📄 পর্ব ১: আসক্তি কিভাবে কাজ করে?
সর্বপ্রথম যখন এক তরুণ আমার কাছে তার পর্ণোগ্রাফি আসক্তির ব্যাপারটি স্বীকার করে তখন আমি নিশ্চিত ছিলাম যে হয় সে পাগল না হয় সে আমার সাথে মজা করছে। আমি এক মূহুর্তের জন্যও চিন্তা করিনি যে পর্ণোগ্রাফি, যৌন সম্পর্ক অথবা মাস্টারবেশন এমন কোন আসক্তির পর্যায়ে পৌঁছে যাবে, এমন ধরনের আচরণের জন্ম দেবে যা মানুষের জীবনকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে পারে। পরবর্তীতে আমি এ সম্পর্কে কিছুটা রিসার্চ করে এবং এরপরে এই সমস্যার তীব্রতা অনুধাবন করতে পারি, বুঝতে পারি কেন কত আসক্ত ব্যক্তি তাদের জীবনকে কেবল পর্ণোগ্রাফির কারণে শেষ করে দেয়ার কথা ভাবছে।
আপনিও হয়ত তাদের একজন হতে পারেন যিনি এই নীল দুনিয়ায় আসক্ত এবং একটি সমাধানের পথ খুঁজছেন। কিন্তু আপনার জন্য এবং যারা আসক্ত নয় তাদেরও বোঝা দরকার যে আসক্তি আসলে কিভাবে কাজ করে। কারণ যত বেশী জানবেন আপনি কি ঘটছে আপনার সাথে তা সম্পর্কে আরো বেশী পরিচিত হবেন, আপনি একে আরো ভালোভাবে প্রতিহত করতে পারবেন এবং একপর্যায়ে আসক্তি আপনার হাতেই পরাস্ত হবে।
প্রথমত যেকেউই এতে আসক্ত হয়ে পড়তে পারে। হয়ত আপনি ছোটবেলায় যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, হয়ত বা ছোট থাকতে আপনার সামনে এমন কিছু ছবি এসে পড়েছিল যা দেখে আপনি উৎসুক হয়ে তা বারংবার দেখেছিলেন অথবা আপনার রোল মডেল হিসেবে যাদের মানেন তাদেরকে হয়ত পর্ণোগ্রাফি দেখা অবস্থায় দেখেছেন তাই আপনিও তাদের অনুকরণ করতে শুরু করেন, হয়ত আপনার সঙ্গি/সঙ্গিনী যৌন মিলনে তেমন আগ্রহী নয় এবং এসবের ফলাফল হিসেবে আপনি পর্ণোগ্রাফিকে বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
আপনি ধার্মিক হোন বা অমুসলিম হোন মনে রাখতে হবে আসক্তি কোন ধর্ম চেনেনা। পর্ণোগ্রাফি আসক্তি অত্যন্ত তীব্র যা যে কাউকে তার নফসের গোলামে পরিণত করতে পারে যদি না এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হয়। এর কারণে আপনি যেকোন কাজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতে পারেন। অনেক মানুষ পর্ণোগ্রাফির সংজ্ঞার ব্যাপারে বিতর্ক করে। আমি এটাকে যেভাবে দেখি, পর্ণোগ্রাফি এমন যেকোন কনটেন্ট যা শেখায় কিভাবে অন্য মানুষের জঘন্য কার্যকলাপ দেখে নিজেকে সাময়িক যৌনসুখ দিতে হবে কোন সঙ্গি ছাড়া, কোন আবেগ ছাড়া, কোন ভালোবাসা ছাড়া, কোন বাস্তব মানুষের উপস্থিতি ছাড়া। এটা পুরোপুরি ফ্যান্টাসি এবং দৃষ্টিভ্রমের উপরে নির্ভরশীল। আপনি আপনার সঙ্গিনীর কাছ থেকে যৌন সুখ লাভের বদলে আপনি একাকী পর্ণগ্রাফী দেখে আনন্দ লাভ করেন, স্বার্থপরতাকেই আপনি বেছে নেন।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কিভাবে এটি অন্যান্য আসক্তিকর জিনিসের মতই আসক্তিতে পরিণত হল। পর্ণোগ্রাফি অন্যান্য বস্তুর মতই একই প্যাটার্ন অনুসরণ করে। প্রথমত, এধরণের কিছু দেখার সাথে সাথেই আমাদের ব্রেইনে ডোপামিনের মত হরমোনের নিঃসরণ ঘটবে এবং এটি ব্রেইনে রেজিস্টার হয়ে যাবে। আপনি এটাকে প্রথমে বাধা দেয়ার চেষ্টা করবেন কারণ আপনি জানেন যে আপনি যা করছেন তা ভুল। এরপরে অবচেতন মন এটাকে আপনার সামনে সঠিক হিসেবে উপস্থিত করবে। সে আপনাকে বলবে, এটা তো অন্তত জিনা করার চাইতে ভাল। আপনি এই চিন্তাকে লালন করে এগিয়ে যান এবং অনিচ্ছাবশত পর্ণোগ্রাফি উপভোগ করতে থাকেন। এরপরে সেকেন্ডের ভগ্নাংশের জন্য আপনি সাময়িক সুখ লাভ করেন এবং তারপরেই নেমে আসে আঁধার। আপনি লজ্জিত এবং অনুতপ্ত হন এবং সেই অনুভূতি দীর্ঘসময় ধরে আপনাকে ঘিরে রাখে। আপনি নিজেকে জিজ্ঞেস করেন আপনি প্রতারক কিনা? আপনি এমনটা কিভাবে করতে পারলেন? এরপরে আপনি ইচ্ছা পোষণ করেন যে আপনি আর কখনো এই জঘন্য কর্মে লিপ্ত হবেন না। কিন্তু কিছুদিন যায়, কিছু সপ্তাহ যায় আপনি আবার নিজেকে এই অন্ধকার দুনিয়ায় আবিষ্কার করেন। এভাবে এই চক্র বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকে।
এখন আপনার নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত, আপনি কি বাকি জীবন এরকম চক্রে আবদ্ধ থেকেই কাটিয়ে দেবেন? এভাবেই কি জীবনের ইতি টানবেন? এখনো কি সময় হয়নি নিজের বাজে কামনাকে না বলার? এখনও সময় হয়নি একটি হেলদি জীবন গড়ে তোলার? জ্বি, নিজেকে বদলানোর সবচেয়ে উত্তম সময় এখনি। এতদিন যা হয়েছে তাকে পিছনে ফেলে আসতে হবে।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, পর্ণোগ্রাফি দেখার কারণে আপনার ব্রেইনের গঠন যেমন বদলে যেতে পারে, তেমনি এটা ছেড়ে দিলে ব্রেইন আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। একে রি-ওয়্যারিং বলা হয়। তাই নিজেকে বদলানোর চাবি আপনার হাতে। যদি চাবি দিয়ে ইঞ্জিন চালু না করতে পারেন, আপনারও আর ফিরে আসা সম্ভব হবেনা এই উজ্জ্বল দুনিয়ায়।
📄 পর্ব ২: আসক্তির শারিরীক ও মানসিক প্রভাব
পর্ণাসক্তির সুতীব্র প্রভাবকে বুঝতে হলে আমাদের এই সমস্যার দুটি দিকে দৃষ্টিপাত করতে হবে। শারিরীক ও মানসিক। প্রথমে শারিরীক সমস্যা নিয়েই বিস্তারিত কথা বলা যাক।
আমরা জানি, পুরুষের ব্রেইন গাঠনিক এবং ডিজাইন উভয় দিক দিয়েই নারীর ব্রেইন থেকে ভিন্ন। যেমন, পুরুষেরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চিত্রের প্রতি আকৃষ্ট হয়। এটা তাদের ভেতরে কামভাব জাগ্রত করে। ব্রেইনের একটি অংশের নাম থ্যালামাস, যা অন্যান্য ছবি থেকে যৌন চাহিদা জাগ্রত করে এমন ছবিকে আলাদা করে ফেলে। যদি কোন পুরুষকে ১০০ টি ছবি দেখানো হয় এবং এদের মধ্যে যদি কোন একটা যৌনসম্পর্কিত হয়, তাহলে থ্যালামাস সেই ছবিটাকেই পুরুষের কাছে অধিক ফুটিয়ে তুলবে।
এজন্যই ইসলামে আমাদের সতর্ক থাকা ও নজর নিচু রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কারণ আমাদের ব্রেইনকে দৃষ্টিগত যেকোন আসক্তি থেকে রক্ষার জন্য এরচেয়ে ভালো পরামর্শ দ্বিতীয়টি নেই।
কিন্তু আমরা যদি আমাদের নজরকে লাগামহীনভাবে ছেড়ে দেই তাহলে সেটা আমাদের যেকোন অনাকাঙ্ক্ষিত যৌনাচরণের দিকে টেনে নিতে পারে, এর ফলে আসক্তি বেড়ে যাবে এবং আমরা আরো ইরোটিক কোন ছবির খোঁজে থাকব। অনেকে চিত্রে যা দেখেন বাস্তবেও তা রূপায়িত করেন এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে যান এবং এর ফলাফল হিসেবে জঘন্য সব যৌন সংক্রমিত রোগ হতে পারে।
সমস্যাটা আর নিজেকে আনন্দ দেয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, কারণ এই আনন্দ খুব স্বল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হয় এবং এর পরেই সেই ব্যক্তি নিজেকে ডিপ্রেশন, রাগ, হতাশা, ফোকাস হীনতা, মনোযোগের অভাব, মাথাব্যথা ইত্যাদি সমস্যার ভেতরে নিজেকে আবিষ্কার করে। যে ধরণের পর্ণোগ্রাফি আপনি দেখতেন তা দেখে আর আনন্দ অনুভব করেন না, আরো আনন্দের জন্য আপনি ডোজ বাড়িয়ে দেন আর এমন কিছু দেখেন যা দেখার কথা আপনি আগে দুঃস্বপ্নেও কল্পনা করতে পারতেন না কিন্তু এখন তাই দেখছেন কেবল প্রবৃত্তিকে তৃপ্তি দেবার জন্য, এসবের মধ্যে রয়েছে সমকাম, পশুকাম ইত্যাদি।
মানসিক দিকের ব্যাপারে বলতে গেলে, এসবের কারণে অনেকেই নির্জনতা, স্বার্থপরতা ও একাকীত্বের ক্ষত বয়ে নিয়ে বেড়ান। কারণ পর্ণোগ্রাফির মাধ্যমে মানুষ নিজেকে একাকী করে, কেবল নিজের তৃপ্তির কথা ভাবে, বিশেষ করে পুরুষেরা তাদের স্ত্রীর ভালোলাগার বিষয়টির দিকে বিন্দুমাত্র দৃষ্টিপাত করে না যৌনমিলনের সময়। তারা কেবল নিজের আনন্দের কথাই ভাবে। স্বার্থপরতা এরপর একাকিত্বের দিকে মোড় নেয়, যা আরো অনেক গোপন গুনাহের দিকে ঠেলে দিতে পারে, এরপরে সেই ব্যক্তি ধীরে ধীরে অসামাজিক হতে থাকেন যে আর বাইরে যেতে পছন্দ করে না, ঘুরতে পছন্দ করে না বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের সাথে যা কারো ব্যবসা বা ক্যরিয়ারে ভীষণ প্রভাব ফেলে।
এগুলোর বাজে প্রভাব পড়ে বৈবাহিক সম্পর্কে যা মারাত্মক ডিপ্রেশন, রাগ এবং অশান্তিতে রূপ নিতে পারে। এসব 'উপহার' দেয়ার প্রতিজ্ঞা পর্ণোগ্রাফি আপনার কাছে করে! অথচ পবিত্রতার রাস্তা আপনাকে নিয়ে যাবে স্পষ্টতা, বিশ্বস্ততা ও সাফল্যের গন্তব্যে। আগেই বলেছি, সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা আপনারই হাতে রয়েছে। তাই সুবুদ্ধির সাথে সিদ্ধান্ত নেয়াই কি বিজ্ঞের কাজ নয়?
📄 পর্ব ৩: সেক্সুয়াল ও নন সেক্সুয়াল ট্রিগার
পর্ণোগ্রাফি ও অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত যৌনাচরণের নীল জগৎ থেকে ফিরে আসার পথে প্রত্যেক আসক্ত ব্যক্তিই রিল্যাপস (আসক্তি থেকে বের হতে ব্যর্থ হয়ে আবার পূর্বের আচরণে ফিরে যাওয়া) এর সম্মুখীন হয়, ব্যতিক্রম প্রায় দেখাই যায়না। তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে পূর্বের আসক্তিতে ফিরে না যাবার, এরপরেও তারা নিজেদের পুনরায় সেই জগতে আবিষ্কার করে, সেই কাজটি করে ফেলে।
পর্ণাসক্তি নামক এই দানবকে পরাজিত করার জন্য এবং যেই আনন্দময় জীবন আপনি সবসময় প্রত্যাশা করে এসেছেন তা পাওয়ার জন্য আপনাকে যেসব বিষয় পাপ কাজে লিপ্ত করার দিকে নিয়ে যাচ্ছে তা চিহ্নিত করতে হবে। যদি তা না করা হয়, তাহলে তেমন পরিস্থিতিতে পড়লে আপনি আবার পাপের চক্রে ঘুরপাক খেতে থাকবেন।
কিছু সেক্সুয়াল ট্রিগার যা পাপ কাজে উদ্বুদ্ধ করে তা সহজেই নির্ণয় করা যায়, যেমন টিভি শো দেখা, নির্দিষ্ট কিছু মুভি দেখা, দীর্ঘসময় সৈকতে বসে মানুষের দিকে তাকিয়ে থাকা, নোংরা বই বা ম্যাগাজিন এর পৃষ্ঠা উল্টানো ইত্যাদি।
সমাধান খুবই সহজ, এধরণের পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে হবে অর্থাৎ এসব কাজ থেকে দূরে থাকতে হবে। তবে নন সেক্সুয়াল ট্রিগার খুব সহজেই চিহ্নিত করা যায় না। নিম্নে কিছু নন সেক্সুয়াল ট্রিগার উল্লেখ করা হলঃ
ক. একঘেয়েমী
কোন কিছু না করা, নিজেকে কাজ থেকে মুক্ত রাখা অনেক আসক্তের জন্য ট্রিগার হিসেবে কাজ করে। এর সমাধান?
নিজেকে প্রোডাক্টিভ কোন কিছুতে লিপ্ত করতে এবং এবং সবসময় কিছু না কিছুতে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে হবে, এটা পছন্দনীয় যেকোন কাজই হতে পারে।
খ. একাকীত্ব
পর্ণোগ্রাফি দেখা হয় তখনই যখন মানুষ একদম একা থাকে, তাই এর বিপরীতটা করা উচিত। নিজেকে দ্বীনী বন্ধুদের সংস্পর্শে রাখুন, পরিবারের সদস্যদের সাথে গল্প করুন এবং একাকীত্ব এড়িয়ে চলুন।
গ. কাজের ধকল এবং ক্লান্তি
ধকল এড়ানোর মত পরিস্থিতি অবলম্বন্ন করুন কর্মক্ষেত্রে, স্কুলে অথবা বাসায়। যখনই ক্লান্ত বোধ করবেন তখন স্বস্তি ফিরে পাবার সর্বোত্তম উপায় মহান আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া এবং নিম্নোক্ত চমৎকার দুয়াটি পড়াঃ
আল্লাহুম্মা 'ইন্নি 'আবদুকা, ইবনু 'আবদিকা, ইবনু 'আমাতিকা, না- সিয়াতি- বিয়াদিকা, মা-জিন ফিই-আ হুকমুকা, 'আদলুন ফিই-আ ক্বাজা- 'উকা, 'আস'আলুকা বিকুল্লি ইসমিন হুয়া লাকা, সাম্মাইতা বিহি নাফসাকা, 'আও 'আনজালতাহু ফি কিতা-বিকা, 'আও 'আল্লামতাহু 'আহাদান মিন খালক্কিকা, 'আওয়িসতা'সারতা বিহি ফি 'ইলমিল-ঘাইবি 'ইনদাকা, 'আন তাজ'আলাল-কুর'আ-না রাবি-ই'-আ ক্বালবি, ওয়া নু-রা সাদরি-, ওয়া জালা-আ হুজনি, ওয়া জাহা-বা হাম্মি।
অর্থঃ হে আল্লাহ, আমি আপনার দাস এবং আপনার পুরুষ ও নারী দাসদের সন্তান। আমার অগ্রমস্তিষ্ক আপনার হাতে (আমার উপর আপনার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে)। আপনি নিশ্চিতভাবেই আমার বিচার করবেন এবং আমার উপর আপনার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ সঠিক। আমি আপনাকে প্রতিটি নামে আহবান করছি যা আপনি নিজের নাম হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, আপনার কিতাবে প্রকাশ করেছেন, আপনার বাছাইকৃত সৃষ্টিতে তা শিক্ষা দিয়েছেন অথবা অদেখার জ্ঞান কেবল নিজের কাছেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন, আপনি আমার অন্তরের নূর, আমার দুঃখ দূরীকারী এবং ক্লান্তি থেকে মুক্তিপ্রদানকারী।
আর যখনই আপনি ক্লান্ত হবেন তখন সবচেয়ে উত্তম যে কাজটি করতে পারেন তা হল, ইন্টারনেট সংবলিত ডিভাইসগুলি অফ করে দিন, ঘরের লাইট নিভিয়ে শান্তির ঘুম দিন।
📄 পর্ব ৪: পর্ণোগ্রাফির প্রভাব
যে জিনিসগুলো বিয়েকে ভেঙ্গে দেয়, সম্পর্কে নষ্ট করে এবং স্বামী/স্ত্রীর মধ্যকার বিশ্বাসের দেয়ালে চিড় ধরায় তার অন্যতম হল পর্ণোগ্রাফি।
পর্ণোগ্রাফিতে নারী/পুরুষ উভয়েই আসক্ত হতে পারে তবে পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় পুরুষেরা নারীদের তুলনায় এতে বেশী আসক্ত এবং এসব দেখার ফল হিসেবে কোন স্ত্রী যখন বের করতে পারেন তার স্বামী পর্ণাসক্ত তখন তিনি মানসিকভাবে মারাত্মক আহত হন। তার মনে হতে থাকে তিনি যথেষ্ট সুন্দর নন এবং এজন্য তার স্বামী তার মধ্যে আর সুখের খোঁজ করছেন না। তিনি মনে করতে থাকেন, তার স্বামী তার সকল বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে এবং তিনি তার পূর্বের স্বামীর সাথে বর্তমানের স্বামীর কোন মিল পাচ্ছেন না। তিনি তার নিজের মনের সাথেই যুদ্ধ করতে থাকবেন। যেমনঃ
সে কতদিন ধরে পর্ণোগ্রাফি দেখছে?
তার কি অন্য কারো সাথে সম্পর্ক আছে?
সে কি আমাকে এই আসক্তির সকল বিষয় বলে দিয়েছে না কি কিছু গোপন করছে?
আমি যদি আমার সন্তানকে একা রেখে যাই তার কাছে, তাহলে তারা কি তার কাছে নিরাপদে থাকবে? ইত্যাদি
অর্থাৎ হঠাৎ করেই তার জীবনে ব্যাপক উদ্বিগ্নতা চলে আসবে, একের পর এক সন্দেহ এসে মনে হানা দেবে। সমস্যাটা হচ্ছে, এই বিশ্বাসকে পুনরায় আগের মত করতে বছরের পর বছর লাগতে পারে, কোন স্ত্রীর ক্ষেত্রে এটা কখনোই সম্ভব হয় না আর তখন ডিভোর্স ছাড়া আর কোন গতি থাকে না।
কয়েক বছর আগে আমার কাছে এক বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি এসে তার পর্ণাসক্তির ব্যাপারটি খুলে বলেন। তিনি বলেন তার তিনটা ফুটফুটে বাচ্চা ছিল যাদের জন্মদাতা তার প্রিয়তমা স্ত্রী। তিনি যখনই পর্ণোগ্রাফি দেখতেন তার পরপরই তার হৃদয় অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে যেত, তিনি অনুশোচনার সাগরে ডুব দিতেন। তবে গল্পের এখানেই শেষ নয়।
তার সবচেয়ে কষ্টের মূহুর্ত সেটাই ছিল যখন তার বড় মেয়ে তাকে পর্ণোগ্রাফি দেখা অবস্থায় হাতেনাতে ধরে ফেলে। তিনি হতবুদ্ধি হয়ে গিয়েছিলেন এবং এক ইঞ্চিও নড়তে পারছিলেন না। মূহুর্ত পরেই তার স্ত্রী সেখানে প্রবেশ করেন এবং ৩০ বছরের বৈবাহিক জীবনের সেখানেই ইতি ঘটে। তার স্ত্রী সেই মুহুর্তেই সবকিছু শেষ করে দিতে চেয়েছেন।
দেখতেই পাচ্ছেন, সামান্য কিছু আনন্দের জন্য পবিত্র সম্পর্ক নষ্ট করাটা একেবারেই অনুচিত। কিন্তু পর্ণোগ্রাফি তো আপনাকে তার দিকেই টেনে নিবে?
আপনি কি বদলাতে প্রস্তুত? এই প্রশ্নটিই আপনার নিজেকে করতে হবে।