📄 জাতিসংঘের সামরিক শক্তি
০১. ১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বুলেটিনে প্রকাশিত হয়েছে, দ্বিতীয় পর্যায়ে ধীরে ধীরে জাতিসংঘের অধীনে আন্তর্জাতিক সেনাবাহিনী গঠন করা হবে। তৃতীয় পর্যায়ে অত্যন্ত সুসংগঠিত ও পরিকল্পিত উপায়ে অতি দ্রুত সকল দেশকে রাসায়নিক সমরাস্ত্র থেকে বঞ্চিত করা হবে। তখন আর কোনো দেশের পক্ষে জাতিসংঘের শাক্তিশালী সেনাবাহিনীকে চ্যালেঞ্জ করা সম্ভব হবে না।
০২. ১৯৯৫ সালের ৫ই জানুয়ারী দৈনিক লস এঞ্জেলেস টাইমসে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে প্রবন্ধকার ব্রেড এবং জি. বিরোয়েটজ লেখেন, সকল দেশকে শক্তিশালী সমরাস্ত্র থেকে বঞ্চিত করার স্বপ্ন একদিন বাস্তবে রূপ লাভ করবে।
০৩. ১৯৯২ সালের ২রা ফেব্রুয়ারী দৈনিক লস এঞ্জেলেস টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে নিবন্ধকার নর মানকিমেস্টার লেখেন, নিরাপত্তা পরিষদের অধীনে একটি স্থায়ী আন্তর্জাতিক সেনাবাহিনী গঠন করা প্রয়োজন। এতে জাতিসংঘের শক্তি ও প্রভাব-প্রতিপত্তি বহু গুণে বৃদ্ধি পাবে। এ সেনাবাহিনীকে আন্তর্জাতিক পুলিশের মর্যাদা দান করা হবে, যার মাধ্যমে জাতিসংঘ তার ইচ্ছা, সংকল্প ও কার্যক্রম সহজেই অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে সক্ষম হবে।
০৪. মার্কিন এক সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সহকারী জোশেফনায়ে ১৯৯২ সালের ২ রা ফেব্রুয়ারী নিউইয়র্ক টাইমসের এক নিবন্ধে লেখেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবশ্য কর্তব্য হচ্ছে, সে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে এমন একটি সেনাবাহিনী গঠন করবে, যার মাধ্যমে জাতিসংঘ তার কার্যক্রম খুব সহজেই বাস্তবায়ন করতে পারবে। এই বাহিনীর সংখ্যা প্রথম স্তরে ৬০ হাজার এবং তা বারটি দেশের সমন্বয়ে গঠিত হবে।
০৫. ১৯৯২ সালের ১১ মে নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, যদি বাস্ত বিকই বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হয়, তাহলে এর জন্য না লাল বাহিনীর, আর না মার্কিন বাহিনীর প্রয়োজন আছে; বরং এর জন্য প্রয়োজন বিভিন্ন দেশের সমন্বয়ে গঠিত নীল হ্যাট লাগানো আন্তর্জাতিক শান্তিবাহিনী। এ শান্তিবাহিনীই বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম। (সূত্র: সি.এফ.আর-এর মুখপত্র ফরেন এ্যাফেয়ার্স-১৯৯২)
📄 নতুন বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা
০১. ১৯৭৫ সালের ১৮ই এপ্রিল মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরী কিসিঞ্জার তার এক বক্তৃতায় বলেন, আমরা একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করতে যাচ্ছি, এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরই প্রধান ভূমিকা থাকবে।
২. মার্কিন পত্রিকা আমেরিকান ওপেনিয়ন-এর ১৯৭২ সালের জানুয়ারী সংখ্যার ৩১তম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা কর্নেল এ্যাডওয়ার্ড মান্ডিল হাউস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এই আশায় প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে অনুপ্রাণিত, এমনকি বাধ্য করেছিলেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করলে পরবর্তীতে খুব সহজেই একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
০৩. মার্কিন প্রেসিডেন্ট সিনিয়র জর্জ বুশ ১৯৯০ সালের ১১ অক্টোবর জাতিসংঘে প্রদত্ত ভাষণে বলেন, আগামী ২০০০ সালের সূচনা হবে প্রকৃতপক্ষে নতুন সহস্রাব্দের ইতিহাসে এক বিপ্লবী পরিবর্তন।
০৪. মার্কিন প্রেসিডেন্ট সিনিয়ন জর্জ বুশ ১৯৮৯ সালের ১৬মার্চ এক ভাষণে বলেন, আগামী ১১ বছরের মধ্যে একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থা অস্তিত্ব লাভ করবে। আমরা এর জন্য কি প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি?
০৫. ১৯৪০ সালে হিটলার তার এক ভাষণে বলেছিলেন, দেশ পূজারীরা আগামীতে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবকে একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যবহার করবে।
০৬. ১৯৫০ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেম্স ওয়ারবার্গ মার্কিন সিনেটে প্রদত্ত ভাষণে বলেন, আমরা চাই বা না চাই, একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা অনিবার্য প্রয়োজন। এখন কথা শুধু এতটুকু, এটি জোরপূর্বক প্রতিষ্ঠা করা হবে নাকি স্বেচ্ছায়।
০৭. প্রফেসর হার্স ১৯৫৩ সালে লিখিত তার গ্রন্থ 'বিশ্ব গণতন্ত্রের মৌলিক উপাদানে' লেখেন, নতুন বিশ্বব্যবব্যবস্থা অনিবার্যভাবেই প্রতিষ্ঠিত হবে। সম্ভবত সেটি বিশ্ব রাজতন্ত্রের আকারে হতে পারে, যা মানুষকে গোলাম বানিয়ে রাখে। এই নতুন বিশ্বব্যবস্থা সে দেশেই প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে, যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ী হবে অথবা এই বিশ্বব্যবস্থা জাতিসংঘকে ধীরে ধীরে শক্তিশালী করার মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
০৮. নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকার ১৯৯২ সালের ২৭ শে জানুয়ারী সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে, প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ যদি দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, তাহলে অবশ্যই গোটা বিশ্বে প্রস্তাবিত নতুন বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। এর জন্য তাকে ১৯৯৩ এবং ১৯৯৪ সালে জরুরী অর্থনৈতিক অবস্থা ঘোষণা দেয়ার প্রয়োজনই পড়ুক না কেন।
(সূত্র: সি.এফ.আর-এর মুখপত্র ফরেন এ্যাফেয়ার্স-১৯৯২)