📄 মার্কিন দৈনিক পত্র-পত্রিকা
মার্কিন দৈনিক পত্র-পত্রিকা দুই ধরনের।
এক. ওই সব দৈনিক, যেগুলো সেসব শহর ও স্টেটের সমস্যা সংকটের প্রতিনিধিত্ব করে, যেসব শহর ও স্টেট থেকে তা প্রকাশিত হয়।
দুই. ওই সব দৈনিক, যেগুলো জাতীয় সমস্যার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সমস্যা সংকট সম্পর্কেও সংবাদ, নিবন্ধ এবং সম্পাদকীয় লেখে।
সর্বসাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১ হাজার ৬ শ' ৭৬টি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। বিশেষ ম্যাগাজিনের কারণে রবিবার দিন বিভিন্ন পত্রিকা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেশি বিলি হয়।
আমেরিকার অডিট ব্যুরো অফ সার্কুলেশনের সাম্প্রতিক রিপোর্ট মতে, গোটা আমেরিকায় পঞ্চাশটি সাপ্তাহিক পত্রিকা এমন রয়েছে, যেগুলো বিপুল পরিমাণে বিলি হয়।
যেসব মার্কিন শহর থেকে এসব দৈনিক প্রকাশিত হয়, সেসব শহরের নাম- ডেট্রয়েট, সানফ্রান্সিসকো, মায়ামি, বাল্টিমোর, ফিলাডেলফিয়া, হোস্টন, কিউল্যান্ড, কানসাস সিটি, ডিনফর, মিলওয়াকি, লং আইল্যান্ড, ভিনেকসি নিউ আয়ারল্যান্ড ছাড়াও নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, লস এঞ্জেলেস, শিকাগো এবং বোস্টন সেসব কেন্দ্রীয় শহর, যেখানে বিপুলসংখ্যক ইহুদী বসবাস করে। এসব শহরেই খৃস্টানদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তাবলিগী সংস্থা ও ইহুদীদের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান রয়েছে। নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে রয়েছে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান। এ শহরগুলোতেই সরকারী ভি.আই.পি লোকেরা বসবাস করেন, যার কারণে পত্রিকার সাংবাদিক ও প্রতিনিধিদের পক্ষে সরকারী অফিসার, মার্কিন সিনেটের সদস্য, পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীলদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা খুবই সহজ হয়। খুব সহজেই এখানে বসে আমেরিকার আন্তর্জাতিক রাজনীতির গোপন-প্রকাশ্য সব কিছু জনসম্মুখে তুলে ধরা যায়।
বোস্টন শহর থেকে প্রকাশিত মার্কিন দৈনিক 'ক্রিশ্চিয়ান সায়েন্স মনিটর' এমন এক সংবাদপত্র, যা মার্কিন গির্জার তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত হয়। এ দৈনিকটি আরব বিশ্বের বিভিন্ন সমস্যা খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে এবং আরব বিশ্ব সম্পর্কে ভারসাম্যপূর্ণ অভিমত পোষণ করে। বেশির ভাগ সময় পত্রিকাটি ইসরাঈলী পলিসির সমলোচনা ও নিন্দা করে।
‘হেরাল্ড ট্রিউবন’ তৃতীয় দৈনিক সংবাদপত্র, যা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সমস্যা সংকট সম্পর্কে অত্যন্ত সুচিন্তিত অভিমত পোষণ করে। পত্রিকাটি মধ্যপন্থা ও ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি বিষয়ের বিশেষজ্ঞগণ এতে অত্যন্ত নিরপেক্ষতার সাথে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারেন। এ বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি পত্রিকাটি মার্কিন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল, রাষ্ট্রদূত ও বড় বড় শিল্পপতিদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রাখে। এ কারণে হেরাল্ড ট্রিউবনের সংবাদ, সম্পাদকীয়, উপসম্পাদকীয়, মন্তব্য, প্রবন্ধ-নিবন্ধকে অত্যন্ত সম্মান ও গুরুত্বের দৃষ্টিতে দেখা হয়। বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার আলোচনা আমরা শুরুতেই করেছি।
📄 মার্কিন সাপ্তাহিক, মাসিক ও ত্রৈমাসিক পত্র-পত্রিকা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত ম্যাগাজিন, সাপ্তাহিক, মাসিক, ত্রৈমাসিক ও ষান্মাষিক পত্র-পত্রিকাগুলোকে আমরা চার ভাগে বিভক্ত করতে পারি।
০১. সাধারণ রাজনৈতিক পত্র-পত্রিকা ও বিশ্লেষণমূলক ম্যাগাজিন।
০২. বিশেষ বিষয়ে জ্ঞান-গবেষণামূলক মাসিক, ত্রৈমাসিক ও ষান্মাষিক ম্যাগাজিন।
০৩. সামাজিক ও নারী বিষয়ক ম্যাগাজিন, আর্ট, লিটারেচার, ফিল্ম, যৌন বিষয়ক ম্যাগাজিন।
০৪. কৃষি, বিজ্ঞান, বাণিজ্য, অর্থনীতি, খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক পত্র-পত্রিকা।
দৈনিক পত্রিকার তুলনায় সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্র-পত্রিকাগুলোর ধরন-আকৃতি, গবেষণা-আলোচনা, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, প্রবন্ধ-নিবন্ধ এবং সাক্ষাতকার ও রিপোর্ট ইত্যাদি দিক দিয়ে ব্যতিক্রমী হয়ে থাকে। এখানে আমরা সাধারণ পত্র-পত্রিকা ও ম্যাগাজিনগুলোর আলোচনা করব না, যা কমবেশি সবখানেই পাওয়া যায়। এখানে শুধু সেসব পত্র-পত্রিকা ও ম্যাগাজিনেরই আলোচনা করব, যা তুলনামূলক ব্যতিক্রমী এবং যা শুধু মার্কিন জনমতই নয়; বরং আন্তর্জাতিক জনমতের ওপরেও প্রভাব সৃষ্টি করার ক্ষমতা রাখে, সেগুলো হল-
ক. এখানে সেসব পত্র-পত্রিকা ও ম্যাগাজিনের তালিকা পেশ করা হবে, যেগুলো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্ব ও তাৎপর্যের অধিকারী এবং বিপুল সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। সেসব পত্রিকা হল-:
০১. ওয়ার্ল্ড প্রেস রিভিউ (মাসিক) : এ পত্রিকাটি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচিত অংশ প্রকাশ করে।
০২. ওয়ার্ল্ড ভিউ (মাসিক): এ পত্রিকাটি প্রতিমাসে বিশেষজ্ঞদের দিয়ে তিন থেকে পাঁচটি জ্ঞান-গবেষণামূলক নিবন্ধ লেখায় এবং গোটা দুনিয়া হতে প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহের তালিকা প্রকাশ করে।
০৩. নিউ রিপাবলিক (সাপ্তাহিক) : এ পত্রিকাটি মার্কিন সমাজের বিভিন্ন সমস্যা সংকট নিয়ে লেখে এবং ইহুদীদের দৃষ্টিভঙ্গির ওকালতি করে।
০৪. এক্সিকিউটিভ ইন্টেলিজেন্স ভিউ (সাপ্তাহিক) : এ পত্রিকাটি বামপন্থীদের মুখপাত্র এবং ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর এক নম্বর শত্রু।
০৫. স্ট্র্যাটেজি উইক (সাপ্তাহিক): মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন সমস্যা-সংকট বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের প্রবন্ধ-নিবন্ধ প্রকাশ করে।
০৬. আমেরিকান জায়নিস্ট (দ্বিমাসিক): এ পত্রিকাটি মার্কিন জায়নবাদী সংগঠনের মুখপত্র।
০৭. দ্বি প্যালেন ট্রুথ (মাসিক) : এটি মার্কিন গির্জা সংগঠনের মুখপত্র। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সমস্যা-সংকট, বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের জনগণের বিভিন্ন সমস্যা সংকট নিয়ে প্রবন্ধ-নিবন্ধ প্রকাশ করে। প্রতিমাসে এ পত্রিকাটির পঞ্চাশ লাখ কপি ফ্রি বিতরণ করা হয়।
০৮. ওয়াশিংটন রিপোর্ট (মাসিক): এ পত্রিকাটি ১৯৮২ সাল থেকে প্রকাশিত হয়ে আসছে। সাধারণভাবে এটি মধ্যপ্রাচ্য ও আমেরিকার পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ মতামত ও গুরুত্বপূর্ণ দলীল-দস্তাবেজ প্রকাশ করে। আরব বিশ্বের বিভিন্ন সমস্যা সংকট নিয়েও পত্রিকাটি সহযোগিতা সহমর্মিতা পোষণ করে। এটি মার্কিন ওয়াকফের পক্ষ হতে প্রকাশিত হয়।
০৯. ওয়ার্ল্ড মনিটর (মাসিক) : এ দৈনিক ক্রিশ্চিয়ান সায়েন্স মনিটর পাবলিকেশন্সের পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়।
১০. মিডলইস্ট ইনসাইট (দ্বিমাসিক) : এ পত্রিকাটি মধ্যপ্রাচ্য, ইসলামী সংগঠন-সংস্থা, ইসলামী দল ও তাদের কর্মতৎপরতা সম্পর্কে মার্কিন দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী প্রবন্ধ-নিবন্ধ প্রকাশ করে। কখনো কখনো এতে আরবদের দৃষ্টিভঙ্গিও স্থান পায়, কিন্তু ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহ সম্পর্কে এ পত্রিকার মতামত ও মন্তব্যকে আমরা নিরপেক্ষ বলতে পারি না।
উল্লিখিত পত্র-পত্রিকা ও ম্যাগাজিন-সাময়িকী ছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরো হাজার হাজার পত্র-পত্রিকা বের হয়।
খ. এখানে সেসব গবেষণামূলক পত্র-পত্রিকা ও ম্যাগাজিনের তালিকা পেশ করা হবে, যেগুলো সংখ্যায় মাত্র কয়েকশ' থেকে বেশি প্রকাশিত হয় না, কিন্তু সেগুলো কোন গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান, মন্ত্রণালয়, বুদ্ধিজীবী ফোরাম এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়। সেসব সংস্থা সংগঠনের মধ্যে রয়েছে মিডলইস্ট ইনস্টিটিউট, ব্রোকিংস ইনস্টিটিউট, ডেল কার্নেগী ইনস্টিটিউট, হাওয়ার্ড ইনস্টিটিউট, ইউ.এস.পি ফাউন্ডেশন, স্টেনিভ ফোর্ড, জন হকিংস, জর্জ টাউন কলম্বো ইত্যাদি। এ ছাড়া কংগ্রেস, মার্কিন খৃস্টান ও ইহুদী সংগঠন এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এসব পত্র-পত্রিকা ও ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়। তন্মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাগাজিনের নাম নিম্নে প্রদত্ত হলো:
০১. ফরেন ব্রডকাস্টিং ইনফরমেশন সার্ভিস (ত্রৈমাসিক) : এটি দৈনন্দিন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংঘটিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী প্রকাশ করে।
০২. ফরেন পলিসি (ত্রৈমাসিক): ডেল কার্নেগী ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে এটি প্রকাশিত হয়। এতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় ও সমস্যা-সংকট নিয়ে বিশেষজ্ঞদের প্রবন্ধ নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়।
০৩. ফরেন এ্যাফেয়ার্স (বছরে পাঁচ বার প্রকাশিত হয়): মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে যোগাযোগ কমিটির পক্ষ থেকে এটি প্রকাশিত হয়। শীর্ষ রাষ্ট্রদূত ও সাবেক রাষ্ট্রদূতরা এতে কলাম লেখেন।
০৪. ডিফেন্স এন্ড ফরেন এ্যাফেয়ার্স (মাসিক): আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কৌশল বিষয়ক এ পত্রিকাটি কোয়েলী কোম্পানীর পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়।
০৫. মিডলইস্ট জার্নাল (ত্রৈমাসিক): ওয়াশিংটনের মিডলইস্ট ইনস্টিটিউট-এর পক্ষ থেকে এটি প্রকাশিত হয়। ইরানী বিপ্লবের পর ইসলামী আন্দোলন, দীনী সংগঠন, মিসর, পাকিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান, সিরিয়া ও তুরস্কে দীনের প্রভাব-প্রতিক্রিয়া ও ফলাফলের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ নিয়ে পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।
০৬. জার্নাল অফ সাউথ এশিয়া এন্ড মিডলইস্ট স্টাডিজ (ত্রৈমাসিক): মার্কিন- পাকিস্তান যোগাযোগ কমিটির পক্ষ থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
০৭. জার্নাল অফ রিলিজন্স (মাসিক): শিকাগো ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে নিরেট ধর্মীয় বিষয়ে এটি প্রকাশিত হয়। এতে অন্যান্য ধর্মের সাথে খৃস্টবাদের সম্পর্ক ও দৃষ্টিভঙ্গি আলোচিত হয়।
০৮. ক্রিশ্চিয়ান সায়েন্স জার্নাল (মাসিক): আমেরিকার সবচে' বড় খৃস্টান প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একমাত্র খৃস্টবাদ প্রচার-প্রসারের জন্য এটি প্রকাশিত হয়।
০৯. কমেন্টারী: আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সমস্যা সংকট সম্পর্কে আন্তর্জাতিক নেতৃবর্গ, সম্পাদক ও ভাষ্যকারদের কলাম নিয়ে এটি ইহুদীদের আন্তর্জাতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়।
১০. মুসলিম ওয়ার্ল্ড: ১৯১১ সাল থেকে এটি হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়ে আসছে। এতে ইসলামী আন্দোলন, সংগঠন, ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহ এবং অতীত ও বর্তমানে খৃস্টবাদের ভূমিকা ইত্যাদি বিষয়ে প্রবন্ধ-নিবন্ধ প্রকাশিত হয়।
এ ছাড়াও ইহুদী এবং খৃস্ট সংগঠনের পক্ষ থেকে শত শত ম্যাগাজিন ও পত্র- পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
গ. টেলিভিশন: জনমত গঠনে টেলিভিশনের ভূমিকা ও গুরুত্ব সর্বশীর্ষে। গোটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে টেলিভিশনের পাঁচটি বড় বড় কোম্পানী রয়েছে। যারা শত শত টিভি স্টেশন স্থাপন করে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তাদের অনুষ্ঠানমালা শুধু আমেরিকাতেই নয়; বরং সমগ্র বিশ্বে প্রচার করে। এসব টিভি কোম্পানীর মালিকও ইহুদী পুঁজিপতিরা।
পাঁচটি বড় বড় টেলিভিশন কোম্পানী হচ্ছে-:
০১. আমেরিকান ব্রডকাস্টিং কোম্পানী (এ.বি.সি), মালিক-লেওনার্ড জনসন
০২. ন্যাশনাল ব্রডকাস্টিং কোম্পানী (এনবিসি), মালিক-আলফার্ড স্যালোরম্যান
০৩. ক্যাবল নিউজ নেটওয়ার্ক (সি.এন.এন), মালিক-নিউ হাউজ ফ্যামিলী
০৪. কলম্বো ব্রডকাস্টিং কোম্পানী (সি.বি.সি), মালিক-উইলিয়াম বেইলী
০৫. পাবলিক ব্রডকাস্টিং সার্ভিস (পি.বি.এস) মালিক-এক প্রভাবশালী ইহুদী
শেষোক্ত কোম্পানীটি শিক্ষা ও সভ্যতা-সংস্কৃতির বিকাশের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মার্কিন শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এটির পৃষ্ঠপোষকতা করে। এসব টেলিভিশন কোম্পানী দিনরাত তাদের অনুষ্ঠান সম্প্রচারের মাধ্যমে যেভাবে জনমতের ওপর প্রভাব সৃষ্টি করে, তার অনুমান এভাবে করা যায়, এ.বি.এস. কোম্পানী দৈনিক ত্রিশ ঘন্টা, সি.বি.এস. কোম্পানী দৈনিক পঁচিশ ঘন্টা, এন.বি.সি. কোম্পানী দৈনিক বিশ ঘন্টা এবং সি.এন.এন. দৈনিক চব্বিশ ঘন্টা অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে।
ঘ. রেডিও স্টেশন : টিভি কোম্পানীগুলো যেভাবে নিরবচ্ছিন্নভাবে তাদের অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করে এবং জনগণের ওপর প্রভাব সৃষ্টি করে, ঠিক সেভাবে না হলেও রেডিও স্টেশনগুলো এসব টিভি কোম্পানীর তত্ত্বাবধানে হাজার হাজার চ্যানেলের মাধ্যমে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের শক্তিশালী হৃদয়গ্রাহী অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করে।
ঙ. ডাক বিভাগ: মিডিয়ার অন্যান্য বিভাগের মতো ডাক বিভাগও অত্যন্ত সক্রিয়। এর মাধ্যমে ধারাবাহিক প্রচার-প্রোপাগান্ডা চালানো হয়। এ ময়দানে ইহুদী লবি অত্যন্ত সক্রিয় ও কর্মতৎপর। কোনো বিশেষ বিষয় কিংবা বিশেষ শিল্পের বিকাশ ঘটানো, নির্বাচনের সময় জনমত গঠন এবং কোনো বিশেষ ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো বিশেষ বিষয় ও দৃষ্টিভঙ্গির সমর্থন আদায়ের জন্য ডাক বিভাগের মাধ্যমে কার্ড ও ফরম ফোল্ডার পাঠানো হয়। এভাবে সরাসরি জীবনের বিভিন্ন ময়দানের সাথে সম্পৃক্তদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে উদ্দেশ্য অর্জনে ডাক বিভাগকে ব্যবহার করা হয়।
ইরানী বিপ্লবের পর থেকে পশ্চিমা মিডিয়া ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহ সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে ধারাবাহিক এই ধারণা দিয়ে যাচ্ছে, ইসলাম কট্টর পন্থার প্রসার করে। তারা পশ্চিমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ বিপ্লবের জন্য কঠোরতা এবং শক্তির আশ্রয় নেয়।
📄 কোম্পানীর বুলেটিন ও প্রচারপত্র
কোম্পানীর বুলেটিন ও প্রচারপত্রগুলোতে কর্মসংস্থান, শূন্যপদ এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন অর্থনৈতিক তথ্যাদি থাকে।
প্রোপাগান্ডা ও বিজ্ঞাপন: কোনো পত্রিকা কিংবা টিভি কোম্পানীর সফলতা ব্যর্থতা নির্ভর করে তার বিজ্ঞাপনের ওপর। সে কতটি বিজ্ঞাপন পায় এবং তার বিজ্ঞাপনে লোক কি পরিমাণ প্রভাবিত হয়। মার্কিন টিভি ও পত্রিকাগুলো কোটি কোটি ডলার শুধু বিজ্ঞাপন থেকেই উপার্জন করে। শুধু ১৯৮২ সালেই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা এবং টিভি ও রেডিওতে ৫৫ কোটি ডলারের বিজ্ঞাপন প্রকাশ পেয়েছিল। আর আজ প্রয়োজনের পরিধি অনেক বিস্তৃত। তাহলে এখন প্রতি বছর কি পরিমাণ অর্থমূল্যের বিজ্ঞাপন পত্র-পত্রিকা ও রেডিও-টিভিতে প্রকাশ পায়।
📄 প্রসিদ্ধ মার্কিন পত্রিকাসমূহের প্রচার সংখ্যা
০১. দৈনিক ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল (নিউইয়র্ক), প্রচার সংখ্যা-৭,৭৫,০৮৬।
০২. দৈনিক নিউইয়র্ক ডেইলী নিউজ (নিউইয়র্ক), প্রচার সংখ্যা-৭,৮১,৭৯৬।
০৩. দৈনিক লস এঞ্জেলেস টাইমস (লস এঞ্জেলেস), প্রচার সংখ্যা-১১,৬৪,৩৮৮।
০৪. দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস (নিউইয়র্ক), প্রচার সংখ্যা-১২,০১,৯৭৭।
০৫. দৈনিক শিকাগো ট্রাইবন (শিকাগো), প্রচার সংখ্যা-৭,৩৩,৭৭৫।
০৬. দৈনিক নিউইয়র্ক পোস্ট (নিউইয়র্ক), প্রচার সংখ্যা-৪,৭০,৯৮৭।
০৭. দৈনিক শিকাগো সান টাইমস (শিকাগো), প্রচার সংখ্যা-৫,৩০,৮৫৬।
০৮. দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট (ওয়াশিংটন), প্রচার সংখ্যা-৮,৪৬,৬৩৫।
০৯. দৈনিক বোস্টন গ্লোব (বোস্টন), প্রচার সংখ্যা-৫,০৫,৭৪৪।
১০. মাসিক রিডার্স ডাইজেস্ট, প্রচার সংখ্যা-১,৬২,৬৯,৬৩৬।
১১. মাসিক ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, প্রচার সংখ্যা-৯৭,৬৩,৪০৬।
১২. সাপ্তাহিক টাইম, প্রচার সংখ্যা ৪০,৭৩,৫৩০।
১৩. সাপ্তাহিক নিউজউইক, প্রচার সংখ্যা-৩০,২৪,৭৭৭।
১৪. সাপ্তাহিক ইউএস নিউজ এন্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট, প্রচার সংখ্যা-২২,৩৬,০০৯।