📘 পরিশুদ্ধ ক্বলব 📄 সবরের বিভিন্ন প্রকারভেদ

📄 সবরের বিভিন্ন প্রকারভেদ


সবর তার সংশ্লিষ্টতার দিক থেকে তিন প্রকারঃ এক, আল্লাহ্ তায়ালার আদেশ ও হুকুমগুলোর ওপর সবর করে তা আদায় করা। দুই, তাঁর নিষেধাজ্ঞা এবং বারণগুলো থেকে বেঁচে থেকে সবর করা। তিন, তাঁর নির্ধারণ এবং ভাগ্যের ওপর সবর করা; কোনো কিছুর জন্য ক্রুব্ধ না হওয়া。

সবর আবার দুই প্রকারঃ ঐচ্ছিক এবং বাধ্যতামূলক। প্রথমটি দ্বিতীয়টির তুলনায় অধিক সম্পূর্ণ। কেননা বাধ্যতামূলক সবরে মানুষের হাত থাকে এবং যে ঐচ্ছিক সবর করতে পারে না, সেও বাধ্য হয়ে এখানে সবর করতে উদ্যত হয়। পক্ষান্তরে ঐচ্ছিক সবরের বিষয়টি ভিন্ন। উদাহরণ স্বরূপ, ইউসুফ আলাইহিস সালামকে যখন তাঁর ভাইয়েরা কূপে নিক্ষেপ করেছিল, তিনি তখন সবর করেছিলেন এবং তা ছিল বাধ্যতামূলক। পক্ষান্তরে মন্ত্রীর স্ত্রীর কুপ্রস্তাবে রাজি না হয়েও ধৈর্য ধারণ করেছেন এবং এটি ছিল ঐচ্ছিক। তাই এটির মূল্য ও তাৎপর্য অনেক উন্নত。

মানুষ জীবনের কোনো অবস্থাতেই সবর থেকে বিমুখ কিংবা স্বাধীন হতে পারে না। কেননা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে তার সামনে পালনীয় কিছু আদেশ, বর্জনীয় কিছু নিষেধাজ্ঞা, আপতিত কিছু ভাগ্যলিপি এবং শোকরযোগ্য অসংখ্য নিয়ামত বিদ্যমান থাকে। যেহেতু সব সময়েই এই বিষয়গুলো মানুষের জীবনের সাথে সম্পৃক্ত, তাই কোনো সময়ই সে সবর থেকে মুক্ত কিংবা উদাসীন হতে পারে না। আমৃত্যু তাকে ধৈর্যের অনুশীলন করেই যেতে হবে。

প্রাত্যহিক জীবনে বান্দা যে সমস্ত অনুষঙ্গের মুখোমুখি হয়, তা দুই অবস্থার যে কোনো এক অবস্থার অন্তর্ভুক্ত। হয়তো অনুষঙ্গটি তার চাহিদা ও অন্তরের অনুকূলে হবে কিংবা প্রতিকূলে যাবে। উভয় অবস্থাতেই সে সবরের প্রতি মুখাপেক্ষী। কিন্তু তার প্রবৃত্তির অনুকূল অনুষঙ্গ, যেমন সুস্থতা ধনসম্পদ খ্যাতি ইত্যাদি, এক্ষেত্রে সে অধিক হারে সবরের মুখাপেক্ষী। কয়েকটি দিক থেকে তা অপরিহার্য-

১- তার দিকে আকৃষ্ট হতে পারবে না, তা নিয়ে প্রবঞ্চিত হতে পারবে না, অহমিকা প্রদর্শন করতে পারবে না এবং আল্লাহ্ তায়ালার অপছন্দনীয় নিন্দিত উল্লাসেও অংশগ্রহণ করতে পারবে না。

২- তার মধ্যে অবাধে অবগাহন করতে পারবে না。

৩- তার মধ্যে আল্লাহ্ তায়ালার হক আদায় করতে হবে。

৪- হারামে তা ব্যয় করা থেকে বিরত থাকতে হবে。

এতোগুলো সবরের উপাদানের দিকে খেয়াল করেই হয়তোবা জনৈক সালাফ বলেছিলেন, 'বিপদ কিংবা পরিক্ষার সময় মুমিন কাফর নির্বিশেষে ধৈর্য ধারণ করে। কিন্তু নিরাপত্তা এবং সাচ্ছন্দের সময় শুধু সত্যবাদীরাই ধৈর্য ধারণ করতে পারে'。

আব্দুর রহমান বিন আউফ রদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'আমাদেরকে অনটনের সময় পরীক্ষায় ফেলা হয়েছে আমরা ধৈর্য ধারণ করেছি। কিন্তু সচ্ছলতার সময় আমরা যখন বিপদে পতিত হলাম, তখন ধৈর্য ধারণ করতে পারি না'。

এজন্যই আল্লাহ তায়ালা স্বীয় বান্দাদের ধনসম্পদ, সন্তানসন্ততি, স্ত্রীর ফিতনা ও পরিক্ষার ব্যাপারে সাবধান করেছেন। আল্লাহ্ তায়ালা বলেন- 'হে ঈমানদারগণ, তোমাদের সম্পদ এবং পরিবার পরিজন যেন তোমাদের আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীন না করে দেয়'। [১১]

সবরের দ্বিতীয় প্রকার হলো, যা বান্দার চাহিদার বিপরীত কিংবা প্রতিকুল হয়। এক্ষেত্রে কিছু আবার বান্দার ইচ্ছাশক্তির সাথে সম্পৃক্ত থাকে। সে চাইলে করতে পারে, চাইলে ছাড়তে পারে। যেমন, ইবাদত ও গুনাহের কাজ। অথবা যার সূচনা বান্দার এক্তিয়ারে থাকে না। যেমন, বিপদ আপদ ও বালা মুসীবত。

প্রথম প্রকার-যা বান্দার ইচ্ছাশক্তির সাথে সম্পৃক্ত এবং তার ওপর নির্ভরশীল। ইবাদত কিংবা গুনাহের কাজ বলতে যা কিছু আছে, সবগুলোই এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। ইবাদতের ক্ষেত্রে বান্দা সবরের মুখাপেক্ষী; কেননা নফস স্বাভাবিকভাবেই অধিক ইবাদত করা থেকে দূরে থাকতে চায়, পছন্দ করে না। নামাযের মধ্যে অলসতা এসে ভিড় জমায়, আরাম তাকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করে। এর সাথে যদি তার অন্তর হয় কঠোর, গুনাহের কারণে মরীচিকাময়, প্রবৃত্তির দিকে আকৃষ্ট এবং গুনাহগারদের সাহচর্যে অভ্যস্ত, তাহলে তো নামায আদায় করতে তার পাহাড় সম ধৈর্যের প্রয়োজন。

তদ্রূপ জাকাতের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য। নফসের প্রকৃতিই হলো কৃপণতা করা, খরচ করতে না চাওয়া। অনুরূপ হজ জিহাদ ইত্যাদি সমস্ত ইবাদতের মধ্যেই সবরের বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে। তবে বান্দা ইবাদতের ক্ষেত্রে তিন ধাপে সবরের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে—

এক, ইবাদত শুরু করার পূর্বে। তখন তাকে নিয়ত পরিশুদ্ধ করতে হয়, ইবাদতের মধ্যে একনিষ্ঠতা আনতে হয়。

দুই, ইবাদত শুরু করার সময়। এসময় সবধরনের ত্রুটি বিচ্যতিকে ঝেড়ে ফেলে দিতে হয়, সৎনিয়তের সঙ্গ থাকতে হয় এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের পাশাপাশি কলবকেও আল্লাহ্ তায়ালার দরবারে সঁপে দিতে হয়। সবর ছাড়া এসব করা অসম্ভব。

তিন, ইবাদত শেষ করার পর। এখন তাকে এমন সব কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে, যা দ্বারা তার কৃত ইবাদত বাতিল হয়ে যেতে পারে। বস্তুত ইবাদত সম্পাদন করার চেয়ে তাকে বিনাশের হাত থেকে বাঁচানো অধিক কষ্টকর এবং মূল্যবান। তাই তাকে অহমিকা, লোকদেখানো এবং বড়াই থেকে বিরত থাকতে হবে। অনুরূপ গোপনীয়তার দফতর থেকে প্রকাশ্যের দফতরে সরবরাহ করার ক্ষেত্রেও সবর করতে হবে। কেননা বান্দা তার মাঝে এবং আল্লাহর মাঝে গোপন এক মূর্ছনায় ইবাদত করে এবং তা গোপন এক দপ্তরে লিপিবদ্ধ হয়। কিন্তু যখন সে তা অন্যের কাছে ব্যক্ত করে কিংবা প্রকাশ্যে নিয়ে আসে, তখন তা সেই গোপন দপ্তর থেকে প্রকাশ্য দপ্তরে চলে আসে এবং মূল্যহীন হয়ে পড়ে। তাই আমল ও ইবাদত শেষ করলেই সবরের চাদর গুটিয়ে নেওয়া যাবে, এমন ধারণা থেকে নিরাপদে থাকতে হবে。

টিকাঃ
[১১] সুরা মুনাফিকুন ৯

📘 পরিশুদ্ধ ক্বলব 📄 সবরের ফজিলেতে বর্ণিত হাদিস সমূহ

📄 সবরের ফজিলেতে বর্ণিত হাদিস সমূহ


উম্মে সালামা রদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে-
'কোনো মুসলমান যদি বিপদে আক্রান্ত হয়ে বলে, 'আল্লাহ্ তায়ালা যা আদেশ করেছেন তাই হয়েছে। বস্তুত আমরা তো আল্লাহরই জন্য এবং তাঁর দিকেই আমাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে। হে আল্লাহ্, আমাকে আমার বিপদের প্রতিদান দিন এবং এর চেয়ে উত্তম বিনিময় দান করুন'- তাহলে আল্লাহ্ তাকে অবশ্যই এর চেয়ে উত্তম বিনিময় দান করবেন'。

উম্মে সালামা রদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, যখন (আমার স্বামী) আবু সালামা মারা গেলো আমি মনে মনে বললাম, আবু সালামার চেয়ে উত্তম ব্যক্তি আর কে হতে পারে? তিনিই সর্ব প্রথম ব্যক্তি যে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট হিজরত করে পৌঁছে ছিলেন। তারপর আমি উপরোক্ত কথাগুলো বললাম। ফলে আল্লাহ্ তায়ালা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আমায় বিনিময় হিসেবে দান করলেন। [১২]

আবু হুরাইরা রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- 'আল্লাহ্ তায়ালা বলেন-"আমি যখন আমার মুমিন বান্দার কোনো প্রিয় বস্তু দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নেই আর সে প্রতিদানের আসায় ধৈর্য ধারণ করে, আমার কাছে তার জন্য জান্নাত ছাড়া অন্য কোনও প্রতিদান নেই"। [১৩]

আয়িশা রদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'মুমিন ব্যক্তির যে কোনও বিপদআপদ আসুক, এর দ্বারা আল্লাহ্ তায়ালা তার পাপ মোচন করেন। এমনকি যে কাঁটা তার শরীরে বিদ্ধ হয় তার দ্বারাও!'

আবু হুরাইরা রদিয়াল্লাহু আনহু রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করে বলেন- 'মুমিন নরনারীর শরীরে, সম্পদে কিংবা সন্তানসন্ততিতে বিপদআপদ আসতেই থাকে এবং এভাবেই সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করে। তখন তার কোনও গুনাহই আর অবশিষ্ট থাকে না'। [১৪]

খাব্বাব বিন আরাত্ত রদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে অভিযোগ নিয়ে গেলাম। তিনি তখন কাবার ছায়ায় নিজ চাদরে মাথা রেখে বিশ্রাম করছিলেন। আমরা বললাম, আপনি কি আমাদের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করবেন না? আপনি কি আমাদের জন্য দোয়া করবেন না? তিনি বললেন-
'তোমাদের পূর্বের লোকদের অবস্থা ছিল এই যে, তাদের পাকড়াও করে তাদের জন্য মাটিতে গর্ত খুঁড়া হতো, তাদের সেখানে পুঁতে রেখে করাত দিয়ে তাদের মাথা দ্বিখণ্ডিত করা হতো, লোহার চিরুনি দিয়ে শরীরের হাড় ও মাংস ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে ফেলা হতো- তবুও তাদেরকে দ্বীন থেকে এক পা নাড়ানো যেতো না। আল্লাহর শপথ, আল্লাহ্ তায়ালা এই দ্বীনকে অবশ্যই পূর্ণতা দান করবেন। তখন একা একজন আরোহী সানয়া থেকে হাযারামাউত পর্যন্ত সফর করবে, আল্লাহ্ ছাড়া এবং তার মেশপালের জন্য নেকড়ে ছাড়া কাউকে ভয় করবে না; কিন্তু তোমরা অনেক তাড়াহুড়ো করছো'। [১৫]

জনৈক সালাফ বলেন, 'যদি দুনিয়ার জীবনে বালা মুসীবত না থাকতো, তাহলে আমরা আখিরাতে পদার্পণ করতাম রিক্তহস্তে'。

আল্লাহ্ তায়ালার বাণী, 'আমি তাদের মধ্য থেকে নেতা মনোনীত করেছিলাম, যারা আমার নির্দেশ অনুযায়ী পথ প্রদর্শন করতো, যখন তারা ধৈর্যশীল হয়েছিল। তারা আমার নিদর্শনসমূহের প্রতিও দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করতো'।[১৬] এই আয়াতের প্রেক্ষিতে সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন, 'যখন তারা আদেশ অনুযায়ী চলা শুরু করেছে, আমি তাদেরকে নেতা বানিয়ে দিয়েছি'。

আবার যখন লোকেরা উরওয়া বিন যুবাইর রদিয়াল্লাহু আনহুর পায়ে ব্যাধি দেখা দিলে লোকেরা তার পা কাটতে চাইলো, তখন তারা তাকে বলল, আপনি যেন ব্যাথা অনুভব না করেন এজন্য আপনাকে কিছু ঔষধ পান করিয়ে দিই? তখন তিনি বলেছিলেন, 'আমাকে আল্লাহ্ তায়ালা পরিক্ষা করছেন আমার সবর যাচাই করার জন্য। আমি কি তাঁর কাজে বাধা প্রধান করবো!'

উমর বিন আব্দুল আজিজ রহিমাহুল্লাহ বলেন, 'আল্লাহ্ তায়ালা কোনও বান্দাকে কোনও নিয়ামত দিয়ে তা ছিনিয়ে নিয়ে যদি তদস্থলে সবর দান করেন, তাহলে ছিনিয়ে নেওয়া জিনিষের চেয়ে বিনিময়টাই অধিক উত্তম'。

আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু একবার অসুস্থ হলেন। লোকেরা তাঁর শুশ্রূষা করতে গিয়ে বলল, আপনার জন্য ডাক্তার ডাকবো? তিনি বললেন, 'ডাক্তার আমাকে দেখেছে'। তারা বলল, আপনার ব্যাপারে তাহলে সে কী বলেছে? তিনি বললেন, 'ডাক্তার বলেছেন, আমি যা ইচ্ছা তাই করি'。

বর্ণিত আছে যে, সাইদ বিন জুবাইর রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, 'বিপদে আক্রান্ত হয়ে আল্লাহ্ তায়ালার জন্য স্বীকৃতি দেওয়া, তার জন্য আল্লাহ্ তায়ালার প্রতিদান এবং সওয়াবের আশা রাখা, এটাই সবর। কখনো বান্দা অনেক অস্থির হয়ে পড়ে, তথাপি সে দৃঢ় অবিচল থাকে, তখন তার মাঝে শুধু সবরই পরিলক্ষিত হয়'。

বিপদে আক্রান্ত হয়ে আল্লাহ্ তায়ালার জন্য স্বীকৃতি দেওয়া এই কথা দ্বারা কেমন যেন 'ইন্না লিল্লাহ'এর ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অর্থাৎ বান্দা স্বীকৃতি দেবে যে, সে আল্লাহ্ তায়ালার সম্পদ, মালিক সেখানে যা ইচ্ছা তসরুফ করতে পারেন। পক্ষান্তরে তার জন্য আল্লাহ্ তায়ালার প্রতিদান এবং সওয়াবের আশা রাখা এ কথা দ্বারা 'ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন'এর ব্যখ্যা করা হয়েছে। অর্থাৎ আমরা তার কাছেই ফিরে যাবো এবং তাঁর কাছেই আশ্রয় গ্রহণ করবো, তিনি আমাদের সবরের প্রতিদান দান করবেন, ধৈর্যের ফল দেবেন; তিনি বিপদের প্রতিদান বিনষ্ট করবেন না。

টিকাঃ
[১২] সহিহ মুসলিম ২০১১
[১৩] সহিহ বুখারি ৬৪২৪
[১৪] সহিহ বুখারি ৫৬৪০
[১৫] সহিহ বুখারি ৩৬১২
[১৬] সুরা সাজদা ২৪

ফন্ট সাইজ
15px
17px