📄 পর্ব ৬: পর্ণোগ্রাফির সমীক্ষা
অগাস্ট ১৯, ২০১৪ তে PR Newswire এর রিপোর্ট অনুযায়ী দুই- তৃতীয়াংশ পুরুষই (৬৩ শতাংশ) স্বীকার করেছেন যে তারা কর্মক্ষেত্রে পর্ণোগ্রাফি দেখেন বস ও ম্যানেজারদের চোখে ধুলো দিয়ে। নারীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশ কর্মক্ষেত্রেই পর্ণো সাইটে ঢুঁ মারেন।
আসক্তি এমনই হয়, চোখের নিমিষে জীবনকে ধ্বংস করে দিতে পারে। আপনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের যে রেপুটেশন গড়ে তুলেছেন তাকে ক্ষণিকের ভেতর ধ্বংস করতে পারে আপনারই আসক্তি। খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, তিনজন বিচারককে তাদের পদ হতে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে এবং চতুর্থজন নিজেই পদত্যাগ করেছেন যখন বের করা হয় যে তারা তাদের অফিসের কম্পিউটারেই পর্ণোগ্রাফি দেখতেন। কল্পনা করুন, এধরণের খবরের মিডিয়া কাভারেজের কারণে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে, তাদের পরিবারের সদস্যরা প্রতিবেশীদের কাছ থেকে কিরকম চাপ অনুভব করবেন? যারা এসবের সাথে জড়িত ছিলেন তাদের সকলকেই কঠিন সময় পার করতে হয়েছে নিশ্চিতভাবেই। কিন্তু এসব নেতিবাচক ঘটনা পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব হত যদি তারা বিজ্ঞদের পরামর্শ নিতেন।
পর্ণোগ্রাফি কেবল আপনার ভালোবাসার সঙ্গির সাথেই সম্পর্ক নষ্ট করে না, ধ্বংস করে আপনার ক্যারিয়ার এবং ভবিষ্যৎ দুটোই। এখানে পর্ণোগ্রাফির ক্যারিয়ার ও বিজনেসের উপর প্রভাব বোঝানোর জন্য কিছু সমীক্ষা উল্লেখ করছি।
'প্রুভেন মেন মিনিস্ট্রি' একটি সার্ভে পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে তারা বলে, কর্মক্ষেত্রে ৩১ থেকে ৪৯ বছর বয়সী পুরুষেরাই پর্ণগ্রাফি নিয়মিত দেখে, এছাড়া ৩১-৪৯ বছর বয়সী ৪৬ শতাংশ নারীও একই কাজ করেন। তবে আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, বিবাহিত পুরুষেরা কর্মক্ষেত্রে অবিবাহিত পুরুষদের তুলনায় বেশি পর্ণোগ্রাফি দেখেন। ৭৭ শতাংশ বিবাহিত পুরুষ এবং ৫৬ শতাংশ অবিবাহিত পুরুষের ভেতর কর্মক্ষেত্রে পর্ণোগ্রাফি দেখার বিষয়টি পাওয়া গিয়েছে। CNBC news এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ৭০ শতাংশ পর্ণোগ্রাফি দেখা হয় ৯ টা থেকে ৫টা সময়ে প্রতি কর্মদিবসে।
আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন না এই অভ্যাসের কারণে আপনার ক্যারিয়ার অথবা চাকরি চলে যাক। এখনই সময় আপনার আসক্তিকে হার মানাবার এবং এমন একটি জীবন পরিচালনার যা আকাঙ্ক্ষা আপনি চিরদিন করেছেন। এখনই সময় 'না' বলার এবং সুস্বাস্থ্য ও পবিত্রতার পথ চলার।
📄 পর্ব ৭: ব্রেইনে পর্ণের প্রভাব
যুক্তরাজ্যের টেলিগ্রাফ নিউজের ২০১৪ সালের মে ২৯ তারিখের ইস্যুতে একটি রিসার্চের রিপোর্ট প্রকাশ করা হয় যেখানে বলা হয়েছে, পর্ণোগ্রাফি দেখার কারণে ব্রেইন সংকুচিত হয়ে যেতে পারে এবং সেক্সুয়াল স্টিমুলেশনও দুর্বল হতে পারে। যেসব মানুষেরা খবরাখবর রাখেন তাদের কাছে পর্ণোগ্রাফির ক্ষতিকর দিকসমূহ অজানা নয়।
বার্লিনের ম্যাক্স প্ল্যাংক ইনস্টিটিউটের মত অনুসারে, তারা ব্রেইনে একটি অংশ খুঁজে পেয়েছেন যা সক্রিয় হয়ে যায় যখন মানুষ মোটিভেটেড হয়, এই অংশটিই সংকুচিত হয়ে যায় এবং কর্মক্ষমতা অনেকটাই হারিয়ে ফেলে যখন মানুষ নিয়মিত পর্ণোগ্রাফিক কন্টেন্ট দেখে। আর আমাদের দেহের জন্য ব্রেইনের চাইতে গুরুত্বপূর্ণ আর কি আছে? আমাদের কি এধরণের ফলাফল দেখে সাবধান হওয়া উচিত নয়?
পূর্বে বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, শৈশব পেরোনোর পর ব্রেইনও বর্ধিত হবার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তারা মনে করতেন ভয়ংকর আঘাত অথবা ইনজুরি পরিপক্ক ব্রেইনে পরিবর্তন আনতে পারে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, আমরা যতদিন বেঁচে থাকব ততদিনই আমাদের ব্রেইন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাবে। শুধু তাই না, ব্রেইন নিয়মিত তাঁর গঠন পরিবর্তন করতে সক্ষম যাকে রিওয়্যার বলে। এর মাধ্যমে সে নতুন অভ্যাস গ্রহণ করে, নতুন নতুন প্যাথওয়ে তৈরী করে, বিশেষত যুবা বয়সে। আর এভাবেই পর্ণোগ্রাফি ব্রেইনে তাঁর স্থায়ী দখল নেবার চেষ্টা করে। কারণ পর্ণ অত্যন্ত আসক্তিপ্রবণ, এর প্রভাবও অনেক বেশী।
পর্ণোগ্রাফির কারণে ব্রেইনে যে প্যাথওয়ে তৈরী হয় তা দীর্ঘদিন থাকতে পারে। আর এটা সঙ্গিনীর সাথে যৌনক্রিয়ার সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করতে পারে। অর্থাৎ সঙ্গিনীর সাথে যৌন ক্রিয়ার চাইতেও পর্ণোগ্রাফি অধিক তৃপ্তিকর মনে হতে পারে। ভাবা যায়?
পর্ণোগ্রাফি পুরো ব্রেইনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবার চেষ্টা করে, এবং স্ত্রীর সাথে যৌন মিলনের ইচ্ছা/চাহিদা দুটোই নষ্ট করে দেয়/কমিয়ে দেয়।
কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সাম্প্রতিক গবেষণায় ড. নরম্যান ডয়েজ ব্যাখ্যা করেন কিভাবে পর্ণ ব্রেইনের গঠনে স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে। তিনি বলেন, পর্ণোগ্রাফি দেখার ফলে ব্রেইনে একধরণের কন্ডিশন বা অবস্থার সৃষ্টি হয়। এই কন্ডিশন গুলো হচ্ছে ফোকাস এবং মনোযোগ যা কোন পর্ণো ছবিকে দেয়া হচ্ছে। সেই ছবি দেখতে দেখতে এমন অবস্থা হবে যে সেই মানুষটির পক্ষে অন্য কিছুতে মনোযোগ দেয়া অসম্ভব হবে, তাঁর কাছে অন্য সবকিছু অর্থহীন মনে হবে সেই নির্দিষ্ট সময়ে। সেটা কর্মক্ষেত্রে হোক বা অন্যান্য জায়গায়।
তাদের ব্যাপারটি কল্পনা করুন যারা বছরের পর বছর ধরে পর্ণ দেখছেন। এসব নোংরা ছবি তাদের মস্তিষ্কের গভীরে প্রোথিত হয়ে গেছে, আর অনেক প্যাথওয়ে তৈরী হয়ে গেছে শক্তিশালীভাবে যেগুলোকে মুছে দিয়ে নতুন ভাবে রিওয়্যার করে পূর্বের অবস্থায় নিতে দীর্ঘদিন লাগতে পারে।
দ্বিতীয়ত, ড. ডয়েজ বলেন পর্ণ ব্রেইনে কিছু রাসায়নিক পদার্থ এবং হরমোন নিঃসরণ করে অন্যান্য আসক্তিকর বস্তুর মতই, এসব পদার্থ আপনাকে সাময়িকভাবে সুখ দেয়। যখন এসব রাসায়নিক পদার্থের মিশ্রণ নিঃসৃত হয় তখন আপনি সুখী ও সন্তুষ্ট বোধ করেন সামান্য সময়ের জন্য। কিন্তু যখনই ব্রেইনে তাদের পরিমাণ কমে যায়, আপনি আবার মানসিকভাবে খারাপ বোধ করেন, হতাশা ও অস্থিরতায় ভোগেন। কিন্তু ভালো খবর হচ্ছে, যেমনটা আগেই বলা হয়েছে, ব্রেইনের সক্ষমতা আছে নিজেকে রিওয়্যার করার এবং একদম প্রাথমিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবার। আর এটাকে অর্জন করার একটাই উপায় হচ্ছে আজেবাজে ছবি, ভিডিও না দেখা এবং সুস্থ অভ্যাস গড়ে তোলা। আর হ্যাঁ, পর্ণোগ্রাফি দেখা থেকে যে একদম ১০০ গজ দূরে থাকতে হবে তা কি আর বলে দিতে হবে?
📄 পর্ব ৮: পুরুষদের প্রতি মিথ্যাচার
এই পর্বে তিনটা মিথ্যা নিয়ে আলোচনা করা হবে যা সাধারণ পুরুষেরা পর্ণোগ্রাফির ব্যাপারে ধ্রুব সত্য বলে বিবেচনা করে। এসব জানা খুবই গুরত্বপূর্ণ কারণ এগুলো সঠিকভাবে না বুঝলে পুরূষদের জন্য পর্ণোগ্রাফির জাল থেকে বের হওয়া কঠিন হবে। শুরু করা যাক।
প্রথম মিথ্যা, নারীরা যেকোন সময় মিলিত হতে পছন্দ করে।
কারণ পর্ণোগ্রাফিতে দেখানো হয় যে নারীরা সবসময় নিজেদেরকে মেলে দিচ্ছে আপনাকে আনন্দ দানের জন্য এবং আপনার যৌন চাহিদা পূরণের জন্য। তারা নারীদের অন্য পাশটা দেখা না যেই পাশে রয়েছে বাড়ির শিশুদের যত্ন নেয়া, খাবার রান্না করা, বাচ্চাকে স্কুলে নেয়া ইত্যাদি বিষয়। হয়ত তিনি আজকে খারাপ কোন সংবাদ পেয়েছেন অথবা তাঁর মুড আজকে ভালো নেই এছাড়া তিনি আরো বিভিন্ন কারণে মিলনের জন্য প্রস্তুত নাই থাকতে পারেন।
পর্ণোগ্রাফি নারীদের এমনভাবে উপস্থাপন করে যেন তারা যৌনদাসী, যেন তাদেরকে সৃষ্টিই করা হয়েছে আপনাকে আনন্দ দানের জন্য। কিন্তু রাসূল (সা.) আমাদের শিখিয়েছেন নারীরা পুরুষদেরই অপরিহার্য অংশ। আরবি শব্দ "শিক্ক' এর অর্থ অর্ধেক, রাসূল (সা.) যেন আমাদের বলতে চেয়েছেন আমরা তাদের ছাড়া অসম্পূর্ণ, তারা আমাদেরই সমমর্যাদার এবং তারাও সম্মান ও ভালোবাসার দাবিদার। এবার এটার সাথে তুলনা করুন পর্ণোগ্রাফির দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে, পর্ণোগ্রাফি নারী-পুরুষ সম্পর্কে যেরূপ ধারণা দিতে চায় তা সম্পর্কে।
আপনি যদি সত্যিকারের পুরূষ হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার কখনোই উচিত হবে না এই ইন্ডাস্ট্রির নোংরামিকে প্রোমোট করা তাদেরই নোংরা কন্টেন্ট দেখে।
দ্বিতীয় মিথ্যা, শিশুদেরও উচিত যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হওয়া।
যে ধরণের পর্ণোগ্রাফিক ভিডিও সবচেয়ে বেশী দেখা হয় এবং যেগুলো থেকে প্রোডিউসাররা সবচেয়ে বেশী লাভ করে থাকে তা হল সংখ্যালঘুদের অনুকরণ। এসব ভিডিওতে নারীরা এমনভাবে ড্রেস-আপ করবে যেন তাদের দেখতে স্কুল পড়ুয়া মেয়ে অথবা শিশুর মত লাগে, এবং এরপরে তারাই নোংরা যৌনক্রিয়ায় লিপ্ত হবে। যারা পর্ণোগ্রাফি দেখেন তারা বুঝতে ব্যর্থ হন যে এসব নোংরা ভিডিও দেখার সময় আপনার ব্রেইনে এই বিশ্বাস জন্মে যাচ্ছে যে আপনিও প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে শিশুদের সাথে যৌনসম্পর্কে লিপ্ত হতে পারবেন।
এর ফলাফল ভয়ানক। এক ব্যক্তির কাউন্সেলিং করা হয়েছিল যে ধরা পড়েছিল কিছুদিন আগে একটি স্কুলের ইয়ার্ডে রেইপ কেইসের কারণে। তাকে যখন জিজ্ঞেস করা হল তাকে এমনটা করতে কিসে ধাবিত করেছিল তখন সে বলেছিল, "আমার মনে হয় আমি পর্ণোগ্রাফি দেখেই শিখেছি।"
তৃতীয় মিথ্যা, পর্ণোগ্রাফি আর মাস্টারবেশন যিনার চেয়ে উত্তম
যখন প্রকৃত যিনার (অবিবাহিত নারী ও পুরুষের অবৈধ মিলন) পাপ নিয়ে চিন্তা করা হয়, তখন বলা যায় যে হ্যাঁ পর্ণোগ্রাফিতে হয়ত ততটা পাপ হচ্ছে না। যদিও রাসূল (সা.) আমাদের বলেছেন চোখের যিনা আছে এবং তাঁর যিনা নির্লজ্জভাবে দৃষ্টিপাত, হাতের জিনা যিয়েছে এবং তা হচ্ছে অনৈতিক ভাবে কাউকে স্পর্শ করা ইত্যাদি। কিন্তু এখানে প্রশ্ন হচ্ছে পর্ণোগ্রাফি কি যিনার চেয়ে উত্তম?
আপনি পছন্দ করুন আর নাইবা করুন, পর্ণোগ্রাফি আর মাস্টারবেশনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে তা আপনাকে যিনার দিকেই টেনে নিয়ে যাবে আজ অথবা কাল। এই আসক্তি একদিন এতটাই বেড়ে যাবে যে আপনাকে সেটাই করতে ক্রমাগত ঠেলতে থাকবে যা এতদিন আপনি স্ক্রিনের পর্দায় দেখছিলেন। এজন্যই আমি বলছিলাম, পর্ণোগ্রাফি যিনার চেয়ে উত্তম নয়। আমি তো মনে করি এটা যিনার সমতুল্য, কারণ এর চূড়ান্ত ফলও তো যিনাই।
নিজেকেই প্রশ্ন করুন, কেন এসব মিথ্যাচারে নিজেকে বিলীন করে দেবেন? এখন তো আপনাকে মিথ্যাগুলো ধরিয়ে দিলাম, এরপরেও কি নিজেকে মুক্ত করতে চান না আপনি? চান না সত্যকে আঁকড়ে ধরতে?
📄 পর্ব ৯: নারীদের প্রতি সহিংসতা
পূর্বের পর্বেই আলোচনা করা হয়েছে এমন এক লোকের ব্যাপারে যে ধর্ষণের মামলায় ফেঁসে গিয়েছিল তাঁর পর্ণাসক্তির কারণে। যখন তাঁর সাথে এ ব্যাপারে আরেকটু বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে যেন জানা যায় কিভাবে পর্ণোগ্রাফি তাকে এহেন কর্মের দিকে ঠেলে নিয়ে গেল তখন সে বলেছিলঃ
"পর্ণোগ্রাফি ধর্ষণের দৃশ্যকে এমনভাবে নাটকীয়তার সাথে উপস্থাপন করে যেন দর্শক মনে করে যে নারীরা ধর্ষিত হতে পছন্দ করে। এখানে দেখায়, নারীরা হয়ত শুরুতে একটু বাধা দিবে, কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই সে নিজেই ধর্ষকের সাথে কুকর্মে জড়িয়ে পড়বে, যেন সে সারাজীবন ধর্ষিত হবার অপেক্ষায়ই ছিল।"
পর্ণোগ্রাফি ফিল্ম দেখতে দেখতে এধরণের ইঙ্গিত আর ম্যাসেজ পুরুষদের মনে এমনভাবে প্রোথিত হয়ে যায় যে তারা একে গ্রহণযোগ্য ও আনন্দময় একটা কাজ বলে মনে করে। হাফিংটন পোস্টে ২০১১ সালে প্রকাশিত একটি রিসার্চের ফলাফল দেখা যায়, সেখানে গবেষকেরা পুরুষদের উপর পর্ণোগ্রাফির যৌন ও আচরণগত প্রভাব বিশ্লেষণ করেছিল। তারা দেখেন, পর্ণাসক্তদেরকে যদি এই নিশ্চয়তা দেয়া হত যে তারা ধর্ষণ করলেও ধরা পড়বেনা তাহলে তাদের ৮৩ শতাংশই ধর্ষণ করত।
এ ব্যাপারে কিছুদিন ধরে কাজ করার সুবাদে আমি প্রায়ই ফোন কল, ইমেইল এবং মেসেজ পাই বোনদের কাছ থেকে যারা আমার কাছে অভিযোগ করেন কিভাবে তাদের স্বামীরা তাদের উপর প্রায়ই নির্যাতন চালায়, গালে আঘাত করে অথবা প্রবল জোরে তাদের চুল ধরে টানাহেঁচড়া করে যৌনমিলনের সময়। তারা তাদের স্বামীদের এধরণের আচরণ দেখে আশ্চর্য হন, তারা বুঝে উঠতে পারেন না কেন তাদের স্বামী হঠাৎ করেই এমন হিংস্র হয়ে উঠেন!
তাদের প্রতি আমার প্রথম রেস্পন্স হয়ঃ "বোন, আপনি আপনার স্বামীকে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন সে পর্ণোগ্রাফি দেখে কিনা।" কারণ পুরুষদের তাদের স্ত্রীর সাথে যৌন মিলনের সময় হিংস্র হবার এটাই যৌক্তিক কারণ। তারা তো এমনটাই নিয়মিত দেখে আসছে। পর্ণোগ্রাফি ইন্ডাস্ট্রি তাদেরকে এসবই গিলিয়েছে, যৌন মিলন সম্পর্কে যতসব নোংরা চিন্তা এবং আইডিয়া।
জ্যানেট হিনসন নির্যাতিত নারীদের উপর পর্ণোগ্রাফির প্রভাব নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। তিনি দেখেন, যেসব নারীরা যৌন নির্যাতিত হয়েছিল তাদের ৫৮ শতাংশের ক্ষেত্রেই পর্ণোগ্রাফির ভূমিকা ছিল।
একই বিষয়ে আরেকটি রিসার্চে দেখা যায়, ১৯৮ জন নির্যাতিতা নারীর মধ্যে ৪৯.৯ শতাংশই বলেছে তাদের নির্যাতনকারীর পর্ণোগ্রাফি দেখার অভ্যাস ছিল। আরেকটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, চারজনের ভেতর তিনজন পুরুষই তাদের সঙ্গিকে পর্ণোগ্রাফি ব্যবহারে বাধ্য করেছে, হয় তাদেরকে সাথে নিয়ে দেখেছে অথবা পর্ণোগ্রাফির নোংরা কর্ম তার সঙ্গিনীর উপর চালিয়েছে। আর এসব নির্যাতনকারীরা সবচেয়ে বেশী নির্যাতন করেন অন্যদের তুলনায়।
পুরুষদের প্রতি একটি গুরত্বপূর্ণ মেসেজ দিতে চাচ্ছি যা খুবই মনোযোগের সাথে অন্তঃকর্ণে স্থাপন করা উচিত। রাসূল (সা.) তাঁর বিদায় হজ্বের ভাষণে পুরুষদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, "হে লোকসকল, এটা সত্য যে তোমাদের নারীদের উপর অধিকার রয়েছে, কিন্তু তাদেরও তোমাদের উপর অধিকার রয়েছে। মনে রাখবে, তুমি তাদের স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেছ আল্লাহর আস্থার নিচে এবং তাঁর অনুমতিপ্রাপ্ত হয়ে। তোমরা তাদেরকে খাদ্য খাওয়াবে, পোশাক পরাবে এবং দয়ালু হবে। তোমরা নারীদের সাথে উত্তম আচরণ করবে এবং তাদের প্রতি দয়ালু হবে কারণ তারা তোমাদের সঙ্গিনী এবং অনুগত সাহায্যকারিণী।"
প্রিয় ভাইয়েরা, আপনারা যদি এতে আসক্ত হন এবং এই অন্ধকার জগতে দীর্ঘদিন ধরে থাকেন তাহলে নিজেকেই জিজ্ঞেস করুনঃ "সময়কে হয়নি নিজের স্ত্রীকে সব খুলে বলার এবং তাঁর সাহায্য চাওয়ার?" হ্যাঁ, তিনি শুরুতে রেগে যেতে পারেন, কিন্তু আপনি যদি ধৈর্যধারণ করেন তাহলে তিনি শীঘ্রই শান্ত হবেন এবং আপনাকে প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দেবেন। আর এটা যদি না হয় তাহলে আপনার আসক্তিই আপনাকে ভায়োলেন্সের দিকে ঠেলে দিবে এবং আপনিও রাসূল মুহাম্মদ (সা.) এর সর্বশেষ নির্দেশের একদুম বিরুদ্ধাচরণ করবেন।