📄 পর্ব ১১: পর্ণ এবং নারীরা
সিডনি মর্নিং হেরাল্ড পত্রিকায় একটি আর্টিকেলে বলা হয়ঃ "প্রতি তিনজন পর্ণোগ্রাফি দর্শকের একজন নারী।" ব্যাপারটি কল্পনা করুন। নারীরাও পুরুষদের মত পর্ণোগ্রাফিতে আসক্ত?
একবার এক বোন তাঁর পর্ণোগ্রাফি আসক্তির ব্যাপারটি কনফেস করেন, তাঁর ঘটনা শুনে আমি অবাক হয়েছিলাম আর কিছুই বলতে পারেনি। এরপরে আমি জানতে পেরেছি যে পর্ণোগ্রাফি নারীদেরও ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা পুরুষদের চাইতেও অধিক আকারে।
আমরা এখন জানি যে একটা বিশাল সংখ্যাক পুরুষ পর্ণোগ্রাফি দেখে নারীদের তুলনায়, কিন্তু দিন দিন নারীদের ভেতরেও এই সংখ্যাটা বাড়ছে। শুধু তাই নয়, অনেক ক্ষেত্রে নারীদের পর্ণোগ্রাফি দেখা এবং সে অনুযায়ী অ্যাক্ট করাটা বেশ ভিন্ন হয়, আর সেটা ধ্বংসাত্মকও হয়ে থাকে।
পুরুষেরা বেশ সোজাসাপ্টা। তারা ওয়েবে সার্চ করে, যে ছবি দেখতে চায় সেটা দেখে, সেটা দেখে মাস্টারবেশন করে, কাহিনী শেষ।
কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি ভিন্ন। কিছু স্টাডি অনুযায়ী একে বলা হয় "সাইবারসেক্স রিলেশনশিপ"। তারা এই কাজটাতে লিপ্ত হয় অনলাইনে পর্ণোগ্রাফিক ভিডিও ও ছবি দেখার বদলে। ইন্টারনেটে বাজে ছবি দেখার বদলে তারা কারো সাথে সম্পর্ক তৈরী করে। এরপরেই আসে বিপদ। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নারীদের অ্যাক্টিভিটি গুলো বেশিরভাগ অফলাইনে হয়ে থাকে।
আমি এক বোনের কাউন্সেলিং করছিলাম যিনি বিয়ের অনেক আগে থেকেই পর্ণোগ্রাফিতে আসক্ত। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, তিনি বিয়ের পরেও এই ব্যাপারটি ত্যাগ করতে পারেননি। তিনি তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু এরপরেও দু-সপ্তাহ না যেতে যেতেই আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যেতেন। কিন্তু সমস্যার শেষ এখানেই নয়, তাঁর জীবনের সবচেয়ে বিভিষিকাময় ব্যাপারটি হচ্ছে তিনি এমন একজনের সাথে অবৈধ মিলন করেছিলেন যে মানুষটি তার স্বামী ছিল না। তিনি এই কাজটা বিয়ের মাত্র ৭ মাস পরেই করেছিলেন।
এজন্যই আমি আগে বলেছিলাম, যদিও পুরুষেরা নারীদের তুলনায় অনেক বেশী পর্ণোগ্রাফি দেখে কিন্তু আমরা দেখেছি নারীদের পর্ণোগ্রাফির ব্যবহার ভিন্ন এবং কিছু ক্ষেত্রে তা যথেষ্ট ক্ষতিকারক।
হে দ্বীনি বোন,
আমি জানি আপনি চান না এই নীল অন্ধকারে নিজের জীবনটাকে শেষ করে দিতে, আমি আমি আপনি যখন নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন না তখন সেই সবটুকু সময় আপনি অন্তর দিয়ে ঘৃণা করেন, আপনার আসক্তি আপনার উপরে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিক এটা আপনি চান না।
তবে পর্ণোগ্রাফি দেখাটা এমন একটা জিনিস যা খুব বেশিদিন নিজের ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকেনা, খুব বেশিদিন গোপন থাকেনা। খুব সামান্য সময়ের মধ্যেই আপনি হয়ত সবচেয়ে বড় পাপটি করে ফেলবেন যা সম্পর্কে আল্লাহ ও তার রাসূল (সা.) আমাদের বারবার সাবধান করেছেন।
তাই এখনই সিদ্ধান্ত নিন। আপনাকে সাহায্য করতে পারবেন এমন কারো সাথে নিজের সমস্যাগুলি খুলে বলুন। ইনশা আল্লাহ, একদিন আপনিও উপভোগ করতে পারবেন নির্মল বায়ু, পায়ের তালুতে স্পর্শ করতে পারবেন কোমল সবুজ গালিচা।
📄 পর্ব ১২: সুস্থতার পথে যাত্রা
পর্ণাসক্তি থেকে বের হবার জন্য এবং একটি সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন যাপনের জন্য যে বিষয়টি সবার আগে বোঝা দরকার তা হলো আসক্তি এবং অভ্যাস কিভাবে কাজ করে এবং আপনি কিভাবে কোন বাজে আসক্তিকে ভালো কোন অভ্যাস দ্বারা পুনঃস্থাপিত করবেন। যদি আপনি আপনার জীবনে সত্যিকার অর্থেই একটা উত্তম পরিবর্তন আনতে চান তাহলে এই ব্যাপারটাকেই সবার আগে নজরে আনতে হবে।
দ্য পাওয়ার অফ হ্যাবিট বইয়ে এর লেখক চার্লস ডুহিগ একটি গোল্ডেন রুল নিয়ে আলোচনা করেন "দ্য হ্যাবিট ল্যুপ" বা অভ্যাসের চক্র নামে যেখানে তিনি যেকোন অভ্যাসকেই তা ভালো বা খারাপ হোক তাকে রুটিন, পুরষ্কার এবং ইঙ্গিতের সাথে তুলনা করেছেন। এই ইঙ্গিতটা এমন কিছু যা আপনাকে অভ্যাসের দিকে আবার ঠেলে দেয়, আলোচনার খাতিরে আমরা একে আসক্তিও বলতে পারি। রুটিন হচ্ছে সেই কাজটা বার বার করা, আর আপনার ক্ষেত্রে সেটা হচ্ছে বার বার পর্ণোগ্রাফি দেখা এবং নিজেই নিজেকে আনন্দ দেয়া। এরপর পুরষ্কার হচ্ছে সেটাই যা আপনার ব্রেইন আকাঙ্ক্ষা করে কাজটি শেষ হবার পর।
এই চক্রটা বোঝা খুবই গুরত্বপূর্ণ কারণ আমরা যদি ইঙ্গিতগুলো চিহ্নিত করতে পারি যা আমাদের আসক্তি বা অনাকাঙ্ক্ষিত কাজের দিকে ঠেলে নিয়ে যায় তাহলে আমরা ইঙ্গিত দেখেই নিজেদেরকে থামিয়ে দিতে পারব অধিকাংশ ক্ষেত্রেই।
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানুষ যেই ভুলটি করে, তারা কোন একটা অভ্যাসকে বদলে ফেলতে চায় এবং ভুলে যায় ইঙ্গিতগুলোর ব্যাপারে যা তাকে আবার সেই অভ্যাসে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে। এখন তাই আমি শুধুমাত্র ইঙ্গিতগুলোর কথা আলোচনা করব।
এই ইঙ্গিত গুলো যা ট্রিগার যাই বলুন না কেন তা মূলত পাঁচ ধরনের হয়ঃ
এক, দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়;
দুই, একটি নির্দিষ্ট জায়গা;
তিন, নির্দিষ্ট মানুষের উপস্থিতি;
চার, বিশেষ কোন অনুভূতি;
পাঁচ, বিশেষ কোন আচরণ।
এইবার প্রতিটা ট্রিগার/ইঙ্গিত নিয়ে আলোচনা করা যাক যেন এই অভ্যাসের চক্রটাকে ভালোমত বুঝতে পারি।
প্রথমঃ দিনের নির্দিষ্ট সময়।
অধিকাংশ আসক্তই পর্ণোগ্রাফি দেখে মাঝরাতের পরবর্তীতে। তাই যদি সেই সময়ে কেউ জেগে থাকে তাহলে তাদের দ্বারা বাজে কাজটি আবার পুনচক্রায়ন হতে পারে। তাহলে সমাধান কি?
সহজ। দ্রুতই ঘুমিয়ে পড়ুন তাহলেই এই চক্র ভাঙতে পারবেন।
দুইঃ একটি নির্দিষ্ট জায়গা।
আমাদের ব্রেইন কোন জায়গায় আমরা গিয়েছি এমন স্থানের সাথে সম্পর্ক তৈরী করে, আর এর মধ্যে ইন্টারনেটের নির্দিষ্ট কিছু ওয়েবসাইটও অন্তর্ভক্ত। যদি আপনি নিয়মিত এমন কোন জায়গায় যান যেমন ক্লাব, শপিং সেন্টার, ব্যস্ত সড়ক ইত্যাদি তাহলে আপনি সেইদিনই বাসায় যাবেন অধিক যৌন উত্তেজনা সহকারে যা আপনাকে আবার খারাপ কিছুর দিকে ধাবিত করতে পারে। সমাধান?
আপনি এধরণের জায়গায় যাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
তিনঃ নির্দিষ্ট কিছু মানুষের সংস্পর্শ।
রাসূল (সা.) আমাদের বলে গিয়েছেন, "একজন ব্যক্তি সবসময়ই তাঁর ধর্মকে অনুসরণের দিকেই ধাবিত হবে অথবা তাঁর বন্ধুদের পথ সে অনুসরণ করবে। তাই তোমাদের বন্ধুদের ব্যাপারে সাবধান হও।"
তাই আপনার বন্ধুরা যদি আপনাকে এমন কোন কাজের দিকে ডাকে যা আল্লাহর অপছন্দনীয়, তাহলে আপনার উচিত হবে এমন কিছু বন্ধুর সংস্পর্শে যাওয়া যারা আপনাকে ভালো কাজ করার দিকে আহবান করবে।
চারঃ নির্দিষ্ট অনুভূতি।
অনেকসময় একাকীত্ব পর্ণোগ্রাফির দিকে অথবা অনাকাঙ্ক্ষিত কিছুর দিকে ঠেলে দিতে পারে। এর সমাধান হিসেবে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন প্রোডাক্টিভ কোন কাজে।
পাঁচঃ বিশেষ কোন আচরণ।
অনেক আসক্তিই কোন উদ্দেশ্য ছাড়া ইন্টারনেট ব্যবহার করে, সোশাল মিডিয়া ব্রাউজ করে, বিভিন্ন মানুষের প্রোফাইল ঘাঁটাঘাঁটি করে, অপ্রয়োজনীয় ইউটিউব ভিডিও দেখে ইত্যাদি। এর ফলাফল হিসেবে হয়তো সে আবার পর্ণোগ্রাফিতে ফিরে যাবে। অযৌক্তিক কারণে ইন্টারনেট চালানো আসক্তিকে তীব্রভাবে উসকে দিতে পারে।
তাই আপনার সুস্থতার যাত্রার শুরুতে যা প্রয়োজন তা হল ইঙ্গিতকে চিহ্নিত করা, তা করতে পারলে অনাকাঙ্ক্ষিত কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারবেন।