📘 পর্নোগ্রাফি নিরব ঘাতক > 📄 পর্ব ৯: নারীদের প্রতি সহিংসতা

📄 পর্ব ৯: নারীদের প্রতি সহিংসতা


পূর্বের পর্বেই আলোচনা করা হয়েছে এমন এক লোকের ব্যাপারে যে ধর্ষণের মামলায় ফেঁসে গিয়েছিল তাঁর পর্ণাসক্তির কারণে। যখন তাঁর সাথে এ ব্যাপারে আরেকটু বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে যেন জানা যায় কিভাবে পর্ণোগ্রাফি তাকে এহেন কর্মের দিকে ঠেলে নিয়ে গেল তখন সে বলেছিলঃ

"পর্ণোগ্রাফি ধর্ষণের দৃশ্যকে এমনভাবে নাটকীয়তার সাথে উপস্থাপন করে যেন দর্শক মনে করে যে নারীরা ধর্ষিত হতে পছন্দ করে। এখানে দেখায়, নারীরা হয়ত শুরুতে একটু বাধা দিবে, কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই সে নিজেই ধর্ষকের সাথে কুকর্মে জড়িয়ে পড়বে, যেন সে সারাজীবন ধর্ষিত হবার অপেক্ষায়ই ছিল।"

পর্ণোগ্রাফি ফিল্ম দেখতে দেখতে এধরণের ইঙ্গিত আর ম্যাসেজ পুরুষদের মনে এমনভাবে প্রোথিত হয়ে যায় যে তারা একে গ্রহণযোগ্য ও আনন্দময় একটা কাজ বলে মনে করে। হাফিংটন পোস্টে ২০১১ সালে প্রকাশিত একটি রিসার্চের ফলাফল দেখা যায়, সেখানে গবেষকেরা পুরুষদের উপর পর্ণোগ্রাফির যৌন ও আচরণগত প্রভাব বিশ্লেষণ করেছিল। তারা দেখেন, পর্ণাসক্তদেরকে যদি এই নিশ্চয়তা দেয়া হত যে তারা ধর্ষণ করলেও ধরা পড়বেনা তাহলে তাদের ৮৩ শতাংশই ধর্ষণ করত।

এ ব্যাপারে কিছুদিন ধরে কাজ করার সুবাদে আমি প্রায়ই ফোন কল, ইমেইল এবং মেসেজ পাই বোনদের কাছ থেকে যারা আমার কাছে অভিযোগ করেন কিভাবে তাদের স্বামীরা তাদের উপর প্রায়ই নির্যাতন চালায়, গালে আঘাত করে অথবা প্রবল জোরে তাদের চুল ধরে টানাহেঁচড়া করে যৌনমিলনের সময়। তারা তাদের স্বামীদের এধরণের আচরণ দেখে আশ্চর্য হন, তারা বুঝে উঠতে পারেন না কেন তাদের স্বামী হঠাৎ করেই এমন হিংস্র হয়ে উঠেন!

তাদের প্রতি আমার প্রথম রেস্পন্স হয়ঃ "বোন, আপনি আপনার স্বামীকে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন সে পর্ণোগ্রাফি দেখে কিনা।" কারণ পুরুষদের তাদের স্ত্রীর সাথে যৌন মিলনের সময় হিংস্র হবার এটাই যৌক্তিক কারণ। তারা তো এমনটাই নিয়মিত দেখে আসছে। পর্ণোগ্রাফি ইন্ডাস্ট্রি তাদেরকে এসবই গিলিয়েছে, যৌন মিলন সম্পর্কে যতসব নোংরা চিন্তা এবং আইডিয়া।

জ্যানেট হিনসন নির্যাতিত নারীদের উপর পর্ণোগ্রাফির প্রভাব নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। তিনি দেখেন, যেসব নারীরা যৌন নির্যাতিত হয়েছিল তাদের ৫৮ শতাংশের ক্ষেত্রেই পর্ণোগ্রাফির ভূমিকা ছিল।

একই বিষয়ে আরেকটি রিসার্চে দেখা যায়, ১৯৮ জন নির্যাতিতা নারীর মধ্যে ৪৯.৯ শতাংশই বলেছে তাদের নির্যাতনকারীর পর্ণোগ্রাফি দেখার অভ্যাস ছিল। আরেকটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, চারজনের ভেতর তিনজন পুরুষই তাদের সঙ্গিকে পর্ণোগ্রাফি ব্যবহারে বাধ্য করেছে, হয় তাদেরকে সাথে নিয়ে দেখেছে অথবা পর্ণোগ্রাফির নোংরা কর্ম তার সঙ্গিনীর উপর চালিয়েছে। আর এসব নির্যাতনকারীরা সবচেয়ে বেশী নির্যাতন করেন অন্যদের তুলনায়।

পুরুষদের প্রতি একটি গুরত্বপূর্ণ মেসেজ দিতে চাচ্ছি যা খুবই মনোযোগের সাথে অন্তঃকর্ণে স্থাপন করা উচিত। রাসূল (সা.) তাঁর বিদায় হজ্বের ভাষণে পুরুষদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, "হে লোকসকল, এটা সত্য যে তোমাদের নারীদের উপর অধিকার রয়েছে, কিন্তু তাদেরও তোমাদের উপর অধিকার রয়েছে। মনে রাখবে, তুমি তাদের স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেছ আল্লাহর আস্থার নিচে এবং তাঁর অনুমতিপ্রাপ্ত হয়ে। তোমরা তাদেরকে খাদ্য খাওয়াবে, পোশাক পরাবে এবং দয়ালু হবে। তোমরা নারীদের সাথে উত্তম আচরণ করবে এবং তাদের প্রতি দয়ালু হবে কারণ তারা তোমাদের সঙ্গিনী এবং অনুগত সাহায্যকারিণী।"

প্রিয় ভাইয়েরা, আপনারা যদি এতে আসক্ত হন এবং এই অন্ধকার জগতে দীর্ঘদিন ধরে থাকেন তাহলে নিজেকেই জিজ্ঞেস করুনঃ "সময়কে হয়নি নিজের স্ত্রীকে সব খুলে বলার এবং তাঁর সাহায্য চাওয়ার?" হ্যাঁ, তিনি শুরুতে রেগে যেতে পারেন, কিন্তু আপনি যদি ধৈর্যধারণ করেন তাহলে তিনি শীঘ্রই শান্ত হবেন এবং আপনাকে প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দেবেন। আর এটা যদি না হয় তাহলে আপনার আসক্তিই আপনাকে ভায়োলেন্সের দিকে ঠেলে দিবে এবং আপনিও রাসূল মুহাম্মদ (সা.) এর সর্বশেষ নির্দেশের একদুম বিরুদ্ধাচরণ করবেন।

📘 পর্নোগ্রাফি নিরব ঘাতক > 📄 পর্ব ১০: পর্ণোগ্রাফি এবং ইরেক্টাইল ডিসফাংশন

📄 পর্ব ১০: পর্ণোগ্রাফি এবং ইরেক্টাইল ডিসফাংশন


আসক্ত ব্যক্তি অবিবাহিত বা বিবাহিত হোক, তাদের জীবনের ভ্রমণে তারা তাদের সঙ্গির সাথে যৌন মিলনের চেয়ে মাস্টারবেশনকেই অধিক প্রেফার করবে। কারণ পর্ণোগ্রাফি এদিকেই মানুষকে ধাবিত করে। এর ফল হিসেবে অনেক পুরুষই যে সমস্যাটিতে জড়িয়ে পড়ে তা হল ইরেক্টাইল ডিসফাংশন।

এটা দ্বারা বোঝায় যৌন মিলনে নিজের স্ত্রীর সাথে অক্ষমতা প্রকাশ করা। সে তাঁর স্ত্রীকে তৃপ্তি দিতে ব্যর্থ হয় যা তারও হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এটা কি আশ্চর্যের ব্যাপার নয় যে অনেক মানুষ এই আশা নিয়ে পর্ণোগ্রাফি দেখে যে এটা দেখলে হয়ত তাঁর যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং তাঁর স্ত্রীকে অধিক তৃপ্ত করতে পারবে অথচ শেষে দেখা যায় তারা স্ত্রীর সাথেই আর মিলিত হতে পারছেনা?। এখান থেকেই এই ব্যাপারটির গুরুত্ব আর বাস্তবতা অনুধাবন করা যায়।

যুক্তরাজ্যের ডেইলে মেইলে একটি সার্ভের ফলাফল রিপোর্ট করা হয় যেখানে বলা হয় প্রতি ৫ জন পুরুষের একজন সপ্তাহে ৩-৫ বার পর্ণোগ্রাফি দেখেন। এদের মধ্যে মাত্র ৩ শতাংশ দাবি করে তারা পর্ণোগ্রাফির বদলে তাঁর সঙ্গিনীর সাথে মিলিত হতে ইচ্ছুক। তারা আরো বলে, পর্ণোগ্রাফি কোকেইনের মতই আসক্তির জন্ম দেয় এবং আসক্ত ব্যক্তি ধীরে ধীরে আরো হার্ডকোর কন্টেন্টের দিকে ঝুঁকে পড়তে থাকে এবং বাস্তব যৌন জীবনে তারা অতৃপ্ত থাকে।

স্যান ডিয়েগোর ন্যাভাল মেডিকেল সেন্টারের একটি গবেষক দল ৩০০ জন পুরুষ এবং নারীকে দিয়ে দুটি সার্ভে ফর্ম পূরণ করায় যেখানে পেশেন্টরা তাদের পর্ণাসক্তির ব্যাপারে কিছু প্রশ্নের জবাব দেবে।

পুরুষদের ক্ষেত্রে গবেষকেরা যৌন মিলনে অনিহা এবং ইরেকটাইল ডিসফাংশনের সাথে নিয়মিত পর্ণোগ্রাফি দেখার শক্ত সম্পর্ক খুঁজে পান। গত ১০ বছর বা তার কিছু অধিক সময় ধরে অনেক পুরুষেরাই অভিযোগ করছেন যে তারা স্ত্রীদের সাথে তাদের ইচ্ছামত পারফর্ম করতে পারছেন না। এই ধরণের অভিযোগ কিছুটা বয়স্ক ৪০-৫০ বছরের শ্রেণীতেও দেখা যায় আবার যুবক অর্থাৎ ২০ বছরের পুরুষরাও এতে আক্রান্ত।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আপনারা এমন কোন কিছু দেখে নিজেদের সুখময় যৌন জীবনকে ধ্বংস করবেন না যা এক পর্যায়ে আপনার জীবন থেকে সকল সুখ কেড়ে নিয়ে হতাশায় নিমজ্জিত করবে। তাহলে আপনার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবার জন্য কি করা উচিত?

প্রথমত, পর্ণোগ্রাফি সম্পর্কে যা যা জানা সম্ভব জেনে ফেলুন।

এই আসক্তিকে সঠিকভাবে বুঝুন, বুঝুন যে এর সবকিছুই আপনার ব্রেইনের ভেতরে ঘটছে। জেনে রাখুন যে আপনার ব্রেইন এমন যেকোন কিছুতেই আসক্ত হয়ে পড়বে যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার ব্রেইনের কাছে সেটাকে আনন্দময় বলে মনে হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, নিজের পরিবেশ বদলে ফেলুন।

আপনি এতদিন যে পরিবেশে ছিলেন তার চেয়ে ভিন্নধর্মী হতে হবে এই নতুন পরিবেশ। সবচেয়ে বেশী যে জিনিসটা বদলে ফেলা দরকার তা হল, আপনি আর একাকী ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন না। হয়ত এই নতুন অভ্যাসে মানিয়ে নিতে কিছু সময় লাগবে, কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই নিজেকে একটা ফ্রেশ এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশে আবিষ্কার করবেন। এই পরিবেশ হবে পাপ ও পঙ্কিলতা বিবর্জিত।

তৃতীয়ত, আপনার বর্তমান অভ্যাসকে নতুন কিছু দ্বারা প্রতিস্থাপিত করুন।

আপনি যেই অভ্যাসই গ্রহণ করুন না কেন সেটাকে অবশ্যই প্রোডাক্টিভ এবং আনন্দময় হতে হবে আপনার কাছে। জিমে যেয়ে নিজেকে ক্লান্ত করে ফেলবেন না যদি আপনার এক্সারসাইজ করতে ভালো না লাগে। আপনার যদি সকালবেলা পার্কে হাঁটতে ভালো লাগে অথবা হাঁটার বদলে সাঁতার কাটতে ভালো লাগে তাহলে তাই করুন। হয়ত আপনার বই পড়তে বা মাছ ধরতে ভালো লাগে। যেই অভ্যাসই গড়তে চান না কেন, তা প্রোডাক্টিভ এবং আনন্দময় হতে হবে যেন আর আনন্দের জন্য পুরোনো অভ্যাসে ফিরে না যাওয়া লাগে।

চতুর্থত, লক্ষণের ফিরে আসার ব্যাপারে প্রস্তুতি।

কিছু কিছু মানুষের জন্য এই বিষয়গুলি বোঝা এবং পালন করা কঠিন হতে পারে কারণ তারা এর জন্য প্রস্তুত ছিল না। কিন্তু যখন আপনি জানবেন পর্ণোগ্রাফির কারণে ডিপ্রেশন, খিটখিটে মেজাজ, ক্লান্তি ইত্যাদি ঘটছে তখন এধরণের লক্ষণ আপনার মধ্যে দেখা দিলে আপনি শান্ত থাকতে পারবেন কারণ আপনি আগে থেকেই জানতেন এবং বুঝতে পেরেছেন যে কেন এসব ঘটছে।

পঞ্চমত, একটি সাপোর্ট গ্রুপ খুঁজে বের করুন যে আপনাকে সাহায্য করবে।

এধরণের সাপোর্ট দেয়ার মত অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে যারা আপনার জীবনে পরিবর্তন আনতে সাহায্য করবে। আপনি যখন জানবেন এই যুদ্ধে আপনি একাই লড়ছেন না তখন নিজের পুনর্জীবনে ফিরে যাওয়া আরো সহজ হবে। FAB এর কমিউনিটি মেম্বারদের কথা উদাহরণ হিসেবে দেয়ায় যেতে পারে।

চিন্তা করবেন না কবে আপনি এই বেড়াজাল থেকে মুক্তি পাবেন এই ব্যাপারে। কেবল মুক্তির ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হোন, বাকি পথ হয়ে যাবে সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময়।

📘 পর্নোগ্রাফি নিরব ঘাতক > 📄 পর্ব ১১: পর্ণ এবং নারীরা

📄 পর্ব ১১: পর্ণ এবং নারীরা


সিডনি মর্নিং হেরাল্ড পত্রিকায় একটি আর্টিকেলে বলা হয়ঃ "প্রতি তিনজন পর্ণোগ্রাফি দর্শকের একজন নারী।" ব্যাপারটি কল্পনা করুন। নারীরাও পুরুষদের মত পর্ণোগ্রাফিতে আসক্ত?

একবার এক বোন তাঁর পর্ণোগ্রাফি আসক্তির ব্যাপারটি কনফেস করেন, তাঁর ঘটনা শুনে আমি অবাক হয়েছিলাম আর কিছুই বলতে পারেনি। এরপরে আমি জানতে পেরেছি যে পর্ণোগ্রাফি নারীদেরও ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা পুরুষদের চাইতেও অধিক আকারে।

আমরা এখন জানি যে একটা বিশাল সংখ্যাক পুরুষ পর্ণোগ্রাফি দেখে নারীদের তুলনায়, কিন্তু দিন দিন নারীদের ভেতরেও এই সংখ্যাটা বাড়ছে। শুধু তাই নয়, অনেক ক্ষেত্রে নারীদের পর্ণোগ্রাফি দেখা এবং সে অনুযায়ী অ্যাক্ট করাটা বেশ ভিন্ন হয়, আর সেটা ধ্বংসাত্মকও হয়ে থাকে।

পুরুষেরা বেশ সোজাসাপ্টা। তারা ওয়েবে সার্চ করে, যে ছবি দেখতে চায় সেটা দেখে, সেটা দেখে মাস্টারবেশন করে, কাহিনী শেষ।

কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি ভিন্ন। কিছু স্টাডি অনুযায়ী একে বলা হয় "সাইবারসেক্স রিলেশনশিপ"। তারা এই কাজটাতে লিপ্ত হয় অনলাইনে পর্ণোগ্রাফিক ভিডিও ও ছবি দেখার বদলে। ইন্টারনেটে বাজে ছবি দেখার বদলে তারা কারো সাথে সম্পর্ক তৈরী করে। এরপরেই আসে বিপদ। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নারীদের অ্যাক্টিভিটি গুলো বেশিরভাগ অফলাইনে হয়ে থাকে।

আমি এক বোনের কাউন্সেলিং করছিলাম যিনি বিয়ের অনেক আগে থেকেই পর্ণোগ্রাফিতে আসক্ত। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, তিনি বিয়ের পরেও এই ব্যাপারটি ত্যাগ করতে পারেননি। তিনি তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু এরপরেও দু-সপ্তাহ না যেতে যেতেই আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যেতেন। কিন্তু সমস্যার শেষ এখানেই নয়, তাঁর জীবনের সবচেয়ে বিভিষিকাময় ব্যাপারটি হচ্ছে তিনি এমন একজনের সাথে অবৈধ মিলন করেছিলেন যে মানুষটি তার স্বামী ছিল না। তিনি এই কাজটা বিয়ের মাত্র ৭ মাস পরেই করেছিলেন।

এজন্যই আমি আগে বলেছিলাম, যদিও পুরুষেরা নারীদের তুলনায় অনেক বেশী পর্ণোগ্রাফি দেখে কিন্তু আমরা দেখেছি নারীদের পর্ণোগ্রাফির ব্যবহার ভিন্ন এবং কিছু ক্ষেত্রে তা যথেষ্ট ক্ষতিকারক।

হে দ্বীনি বোন,

আমি জানি আপনি চান না এই নীল অন্ধকারে নিজের জীবনটাকে শেষ করে দিতে, আমি আমি আপনি যখন নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন না তখন সেই সবটুকু সময় আপনি অন্তর দিয়ে ঘৃণা করেন, আপনার আসক্তি আপনার উপরে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিক এটা আপনি চান না।

তবে পর্ণোগ্রাফি দেখাটা এমন একটা জিনিস যা খুব বেশিদিন নিজের ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকেনা, খুব বেশিদিন গোপন থাকেনা। খুব সামান্য সময়ের মধ্যেই আপনি হয়ত সবচেয়ে বড় পাপটি করে ফেলবেন যা সম্পর্কে আল্লাহ ও তার রাসূল (সা.) আমাদের বারবার সাবধান করেছেন।

তাই এখনই সিদ্ধান্ত নিন। আপনাকে সাহায্য করতে পারবেন এমন কারো সাথে নিজের সমস্যাগুলি খুলে বলুন। ইনশা আল্লাহ, একদিন আপনিও উপভোগ করতে পারবেন নির্মল বায়ু, পায়ের তালুতে স্পর্শ করতে পারবেন কোমল সবুজ গালিচা।

📘 পর্নোগ্রাফি নিরব ঘাতক > 📄 পর্ব ১২: সুস্থতার পথে যাত্রা

📄 পর্ব ১২: সুস্থতার পথে যাত্রা


পর্ণাসক্তি থেকে বের হবার জন্য এবং একটি সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন যাপনের জন্য যে বিষয়টি সবার আগে বোঝা দরকার তা হলো আসক্তি এবং অভ্যাস কিভাবে কাজ করে এবং আপনি কিভাবে কোন বাজে আসক্তিকে ভালো কোন অভ্যাস দ্বারা পুনঃস্থাপিত করবেন। যদি আপনি আপনার জীবনে সত্যিকার অর্থেই একটা উত্তম পরিবর্তন আনতে চান তাহলে এই ব্যাপারটাকেই সবার আগে নজরে আনতে হবে।

দ্য পাওয়ার অফ হ্যাবিট বইয়ে এর লেখক চার্লস ডুহিগ একটি গোল্ডেন রুল নিয়ে আলোচনা করেন "দ্য হ্যাবিট ল্যুপ" বা অভ্যাসের চক্র নামে যেখানে তিনি যেকোন অভ্যাসকেই তা ভালো বা খারাপ হোক তাকে রুটিন, পুরষ্কার এবং ইঙ্গিতের সাথে তুলনা করেছেন। এই ইঙ্গিতটা এমন কিছু যা আপনাকে অভ্যাসের দিকে আবার ঠেলে দেয়, আলোচনার খাতিরে আমরা একে আসক্তিও বলতে পারি। রুটিন হচ্ছে সেই কাজটা বার বার করা, আর আপনার ক্ষেত্রে সেটা হচ্ছে বার বার পর্ণোগ্রাফি দেখা এবং নিজেই নিজেকে আনন্দ দেয়া। এরপর পুরষ্কার হচ্ছে সেটাই যা আপনার ব্রেইন আকাঙ্ক্ষা করে কাজটি শেষ হবার পর।

এই চক্রটা বোঝা খুবই গুরত্বপূর্ণ কারণ আমরা যদি ইঙ্গিতগুলো চিহ্নিত করতে পারি যা আমাদের আসক্তি বা অনাকাঙ্ক্ষিত কাজের দিকে ঠেলে নিয়ে যায় তাহলে আমরা ইঙ্গিত দেখেই নিজেদেরকে থামিয়ে দিতে পারব অধিকাংশ ক্ষেত্রেই।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানুষ যেই ভুলটি করে, তারা কোন একটা অভ্যাসকে বদলে ফেলতে চায় এবং ভুলে যায় ইঙ্গিতগুলোর ব্যাপারে যা তাকে আবার সেই অভ্যাসে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে। এখন তাই আমি শুধুমাত্র ইঙ্গিতগুলোর কথা আলোচনা করব।

এই ইঙ্গিত গুলো যা ট্রিগার যাই বলুন না কেন তা মূলত পাঁচ ধরনের হয়ঃ

এক, দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়;

দুই, একটি নির্দিষ্ট জায়গা;

তিন, নির্দিষ্ট মানুষের উপস্থিতি;

চার, বিশেষ কোন অনুভূতি;

পাঁচ, বিশেষ কোন আচরণ।

এইবার প্রতিটা ট্রিগার/ইঙ্গিত নিয়ে আলোচনা করা যাক যেন এই অভ্যাসের চক্রটাকে ভালোমত বুঝতে পারি।

প্রথমঃ দিনের নির্দিষ্ট সময়।

অধিকাংশ আসক্তই পর্ণোগ্রাফি দেখে মাঝরাতের পরবর্তীতে। তাই যদি সেই সময়ে কেউ জেগে থাকে তাহলে তাদের দ্বারা বাজে কাজটি আবার পুনচক্রায়ন হতে পারে। তাহলে সমাধান কি?

সহজ। দ্রুতই ঘুমিয়ে পড়ুন তাহলেই এই চক্র ভাঙতে পারবেন।

দুইঃ একটি নির্দিষ্ট জায়গা।

আমাদের ব্রেইন কোন জায়গায় আমরা গিয়েছি এমন স্থানের সাথে সম্পর্ক তৈরী করে, আর এর মধ্যে ইন্টারনেটের নির্দিষ্ট কিছু ওয়েবসাইটও অন্তর্ভক্ত। যদি আপনি নিয়মিত এমন কোন জায়গায় যান যেমন ক্লাব, শপিং সেন্টার, ব্যস্ত সড়ক ইত্যাদি তাহলে আপনি সেইদিনই বাসায় যাবেন অধিক যৌন উত্তেজনা সহকারে যা আপনাকে আবার খারাপ কিছুর দিকে ধাবিত করতে পারে। সমাধান?

আপনি এধরণের জায়গায় যাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

তিনঃ নির্দিষ্ট কিছু মানুষের সংস্পর্শ।

রাসূল (সা.) আমাদের বলে গিয়েছেন, "একজন ব্যক্তি সবসময়ই তাঁর ধর্মকে অনুসরণের দিকেই ধাবিত হবে অথবা তাঁর বন্ধুদের পথ সে অনুসরণ করবে। তাই তোমাদের বন্ধুদের ব্যাপারে সাবধান হও।"

তাই আপনার বন্ধুরা যদি আপনাকে এমন কোন কাজের দিকে ডাকে যা আল্লাহর অপছন্দনীয়, তাহলে আপনার উচিত হবে এমন কিছু বন্ধুর সংস্পর্শে যাওয়া যারা আপনাকে ভালো কাজ করার দিকে আহবান করবে।

চারঃ নির্দিষ্ট অনুভূতি।

অনেকসময় একাকীত্ব পর্ণোগ্রাফির দিকে অথবা অনাকাঙ্ক্ষিত কিছুর দিকে ঠেলে দিতে পারে। এর সমাধান হিসেবে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন প্রোডাক্টিভ কোন কাজে।

পাঁচঃ বিশেষ কোন আচরণ।

অনেক আসক্তিই কোন উদ্দেশ্য ছাড়া ইন্টারনেট ব্যবহার করে, সোশাল মিডিয়া ব্রাউজ করে, বিভিন্ন মানুষের প্রোফাইল ঘাঁটাঘাঁটি করে, অপ্রয়োজনীয় ইউটিউব ভিডিও দেখে ইত্যাদি। এর ফলাফল হিসেবে হয়তো সে আবার পর্ণোগ্রাফিতে ফিরে যাবে। অযৌক্তিক কারণে ইন্টারনেট চালানো আসক্তিকে তীব্রভাবে উসকে দিতে পারে।

তাই আপনার সুস্থতার যাত্রার শুরুতে যা প্রয়োজন তা হল ইঙ্গিতকে চিহ্নিত করা, তা করতে পারলে অনাকাঙ্ক্ষিত কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারবেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00