📄 ফরাসী নিউজ এজেন্সী
ফরাসী নিউজ এজেন্সীকে বলা হয় 'এজেন্সী অফ ফ্রান্স প্রেস সংক্ষেপে এএফপি। ১৮৩৫ সালে ফ্রান্সের এক ইহুদী পরিবার হাওয়াজ 'হাওয়াজ এজেন্সী' নামে এক সংবাদ সংস্থার গোড়াপত্তন করে, যা পরবর্তীতে এজেন্সী অফ ফ্রান্স প্রেস (এএফপি) নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে। ফ্রান্সে যদিও ইহুদীদের সংখ্যা মাত্র সাত লাখ, কিন্তু সেখান থেকে প্রকাশিত পঁচাশি শতাংশ সংবাদ পত্র ও ম্যাগাজিনের ওপর ইহুদীদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ফ্রান্স থেকে প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ দৈনিক সংবাদপত্র লোফিগারো, ডেইলি এক্সপ্রেস, লোকুইডিয়ান, ফ্রান্সওয়ার, নও-দোকায় ছাড়াও নারী সমাজে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ফ্যামিলী ওয়ার্কার (যার প্রচার সংখ্যা পনের লাখ) ইত্যাদি সংবাদ পত্রের মালিক প্রসিদ্ধ বৃটিশ ইহুদী পুঁজিপতি জেমসগোল্ড স্মিথসহ অন্যান্য ইহুদী পুঁজিপতিগণ, যাকে পরবর্তীতে ফ্রান্সের নাগরিত্ব প্রদান করা হয়। এসব ইহুদী মিডিয়াই ফ্রান্স সরকারের পলিসি নির্ধারণ করে থাকে। ৪
টিকাঃ
৪. এজেন্সী অফ ফ্রান্স প্রেস (এএফপি)-কে ১৯৫৭ সালে নতুনভাবে পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠনের পর এএফপি'র কার্যপরিধি ফ্রান্সের বাইরেও ছড়িয়ে দেয়া হয়। বর্তমানে ৮ শ' ৮২ জন সাংবাদিক এর সাথে জড়িত আছেন। তন্মধ্যে ৩ শ' ৩০ জন ফ্রান্সের বাইরে রিপোর্টার হিসেবে কর্মে নিয়োজিত রয়েছেন। ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে ৮০ জন রিপোর্টার কাজ করেন। এই নিউজ এজেন্সীর আওতাধীনে আরো ৩০টি নিউজ এজেন্সী কাজ করে। ১ শ' ৮২ টি দেশে ১২ হাজার খরিদ্দার রয়েছে। আর যেসব সংবাদপত্র, রেডিও ও টিভি স্টেশন এই সংস্থা থেকে সংবাদ সংগ্রহ করে, তাদের সংখ্যা ৪ শ'। এখান থেকে দৈনিক ৩৩ লাখ ৫০ হাজার শব্দ সম্বলিত সংবাদ ১ শ' ৮২টি দেশে প্রেরণ করা হয়। সেসব দেশে ৪২টি ভাষায় অনুবাদ হওয়ার পর তা প্রচার করা হয়। এমনিভাবে সংবাদের পাশাপাশি ক্রেতাদের দৈনিক ৫০টি ফটোও সরবরাহ করা হয়।
📄 বৃটিশ সংবাদ মাধ্যম
বৃটেনের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে ইহুদীদের কর্তৃত্ব ও আধিপত্য অনেক সুপ্রাচীন। এই সাম্রাজ্যবাদী দেশের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন ডিজরেইলী এবং বৃটিশ সেনাবাহিনীর চীফ অফ স্টাফ একই সময়ে একই সাথে ইহুদী ছিলেন। এতেই বৃটেনে ইহুদীদের কর্তৃত্ব এবং অসাধারণ প্রভাব-প্রতিপত্তির কথা সহজেই অনুমান করা যায়। আর সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্রের জগতে রাজত্ব তো অনেক দূরের কথা। এ ময়দানে অন্যের অংশীদারিত্ব ছাড়াই দীর্ঘকাল থেকে তাদের একচেটিয়া আধিপত্য রয়েছে। তারা সমগ্র বিশ্বকে যেদিকে ইচ্ছা সেদিকে ঘোরাতে পারে। ধারাবাহিক তিন দশক ধরেই বিবিসি ওয়ার্ল্ডের প্রধান ইহুদী নিয়োগ হয়ে আসছে। স্টার টিভি যখন থেকে পৃথিবীর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে, তখন থেকে ইহুদীদের প্রোপাগান্ডা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। লন্ডন টাইমস সেসব আন্তর্জাতিক প্রসিদ্ধ সংবাদ পত্রের একটি, যার সম্পাদকীয়, মন্তব্য, কার্টুন ও সংবাদ যে কোনো বৃটিশ সরকার পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট। এই পত্রিকা ১৭৮০ সাল থেকে প্রকাশিত হয়ে আসছিল। যদিও পত্রিকাটি থমসন ইন্টারন্যাশনালের মালিকানায় প্রকাশিত হচ্ছিল, কিন্তু প্রসিদ্ধ ইহুদী পুঁজিপতি রোডশেন্ড প্রথম পর্যায়ে বিজ্ঞাপন ও পরবর্তী পর্যায়ে পছন্দমতো সম্পাদক ও ইহুদী সাংবাদিকদের মাধ্যমে পত্রিকাটিকে কবজা করে নেয়। থমসন ইন্টারন্যাশনালের মালিকানার যুগে ইহুদী কর্মচারীদের হার বিশ শতাংশ ছিল, কিন্তু আজ থেকে পঁচিশ বছর পূর্বে টাইমসকে কৃত্রিম অর্থনৈতিক সংকটে ফেলে এর বিরুদ্ধে খুব প্রোপাগান্ডা চালানো হয়। টাইমসে ইহুদী কর্মচারীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা পঁচিশ শতাংশ বৃদ্ধি করার জোর দাবী করা হয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবীর মুখে থমসন এই বলে পত্রিকাটি বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দেন যে, পত্রিকাটি এ অর্থনৈতিক বোঝা বহন করতে সক্ষম নয়। এ ঘোষণায় বৃটেনে হৈচৈ শুরু হয়ে যায়। এই সুযোগে অস্ট্রেলিয়ার প্রসিদ্ধ ইহুদী পুঁজিপতি রবার্ট মারদূখ 'মুক্তিদূত' হয়ে আবির্ভূত হন।
মি. রবার্ট লন্ডন টাইমস-এর বার্ষিক লোকসান নয় মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান পাউন্ড পরিশোধ করে পুরো সংবাদপত্র ক্রয় করার সংকল্প ব্যক্ত করেন। এই ঘোষণার সাথে সাথে চতুর্দিক থেকে এ মুক্তিদূতের প্রশংসা শুরু হয়ে যায়। পরিশেষে এই ইহুদী পুঁজিপতি পঁয়তাল্লিশ মিলিয়ন ডলার দিয়ে এই প্রাচীন পত্রিকাটি ক্রয় করে নেন। সানডে টাইমস ক্রয় করার পর এবার মি. রবার্ট ফিন্ট স্ট্রীট সম্পূর্ণ কবজা করে নেন, যেখান থেকে লন্ডনের সব সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়। লন্ডন টাইমস ও সানডে টাইমস ক্রয় করার পর রবার্টের বিজয়ের পরিধি ব্যাপক থেকে ব্যাপকতর হতে লাগল। এর পর তিনি লন্ডনের প্রসিদ্ধ সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন সান, নিউজ অফ দি ওয়ার্ল্ড, সিটি ম্যাগাজিন এবং উইক এন্ড-এর মতো জনপ্রিয় ম্যাগাজিনগুলোর ওপরও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। এসব ম্যাগাজিন অশ্লীলতার মুখপত্র হিসেবে সংখ্যায় চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ লাখ প্রকাশিত হয়। শুধু সান-এর প্রচার সংখ্যাই চল্লিশ লাখ। উপরোল্লিখিত সব সংবাদ মাধ্যম ছাড়াও বৃটেন থেকে প্রকাশিত নিম্নবর্ণিত সংবাদপত্র এবং ম্যাগাজিনেও ইহুদীদের মালিকানা নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ডেইলী এক্সপ্রেস, নিউজ ব্র্যানিকল, ডেইলী মেইল, ডেইলী হেরাল্ড, মানচস্টার গার্ডিয়ান, ইয়র্ক শায়ার পোস্ট, ইভেনিং স্ট্যান্ডাড, ইভেনিং নিউজ অবজার্ভার, সানডে রিভিউ, সানডে এক্সপ্রেস, সানডে ক্র্যানিকল, জনপল, দি সানডে পিপলস, সানডে ড্যামপাচ, দি স্ক্যাচ, দি এ্যাম্বাস্যাডার, দি জিওগ্রাফিক ইত্যাদি। ১৯৮১ সালে প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, বৃটেনের পনেরটি দৈনিকের পরিপূর্ণ মালিকানা ইহুদীদের। এগুলোর দৈনিক প্রচার সংখ্যা তেত্রিশ মিলিয়ন, যেখানে প্রকৃত বৃটিশ নাগরিকের সংখ্যা পঞ্চাশ মিলিয়ন।
টিকাঃ
৫. রবার্ট মারদুখ অস্ট্রেলিয়ার ধনাঢ্য এক ইহুদী পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। রবার্টকে সে সময়কার আন্তর্জাতিক মিডিয়া রাজত্বে 'মহারাজা বা মিডিয়া মোগল' মনে করা হয়। 'আসল, দেখল ও বিজয় করে নিল'-প্রসিদ্ধ এই প্রবাদের প্রতীক ছিলেন তিনি। তিনি আন্তর্জাতিক মিডিয়ার একজন বিশেষজ্ঞ ও নিউজ করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ১৯৯৯ সালে তার সমুদয় সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮২ মিলিয়ন ডলার। বিগত এক বছরের আমদানী ছিল সাড়ে ৬৮ মিলিয়ন ডলার। তার অধীনে পঁয়ত্রিশ হাজার মানুষ কর্মরত রয়েছে। রবার্ট ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া-এ চারটি মহাদেশে ১ শ' ২৫টি দৈনিকের মালিক। প্রতি সপ্তাহে যার চারশ' কোটি কপি প্রকাশিত হয়। শুধু লন্ডন টাইমস, সানডে টাইমস ও সানবার্ট-এর পাঠক সংখ্যাই এক কোটি। ১৯৮৯ সালে রবার্ট ফোকাস নেটওয়ার্ক নামক সংস্থাটি কিনে নেন। এ ছাড়াও তিনি স্কাই টেলিভিশন কোম্পানী ও স্টার টিভির সিংহভাগ শেয়ারের মালিক। স্কাইয়ের মূল্য পাঁচশ' মিলিয়ন এবং স্টার টিভির অংশের মূল্য আনুমানিক পাঁচ মিলিয়ন ডলার। অস্ট্রেলিয়া, বৃটেন ও আমেরিকার দৈনিক সংবাদের আশি শতাংশ এবং রোববারে প্রকাশিত ম্যাগাজিন ও বিশেষ ক্রোড়পত্রের ষাট শতাংশের মালিক মি. রবার্ট।
📄 মার্কিন মিডিয়া
মার্কিন জনমত গঠনে মার্কিন মিডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক ভূমিকার ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই। যে কোনো বিষয়ে অতিদ্রুত জনমত সৃষ্টি হয়ে যায়। এর মৌলিক কারণ হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যে কোনো ব্যক্তির সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন, রেডিও স্টেশন ও টিভি চ্যানেল প্রতিষ্ঠা করার পূর্ণ স্বাধীনতা এবং সব ধরনের সুযোগ সুবিধা রয়েছে। মার্কিন আইন অনুযায়ী যে কোনো ব্যক্তি সংবাদপত্র বের করতে এবং জনসাধারণ পর্যন্ত যে কোনোভাবে নিজের বক্তব্য পৌঁছাতে পারে। এই স্বাধীনতার কারণে মিডিয়ার ওপর মার্কিন সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আলোচ্য কথাগুলো সামনে রেখে যদি মার্কিন মিডিয়া সম্পর্কে বিশ্লেষণ করা হয়, তাহলে নিম্নবর্ণিত বৈশিষ্ট্যসমূহ ফুটে ওঠে।
০১. মার্কিন মিডিয়ার ওপর হয় কোনো প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের অথবা কোনো শিল্প পরিবারের অথবা কোনো কোম্পানীর কিংবা কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইজারাদারী প্রতিষ্ঠিত আছে, যার ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।
০২. মার্কিন মিডিয়ার মৌলিক লক্ষ্য-উদ্দেশ্য হলো, আন্তর্জাতিক কোনো ইস্যু নিয়ে মার্কিন রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করা, যে কোন মূল্যে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়া, খৃস্টবাদ ও ইহুদীবাদের শিক্ষার প্রচার প্রসার ঘটানো, ব্যবসায়-বাণিজ্য ও পুঁজিবাদী অর্থনীতির ওকালতি এবং সহায়তা করা, ক্ষমতার মসনদে রিপাবলিকান পার্টি আসীন হোক আর ডেমোক্রেটিক পার্টিই আসীন হোক, এ অবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটে না।
০৩. মার্কিন মিডিয়ায় সবচে' বেশি প্রাধান্য দেয়া হয় বিজ্ঞাপনকে, যার মাধ্যমে কোটি কোটি ডলার আমদানী হয় এবং অভাবনীয় মুনাফা অর্জিত হয়।
০৪. কিছু কিছু সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন ও টিভি স্টেশনের বিশেষ কিছু ইস্যুতে নিজস্ব মতামত থাকে। সেই মতামত মিডিয়ার মাধ্যমে সম্পাদকীয়, মন্তব্য ও বিশ্লেষণ দ্বারা যে কোনো মূল্যে প্রতিষ্ঠিত করা। সে মতামতের ব্যাপারে সরকার, জনগণ ও বেশির ভাগ পাঠকের দ্বিমতই থাকুক না কেন। প্রকাশ থাকে যে, সম্পাদনা পরিষদ ও মালিক পক্ষের মতামত অনুযায়ীই তারা সংবাদ প্রকাশ করে থাকে।
আমরা মার্কিন মিডিয়াকে ছয় ভাগে বিভক্ত করতে পারি।
০১. দৈনিক পত্র-পত্রিকা ও সংবাদ সংস্থা ০২. ম্যাগাজিন, মাসিক, ত্রৈমাসিক ও ষান্মাষিক পত্রিকা ০৩. টেলিভিশন ০৪. রেডিও ০৫. ডাক বিভাগের মাধ্যমে বিতরণকৃত লিটারেচার ০৬. কোম্পানীসমূহের বুলেটিন ও প্রকাশনা
নিম্নে আমরা মার্কিন মিডিয়ার উল্লিখিত ছয় প্রকারের প্রতিটি সম্পর্কে সংক্ষিপ্তাকারে প্রয়োজনীয় কিছু আলোচনা পেশ করব।
📄 মার্কিন দৈনিক পত্র-পত্রিকা
মার্কিন দৈনিক পত্র-পত্রিকা দুই ধরনের।
এক. ওই সব দৈনিক, যেগুলো সেসব শহর ও স্টেটের সমস্যা সংকটের প্রতিনিধিত্ব করে, যেসব শহর ও স্টেট থেকে তা প্রকাশিত হয়।
দুই. ওই সব দৈনিক, যেগুলো জাতীয় সমস্যার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সমস্যা সংকট সম্পর্কেও সংবাদ, নিবন্ধ এবং সম্পাদকীয় লেখে।
সর্বসাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১ হাজার ৬ শ' ৭৬টি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। বিশেষ ম্যাগাজিনের কারণে রবিবার দিন বিভিন্ন পত্রিকা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেশি বিলি হয়।
আমেরিকার অডিট ব্যুরো অফ সার্কুলেশনের সাম্প্রতিক রিপোর্ট মতে, গোটা আমেরিকায় পঞ্চাশটি সাপ্তাহিক পত্রিকা এমন রয়েছে, যেগুলো বিপুল পরিমাণে বিলি হয়।
যেসব মার্কিন শহর থেকে এসব দৈনিক প্রকাশিত হয়, সেসব শহরের নাম- ডেট্রয়েট, সানফ্রান্সিসকো, মায়ামি, বাল্টিমোর, ফিলাডেলফিয়া, হোস্টন, কিউল্যান্ড, কানসাস সিটি, ডিনফর, মিলওয়াকি, লং আইল্যান্ড, ভিনেকসি নিউ আয়ারল্যান্ড ছাড়াও নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, লস এঞ্জেলেস, শিকাগো এবং বোস্টন সেসব কেন্দ্রীয় শহর, যেখানে বিপুলসংখ্যক ইহুদী বসবাস করে। এসব শহরেই খৃস্টানদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তাবলিগী সংস্থা ও ইহুদীদের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান রয়েছে। নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে রয়েছে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান। এ শহরগুলোতেই সরকারী ভি.আই.পি লোকেরা বসবাস করেন, যার কারণে পত্রিকার সাংবাদিক ও প্রতিনিধিদের পক্ষে সরকারী অফিসার, মার্কিন সিনেটের সদস্য, পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীলদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা খুবই সহজ হয়। খুব সহজেই এখানে বসে আমেরিকার আন্তর্জাতিক রাজনীতির গোপন-প্রকাশ্য সব কিছু জনসম্মুখে তুলে ধরা যায়।
বোস্টন শহর থেকে প্রকাশিত মার্কিন দৈনিক 'ক্রিশ্চিয়ান সায়েন্স মনিটর' এমন এক সংবাদপত্র, যা মার্কিন গির্জার তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত হয়। এ দৈনিকটি আরব বিশ্বের বিভিন্ন সমস্যা খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে এবং আরব বিশ্ব সম্পর্কে ভারসাম্যপূর্ণ অভিমত পোষণ করে। বেশির ভাগ সময় পত্রিকাটি ইসরাঈলী পলিসির সমলোচনা ও নিন্দা করে।
‘হেরাল্ড ট্রিউবন’ তৃতীয় দৈনিক সংবাদপত্র, যা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সমস্যা সংকট সম্পর্কে অত্যন্ত সুচিন্তিত অভিমত পোষণ করে। পত্রিকাটি মধ্যপন্থা ও ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি বিষয়ের বিশেষজ্ঞগণ এতে অত্যন্ত নিরপেক্ষতার সাথে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারেন। এ বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি পত্রিকাটি মার্কিন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল, রাষ্ট্রদূত ও বড় বড় শিল্পপতিদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রাখে। এ কারণে হেরাল্ড ট্রিউবনের সংবাদ, সম্পাদকীয়, উপসম্পাদকীয়, মন্তব্য, প্রবন্ধ-নিবন্ধকে অত্যন্ত সম্মান ও গুরুত্বের দৃষ্টিতে দেখা হয়। বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার আলোচনা আমরা শুরুতেই করেছি।