📄 আধুনিক যুগের আন্দোলন
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইহুদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সবচে' প্রাচীন সংগঠন ফ্রি-মিশন আন্দোলন। গোটা বিশ্বে এই সংগঠনের কর্মতৎপরতা রয়েছে। মানব সমাজের সকল শ্রেণীর প্রত্যেক নামী-দামী ও নির্বাচিত ব্যক্তিবর্গ এই সংগঠনের সদস্য। এই সংগঠন তার লক্ষ্য-উদ্দেশ্যকে সাংগঠনিক ও আন্দোলনের রূপ দেয়ার জন্য 'আধুনিক যুগের আন্দোলন' নাম ধারণ করেছে। এই সংগঠনের রয়েছে নিজস্ব পত্র-পত্রিকা, বই-পুস্তক, ক্যাসেট-সংগীত এবং সাংস্কৃতিক ও আইনী প্রতিষ্ঠান। দু'কথায় যদি এই সংগঠনের সারমর্ম বর্ণনা করতে চান তাহলে বলতে হবে, এই সংগঠন বা আন্দোলনের মৌলিক উদ্দেশ্য নতুন ধর্মের রূপদান, যে ধর্মে শয়তানের পূজা করা হবে, স্বাধীন যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে, যৌনতা ও নেশাকে আইনী মর্যাদা দিয়ে ব্যাপক করা যাবে, বর্বর জংলী পশুর মতো জীবন যাপন করা যাবে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতি অগ্রগতি এবং সকল সাংস্কৃতিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যুদ্ধের আহবান জানানো যাবে।
ফ্রি-মিশন আন্দোলনের তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত যে কোনো পুস্তক-পুস্তিকার পাতা ওল্টালেই এ আন্দোলনের উল্লিখিত উদ্দেশ্যসমূহ এক নজরে সামনে চলে আসে। উনবিংশ শতাব্দীর শেষ লগ্নে ফ্রি-মিশন আন্দোলনের নেতা জেনারেল আলবার্ট বাইক এক ভাষণে বলেছিলেন, প্রত্যেক ফ্রি-মিশন ক্লাব শয়তানের উপাসনালয় এবং তার শিক্ষা দীনী শিক্ষার মতো। এই আন্দোলনের প্রাথমিক নিদর্শনসমূহ তখন জনসম্মুখে আসে যখন ১৯৯২ সালে লন্ডনে ইবলিস ট্রাস্ট (Lacifer Truste) নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এই সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন এলস বেইলে নামক এক মহিলা। এ আন্দোলনটি একমাত্র বেসরকারী সংগঠন, জাতিসংঘে যার উপাসনালয় বিদ্যমান রয়েছে।
১৯৪৩ সালে আলবার্ট হোফম্যান L.S.D নামক নেশা সৃষ্টিকারী ট্যাবলেট আবিষ্কার করেন, যা মানুষের মেযাজ, বিবেক ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রতঙ্গের ওপর প্রভাব সৃষ্টি করে। ১৯৫০ সালে 'মডার্ন এজ' নামক এক পত্রিকা লেখেছিল, মার্কিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এমন প্রজন্ম তৈরিতে প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে, যারা নতুন ধর্মের অনুসারীদের সেনাবাহিনী এবং এই নতুন ধর্মের প্রতিনিধি হবে। এই সেনাবাহিনী দ্বারাই নতুন বিশ্বে নব প্রভাতের সূর্য উদিত হবে। ১৯৫৫ সালে এক ইহুদী কোম্পানী রান্ডা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সি আই এ-এর আবেদনে মানুষের বিবেক, বুদ্ধি ও অঙ্গ-প্রতঙ্গের ওপর, নেশাদ্রব্যের প্রতিক্রিয়ার পরীক্ষা চালিয়েছিল। আলবার্ট হোফম্যান ও এলডস হাকসলে এই পরীক্ষা ও গবেষণার তত্ত্বাবধান এবং দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
এই এলডস সেই লেখক, যিনি 'সাহস ও বীরত্বে পরিপূর্ণ বিশ্ব' নামক গ্রন্থ রচনা করেন। উক্ত গ্রন্থে তিনি নেশাদ্রব্য ব্যবহারের আহবান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, নেশাদ্রব্য ব্যবহারে মানুষ অনেক সমস্যা ও সংকট থেকে মুক্তি পায়।৯ ১৯৬৭ সালে
ব্যাপকভাবে গান-বাজনা, বাদ্যযন্ত্র ও নেশাদ্রব্যের ব্যবহার শুরু হয়। এমন এমন রেকর্ড ও এ্যালবাম মার্কেটে নিয়ে আসা হয়, যাতে শয়তানকে পবিত্র মনে করার প্রতি উদ্বুদ্ধ ও আহবান করা হয়েছে।
১৯৭০ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত নেশাজাত ট্যাবলেট মারিজুয়ানা ও অন্যান্য নেশাদ্রব্য ব্যাপক করার আহবান জানানো হয়। ব্যাপকভাবে এমন চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়, যাতে ব্যাপকভাবে নেশাদ্রব্য ব্যবহার করার প্রতি আহবান জানানো হয়। ১৯৮১ সালে এই উদ্দেশে একটি টিভি স্টেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যাতে বিশেষভাবে নর্তকী, নেশাদ্রব্য ব্যবহারকারী নারী-পুরুষ ও তাদের যৌন মেলামেশার অশ্লীল দৃশ্য উপস্থাপন করা হয়। এ টিভি স্টেশন থেকে প্রচার করা হতে থাকে, যৌন আন্দোলন আজ চূড়ান্ত স্তরে পৌঁছে গেছে। প্রকাশ্যে দাবী করা হচ্ছে, নারী-পুরুষকে স্বাধীনভাবে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ দেয়া হোক। নারীদের পারস্পরিক বিবাহ কিংবা বিবাহ ছাড়াই যৌন সম্পর্কের অনুমতি থাকা উচিত। বিষয়টি নিয়ে এ পরিমাণ প্রোপাগান্ডা চলানো হয় যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন সেনাবাহিনীর মধ্যে এর অনুমতি দানের জন্য খসড়া আইন পর্যন্ত উপস্থাপন করেছিলেন। ১৯৯১ এর ১২ মে নিউইয়র্ক টাইমসের মতো পত্রিকাগুলো লেখেছে, কিছু কিছু লোক শয়তানের পূজাকে আধুনিক যুগের উন্মাদনা আখ্যা দিয়েছে। তারা বলে, আমরা পুনরায় মূর্তি পূজার যুগে ফিরে যাচ্ছি। যদিও শয়তানের পূজার কথা একটি অপ্রাসঙ্গিক বিষয়, কিন্তু এ ধরনের চিন্তাধারা ও আন্দোলন সম্মান সহানুভূতির দাবী রাখে। ১০ ১৯৮১ সালে চার্চ অফ ইংল্যান্ডের প্রধান রবার্ট উইন্স এক বিবৃতিতে শয়তানের পূজার আন্দোলনকারীদের দাবীর প্রতি গুরুত্বের সাথে চিন্তা করার আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা এ আন্দোলনের তত্ত্বাবধানে প্রস্তুতকৃত প্রোগ্রামগুলো গির্জা ঘরে চালাতে পারি।
১৯৯৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী মিসেস গোসলিন এ্যালডার্স এক বিবৃতিতে দাবী করেন, সকল নেশাদ্রব্য আইনী বৈধতা দেয়া হোক। নিউইয়র্ক শহরে ওই সব লোকের আইনী অধিকার স্বীকার করা হয়েছে, যারা সমকামিতায় লিপ্ত। এ ধরনের সমকামী নারী পুরুষের ক্ষেত্রে বিবাহ, তালাক ও উত্তরাধিকার আইন বাস্তবায়ন করা হবে।
শিকাগোতে যে আন্তর্জাতিক ধর্ম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যদিও এটিকে আন্ত র্জাতিক ধর্ম সম্মেলনের নাম দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তাদের কোনো প্রস্তাবে অথবা দলীল- দস্তাবেজে 'আল্লাহ' নাম নেই। উক্ত সম্মেলনে শিশুদের সাথে সম্পর্কিত যেসব ফিল্ম ও টিভি প্রোগ্রাম উপস্থাপন করা হয়েছিল, তা অনেক বেশি পরিমাণে সমগ্র বিশ্বের শিশুদের মাঝে ফ্রি বন্টন করা হয়েছে। চলমান কার্টুন এবং ভিডিও গেমসে শয়তান, তারকা, নক্ষত্র এবং জীব জন্তুর সম্মান মর্যাদা ও পূজার দৃশ্য সম্বলিত প্রোগ্রাম থাকে। আরব বিশ্বের টিভি চ্যানেলগুলো শিশুদের সে প্রোগ্রামই দেখায় যেগুলো আমেরিকায় তৈরি হয়। আরব বিশ্বে অমুসলিম দূতাবাসগুলোর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত স্কুলগুলোতে চকলেটের আকৃতিতে নেশাদ্রব্য, নগ্ন ছবির এ্যালবাম, উলঙ্গ ফিল্মের ভিসিডি শিশুদের মাঝে ফ্রি বিতরণ করা হয়।
টিকাঃ
৯. সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় শহর জেনেভার একটি বিনোদন কেন্দ্র শুধু নেশাদ্রব্য ব্যবহারকারীদের জন্য নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছে। এই বিশেষ অঞ্চলে সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মতান্ত্রিক নেশার ইনজেকশন সরকারী ব্যয়ে লাগানো হয়। সূত্র: সাপ্তাহিক আল মুজতামা, কুয়েত।
১০. কায় রো পুলিশ গত কয়েক বছর পূর্বে শয়তানের পূজারী একটি দলের সন্ধান লাভ করে। সেই দলে মিসরী সমাজের উচ্চ শ্রেণীর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, মন্ত্রী ও ব্যবসায়ীসহ চলচ্চিত্র জগতের নামী-দামী তারকা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সন্তান-সন্ততিদের পাওয়া গেছে। কয়েক বছর পূর্বে কায়রো পুলিশ কিছু কোরিয়ান নওজোয়ানকে গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তারা মিসরীদের মাঝে এমন লিফলেট বিতরণ করছিল, যাতে অতি সত্বর হযরত ঈসার আগমন ও কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সংবাদ দেয়া হয়েছে। শয়তানকে পবিত্র মনে করা ও তার ইবাদত করা এবং স্বাধীন যৌন সম্পর্ক স্থাপনের খোলাখুলি আহবান জানানোর অভিযোগে গত কয়েক বছর পূর্বে কায়রো পুলিশ কায়রোস্থ মার্কিন ইউনিভার্সিটির কয়েকজন মেধাবী ছাত্র এবং ছয় জন ছাত্রীকে গ্রেফতার করে। তদন্তে সেসব ছাত্র-ছাত্রী স্বীকার করেছে, তারা শয়তানের ইবাদত করে। কারণ শয়তানই একমাত্র সত্তা, যে আল্লাহকে চ্যালেঞ্জ করেছে। শয়তানই মানুষকে আন্দোলিত রাখার মতো শক্তি রাখে এবং স্বাধীন যৌন সম্পর্ক স্থাপন ও নেশাদ্রব্য ব্যবহারের অবাধ সুযোগ দেয়। এই আন্দোলনের সদর দফতর আমেরিকায় অবস্থিত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তার শাখা-প্রশাখা রয়েছে। সেসব নওজোয়ানের বয়স ১৬ থেকে ২৫-এর মাঝামাঝি। তাদের বক্তব্য, ২৫ বছর বয়সে শয়তানের পূজারীদের অধিকহারে মদ, নেশা ও নারী ব্যবহারের কারণে মরে যাওয়া উচিত। এরপরও যদি কেউ না মরে তাহলে তাকে কোনোভাবে হত্যা করে দেয়া উচিত। এই শয়তানী সংগঠনের কর্মীরা যখন শয়তানের পূজার জন্য একত্রিত হয়, তখন তারা সবাই কালো লেবাস পরিধান করে। সে লেবাসের ওপর শয়তানের চিহ্ন ও তার ছবির ছাপ থাকে। গলায় বিশেষ ধরনের শেকল ও মালা ঝুলানো থাকে। পূজার সময় মুর্দারের মাথার হাড় সামনে রাখা হয়। বাদ্যের সূর মূর্ছনায় সম্মিলিত উত্তাল নৃত্য চলতে থাকে। চারদিকে আগরবাতি ও লোবান জ্বালানো হয়। তীব্র নেশাদার বুটিকস ও মদের অবাধ ব্যবহার চলতে থাকে। অতঃপর কোন যুবতী যদি যৌনতার আহবান জানায় তাহলে তার বুক ও চেহারার ওপর শূকর, কুকুর ও বিড়ালের তাজা রক্ত মেখে দেয়া হয়। শয়তান যে তার নযরানা কবুল করেছে এটা তার নিদর্শন। এরপর সম্মিলিতভাবে সকলেই ইচ্ছামত যৌনতায় মেতে ওঠে। তাদের আকীদা হচ্ছে, মদ ও নারীর অধিক ব্যবহার দ্বারাই শয়তান রাজি হয়। শয়তানের রাজি সন্তুষ্টি তখনই পূর্ণতায় পৌঁছে, যখন মদ ও নারীর অধিক ব্যবহারের কারণে সে তার জীবন থেকে হাত ধুয়ে বসে। মিসরী পুলিশ মামুলী তদন্তের পর একথা বলে তাদের ছেড়ে দিয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তি কোনো আইনের গণ্ডিতে পড়ে না। এই ফ্রি-মিশন আন্দোলনের অধীনে K ওP নামে দু'টি গোপন দল থাকে, যারা গোটা বিশ্বে সি.আই.এ ও মোসাদের সহযোগিতায় রাজনৈতিক, সামাজিক, শাস্ত্র বিশেষজ্ঞ ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব এবং লেখক ও সাংবাদিকদের সঠিক সত্য পথ থেকে বিচ্যুত করার প্রচেষ্টা চালায় এবং হত্যা ও সন্ত্রাসী কর্মকা ের মাধ্যমে স্থিতিশীল সুসংহত দেশগুলোতে অস্থিরতা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে। (সূত্র: সাপ্তাহিক আল মুজতামা, কুয়েত)
📄 নতুন বিশ্বব্যবস্থার অন্তরালে ক্রিয়াশীল সংগঠন-সংস্থাসমূহ
নতুন বিশ্বব্যবস্থার রূপদানের নিয়মতান্ত্রিক প্রচেষ্টা ও পরিকল্পিত প্রয়াস ১৭১৭ সালে শুরু হয়। ফরাসী বিপ্লবের (১৭৮৯) অন্তরালে এই আন্দোলনই নীতি নির্ধারক শক্তি হিসেবে কর্মতৎপর ছিল। এটি ছিল মূলত ফ্রি-মিশন আন্দোলন, যার কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও বুদ্ধিবৃত্তিক পথ প্রদর্শনকারীদের মধ্যে জেনারেল আলবার্ট বাইক, স্মিথ এ্যাঙা, কালমার্কস, নাজী দর্শনের জনক কার্ল আর্থার, ইটালির লুঈসাব মিজালী প্রমুখ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। স্কুল অফ বোন্স নামক সংগঠন সর্বপ্রথম আমেরিকার ইয়েল ইউনিভার্সিটিতে প্রতিষ্ঠিত হয়। ফ্রি-মিশনের তত্ত্বাবধানে কর্মরত সকল সংগঠন সংস্থার মধ্যে এসবি নামক সংগঠন সবচে' বেশী গোপনীয়, কিন্তু অসাধারণ শক্তিশালী ও সক্রিয় সংগঠন। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিম লে এই সংগঠনের অসাধারণ প্রভাব প্রতিপত্তি রয়েছে। যার প্রসিদ্ধ সদস্যদের মধ্যে জর্জ বুশ সিনিয়র, জুনিয়র, তার পিতা ব্রাস্কট বুশ (যিনি হিটলারকে সহযোগিতা করেছিলেন) এবং জর্জ বুশের সাংবাদিক পুত্র উইলিয়াম বুকলে উল্লেখযোগ্য। নতুন বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা আন্দোলন শুরুর দিন থেকে যেসব সংস্থা এ আন্দোলনের ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, তাদের মধ্যে রকফেলার ফাউন্ডেশন, ডেল কার্নেগী ফাউন্ডেশন ও ফোর্ড ফাউন্ডেশন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এসব সংস্থা সেবা সংস্থার লেবেল লাগিয়ে ট্যাক্স থেকে অব্যাহতি লাভ করেছে। মার্কিন সিনেট ১৯৫২ সালে প্রস্তাব-১৬৫ এর মাধ্যমে একটি কমিটি গঠন করে, যার উদ্দেশ্য ছিল এ জরিপ চালানো যে, এসব সংস্থার অর্থ কোথাও মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে ব্যয় হচ্ছে না তো। উপরোল্লিখিত তিনটি সংস্থা ছাড়াও আরো ১৯টি সংস্থা সংগঠন ইহুদী পরিকল্পনা উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করার জন্য গোটা ইউরোপ ও আমেরিকায় সক্রিয় রয়েছে। এদের মধ্যে সকল সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও কর্মক্ষেত্র সুনির্দিষ্ট, কিন্তু বাহ্যিক দৃষ্টিতে এগুলোর একটি অপরটি থেকে আলাদা মনে হয়। যেমন World Cityzenry ও Panned Parent Hood সংস্থা দু'টির দায়িত্ব হলো, পরিবার পরিকল্পনা, মানবাধিকার, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক উন্নতি-অগ্রগতির তত্ত্বাবধান করা। এই সংস্থা দু'টির অধীনে চব্বিশটি শাখা সংস্থা স্ব স্ব পরিসরে কর্মতৎপর রয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে কাজ করছে 'Rhodes Scholar Ship' নামক প্রতিষ্ঠান। এ সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করেন দক্ষিণ আফ্রিকার স্বর্ণ ও হীরা খনির মালিক ইহুদী সেশল রাহুডস। তার নামে রাহুড এশিয়া নামক একটি শহরও রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য বিশ্বের সকল ইউনিভার্সিটি থেকে প্রখর মেধাবী ছাত্রদের মূল্যবান স্কলারশিপ দিয়ে ইংল্যান্ডের নামী-দামী ইউনিভার্সিটিতে পড়ানো। লেখাপড়া শেষ করার পর তাদের স্বীয় উদ্দেশ্য বাস্ত বায়নের জন্য ব্যবহার করা। যেসব নামী-দামী ও প্রসিদ্ধ ব্যক্তি এ সংস্থার স্কলারশিপ নিয়ে লেখাপড়া করেছেন, তাদের মধ্যে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন, সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম ফেলব্রাইট, ডেন রস্কি, ফেরাঙ্গ গিজ, হাওয়ার্ড, স্মিথ হামবল ব্রাডলে প্রমুখ।
ফ্যাবিয়ান সোসাইটি (Fabian Society) নামক একটি প্রতিষ্ঠান রোমক জেনারেল কোন্টার ফেবারস মেক্সিমোস-এর নামে ১৮৮৪ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। কোন্টার ফেবারস মেক্সিমোস রোমের সেই জেনারেল ছিলেন, যিনি শত্রুকে বড় বড় যুদ্ধের পরিবর্তে ছোট ছোট যুদ্ধের মাধ্যমে পরাজিত করার পক্ষে ছিলেন। এ জন্য এই প্রতিষ্ঠানের মনোগ্রামে কেঁচোর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। পরবর্তীতে এর মনোগ্রাম পরিবর্তন করে ছাগলের চামড়া পরিহিত বাঘের ছবি সম্বলিত মনোগ্রাম নির্ধারণ করা হয়। এ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতার নাম সিডনী উফ। এর মৌলিক উদ্দেশ্য ছিল, কমিউনিস্টদের সমর্থন সহযোগিতা প্রদান করা, কিন্তু তারা কঠোরতার পলিসি গ্রহণ করেনি। প্রসিদ্ধ ঔপন্যাসিক ও ঐতিহাসিক এইচ, জে উইলসন এই প্রতিষ্ঠানের সদস্য ছিলেন। জর্জ আর্বেল ১৯৯৪ সালে রচিত স্বীয় গ্রন্থে লেখেন, আমাদের উদ্দেশ্য সরাসরি রাষ্ট্র ক্ষমতা অর্জন করা, এটাকে মাধ্যম বানানো নয়। এই সংগঠনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি লেখেন, আমরা এমন বিপ্লব সৃষ্টি করি না, যা ডিক্টেটরশিপকে সমর্থন করে; বরং এমন বিপ্লবের পরিবেশ তৈরি করি, যা ডিক্টেটরশিপ জন্ম দেয়। আরব বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধানগণ এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
📄 লন্ডন ইকোনোমিক্স স্কুল
রকফেলার ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহযোগিতায় মি. সিডিনোব 'লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিক্স' নামের প্রতিষ্ঠানটি এ উদ্দেশে স্থাপন করেন যে, এতে বিভিন্ন দেশের শাসক, রাষ্ট্রপ্রধান ও শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সন্তানরা সমাজতন্ত্রের শিক্ষা লাভ করবে। এই স্কুলের ছাত্রদের মধ্যে রবার্ট কেনেডে, ডেভিড রকফেলার, ভারতে নিযুক্ত আমেরিকান রাষ্ট্রদূত ডেনিসেল মোনহান এবং কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট মোকনিয়াটা উল্লেখযোগ্য।
📄 মার্কিন গির্জা সংগঠন
১৯০৮ সালে হেনরী ফোর্ড এবং রোসগান্স রকফেলার ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় 'মার্কিন গির্জা সংগঠন' প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৪২ সালে এই প্রতিষ্ঠান এমন কিছু প্রস্তাব উপস্থাপন করেছিল, যেসব প্রস্তাবে এমন একটি বিশ্বব্যবস্থার রূপরেখা বিদ্যমান ছিল, যার সামরিক বাহিনী সকল দেশের ওপর কর্তৃত্ব করবে। এই বিশ্বব্যবস্থা এমন একটি অর্থব্যবস্থা রূপায়ণ করবে, যা বিশ্ব ব্যাংকের অধীন হবে। ১৯৪৮ সালের ২৩ আগস্ট এ সংগঠনের নামকরণ করা হয় 'বিশ্ব গির্জা সংস্থা'। এটি নবরূপে প্রতিষ্ঠার পর যেসব নতুন উদ্দেশ্য সামনে আসে, তন্মধ্যে একটি মনোহারি উদ্দেশ্য ছিল, পুঁজিবাদী ব্যবস্থা নির্মূল করে একটি নতুন অর্থব্যবস্থা প্রণয়ন করা। মার্কিন গির্জা সংস্থা নাম ধারণ করে মৌলিক লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের দিক দিয়ে সংগঠনটি খৃস্টান বিশেষতঃ মার্কিনীদের সাথে প্রতারণা করেছে। নাম ধারণ করেছে মার্কিন গির্জা সংস্থা, কিন্তু উদ্দেশ্য পুঁজিবাদী ব্যবস্থা নির্মূল করা।১১
টিকাঃ
১১. ইউরোপ-আমেরিকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গির্জাগুলোর ওপর সংগঠনটির একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে। এটি খৃস্টবাদের লেবাস পরে ভেটিকান সিটির ওপরও দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। তাদের ক্ষমতা এত অসাধারণ যে, রোমের পোপ জন পলের সভাপতিত্বে ১৯৬২ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্ব খৃস্ট সম্মেলন ইহুদীদের হযরত ঈসা হত্যার অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস দিয়েছে।