্রসাধনী ফ্যাশন সামগ্রী ক্রয় করে। এভাবেই পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক শুধু মার্কিন সমাজই নয়; বরং গোটা মানব সমাজই ইহুদীদের ইশারা-ইঙ্গিতে চলতে বাধ্য হয়ে পড়ে। ফলে তারা ইহুদী অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ফ্যাশন ও জীবনপদ্ধতি গ্রহণ করাই সময়ের সবচে' বড় দাবী ও চাহিদা মনে করে।
মার্কিন চলচ্চিত্রে কর্মরত প্রসিদ্ধ ইহুদী অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কয়েকজনের নাম এখানে প্রদত্ত হলো। অভিনেতাদের মধ্যে মেইল ব্রুকস, উডলি এ্যালেন, বব হোব, জেরলী মোকস, ফ্রাঙ্ক সিনাট্রা, বেইলী ওয়েল্ড, নীল সাইমন, কেরোনিয়ার, লেকি রোনি, জ্যাক লেমন, ক্রেয়ার্ক ডগলাসি, টনি কেরাটসি, গেরলি গ্রান্ট, জ্যাক নিকলস, বিন আযের, ওয়াল্টার মেথার, জর্জ সেগাল, পেয়ার্ট রনিওলাড, জেনহো ক্যাম্পন, জেমস কেইন, অস্টন, হোফম্যান, রিচার্ড হ্যারেস, রিচার্ড বেনজা এবং উডলি স্টাইগার প্রমুখ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আর অভিনেত্রীদের মধ্যে এলিজাবেথ টেইলর, আন বেংকার অফ্ট, বারবারা স্টাইসেন্ড, মেরি মেকার, সুজান আম্বাক, সেইলি কিলারম্যান, উডমেন কেন্টন, গ্রান্ডম্যান চ্যাপলেন প্রমুখ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও আরো কমপক্ষে পঞ্চাশের ঊর্ধ্বে ইহুদী অভিনেতা-অভিনেত্রীর নাম চলচ্চিত্র জগতে প্রসিদ্ধ আছে।৬ নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণের পর যখন টেলিভিশন ও তার কোম্পানী অস্তিত্ব লাভ করল, তখন সেখানেও ইহুদী বেনিয়ারা সবচে' অগ্রগামী হয়ে রইল। বর্তমানে আমেরিকার সব টিভি কোম্পানীর ওপর ইহুদীদের একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে। গোটা আমেরিকায় সাতশ' থেকে এগারশ' পর্যন্ত টিভি চ্যানেল রয়েছে, সবই এবিসি, সিবিএস ও সিএনএন এর অধীন। এসব টিভি কোম্পানীর সবগুলোর মালিকই ইহুদী। যেমন- এবিসি টিভি চ্যানেলের মালিক লিওনার্ড জনসন (ইহুদী), সিবিএস-এর মালিক ইউলিয়া বেলে (ইহুদী), এনবিসির মালিক আলফ্রেড স্যালোরম্যান (ইহুদী), সিএনএন-এর মালিক নিউ হাউস ফ্যামেলী (ইহুদী)।
এসব টিভি কোম্পানী ছাড়াও টিভি সিরিজ নির্মাণ করে সাপ্লাইকারী দু'টি মার্কিন বড় কোম্পানী ক্যানন ও এটিভি'র মালিকও ইহুদী পুঁজিপতিরা। যারা টিভি সিরিজ তৈরি করে গোটা বিশ্বে সাপ্লাই করে থাকে। শুধু মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেই এই কোম্পানী দু'টির বিয়াল্লিশটি ব্রাঞ্চ রয়েছে। এসব ব্রাঞ্চের মাধ্যমে কোম্পানী দু'টি ব্লু ফিল্ম তৈরি করে প্রাইভেট ও সাধারণ সিনেমা হলগুলোতে সরবরাহ করে। যেগুলো আমেরিকা, লন্ডন ও প্যারিসে তৈরি করা হয়।
রেন্ডাম হাউস একটি বিশাল প্রকাশনা কোম্পানী। তার প্রকাশনার গন্ডি শুধু আমেরিকাতেই নয়; বরং তিনটি মহাদেশেই ছড়িয়ে আছে। এমন কোনো গ্রন্থ যা ইহুদীদের বিরুদ্ধে লেখা হয়েছে, তা আমেরিকা, বৃটেন ও ফ্রান্স থেকে ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকাশিত হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত রেন্ডাম হাউসের অধীনে কাজ করে-কোনো প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অনুমতি না দেবে। প্রসিদ্ধ ফরাসী চিন্তাবিদ জারুদীর বিভিন্ন গ্রন্থ তার ইসলাম গ্রহণের পূর্বে প্রকাশকরা ছাপানোর জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতো, কিন্তু ইসলাম গ্রহণ করার পর যখন তিনি ইহুদীবাদের বিরুদ্ধে গ্রন্থ লেখা শুরু করলেন, তখন অ-ইহুদী প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত তার গ্রন্থ ছাপতে রাজি হয়নি, এমনকি জারুদীর প্রকাশিত অন্যান্য গ্রন্থও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের লাইব্রেরীগুলো তাদের প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করতে অস্বীকার করে। রেন্ডাম হাউস ছাড়াও ইহুদী মালিকানাধীন আরো দশটি বড় বড় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও এডভার্টাইজিং কোম্পানী বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, রেডিও, টিভি ও সিনেমায় বিজ্ঞাপন তৈরি ও তা প্রচারের কাজ করে। এসব বিজ্ঞাপনের নমুনা আমরা সামনে আলোচনা করব। মার্কিন সংবাদ মাধ্যমের ওপর ইহুদী আধিপত্যের অনুমান আমরা এভাবে করতে পারি, সাম্প্রতিক তথ্যমতে শুধু মার্কিন প্রসিদ্ধ কোম্পানী নিউ হাউস গ্রুপই ৪৮টি মার্কিন দৈনিক ও ২০টি প্রসিদ্ধ আন্তর্জাতিক সাপ্তাহিকের মালিক। এছাড়াও সিএনএন-এর মতো প্রসিদ্ধ আন্তর্জাতিক টিভি কোম্পানী এবং ১১০টি রেডিও স্টেশনের ওপর নিউ হাউস পরিবারের ইজারাদারী রয়েছে। প্রসিদ্ধ পত্রিকাসমূহের মধ্যে নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউইয়র্ক পোস্ট, ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল, নিউজউইক, টাইম, বিজনেসউইক, শিকাগো টাইমস, শিকাগো সান টাইমস, নিউইয়র্ক ম্যাগাজিন এবং রিডার ডাইজেস্টের ওপর রবার্ট মারদুখ, উইলিয়াম হেরাস্ট, নিউ হাউস, এডলফ উচ এবং থমসন গ্রুপের মতো ইহুদী পুঁজিপতিদের আধিপত্য রয়েছে। এসব পত্রিকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৯০% ইহুদী। এসব পত্রিকা বিলি করার জন্য গোটা বিশ্বেই ১৭৪৫টি এজেন্সী ও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তার সবগুলোর ওপর ইহুদীদের কবজা রয়েছে। সামগ্রিকভাবে গোটা আমেরিকায় ১৪০টি টিভি চ্যানেল ইহুদী মালিকানায় রয়েছে। অপরদিকে ৬৫ মিলিয়নের ঊর্ধ্বে যেসব মার্কিন দৈনিক বিলি হয়, তার ৬২ মিলিয়নের মালিক ইহুদীরা। অথচ আমেরিকায় ইহুদীদের জনসংখ্যার হার শুধু ২.৯ শতাংশ।
টিকাঃ
৬. প্রসিদ্ধ মার্কিন পত্রিকা ইন্ডিপেন্ডেন্ড ক্রিশ্চিয়ান নিউজ ১৯৩০ সালে মার্কিন সিনেমা জগতে ইহুদীদের আধিপত্য সম্পর্কে পর্যালোচনা করতে গিয়ে লেখেছে, হলিউড নতুন যুগের 'সাদৃম'। সাদৃম ওই অঞ্চল, প্রকৃতি বিরোধী অনৈতিক কর্মকান্ডের কারণে যা উল্টে দেয়া হয়েছিল এবং উল্টে দেয়ার পূর্বে সেখানে পাথর বৃষ্টি বর্ষণ করা হয়েছিল। হলিউড সকল অন্যায়, অনৈতিকতা ও অকল্যাণের কেন্দ্র। গোটা বিশ্বে এখান থেকেই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অশ্লীলতা, নির্লজ্জতা ও অপরাধমূলক কর্মকা সুন্দর মোড়কে সুন্দর সুন্দর পরিভাষায় প্রসার করা হচ্ছে। ফলে পুরুষদের পুরুষত্ব ও নারীদের নারীত্ব বিদায় নিচ্ছে। অপরাধী ও বদকার তৈরির এ কারখানা অতি দ্রুত বন্ধ করে দেয়া উচিত।
৭. টেড টার্নার নিউ হাউস গ্রুপের পক্ষ থেকে ১৯৮০ সালে বিশ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে সিএনএন প্রতিষ্ঠা করেন। পাঁচ বছর কঠিন বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতার পরই তার মুনাফা আসা শুরু হয়। বর্তমানে সিএনএন-এর মার্কিন যুক্তরাষ্টে ২৭টি এবং বহির্বিশ্বে ১৮টি সংবাদ কেন্দ্র রয়েছে। তার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংখ্যা ১৮০০। গোটা বিশ্বের ১৪২টি দেশের ১৮ মিলিয়ন পরিবার ২৪ ঘন্টা সিএনএন-এর অনুষ্ঠানামালা উপভোগ করে।
📄 মার্কিন মিডিয়া সম্পর্কে খোদ মার্কিনীদর মতামত
মার্কিন মিডিয়া সম্পর্কে অধিকাংশ মার্কিনীর অভিমত ও প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে প্রসিদ্ধ মার্কিন দৈনিক লস এঞ্জেলেস টাইমস-এর এক জনমত জরিপ থেকে জানা যায়। ১৯৯৩ সালে এঞ্জেলেস টাইমসের পক্ষ থেকে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়েছিল।
০১. ৪০ শতাংশ মার্কিনীর অভিযোগ, মিডিয়া মালিকরা মিডিয়ার মাধ্যমে তাদের নিজস্ব চিন্তা-চেতনাই জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে।
০২. ৪৫ শতাংশ মার্কিনীর মন্তব্য হলো, সংবাদপত্র শিরোনাম এবং তার সংবাদের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য নেই।
০৩. ৬৫ শতাংশ মার্কিনীর বক্তব্য হলো, মার্কিন মিডিয়া ধনাঢ্য ও সম্পদশালীদের প্রভাব-প্রতিপত্তির সমর্থন করে, স্বয়ং মার্কিন সরকারও তাদের অন্তর্ভুক্ত।
০৪. ৬৫ শতাংশ মার্কিনীর মন্তব্য হলো, মার্কিন মিডিয়ার সংবাদে ভারসাম্যহীনতা ও পক্ষপাতিত্ব পাওয়া যায়।
০৫. ৪২ শতাংশ মার্কিনীর বক্তব্য হলো, মার্কিন মিডিয়ার বেশির ভাগ সংবাদ মনগড়া বানোয়াট।
০৬. ৬২ শতাংশ, মার্কিনীর বক্তব্য হলো, বেশির ভাগ মার্কিন মিডিয়া নগ্নতা অশ্লীলতা প্রসারের কাজে লিপ্ত।
০৭. ৫৩ শতাংশ মার্কিন সংবাদ সি.বি.এস, এন.বি.এস. ও এ.বি.এস থেকে সংগ্রহ করা হয়।
০৮. ১৮ শতাংশ সংবাদ সি.এন.এন. থেকে সংগ্রহ করা হয়, যা ১৯৯৯ সালে ৮৮ শতাংশে উন্নীত হয়। আর ১০ শতাংশ সংবাদ রেডিও এবং ৩০ শতাংশ সংবাদ টিভি থেকে সংগ্রহ করা হয়।
📄 আন্তর্জাতিক ইহুদী সংবাদ মাধ্যম
ইহুদী বুদ্ধিজীবীরা তাদের দ্বাদশতম প্রটোকলে সাহিত্য সাংবাদিকতার ওপর অসাধারণ গুরুত্বারোপ করে দাবী করেছিল, আমাদের সরকারগুলোর প্রচেষ্টা হবে মিডিয়ার ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। যদি অ-ইহুদীরা দশটি পত্রিকা বের করে তাহলে আমরা তার মোকাবেলায় ত্রিশটি পত্রিকা বের করব। লোকদের একথা স্বীকার করতে হবে, আমরা ইহুদীরাই মিডিয়ার একক মালিক। মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা অ-ইহুদীদের এমন জালে আটকে দেব, যার কল্পনাও তারা করতে পারবে না। ইহুদী মিডিয়ার রাজত্ব শুধু ইউরোপ, আমেরিকা ও ফ্রান্স পর্যন্তই সীমাবদ্ধ নেই; বরং দুনিয়ার সকল দেশ ও মহাদেশের রাজধানী, প্রসিদ্ধ অ-প্রসিদ্ধ সকল শহরেও তার রাজত্ব কর্তৃত্ব ছড়িয়ে আছে। এটি তাদের ১২তম দস্তাবেজের বাস্তবে রূপ। নিম্নে আমরা গোটা দুনিয়ার ইহুদী সংবাদ মাধ্যমের একটি সংক্ষিপ্ত জরিপ পেশ করছি। এই জরিপ দশ বছর পূর্বে করা হয়েছিল। মিডিয়ার মধ্যে টিভি, রেডিও, সিনেমা ও নাটক বাদ দিয়ে আমরা শুধু নিউজ এজেন্সী, দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক, দ্বিমাসিক, ত্রৈমাসিক, ষান্মাষিক ও বার্ষিক পত্র-পত্রিকাগুলোর কথাই আলোচনা করব। এসব পত্র-পত্রিকা ইংরেজি, আরবী, উর্দু, হিব্রু, ফ্রান্স, জার্মান, পর্তুগাল, স্প্যানিশ, রুশ এবং ইউরোপিয়ান ও আফ্রিকান স্থানীয় ভাষায় বের হয়।
গোটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সর্বমোট ১,৭৫৬টি দৈনিক এবং ৬৬৮টি সাপ্তাহিক পত্রিকা বের হয়। মাসিক, পাক্ষিক, ত্রৈমাসিক, ষান্মাষিক ও বার্ষিক পত্র-পত্রিকা এর বাইরে। যেদিকে আমরা ইতোপূর্বে মোটামুটি ইঙ্গিত দিয়েছি। নিউইয়র্ক পোস্ট, শিকাগো সান টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল, ডেইলী নিউজ, সান টাইমস, স্টার লেজার, নিউইয়র্ক টাইমস, এ্যারোজোনা নিউজ, টাইম, নিউজউইক এবং রিডার ডাইজেস্টের মতো দৈনিক, সাপ্তাহিক এবং মাসিক পত্রিকাগুলো আন্তর্জাতিক খ্যাতি ও মর্যাদা রাখে। এগুলো ইংরেজিতে প্রকাশিত এবং গোটা বিশ্বে পঠিত হয়।
নিম্নে আমরা কেবল সেসব দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক, ত্রৈমাসিক, ষান্মাসিক ও বার্ষিক পত্র-পত্রিকার একটি সংক্ষিপ্ত জরিপ পেশ করব, যেগুলো সরাসরি ইহুদীদের মালিকানা ও তত্ত্বাবধানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ইংরেজি ভাষা ছাড়া সেসব দেশের নিজস্ব ভাষা ও অন্যান্য ভাষায় প্রকাশিত হয়।
আমেরিকা: নিউজ এজেন্সী-১২টি, দৈনিক-১১টি, সাপ্তাহিক-১১১টি, পাক্ষিক-১১৬টি, মাসিক-১৬০টি, ত্রৈমাসিক-৬০টি এবং ষান্মাসিক ও বার্ষিক-১৪০টি, সর্বমোট-৬১০টি।
অস্ট্রেলিয়া: দৈনিক-২টি, সাপ্তাহিক-৮টি, মাসিক-৩টি, সর্বমোট-১৩টি।
বেলজিয়াম: দৈনিক-৩টি, ত্রৈ-দৈনিক-২টি, সাপ্তাহিক-৪টি এবং মাসিক-৩টি, সর্বমোট-১২টি।
বুলগেরিয়া: দৈনিক-১টি, সাপ্তাহিক-২টি এবং মাসিক-১টি, সর্বমোট-৪টি।
চেকোশ্লেভাকিয়া: দৈনিক-১টি, সাপ্তাহিক-২টি, মাসিক-২টি, সর্বমোট-৫টি।
ডেনমার্ক: দৈনিক-২টি, সাপ্তাহিক-৩টি, মাসিক-৩টি, ষান্মাসিক-২টি ও বার্ষিক-২টি, সর্বমোট-১২টি।
ফ্রান্স : নিউজ এজেন্সী-৩টি, দৈনিক-৮টি, সাপ্তাহিক-১৪টি, পাক্ষিক-৯টি, মাসিক-২০টি, ত্রৈমাসিক-৪টি, ষান্মাসিক-৮টি ও অনিয়মিত-১৪টি, সর্বমোট-৮০টি।
হল্যান্ড : দৈনিক-১টি, সাপ্তাহিক-৪টি, মাসিক-২টি, সর্বমোট-৭টি।
জার্মানী : দৈনিক-২টি, সাপ্তাহিক-৩টি, ত্রৈমাসিক-২টি, মাসিক-৪টি, পাক্ষিক-২টি, সর্বমোট-১৩টি।
বৃটেন : নিউজ এজেন্সী-৮টি, দৈনিক-১০টি, সাপ্তাহিক-১৮টি, পাক্ষিক-৬টি, মাসিক-১৫টি, দ্বিমাসিক-১২টি, ত্রৈমাসিক-১৬টি, ষান্মাসিক-১৪টি, বার্ষিক-৮টি, সর্বমোট-১০৭টি।
তুরস্ক : সাপ্তাহিক-৮টি, মাসিক-২টি, সর্বমোট-১০টি।
গ্রীস : দৈনিক-৩টি, সাপ্তাহিক-২টি, পাক্ষিক-৩টি, মাসিক-২টি, সর্বমোট-১০টি।
ইটালি : দৈনিক-২টি, সাপ্তাহিক-২টি, পাক্ষিক-২টি, সর্বমোট-৬টি।
হাঙ্গেরী : দৈনিক-২টি, সাপ্তাহিক-২টি, মাসিক-৪টি, সর্বমোট-৮টি।
নরওয়ে : দৈনিক-৩টি, সাপ্তাহিক-৪টি, পাক্ষিক-৩টি, মাসিক-৪টি, সর্বমোট-১৪টি।
পোল্যান্ড : দৈনিক-৩টি, সাপ্তাহিক-৬টি, ত্রৈ-দৈনিক-২টি, মাসিক-৪টি, ত্রৈমাসিক-৬টি, সর্বমোট-২১টি।
ইরান : মাত্র সাপ্তাহিক-১টি।
রুমানিয়া : দৈনিক-২টি, সাপ্তাহিক-৪টি, পাক্ষিক-২টি, মাসিক-৩টি, ষান্মাসিক-২টি, সর্বমোট-১৩টি।
রাশিয়া : দৈনিক-৬টি, সাপ্তাহিক-৮টি, ত্রৈ-দৈনিক-৪টি, সর্বমোট-১৮টি।
সুইডেন : দৈনিক-২টি, ত্রৈ-দৈনিক-২টি, সাপ্তাহিক-৪টি, মাসিক-৫টি, সর্বমোট-১৩টি।
সুইজারল্যান্ড: দৈনিক-২টি, সাপ্তাহিক-৪টি, মাসিক-৪টি, ত্রৈমাসিক-৬টি, পাক্ষিক-৪টি, সর্বমোট-২০টি।
কানাডা : নিউজ এজেন্সী-২টি, দৈনিক-৬টি, সাপ্তাহিক-১৪টি, পাক্ষিক-২টি, মাসিক-১৩টি, সর্বমোট-৩৭টি।
যুগোশ্লাভিয়া: সাপ্তাহিক-৪টি, মাসিক-২টি, সর্বমোট-৬টি।
আলজেরিয়া: সাপ্তাহিক-২টি, মাসিক-৩টি, বার্ষিক-৪টি, সর্বমোট-৯টি।
কেনিয়া : সাপ্তাহিক-২টি, মাসিক-৩টি, সর্বমোট-৫টি।
মরক্কো : সাপ্তাহিক-২টি, মাসিক-২টি, বার্ষিক-৪টি, সর্বমোট-৮টি।
দক্ষিণ আফ্রিকা : নিউজ এজেন্সী-২টি, দৈনিক-১টি, সাপ্তাহিক-৮টি, পাক্ষিক-৪টি, মাসিক-২২টি, দ্বিমাসিক-৬টি, অনিয়মিত-৪টি, বার্ষিক-৪টি, সর্বমোট-৫১টি।
ভারত : পাক্ষিক-১টি, মাসিক-৩টি, সর্বমোট-৪টি।
ইসরাঈল : নিউজ এজেন্সী-৩টি, দৈনিক-২৮টি, ত্রৈ-দৈনিক-২২টি, সাপ্তাহিক-৮২টি, পাক্ষিক-২৭টি, মাসিক-১১০টি, দ্বিমাসিক-৬টি, ত্রৈমাসিক-৪২টি, অনিয়মিত-৮৮টি, বার্ষিক-৩৪টি, সর্বমোট-৪৪২টি।
ফিলিপাইন : দৈনিক-২টি, সাপ্তাহিক-২টি, মাসিক-৩টি, ত্রৈমাসিক-২টি, সর্বমোট-৯টি।
সিংগাপুর : দৈনিক-২টি, সাপ্তাহিক-৪টি, মাসিক-২টি, ত্রৈমাসিক-২টি, সর্বমোট-১০টি।
নিউজিল্যান্ড : নিউজ এজেন্সী-৪টি, দৈনিক-৮টি, সাপ্তাহিক-১০টি, মাসিক-২২টি, ত্রৈমাসিক-৬টি, সর্বমোট-৫৫টি।
আমেরিকা ও বৃটেন থেকে যেসব পত্রিকা বের হয় তার বেশির ভাগের ওপরই ইহুদীদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। যেগুলোর ওপর প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ নেই সেগুলোর ওপর বিজ্ঞাপনের চাপ রয়েছে। দুই বছর পূর্বে ৬০টি মার্কিন দৈনিক বিশ্লেষণ করে যে ফলাফল সামনে আসে তাহলো, ৪৮টি পত্রিকায় দৈনন্দিন সামগ্রিকভাবে তিন থেকে সাত কলাম পর্যন্ত ইহুদী প্রোপাগান্ডার জন্য ওয়াকফ থাকে আর ৮টি দৈনিক ইহুদীদের সম্পর্কে যেকোনো সংবাদ, বিশ্লেষণ, ছবি, সম্পাদকীয়, মন্তব্য, মতামত ও প্রবন্ধ-নিবন্ধ কোনো কাটছাঁট ছাড়াই প্রকাশ করে। অথচ এগুলো ইহুদীদের প্রত্যক্ষ মালিকানাধীন নয়; বরং তারা ইহুদী বিজ্ঞাপনের চাপে এমনটি করতে বাধ্য হয়। এই হলো সংক্ষিপ্তভাবে এক নজরে আন্তর্জাতিক ইহুদী মিডিয়া ও সংবাদ মাধ্যম।
টিকাঃ
৮. ইতোপূর্বে আমরা আলোচনা করেছি, শুধু একটি ইহুদী পরিবার নিউ হাউস ফ্যামিলী গ্রুপই ৪৮টি দৈনিক এবং ২০টি প্রসিদ্ধ সাপ্তাহিক পত্রিকার মালিক। যেগুলো উত্তর আমেরিকার ৮৯টি শহর থেকে শুধু স্বদেশী ও হিব্রু ভাষায় প্রকাশিত হয়। এর দ্বারাই বিশ্বব্যাপী ইহুদীদের মিডিয়ার শক্তি সম্পর্কে অনুমান করা যায়।