📄 ইহুদী মিডিয়া ও তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব-প্রতিক্রিয়া
১৮৯৭ সালে সুইজারল্যান্ডের প্রসিদ্ধ শহর 'ব্রাসেলসে' হার্টিজেলের নেতৃত্বে তিনশ' ইহুদী বুদ্ধিজীবী, চিন্তাবিদ ও দার্শনিকের একটি বিশ্ব সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, তাতে গোটা বিশ্বের ওপর ইহুদীদের নেতৃত্ব কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা তৈরি করা হয়। এই পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই পুস্তিকাকারে বিশ্ববাসীর সামনে চলে এসেছে, তাতে ১৯টি প্রটোকল রয়েছে। এই পরিকল্পনাকে 'ইহুদী বুদ্ধিজীবীদের দস্তাবেজ'ও বলা হয়। প্ল্যান- পরিকল্পনা তৈরিতে গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ত্রিশটি ইহুদী সংগঠনের তিনশ' মেধাবী ও চৌকস সদস্য অংশ নেয়। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, গোটা বিশ্বের ওপর ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য যেমনিভাবে স্বর্ণভা ার দখল করা জরুরী, তেমনিভাবে প্রচার মাধ্যমের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করাও মৌলিক কর্তব্য। উল্লিখিত সম্মেলনে গৃহীত দ্বাদশতম দস্তাবেজে সাংবাদিকতার অসাধারণ গুরুত্ব ও প্রভাব-প্রতিক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে।
গোটা বিশ্বের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য যেমনিভাবে স্বর্ণভা ার দখল করা অতীব গুরুত্বপূর্ণ, তেমনিভাবে প্রচার মাধ্যমকেও আমাদের উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য দ্বিতীয় মৌলিক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ভাবতে হবে। আমরা মিডিয়ার অবাধ্য ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে তার বাগডোর স্বীয় কবজায় রাখবো। আমরা আমাদের শত্রুদের হাতে এমন কোনো কার্যকর ও শক্তিশালী সংবাদপত্র থাকতে দেব না, যার মাধ্যমে তারা তাদের মতামত সক্রিয়ভাবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে পারে। আর না আমরা তাদের এমন যোগ্য হতে দেব, যাতে তারা আমাদের দৃষ্টি এড়িয়ে কোনো সংবাদ সমাজ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। আমরা এমন আইন প্রণয়ন করব, যাতে কোনো প্রকাশক বা প্রেস মালিক আমাদের অনুমতি ছাড়া কোনো বিষয় ছাপতে পারবে না। এভাবেই আমরা আমাদের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র কিংবা শত্রুতামূলক প্রোপাগান্ডা সম্পর্কে অবগত হয়ে যাব।
আমাদের আয়ত্তে এমন সংবাদপত্র ও প্রকাশনা থাকবে, যা বিভিন্ন গ্রুপ, দল, পার্টি ও সম্প্রদায়কে সমর্থন দেবে। এসব দল, পার্টি ও সম্প্রদায় গণতন্ত্রের প্রবক্তা কিংবা বিপ্লব সমর্থক হোক। এমনকি আমরা এমন সংবাদপত্রের পৃষ্ঠপোষকতাও করব, যা অনৈক্য, বিপথগামিতা, যৌন সুড়সুড়ি, নৈতিক অবক্ষয়, স্বৈরাচারী রাষ্ট্র ও জালেম স্বৈর শাসকদের প্রতিরোধ ও সমর্থন করবে। আমরা যখন যেখানে ইচ্ছা জাতিগোষ্ঠীসমূহের চেতনা উত্তেজিত করব আবার যখন ভাল মনে করব তখন ঠাণ্ডা করে দেব। এর জন্য সত্য মিথ্যা উভয়েরই আশ্রয় নেব। আমরা এমনভাবে সংবাদগুলো উপস্থাপন করব, যাতে জাতি-গোষ্ঠী ও সরকারসমূহ তা গ্রহণ করতে বাধ্য হবে। বিরাট ধুমধাম ঢাক-ঢোল পিটিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়া থেকে খুব সতর্কতা অবলম্বন করব। আমাদের লিটারেচার ও সংবাদপত্রগুলো হিন্দুদের দেবী বিষ্ণুর মতো হবে, যার শত শত হাত রয়েছে। আমাদের প্রেস-প্রকাশনার মৌলিক কাজ হবে, বিভিন্ন প্রবন্ধ-নিবন্ধ ও কলামের মাধ্যমে জনমত গঠন করা। আমরা ইহুদীরা এমন সম্পাদক, পরিচালক, সাংবাদিক ও রিপোর্টারদের সাহস যোগাবো এবং উৎসাহ দেব, যারা হবে দুশ্চরিত্র এবং যাদের অতীত অপকর্ম ও দুষ্কর্মের রেকর্ড রয়েছে। ঠিক একই পদ্ধতি গ্রহণ করব দুশ্চরিত্র রাজনীতিক লীডার ও স্বৈরাচারী শাসকদের ক্ষেত্রেও।
এদের আমরা খুব কভারেজ দিয়ে বিশ্ববাসীর সামনে হিরো বানিয়ে উপস্থাপন করব, কিন্তু আমরা যখন উপলদ্ধি করতে পারব, তারা আমাদের হাত থেকে বের হয়ে যাবার চেষ্টা করছে, তখন আমরা তাদের এমন শিক্ষা দেব যা অন্যদের জন্যও শিক্ষণীয় হবে। আমরা সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে ইহুদী প্রচার মাধ্যমগুলো নিয়ন্ত্রণ করব। আমরা বিশ্ববাসীকে যে রঙ দেখাব, তাদের তাই দেখতে হবে। অপরাধ সংক্রান্ত সংবাদগুলো অসাধারণ গুরুত্বের সাথে বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করব, যাতে পাঠকের মেধা মনন প্রস্তুত হয়ে সেও অপরাধীর সহমর্মী হয়।
ইহুদীরা তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য অসাধারণ মেধার সাথে বিভিন্ন ময়দানে বিচরণ শুরু করে। সর্বপ্রথম তারা প্রচার মাধ্যমের আশ্রয় নিয়ে বিশ্ববাসীর সামনে তাদের বৈশিষ্ট্য (লাঞ্ছনা, বদস্বভাব, লোভ-লালসা, কঠোর হৃদয়, অনিষ্টকারিতা, মানবতার সাথে শত্রুতা ইত্যাদি) পরিবর্তন, নিজেদের মজলুম অত্যাচারিত প্রমাণ করা এবং নিজেদের সকল জাতীয় বৈশিষ্ট্য আরবদের মাথায় চাপিয়ে দেয়ার প্রাণান্তকর প্রয়াস চালিয়েছে। অন্য কথায়, ইহুদী মিডিয়া স্বীয় জাতির কুৎসিত চেহারা প্লাস্টিক সার্জারীর মাধ্যমে সুন্দর বানাতে নিজেদের সম্ভাব্য সকল শক্তি সামর্থ ব্যয় করেছে। এটি কোনো সাধারণ কাজ ছিল না।
কারণ, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইহুদীদের প্রতারণা, ধোকাবাজি, মানবতার সাথে শত্রুতা, অনিষ্টকারিতা ও ষড়যন্ত্রের দাস্তানে ইসলামী, খৃস্টীয় ও মানবেতিহাস ভরপুর হয়ে আছে। সুতরাং প্লাস্টিক সার্জারী ছাড়া ইহুদীদের উদ্দেশ্য অর্জন সম্ভব ছিল না। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে ইহুদীরা তাদের পরিকল্পনায় তেমন একটা সফলতা অর্জন করতে পারেনি, কিন্তু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিরাট সাফল্য তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্যের অতি নিকটে পৌছে দিয়েছে। আরব বিশ্বের হৃৎপিণ্ডে তাদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। কারণ, সর্বপ্রথম তারা ইউরোপীয় ও মার্কিন জাতির দৃষ্টিতে নিজেদের একটি মজলুম নির্যাতিত জাতি হিসেবে প্রমাণ করতে সফল হয়েছে। অপর দিকে তাদের সকল জাতীয় বৈশিষ্ট্য আরব ও মুসলমানদের মাথায় চাপিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে।
📄 আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা
প্রচার মাধ্যম ও সংবাদ সংস্থার মধ্যকার সম্পর্ক ঠিক তেমনি, যেমন বন্দুক ও তার গুলির সম্পর্ক। যদি গুলি বের না হয় তাহলে বন্দুকের অস্তিত্ব নিষ্ফল। ইহুদীরা সংবাদপত্র ও সাময়িকীর সাথে সাথে সংবাদ সংস্থা প্রতিষ্ঠার দিকেও মনোনিবেশ করেছে। এটা এমন এক মৌলিক মাধ্যম, যা ব্যবহার করে তারা নিজেদের ইচ্ছামাফিক কাজ করতে পারে। জায়নিস্ট প্রটোকলের ১২তম অধ্যায়ের এই কথাগুলো আপনি অভিনিবেশ সহকারে পড়ুন। তাতে বলা হয়েছে, আমাদের মঞ্জুরী ছাড়া কোনো সাধারণ সংবাদও সমাজ পর্যন্ত পৌছতে পারবে না। এটি নিশ্চিত করার জন্য আমাদের ইহুদীদের জন্য জরুরী, সংবাদ সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা। যার মৌলিক কাজ হবে গোটা বিশ্বের আনাচ কানাচ থেকে বিভিন্ন সংবাদ একত্রিত করা। আর তখনই আমরা একথার গ্যারান্টি দিতে পারব, আমাদের মঞ্জুরী ছাড়া কোনো নগণ্য সংবাদও প্রচারিত হবে না। এ কথাগুলো পড়ার পর কয়েকটি প্রসিদ্ধ সংবাদ সংস্থার কাহিনী খুব সংক্ষেপে মনোযোগ সহকারে অধ্যয়ন করুন।
📄 রয়টার্স
বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টারের অসাধারণ পরিচিতি ও সুনাম রয়েছে। বিশ্বের বেশির ভাগ, বরং সকল সংবাদপত্র ও টিভি এই সংবাদ সংস্থার ওপর নির্ভর করে থাকে। এমনকি বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকা এবং রেডিও মন্ট কার্লোও ৯০ শতাংশ সংবাদ এই সংস্থা থেকে সংগ্রহ করে থাকে। এই সংবাদ সংস্থার স্থপতি জুলিয়াস রয়টার ১৮১৬ সালে জার্মানীর এক ইহুদী পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি তার কর্মজীবনের সূচনা করেন জার্মানীর এক ব্যাংকে। ব্যাংকে চাকরীকালে চাকুরীর মাঝে জুলিসের মাথায় একবার চিন্তা আসল, জার্মানীতে বিদ্যমান বিভিন্ন ব্যাংক, বাণিজ্যিক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি সংক্রান্ত সংবাদ সরবরাহ করার জন্য যদি একটি সংবাদ সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা যায় তাহলে বিষয়টি কেমন হয়? এ বিষয়টির বিভিন্ন দিক নিয়ে চিন্তা-ফিকির করার পর জুলিয়াস চাকুরী থেকে ইস্তেফা দেন। এখন থেকে তিনি বিভিন্ন ব্যাংক ও ব্যবসায়ী সংগঠনকে অর্থনৈতিক সংবাদ সরবরাহ শুরু করেন। এক্ষেত্রে তিনি অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেন। তিনি তার এই এজেন্সীর কার্যক্রমের পরিধি জার্মানী থেকে ব্রাসেলস অতঃপর প্যারিস এবং ১৮৫১ সালে লন্ডন পর্যন্ত সম্প্রসারিত করেন। টেলিফোন ও টেলিগ্রাফের আবিষ্কারে অর্থনৈতিক সংবাদের পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংবাদগুলোও সংবাদপত্রের নিকট পৌছাতে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত হন। পর্যায়ক্রমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মান, লন্ডন এবং ইউরোপীয় দেশগুলো ছাড়িয়ে এশিয়া ও অন্যান্য মহাদেশ থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্র, রেডিও, টিভি ও প্রেস রয়টারের সংবাদগুলো অত্যন্ত চড়ামূল্যে ক্রয় করতে শুরু করে। রয়টার ১৮৫৮ সালে সংবাদ সরবরাহে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করে। এমনকি এক ঘন্টার মধ্যে তৃতীয় নেপোলিয়নের ভাষণ বৃটিশ সংবাদপত্রগুলোকে সরবরাহ করতে বিরাট সাফল্যের পরিচয় দেয়। মার্কিন গৃহযুদ্ধের সংবাদগুলোও রয়টার অত্যন্ত অসাধারণ দ্রুততার সাথে মিডিয়া পর্যন্ত পৌছাতে সক্ষম হয়। ১৮৫৭ সালে রয়টার সংবাদ সংস্থার মালিককে বৃটিশ নাগরিত্ব দান করা হয়। বৃটিশ রাণী তাকে এক বিরাট খেতাবে ভূষিত করেন। গোটা বিশ্বের মিডিয়া ও প্রচার মাধ্যমগুলো এই ইহুদী সংস্থার প্রেরিত সংবাদ ও মতামতকে ওহী, বরং এর চেয়েও বেশি গুরুত্ব প্রদান করে থাকে।১
টিকাঃ
১. রয়টারে কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা সর্বমোট ২ হাজার ৮৪ জন। যার মধ্যে এক হাজার সম্পাদক, সাংবাদিক ও রিপোর্টার রয়েছে। এই নিউজ এজেন্সীর অর্ধেকের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী বৃটেনের বাইরে অন্যান্য দেশে কাজ করে। ৭৫টি সংবাদ কেন্দ্রের মাধ্যমে ১৫০টি দেশের পত্র-পত্রিকা, ম্যাগাজিন ও রেডিও-টিভি কোম্পানীকে দৈনিক ১৫ লাখ শব্দ সম্বলিত সংবাদ ও নিবন্ধ প্রেরণ করা হয়, যা ৪৮টি ভাষায় প্রকাশিত হয়।
📄 এসোসিয়েটেড প্রেস
১৮৪৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি বড় বড় দৈনিক পত্রিকা মিলে এসোসিয়েটেড প্রেস নামে এই সংবাদ সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করে। ১৯ শতকে এসে এই সংবাদ সংস্থাটি এমন আন্তর্জাতিক কোম্পানীর মর্যাদা লাভ করে, যা আমেরিকা মহাদেশ থেকে প্রকাশিত সকল সংবাদপত্রসহ বিশ্বের প্রায় অধিকাংশ সংবাদ মাধ্যমকে সংবাদ সরবরাহ করে থাকে। এই সংবাদ সংস্থায় ৯০ শতাংশ পুঁজি বিনিয়োগকারী হলো ইহুদীরা।২
টিকাঃ
২. ১৯৮৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই নিউজ এজেন্সীর সাথে ১ হাজার ৩ শ' দৈনিক, ৩ হাজার ৭ শ' ৮৮টি রেডিও এবং টিভি জড়িত রয়েছে। এটি শুধু আমেরিকায়। আমেরিকার বাইরে এই এজেন্সীর সাথে ১১ হাজার ৯ শ' ২৭টি দৈনিক পত্রিকা এবং রেডিও টিভি জড়িত রয়েছে। স্যাটেলাইট ও অন্যান্য মাধ্যমে দৈনিক সতের মিলিয়ন অর্থাৎ ১ কোটি ১৭ লাখ শব্দ সম্বলিত সংবাদ ও নিবন্ধ মিডিয়াকে সরবরাহ করা হয়। এ সংবাদ সংস্থার অর্থনীতি ও ব্যবসায়-বাণিজ্য সম্পর্কিত বিশেষ বিভাগ রয়েছে। সেখান থেকে গোটা বিশ্বে ৮ হাজার কেন্দ্রীয় ব্যাংককে তাজা সংবাদ সরবরাহ করা হয়। এসব সংবাদের মূল্য অসাধারণ চড়া। শুধু আমেরিকাতেই এই নিউজ এজেন্সীর ১ শ' ১৭টি দফতর রয়েছে। আর আমেরিকার বাইরে ৮১টি সংবাদ কেন্দ্র রয়েছে, সেখানে ৫ শ' ৬৯ জন সাংবাদিক ও রিপোর্টার কর্মরত রয়েছেন। তার মধ্যে ৮১ জন সাংবাদিক আমেরিকার। এজেন্সীতে কর্মরত সম্পাদক ও সাংবাদিকের সংখ্যা ২ হাজার ৫ শ'। এই কোম্পানীর শতভাগ মালিকানা ইহুদীদের এবং ৯৫% কর্মকর্তা-কর্মচারী ইহুদী।