📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মগজ ধোলাইয়ের সূচনা

📄 বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মগজ ধোলাইয়ের সূচনা


একবার আমেরিকান ব্রডকাস্টিং কোম্পানী (A B C)-এর এক প্রতিনিধি জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব ড. বুট্রোস ঘালিকে সোমালিয়া সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। জবাবে ড. ঘালি বলেন, সোমালিয়ায় মার্কিন সৈন্য প্রেরণ এ কারণেই সম্ভব হয়েছিল যে, এ উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য একাধারে দীর্ঘ দশ মাস মিডিয়া ও গণমাধ্যমকে উৎসর্গ করে দিয়েছিলাম। এর দ্বারা ড. ঘালি বুঝাতে চেয়েছেন, সোমালিয়ায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ বিশ্ববাসীর সামনে গ্রহণীয় বানাবার জন্য সর্বপ্রথম মিডিয়ার মাধ্যমে সোমালিয়ায় ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষের কাহিনী দুনিয়াবাসীর কাছে ভয়াবহ আকার বানিয়ে পেশ করা হয়েছিল। ড. ঘালি বলেন, আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে কেবল এ সংবাদ ও চিত্রই পেশ করতে লাগলাম যে, সোমালিয়ার জনগণ ক্ষুধা, দারিদ্র ও রোগ শোকে মৃত্যু বরণ করছে। টেলিভিশন ও সংবাদপত্রগুলো ক্ষুধার্ত ও উলঙ্গ সোমালী জনগণের এমন করুণ ও মজলুম চিত্র দুনিয়াবসীর সামনে পেশ করতে থাকে যাতে বিশ্ববাসী বুঝে, এই মরুভূমিতে না পানি আছে, না খাবার আছে, না মাথা গোঁজার ঠাই আছে, আর না আছে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সেখানকার জনগণ সকল মৌলিক প্রয়োজন থেকে বঞ্চিত। যদি কোথাও থেকে কোনো সাহায্য সহযোগিতা আসে তাও আবার অসভ্য ও জংলী মানুষগুলো সেগুলো নিয়ে পরস্পরে লড়াইয়ে লিপ্ত হয়। এভাবে অব্যাহত প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে আগ্রাসনের পরিবেশ তৈরি হয়ে গেলে বিশ্ববাসীর বদ্ধমূল ধারণা হয়ে গেল যে, সেখানে বিদেশী হস্তক্ষেপ ছাড়া জনগণকে রক্ষার আর কোন পথ নেই। আর আমেরিকা এ উদ্দেশ্যেই মিডিয়ার মাধ্যমে অব্যাহত প্রোপাগান্ডা চালিয়ে আসছিল। এখন কারো পরামর্শ ছাড়াই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেখানে সামরিক হস্তক্ষেপের একটি সুবর্ণ সুযোগ হাতে আসল। যে সুযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সোমালিয়ার ওপর সামরিক আগ্রাসন চালায়। পরিস্থিতির আলোকে এখন আর কারো একথা বলার প্রয়োজন হল না, সেখানে সামরিক আগ্রাসনের আসল কারণ ও সমস্যা কি? আসল উদ্দেশ্য পর্দার অন্তরালেই রয়ে গেল। গোটা বিশ্ব এই চিত্তাকর্ষক মনোরম দৃশ্য দেখতে লাগল, মার্কিন সৈন্য মুক্তিদূত হয়ে নিজেদের জীবনবাজি রেখে স্ত্রী-পুত্র সব ছেড়ে হাজার হাজার মাইল দূর থেকে সোমালী জনগণের জন্য স্কন্ধে ত্রাণের বোঝা বহণ করে এদিক সেদিক দৌড়াচ্ছে। মার্কিন বাহি- নী কর্তৃক বিদেশী সাহায্য ও ত্রাণের সুষম বন্টনের কারণেই ক্ষুধার্ত ও মুমূর্ষু সোমালী জনগণ সুস্থ সবল হয়ে ওঠছে। তাদের শরীরে মার্কিন পোশাক দেখা যায়। তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই মূল্যবান সহযোগিতা মনে-প্রাণে গ্রহণ ও মূল্যায়ন করছে। সোমালী জনগণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানবদরদী পলিসির প্রশংসায় পঞ্চমূখর। প্রতিটি সোমালী জনগণই চাচ্ছিল মার্কিন সৈন্য আমাদের এখানে থেকে যাক। উপসাগরীয় যুদ্ধে ঠিক একই নাটক মঞ্চস্থ করা হয়েছিল। শুধু মার্কিন জনগণই নয়; বরং গোটা বিশ্বাবাসীর সামনে সাদ্দামের জুলুম-অত্যাচারের চিত্র সুবিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছিল, কিন্তু এ নাটক মঞ্চায়নের পূর্বে সাদ্দামের মাধ্যমে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করানো হয়েছে। তাদের স্বার্থে সাদ্দামকে ব্যবহার করা হয়েছে। সে ছিল তাদের ক্রীড়নক। এ নাটকে কুয়েতকে কুরবানীর বকরী বানানো হয়েছে। সাদ্দাম ও জর্জিয়ার খৃস্টান প্রচারক তারেক আজীজকে তাদের ক্রীড়নক বানানো হয়েছে। এই তারেক আজীজই ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী হয়ে আমেরিকার নাকি ইসরাঈলের প্রতিনিধিত্ব করে যাচ্ছিলেন-তা কারো বোধগোম্য হচ্ছিল না।৭

টিকাঃ
৭. খুব তাড়াতাড়িই উপসাগরীয় যুদ্ধের মুখোশ উন্মোচিত হয়ে যায়। এই যুদ্ধ ছিল সাদ্দাম হুসাইনের আর্থিক প্রয়োজন পূরণ এবং জাতিসংঘের বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার একটি সক্রিয় ও শক্তিশালী হাতিয়ার; বরং ইরাককেই নতুন বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় অভিজ্ঞতার ক্ষেত্র বানানো হয়েছে। যখনই ইরাকের আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে তখনই একে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে জায়নবাদী গোষ্ঠী আরব বিশ্বের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে আরবদের বিভ্রান্ত করা ও তাদের দৃষ্টিকে প্রকৃত বিষয় থেকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার এবং তাদের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের জন্য সাদ্দাম হুসাইনকে উসকে দিয়ে তার মাধ্যমে বিভিন্ন আরব দেশে সামরিক হামলা চালানো হয়েছে, যাতে দূর্বল ও সাদা মনের আরব মানুষগুলো আত্মরক্ষার জন্য নিজেদের মার্কিন জায়নবাদীদের ক্রোড়ে সঁপে দেয়। উপসাগরীয় যুদ্ধ বিষয়ে যত গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো অধ্যয়ন করলে জানা যায়, জাতিসংঘের যাদুকররা গোটা বিশ্বকে চরম বোকা বানিয়েছে। এই কৃত্রিম যুদ্ধের রিপোর্টকারী হাজার হাজার সাংবাদিক তাদের তীব্র মেধা ও চাতুর্য সত্ত্বেও গোলক ধাঁধায় পড়ে একেবারে বোকা ও নির্বোধ বনে গেছে। দীর্ঘ দিন পর তারা জানতে পারে, শুধু সিএনএনকেই কেন বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে এই যুদ্ধের রিপোর্ট করার জন্য একচ্ছত্র আধিপত্য দেয়া হয়েছিল। লাগাতার মার্কিন ধ্বংসাত্মক বোমাবর্ষণের পরও কিভাবে ইরাক পূর্বে যে অবস্থায় ছিল সে অবস্থায় এবং সাদ্দাম হুসাইনের মতো ভয়ানক শত্রু জীবিত থেকে যায়? পাকিস্তানের লাহোর থেকে প্রকাশিত তরজুমানুল কুরআনের সম্পাদক প্রফেসর খোরশিদ আহমদ তার এক সম্পাদকীয়তে মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দানবীয়তা ও তার ষড়যন্ত্র বিশ্লেষণ করতে গিয়ে লেখেন, মধ্যপ্রাচ্য একটি দর্পণ, যার মধ্যে গোটা মুসলিম উম্মাহর ট্রাজেডির দেখা যেতে পারে। আমেরিকা, পশ্চিমা জাতি-গোষ্ঠী, জাতিসংঘ, ইসরাঈল, আরব বিশ্বের শাসকবর্গ, তুরস্কের বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার, ইরাকের শাসকগোষ্ঠী ও সাদ্দام হুসাইন-এগুলো সব একই নাটকের বিভিন্ন চরিত্র।

📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 নতুন বিশ্বব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য

📄 নতুন বিশ্বব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য


জাতিসংঘ যদি নতুন বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রধান কেন্দ্র হয়ে থাকে, প্রয়োজন পড়লেই যে তার সংবিধান ও চার্টার পরিবর্তন করতে দ্বিধা করে না, তাহলে এর উদ্দেশ্য এ ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না যে, প্রত্যাশিত আন্তর্জাতিক সরকার ব্যবস্থা কোনো নিয়ম- নীতির অধীন হবে না এবং তার প্রধান বা সুপ্রিমো সীমাহীন ক্ষমতা ও প্রভাব-প্রতিপত্তির মালিক ডিক্টেটর হিসেবে আবির্ভূত হবে। যেমন জাতিসংঘের ভূমিকা দ্বারা একথা সুস্পষ্ট বুঝে আসে। এর ভূরি ভূরি দৃষ্টান্ত রয়েছে।

০১. চীন যখন কোরিয়ার বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালায়, তখন জাতিসংঘ সঙ্গে সঙ্গে চীনের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং চীনকে 'শান্তির জন্য হুমকি' আখ্যায়িত করে, কিন্তু দু-মুখো জাতিসংঘ পরক্ষণেই আবার চীনা বর্বরতার পুরস্কার এভাবে দিল যে, চীনকে জাতিসংঘের শুধু সদস্যই করে নেয়নি, বরং নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো ক্ষমতাও প্রদান করে। অথচ জাতিসংঘ চার্টারে সুস্পষ্টভাবে একথা উল্লেখ আছে, শান্তির জন্য হুমকি কোনো দেশ জাতিসংঘের সদস্য হতে পারবে না।

০২. নিরাপত্তা পরিষদের কাজ প্রস্তাব পাস করা। সেমতে সে অসংখ্য অগণিত প্রস্তাব পাশ করে থাকে, কিন্তু বাস্তবায়ন করে কেবল সেগুলোই, যেগুলো তার পছন্দনীয় ও স্বার্থের পক্ষে হয়। ইসরাঈলের বিরুদ্ধে অসংখ্য অগণিত প্রস্তাব পাশ করা হয়েছে, কিন্তু এই সন্ত্রাসী ও বর্বর দেশটির বিরুদ্ধে জাতিসংঘ এ পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি; বরং ইসরাঈলের দাবীর ওপর জাতিসংঘ বেশ কিছু প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সন্ত্রাসী ইসরাঈল ফিলিস্তিন ও লেবাননের ওপর সর্বদা বোমা বর্ষণ করে আসছে। ইরাকের আণবিক স্থাপনার ওপর বোমাবর্ষণ করেছে। এরপরও তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি, কিন্তু লিবিয়া ও সুদানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে যখন প্রস্তাব ওঠে, তখন লকার-বি বিমান ধ্বংসে লিবিয়ার জড়িত থাকার কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও জাতিসংঘ গায়ের জোরে লিবিয়ার বিরুদ্ধে অবরোধ প্রস্তাব পাস করে। এমনকি তার বিরুদ্ধে আকাশ নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তও জারি করা হয়। ইরাকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রস্তাব পাস করে তা খুব ত্বড়িৎ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সুদান এবং আফগানিস্তানের সাথেও একই আচরণ করা হচ্ছে।


গোটা বিশ্বের প্রায় সকল দেশই জাতিসংঘের জেনারেল এ্যাসেম্বলী-সাধারণ পরিষদের সদস্য, কিন্তু তার পাসকৃত প্রস্তাবের তেমন কোনো গুরুত্ব নেই। অথচ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য মাত্র ১৫টি দেশ, কিন্তু তার পাসকৃত প্রস্তাবে পুরো বিশ্বে ভূমিকম্প শুরু হয়ে যায়। কারণ নিরাপত্তা পরিষদের পাসকৃত প্রস্তাব বাস্তবায়ন খুবই জরুরী। আবার নিরাপত্তা পরিষদের অভ্যন্তরীণ অবস্থা হচ্ছে, সকল প্রস্তাব পরিষদের চার স্থায়ী সদস্যের পক্ষ থেকেই কেবল পাস করা হয়। আর বাকী সদস্যরা তাদের কথামতো কাজ করবে।

০৩. উপসাগরীয় যুদ্ধে যেসব দেশ অংশ নিয়েছিল, সকলেই জাতিসংঘের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধভাবে ইরাকের বিরুদ্ধে ময়দানে আবির্ভূত হয়েছিল। জাতিসংঘ সনদ ও তার সাথে যুদ্ধে অংশীদার দেশগুলোর সংবিধানে একথা লিপিবদ্ধ আছে, যুদ্ধের সময় বিদ্যুৎ, পানি, হাসপাতাল ইত্যাদিকে টার্গেট বানানো যাবে না, কিন্তু জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সকল দেশ এসব মৌলিক স্থাপনাকে টার্গেট বানিয়েছে। বৃটেন, ফ্রান্স ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গায়ের জোরে ইরাকের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক আবরোধ আরোপ করেছিল। এমনকি খাদ্য-শস্য ও ওষুধ পর্যন্ত ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর এবং উত্তর ও দক্ষিণ ইরাকের ওপর সামরিক বিমান উড্ডয়নের আকাশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

এসব থেকে সুস্পষ্ট অনুমিত হয়, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে যে আন্তর্জাতিক সরকার প্রতিষ্ঠা লাভ করতে যাচ্ছে, তা কোনো নিয়ম-কানুন ও তত্ত্বাবধায়কের অনুগত হবে না। এমনিভাবে না কোনো রাষ্ট্রেরও এই সাহস বা অধিকার থাকবে যে, সে এই আন্তর্জাতিক সরকার বা জাতিসংঘকে তার কোনো অন্যায় অপরাধ ও আইন লংঘনের কারণে সতর্ক করবে বা শাসাবে। একথার সমর্থন জাতিসংঘের নীতিনির্ধারকদের বক্তৃতা-বিবৃতি থেকেই পাওয়া যায়, যা তারা বিভিন্ন সময় দিয়ে থাকেন।

ইহুদী পুঁজিপতি ডেভিড রকফেলার ১৯৭৩ সালে একবার চীন সফরে গিয়েছিলেন। সেখানে সাংস্কৃতিক বিপ্লবে লাখো মানুষ মুত্যুমুখে পতিত হয়েছিল, কিন্তু রকফেলার এসব কিছু পেছনে ঠেলে চীনের খুব প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লবে যত ক্ষতিই হোক না কেন এবং তাতে তাদের যত মূল্যই দিতে হোক না কেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই, এ বিপ্লব চাইনিজদের ভেতর উচ্চতর মানবিক যোগ্যতা ও প্রতিভার জন্ম দিয়েছে। এখন তারা পূর্বের তুলনায় আরো ভালভাবে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা করতে সক্ষমতা রাখে; বরং এই সাংস্কৃতিক বিপ্লব গোটা সমাজব্যবস্থায় অভ্যন্তরীণ প্রাণ চাঞ্চল্য সৃষ্টিতে নজীরবিহীন সফলতা অর্জন করেছে। মাও-এর নেতৃত্বে যে বিপ্লব এসেছে তা মানবেতিহাসের সবচে' সফলতম বিপ্লব।

নিউইয়র্ক টাইমস চীনের উন্নতি অগ্রগতির ওপর সমীক্ষা মন্তব্য করতে গিয়ে ১৯৬১ সালের ১৯ই আগস্টের এক নিবন্ধে লেখেছে, কমিউনিস্ট বিপ্লবের বিরুদ্ধে যে কোনো বিদ্রোহ নির্মূল করা আমাদের মৌলিক কর্তব্য। কারণ কমিউনিজমের বিরুদ্ধে যদি কোন পাল্টা বিপ্লব আসে তাহলে এর অর্থ ধ্বংস ও বরবাদী ছাড়া আর কিছু নয়। কমিউনিজমকে শক্তিশালী ও সুসংহত করা আমাদের উপকারে আসবে। কমিউনিজম

ব্যবস্থার সাথে জাতিসংঘের কোন কোন স্বার্থ ও ফায়দা সংশ্লিষ্ট রয়েছে, তার বিররণ দিতে গিয়ে জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ কমিটি 'শান্তির অন্বেষা' নামক এক রিপোর্টে লেখেছে, আমরা রাশিয়ার গোপন পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই, যার এক ইশারাতেই দুইশ' মিলিয়ন লোককে গ্রেফতার করা সম্ভব। অতএব কমিউনিজম ব্যবস্থাকে পতনের হাত থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজন এই ব্যবস্থার প্রতি আমাদের অব্যাহত সমর্থন জানানো। কারণ কমিউনিজম দ্বারা আমাদের পরিকল্পিত আন্তর্জাতিক সরকার প্রতিষ্ঠায় সাহায্য- সহযোগিতা পাওয়া যাবে।

৭ই এপ্রিল ১৯৭০ সালে জাতিসংঘের মহাসচিব লজ এঞ্জেলেস টাইমস পত্রিকার এক নিবন্ধে রাশিয়ান নেতা লেলিনের খুব প্রশংসা করে বলেন, মি. লেলিন রাশিয়ায় যেভাবে শাসনক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেছেন, তা জাতিসংঘের জন্য এক আদর্শ নমুনা।

টিকাঃ
৮. যুদ্ধের ভাঙ্গা-গড়ার চিত্র তার একটি অংশ। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও তাতে শিথিলতা আনা, দাবী ও দলীল-প্রমাণ, প্রকৃত সংকল্প ও ষড়যন্ত্র, হুমকি-ধমকি, প্রতারণা ধোকাবাজি, ওয়াদা খেলাফী-সবই নাটকের বিভিন্ন চরিত্রের ডায়ালগ মাত্র। আরেকটু অগ্রসর হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্রাজ্যবাদের পটভূমি ও তার আগ্রাসী থাবার বিস্তারিত বর্ণনা দেবার পর বর্তমান ট্রাজেডি থেকে প্রফেসর খোরশিদ আহমদ এই ফল বের করেছেন, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার বিস্তৃত ইসলামী অঞ্চল জুড়ে বিরাজিত চলমান দ্বন্দ্ব সংঘাত, উত্তেজনা অস্থিতিশীলতা কখনো প্রশমিত হবে না। ক্রমশঃ তা বৃদ্ধি পাবে।' সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা বার্জেনেস্কী ও মার্কিন জাতীয় দৈনিক নিউজউইকের বরাতে প্রফেসর খোরশিদের সমর্থনে দলীল- প্রমাণও পেশ করা হয়েছে। নিউজউইক লেখেছে, 'যদি সাদ্দাম হুসাইন না থাকত তাহলে আমাদেরকে আরেকজন সাদ্দام হুসাইন আবিষ্কার করতে হত।' নিউজউইকের এ উদ্ধৃতিই মুসলিম উম্মাহর দৃষ্টি খুলে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কে আমেরিকার পলিসি নিউজউইকের এ উদ্ধৃতি দ্বারাই সুস্পষ্ট হয়ে যায়। (সূত্রঃ নিউজউইক-১৬ই সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬)

📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 মানব বসতি ও নৈতিক মূল্যবোধ

📄 মানব বসতি ও নৈতিক মূল্যবোধ


মানব বসতি বৃদ্ধির ব্যাপারে নতুন বিশ্বব্যবস্থার প্রবক্তা ও স্বপ্নদ্রষ্টাদের দৃষ্টিভঙ্গি হলো, জনসংখ্যা সীমিত হওয়া উচিত। অপরদিকে বিশ্বযুদ্ধের পর প্রসিদ্ধ বৃটিশ দার্শনিক বার্টা রাসেল মানবতার ধ্বংসলীলা প্রত্যক্ষ করে এই প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছিলেন যে, পঞ্চাশ মিলিয়ন মানুষ যদি জীবন থেকে হাত ধুয়ে বসে তাতে কি হয়েছে? এই সংখ্যা তো নিতান্তই নগণ্য। প্রত্যেক দিন বিশ্বের জনসংখ্যায় পাঁচ লাখ আশি হাজার শিশুর প্রবৃদ্ধি ঘটছে। যুদ্ধ তার কাজ পুরো করতে পারেনি। এখন জনসংখ্যা কম করার জন্য রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করা প্রয়োজন, যাতে বিশ্ব অপ্রয়য়োজনীয় মানব শূন্য হয়ে পড়ে এবং এই ভূ-পৃষ্ঠে কেবল স্বাধীন ও সচ্ছল সমৃদ্ধশালী মানুষই থাকতে পারবে। সেমতে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বৈজ্ঞানিকরা এইডস প্রসারের ইনজেকশন আবিষ্কার করেছে, আফ্রিকার দেশগুলোতে যার পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।

১৯৬০ সালে পল আর্চ নামক এক লেখক 'জনসংখ্যার বোমা' নামক গ্রন্থে লেখেন, এই সময় জনসংখ্যার বোমা পুরো দুনিয়া ধ্বংস করে দিচ্ছে। আমরা তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। ক্যান্সারতুল্য ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সকল নিদর্শন চিহ্নিত করত আমাদের কিছু না কিছু করতেই হবে। প্রয়োজনে ক্যান্সারতুল্য জনসংখ্যা বৃদ্ধির রোগ অপারেশনের জন্য আমাদের বর্বরতা ও জংলী মনোভাব প্রদর্শন করতে হবে। আমাদের প্রয়োজনের তাগিদেই এমন অমানবিক কা করতে হবে।

বিশ্ব ব্যাংকের চেয়ারম্যান রবার্ট ম্যাকনামারা ১৯৭৯ সালের অক্টোবরে এক ভাষণে বলেছিলেন, জনসংখ্যা প্রতিরোধ করার দু'টি পদ্ধতি আমাদের কাছে রয়েছে। প্রথম পদ্ধতি হলো, অসাধারণ দ্রুতগতিতে যে জন্ম হার বাড়ছে তার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে। দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো, মৃত্যুর হারে আরো বৃদ্ধি ঘটাতে হবে। এ দুই পদ্ধতি ছাড়া জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের আর কোন পদ্ধতি নেই। এই আণবিক যুগে যুদ্ধই একমাত্র চূড়ান্ত পদ্ধতি, যার মাধ্যমে খুব দ্রুততার সাথে স্বল্প সময়ে জনসংখ্যার ওপর নিয়ন্ত্রণ লাভ করা সম্ভব। ক্ষুধা, দারিদ্র ও অসুখের কারণে মানুষ প্রাকৃতিকভাবে মৃত্যু বরণ করে, কিন্তু এর গতিবেগ খুবই ধীর। এভাবের ধীর গতিতে জনসংখ্যার ওপর নিয়ন্ত্রণলাভ অসম্ভব।

১৯৭৪ সালে কিসিঞ্জার, জর্জ বুশ এবং বার্নাট ক্রাফটের সমন্বয়ে গঠিত এক কমিটি বিশ্বের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার ব্যাপারে একটি রিপোর্ট তৈরি করে। সেটি ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিষয়ক রিপোর্ট। এ রিপোর্টকে জরিপ-২০০ বলা হয়। উক্ত রিপোর্টে বলা হয়েছিল এমন ১৩টি দেশ রয়েছে, যেগুলো তার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার কারণে মার্কিন স্বর্থের জন্য বিপজ্জনক। তন্মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মিসর, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া, মেক্সিকো, ব্রাজিল, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, ইথিওপিয়া এবং কলম্বো ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এসব দেশের ওপর চতুর্দিক থেকে চাপ সৃষ্টি করা জরুরী, যাতে তারা ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। এর জন্য গর্ভ প্রতিরোধ উপকরণ ব্যবহার ছাড়াও অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তৃতীয় বিশ্বের অর্থনৈতিক সমস্যা সংকট নিরসনে যেসব বাধা-বিপত্তি রয়েছে, বিশেষ করে পরিবার পকিল্পনার বিরুদ্ধে যেসব আওয়াজ ওঠছে, তা কঠোর হস্তে নির্মূল করতে হবে। এ জরিপের পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট গোটা বিশ্বে জনসংখ্যা হ্রাস করার পলিসি বাস্তবায়ন করার মিশন গ্রহণ করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীনের পরিবার পরিকল্পনা নীতিকে খুব পছন্দের দৃষ্টিতে দেখছে, যেখানে একটি পরিবারের জন্য একটি সন্তানই যথেষ্ট হওয়ার কথা বলা হয়েছে। জিমি কার্টারের সরকার তার রিপোর্ট ২০০০-এ আহবান জানিয়েছে, গোটা বিশ্বের জনসংখ্যা কেবল দুই বিলিয়ন হওয়া উচিত।

১৯৯৩ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন জাতিসংঘে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেছিলেন, বিশ্বের অধিবাসীদের আমরা তখনই সুস্থ ও সচ্ছল দেখতে পাব, যখন ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার ওপর নিয়ন্ত্রণ লাভ করা সম্ভব হবে। আমরা আগামী অর্ধশতাব্দীর ভেতর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যাকে বরদাশত করতে পারি না। জর্জ অরবেল নামক এক মার্কিন লেখক ১৯৮৪ সালে একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। উক্ত গ্রন্থে তিনি এমন এক বিশ্বের পরিকল্পনা পেশ করেন, যে বিশ্বে শিশু জন্মের ওপর সকল সরকারের পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। শিশু জন্মদান কর্ম সম্পাদনের জন্য নির্ধারিত কিছু পুরুষ ও মহিলা থাকবে। অবশিষ্ট নারী পুরুষকে জোরপূর্বক ইনজেকশনের মাধ্যমে বন্ধ্যা বানিয়ে দেয়া হবে। লেখকের পেশকৃত এ পরিকল্পনা থেকে সহজেই অনুমিত হয়, আগামী যে বিশ্বব্যবস্থা আমাদের মাথার ওপর চাপিয়ে দেয়া হবে, তার ধরন ও স্বরূপ কি হবে? যেমন চীন, শ্রীলংকা ও থাইল্যান্ডে এই পরিকল্পনা এভাবে বাস্তবে রূপ দেয়া হয়েছে যে, চীনে ২৮%, শ্রীলংকায় ২৫% এবং থাইল্যান্ডে ২২% বিবাহিত নারীদের ইনজেকশনের মাধ্যমে চিরকালের জন্য বন্ধ্যা বানিয়ে দেয়া হয়েছে। এই কাজ ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আঞ্জাম দেয়া হয়েছে। এতে করে উল্লিখিত তিনটি দেশের জনসংখ্যা হ্রাস পেয়েছে।

১৯৯৪ সালে কায়রোতে অনুষ্ঠিত 'জনসংখ্যা সমস্যা' শীর্ষক সম্মেলনে যে রিপোর্ট পেশ করা হয়েছিল, তাতে একথার ওপর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, এখনো পর্যন্ত জনসংখ্যার ওপর পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণলাভ হচ্ছে না। এ জন্য সকল দেশের উচিত ২০১৫ সাল পর্যন্ত এইডসের মতো ঘাতক ব্যাধি থেকে বাঁচা ও পরিবারকে সীমিত করার জন্য গর্ভ প্রতিরোধক যাবতীয় উপকরণ ব্যবহার অত্যাবশ্যক হওয়ার ঘোষণা দেয়া। খাদ্য, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার মধ্যে এমন মৌলিক পরিবর্তন আনা, যার প্রভাব সরাসরি জনসংখ্যার ওপর পতিত হবে। বিবাহিত হোক কিংবা অবিবাহিত প্রত্যেক ব্যক্তির কাছে গর্ভ প্রতিরোধক যাবতীয় উপকরণ সরবরাহ করা এবং নিরাপদ স্বাধীন যৌন সম্পর্কের সুযোগ প্রদান করা। কায়রোর জনসংখ্যা শীর্ষক সম্মেলনে পরিবার সীমিত রাখার যে দলীল-প্রমাণ পেশ করা হয়েছিল, তন্মধ্যে একটি প্রমাণ এও ছিল, আমাদের এই যমীন ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার ব্যয়ভার বহন করতে সক্ষম নয়, আর না প্রত্যেককে মোটর, এয়ারকন্ডিশন রুম, টিভি, ভিসিআর, রেডিও, ফোন ইত্যাদি সরবরাহ করতে সক্ষম।

১৯৯২ সালে 'রিওডি জেনেরো'-তে পরিবেশ সংক্রান্ত এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন সমাপ্তির পর কমিটির চেয়ারম্যান মরিস স্ট্রাং এক বিবৃতিতে বলেন, আমাদের জীবন মান অনেক উন্নত। প্রত্যেক ব্যক্তিই এয়ারকন্ডিশন রুম এবং কার মাইক্রোর মালিক হতে চায়। সকলেই মাছ গোশত খেতে চায়। সকলেই যদি এসব জিনিসের মালিক হয়েও যায়, তাহলে পরিবেশ আরো বেশী দূষিত হবে। আমরা তো এমন পৃথিবী চাই যেখানে পরিবেশ দূষণমুক্ত থাকবে। এই উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার নবায়ন প্রয়োজন। এই নতুন অর্থ ব্যবস্থা রূপায়ণের প্রতি ইঙ্গিত করতে গিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির এক সক্রিয় সদস্য লেস্টার ব্রাডন ১৯৭২ সালে মুদ্রিত স্বীয় গ্রন্থ 'বাধা বিপত্তিহীন পৃথিবী'-তে লেখেছিলেন, বিশ্বকে দূষণমুক্ত পরিবেশ উপহার দেয়ার জন্য একটি নতুন অর্থব্যবস্থার রূপায়ণ প্রয়োজন, যার সাফল্যের জন্য আমাদেরকে পরিবার পরিকল্পনা এবং জন্ম ও জীবন পদ্ধতির মধ্যেও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে হবে।

১৯৭২ সালে লেস্টার ব্রাডন শিশু জন্ম ও পরিবার গঠন সম্পর্কে যে পরিকল্পনা পেশ করেছিলেন, তার জন্য কিভাবে পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে, কিভাবে মস্তিষ্ক প্রস্তুত করা হচ্ছে, নিম্নের আলোচনা থেকে সহজেই তা অনুমান করা যায়। ১৯৮৯ সালের ২০শে নভেম্বর 'শিশু অধিকার সংক্রান্ত' এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে অনেকগুলো প্রস্তাব পাস করা হয়। অতঃপর ১৯৯০ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নিউইয়র্কে এক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে সত্তরটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানগণ অংশ নিয়েছিলেন। সম্মেলনে উপস্থিত একষট্টিটি দেশের প্রতিনিধিরা 'শিশু অধিকার' সংক্রান্ত প্রস্তাবাবলীর ওপর দস্তখতও করেছেন।

উক্ত সম্মেলনের প্রণীত দস্তাবেজের ৫৪ নং ধারাটি ছিল শিশুদের কোলে নেয়া, তাদের শিক্ষা-প্রশিক্ষণ, তাদের সাথে পিতা-মাতার আচরণ, মায়ের সুস্থতা, শিশুদের স্বাধীনতা এবং তাদের ধর্মীয় ও নৈতিক অধিকার সংক্রান্ত। এই ধারার ০১ নং উপধারায় বলা হয়েছে, পিতা-মাতা শিশুদের নির্ধারিত কোনো ধর্মের শিক্ষা বা উপদেশ দিতে পারবে না। এই উপধারায় পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, পিতা-মাতা শিশুদের দীন ধর্ম, নৈতিকতা ও বিবেকের পরিপূর্ণ স্বাধীনতা দেবে। তাদের চিন্তাধারার ওপর কোন হস্ত ক্ষেপ করবে না। তারা যে ধর্ম ইচ্ছা গ্রহণ করতে পারবে। ৩১ নং উপধারায় বলা হয়েছে, শিশুদের যে কোনো ধরনের বই-পুস্তক, পত্র-পত্রিকা ও ম্যাগাজিন পড়ার স্বাধীনতা থাকা উচিত। যদি তারা নগ্ন, অশ্লীল ও যৌন বিষয়ক বই-পুস্তক ও ছবি কিনতে চায় বা নিজের কাছে রাখতে চায়, অথবা তারা শয়তান তাগুতের পূজা করতে চায়, তাহলে এটা তাদের মৌলিক অধিকার। এসব ক্ষেত্রে পিতা-মাতার হস্তক্ষেপ করার কোনো অধিকার থাকবে না। এসব অশ্লীল কাজগুলো যদি তারা লেখনী কিংবা মুখে আঞ্জাম দিতে চায়, অশ্লীল বই-পুস্তক ও ছবি ছাপতে চায়, টিভি, ভিসিআর, রেডিও এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে এগুলো অন্যের নিকট পৌছাতে চায়, তাহলে তাদের সেই স্বাধীনতা থাকা উচিত। ২৮ নং উপধারায় বলা হয়েছে, একটি উন্নত সমাজে স্বাধীন নিরাপদ যৌন সম্পর্ক, এ সম্পর্কীয় তথ্যাবলী, উপকরণ এবং যৌন সংক্রান্ত শিক্ষা-প্রশিক্ষণের সুযোগ-সুবিধা সরবরাহ থাকা উচিত। ছেলেরা অথবা মেয়েরা যদি অবৈধ গর্ভ বিনষ্ট করতে কিংবা বাকী রাখতে চায়, তাহলে এই সুযোগও তাদের থাকা উচিত। সমাজে এমন সন্তান এবং অবিবাহিত মেয়েদের ঠিক সে মর্যাদাই হওয়া উচিত, যে মর্যাদা অন্যরা পেয়ে থাকে। শিশুদের সাথে যদি পিতা-মাতা তাদের মর্জির বিপরীত কোনো আচরণ করে, তাহলে তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ পিতা-মাতাকে গ্রেফতার করতে পারবে। দুষ্টুমি ও অসদাচরণের জন্য শিশুকে পেটানো ছাড়াও নির্ধারিত কোনো ধর্মের জন্য তাদের বাধ্য করাও এ ধারার অন্তর্ভুক্ত। এসব ক্ষেত্রে পিতা-মাতার হস্তক্ষেপের কোনো অধিকার থাকবে না। ফরাসী পার্লামেন্ট এ প্রসঙ্গে আইন প্রণয়ন করে অবিবাহিত মা ও তাদের অবৈধ শিশুদের সকল অধিকার প্রদান করেছে।

টিকাঃ
৮. উল্লিখিত দেশগুলোতে বিশেষভাবে এবং ইসলামী বিশ্বে সাধারণভাবে জনসংখ্যা হ্রাসের জন্য দু'টি পদ্ধতি গ্রহণ করা হচ্ছে। এক, রাজনৈতিক, সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় ভিত্তিতে মারামারি, হানাহানি ও রক্তপাতের ধারাবাহিকতা চালু করা। দুই. বংশ, গোত্র ও দেশের ভিত্তিতে গৃহযুদ্ধ লাগিয়ে দেয়া। পশ্চিমা মিডিয়া এই আগুন প্রজ্বলিত করতে ইন্ধন যোগাচ্ছে। আফগানিস্তান, ইরাক, ইরান, শ্রীলংকা, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, মিসর, সিরিয়া এবং ভারতের পাঞ্জাব, কাশ্মীর, আসাম ও নাগাল্যান্ড সেসব অঞ্চল, যেখানকার জনগণ পশ্চিমা দেশগুলো থেকে অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করে ভ্রাতৃহত্যার মাধ্যমে নতুন বিশ্বব্যবস্থার বুনিয়াদ মজুবত ও সুসংহত করছে। আফ্রিকা মহাদেশের নাইজেরিয়া, সোমালিয়া, সুদান, বুরুন্ডি, রুওয়ান্ডা ও জায়ার এবং ইউরোপের বসনিয়া, চেচনিয়া, আলবেনিয়া ও কসোভো ইত্যাদি দেশগুলোতে বিভিন্ন গণহত্যায় সরাসরি পশ্চিমা দেশগুলো অংশ নিচ্ছে।

📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 আধুনিক যুগের আন্দোলন

📄 আধুনিক যুগের আন্দোলন


আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইহুদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সবচে' প্রাচীন সংগঠন ফ্রি-মিশন আন্দোলন। গোটা বিশ্বে এই সংগঠনের কর্মতৎপরতা রয়েছে। মানব সমাজের সকল শ্রেণীর প্রত্যেক নামী-দামী ও নির্বাচিত ব্যক্তিবর্গ এই সংগঠনের সদস্য। এই সংগঠন তার লক্ষ্য-উদ্দেশ্যকে সাংগঠনিক ও আন্দোলনের রূপ দেয়ার জন্য 'আধুনিক যুগের আন্দোলন' নাম ধারণ করেছে। এই সংগঠনের রয়েছে নিজস্ব পত্র-পত্রিকা, বই-পুস্তক, ক্যাসেট-সংগীত এবং সাংস্কৃতিক ও আইনী প্রতিষ্ঠান। দু'কথায় যদি এই সংগঠনের সারমর্ম বর্ণনা করতে চান তাহলে বলতে হবে, এই সংগঠন বা আন্দোলনের মৌলিক উদ্দেশ্য নতুন ধর্মের রূপদান, যে ধর্মে শয়তানের পূজা করা হবে, স্বাধীন যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে, যৌনতা ও নেশাকে আইনী মর্যাদা দিয়ে ব্যাপক করা যাবে, বর্বর জংলী পশুর মতো জীবন যাপন করা যাবে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতি অগ্রগতি এবং সকল সাংস্কৃতিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যুদ্ধের আহবান জানানো যাবে।

ফ্রি-মিশন আন্দোলনের তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত যে কোনো পুস্তক-পুস্তিকার পাতা ওল্টালেই এ আন্দোলনের উল্লিখিত উদ্দেশ্যসমূহ এক নজরে সামনে চলে আসে। উনবিংশ শতাব্দীর শেষ লগ্নে ফ্রি-মিশন আন্দোলনের নেতা জেনারেল আলবার্ট বাইক এক ভাষণে বলেছিলেন, প্রত্যেক ফ্রি-মিশন ক্লাব শয়তানের উপাসনালয় এবং তার শিক্ষা দীনী শিক্ষার মতো। এই আন্দোলনের প্রাথমিক নিদর্শনসমূহ তখন জনসম্মুখে আসে যখন ১৯৯২ সালে লন্ডনে ইবলিস ট্রাস্ট (Lacifer Truste) নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এই সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন এলস বেইলে নামক এক মহিলা। এ আন্দোলনটি একমাত্র বেসরকারী সংগঠন, জাতিসংঘে যার উপাসনালয় বিদ্যমান রয়েছে।

১৯৪৩ সালে আলবার্ট হোফম্যান L.S.D নামক নেশা সৃষ্টিকারী ট্যাবলেট আবিষ্কার করেন, যা মানুষের মেযাজ, বিবেক ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রতঙ্গের ওপর প্রভাব সৃষ্টি করে। ১৯৫০ সালে 'মডার্ন এজ' নামক এক পত্রিকা লেখেছিল, মার্কিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এমন প্রজন্ম তৈরিতে প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে, যারা নতুন ধর্মের অনুসারীদের সেনাবাহিনী এবং এই নতুন ধর্মের প্রতিনিধি হবে। এই সেনাবাহিনী দ্বারাই নতুন বিশ্বে নব প্রভাতের সূর্য উদিত হবে। ১৯৫৫ সালে এক ইহুদী কোম্পানী রান্ডা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সি আই এ-এর আবেদনে মানুষের বিবেক, বুদ্ধি ও অঙ্গ-প্রতঙ্গের ওপর, নেশাদ্রব্যের প্রতিক্রিয়ার পরীক্ষা চালিয়েছিল। আলবার্ট হোফম্যান ও এলডস হাকসলে এই পরীক্ষা ও গবেষণার তত্ত্বাবধান এবং দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

এই এলডস সেই লেখক, যিনি 'সাহস ও বীরত্বে পরিপূর্ণ বিশ্ব' নামক গ্রন্থ রচনা করেন। উক্ত গ্রন্থে তিনি নেশাদ্রব্য ব্যবহারের আহবান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, নেশাদ্রব্য ব্যবহারে মানুষ অনেক সমস্যা ও সংকট থেকে মুক্তি পায়।৯ ১৯৬৭ সালে

ব্যাপকভাবে গান-বাজনা, বাদ্যযন্ত্র ও নেশাদ্রব্যের ব্যবহার শুরু হয়। এমন এমন রেকর্ড ও এ্যালবাম মার্কেটে নিয়ে আসা হয়, যাতে শয়তানকে পবিত্র মনে করার প্রতি উদ্বুদ্ধ ও আহবান করা হয়েছে।

১৯৭০ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত নেশাজাত ট্যাবলেট মারিজুয়ানা ও অন্যান্য নেশাদ্রব্য ব্যাপক করার আহবান জানানো হয়। ব্যাপকভাবে এমন চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়, যাতে ব্যাপকভাবে নেশাদ্রব্য ব্যবহার করার প্রতি আহবান জানানো হয়। ১৯৮১ সালে এই উদ্দেশে একটি টিভি স্টেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যাতে বিশেষভাবে নর্তকী, নেশাদ্রব্য ব্যবহারকারী নারী-পুরুষ ও তাদের যৌন মেলামেশার অশ্লীল দৃশ্য উপস্থাপন করা হয়। এ টিভি স্টেশন থেকে প্রচার করা হতে থাকে, যৌন আন্দোলন আজ চূড়ান্ত স্তরে পৌঁছে গেছে। প্রকাশ্যে দাবী করা হচ্ছে, নারী-পুরুষকে স্বাধীনভাবে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ দেয়া হোক। নারীদের পারস্পরিক বিবাহ কিংবা বিবাহ ছাড়াই যৌন সম্পর্কের অনুমতি থাকা উচিত। বিষয়টি নিয়ে এ পরিমাণ প্রোপাগান্ডা চলানো হয় যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন সেনাবাহিনীর মধ্যে এর অনুমতি দানের জন্য খসড়া আইন পর্যন্ত উপস্থাপন করেছিলেন। ১৯৯১ এর ১২ মে নিউইয়র্ক টাইমসের মতো পত্রিকাগুলো লেখেছে, কিছু কিছু লোক শয়তানের পূজাকে আধুনিক যুগের উন্মাদনা আখ্যা দিয়েছে। তারা বলে, আমরা পুনরায় মূর্তি পূজার যুগে ফিরে যাচ্ছি। যদিও শয়তানের পূজার কথা একটি অপ্রাসঙ্গিক বিষয়, কিন্তু এ ধরনের চিন্তাধারা ও আন্দোলন সম্মান সহানুভূতির দাবী রাখে। ১০ ১৯৮১ সালে চার্চ অফ ইংল্যান্ডের প্রধান রবার্ট উইন্স এক বিবৃতিতে শয়তানের পূজার আন্দোলনকারীদের দাবীর প্রতি গুরুত্বের সাথে চিন্তা করার আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা এ আন্দোলনের তত্ত্বাবধানে প্রস্তুতকৃত প্রোগ্রামগুলো গির্জা ঘরে চালাতে পারি।

১৯৯৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী মিসেস গোসলিন এ্যালডার্স এক বিবৃতিতে দাবী করেন, সকল নেশাদ্রব্য আইনী বৈধতা দেয়া হোক। নিউইয়র্ক শহরে ওই সব লোকের আইনী অধিকার স্বীকার করা হয়েছে, যারা সমকামিতায় লিপ্ত। এ ধরনের সমকামী নারী পুরুষের ক্ষেত্রে বিবাহ, তালাক ও উত্তরাধিকার আইন বাস্তবায়ন করা হবে।

শিকাগোতে যে আন্তর্জাতিক ধর্ম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যদিও এটিকে আন্ত র্জাতিক ধর্ম সম্মেলনের নাম দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তাদের কোনো প্রস্তাবে অথবা দলীল- দস্তাবেজে 'আল্লাহ' নাম নেই। উক্ত সম্মেলনে শিশুদের সাথে সম্পর্কিত যেসব ফিল্ম ও টিভি প্রোগ্রাম উপস্থাপন করা হয়েছিল, তা অনেক বেশি পরিমাণে সমগ্র বিশ্বের শিশুদের মাঝে ফ্রি বন্টন করা হয়েছে। চলমান কার্টুন এবং ভিডিও গেমসে শয়তান, তারকা, নক্ষত্র এবং জীব জন্তুর সম্মান মর্যাদা ও পূজার দৃশ্য সম্বলিত প্রোগ্রাম থাকে। আরব বিশ্বের টিভি চ্যানেলগুলো শিশুদের সে প্রোগ্রামই দেখায় যেগুলো আমেরিকায় তৈরি হয়। আরব বিশ্বে অমুসলিম দূতাবাসগুলোর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত স্কুলগুলোতে চকলেটের আকৃতিতে নেশাদ্রব্য, নগ্ন ছবির এ্যালবাম, উলঙ্গ ফিল্মের ভিসিডি শিশুদের মাঝে ফ্রি বিতরণ করা হয়।

টিকাঃ
৯. সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় শহর জেনেভার একটি বিনোদন কেন্দ্র শুধু নেশাদ্রব্য ব্যবহারকারীদের জন্য নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছে। এই বিশেষ অঞ্চলে সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মতান্ত্রিক নেশার ইনজেকশন সরকারী ব্যয়ে লাগানো হয়। সূত্র: সাপ্তাহিক আল মুজতামা, কুয়েত।
১০. কায় রো পুলিশ গত কয়েক বছর পূর্বে শয়তানের পূজারী একটি দলের সন্ধান লাভ করে। সেই দলে মিসরী সমাজের উচ্চ শ্রেণীর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, মন্ত্রী ও ব্যবসায়ীসহ চলচ্চিত্র জগতের নামী-দামী তারকা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সন্তান-সন্ততিদের পাওয়া গেছে। কয়েক বছর পূর্বে কায়রো পুলিশ কিছু কোরিয়ান নওজোয়ানকে গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তারা মিসরীদের মাঝে এমন লিফলেট বিতরণ করছিল, যাতে অতি সত্বর হযরত ঈসার আগমন ও কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সংবাদ দেয়া হয়েছে। শয়তানকে পবিত্র মনে করা ও তার ইবাদত করা এবং স্বাধীন যৌন সম্পর্ক স্থাপনের খোলাখুলি আহবান জানানোর অভিযোগে গত কয়েক বছর পূর্বে কায়রো পুলিশ কায়রোস্থ মার্কিন ইউনিভার্সিটির কয়েকজন মেধাবী ছাত্র এবং ছয় জন ছাত্রীকে গ্রেফতার করে। তদন্তে সেসব ছাত্র-ছাত্রী স্বীকার করেছে, তারা শয়তানের ইবাদত করে। কারণ শয়তানই একমাত্র সত্তা, যে আল্লাহকে চ্যালেঞ্জ করেছে। শয়তানই মানুষকে আন্দোলিত রাখার মতো শক্তি রাখে এবং স্বাধীন যৌন সম্পর্ক স্থাপন ও নেশাদ্রব্য ব্যবহারের অবাধ সুযোগ দেয়। এই আন্দোলনের সদর দফতর আমেরিকায় অবস্থিত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তার শাখা-প্রশাখা রয়েছে। সেসব নওজোয়ানের বয়স ১৬ থেকে ২৫-এর মাঝামাঝি। তাদের বক্তব্য, ২৫ বছর বয়সে শয়তানের পূজারীদের অধিকহারে মদ, নেশা ও নারী ব্যবহারের কারণে মরে যাওয়া উচিত। এরপরও যদি কেউ না মরে তাহলে তাকে কোনোভাবে হত্যা করে দেয়া উচিত। এই শয়তানী সংগঠনের কর্মীরা যখন শয়তানের পূজার জন্য একত্রিত হয়, তখন তারা সবাই কালো লেবাস পরিধান করে। সে লেবাসের ওপর শয়তানের চিহ্ন ও তার ছবির ছাপ থাকে। গলায় বিশেষ ধরনের শেকল ও মালা ঝুলানো থাকে। পূজার সময় মুর্দারের মাথার হাড় সামনে রাখা হয়। বাদ্যের সূর মূর্ছনায় সম্মিলিত উত্তাল নৃত্য চলতে থাকে। চারদিকে আগরবাতি ও লোবান জ্বালানো হয়। তীব্র নেশাদার বুটিকস ও মদের অবাধ ব্যবহার চলতে থাকে। অতঃপর কোন যুবতী যদি যৌনতার আহবান জানায় তাহলে তার বুক ও চেহারার ওপর শূকর, কুকুর ও বিড়ালের তাজা রক্ত মেখে দেয়া হয়। শয়তান যে তার নযরানা কবুল করেছে এটা তার নিদর্শন। এরপর সম্মিলিতভাবে সকলেই ইচ্ছামত যৌনতায় মেতে ওঠে। তাদের আকীদা হচ্ছে, মদ ও নারীর অধিক ব্যবহার দ্বারাই শয়তান রাজি হয়। শয়তানের রাজি সন্তুষ্টি তখনই পূর্ণতায় পৌঁছে, যখন মদ ও নারীর অধিক ব্যবহারের কারণে সে তার জীবন থেকে হাত ধুয়ে বসে। মিসরী পুলিশ মামুলী তদন্তের পর একথা বলে তাদের ছেড়ে দিয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তি কোনো আইনের গণ্ডিতে পড়ে না। এই ফ্রি-মিশন আন্দোলনের অধীনে K ওP নামে দু'টি গোপন দল থাকে, যারা গোটা বিশ্বে সি.আই.এ ও মোসাদের সহযোগিতায় রাজনৈতিক, সামাজিক, শাস্ত্র বিশেষজ্ঞ ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব এবং লেখক ও সাংবাদিকদের সঠিক সত্য পথ থেকে বিচ্যুত করার প্রচেষ্টা চালায় এবং হত্যা ও সন্ত্রাসী কর্মকা ের মাধ্যমে স্থিতিশীল সুসংহত দেশগুলোতে অস্থিরতা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে। (সূত্র: সাপ্তাহিক আল মুজতামা, কুয়েত)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00