📘 পর্নোগ্রাফি নিরব ঘাতক > 📄 পর্ব ৫: অ্যাডিকশন টেস্ট

📄 পর্ব ৫: অ্যাডিকশন টেস্ট


এবার আসক্তির উপর পরীক্ষা নেয়া হবে। আপনি যদি নিম্নোক্ত প্রশ্নের তিনটি বা এর অধিক প্রশ্নের জবাবে হ্যাঁ উত্তর দেন তাহলে আপনার আসক্তি রয়েছে অন্তত আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন অনুযায়ী। তবে যদি দুই এর কম হয় তাহলে আপনার তেমন চিন্তিত হবার কারণ নেই। তবে এটা মূল টেস্ট নয় বরং শর্ট ভার্শন বলা যেতে পারে। কিছু কিছু বিষয় বাদ দেয়া হয়েছে এবং এই টেস্ট শুধুমাত্র পর্ণোগ্রাফি নয় বরং যেকোন আসক্তির ক্ষেত্রেই বলা যেতে পারে।

প্রথম প্রশ্নঃ আপনি কি পূর্বের চেয়েও অধিক সময় আসক্তির পিছনে ব্যয় করছেন? আপনি কি আরো 'কড়া' বা বিকৃত ধাঁচের পর্ণের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন?

দ্বিতীয় প্রশ্নঃ আপনি কি সেখান থেকে ফিরে আসার চেষ্টা করেছেন?

আসক্তি থেকে থাকলেও ফিরে আসার চেষ্টা বা লক্ষণ যে থাকবেই ব্যাপারটা এমন নয়। অনলাইন ফোরামে অনেক ব্যবহারকারীই পর্ণোগ্রাফি থেকে ফেরার পর কিছু লক্ষণ এর কথা বলেছেন। এই লক্ষণগুলি বিভিন্ন হতে পারেঃ ক্লান্তি, রাগ, দুশ্চিন্তা, খিটখিটে মেজাজ, ডিপ্রেশন ইত্যাদি। এগুলো কমন কিছু লক্ষণ। তবে অনেকে শারিরীক পরিবর্তনের কথাও বলেছেন যেমন ঠান্ডা লাগা, ফ্লু, মাথা ব্যথা, নির্ঘুম রাত কাটানো ইত্যাদি।

তৃতীয় প্রশ্নঃ আপনি কি নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছেন না এবং সেই কাজে লিপ্ত হচ্ছেন?

আপনি যেরকম সময় ব্যবহারের চিন্তা করেন তার চাইতেও দীর্ঘ সময় ধরে কি সেই কাজে লিপ্ত থাকছেন? আমার মনে এটি ব্যাখ্যা দেয়ার প্রয়োজন নেই।

চতুর্থ প্রশ্নঃ আপনি কি সেই আসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে অবগত যা আপনার শরীর, মননে, যৌন ক্ষমতা হ্রাস ইত্যাদি ক্ষেত্রে পড়ছে?

পঞ্চম প্রশ্নঃ সেই কাজের কারণে কি আপনি অন্য কোন প্রয়োজনীয় কাজ থেকে বিরত থাকছেন বা পরবর্তী সময়ের জন্য ফেলে রাখছেন?

এর অর্থ আপনি জীবনের বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ কাজ ফেলে পর্ণোগ্রাফিতে সময় দিচ্ছেন।

ষষ্ঠ প্রশ্নঃ এ থেকে মুক্তি পাওয়ার ইচ্ছা কি আপনার রয়েছে?

অনেক আসক্ত ব্যক্তিই বলে তারা চাইলেই যেকোন মূহুর্তে মুক্তি পেতে পারবে। কিন্তু তারা এটা থেকে মুক্ত হয়না। আপনি যদি অনেকবার ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালান তাহলে এই প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ হবে।

শেষ সপ্তম প্রশ্নঃ আপনি কি আপনার গুরত্বপূর্ণ সময় এবং এনার্জি এর পিছনে দিছেন?

এখন আচরণগত আসক্তির কারণের ব্যাখ্যা দেয়া যাক। এটা সাধারণ জ্ঞানের বিষয় যে ডোপামিন বৃদ্ধিকারণ বস্তু যেমন অ্যালকোহল, কোকেইন, মেথ ইত্যাদি ব্রেইনে বিভিন্ন পরিবর্তন আনে যা আসক্তির দিকে কাউকে ঠেলে দেয়। কিন্তু শপিং, ফুড, জুয়া, যৌনমিলন এগুলোও কি ব্রেইনে পরিবর্তন আনে যা আসক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়?

উত্তরটি হবে, নিশ্চয়ই। তারা পরিবর্তন আনে বলেই তো তাদের আসক্তি বলা হয়। সম্প্রতি জুয়া এবং খাবারের উপর গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে এসব আসক্তির ফলে ব্রেইনের পরিবর্তন মাদকাসক্তির মত। ইন্টারনেট পর্ণের ব্যাপারে সাধারণত কেউই জানতে চায়না আর যেহেতু এটা খুবই নতুন এক ঘটনা (ইন্টারনেট পর্ণোগ্রাফির সমস্যাটি মূলত কয়েকবছর আগে সৃষ্টি হয়েছে) তাই এ ব্যাপারে তেমন গবেষণাও নেই। এখন বলুন, কোনটা বেশী উত্তেজনা সৃষ্টি করে চিজকেক খাওয়া নাকি পর্ণোগ্রাফি দেখা বা মাস্টারবেশন করা? অর্গাজমের কারণে ডোপামিনের পরিমাণ খাবারের চাইতে অনেক বেশি বেড়ে যায়। কোন কাজের পিছনে পর্ণাসক্তরা বেশী সময় ব্যয় করে খাবার না পর্ণোগ্রাফিতে?

প্রাকৃতিক কারণ সম্পর্কে কথা বলা যাক। প্রাকৃতিক কারণ একটি নতুন শব্দ যা দিয়ে বোঝানো হয় এমন কোন কাজকে যার সাথে মাদকের সম্পৃক্ততা না থাকলেও তা ডোপামিন নিঃসরণ করে যার মধ্যে রয়েছে খাবার, যৌনমিলন, জুয়া, ভিডিও গেইম ইত্য্যাদি। আপনি যদি উপাত্তের দিকে তাকান তাহলে দেখবেন মাত্র ১৫ শতাংশই তীব্রভাবে কোনকিছুতে আসক্ত হয় যার পেছনে জিনের প্রভাব রয়েছে। তবে প্রাকৃতিক কারণের দিকে যদি আকানো যায় যার মধ্যে খাবারও রয়েছে, তাহলে এবার আমাদের হাতে প্রচুর সংখ্যক মানুষ রয়েছে যারা আসক্ত হতে পারে।

যদিও এধরণের আসক্তিতে প্রচুর সময় লাগে মাদকের চেয়ে। চিন্তা করে দেখুন, কয়জন মানুষ মোটা হতে চায়? অথচ বাস্তবে অধিকাংশ মানুষই স্থূলতায় ভুগছে, অন্তত পাশ্চাত্য সমাজে।

অন্যদিকে ইঁদুরের যায় আসে না সে মোটা হলে। যখন তারা উচ্চ ক্যালোরি যুক্ত খাবার খায় তখন তাদের সবাই প্রয়োজনের চাইতে অতিরিক্ত গ্রহণ করে আর শুধু মোটাই হয় না, স্থূল হয়ে যায়। এখান থেকে দুটো জিনিস অনুমান করা যায়। যখন প্রাকৃতিক কারণের ব্যাপারটি আসে তখন আমাদের রিওয়ার্ড সার্কিট সেক্ষেত্রে নিজের বিবর্তন ঘটিয়ে নিয়েছে। এটি আমাদের খাবার এবং যৌন মিলনের প্রতি আগ্রহী করেছে কিন্তু মাদকের প্রতি করেনি। এজন্যই প্রচুর মানুষ খাবারে এবং ইন্টারনেট পর্ণে আসক্ত হয়ে যায়।

এই খাবার এবং যৌন মিলনের অধিক আকর্ষণীয় অথবা উত্তেজনাকর কোন ভার্শন আমাদেরকে আরো আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরতে পারে যদিও আমরা তার প্রতি জিনগতভাবে ধারণে সমর্থ নয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কখন প্রাকৃতিক কারণগুলি আসক্তিতে পরিণত হয়?

প্রথমত, যখন এগুলি আমাদের পূর্বপুরুষদের অভিজ্ঞতার চাইতেও অধিক উত্তেজ্নাকর হবে।

দ্বিতীয়ত, যখন এগুলির অধিক সরবরাহ থাকবে।

তৃতীয়ত, যখন এগুলোতে প্রচুর বৈচিত্র্য থাকবে যেটাকে নতুনত্ব হিসেবে বিবেচনা করেছি আগে।

চতুর্থত, যখন আমরা এগুলোতে আসক্ত হই এটা না জেনে যে এটি আমাদের ব্রেইনে পরিবর্তন আনতে পারে।

বর্তমানের উচ্চ ক্যালোরিসমৃদ্ধ খাবার এবং ইন্টারনেট পর্ণ এই চারটি কারণকেই পূরণ করে।

দুটোই আমাদের ব্রেইনের স্বাভাবিক কার্যপদ্ধতিকে বদলে দেয় এবং যতক্ষণ পর্যন্ত গ্রহণ করা সম্ভব ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের ব্রেইন গ্রহণের নির্দেশ দেয়। এর কারণ ক্যালোরি এবং প্রজনন দুটোই জিনগতভাবে মানুষ সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00