📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 মার্কিন সাপ্তাহিক, মাসিক ও ত্রৈমাসিক পত্র-পত্রিকা

📄 মার্কিন সাপ্তাহিক, মাসিক ও ত্রৈমাসিক পত্র-পত্রিকা


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত ম্যাগাজিন, সাপ্তাহিক, মাসিক, ত্রৈমাসিক ও ষান্মাষিক পত্র-পত্রিকাগুলোকে আমরা চার ভাগে বিভক্ত করতে পারি।

০১. সাধারণ রাজনৈতিক পত্র-পত্রিকা ও বিশ্লেষণমূলক ম্যাগাজিন।

০২. বিশেষ বিষয়ে জ্ঞান-গবেষণামূলক মাসিক, ত্রৈমাসিক ও ষান্মাষিক ম্যাগাজিন।

০৩. সামাজিক ও নারী বিষয়ক ম্যাগাজিন, আর্ট, লিটারেচার, ফিল্ম, যৌন বিষয়ক ম্যাগাজিন।

০৪. কৃষি, বিজ্ঞান, বাণিজ্য, অর্থনীতি, খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক পত্র-পত্রিকা।
দৈনিক পত্রিকার তুলনায় সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্র-পত্রিকাগুলোর ধরন-আকৃতি, গবেষণা-আলোচনা, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, প্রবন্ধ-নিবন্ধ এবং সাক্ষাতকার ও রিপোর্ট ইত্যাদি দিক দিয়ে ব্যতিক্রমী হয়ে থাকে। এখানে আমরা সাধারণ পত্র-পত্রিকা ও ম্যাগাজিনগুলোর আলোচনা করব না, যা কমবেশি সবখানেই পাওয়া যায়। এখানে শুধু সেসব পত্র-পত্রিকা ও ম্যাগাজিনেরই আলোচনা করব, যা তুলনামূলক ব্যতিক্রমী এবং যা শুধু মার্কিন জনমতই নয়; বরং আন্তর্জাতিক জনমতের ওপরেও প্রভাব সৃষ্টি করার ক্ষমতা রাখে, সেগুলো হল-

ক. এখানে সেসব পত্র-পত্রিকা ও ম্যাগাজিনের তালিকা পেশ করা হবে, যেগুলো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্ব ও তাৎপর্যের অধিকারী এবং বিপুল সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। সেসব পত্রিকা হল-:

০১. ওয়ার্ল্ড প্রেস রিভিউ (মাসিক) : এ পত্রিকাটি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচিত অংশ প্রকাশ করে।

০২. ওয়ার্ল্ড ভিউ (মাসিক): এ পত্রিকাটি প্রতিমাসে বিশেষজ্ঞদের দিয়ে তিন থেকে পাঁচটি জ্ঞান-গবেষণামূলক নিবন্ধ লেখায় এবং গোটা দুনিয়া হতে প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহের তালিকা প্রকাশ করে।

০৩. নিউ রিপাবলিক (সাপ্তাহিক) : এ পত্রিকাটি মার্কিন সমাজের বিভিন্ন সমস্যা সংকট নিয়ে লেখে এবং ইহুদীদের দৃষ্টিভঙ্গির ওকালতি করে।

০৪. এক্সিকিউটিভ ইন্টেলিজেন্স ভিউ (সাপ্তাহিক) : এ পত্রিকাটি বামপন্থীদের মুখপাত্র এবং ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর এক নম্বর শত্রু।

০৫. স্ট্র্যাটেজি উইক (সাপ্তাহিক): মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন সমস্যা-সংকট বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের প্রবন্ধ-নিবন্ধ প্রকাশ করে।

০৬. আমেরিকান জায়নিস্ট (দ্বিমাসিক): এ পত্রিকাটি মার্কিন জায়নবাদী সংগঠনের মুখপত্র।

০৭. দ্বি প্যালেন ট্রুথ (মাসিক) : এটি মার্কিন গির্জা সংগঠনের মুখপত্র। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সমস্যা-সংকট, বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের জনগণের বিভিন্ন সমস্যা সংকট নিয়ে প্রবন্ধ-নিবন্ধ প্রকাশ করে। প্রতিমাসে এ পত্রিকাটির পঞ্চাশ লাখ কপি ফ্রি বিতরণ করা হয়।

০৮. ওয়াশিংটন রিপোর্ট (মাসিক): এ পত্রিকাটি ১৯৮২ সাল থেকে প্রকাশিত হয়ে আসছে। সাধারণভাবে এটি মধ্যপ্রাচ্য ও আমেরিকার পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ মতামত ও গুরুত্বপূর্ণ দলীল-দস্তাবেজ প্রকাশ করে। আরব বিশ্বের বিভিন্ন সমস্যা সংকট নিয়েও পত্রিকাটি সহযোগিতা সহমর্মিতা পোষণ করে। এটি মার্কিন ওয়াকফের পক্ষ হতে প্রকাশিত হয়।

০৯. ওয়ার্ল্ড মনিটর (মাসিক) : এ দৈনিক ক্রিশ্চিয়ান সায়েন্স মনিটর পাবলিকেশন্সের পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়।

১০. মিডলইস্ট ইনসাইট (দ্বিমাসিক) : এ পত্রিকাটি মধ্যপ্রাচ্য, ইসলামী সংগঠন-সংস্থা, ইসলামী দল ও তাদের কর্মতৎপরতা সম্পর্কে মার্কিন দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী প্রবন্ধ-নিবন্ধ প্রকাশ করে। কখনো কখনো এতে আরবদের দৃষ্টিভঙ্গিও স্থান পায়, কিন্তু ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহ সম্পর্কে এ পত্রিকার মতামত ও মন্তব্যকে আমরা নিরপেক্ষ বলতে পারি না।

উল্লিখিত পত্র-পত্রিকা ও ম্যাগাজিন-সাময়িকী ছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরো হাজার হাজার পত্র-পত্রিকা বের হয়।

খ. এখানে সেসব গবেষণামূলক পত্র-পত্রিকা ও ম্যাগাজিনের তালিকা পেশ করা হবে, যেগুলো সংখ্যায় মাত্র কয়েকশ' থেকে বেশি প্রকাশিত হয় না, কিন্তু সেগুলো কোন গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান, মন্ত্রণালয়, বুদ্ধিজীবী ফোরাম এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়। সেসব সংস্থা সংগঠনের মধ্যে রয়েছে মিডলইস্ট ইনস্টিটিউট, ব্রোকিংস ইনস্টিটিউট, ডেল কার্নেগী ইনস্টিটিউট, হাওয়ার্ড ইনস্টিটিউট, ইউ.এস.পি ফাউন্ডেশন, স্টেনিভ ফোর্ড, জন হকিংস, জর্জ টাউন কলম্বো ইত্যাদি। এ ছাড়া কংগ্রেস, মার্কিন খৃস্টান ও ইহুদী সংগঠন এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এসব পত্র-পত্রিকা ও ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়। তন্মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাগাজিনের নাম নিম্নে প্রদত্ত হলো:

০১. ফরেন ব্রডকাস্টিং ইনফরমেশন সার্ভিস (ত্রৈমাসিক) : এটি দৈনন্দিন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংঘটিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী প্রকাশ করে।

০২. ফরেন পলিসি (ত্রৈমাসিক): ডেল কার্নেগী ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে এটি প্রকাশিত হয়। এতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় ও সমস্যা-সংকট নিয়ে বিশেষজ্ঞদের প্রবন্ধ নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়।

০৩. ফরেন এ্যাফেয়ার্স (বছরে পাঁচ বার প্রকাশিত হয়): মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে যোগাযোগ কমিটির পক্ষ থেকে এটি প্রকাশিত হয়। শীর্ষ রাষ্ট্রদূত ও সাবেক রাষ্ট্রদূতরা এতে কলাম লেখেন।

০৪. ডিফেন্স এন্ড ফরেন এ্যাফেয়ার্স (মাসিক): আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কৌশল বিষয়ক এ পত্রিকাটি কোয়েলী কোম্পানীর পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়।

০৫. মিডলইস্ট জার্নাল (ত্রৈমাসিক): ওয়াশিংটনের মিডলইস্ট ইনস্টিটিউট-এর পক্ষ থেকে এটি প্রকাশিত হয়। ইরানী বিপ্লবের পর ইসলামী আন্দোলন, দীনী সংগঠন, মিসর, পাকিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান, সিরিয়া ও তুরস্কে দীনের প্রভাব-প্রতিক্রিয়া ও ফলাফলের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ নিয়ে পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।

০৬. জার্নাল অফ সাউথ এশিয়া এন্ড মিডলইস্ট স্টাডিজ (ত্রৈমাসিক): মার্কিন- পাকিস্তান যোগাযোগ কমিটির পক্ষ থেকে এটি প্রকাশিত হয়।

০৭. জার্নাল অফ রিলিজন্স (মাসিক): শিকাগো ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে নিরেট ধর্মীয় বিষয়ে এটি প্রকাশিত হয়। এতে অন্যান্য ধর্মের সাথে খৃস্টবাদের সম্পর্ক ও দৃষ্টিভঙ্গি আলোচিত হয়।

০৮. ক্রিশ্চিয়ান সায়েন্স জার্নাল (মাসিক): আমেরিকার সবচে' বড় খৃস্টান প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একমাত্র খৃস্টবাদ প্রচার-প্রসারের জন্য এটি প্রকাশিত হয়।

০৯. কমেন্টারী: আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সমস্যা সংকট সম্পর্কে আন্তর্জাতিক নেতৃবর্গ, সম্পাদক ও ভাষ্যকারদের কলাম নিয়ে এটি ইহুদীদের আন্তর্জাতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়।

১০. মুসলিম ওয়ার্ল্ড: ১৯১১ সাল থেকে এটি হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়ে আসছে। এতে ইসলামী আন্দোলন, সংগঠন, ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহ এবং অতীত ও বর্তমানে খৃস্টবাদের ভূমিকা ইত্যাদি বিষয়ে প্রবন্ধ-নিবন্ধ প্রকাশিত হয়।

এ ছাড়াও ইহুদী এবং খৃস্ট সংগঠনের পক্ষ থেকে শত শত ম্যাগাজিন ও পত্র- পত্রিকা প্রকাশিত হয়।

গ. টেলিভিশন: জনমত গঠনে টেলিভিশনের ভূমিকা ও গুরুত্ব সর্বশীর্ষে। গোটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে টেলিভিশনের পাঁচটি বড় বড় কোম্পানী রয়েছে। যারা শত শত টিভি স্টেশন স্থাপন করে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তাদের অনুষ্ঠানমালা শুধু আমেরিকাতেই নয়; বরং সমগ্র বিশ্বে প্রচার করে। এসব টিভি কোম্পানীর মালিকও ইহুদী পুঁজিপতিরা।

পাঁচটি বড় বড় টেলিভিশন কোম্পানী হচ্ছে-:
০১. আমেরিকান ব্রডকাস্টিং কোম্পানী (এ.বি.সি), মালিক-লেওনার্ড জনসন
০২. ন্যাশনাল ব্রডকাস্টিং কোম্পানী (এনবিসি), মালিক-আলফার্ড স্যালোরম্যান
০৩. ক্যাবল নিউজ নেটওয়ার্ক (সি.এন.এন), মালিক-নিউ হাউজ ফ্যামিলী
০৪. কলম্বো ব্রডকাস্টিং কোম্পানী (সি.বি.সি), মালিক-উইলিয়াম বেইলী
০৫. পাবলিক ব্রডকাস্টিং সার্ভিস (পি.বি.এস) মালিক-এক প্রভাবশালী ইহুদী
শেষোক্ত কোম্পানীটি শিক্ষা ও সভ্যতা-সংস্কৃতির বিকাশের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মার্কিন শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এটির পৃষ্ঠপোষকতা করে। এসব টেলিভিশন কোম্পানী দিনরাত তাদের অনুষ্ঠান সম্প্রচারের মাধ্যমে যেভাবে জনমতের ওপর প্রভাব সৃষ্টি করে, তার অনুমান এভাবে করা যায়, এ.বি.এস. কোম্পানী দৈনিক ত্রিশ ঘন্টা, সি.বি.এস. কোম্পানী দৈনিক পঁচিশ ঘন্টা, এন.বি.সি. কোম্পানী দৈনিক বিশ ঘন্টা এবং সি.এন.এন. দৈনিক চব্বিশ ঘন্টা অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে।

ঘ. রেডিও স্টেশন : টিভি কোম্পানীগুলো যেভাবে নিরবচ্ছিন্নভাবে তাদের অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করে এবং জনগণের ওপর প্রভাব সৃষ্টি করে, ঠিক সেভাবে না হলেও রেডিও স্টেশনগুলো এসব টিভি কোম্পানীর তত্ত্বাবধানে হাজার হাজার চ্যানেলের মাধ্যমে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের শক্তিশালী হৃদয়গ্রাহী অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করে।

ঙ. ডাক বিভাগ: মিডিয়ার অন্যান্য বিভাগের মতো ডাক বিভাগও অত্যন্ত সক্রিয়। এর মাধ্যমে ধারাবাহিক প্রচার-প্রোপাগান্ডা চালানো হয়। এ ময়দানে ইহুদী লবি অত্যন্ত সক্রিয় ও কর্মতৎপর। কোনো বিশেষ বিষয় কিংবা বিশেষ শিল্পের বিকাশ ঘটানো, নির্বাচনের সময় জনমত গঠন এবং কোনো বিশেষ ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো বিশেষ বিষয় ও দৃষ্টিভঙ্গির সমর্থন আদায়ের জন্য ডাক বিভাগের মাধ্যমে কার্ড ও ফরম ফোল্ডার পাঠানো হয়। এভাবে সরাসরি জীবনের বিভিন্ন ময়দানের সাথে সম্পৃক্তদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে উদ্দেশ্য অর্জনে ডাক বিভাগকে ব্যবহার করা হয়।

ইরানী বিপ্লবের পর থেকে পশ্চিমা মিডিয়া ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহ সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে ধারাবাহিক এই ধারণা দিয়ে যাচ্ছে, ইসলাম কট্টর পন্থার প্রসার করে। তারা পশ্চিমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ বিপ্লবের জন্য কঠোরতা এবং শক্তির আশ্রয় নেয়।

📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 কোম্পানীর বুলেটিন ও প্রচারপত্র

📄 কোম্পানীর বুলেটিন ও প্রচারপত্র


কোম্পানীর বুলেটিন ও প্রচারপত্রগুলোতে কর্মসংস্থান, শূন্যপদ এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন অর্থনৈতিক তথ্যাদি থাকে।

প্রোপাগান্ডা ও বিজ্ঞাপন: কোনো পত্রিকা কিংবা টিভি কোম্পানীর সফলতা ব্যর্থতা নির্ভর করে তার বিজ্ঞাপনের ওপর। সে কতটি বিজ্ঞাপন পায় এবং তার বিজ্ঞাপনে লোক কি পরিমাণ প্রভাবিত হয়। মার্কিন টিভি ও পত্রিকাগুলো কোটি কোটি ডলার শুধু বিজ্ঞাপন থেকেই উপার্জন করে। শুধু ১৯৮২ সালেই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা এবং টিভি ও রেডিওতে ৫৫ কোটি ডলারের বিজ্ঞাপন প্রকাশ পেয়েছিল। আর আজ প্রয়োজনের পরিধি অনেক বিস্তৃত। তাহলে এখন প্রতি বছর কি পরিমাণ অর্থমূল্যের বিজ্ঞাপন পত্র-পত্রিকা ও রেডিও-টিভিতে প্রকাশ পায়।

📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 প্রসিদ্ধ মার্কিন পত্রিকাসমূহের প্রচার সংখ্যা

📄 প্রসিদ্ধ মার্কিন পত্রিকাসমূহের প্রচার সংখ্যা


০১. দৈনিক ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল (নিউইয়র্ক), প্রচার সংখ্যা-৭,৭৫,০৮৬।
০২. দৈনিক নিউইয়র্ক ডেইলী নিউজ (নিউইয়র্ক), প্রচার সংখ্যা-৭,৮১,৭৯৬।
০৩. দৈনিক লস এঞ্জেলেস টাইমস (লস এঞ্জেলেস), প্রচার সংখ্যা-১১,৬৪,৩৮৮।
০৪. দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস (নিউইয়র্ক), প্রচার সংখ্যা-১২,০১,৯৭৭।
০৫. দৈনিক শিকাগো ট্রাইবন (শিকাগো), প্রচার সংখ্যা-৭,৩৩,৭৭৫।
০৬. দৈনিক নিউইয়র্ক পোস্ট (নিউইয়র্ক), প্রচার সংখ্যা-৪,৭০,৯৮৭।
০৭. দৈনিক শিকাগো সান টাইমস (শিকাগো), প্রচার সংখ্যা-৫,৩০,৮৫৬।
০৮. দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট (ওয়াশিংটন), প্রচার সংখ্যা-৮,৪৬,৬৩৫।
০৯. দৈনিক বোস্টন গ্লোব (বোস্টন), প্রচার সংখ্যা-৫,০৫,৭৪৪।
১০. মাসিক রিডার্স ডাইজেস্ট, প্রচার সংখ্যা-১,৬২,৬৯,৬৩৬।
১১. মাসিক ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, প্রচার সংখ্যা-৯৭,৬৩,৪০৬।
১২. সাপ্তাহিক টাইম, প্রচার সংখ্যা ৪০,৭৩,৫৩০।
১৩. সাপ্তাহিক নিউজউইক, প্রচার সংখ্যা-৩০,২৪,৭৭৭।
১৪. সাপ্তাহিক ইউএস নিউজ এন্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট, প্রচার সংখ্যা-২২,৩৬,০০৯।

📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 মার্কিন মিডিয়ার ওপর ইহুদীদের আধিপত্যের দাস্তান

📄 মার্কিন মিডিয়ার ওপর ইহুদীদের আধিপত্যের দাস্তান


আমেরিকা মহাদেশের ওপর ইহুদীদের প্রভাব-প্রতিপত্তির বিস্তারিত বিবরণ প্রসিদ্ধ মার্কিন লেখক হেনরী ফোর্ড স্বরচিত 'ইহুদীদের থেকে মানবতার শংকা' নামক গ্রন্থে তুলে ধরেছেন। এই হেনরী ফোর্ড সে ব্যক্তি, যিনি ব্যক্তিগত পরিশ্রম ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে মোটর তৈরি শিল্পের বিকাশ ঘটান। তার নির্মিত ফোর্ড মোটর গাড়ী গুণগত মানসম্পন্ন হওয়ার কারণে গোটা বিশ্বে অসাধারণ জনপ্রিয়তা ও প্রসিদ্ধি লাভ করে। হেনরী ফোর্ড যখন তার কোম্পানীর উন্নতি, অগ্রগতি ও বিকশিত হওয়ার রাস্তায় পদে পদে ইহুদীদের প্রভাব-প্রতিপত্তি দ্বারা বাধাগ্রস্ত ও ধোকা-প্রতারণার সম্মুখীন হতে লাগলেন, তখন অনেকটা বাধ্য হয়ে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ স্কলার ও গবেষকদের সহায়তায় আমেরিকা মহাদেশে ইহুদীদের অসাধারণ প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণ-উপকরণ, অর্থনৈতিক পলিসি এবং অ-ইহুদীদের সাথে তাদের আচরণ ও কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত একটি প্রতিবেদন তৈরি করেন। এ কাজের জন্য তিনি সে সময় বিশ লক্ষ ডলার ব্যয় করেন। প্রতিবেদন তৈরি হওয়ার পর ফোর্ডের কোম্পানীর মুখপত্র 'ডেরবন ইন্ডিপেন্ডেন্ডে' যখনই প্রথম কিস্তি প্রকাশিত হয়, সাথে সাথে ইহুদীদের মধ্যে হৈ চৈ শুরু হয়ে যায়। চতুর্দিক থেকে ফোর্ডের ওপর চাপ সৃষ্টি হতে থাকে। ইহুদীদের প্রভাবাধীন সংবাদপত্রের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তুফান সৃষ্টি করা হয়, এমনকি হত্যার হুমকি পর্যন্ত দেয়া হয়। বাধ্য হয়ে ফোর্ড গবেষণামূলক এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা বন্ধ করে দেন, কিন্তু পরে সেই প্রতিবেদন গ্রন্থাকারে বাজারে আসে। এ গ্রন্থ প্রকাশ হওয়ার সাথে সাথে ইহুদীরা সবগুলো কপি ক্রয় করে বিনষ্ট করে ফেলে। গ্রন্থের যেসব কপি বিভিন্ন লাইব্রেরীতে ছিল, তারা সেগুলোও অতি চতুরতার সাথে চুরি করে বিনষ্ট করে ফেলে, কিন্তু প্রসিদ্ধ মার্কিন সাংবাদিক ও ফোর্ডের ঘনিষ্ঠ বন্ধু জেরাল্ড কে স্মিথ-এর কাছে এ গ্রন্থের দুটি কপি সংরক্ষিত ছিল, যা ফোর্ড সৌজন্য হিসেবে তাকে দিয়েছিলেন। ফোর্ড তাকে ওসিয়ত করেছিলেন, আমার মৃত্যুর পর গ্রন্থটি অবশ্যই প্রকাশিত হওয়া উচিত, যাতে আমেরিকা ও বিশ্ব মানবতা ইহুদীদের ধ্বংসাত্মক ষড়যন্ত্র থেকে সতর্ক হতে পারে। এই গ্রন্থ পরবর্তীতে লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয়। এর আরবী অনুবাদ 'আল ইহুদী আল আলমী' নামে বৈরুত থেকে ইতোমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। গ্রন্থের ষোলটি কেন্দ্রীয় শিরোনাম থেকে নির্বাচিত কিছু শিরোনাম নিম্নে তুলে ধরা হলো।

০১. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদীদের আগমনের পটভূমি ০২. ইহুদীদের প্রভাব-প্রতিপত্তির গোপন অধ্যায় ০৩. ইহুদীরা মজলুম, না জালেম, না স্বৈরাচারী? ০৪. ইহুদীরাও কি একটি জাতি বা গোষ্ঠী? ০৫. জায়নবাদী চিন্তাবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের শিক্ষা-দীক্ষার পর্যালোচনা ০৬. ইহুদীরা তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি কিভাবে প্রয়োগ করে? ০৭. মার্কিন রাজনীতিতে ইহুদীদের কর্তৃত্ব ০৮. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীতের সাথে ইহুদী সঙ্গীত ০৯. মার্কিন সমাজে মদ, জুয়া ও চারিত্রিক অধঃপতনের পৃষ্ঠপোষক ইহুদীরা ১০. ধন-সম্পদের ওপর ইহুদীদের কর্তৃত্ব মানবতার জন্য সবচে' বড় বিপদ ১১. মার্কিন মিডিয়ার ওপর ইহুদীদের কর্তৃত্ব ও আধিপত্য

ফোর্ড মার্কিন সমাজের ওপর ইহুদীদের অসাধারণ থাবা এবং তাদের ব্যাপক প্রভাব-প্রতিপত্তির বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেন, মার্কিন সমাজের যেখানেই নৈতিক অধঃপতন ও ধ্বংস বিশৃংখলা পাওয়া যাবে, তার অন্তরালে ইহুদীদের হাত রয়েছে। মদ, জুয়া, বদকাজ, ঘুষ, যৌন ও আর্থিক ক্রাইম, হত্যা, লুণ্ঠন, সন্ত্রাস, ডাকাতি, রাহাজানি, জাতি-গোষ্ঠীসমূহের মাঝে রক্তপাত সৃষ্টি, লড়াই যুদ্ধ বাধানো, বিধ্বংসী সমরাস্ত্র নির্মাণ, মোটকথা সকল অনৈতিক ও মানবতাবিরোধী কর্মকান্ডে ইহুদীদের অংশ গ্রহণ শতকরা আশি থেকে নব্বই ভাগ। ফোর্ড মার্কিন চলচ্চিত্র ও সংবাদপত্র শিল্পের পর্যালোচনা করতে গিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে লেখেন, ১৮৮৫ সালের পূর্বে এ ময়দানের সাথে ইহুদীদের দূরতমও কোনো সম্পর্ক ছিল না, কিন্তু ইহুদীদের আগমণের সাথে সাথেই চলচ্চিত্র, মিডিয়া ও ব্যবসায়-বাণিজ্যের ওপর তাদের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা হয়ে যায়। তারা অর্থের সাহায্যে সকল ময়দানে আধিপত্য বিস্তার করে ফেলে। ১৮৮৫ সালের পূর্বে মার্কিন সমাজে নগ্নতা, অশ্লীলতা ও বদকাজের অস্তিত্ব ছিল অতি নগণ্য। কিন্তু ইহুদী জাতি নাটক, গ্রামোফোন, টেপ রেকর্ডার এবং পরবর্তীতে চলচ্চিত্র ও সংবাদপত্র শিল্পের মাধ্যমে মার্কিন সমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ১৮৯৪ সালে যখন এক সমালোচক স্বীয় পত্রিকায় চলচ্চিত্র শিল্পের ওপর ইহুদীদের একচেটিয়া ইজারাদারী এবং নাটক ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নৈতিকতার ধ্বসে অনৈতিকতার বিস্তার ও বিকাশ ঘটানোর ইহুদীবাদী ষড়যন্ত্রের মুখোশ উন্মোচন করেন, তখন ইহুদীরা উত্তেজিত হয়ে তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে। এই ঘটনায় ইহুদী পুঁজিপতিরা উক্ত পত্রিকায় তাদের বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত পত্রিকা মালিক সেই সমালোচককে চাকরি থেকে বিদায় করে ইহুদীদের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এরপরই ইহুদীরা আবার সংশ্লিষ্ট পত্রিকাটিতে তাদের বিজ্ঞাপন চালু করে।

একই অবস্থা হয়েছিল সে সময়ের প্রসিদ্ধ দৈনিক নিউইয়র্ক হেরাল্ডের। হেরাল্ডের সম্পাদক জেমস গর্ডন প্রাণপন চেষ্টায় তার পত্রিকাটিকে ইহুদীদের প্রভাব-প্রতিপত্তি ও চাপ থেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সুচতুর প্রতারক ইহুদীরা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তার ও তার পত্রিকার মুখ বন্ধ করে দেয়। মালিকের ইন্তেকালের পর পত্রিকাটি ইহুদীদের প্রতারণা ও ষড়যন্ত্রের সামনে টিকতে না পেরে বন্ধ হয়ে যায়। পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পেছনে একটি মর্মান্তিক কাহিনী রয়েছে।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ হলো, মি. জেমস গর্ডন ইহুদীদের প্রতি বিশেষ কোনো বিদ্বেষ শত্রুতা পোষণ করতেন না। সাধারণ সংবাদপত্রের মতো ইহুদীরা এই পত্রিকাতেও বিজ্ঞাপন দিত। আর একটি পত্রিকার মূল আমদানীই হলো বিজ্ঞাপন। একবার এক প্রভাবশালী ইহুদী পুঁজিপতি অনৈতিক কর্ম ও হত্যাকা েজড়িয়ে পড়ে। অপরাধীর নাম উল্লেখ করে এই ঘটনার সংবাদ যখন পত্রিকার রিপোর্টার পত্রিকা সম্পাদকের কাছে পেশ করেন, তখন সম্পাদক পত্রিকার মালিককে জিজ্ঞেস করলেন, অপরাধীর নাম উল্লেখ করে পত্রিকায় সংবাদ ছাপা হবে কি না? ঘটনাটি ছাপা না হতেই সংবাদ বিদ্যুৎ গতিতে ইহুদী লবিতে ছড়িয়ে পড়ে। নিউইয়র্কের ইহুদীরা জানতে পারল, সংবাদটি হেরাল্ড পত্রিকায় আগামীকাল ছাপা হবে। আর কি! চতুর্দিক থেকে সম্পাদকের নিকট টেলিফোন আসা শুরু হলো। ইহুদীদের একটি প্রতিনিধি দলও পত্রিকা অফিসে উপস্থিত হয়, যাতে সংবাদটি পত্রিকায় ছাপা না হয়, কিন্তু জেমস তাদের সামনে মাথানত করতে অস্বীকার করেন। সংবাদ ছাপা হলো। দ্বিতীয় দিন থেকে ইহুদীরা লক্ষ লক্ষ ডলারের বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেয়। মি. জেমস হিম্মত হারালেন না। তিনি অ-ইহুদী পুঁজিপতি ও শিল্পপতিদের সাথে যোগাযোগ করে পাঁচ বছর পর্যন্ত তাদের বিজ্ঞাপন জেমসের পত্রিকায় ছাপা হবে মর্মে একা চুক্তিতে উপনীত হন। আমেরিকার অ-ইহুদীরা এ চুক্তিতে বিরাট খুশি হল। কারণ ইহুদী পুঁজিপতিদের মোকাবেলায় কোনো পত্রিকা তাদের বিজ্ঞাপন তেমন একটা গুরুত্ব দিত না। এ চুক্তির ফলে ইহুদী লবিতে হৈ চৈ পড়ে গেল। ইহুদীরা জোর প্রচেষ্টা চালাল যেন জেমস এই চুক্তি বাতিল করে তাদের থেকে বিজ্ঞাপনের দ্বিগুণ মূল্য নেয়, কিন্তু জেমস এত লোভনীয় অফার সত্ত্বেও তাদের কাছে মাথানত করলেন না। যদিও জেমস এই লড়াইয়ে বিজয় লাভ করেছিলেন, কিন্তু কয়েক বছর পর আমেরিকার এক পুঁজিপতি ইহুদী এ্যাডলফ উচ নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকাটি ক্রয় করে নিয়ে পানির মতো পুঁজি ঢেলে পত্রিকাটিকে একটি আন্তর্জাতিক পত্রিকায় রূপান্তরিত করেন। যার মৌলিক উদ্দেশ্য ছিল, যে কোনো মূল্যে ইহুদী স্বার্থ ও উদ্দেশ্যের সেবা করা। ১৯১৯ সালে জেমস ইন্তেকাল করেন। তার ইন্তেকালের পর ইহুদীরা তার পত্রিকাটি ক্রয় করার চেষ্টা করে। এজন্য তারা আবার বিজ্ঞাপন দেয়া বন্ধ করে দেয়, কিন্তু জেমসের ছেলেরা ইহুদীদের কাছে বিক্রয় করার পরিবর্তে পত্রিকাটি বন্ধ করে দেয়াই পছন্দ করলেন। এভাবে টাইমস হেরাল্ড বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পরই ইহুদীরা মিডিয়ার ওপর তাদের মজবুত থাবা প্রতিষ্ঠা করে। তাদের চিন্তা ছিল মিডিয়ার ওপর আধিপত্য বিস্তার করেই পুরো বিশ্বে শাসন ক্ষমতা পরিচালনা সম্ভব।

আমাদের সামনে মার্কিন চলচ্চিত্র সংস্থা, মার্কিন সংবাদ সংস্থা, রেডিও স্টেশন, টিভি কোম্পানী, বিজ্ঞাপনী এজেন্সী, প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান, সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিন সম্পর্কে যে রিপোর্ট রয়েছে তা থেকে জানা যায়, এসব সংস্থার নব্বই শতাংশের ওপর ইহুদীদের একচেটিয়া কর্তৃত্ব রয়েছে। মিডিয়াতে পুঁজি বিনিয়োগ থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ পর্যন্ত সর্বদিক দিয়ে তাদের আধিপত্য রয়েছে। হলিউড গোটা দুনিয়ায় চলচ্চিত্র নির্মাণের সবচে' বড় প্রতিষ্ঠান। পুরো বিশ্বে এখান থেকেই চলচ্চিত্র রফতানী হয়। এসব চলচ্চিত্রের কথা বাদ দিয়ে তাবৎ সিনেমা কোম্পানীর মালিক ইহুদীরা। উদাহরণস্বরূপ নিম্নবর্ণিত সিনেমা কোম্পানীগুলোর মালিক ইহুদী।

০১. ফোকাস কোম্পানী, মালিক-উইলিয়াম ফোকাস।

০২. গোল্ডেন কোম্পানী, মালিক-স্যামুয়েল গোল্ডেন।

০৩. মেট্রো কোম্পানী, মালিক-মুইস মাইবার।

০৪. ওয়ার্নার ব্রাদার্স এন্ড কোম্পানী, মালিক-হারনী ওয়ার্নার।

০৫. পেরামাউন্ট কোম্পানী, মালিক-বড কিন্স

ইহুদীরা এসব কোম্পানীর শুধু মালিকই নয়; বরং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, অভিনেতা-অভিনেত্রী, গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীতশিল্পী, ক্যামেরাম্যান ও পরিচালক সকলেই ইহুদী। ইহুদীদের এই একচ্ছত্র ইজারাদারীর প্রতিবাদ করতে গিয়ে ১৯৩৮ সালে ইন্ডিপেন্ডেন্ড ক্রিশ্চিয়ান নিউজ পত্রিকার সম্পাদক লেখেন, কারো অংশীদারিত্ব ছাড়াই মার্কিন চলচ্চিত্র শিল্পে একচেটিয়া মালিকানা ইহুদীদের। এই শিল্পে কর্মরত সকলেই হয় ইহুদী, না হয় ইহুদী ফ্যাক্টরীতে তৈরি। এসব ইহুদী মালিকানাধীন চলচ্চিত্র কোম্পানীর চলচ্চিত্র শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়; বরং গোটা বিশ্বেই সাপ্লাই হয়।

ফোর্ড ইহুদীদের অধীনে নির্মিত চলচ্চিত্রের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে লেখেন, চলচ্চিত্রে অভিনয় শিল্প এবং সমাজ জীবনের বিভিন্ন সমস্যা সংকটের চিত্রায়নের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই; বরং এসব সিনেমা দ্বারা তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য, ষোল থেকে আঠার বছর বয়সী যুবক-যুবতীদের মন-মস্তিষ্ক কিভাবে বরবাদ করা যায়। এ জন্য তারা যৌন চেতনার বিকাশ ও মার্কিন সমাজের চারিত্রিক মূল্যবোধ ধ্বংসের পেছনে পূর্ণ শক্তি ব্যয় করে। ফোর্ড লেখেন, তাদের মৌলিক উদ্দেশ্য অধিকতর আর্থিক মুনাফা অর্জন করা, এর পাশাপাশি অ-ইহুদীদের ধ্বংস ও বরবাদীর উপকরণ সরবরাহ করা। ফোর্ড আরো লেখেন, ইহুদী প্রতারকরা তাদের শিল্পকে বিকশিত করার জন্য সিনেমার অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ইচ্ছামতো ব্যবহার করে। ইহুদীদের চালবাজি হলো, চলচ্চিত্র নির্মাণের পূর্বে তারা প্রসাধনী ও ফ্যাশন সামগ্রী তৈরি করে এগুলো সমাজের বুকে ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা তৈরি করে, যাতে সিনেমার দর্শকরা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ফ্যাশন ও জীবনপদ্ধতি দেখে মার্কেট থেকে সেসব প্রসাধনী ফ্যাশন সামগ্রী ক্রয় করে। এভাবেই পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক শুধু মার্কিন সমাজই নয়; বরং গোটা মানব সমাজই ইহুদীদের ইশারা-ইঙ্গিতে চলতে বাধ্য হয়ে পড়ে। ফলে তারা ইহুদী অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ফ্যাশন ও জীবনপদ্ধতি গ্রহণ করাই সময়ের সবচে' বড় দাবী ও চাহিদা মনে করে।

মার্কিন চলচ্চিত্রে কর্মরত প্রসিদ্ধ ইহুদী অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কয়েকজনের নাম এখানে প্রদত্ত হলো। অভিনেতাদের মধ্যে মেইল ব্রুকস, উডলি এ্যালেন, বব হোব, জেরলী মোকস, ফ্রাঙ্ক সিনাট্রা, বেইলী ওয়েল্ড, নীল সাইমন, কেরোনিয়ার, লেকি রোনি, জ্যাক লেমন, ক্রেয়ার্ক ডগলাসি, টনি কেরাটসি, গেরলি গ্রান্ট, জ্যাক নিকলস, বিন আযের, ওয়াল্টার মেথার, জর্জ সেগাল, পেয়ার্ট রনিওলাড, জেনহো ক্যাম্পন, জেমস কেইন, অস্টন, হোফম্যান, রিচার্ড হ্যারেস, রিচার্ড বেনজা এবং উডলি স্টাইগার প্রমুখ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আর অভিনেত্রীদের মধ্যে এলিজাবেথ টেইলর, আন বেংকার অফ্ট, বারবারা স্টাইসেন্ড, মেরি মেকার, সুজান আম্বাক, সেইলি কিলারম্যান, উডমেন কেন্টন, গ্রান্ডম্যান চ্যাপলেন প্রমুখ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও আরো কমপক্ষে পঞ্চাশের ঊর্ধ্বে ইহুদী অভিনেতা-অভিনেত্রীর নাম চলচ্চিত্র জগতে প্রসিদ্ধ আছে।৬ নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণের পর যখন টেলিভিশন ও তার কোম্পানী অস্তিত্ব লাভ করল, তখন সেখানেও ইহুদী বেনিয়ারা সবচে' অগ্রগামী হয়ে রইল। বর্তমানে আমেরিকার সব টিভি কোম্পানীর ওপর ইহুদীদের একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে। গোটা আমেরিকায় সাতশ' থেকে এগারশ' পর্যন্ত টিভি চ্যানেল রয়েছে, সবই এবিসি, সিবিএস ও সিএনএন এর অধীন। এসব টিভি কোম্পানীর সবগুলোর মালিকই ইহুদী। যেমন- এবিসি টিভি চ্যানেলের মালিক লিওনার্ড জনসন (ইহুদী), সিবিএস-এর মালিক ইউলিয়া বেলে (ইহুদী), এনবিসির মালিক আলফ্রেড স্যালোরম্যান (ইহুদী), সিএনএন-এর মালিক নিউ হাউস ফ্যামেলী (ইহুদী)।

এসব টিভি কোম্পানী ছাড়াও টিভি সিরিজ নির্মাণ করে সাপ্লাইকারী দু'টি মার্কিন বড় কোম্পানী ক্যানন ও এটিভি'র মালিকও ইহুদী পুঁজিপতিরা। যারা টিভি সিরিজ তৈরি করে গোটা বিশ্বে সাপ্লাই করে থাকে। শুধু মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেই এই কোম্পানী দু'টির বিয়াল্লিশটি ব্রাঞ্চ রয়েছে। এসব ব্রাঞ্চের মাধ্যমে কোম্পানী দু'টি ব্লু ফিল্ম তৈরি করে প্রাইভেট ও সাধারণ সিনেমা হলগুলোতে সরবরাহ করে। যেগুলো আমেরিকা, লন্ডন ও প্যারিসে তৈরি করা হয়।

রেন্ডাম হাউস একটি বিশাল প্রকাশনা কোম্পানী। তার প্রকাশনার গন্ডি শুধু আমেরিকাতেই নয়; বরং তিনটি মহাদেশেই ছড়িয়ে আছে। এমন কোনো গ্রন্থ যা ইহুদীদের বিরুদ্ধে লেখা হয়েছে, তা আমেরিকা, বৃটেন ও ফ্রান্স থেকে ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকাশিত হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত রেন্ডাম হাউসের অধীনে কাজ করে-কোনো প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অনুমতি না দেবে। প্রসিদ্ধ ফরাসী চিন্তাবিদ জারুদীর বিভিন্ন গ্রন্থ তার ইসলাম গ্রহণের পূর্বে প্রকাশকরা ছাপানোর জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতো, কিন্তু ইসলাম গ্রহণ করার পর যখন তিনি ইহুদীবাদের বিরুদ্ধে গ্রন্থ লেখা শুরু করলেন, তখন অ-ইহুদী প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত তার গ্রন্থ ছাপতে রাজি হয়নি, এমনকি জারুদীর প্রকাশিত অন্যান্য গ্রন্থও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের লাইব্রেরীগুলো তাদের প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করতে অস্বীকার করে। রেন্ডাম হাউস ছাড়াও ইহুদী মালিকানাধীন আরো দশটি বড় বড় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও এডভার্টাইজিং কোম্পানী বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, রেডিও, টিভি ও সিনেমায় বিজ্ঞাপন তৈরি ও তা প্রচারের কাজ করে। এসব বিজ্ঞাপনের নমুনা আমরা সামনে আলোচনা করব। মার্কিন সংবাদ মাধ্যমের ওপর ইহুদী আধিপত্যের অনুমান আমরা এভাবে করতে পারি, সাম্প্রতিক তথ্যমতে শুধু মার্কিন প্রসিদ্ধ কোম্পানী নিউ হাউস গ্রুপই ৪৮টি মার্কিন দৈনিক ও ২০টি প্রসিদ্ধ আন্তর্জাতিক সাপ্তাহিকের মালিক। এছাড়াও সিএনএন-এর মতো প্রসিদ্ধ আন্তর্জাতিক টিভি কোম্পানী এবং ১১০টি রেডিও স্টেশনের ওপর নিউ হাউস পরিবারের ইজারাদারী রয়েছে। প্রসিদ্ধ পত্রিকাসমূহের মধ্যে নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউইয়র্ক পোস্ট, ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল, নিউজউইক, টাইম, বিজনেসউইক, শিকাগো টাইমস, শিকাগো সান টাইমস, নিউইয়র্ক ম্যাগাজিন এবং রিডার ডাইজেস্টের ওপর রবার্ট মারদুখ, উইলিয়াম হেরাস্ট, নিউ হাউস, এডলফ উচ এবং থমসন গ্রুপের মতো ইহুদী পুঁজিপতিদের আধিপত্য রয়েছে। এসব পত্রিকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৯০% ইহুদী। এসব পত্রিকা বিলি করার জন্য গোটা বিশ্বেই ১৭৪৫টি এজেন্সী ও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তার সবগুলোর ওপর ইহুদীদের কবজা রয়েছে। সামগ্রিকভাবে গোটা আমেরিকায় ১৪০টি টিভি চ্যানেল ইহুদী মালিকানায় রয়েছে। অপরদিকে ৬৫ মিলিয়নের ঊর্ধ্বে যেসব মার্কিন দৈনিক বিলি হয়, তার ৬২ মিলিয়নের মালিক ইহুদীরা। অথচ আমেরিকায় ইহুদীদের জনসংখ্যার হার শুধু ২.৯ শতাংশ।

টিকাঃ
৬. প্রসিদ্ধ মার্কিন পত্রিকা ইন্ডিপেন্ডেন্ড ক্রিশ্চিয়ান নিউজ ১৯৩০ সালে মার্কিন সিনেমা জগতে ইহুদীদের আধিপত্য সম্পর্কে পর্যালোচনা করতে গিয়ে লেখেছে, হলিউড নতুন যুগের 'সাদৃম'। সাদৃম ওই অঞ্চল, প্রকৃতি বিরোধী অনৈতিক কর্মকান্ডের কারণে যা উল্টে দেয়া হয়েছিল এবং উল্টে দেয়ার পূর্বে সেখানে পাথর বৃষ্টি বর্ষণ করা হয়েছিল। হলিউড সকল অন্যায়, অনৈতিকতা ও অকল্যাণের কেন্দ্র। গোটা বিশ্বে এখান থেকেই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অশ্লীলতা, নির্লজ্জতা ও অপরাধমূলক কর্মকা সুন্দর মোড়কে সুন্দর সুন্দর পরিভাষায় প্রসার করা হচ্ছে। ফলে পুরুষদের পুরুষত্ব ও নারীদের নারীত্ব বিদায় নিচ্ছে। অপরাধী ও বদকার তৈরির এ কারখানা অতি দ্রুত বন্ধ করে দেয়া উচিত।
৭. টেড টার্নার নিউ হাউস গ্রুপের পক্ষ থেকে ১৯৮০ সালে বিশ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে সিএনএন প্রতিষ্ঠা করেন। পাঁচ বছর কঠিন বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতার পরই তার মুনাফা আসা শুরু হয়। বর্তমানে সিএনএন-এর মার্কিন যুক্তরাষ্টে ২৭টি এবং বহির্বিশ্বে ১৮টি সংবাদ কেন্দ্র রয়েছে। তার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংখ্যা ১৮০০। গোটা বিশ্বের ১৪২টি দেশের ১৮ মিলিয়ন পরিবার ২৪ ঘন্টা সিএনএন-এর অনুষ্ঠানামালা উপভোগ করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00