📄 দুনিয়াপ্রীতির অপকারিতা
সুফিয়ান সাওরি রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ঈসা বিন মারিয়াম আলাইহিস সালাম বলতেন, 'দুনিয়াপ্রীতি সমস্ত অনিষ্টের মূল। সম্পদে রয়েছে অনেক অসুখ'। জিজ্ঞেস করা হলো, সম্পদের অসুখ কি? তিনি বললেন, 'সম্পদশালী সাধারণত অহমিকা ও গৌরব থেকে নিরাপদ থাকে না'। তারা বলল, যদি নিরাপদ থাকতে পারে? তিনি বললেন, 'তাহলে তার ব্যস্ততা তাকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল করে দেয়' । [৯]
দুনিয়ার ভালোবাসা দ্বারা জাহান্নাম আবাদ হয়। আর দুনিয়াবিমুখতা দ্বারা জান্নাত আবাদ হয়। মদের নেশার চেয়েও দুনিয়াসক্তির নেশা অনেক প্রবল। মদখোর তো কিছুক্ষণ পরেই সম্বিত ফিরে পায়; কিন্তু দুনিয়াসক্ত লোক গোরের অন্ধকারে না গিয়ে এই নেশা থেকে উঠে আসতে পারে না। ইয়াহিয়া বিন মুয়াজ রহিমাহুল্লাহ বলেন, 'দুনিয়া হলো শয়তানের মাদক। যে তাতে আসক্ত হয়ে যায়, সে মৃত্যুর সৈন্যদের দেখে, নিজেকে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে আবিষ্কার করে, অনুতপ্ত হওয়ার পূর্বে এই নেশা থেকে মুক্ত হতে পারে না।
দুনিয়াপ্রীতির সবচেয়ে প্রধান অপকার হলো, তা আল্লাহর ভালোবাসা, স্মরণ ও জিকির থেকে গাফেল করে দেয়। সম্পদের কারণে যে আখিরাত থেকে উদাসীন হয়ে যায় সে ক্ষতিগ্রস্ত। অন্তর যখন আল্লাহর স্মরণ থেকে উজাড় হয়ে যায়, তখন শয়তান সেখানে ঘাঁটি স্থাপন করে নেয় এবং যাচ্ছেতাই তাকে পরিচালনা করে। দ্বীনি ক্ষতির ক্ষেত্রে তার এমন একটি মনোভাব তৈরি হয় যে, সে অল্পকিছু ভালো কজ করে সন্তুষ্ট ও তৃপ্তির ঢেকুর তোলে এবং ভাবে যে, আমি অনেক ভালো কাজ করে ফেলেছি。
ইবনে মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'দুনিয়ায় আগত সকলেই মেহমান এবং তার সম্পদ সমস্ত ধারের বস্তু; কর্জ। সুতরাং মেহমান কিছুদিন পরেই চলে যাবে আর কর্জের সম্পদ ফিরিয়ে দিতে হবে'。
দুনিয়াপ্রীতি সমস্ত অনিষ্টের মূল এবং দ্বীনের জন্য হানিকারক, এ কথার বিশ্লেষণে আল্লাহওয়ালা উলামায়ে কেরাম কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন, এক, দুনিয়ার ভালোবাসা দুনিয়াকে অন্তরের মাঝে সম্মানযোগ্য করে তোলে। অথচ আল্লাহ্ তায়ালার নিকট দুনিয়া বড়ই তুচ্ছ। আর আল্লাহ্ তায়ালার নিকট তুচ্ছ কোনো জিনিসকে সম্মান করা একটি বড় কবিরা গুনাহ。
দুই, দুনিয়ায় জীবন যাপন করতে যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু বাদে আল্লাহ্ তায়ালা দুনিয়াকে অভিসম্পাত করেছেন, নিন্দা করেছেন এবং এর প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেছেন। আর আল্লাহ্ তায়ালার অভিশপ্ত নিন্দিত ও ঘৃণিত বিষয়কে যে ভালোবাসে সে আল্লাহ্ তায়ালার ঘৃণা, ক্রোধ এবং আজাবের সম্মুখীন হয়。
তিন, যখন কেউ দুনিয়াকে ভালবেসে ফেলে, তখন সে দুনিয়াকেই নিজের চূড়ান্ত গন্তব্য স্থির করে নেয়। ফলে আল্লাহ্ তায়ালা যে সমস্ত কাজকে তাঁর এবং আখিরাত পর্যন্ত পৌঁছার মাধ্যম বানিয়েছেন, সে এগুলোকে দুনিয়া অর্জনের পেছনে ব্যয় করে। কাজেই বিষয়টি হয়ে যায় একদম বিপরীত, পরিবর্তন হয়ে যায় পুরো দর্শন।
সাকুল্যে এখানে দুটি সমস্যা সৃষ্টি হয়েছেঃ এক, মাধ্যম বা উপায়কে চূড়ান্ত লক্ষ্য বানিয়ে ফেলা। দুই, আখিরাতের কাজ দিয়ে দুনিয়া তালাশ করা। এই উভয়টিই সবদিক থেকে বিরাট নিকৃষ্ট এবং কুৎসিত ব্যাপার। দা কুমড়োর সম্পর্ককে তারা পরিবর্তন করে ফেলে। আল্লাহ্ তায়ালা বলেন- 'যারা কেবল পার্থিব জীবন ও তার ঠাটবাট চায়, আমি তাদেরকে তাদের কর্মের পূর্ণ ফল এ দুনিয়াতেই ভোগ করতে দেবো এবং এতে তাদের কোনো কম দেওয়া হবে না। এরাই তারা যাদের জন্য আখেরাতে জাহান্নাম ছাড়া কিছুই নেই। যা কিছু কাজকর্ম তারা করেছে তা পরকালে নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং তারা যা আমল করেছে তা বাতিল বলে গণ্য হবে' । [১০]
আবু হুরাইরা রদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- 'কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তায়ালা বান্দাদের মাঝে ফয়সালার জন্য অবতরণ করবেন। সকল উম্মত সেদিন নতজানু থাকবে। সর্বপ্রথম যাদের ডাকা হবে তারা হলো কুরআনের হাফিজ, আল্লাহর পথের শহীদ এবং প্রচুর ধনসম্পদের অধিকারী একব্যক্তি। আল্লাহ্ তায়ালা কুরআনের হাফেজকে বলবেন, "আমি আমার রাসুলের ওপর যা নাযিল করেছিলাম, তোমাকে কি সেই বিষয়ের জ্ঞান দেই নি?” সে বলবে, 'হাঁ, অবশ্যই দিয়েছিলেন, হে আমার রব'। আল্লাহ্ তায়ালা বলবেন, “যে জ্ঞান তুমি লাভ করেছিলে, তদনুসারে কী আমল করেছিলে?” সে বলবে, 'আমি দিন রাত তা তিলাওয়াত করেছি'। আল্লাহ্ তায়ালা বলবেন, 'তুমি মিথ্যা বলেছ'। ফেরেশতাগণও বলবেন, 'তুমি মিথ্যা বলেছ'। আল্লাহ্ তায়ালা তাকে বলবেন, "তুমি বরং পাঠ করেছো এ জন্য যে, মানুষ বলবে, অমুকে ক্বারি”। আর তা বলা হয়েছে। [১১]
অতঃপর নিয়ে আসা হবে ধনী ব্যক্তিকে। আল্লাহ্ তায়ালা তাকে বলবেন, “তোমাকে কি প্রচুর বিত্ত দেই নি? তোমাকে তো অন্যের প্রতি মুখাপেক্ষী হতে হতো না?” সে বলবে, 'হাঁ অবশ্যই হে আমার রব'। আল্লাহ্ বলবেন, "তোমাকে আমি যা দিয়ছিলাম তা দিয়ে কী আমল করেছো?" সে বলবে, 'তা দিয়ে আমি আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রেখেছি এবং দান সাদকা করেছি'। আল্লাহ্ বলবেন, 'তুমি মিথ্যা বলছো'। ফেরেশতাগণও বলবেন, 'তুমি মিথ্যা বলছো'。
এরপর আল্লাহ্ বলবেন, “তোমার নিয়ত ছিল তোমাকে যেন বলা হয় অমুক ব্যক্তি খুব দানশীল”। আর তা বলে হয়েছে。
তারপর আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হওয়া ব্যক্তিকে আনা হবে। আল্লাহ্ তায়ালা তাকে বলবেন, “কীজন্য তুমি নিহত হয়েছিলে?” সে বলবে, 'আমাকে আপনার রাস্তায় জিহাদের আদেশ দিয়েছেন। আমি জিহাদ করতে করতে শহীদ হয়ে গেছি'। আল্লাহ্ বলবেন, 'তুমি মিথ্যা বলছো'। ফেরেশতাগণও বলবেন, 'তুমি মিথ্যা বলছো'। এরপর আল্লাহ্ বলবেন, “তুমি বরং যুদ্ধ করেছো এ জন্য যে, লোকে বলবে অমুক অনেক সাহসী”। আর তা বলা হয়েছে。
তারপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার হাঁটুতে হাত চাপড়ে বললেন, 'আবু হুরাইরা, কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তায়ালার এই তিনজন সৃষ্টি দ্বারাই সর্ব প্রথম জাহান্নামের আগুন প্রজ্বলিত করা হবে'।
উক্ত হাদিসে লক্ষ্য করলে আমরা দেখতে পাই। দুনিয়ার ভালোবাসা তাদেরকে উত্তম প্রতিদান থেকে বঞ্চিত করে দিয়েছে। বরবাদ হয়ে গেছে তাদের যাবতীয় আমল। উপরন্তু তারা পরিণত হয়েছে জাহান্নামের উদ্বোধনপাত্রে。
চার, দুনিয়ার ভালোবাসা বান্দা এবং তার আখিরাতের জন্য উপকারী কাজের মাঝে প্রতিবন্ধক হিসেবে দাঁড়ায়। মানুষ তখন দুনিয়া ও তার প্রেমাস্পদ নিয়েই ব্যতিব্যস্ত থাকে। তবে এক্ষেত্রে মানুষের রয়েছে বিভিন্ন স্তরঃ দুনিয়ার ভালোবাসা কাউকে সরাসরি ঈমান এবং শরীয়ত থেকেই গাফেল করে দেয়। আবার অনেককে ওয়াজিব কোনো কর্তব্য পালন করতে বাধা দেয়, যদি তা দুনিয়ার স্বার্থের বিপরীত হয়; তবে কিছু ওয়াজিব কর্তব্য সে পালন করেও বটে। অনেকে আবার সময়মত ওয়াজিব পালন করতে পারে না। যেভাবে আদায় করা দরকার ছিল, সেভাবে পারে না; বরং সময় ও ন্যায্যতায় গড়িমসি করে। কেউ কেউ আবার ওয়াজিব আদায় করার সময় নিজের অন্তরকে আল্লাহ্ তায়ালার সামনে সোপর্দ করতে পারে না, বশে আনতে পারে না নিজের কলবকে। ফলে দেখা যায় অন্তসারশুন্য প্রকাশ্য কর্তব্য আদায় হচ্ছে। দুনিয়ার প্রেমিক ও অনুরাগীদের অবস্থা এতোটাই অশুভ যে, তারা আল্লাহর দাসত্বের সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত থাকে; আল্লাহ্ তায়ালার জন্য নিজের অন্তরকে একাগ্র একনিষ্ঠ করতে পারে না; তাঁর জিকিরে নিজের জিহ্বাকে সিক্ত করতে পারে না; না পারে অন্তর ও কলবকে এক সুতোয় গাঁথতে। সুতরাং দুনিয়ার মহব্বত ও ভালোবাসা অপরিহার্যভাবে আখিরাতের জন্য ক্ষতিকর; ঠিক যেভাবে আখিরাতের ভালোবাসা দুনিয়ার জন্য ক্ষতিকর。
পাঁচ, দুনিয়ার ভালবাসা দুনিয়াকে ব্যক্তির একমাত্র অভিলাষ ও মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করে। আনাস বিন মালিক রদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- 'যে ব্যক্তির একমাত্র চিন্তার বিষয় হবে আখিরাত, আল্লাহ্ তায়ালা সেই ব্যক্তির অন্তরকে অভাবমুক্ত করে দিবেন এবং তার যাবতীয় বিচ্ছিন্ন কাজ একত্রিত করে সুসংহত করে দিবেন, তখন তার নিকট দুনিয়া আগমন করবে বাধ্য হয়ে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তির একমাত্র চিন্তার বিষয় হবে দুনিয়া, আল্লাহ্ তায়ালা সেই ব্যক্তির দুচোখে অভাব অনটন লাগিয়ে দেবেন, তার যাবতীয় কাজ এলোমেলো করে দেবেন, আর তার জন্য দুনিয়ার যতটুকু নির্দিষ্ট সে তার চেয়ে বেশি কিছু ভোগ করতে পারবে না' । [১২]
ছয়, দুনিয়াপ্রেমী দুনিয়া নিয়েই কঠোর আজাবের সম্মুখীন হয়। দুনিয়া অর্জন করতে গিয়ে, সে জন্য প্রচেষ্টা ব্যয় করতে গিয়ে এবং দুনিয়াবাসির সাথে লেনদের করতে গিয়ে তাকে প্রচুর পরিমাণে আজাবের সম্মুখীন হতে হয়। তাছাড়া মৃত্যুর সাথে সাথে সবকিছু রেখে চলে যাওয়া, এটাও একটি আজাব। কবরজগতেও দুনিয়া হারানোর আক্ষেপ, তার বিপরীতে কোনো কিছু না পাওয়া এবং আখিরাতের জন্য কোনো কিছু সঞ্চয় না করার কারণে নির্মল আজাবের স্বীকার হতে হবে। পোকা মাকড় ও কীট পতঙ্গ তার শরীরে যে লীলাখেলা চালাবে, তার রুহ তা অনুভব করে দুশ্চিন্তা, বিষণ্ণতা ও আফসোসে টইটম্বুর হয়ে যাবে。
মোট কথা, দুনিয়া প্রেমিক দুনিয়াতেও আজাবের মধ্যে থাকবে, কবর জগতেও কঠিন আজাবের সম্মুখীন হবে এবং নিজ রবের সাথে সাক্ষাৎ কালেও আজাবের স্বীকার হতে হবে। আল্লাহ্ তায়ালা বলেন- 'তাদের ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি যেন আপনাকে বিমুগ্ধ না করে। আল্লাহ্ তো চান দুনিয়ার জীবনে তাদেরকে এসব জিনিষ দ্বারাই শাস্তি দিতে। আর যাতে কাফের অবস্থাতেই তাদের প্রাণ বের হয়'。
জনৈক সালাফ বলেন-'আল্লাহ্ তায়ালা তাদেরকে শাস্তি দিবেন ধন সম্পদ জমা করার দ্বারা, এসবের মায়া নিয়েই তাদের রুহ ত্যাগ করবে এবং এসবের ওপর আল্লাহ্ তায়ালার হক আদায় না করার ক্ষেত্রে তারা কুফরি ও অকৃতজ্ঞতা প্রদর্শন করবে'。
সাত, দুনিয়াপ্ৰেমী ও আখিরাতের চেয়ে দুনিয়ার প্রতি অধিক অনুরাগীর চেয়ে নির্বোধ ও বোকা এই পৃথিবীতে দ্বিতীয় কেউ নেই। সে কল্পনাকে প্রাধান্য দেয় বাস্তবতার ওপর। স্বপ্নকে প্রাধান্য দেয় সত্যের ওপর। অস্থায়ী ছায়ামূর্তিকে অগ্রাধিকার দেয় চিরস্থায়ী শান্তির ওপর। নশ্বর পৃথিবীকে অবিনশ্বর জান্নাতের ওপর। আখিরাতের জীবনের স্নিগ্ধতা ও প্রশান্তিকে বিক্রি করে দেয় এমন এক জীবন দ্বারা যা অলীক স্বপ্ন কিংবা বৃক্ষছায়ার ন্যায় অস্থায়ী। বুদ্ধিমান ব্যক্তি কখনো এতো সরল ধোঁকা খেতে পারে না。
জনৈক সালাফ বলেন- 'দুনিয়ার ভোগে যারা ডুবে আছো, শুনে রাখো, দুনিয়ার কোনো স্থায়িত্ব নেই; অস্থায়ী ছায়া নিয়ে ধোঁকা খাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়'。
সূর্যের আলো কখনো কখনো ছায়ায় ঢেকে যায়। এই ছায়া হয় অস্থায়ী এবং ক্রমসংকুচিত। আপনি যদি তাকে ধরার লোভে তার পিছু নেন তাহলে মাঠে মারা যাবেন। এই ছায়াই হলো দুনিয়ার প্রকৃষ্ট উদাহরণ。
মরুভূমিতে তৃষ্ণার্ত ব্যক্তি দূর থেকে রেতচমক দেখে মনে করে পানি। দৌড়ে যায় সে দিকে। কিন্তু গিয়ে সেখানে কিছুই পায় না। শুধু বালু আর বালুল দেখতে পায়। এভাবে এক সময় তার জীবনটাই শেষ হয়ে যায়। এটা দুনিয়ার উত্তম দৃষ্টান্ত。
একজন বৃদ্ধা। তার চেহারা বড় বীভৎস। তার ওপর রয়েছে অনেক অপবাদ। তার স্বামীও তার ধোঁকা থেকে রেহাই পায় নি। সে বিয়ের প্রস্তুতি নিয়েছে। সাজসজ্জা গ্রহণ করেছে নতুন বৌয়ের। ঢেকে দিয়েছে তার চেহারার মলিনতা। প্রস্তাব দেওয়ার জন্য যারা এসেছে, তাদের অনেকেই তার বাহ্যিক চেহারা দেখে পছন্দ করে ফেলেছে; তাদের দৃষ্টি বাহ্যকে অতিক্রম করতে পারে নি। তারা প্রস্তাব দিয়ে দিলো। বৃদ্ধা বলল, মোহর হলো আখিরাত ত্যাগ করতে হবে। আমি ও আখিরাত দুই সতীন। এক সঙ্গে থাকা কোনো ক্রমেই সম্ভব নয়। পাণিপ্রার্থী তাকেই প্রাধান্য দিলো। মেনে নিলো তার শর্ত। সে বলল, প্রেয়সীকে পাচ্ছি, আখিরাত হারালেও কোনো সমস্যা নেই। বাসর রাতে যখন ঘোমটা ওঠাল, সমস্ত অলংকার খুলে ফেলল, তখন তার সামনে বাস্তবতা জাহির হলো। তারা দেখল, এর চেয়ে ধোঁকা আর কিছু হতে পারে না। এমতাবস্থায় সে হয়তো তালাক দিয়ে পালিয়ে যাবে কিংবা অন্ধের মতো থেকে যাওয়াকেই প্রাধান্য দেবে; তার বাসর রাত অতিবাহিত হবে ফাঁপা কান্না, আর্ত চিৎকার ও বিলাপে。
আল্লাহর শপথ, দুনিয়া তার প্রেমিকদের আহ্বান করে আকর্ষক ভঙ্গিতে। অনুরাগী ও পাগলেরা দলে দলে ছুটে যায় তার দিকে। দিন রাত একাকার করে তা অর্জন করার চেষ্টা করে। কেউ এক নিমেষের জন্য ক্ষান্ত দেয় না। এক পর্যায়ে দুনিয়া তার জাল বিছিয়ে দেয়। তারা সকলেই দুনিয়ার পাতা জালে ও ফাঁদে আটকা পড়ে। তখন তাদেরকে জবাই দেওয়া হয় অসহায় পশুর ন্যায়। আহ! দুনিয়াপ্রেমীর দল কতই না অভাগা!
টিকাঃ
[৯] ফাতাওয়া মিসরিয়া, ইবনে তাইমিয়া ৪৮৩; তাখরিজুল ইহইয়া, ইরাকি ৯/১৭০৪; শরহুল আলফিয়া ১/১৩৩
[১০] সুরা হুদ ১৫-১৬
[১১] জামে তিরমিজি ২৩৮২
[১২] জামে তিরমিজি ২৪৬৫