📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 রয়টার্স

📄 রয়টার্স


বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টারের অসাধারণ পরিচিতি ও সুনাম রয়েছে। বিশ্বের বেশির ভাগ, বরং সকল সংবাদপত্র ও টিভি এই সংবাদ সংস্থার ওপর নির্ভর করে থাকে। এমনকি বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকা এবং রেডিও মন্ট কার্লোও ৯০ শতাংশ সংবাদ এই সংস্থা থেকে সংগ্রহ করে থাকে। এই সংবাদ সংস্থার স্থপতি জুলিয়াস রয়টার ১৮১৬ সালে জার্মানীর এক ইহুদী পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি তার কর্মজীবনের সূচনা করেন জার্মানীর এক ব্যাংকে। ব্যাংকে চাকরীকালে চাকুরীর মাঝে জুলিসের মাথায় একবার চিন্তা আসল, জার্মানীতে বিদ্যমান বিভিন্ন ব্যাংক, বাণিজ্যিক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি সংক্রান্ত সংবাদ সরবরাহ করার জন্য যদি একটি সংবাদ সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা যায় তাহলে বিষয়টি কেমন হয়? এ বিষয়টির বিভিন্ন দিক নিয়ে চিন্তা-ফিকির করার পর জুলিয়াস চাকুরী থেকে ইস্তেফা দেন। এখন থেকে তিনি বিভিন্ন ব্যাংক ও ব্যবসায়ী সংগঠনকে অর্থনৈতিক সংবাদ সরবরাহ শুরু করেন। এক্ষেত্রে তিনি অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেন। তিনি তার এই এজেন্সীর কার্যক্রমের পরিধি জার্মানী থেকে ব্রাসেলস অতঃপর প্যারিস এবং ১৮৫১ সালে লন্ডন পর্যন্ত সম্প্রসারিত করেন। টেলিফোন ও টেলিগ্রাফের আবিষ্কারে অর্থনৈতিক সংবাদের পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংবাদগুলোও সংবাদপত্রের নিকট পৌছাতে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত হন। পর্যায়ক্রমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মান, লন্ডন এবং ইউরোপীয় দেশগুলো ছাড়িয়ে এশিয়া ও অন্যান্য মহাদেশ থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্র, রেডিও, টিভি ও প্রেস রয়টারের সংবাদগুলো অত্যন্ত চড়ামূল্যে ক্রয় করতে শুরু করে। রয়টার ১৮৫৮ সালে সংবাদ সরবরাহে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করে। এমনকি এক ঘন্টার মধ্যে তৃতীয় নেপোলিয়নের ভাষণ বৃটিশ সংবাদপত্রগুলোকে সরবরাহ করতে বিরাট সাফল্যের পরিচয় দেয়। মার্কিন গৃহযুদ্ধের সংবাদগুলোও রয়টার অত্যন্ত অসাধারণ দ্রুততার সাথে মিডিয়া পর্যন্ত পৌছাতে সক্ষম হয়। ১৮৫৭ সালে রয়টার সংবাদ সংস্থার মালিককে বৃটিশ নাগরিত্ব দান করা হয়। বৃটিশ রাণী তাকে এক বিরাট খেতাবে ভূষিত করেন। গোটা বিশ্বের মিডিয়া ও প্রচার মাধ্যমগুলো এই ইহুদী সংস্থার প্রেরিত সংবাদ ও মতামতকে ওহী, বরং এর চেয়েও বেশি গুরুত্ব প্রদান করে থাকে।১

টিকাঃ
১. রয়টারে কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা সর্বমোট ২ হাজার ৮৪ জন। যার মধ্যে এক হাজার সম্পাদক, সাংবাদিক ও রিপোর্টার রয়েছে। এই নিউজ এজেন্সীর অর্ধেকের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী বৃটেনের বাইরে অন্যান্য দেশে কাজ করে। ৭৫টি সংবাদ কেন্দ্রের মাধ্যমে ১৫০টি দেশের পত্র-পত্রিকা, ম্যাগাজিন ও রেডিও-টিভি কোম্পানীকে দৈনিক ১৫ লাখ শব্দ সম্বলিত সংবাদ ও নিবন্ধ প্রেরণ করা হয়, যা ৪৮টি ভাষায় প্রকাশিত হয়।

📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 এসোসিয়েটেড প্রেস

📄 এসোসিয়েটেড প্রেস


১৮৪৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি বড় বড় দৈনিক পত্রিকা মিলে এসোসিয়েটেড প্রেস নামে এই সংবাদ সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করে। ১৯ শতকে এসে এই সংবাদ সংস্থাটি এমন আন্তর্জাতিক কোম্পানীর মর্যাদা লাভ করে, যা আমেরিকা মহাদেশ থেকে প্রকাশিত সকল সংবাদপত্রসহ বিশ্বের প্রায় অধিকাংশ সংবাদ মাধ্যমকে সংবাদ সরবরাহ করে থাকে। এই সংবাদ সংস্থায় ৯০ শতাংশ পুঁজি বিনিয়োগকারী হলো ইহুদীরা।২

টিকাঃ
২. ১৯৮৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই নিউজ এজেন্সীর সাথে ১ হাজার ৩ শ' দৈনিক, ৩ হাজার ৭ শ' ৮৮টি রেডিও এবং টিভি জড়িত রয়েছে। এটি শুধু আমেরিকায়। আমেরিকার বাইরে এই এজেন্সীর সাথে ১১ হাজার ৯ শ' ২৭টি দৈনিক পত্রিকা এবং রেডিও টিভি জড়িত রয়েছে। স্যাটেলাইট ও অন্যান্য মাধ্যমে দৈনিক সতের মিলিয়ন অর্থাৎ ১ কোটি ১৭ লাখ শব্দ সম্বলিত সংবাদ ও নিবন্ধ মিডিয়াকে সরবরাহ করা হয়। এ সংবাদ সংস্থার অর্থনীতি ও ব্যবসায়-বাণিজ্য সম্পর্কিত বিশেষ বিভাগ রয়েছে। সেখান থেকে গোটা বিশ্বে ৮ হাজার কেন্দ্রীয় ব্যাংককে তাজা সংবাদ সরবরাহ করা হয়। এসব সংবাদের মূল্য অসাধারণ চড়া। শুধু আমেরিকাতেই এই নিউজ এজেন্সীর ১ শ' ১৭টি দফতর রয়েছে। আর আমেরিকার বাইরে ৮১টি সংবাদ কেন্দ্র রয়েছে, সেখানে ৫ শ' ৬৯ জন সাংবাদিক ও রিপোর্টার কর্মরত রয়েছেন। তার মধ্যে ৮১ জন সাংবাদিক আমেরিকার। এজেন্সীতে কর্মরত সম্পাদক ও সাংবাদিকের সংখ্যা ২ হাজার ৫ শ'। এই কোম্পানীর শতভাগ মালিকানা ইহুদীদের এবং ৯৫% কর্মকর্তা-কর্মচারী ইহুদী।

📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 ইউনাইটেড প্রেস

📄 ইউনাইটেড প্রেস


১৯০৭ সালে দুই মার্কিন ইহুদী পুঁজিপতি স্ক্রাইপস এবং হার্ভার্ড মিলে ইউনাইটেড প্রেস নামে একটি সংবাদ সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। এর দু'বছর পর ১৯০৯ সালে উইলিয়াম হ্যারেস্ট নামক এক খৃস্টান পুঁজিপতি ইন্টারন্যাশনাল নিউজ সার্ভিস নামে একটি সংবাদ সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। এই ইন্টারন্যাশনাল নিউজ সার্ভিস পরবর্তীতে একটি বিশ্বজোড়া প্রচার সংস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, যার শাখা-প্রশাখা গাছের ডাল-পালার ন্যায় বিশ্বাব্যাপী ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। উইলিয়াম হ্যারেস্ট নিজে যদিও একজন খৃস্টান, কিন্তু তিনি বিয়ে করেন এক বড় ইহুদী পুঁজিপতির মেয়েকে। উইলিয়াম হ্যারেস্টের পর ডেভিস হ্যারেস্ট ও প্যাট্রেসিয়া হ্যারেস্টসহ তার গোটা পরিবার ইহুদী পরিবারে রূপান্ত রিত হয়ে যায়। ১৯৫০ সালে ইউনাইটেড প্রেস ও ইন্টারন্যাশনাল নিউজ সার্ভিস পরস্পরে একীভূত হয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের মালিকানায় চলে আসে, যা একটি ইহুদী মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। ১৯৮২ সালে এসব প্রতিষ্ঠানের সবগুলোকে মিডিয়া নিউজ করপোরেশনের অন্তর্ভূক্ত করে দেয়া হয়। ৩

টিকাঃ
৩. মিডিয়া নিউজ করপোরেশন সরবরাহকৃত সংবাদের খরিদ্দারদের সংখ্যা ৭ হাজার ৭৯ জন। তন্মধ্যে ২ হাজার ২ শ' ৪৬ জন (সংবাদপত্র, রেডিও, টিভি স্টেশন) আমেরিকার বাইরের। এই কেন্দ্রীয় সংবাদ সংস্থার আওতাধীনে আরো ত্রিশটি সংবাদ সংস্থা গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ইউনাইটেড প্রেস ইন্টারন্যাশনাল (ইউপিআই)-এর সাথে জড়িয়ে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ১ শ' ৩৪টি সংবাদপত্র ও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এবং ৩ হাজার ৬ শ' ৯৯টি রেডিও ও টিভি স্টেশন। পৃথিবীব্যাপী এই এজেন্সীর ১ শ' ৭৭টি কেন্দ্র রয়েছে। শুধু আমেরিকাতেই তার ৯৬টি দফতর রয়েছে। ইউপিআই-এর কর্মচারী-কর্মকর্তাদের সংখ্যা ১ হাজার ৮ শ' ৩৩ জন, যার মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ২ শ' ৪৫ জন সম্পাদক, রিপোর্টার ও ক্যামেরাম্যান। এই এজেন্সীর ৫ শ' ৭৮ জন সাংবাদিক আমেরিকার বাইরে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে নিয়োজিত রয়েছেন।

📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 ফরাসী নিউজ এজেন্সী

📄 ফরাসী নিউজ এজেন্সী


ফরাসী নিউজ এজেন্সীকে বলা হয় 'এজেন্সী অফ ফ্রান্স প্রেস সংক্ষেপে এএফপি। ১৮৩৫ সালে ফ্রান্সের এক ইহুদী পরিবার হাওয়াজ 'হাওয়াজ এজেন্সী' নামে এক সংবাদ সংস্থার গোড়াপত্তন করে, যা পরবর্তীতে এজেন্সী অফ ফ্রান্স প্রেস (এএফপি) নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে। ফ্রান্সে যদিও ইহুদীদের সংখ্যা মাত্র সাত লাখ, কিন্তু সেখান থেকে প্রকাশিত পঁচাশি শতাংশ সংবাদ পত্র ও ম্যাগাজিনের ওপর ইহুদীদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ফ্রান্স থেকে প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ দৈনিক সংবাদপত্র লোফিগারো, ডেইলি এক্সপ্রেস, লোকুইডিয়ান, ফ্রান্সওয়ার, নও-দোকায় ছাড়াও নারী সমাজে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ফ্যামিলী ওয়ার্কার (যার প্রচার সংখ্যা পনের লাখ) ইত্যাদি সংবাদ পত্রের মালিক প্রসিদ্ধ বৃটিশ ইহুদী পুঁজিপতি জেমসগোল্ড স্মিথসহ অন্যান্য ইহুদী পুঁজিপতিগণ, যাকে পরবর্তীতে ফ্রান্সের নাগরিত্ব প্রদান করা হয়। এসব ইহুদী মিডিয়াই ফ্রান্স সরকারের পলিসি নির্ধারণ করে থাকে। ৪

টিকাঃ
৪. এজেন্সী অফ ফ্রান্স প্রেস (এএফপি)-কে ১৯৫৭ সালে নতুনভাবে পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠনের পর এএফপি'র কার্যপরিধি ফ্রান্সের বাইরেও ছড়িয়ে দেয়া হয়। বর্তমানে ৮ শ' ৮২ জন সাংবাদিক এর সাথে জড়িত আছেন। তন্মধ্যে ৩ শ' ৩০ জন ফ্রান্সের বাইরে রিপোর্টার হিসেবে কর্মে নিয়োজিত রয়েছেন। ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে ৮০ জন রিপোর্টার কাজ করেন। এই নিউজ এজেন্সীর আওতাধীনে আরো ৩০টি নিউজ এজেন্সী কাজ করে। ১ শ' ৮২ টি দেশে ১২ হাজার খরিদ্দার রয়েছে। আর যেসব সংবাদপত্র, রেডিও ও টিভি স্টেশন এই সংস্থা থেকে সংবাদ সংগ্রহ করে, তাদের সংখ্যা ৪ শ'। এখান থেকে দৈনিক ৩৩ লাখ ৫০ হাজার শব্দ সম্বলিত সংবাদ ১ শ' ৮২টি দেশে প্রেরণ করা হয়। সেসব দেশে ৪২টি ভাষায় অনুবাদ হওয়ার পর তা প্রচার করা হয়। এমনিভাবে সংবাদের পাশাপাশি ক্রেতাদের দৈনিক ৫০টি ফটোও সরবরাহ করা হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00