📄 নতুন বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা
০১. ১৯৭৫ সালের ১৮ই এপ্রিল মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরী কিসিঞ্জার তার এক বক্তৃতায় বলেন, আমরা একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করতে যাচ্ছি, এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরই প্রধান ভূমিকা থাকবে।
২. মার্কিন পত্রিকা আমেরিকান ওপেনিয়ন-এর ১৯৭২ সালের জানুয়ারী সংখ্যার ৩১তম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা কর্নেল এ্যাডওয়ার্ড মান্ডিল হাউস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এই আশায় প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে অনুপ্রাণিত, এমনকি বাধ্য করেছিলেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করলে পরবর্তীতে খুব সহজেই একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
০৩. মার্কিন প্রেসিডেন্ট সিনিয়র জর্জ বুশ ১৯৯০ সালের ১১ অক্টোবর জাতিসংঘে প্রদত্ত ভাষণে বলেন, আগামী ২০০০ সালের সূচনা হবে প্রকৃতপক্ষে নতুন সহস্রাব্দের ইতিহাসে এক বিপ্লবী পরিবর্তন।
০৪. মার্কিন প্রেসিডেন্ট সিনিয়ন জর্জ বুশ ১৯৮৯ সালের ১৬মার্চ এক ভাষণে বলেন, আগামী ১১ বছরের মধ্যে একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থা অস্তিত্ব লাভ করবে। আমরা এর জন্য কি প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি?
০৫. ১৯৪০ সালে হিটলার তার এক ভাষণে বলেছিলেন, দেশ পূজারীরা আগামীতে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবকে একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যবহার করবে।
০৬. ১৯৫০ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেম্স ওয়ারবার্গ মার্কিন সিনেটে প্রদত্ত ভাষণে বলেন, আমরা চাই বা না চাই, একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা অনিবার্য প্রয়োজন। এখন কথা শুধু এতটুকু, এটি জোরপূর্বক প্রতিষ্ঠা করা হবে নাকি স্বেচ্ছায়।
০৭. প্রফেসর হার্স ১৯৫৩ সালে লিখিত তার গ্রন্থ 'বিশ্ব গণতন্ত্রের মৌলিক উপাদানে' লেখেন, নতুন বিশ্বব্যবব্যবস্থা অনিবার্যভাবেই প্রতিষ্ঠিত হবে। সম্ভবত সেটি বিশ্ব রাজতন্ত্রের আকারে হতে পারে, যা মানুষকে গোলাম বানিয়ে রাখে। এই নতুন বিশ্বব্যবস্থা সে দেশেই প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে, যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ী হবে অথবা এই বিশ্বব্যবস্থা জাতিসংঘকে ধীরে ধীরে শক্তিশালী করার মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
০৮. নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকার ১৯৯২ সালের ২৭ শে জানুয়ারী সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে, প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ যদি দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, তাহলে অবশ্যই গোটা বিশ্বে প্রস্তাবিত নতুন বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। এর জন্য তাকে ১৯৯৩ এবং ১৯৯৪ সালে জরুরী অর্থনৈতিক অবস্থা ঘোষণা দেয়ার প্রয়োজনই পড়ুক না কেন।
(সূত্র: সি.এফ.আর-এর মুখপত্র ফরেন এ্যাফেয়ার্স-১৯৯২)