📘 পর্নোগ্রাফি নিরব ঘাতক > 📄 পর্ব ৪: পর্ণোগ্রাফির প্রভাব

📄 পর্ব ৪: পর্ণোগ্রাফির প্রভাব


যে জিনিসগুলো বিয়েকে ভেঙ্গে দেয়, সম্পর্কে নষ্ট করে এবং স্বামী/স্ত্রীর মধ্যকার বিশ্বাসের দেয়ালে চিড় ধরায় তার অন্যতম হল পর্ণোগ্রাফি।

পর্ণোগ্রাফিতে নারী/পুরুষ উভয়েই আসক্ত হতে পারে তবে পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় পুরুষেরা নারীদের তুলনায় এতে বেশী আসক্ত এবং এসব দেখার ফল হিসেবে কোন স্ত্রী যখন বের করতে পারেন তার স্বামী পর্ণাসক্ত তখন তিনি মানসিকভাবে মারাত্মক আহত হন। তার মনে হতে থাকে তিনি যথেষ্ট সুন্দর নন এবং এজন্য তার স্বামী তার মধ্যে আর সুখের খোঁজ করছেন না। তিনি মনে করতে থাকেন, তার স্বামী তার সকল বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে এবং তিনি তার পূর্বের স্বামীর সাথে বর্তমানের স্বামীর কোন মিল পাচ্ছেন না। তিনি তার নিজের মনের সাথেই যুদ্ধ করতে থাকবেন। যেমনঃ

সে কতদিন ধরে পর্ণোগ্রাফি দেখছে?

তার কি অন্য কারো সাথে সম্পর্ক আছে?

সে কি আমাকে এই আসক্তির সকল বিষয় বলে দিয়েছে না কি কিছু গোপন করছে?

আমি যদি আমার সন্তানকে একা রেখে যাই তার কাছে, তাহলে তারা কি তার কাছে নিরাপদে থাকবে? ইত্যাদি

অর্থাৎ হঠাৎ করেই তার জীবনে ব্যাপক উদ্বিগ্নতা চলে আসবে, একের পর এক সন্দেহ এসে মনে হানা দেবে। সমস্যাটা হচ্ছে, এই বিশ্বাসকে পুনরায় আগের মত করতে বছরের পর বছর লাগতে পারে, কোন স্ত্রীর ক্ষেত্রে এটা কখনোই সম্ভব হয় না আর তখন ডিভোর্স ছাড়া আর কোন গতি থাকে না।

কয়েক বছর আগে আমার কাছে এক বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি এসে তার পর্ণাসক্তির ব্যাপারটি খুলে বলেন। তিনি বলেন তার তিনটা ফুটফুটে বাচ্চা ছিল যাদের জন্মদাতা তার প্রিয়তমা স্ত্রী। তিনি যখনই পর্ণোগ্রাফি দেখতেন তার পরপরই তার হৃদয় অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে যেত, তিনি অনুশোচনার সাগরে ডুব দিতেন। তবে গল্পের এখানেই শেষ নয়।

তার সবচেয়ে কষ্টের মূহুর্ত সেটাই ছিল যখন তার বড় মেয়ে তাকে পর্ণোগ্রাফি দেখা অবস্থায় হাতেনাতে ধরে ফেলে। তিনি হতবুদ্ধি হয়ে গিয়েছিলেন এবং এক ইঞ্চিও নড়তে পারছিলেন না। মূহুর্ত পরেই তার স্ত্রী সেখানে প্রবেশ করেন এবং ৩০ বছরের বৈবাহিক জীবনের সেখানেই ইতি ঘটে। তার স্ত্রী সেই মুহুর্তেই সবকিছু শেষ করে দিতে চেয়েছেন।

দেখতেই পাচ্ছেন, সামান্য কিছু আনন্দের জন্য পবিত্র সম্পর্ক নষ্ট করাটা একেবারেই অনুচিত। কিন্তু পর্ণোগ্রাফি তো আপনাকে তার দিকেই টেনে নিবে?

আপনি কি বদলাতে প্রস্তুত? এই প্রশ্নটিই আপনার নিজেকে করতে হবে।

📘 পর্নোগ্রাফি নিরব ঘাতক > 📄 পর্ব ৫: স্ত্রীদের উপর প্রভাব

📄 পর্ব ৫: স্ত্রীদের উপর প্রভাব


অনেক স্ত্রীরাই তাদের স্বামীর ভেতরে পর্ণোগ্রাফি আসক্তি দেখে কাউন্সিলিং করাতে আসেন, কারণ তারা আর এটাকে নির্দোষ কোন স্বভাব ভাবতে পারছেন না। এর কারণটাও সহজ, তারা দেখেছেন কি বাজে প্রভাব ফেলছে এই পর্ণোগ্রাফি তাদের বৈবাহিক জীবনে। তারা দেখেছেন, তাদের স্বামী তাদেরকে কেবল সেক্স অবজেক্ট হিসেবে চিন্তা করে, সেরকম ভাবে ব্যবহার করে কেবল তাদের সুখের জন্য। শুধু তাই না, তাদের স্বামীরা তাদেরকে এমন কিছু যৌনাচরণ করতে অনুরোধ বা বাধ্য করছেন যার সাথে তারা পূর্বে পরিচিত ছিলেন না। কিন্তু পর্ণোগ্রাফি দেখে দেখে তারাও তাদের স্ত্রীদেরকে পর্ণোর নায়িকাদের নিখুঁত দেহের সাথে তুলনা করেন, তাদের সাথে যেরকম অমানুষিক আচরণ করা হয় তাদের স্ত্রীদের সাথেও তাই করতে চান। ফলে স্বাভাবিক যৌনাচরণ বিনষ্ট হয়ে যায় দম্পতির মাঝে।

সমস্যাটা হচ্ছে, যেসব পুরুষেরা পর্ণোগ্রাফি দেখেন তারা সেখানে নারীদের চড়, থাপ্পর, পিটুনির মাধ্যমে আনন্দ পেতে দেখেছেন। এরফলে একটা ধারণা তাদের মনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়, মেয়েরা বোধহয় এসবের মধ্যেই আনন্দ পায়, তারা বোধহয় এসবই পছন্দ করে। অনেকে তো তাদের স্ত্রীদের পায়ুপথে গমন করতেও বাধ্য করেন, স্ত্রীরা বাধা দিলে তাদের উপর চড়াও হন। পর্ণোগ্রাফির প্রভাব এমনই মারাত্মক এবং এভাবেই বৈবাহিক জীবনে সুস্থ ও স্বাভাবিক মিলন বাধাগ্রস্থ হয়।

যেসব নারীরা লিখাটা পড়ছেন, তাদেরকে পরবর্তী বিষয়টি খুব ভালো করে মাথায় রাখতে হবে। যদি আপনার স্বামী আপনাকে অস্বাভাবিক কোন যৌন আচরণের অনুরোধ জানায়, তাহলে এটা হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক যে তিনি পর্ণোগ্রাফি দেখছিলেন এবং তাতে আসক্তি থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে। তিনি এসব পর্ণোগ্রাফিতে দেখে শিখেছেন, তারপরে আপনার উপর প্রয়োগ করতে চাইছেন।

পর্ণোগ্রাফিতে বিকৃতভাবে যৌন আচরণকে উপস্থাপনা নারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ভয়াবহ অপরাধও সংঘটিত করতে পারে, যার মধ্যে ধর্ষণ, নির্যাতন এবং মানসিকভাবে লাঞ্চনা রয়েছে কারণ ঠিক এসব বিষয়ই পর্ণোগ্রাফিতে উপস্থাপন করা হয় আসক্তদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে। যারা পর্ণোগ্রাফিতে আসক্ত তাদের প্রতিও সতর্কবাণী, আপনাকে এটা ত্যাগ করতেই হবে। যদি ব্যর্থ হন তখন এধরণের আচরণের কারণে আপনাকে বাকি জীবন জেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কাটাতে হতে পারে।

অনেক পুরুষ পর্ণোগ্রাফি দেখেন এবং মাস্টারবেশন করেন এই চিন্তা নিয়ে যে এটা হয়ত তার যৌনাচরণ কে উন্নত করবে, তিনি তার স্ত্রীকে অধিক তৃপ্তি দিতে পারবেন। কিন্তু কয়েকদিন পরেই দেখা যায়, তারা স্ত্রীর সাথে যৌন মিলনের চেয়ে পর্ণোগ্রাফি ও মাস্টারবেশনকেই অধিক পছন্দ করছেন। তাদের ব্রেইনে এই চিন্তা প্রোথিত হয়ে গিয়েছে যে যৌন আনন্দ কেবল পর্ণ আর মাস্টারবেশনের মাধ্যমেই পাওয়া সম্ভব। ফলাফল হিসেবে তারা নতুন একটি সমস্যায় আক্রান্ত হন, ইরেক্টাইল ডিসফাংশন অন্যকথায় সঙ্গিনীর সাথে যৌনমিলনে অক্ষমতা।

কল্পনা করুন, যে ব্যক্তি পর্ণোগ্রাফি দেখে আনন্দ পেয়েছে এবং এর দ্বারা তার উত্তেজনা প্রশমন করেছে সে হয়ত তার স্ত্রীর সাথে যৌন মিলনকেই পুরোপুরি অগ্রাহ্য করবে, সে আর মিলিত হতেই চাইবে না। আমার মনে হয় না এমন কেউ আছেন যিনি এমন পরিস্থিতিতে পড়তে চাইবেন।

দেখা যাচ্ছে, এই সমস্যাগুলো অত্যন্ত সিরিয়াস এবং বিয়ে ও দাম্পত্যজীবন উভয়কেই ধ্বংস করে দিতে পারে। শুধু তাই নয়, এটা নারীদের আত্মসম্মান ও আত্মমর্যাদায়ও প্রভাব ফেলে। কারণ যখন তারা দেখবেন তাদের স্বামী তাদের সাথে চাহিদামত মিলিত হতে পারছেন না তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্ত্রীরা নিজেদেরই দোষারোপ করেন, তারা মনে করেন আমি হয়ত আমার স্বামীর জন্য যথেষ্ট সুন্দরী নই, হয়ত আমি যথেষ্ট আকর্ষণীয় নই।

পর্ণোগ্রাফির এই ধ্বংসাত্মক প্রভাব যে রূপকথা নয় তা হয়ত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। পর্ণোগ্রাফি যে আপনাকে ত্যাগ করতেই হবে এটা বোঝার জন্য যথেষ্ট আলোচনা করা হয়েছে? তো, কি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন?

📘 পর্নোগ্রাফি নিরব ঘাতক > 📄 পর্ব ৬: পর্ণোগ্রাফির সমীক্ষা

📄 পর্ব ৬: পর্ণোগ্রাফির সমীক্ষা


অগাস্ট ১৯, ২০১৪ তে PR Newswire এর রিপোর্ট অনুযায়ী দুই- তৃতীয়াংশ পুরুষই (৬৩ শতাংশ) স্বীকার করেছেন যে তারা কর্মক্ষেত্রে পর্ণোগ্রাফি দেখেন বস ও ম্যানেজারদের চোখে ধুলো দিয়ে। নারীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশ কর্মক্ষেত্রেই পর্ণো সাইটে ঢুঁ মারেন।

আসক্তি এমনই হয়, চোখের নিমিষে জীবনকে ধ্বংস করে দিতে পারে। আপনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের যে রেপুটেশন গড়ে তুলেছেন তাকে ক্ষণিকের ভেতর ধ্বংস করতে পারে আপনারই আসক্তি। খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, তিনজন বিচারককে তাদের পদ হতে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে এবং চতুর্থজন নিজেই পদত্যাগ করেছেন যখন বের করা হয় যে তারা তাদের অফিসের কম্পিউটারেই পর্ণোগ্রাফি দেখতেন। কল্পনা করুন, এধরণের খবরের মিডিয়া কাভারেজের কারণে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে, তাদের পরিবারের সদস্যরা প্রতিবেশীদের কাছ থেকে কিরকম চাপ অনুভব করবেন? যারা এসবের সাথে জড়িত ছিলেন তাদের সকলকেই কঠিন সময় পার করতে হয়েছে নিশ্চিতভাবেই। কিন্তু এসব নেতিবাচক ঘটনা পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব হত যদি তারা বিজ্ঞদের পরামর্শ নিতেন।

পর্ণোগ্রাফি কেবল আপনার ভালোবাসার সঙ্গির সাথেই সম্পর্ক নষ্ট করে না, ধ্বংস করে আপনার ক্যারিয়ার এবং ভবিষ্যৎ দুটোই। এখানে পর্ণোগ্রাফির ক্যারিয়ার ও বিজনেসের উপর প্রভাব বোঝানোর জন্য কিছু সমীক্ষা উল্লেখ করছি।

'প্রুভেন মেন মিনিস্ট্রি' একটি সার্ভে পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে তারা বলে, কর্মক্ষেত্রে ৩১ থেকে ৪৯ বছর বয়সী পুরুষেরাই پর্ণগ্রাফি নিয়মিত দেখে, এছাড়া ৩১-৪৯ বছর বয়সী ৪৬ শতাংশ নারীও একই কাজ করেন। তবে আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, বিবাহিত পুরুষেরা কর্মক্ষেত্রে অবিবাহিত পুরুষদের তুলনায় বেশি পর্ণোগ্রাফি দেখেন। ৭৭ শতাংশ বিবাহিত পুরুষ এবং ৫৬ শতাংশ অবিবাহিত পুরুষের ভেতর কর্মক্ষেত্রে পর্ণোগ্রাফি দেখার বিষয়টি পাওয়া গিয়েছে। CNBC news এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ৭০ শতাংশ পর্ণোগ্রাফি দেখা হয় ৯ টা থেকে ৫টা সময়ে প্রতি কর্মদিবসে।

আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন না এই অভ্যাসের কারণে আপনার ক্যারিয়ার অথবা চাকরি চলে যাক। এখনই সময় আপনার আসক্তিকে হার মানাবার এবং এমন একটি জীবন পরিচালনার যা আকাঙ্ক্ষা আপনি চিরদিন করেছেন। এখনই সময় 'না' বলার এবং সুস্বাস্থ্য ও পবিত্রতার পথ চলার।

📘 পর্নোগ্রাফি নিরব ঘাতক > 📄 পর্ব ৭: ব্রেইনে পর্ণের প্রভাব

📄 পর্ব ৭: ব্রেইনে পর্ণের প্রভাব


যুক্তরাজ্যের টেলিগ্রাফ নিউজের ২০১৪ সালের মে ২৯ তারিখের ইস্যুতে একটি রিসার্চের রিপোর্ট প্রকাশ করা হয় যেখানে বলা হয়েছে, পর্ণোগ্রাফি দেখার কারণে ব্রেইন সংকুচিত হয়ে যেতে পারে এবং সেক্সুয়াল স্টিমুলেশনও দুর্বল হতে পারে। যেসব মানুষেরা খবরাখবর রাখেন তাদের কাছে পর্ণোগ্রাফির ক্ষতিকর দিকসমূহ অজানা নয়।

বার্লিনের ম্যাক্স প্ল্যাংক ইনস্টিটিউটের মত অনুসারে, তারা ব্রেইনে একটি অংশ খুঁজে পেয়েছেন যা সক্রিয় হয়ে যায় যখন মানুষ মোটিভেটেড হয়, এই অংশটিই সংকুচিত হয়ে যায় এবং কর্মক্ষমতা অনেকটাই হারিয়ে ফেলে যখন মানুষ নিয়মিত পর্ণোগ্রাফিক কন্টেন্ট দেখে। আর আমাদের দেহের জন্য ব্রেইনের চাইতে গুরুত্বপূর্ণ আর কি আছে? আমাদের কি এধরণের ফলাফল দেখে সাবধান হওয়া উচিত নয়?

পূর্বে বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, শৈশব পেরোনোর পর ব্রেইনও বর্ধিত হবার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তারা মনে করতেন ভয়ংকর আঘাত অথবা ইনজুরি পরিপক্ক ব্রেইনে পরিবর্তন আনতে পারে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, আমরা যতদিন বেঁচে থাকব ততদিনই আমাদের ব্রেইন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাবে। শুধু তাই না, ব্রেইন নিয়মিত তাঁর গঠন পরিবর্তন করতে সক্ষম যাকে রিওয়্যার বলে। এর মাধ্যমে সে নতুন অভ্যাস গ্রহণ করে, নতুন নতুন প্যাথওয়ে তৈরী করে, বিশেষত যুবা বয়সে। আর এভাবেই পর্ণোগ্রাফি ব্রেইনে তাঁর স্থায়ী দখল নেবার চেষ্টা করে। কারণ পর্ণ অত্যন্ত আসক্তিপ্রবণ, এর প্রভাবও অনেক বেশী।

পর্ণোগ্রাফির কারণে ব্রেইনে যে প্যাথওয়ে তৈরী হয় তা দীর্ঘদিন থাকতে পারে। আর এটা সঙ্গিনীর সাথে যৌনক্রিয়ার সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করতে পারে। অর্থাৎ সঙ্গিনীর সাথে যৌন ক্রিয়ার চাইতেও পর্ণোগ্রাফি অধিক তৃপ্তিকর মনে হতে পারে। ভাবা যায়?

পর্ণোগ্রাফি পুরো ব্রেইনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবার চেষ্টা করে, এবং স্ত্রীর সাথে যৌন মিলনের ইচ্ছা/চাহিদা দুটোই নষ্ট করে দেয়/কমিয়ে দেয়।

কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সাম্প্রতিক গবেষণায় ড. নরম্যান ডয়েজ ব্যাখ্যা করেন কিভাবে পর্ণ ব্রেইনের গঠনে স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে। তিনি বলেন, পর্ণোগ্রাফি দেখার ফলে ব্রেইনে একধরণের কন্ডিশন বা অবস্থার সৃষ্টি হয়। এই কন্ডিশন গুলো হচ্ছে ফোকাস এবং মনোযোগ যা কোন পর্ণো ছবিকে দেয়া হচ্ছে। সেই ছবি দেখতে দেখতে এমন অবস্থা হবে যে সেই মানুষটির পক্ষে অন্য কিছুতে মনোযোগ দেয়া অসম্ভব হবে, তাঁর কাছে অন্য সবকিছু অর্থহীন মনে হবে সেই নির্দিষ্ট সময়ে। সেটা কর্মক্ষেত্রে হোক বা অন্যান্য জায়গায়।

তাদের ব্যাপারটি কল্পনা করুন যারা বছরের পর বছর ধরে পর্ণ দেখছেন। এসব নোংরা ছবি তাদের মস্তিষ্কের গভীরে প্রোথিত হয়ে গেছে, আর অনেক প্যাথওয়ে তৈরী হয়ে গেছে শক্তিশালীভাবে যেগুলোকে মুছে দিয়ে নতুন ভাবে রিওয়্যার করে পূর্বের অবস্থায় নিতে দীর্ঘদিন লাগতে পারে।

দ্বিতীয়ত, ড. ডয়েজ বলেন পর্ণ ব্রেইনে কিছু রাসায়নিক পদার্থ এবং হরমোন নিঃসরণ করে অন্যান্য আসক্তিকর বস্তুর মতই, এসব পদার্থ আপনাকে সাময়িকভাবে সুখ দেয়। যখন এসব রাসায়নিক পদার্থের মিশ্রণ নিঃসৃত হয় তখন আপনি সুখী ও সন্তুষ্ট বোধ করেন সামান্য সময়ের জন্য। কিন্তু যখনই ব্রেইনে তাদের পরিমাণ কমে যায়, আপনি আবার মানসিকভাবে খারাপ বোধ করেন, হতাশা ও অস্থিরতায় ভোগেন। কিন্তু ভালো খবর হচ্ছে, যেমনটা আগেই বলা হয়েছে, ব্রেইনের সক্ষমতা আছে নিজেকে রিওয়্যার করার এবং একদম প্রাথমিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবার। আর এটাকে অর্জন করার একটাই উপায় হচ্ছে আজেবাজে ছবি, ভিডিও না দেখা এবং সুস্থ অভ্যাস গড়ে তোলা। আর হ্যাঁ, পর্ণোগ্রাফি দেখা থেকে যে একদম ১০০ গজ দূরে থাকতে হবে তা কি আর বলে দিতে হবে?

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00