📘 পর্নোগ্রাফি নিরব ঘাতক > 📄 পর্ব ২: আসক্তির শারিরীক ও মানসিক প্রভাব

📄 পর্ব ২: আসক্তির শারিরীক ও মানসিক প্রভাব


পর্ণাসক্তির সুতীব্র প্রভাবকে বুঝতে হলে আমাদের এই সমস্যার দুটি দিকে দৃষ্টিপাত করতে হবে। শারিরীক ও মানসিক। প্রথমে শারিরীক সমস্যা নিয়েই বিস্তারিত কথা বলা যাক।

আমরা জানি, পুরুষের ব্রেইন গাঠনিক এবং ডিজাইন উভয় দিক দিয়েই নারীর ব্রেইন থেকে ভিন্ন। যেমন, পুরুষেরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চিত্রের প্রতি আকৃষ্ট হয়। এটা তাদের ভেতরে কামভাব জাগ্রত করে। ব্রেইনের একটি অংশের নাম থ্যালামাস, যা অন্যান্য ছবি থেকে যৌন চাহিদা জাগ্রত করে এমন ছবিকে আলাদা করে ফেলে। যদি কোন পুরুষকে ১০০ টি ছবি দেখানো হয় এবং এদের মধ্যে যদি কোন একটা যৌনসম্পর্কিত হয়, তাহলে থ্যালামাস সেই ছবিটাকেই পুরুষের কাছে অধিক ফুটিয়ে তুলবে।

এজন্যই ইসলামে আমাদের সতর্ক থাকা ও নজর নিচু রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কারণ আমাদের ব্রেইনকে দৃষ্টিগত যেকোন আসক্তি থেকে রক্ষার জন্য এরচেয়ে ভালো পরামর্শ দ্বিতীয়টি নেই।

কিন্তু আমরা যদি আমাদের নজরকে লাগামহীনভাবে ছেড়ে দেই তাহলে সেটা আমাদের যেকোন অনাকাঙ্ক্ষিত যৌনাচরণের দিকে টেনে নিতে পারে, এর ফলে আসক্তি বেড়ে যাবে এবং আমরা আরো ইরোটিক কোন ছবির খোঁজে থাকব। অনেকে চিত্রে যা দেখেন বাস্তবেও তা রূপায়িত করেন এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে যান এবং এর ফলাফল হিসেবে জঘন্য সব যৌন সংক্রমিত রোগ হতে পারে।

সমস্যাটা আর নিজেকে আনন্দ দেয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, কারণ এই আনন্দ খুব স্বল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হয় এবং এর পরেই সেই ব্যক্তি নিজেকে ডিপ্রেশন, রাগ, হতাশা, ফোকাস হীনতা, মনোযোগের অভাব, মাথাব্যথা ইত্যাদি সমস্যার ভেতরে নিজেকে আবিষ্কার করে। যে ধরণের পর্ণোগ্রাফি আপনি দেখতেন তা দেখে আর আনন্দ অনুভব করেন না, আরো আনন্দের জন্য আপনি ডোজ বাড়িয়ে দেন আর এমন কিছু দেখেন যা দেখার কথা আপনি আগে দুঃস্বপ্নেও কল্পনা করতে পারতেন না কিন্তু এখন তাই দেখছেন কেবল প্রবৃত্তিকে তৃপ্তি দেবার জন্য, এসবের মধ্যে রয়েছে সমকাম, পশুকাম ইত্যাদি।

মানসিক দিকের ব্যাপারে বলতে গেলে, এসবের কারণে অনেকেই নির্জনতা, স্বার্থপরতা ও একাকীত্বের ক্ষত বয়ে নিয়ে বেড়ান। কারণ পর্ণোগ্রাফির মাধ্যমে মানুষ নিজেকে একাকী করে, কেবল নিজের তৃপ্তির কথা ভাবে, বিশেষ করে পুরুষেরা তাদের স্ত্রীর ভালোলাগার বিষয়টির দিকে বিন্দুমাত্র দৃষ্টিপাত করে না যৌনমিলনের সময়। তারা কেবল নিজের আনন্দের কথাই ভাবে। স্বার্থপরতা এরপর একাকিত্বের দিকে মোড় নেয়, যা আরো অনেক গোপন গুনাহের দিকে ঠেলে দিতে পারে, এরপরে সেই ব্যক্তি ধীরে ধীরে অসামাজিক হতে থাকেন যে আর বাইরে যেতে পছন্দ করে না, ঘুরতে পছন্দ করে না বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের সাথে যা কারো ব্যবসা বা ক্যরিয়ারে ভীষণ প্রভাব ফেলে।

এগুলোর বাজে প্রভাব পড়ে বৈবাহিক সম্পর্কে যা মারাত্মক ডিপ্রেশন, রাগ এবং অশান্তিতে রূপ নিতে পারে। এসব 'উপহার' দেয়ার প্রতিজ্ঞা পর্ণোগ্রাফি আপনার কাছে করে! অথচ পবিত্রতার রাস্তা আপনাকে নিয়ে যাবে স্পষ্টতা, বিশ্বস্ততা ও সাফল্যের গন্তব্যে। আগেই বলেছি, সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা আপনারই হাতে রয়েছে। তাই সুবুদ্ধির সাথে সিদ্ধান্ত নেয়াই কি বিজ্ঞের কাজ নয়?

📘 পর্নোগ্রাফি নিরব ঘাতক > 📄 পর্ব ৩: সেক্সুয়াল ও নন সেক্সুয়াল ট্রিগার

📄 পর্ব ৩: সেক্সুয়াল ও নন সেক্সুয়াল ট্রিগার


পর্ণোগ্রাফি ও অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত যৌনাচরণের নীল জগৎ থেকে ফিরে আসার পথে প্রত্যেক আসক্ত ব্যক্তিই রিল্যাপস (আসক্তি থেকে বের হতে ব্যর্থ হয়ে আবার পূর্বের আচরণে ফিরে যাওয়া) এর সম্মুখীন হয়, ব্যতিক্রম প্রায় দেখাই যায়না। তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে পূর্বের আসক্তিতে ফিরে না যাবার, এরপরেও তারা নিজেদের পুনরায় সেই জগতে আবিষ্কার করে, সেই কাজটি করে ফেলে।

পর্ণাসক্তি নামক এই দানবকে পরাজিত করার জন্য এবং যেই আনন্দময় জীবন আপনি সবসময় প্রত্যাশা করে এসেছেন তা পাওয়ার জন্য আপনাকে যেসব বিষয় পাপ কাজে লিপ্ত করার দিকে নিয়ে যাচ্ছে তা চিহ্নিত করতে হবে। যদি তা না করা হয়, তাহলে তেমন পরিস্থিতিতে পড়লে আপনি আবার পাপের চক্রে ঘুরপাক খেতে থাকবেন।

কিছু সেক্সুয়াল ট্রিগার যা পাপ কাজে উদ্বুদ্ধ করে তা সহজেই নির্ণয় করা যায়, যেমন টিভি শো দেখা, নির্দিষ্ট কিছু মুভি দেখা, দীর্ঘসময় সৈকতে বসে মানুষের দিকে তাকিয়ে থাকা, নোংরা বই বা ম্যাগাজিন এর পৃষ্ঠা উল্টানো ইত্যাদি।

সমাধান খুবই সহজ, এধরণের পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে হবে অর্থাৎ এসব কাজ থেকে দূরে থাকতে হবে। তবে নন সেক্সুয়াল ট্রিগার খুব সহজেই চিহ্নিত করা যায় না। নিম্নে কিছু নন সেক্সুয়াল ট্রিগার উল্লেখ করা হলঃ

ক. একঘেয়েমী

কোন কিছু না করা, নিজেকে কাজ থেকে মুক্ত রাখা অনেক আসক্তের জন্য ট্রিগার হিসেবে কাজ করে। এর সমাধান?

নিজেকে প্রোডাক্টিভ কোন কিছুতে লিপ্ত করতে এবং এবং সবসময় কিছু না কিছুতে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে হবে, এটা পছন্দনীয় যেকোন কাজই হতে পারে।

খ. একাকীত্ব

পর্ণোগ্রাফি দেখা হয় তখনই যখন মানুষ একদম একা থাকে, তাই এর বিপরীতটা করা উচিত। নিজেকে দ্বীনী বন্ধুদের সংস্পর্শে রাখুন, পরিবারের সদস্যদের সাথে গল্প করুন এবং একাকীত্ব এড়িয়ে চলুন।

গ. কাজের ধকল এবং ক্লান্তি

ধকল এড়ানোর মত পরিস্থিতি অবলম্বন্ন করুন কর্মক্ষেত্রে, স্কুলে অথবা বাসায়। যখনই ক্লান্ত বোধ করবেন তখন স্বস্তি ফিরে পাবার সর্বোত্তম উপায় মহান আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া এবং নিম্নোক্ত চমৎকার দুয়াটি পড়াঃ

আল্লাহুম্মা 'ইন্নি 'আবদুকা, ইবনু 'আবদিকা, ইবনু 'আমাতিকা, না- সিয়াতি- বিয়াদিকা, মা-জিন ফিই-আ হুকমুকা, 'আদলুন ফিই-আ ক্বাজা- 'উকা, 'আস'আলুকা বিকুল্লি ইসমিন হুয়া লাকা, সাম্মাইতা বিহি নাফসাকা, 'আও 'আনজালতাহু ফি কিতা-বিকা, 'আও 'আল্লামতাহু 'আহাদান মিন খালক্কিকা, 'আওয়িসতা'সারতা বিহি ফি 'ইলমিল-ঘাইবি 'ইনদাকা, 'আন তাজ'আলাল-কুর'আ-না রাবি-ই'-আ ক্বালবি, ওয়া নু-রা সাদরি-, ওয়া জালা-আ হুজনি, ওয়া জাহা-বা হাম্মি।

অর্থঃ হে আল্লাহ, আমি আপনার দাস এবং আপনার পুরুষ ও নারী দাসদের সন্তান। আমার অগ্রমস্তিষ্ক আপনার হাতে (আমার উপর আপনার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে)। আপনি নিশ্চিতভাবেই আমার বিচার করবেন এবং আমার উপর আপনার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ সঠিক। আমি আপনাকে প্রতিটি নামে আহবান করছি যা আপনি নিজের নাম হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, আপনার কিতাবে প্রকাশ করেছেন, আপনার বাছাইকৃত সৃষ্টিতে তা শিক্ষা দিয়েছেন অথবা অদেখার জ্ঞান কেবল নিজের কাছেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন, আপনি আমার অন্তরের নূর, আমার দুঃখ দূরীকারী এবং ক্লান্তি থেকে মুক্তিপ্রদানকারী।

আর যখনই আপনি ক্লান্ত হবেন তখন সবচেয়ে উত্তম যে কাজটি করতে পারেন তা হল, ইন্টারনেট সংবলিত ডিভাইসগুলি অফ করে দিন, ঘরের লাইট নিভিয়ে শান্তির ঘুম দিন।

📘 পর্নোগ্রাফি নিরব ঘাতক > 📄 পর্ব ৪: পর্ণোগ্রাফির প্রভাব

📄 পর্ব ৪: পর্ণোগ্রাফির প্রভাব


যে জিনিসগুলো বিয়েকে ভেঙ্গে দেয়, সম্পর্কে নষ্ট করে এবং স্বামী/স্ত্রীর মধ্যকার বিশ্বাসের দেয়ালে চিড় ধরায় তার অন্যতম হল পর্ণোগ্রাফি।

পর্ণোগ্রাফিতে নারী/পুরুষ উভয়েই আসক্ত হতে পারে তবে পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় পুরুষেরা নারীদের তুলনায় এতে বেশী আসক্ত এবং এসব দেখার ফল হিসেবে কোন স্ত্রী যখন বের করতে পারেন তার স্বামী পর্ণাসক্ত তখন তিনি মানসিকভাবে মারাত্মক আহত হন। তার মনে হতে থাকে তিনি যথেষ্ট সুন্দর নন এবং এজন্য তার স্বামী তার মধ্যে আর সুখের খোঁজ করছেন না। তিনি মনে করতে থাকেন, তার স্বামী তার সকল বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে এবং তিনি তার পূর্বের স্বামীর সাথে বর্তমানের স্বামীর কোন মিল পাচ্ছেন না। তিনি তার নিজের মনের সাথেই যুদ্ধ করতে থাকবেন। যেমনঃ

সে কতদিন ধরে পর্ণোগ্রাফি দেখছে?

তার কি অন্য কারো সাথে সম্পর্ক আছে?

সে কি আমাকে এই আসক্তির সকল বিষয় বলে দিয়েছে না কি কিছু গোপন করছে?

আমি যদি আমার সন্তানকে একা রেখে যাই তার কাছে, তাহলে তারা কি তার কাছে নিরাপদে থাকবে? ইত্যাদি

অর্থাৎ হঠাৎ করেই তার জীবনে ব্যাপক উদ্বিগ্নতা চলে আসবে, একের পর এক সন্দেহ এসে মনে হানা দেবে। সমস্যাটা হচ্ছে, এই বিশ্বাসকে পুনরায় আগের মত করতে বছরের পর বছর লাগতে পারে, কোন স্ত্রীর ক্ষেত্রে এটা কখনোই সম্ভব হয় না আর তখন ডিভোর্স ছাড়া আর কোন গতি থাকে না।

কয়েক বছর আগে আমার কাছে এক বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি এসে তার পর্ণাসক্তির ব্যাপারটি খুলে বলেন। তিনি বলেন তার তিনটা ফুটফুটে বাচ্চা ছিল যাদের জন্মদাতা তার প্রিয়তমা স্ত্রী। তিনি যখনই পর্ণোগ্রাফি দেখতেন তার পরপরই তার হৃদয় অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে যেত, তিনি অনুশোচনার সাগরে ডুব দিতেন। তবে গল্পের এখানেই শেষ নয়।

তার সবচেয়ে কষ্টের মূহুর্ত সেটাই ছিল যখন তার বড় মেয়ে তাকে পর্ণোগ্রাফি দেখা অবস্থায় হাতেনাতে ধরে ফেলে। তিনি হতবুদ্ধি হয়ে গিয়েছিলেন এবং এক ইঞ্চিও নড়তে পারছিলেন না। মূহুর্ত পরেই তার স্ত্রী সেখানে প্রবেশ করেন এবং ৩০ বছরের বৈবাহিক জীবনের সেখানেই ইতি ঘটে। তার স্ত্রী সেই মুহুর্তেই সবকিছু শেষ করে দিতে চেয়েছেন।

দেখতেই পাচ্ছেন, সামান্য কিছু আনন্দের জন্য পবিত্র সম্পর্ক নষ্ট করাটা একেবারেই অনুচিত। কিন্তু পর্ণোগ্রাফি তো আপনাকে তার দিকেই টেনে নিবে?

আপনি কি বদলাতে প্রস্তুত? এই প্রশ্নটিই আপনার নিজেকে করতে হবে।

📘 পর্নোগ্রাফি নিরব ঘাতক > 📄 পর্ব ৫: স্ত্রীদের উপর প্রভাব

📄 পর্ব ৫: স্ত্রীদের উপর প্রভাব


অনেক স্ত্রীরাই তাদের স্বামীর ভেতরে পর্ণোগ্রাফি আসক্তি দেখে কাউন্সিলিং করাতে আসেন, কারণ তারা আর এটাকে নির্দোষ কোন স্বভাব ভাবতে পারছেন না। এর কারণটাও সহজ, তারা দেখেছেন কি বাজে প্রভাব ফেলছে এই পর্ণোগ্রাফি তাদের বৈবাহিক জীবনে। তারা দেখেছেন, তাদের স্বামী তাদেরকে কেবল সেক্স অবজেক্ট হিসেবে চিন্তা করে, সেরকম ভাবে ব্যবহার করে কেবল তাদের সুখের জন্য। শুধু তাই না, তাদের স্বামীরা তাদেরকে এমন কিছু যৌনাচরণ করতে অনুরোধ বা বাধ্য করছেন যার সাথে তারা পূর্বে পরিচিত ছিলেন না। কিন্তু পর্ণোগ্রাফি দেখে দেখে তারাও তাদের স্ত্রীদেরকে পর্ণোর নায়িকাদের নিখুঁত দেহের সাথে তুলনা করেন, তাদের সাথে যেরকম অমানুষিক আচরণ করা হয় তাদের স্ত্রীদের সাথেও তাই করতে চান। ফলে স্বাভাবিক যৌনাচরণ বিনষ্ট হয়ে যায় দম্পতির মাঝে।

সমস্যাটা হচ্ছে, যেসব পুরুষেরা পর্ণোগ্রাফি দেখেন তারা সেখানে নারীদের চড়, থাপ্পর, পিটুনির মাধ্যমে আনন্দ পেতে দেখেছেন। এরফলে একটা ধারণা তাদের মনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়, মেয়েরা বোধহয় এসবের মধ্যেই আনন্দ পায়, তারা বোধহয় এসবই পছন্দ করে। অনেকে তো তাদের স্ত্রীদের পায়ুপথে গমন করতেও বাধ্য করেন, স্ত্রীরা বাধা দিলে তাদের উপর চড়াও হন। পর্ণোগ্রাফির প্রভাব এমনই মারাত্মক এবং এভাবেই বৈবাহিক জীবনে সুস্থ ও স্বাভাবিক মিলন বাধাগ্রস্থ হয়।

যেসব নারীরা লিখাটা পড়ছেন, তাদেরকে পরবর্তী বিষয়টি খুব ভালো করে মাথায় রাখতে হবে। যদি আপনার স্বামী আপনাকে অস্বাভাবিক কোন যৌন আচরণের অনুরোধ জানায়, তাহলে এটা হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক যে তিনি পর্ণোগ্রাফি দেখছিলেন এবং তাতে আসক্তি থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে। তিনি এসব পর্ণোগ্রাফিতে দেখে শিখেছেন, তারপরে আপনার উপর প্রয়োগ করতে চাইছেন।

পর্ণোগ্রাফিতে বিকৃতভাবে যৌন আচরণকে উপস্থাপনা নারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ভয়াবহ অপরাধও সংঘটিত করতে পারে, যার মধ্যে ধর্ষণ, নির্যাতন এবং মানসিকভাবে লাঞ্চনা রয়েছে কারণ ঠিক এসব বিষয়ই পর্ণোগ্রাফিতে উপস্থাপন করা হয় আসক্তদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে। যারা পর্ণোগ্রাফিতে আসক্ত তাদের প্রতিও সতর্কবাণী, আপনাকে এটা ত্যাগ করতেই হবে। যদি ব্যর্থ হন তখন এধরণের আচরণের কারণে আপনাকে বাকি জীবন জেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কাটাতে হতে পারে।

অনেক পুরুষ পর্ণোগ্রাফি দেখেন এবং মাস্টারবেশন করেন এই চিন্তা নিয়ে যে এটা হয়ত তার যৌনাচরণ কে উন্নত করবে, তিনি তার স্ত্রীকে অধিক তৃপ্তি দিতে পারবেন। কিন্তু কয়েকদিন পরেই দেখা যায়, তারা স্ত্রীর সাথে যৌন মিলনের চেয়ে পর্ণোগ্রাফি ও মাস্টারবেশনকেই অধিক পছন্দ করছেন। তাদের ব্রেইনে এই চিন্তা প্রোথিত হয়ে গিয়েছে যে যৌন আনন্দ কেবল পর্ণ আর মাস্টারবেশনের মাধ্যমেই পাওয়া সম্ভব। ফলাফল হিসেবে তারা নতুন একটি সমস্যায় আক্রান্ত হন, ইরেক্টাইল ডিসফাংশন অন্যকথায় সঙ্গিনীর সাথে যৌনমিলনে অক্ষমতা।

কল্পনা করুন, যে ব্যক্তি পর্ণোগ্রাফি দেখে আনন্দ পেয়েছে এবং এর দ্বারা তার উত্তেজনা প্রশমন করেছে সে হয়ত তার স্ত্রীর সাথে যৌন মিলনকেই পুরোপুরি অগ্রাহ্য করবে, সে আর মিলিত হতেই চাইবে না। আমার মনে হয় না এমন কেউ আছেন যিনি এমন পরিস্থিতিতে পড়তে চাইবেন।

দেখা যাচ্ছে, এই সমস্যাগুলো অত্যন্ত সিরিয়াস এবং বিয়ে ও দাম্পত্যজীবন উভয়কেই ধ্বংস করে দিতে পারে। শুধু তাই নয়, এটা নারীদের আত্মসম্মান ও আত্মমর্যাদায়ও প্রভাব ফেলে। কারণ যখন তারা দেখবেন তাদের স্বামী তাদের সাথে চাহিদামত মিলিত হতে পারছেন না তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্ত্রীরা নিজেদেরই দোষারোপ করেন, তারা মনে করেন আমি হয়ত আমার স্বামীর জন্য যথেষ্ট সুন্দরী নই, হয়ত আমি যথেষ্ট আকর্ষণীয় নই।

পর্ণোগ্রাফির এই ধ্বংসাত্মক প্রভাব যে রূপকথা নয় তা হয়ত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। পর্ণোগ্রাফি যে আপনাকে ত্যাগ করতেই হবে এটা বোঝার জন্য যথেষ্ট আলোচনা করা হয়েছে? তো, কি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন?

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00