📘 পর্নোগ্রাফি নিরব ঘাতক > 📄 পর্ব ৭: ব্রেইনে পর্ণের প্রভাব

📄 পর্ব ৭: ব্রেইনে পর্ণের প্রভাব


যুক্তরাজ্যের টেলিগ্রাফ নিউজের ২০১৪ সালের মে ২৯ তারিখের ইস্যুতে একটি রিসার্চের রিপোর্ট প্রকাশ করা হয় যেখানে বলা হয়েছে, পর্ণোগ্রাফি দেখার কারণে ব্রেইন সংকুচিত হয়ে যেতে পারে এবং সেক্সুয়াল স্টিমুলেশনও দুর্বল হতে পারে। যেসব মানুষেরা খবরাখবর রাখেন তাদের কাছে পর্ণোগ্রাফির ক্ষতিকর দিকসমূহ অজানা নয়।

বার্লিনের ম্যাক্স প্ল্যাংক ইনস্টিটিউটের মত অনুসারে, তারা ব্রেইনে একটি অংশ খুঁজে পেয়েছেন যা সক্রিয় হয়ে যায় যখন মানুষ মোটিভেটেড হয়, এই অংশটিই সংকুচিত হয়ে যায় এবং কর্মক্ষমতা অনেকটাই হারিয়ে ফেলে যখন মানুষ নিয়মিত পর্ণোগ্রাফিক কন্টেন্ট দেখে। আর আমাদের দেহের জন্য ব্রেইনের চাইতে গুরুত্বপূর্ণ আর কি আছে? আমাদের কি এধরণের ফলাফল দেখে সাবধান হওয়া উচিত নয়?

পূর্বে বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, শৈশব পেরোনোর পর ব্রেইনও বর্ধিত হবার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তারা মনে করতেন ভয়ংকর আঘাত অথবা ইনজুরি পরিপক্ক ব্রেইনে পরিবর্তন আনতে পারে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, আমরা যতদিন বেঁচে থাকব ততদিনই আমাদের ব্রেইন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাবে। শুধু তাই না, ব্রেইন নিয়মিত তাঁর গঠন পরিবর্তন করতে সক্ষম যাকে রিওয়্যার বলে। এর মাধ্যমে সে নতুন অভ্যাস গ্রহণ করে, নতুন নতুন প্যাথওয়ে তৈরী করে, বিশেষত যুবা বয়সে। আর এভাবেই পর্ণোগ্রাফি ব্রেইনে তাঁর স্থায়ী দখল নেবার চেষ্টা করে। কারণ পর্ণ অত্যন্ত আসক্তিপ্রবণ, এর প্রভাবও অনেক বেশী।

পর্ণোগ্রাফির কারণে ব্রেইনে যে প্যাথওয়ে তৈরী হয় তা দীর্ঘদিন থাকতে পারে। আর এটা সঙ্গিনীর সাথে যৌনক্রিয়ার সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করতে পারে। অর্থাৎ সঙ্গিনীর সাথে যৌন ক্রিয়ার চাইতেও পর্ণোগ্রাফি অধিক তৃপ্তিকর মনে হতে পারে। ভাবা যায়?

পর্ণোগ্রাফি পুরো ব্রেইনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবার চেষ্টা করে, এবং স্ত্রীর সাথে যৌন মিলনের ইচ্ছা/চাহিদা দুটোই নষ্ট করে দেয়/কমিয়ে দেয়।

কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সাম্প্রতিক গবেষণায় ড. নরম্যান ডয়েজ ব্যাখ্যা করেন কিভাবে পর্ণ ব্রেইনের গঠনে স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে। তিনি বলেন, পর্ণোগ্রাফি দেখার ফলে ব্রেইনে একধরণের কন্ডিশন বা অবস্থার সৃষ্টি হয়। এই কন্ডিশন গুলো হচ্ছে ফোকাস এবং মনোযোগ যা কোন পর্ণো ছবিকে দেয়া হচ্ছে। সেই ছবি দেখতে দেখতে এমন অবস্থা হবে যে সেই মানুষটির পক্ষে অন্য কিছুতে মনোযোগ দেয়া অসম্ভব হবে, তাঁর কাছে অন্য সবকিছু অর্থহীন মনে হবে সেই নির্দিষ্ট সময়ে। সেটা কর্মক্ষেত্রে হোক বা অন্যান্য জায়গায়।

তাদের ব্যাপারটি কল্পনা করুন যারা বছরের পর বছর ধরে পর্ণ দেখছেন। এসব নোংরা ছবি তাদের মস্তিষ্কের গভীরে প্রোথিত হয়ে গেছে, আর অনেক প্যাথওয়ে তৈরী হয়ে গেছে শক্তিশালীভাবে যেগুলোকে মুছে দিয়ে নতুন ভাবে রিওয়্যার করে পূর্বের অবস্থায় নিতে দীর্ঘদিন লাগতে পারে।

দ্বিতীয়ত, ড. ডয়েজ বলেন পর্ণ ব্রেইনে কিছু রাসায়নিক পদার্থ এবং হরমোন নিঃসরণ করে অন্যান্য আসক্তিকর বস্তুর মতই, এসব পদার্থ আপনাকে সাময়িকভাবে সুখ দেয়। যখন এসব রাসায়নিক পদার্থের মিশ্রণ নিঃসৃত হয় তখন আপনি সুখী ও সন্তুষ্ট বোধ করেন সামান্য সময়ের জন্য। কিন্তু যখনই ব্রেইনে তাদের পরিমাণ কমে যায়, আপনি আবার মানসিকভাবে খারাপ বোধ করেন, হতাশা ও অস্থিরতায় ভোগেন। কিন্তু ভালো খবর হচ্ছে, যেমনটা আগেই বলা হয়েছে, ব্রেইনের সক্ষমতা আছে নিজেকে রিওয়্যার করার এবং একদম প্রাথমিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবার। আর এটাকে অর্জন করার একটাই উপায় হচ্ছে আজেবাজে ছবি, ভিডিও না দেখা এবং সুস্থ অভ্যাস গড়ে তোলা। আর হ্যাঁ, পর্ণোগ্রাফি দেখা থেকে যে একদম ১০০ গজ দূরে থাকতে হবে তা কি আর বলে দিতে হবে?

📘 পর্নোগ্রাফি নিরব ঘাতক > 📄 পর্ব ৮: পুরুষদের প্রতি মিথ্যাচার

📄 পর্ব ৮: পুরুষদের প্রতি মিথ্যাচার


এই পর্বে তিনটা মিথ্যা নিয়ে আলোচনা করা হবে যা সাধারণ পুরুষেরা পর্ণোগ্রাফির ব্যাপারে ধ্রুব সত্য বলে বিবেচনা করে। এসব জানা খুবই গুরত্বপূর্ণ কারণ এগুলো সঠিকভাবে না বুঝলে পুরূষদের জন্য পর্ণোগ্রাফির জাল থেকে বের হওয়া কঠিন হবে। শুরু করা যাক।

প্রথম মিথ্যা, নারীরা যেকোন সময় মিলিত হতে পছন্দ করে।

কারণ পর্ণোগ্রাফিতে দেখানো হয় যে নারীরা সবসময় নিজেদেরকে মেলে দিচ্ছে আপনাকে আনন্দ দানের জন্য এবং আপনার যৌন চাহিদা পূরণের জন্য। তারা নারীদের অন্য পাশটা দেখা না যেই পাশে রয়েছে বাড়ির শিশুদের যত্ন নেয়া, খাবার রান্না করা, বাচ্চাকে স্কুলে নেয়া ইত্যাদি বিষয়। হয়ত তিনি আজকে খারাপ কোন সংবাদ পেয়েছেন অথবা তাঁর মুড আজকে ভালো নেই এছাড়া তিনি আরো বিভিন্ন কারণে মিলনের জন্য প্রস্তুত নাই থাকতে পারেন।

পর্ণোগ্রাফি নারীদের এমনভাবে উপস্থাপন করে যেন তারা যৌনদাসী, যেন তাদেরকে সৃষ্টিই করা হয়েছে আপনাকে আনন্দ দানের জন্য। কিন্তু রাসূল (সা.) আমাদের শিখিয়েছেন নারীরা পুরুষদেরই অপরিহার্য অংশ। আরবি শব্দ "শিক্ক' এর অর্থ অর্ধেক, রাসূল (সা.) যেন আমাদের বলতে চেয়েছেন আমরা তাদের ছাড়া অসম্পূর্ণ, তারা আমাদেরই সমমর্যাদার এবং তারাও সম্মান ও ভালোবাসার দাবিদার। এবার এটার সাথে তুলনা করুন পর্ণোগ্রাফির দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে, পর্ণোগ্রাফি নারী-পুরুষ সম্পর্কে যেরূপ ধারণা দিতে চায় তা সম্পর্কে।

আপনি যদি সত্যিকারের পুরূষ হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার কখনোই উচিত হবে না এই ইন্ডাস্ট্রির নোংরামিকে প্রোমোট করা তাদেরই নোংরা কন্টেন্ট দেখে।

দ্বিতীয় মিথ্যা, শিশুদেরও উচিত যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হওয়া।

যে ধরণের পর্ণোগ্রাফিক ভিডিও সবচেয়ে বেশী দেখা হয় এবং যেগুলো থেকে প্রোডিউসাররা সবচেয়ে বেশী লাভ করে থাকে তা হল সংখ্যালঘুদের অনুকরণ। এসব ভিডিওতে নারীরা এমনভাবে ড্রেস-আপ করবে যেন তাদের দেখতে স্কুল পড়ুয়া মেয়ে অথবা শিশুর মত লাগে, এবং এরপরে তারাই নোংরা যৌনক্রিয়ায় লিপ্ত হবে। যারা পর্ণোগ্রাফি দেখেন তারা বুঝতে ব্যর্থ হন যে এসব নোংরা ভিডিও দেখার সময় আপনার ব্রেইনে এই বিশ্বাস জন্মে যাচ্ছে যে আপনিও প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে শিশুদের সাথে যৌনসম্পর্কে লিপ্ত হতে পারবেন।

এর ফলাফল ভয়ানক। এক ব্যক্তির কাউন্সেলিং করা হয়েছিল যে ধরা পড়েছিল কিছুদিন আগে একটি স্কুলের ইয়ার্ডে রেইপ কেইসের কারণে। তাকে যখন জিজ্ঞেস করা হল তাকে এমনটা করতে কিসে ধাবিত করেছিল তখন সে বলেছিল, "আমার মনে হয় আমি পর্ণোগ্রাফি দেখেই শিখেছি।"

তৃতীয় মিথ্যা, পর্ণোগ্রাফি আর মাস্টারবেশন যিনার চেয়ে উত্তম

যখন প্রকৃত যিনার (অবিবাহিত নারী ও পুরুষের অবৈধ মিলন) পাপ নিয়ে চিন্তা করা হয়, তখন বলা যায় যে হ্যাঁ পর্ণোগ্রাফিতে হয়ত ততটা পাপ হচ্ছে না। যদিও রাসূল (সা.) আমাদের বলেছেন চোখের যিনা আছে এবং তাঁর যিনা নির্লজ্জভাবে দৃষ্টিপাত, হাতের জিনা যিয়েছে এবং তা হচ্ছে অনৈতিক ভাবে কাউকে স্পর্শ করা ইত্যাদি। কিন্তু এখানে প্রশ্ন হচ্ছে পর্ণোগ্রাফি কি যিনার চেয়ে উত্তম?

আপনি পছন্দ করুন আর নাইবা করুন, পর্ণোগ্রাফি আর মাস্টারবেশনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে তা আপনাকে যিনার দিকেই টেনে নিয়ে যাবে আজ অথবা কাল। এই আসক্তি একদিন এতটাই বেড়ে যাবে যে আপনাকে সেটাই করতে ক্রমাগত ঠেলতে থাকবে যা এতদিন আপনি স্ক্রিনের পর্দায় দেখছিলেন। এজন্যই আমি বলছিলাম, পর্ণোগ্রাফি যিনার চেয়ে উত্তম নয়। আমি তো মনে করি এটা যিনার সমতুল্য, কারণ এর চূড়ান্ত ফলও তো যিনাই।

নিজেকেই প্রশ্ন করুন, কেন এসব মিথ্যাচারে নিজেকে বিলীন করে দেবেন? এখন তো আপনাকে মিথ্যাগুলো ধরিয়ে দিলাম, এরপরেও কি নিজেকে মুক্ত করতে চান না আপনি? চান না সত্যকে আঁকড়ে ধরতে?

📘 পর্নোগ্রাফি নিরব ঘাতক > 📄 পর্ব ৯: নারীদের প্রতি সহিংসতা

📄 পর্ব ৯: নারীদের প্রতি সহিংসতা


পূর্বের পর্বেই আলোচনা করা হয়েছে এমন এক লোকের ব্যাপারে যে ধর্ষণের মামলায় ফেঁসে গিয়েছিল তাঁর পর্ণাসক্তির কারণে। যখন তাঁর সাথে এ ব্যাপারে আরেকটু বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে যেন জানা যায় কিভাবে পর্ণোগ্রাফি তাকে এহেন কর্মের দিকে ঠেলে নিয়ে গেল তখন সে বলেছিলঃ

"পর্ণোগ্রাফি ধর্ষণের দৃশ্যকে এমনভাবে নাটকীয়তার সাথে উপস্থাপন করে যেন দর্শক মনে করে যে নারীরা ধর্ষিত হতে পছন্দ করে। এখানে দেখায়, নারীরা হয়ত শুরুতে একটু বাধা দিবে, কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই সে নিজেই ধর্ষকের সাথে কুকর্মে জড়িয়ে পড়বে, যেন সে সারাজীবন ধর্ষিত হবার অপেক্ষায়ই ছিল।"

পর্ণোগ্রাফি ফিল্ম দেখতে দেখতে এধরণের ইঙ্গিত আর ম্যাসেজ পুরুষদের মনে এমনভাবে প্রোথিত হয়ে যায় যে তারা একে গ্রহণযোগ্য ও আনন্দময় একটা কাজ বলে মনে করে। হাফিংটন পোস্টে ২০১১ সালে প্রকাশিত একটি রিসার্চের ফলাফল দেখা যায়, সেখানে গবেষকেরা পুরুষদের উপর পর্ণোগ্রাফির যৌন ও আচরণগত প্রভাব বিশ্লেষণ করেছিল। তারা দেখেন, পর্ণাসক্তদেরকে যদি এই নিশ্চয়তা দেয়া হত যে তারা ধর্ষণ করলেও ধরা পড়বেনা তাহলে তাদের ৮৩ শতাংশই ধর্ষণ করত।

এ ব্যাপারে কিছুদিন ধরে কাজ করার সুবাদে আমি প্রায়ই ফোন কল, ইমেইল এবং মেসেজ পাই বোনদের কাছ থেকে যারা আমার কাছে অভিযোগ করেন কিভাবে তাদের স্বামীরা তাদের উপর প্রায়ই নির্যাতন চালায়, গালে আঘাত করে অথবা প্রবল জোরে তাদের চুল ধরে টানাহেঁচড়া করে যৌনমিলনের সময়। তারা তাদের স্বামীদের এধরণের আচরণ দেখে আশ্চর্য হন, তারা বুঝে উঠতে পারেন না কেন তাদের স্বামী হঠাৎ করেই এমন হিংস্র হয়ে উঠেন!

তাদের প্রতি আমার প্রথম রেস্পন্স হয়ঃ "বোন, আপনি আপনার স্বামীকে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন সে পর্ণোগ্রাফি দেখে কিনা।" কারণ পুরুষদের তাদের স্ত্রীর সাথে যৌন মিলনের সময় হিংস্র হবার এটাই যৌক্তিক কারণ। তারা তো এমনটাই নিয়মিত দেখে আসছে। পর্ণোগ্রাফি ইন্ডাস্ট্রি তাদেরকে এসবই গিলিয়েছে, যৌন মিলন সম্পর্কে যতসব নোংরা চিন্তা এবং আইডিয়া।

জ্যানেট হিনসন নির্যাতিত নারীদের উপর পর্ণোগ্রাফির প্রভাব নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। তিনি দেখেন, যেসব নারীরা যৌন নির্যাতিত হয়েছিল তাদের ৫৮ শতাংশের ক্ষেত্রেই পর্ণোগ্রাফির ভূমিকা ছিল।

একই বিষয়ে আরেকটি রিসার্চে দেখা যায়, ১৯৮ জন নির্যাতিতা নারীর মধ্যে ৪৯.৯ শতাংশই বলেছে তাদের নির্যাতনকারীর পর্ণোগ্রাফি দেখার অভ্যাস ছিল। আরেকটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, চারজনের ভেতর তিনজন পুরুষই তাদের সঙ্গিকে পর্ণোগ্রাফি ব্যবহারে বাধ্য করেছে, হয় তাদেরকে সাথে নিয়ে দেখেছে অথবা পর্ণোগ্রাফির নোংরা কর্ম তার সঙ্গিনীর উপর চালিয়েছে। আর এসব নির্যাতনকারীরা সবচেয়ে বেশী নির্যাতন করেন অন্যদের তুলনায়।

পুরুষদের প্রতি একটি গুরত্বপূর্ণ মেসেজ দিতে চাচ্ছি যা খুবই মনোযোগের সাথে অন্তঃকর্ণে স্থাপন করা উচিত। রাসূল (সা.) তাঁর বিদায় হজ্বের ভাষণে পুরুষদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, "হে লোকসকল, এটা সত্য যে তোমাদের নারীদের উপর অধিকার রয়েছে, কিন্তু তাদেরও তোমাদের উপর অধিকার রয়েছে। মনে রাখবে, তুমি তাদের স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেছ আল্লাহর আস্থার নিচে এবং তাঁর অনুমতিপ্রাপ্ত হয়ে। তোমরা তাদেরকে খাদ্য খাওয়াবে, পোশাক পরাবে এবং দয়ালু হবে। তোমরা নারীদের সাথে উত্তম আচরণ করবে এবং তাদের প্রতি দয়ালু হবে কারণ তারা তোমাদের সঙ্গিনী এবং অনুগত সাহায্যকারিণী।"

প্রিয় ভাইয়েরা, আপনারা যদি এতে আসক্ত হন এবং এই অন্ধকার জগতে দীর্ঘদিন ধরে থাকেন তাহলে নিজেকেই জিজ্ঞেস করুনঃ "সময়কে হয়নি নিজের স্ত্রীকে সব খুলে বলার এবং তাঁর সাহায্য চাওয়ার?" হ্যাঁ, তিনি শুরুতে রেগে যেতে পারেন, কিন্তু আপনি যদি ধৈর্যধারণ করেন তাহলে তিনি শীঘ্রই শান্ত হবেন এবং আপনাকে প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দেবেন। আর এটা যদি না হয় তাহলে আপনার আসক্তিই আপনাকে ভায়োলেন্সের দিকে ঠেলে দিবে এবং আপনিও রাসূল মুহাম্মদ (সা.) এর সর্বশেষ নির্দেশের একদুম বিরুদ্ধাচরণ করবেন।

📘 পর্নোগ্রাফি নিরব ঘাতক > 📄 পর্ব ১০: পর্ণোগ্রাফি এবং ইরেক্টাইল ডিসফাংশন

📄 পর্ব ১০: পর্ণোগ্রাফি এবং ইরেক্টাইল ডিসফাংশন


আসক্ত ব্যক্তি অবিবাহিত বা বিবাহিত হোক, তাদের জীবনের ভ্রমণে তারা তাদের সঙ্গির সাথে যৌন মিলনের চেয়ে মাস্টারবেশনকেই অধিক প্রেফার করবে। কারণ পর্ণোগ্রাফি এদিকেই মানুষকে ধাবিত করে। এর ফল হিসেবে অনেক পুরুষই যে সমস্যাটিতে জড়িয়ে পড়ে তা হল ইরেক্টাইল ডিসফাংশন।

এটা দ্বারা বোঝায় যৌন মিলনে নিজের স্ত্রীর সাথে অক্ষমতা প্রকাশ করা। সে তাঁর স্ত্রীকে তৃপ্তি দিতে ব্যর্থ হয় যা তারও হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এটা কি আশ্চর্যের ব্যাপার নয় যে অনেক মানুষ এই আশা নিয়ে পর্ণোগ্রাফি দেখে যে এটা দেখলে হয়ত তাঁর যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং তাঁর স্ত্রীকে অধিক তৃপ্ত করতে পারবে অথচ শেষে দেখা যায় তারা স্ত্রীর সাথেই আর মিলিত হতে পারছেনা?। এখান থেকেই এই ব্যাপারটির গুরুত্ব আর বাস্তবতা অনুধাবন করা যায়।

যুক্তরাজ্যের ডেইলে মেইলে একটি সার্ভের ফলাফল রিপোর্ট করা হয় যেখানে বলা হয় প্রতি ৫ জন পুরুষের একজন সপ্তাহে ৩-৫ বার পর্ণোগ্রাফি দেখেন। এদের মধ্যে মাত্র ৩ শতাংশ দাবি করে তারা পর্ণোগ্রাফির বদলে তাঁর সঙ্গিনীর সাথে মিলিত হতে ইচ্ছুক। তারা আরো বলে, পর্ণোগ্রাফি কোকেইনের মতই আসক্তির জন্ম দেয় এবং আসক্ত ব্যক্তি ধীরে ধীরে আরো হার্ডকোর কন্টেন্টের দিকে ঝুঁকে পড়তে থাকে এবং বাস্তব যৌন জীবনে তারা অতৃপ্ত থাকে।

স্যান ডিয়েগোর ন্যাভাল মেডিকেল সেন্টারের একটি গবেষক দল ৩০০ জন পুরুষ এবং নারীকে দিয়ে দুটি সার্ভে ফর্ম পূরণ করায় যেখানে পেশেন্টরা তাদের পর্ণাসক্তির ব্যাপারে কিছু প্রশ্নের জবাব দেবে।

পুরুষদের ক্ষেত্রে গবেষকেরা যৌন মিলনে অনিহা এবং ইরেকটাইল ডিসফাংশনের সাথে নিয়মিত পর্ণোগ্রাফি দেখার শক্ত সম্পর্ক খুঁজে পান। গত ১০ বছর বা তার কিছু অধিক সময় ধরে অনেক পুরুষেরাই অভিযোগ করছেন যে তারা স্ত্রীদের সাথে তাদের ইচ্ছামত পারফর্ম করতে পারছেন না। এই ধরণের অভিযোগ কিছুটা বয়স্ক ৪০-৫০ বছরের শ্রেণীতেও দেখা যায় আবার যুবক অর্থাৎ ২০ বছরের পুরুষরাও এতে আক্রান্ত।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আপনারা এমন কোন কিছু দেখে নিজেদের সুখময় যৌন জীবনকে ধ্বংস করবেন না যা এক পর্যায়ে আপনার জীবন থেকে সকল সুখ কেড়ে নিয়ে হতাশায় নিমজ্জিত করবে। তাহলে আপনার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবার জন্য কি করা উচিত?

প্রথমত, পর্ণোগ্রাফি সম্পর্কে যা যা জানা সম্ভব জেনে ফেলুন।

এই আসক্তিকে সঠিকভাবে বুঝুন, বুঝুন যে এর সবকিছুই আপনার ব্রেইনের ভেতরে ঘটছে। জেনে রাখুন যে আপনার ব্রেইন এমন যেকোন কিছুতেই আসক্ত হয়ে পড়বে যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার ব্রেইনের কাছে সেটাকে আনন্দময় বলে মনে হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, নিজের পরিবেশ বদলে ফেলুন।

আপনি এতদিন যে পরিবেশে ছিলেন তার চেয়ে ভিন্নধর্মী হতে হবে এই নতুন পরিবেশ। সবচেয়ে বেশী যে জিনিসটা বদলে ফেলা দরকার তা হল, আপনি আর একাকী ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন না। হয়ত এই নতুন অভ্যাসে মানিয়ে নিতে কিছু সময় লাগবে, কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই নিজেকে একটা ফ্রেশ এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশে আবিষ্কার করবেন। এই পরিবেশ হবে পাপ ও পঙ্কিলতা বিবর্জিত।

তৃতীয়ত, আপনার বর্তমান অভ্যাসকে নতুন কিছু দ্বারা প্রতিস্থাপিত করুন।

আপনি যেই অভ্যাসই গ্রহণ করুন না কেন সেটাকে অবশ্যই প্রোডাক্টিভ এবং আনন্দময় হতে হবে আপনার কাছে। জিমে যেয়ে নিজেকে ক্লান্ত করে ফেলবেন না যদি আপনার এক্সারসাইজ করতে ভালো না লাগে। আপনার যদি সকালবেলা পার্কে হাঁটতে ভালো লাগে অথবা হাঁটার বদলে সাঁতার কাটতে ভালো লাগে তাহলে তাই করুন। হয়ত আপনার বই পড়তে বা মাছ ধরতে ভালো লাগে। যেই অভ্যাসই গড়তে চান না কেন, তা প্রোডাক্টিভ এবং আনন্দময় হতে হবে যেন আর আনন্দের জন্য পুরোনো অভ্যাসে ফিরে না যাওয়া লাগে।

চতুর্থত, লক্ষণের ফিরে আসার ব্যাপারে প্রস্তুতি।

কিছু কিছু মানুষের জন্য এই বিষয়গুলি বোঝা এবং পালন করা কঠিন হতে পারে কারণ তারা এর জন্য প্রস্তুত ছিল না। কিন্তু যখন আপনি জানবেন পর্ণোগ্রাফির কারণে ডিপ্রেশন, খিটখিটে মেজাজ, ক্লান্তি ইত্যাদি ঘটছে তখন এধরণের লক্ষণ আপনার মধ্যে দেখা দিলে আপনি শান্ত থাকতে পারবেন কারণ আপনি আগে থেকেই জানতেন এবং বুঝতে পেরেছেন যে কেন এসব ঘটছে।

পঞ্চমত, একটি সাপোর্ট গ্রুপ খুঁজে বের করুন যে আপনাকে সাহায্য করবে।

এধরণের সাপোর্ট দেয়ার মত অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে যারা আপনার জীবনে পরিবর্তন আনতে সাহায্য করবে। আপনি যখন জানবেন এই যুদ্ধে আপনি একাই লড়ছেন না তখন নিজের পুনর্জীবনে ফিরে যাওয়া আরো সহজ হবে। FAB এর কমিউনিটি মেম্বারদের কথা উদাহরণ হিসেবে দেয়ায় যেতে পারে।

চিন্তা করবেন না কবে আপনি এই বেড়াজাল থেকে মুক্তি পাবেন এই ব্যাপারে। কেবল মুক্তির ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হোন, বাকি পথ হয়ে যাবে সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00