📄 ক্বলবের প্রকারভেদ
কলবের মাঝে জীবন মরণ উভয় গুণই বিদ্যমান। সে দিক বিবেচনায় কলবকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়ঃ ১- সুস্থ ও নিরাপদ কলব। ২- মৃত কলব। ৩- অসুস্থ কলব।
১- সুস্থ ও নিরাপদ অন্তর
কিয়ামতের দিন ভয়াবহতা থেকে মুক্তি পেতে হলে আল্লাহ্ তায়ালার কাছে এই অন্তর নিয়েই উপস্থিত হতে হবে। আল্লাহ্ তায়ালা বলেন- يَوْمَ لَا يَنْفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ إِلَّا مَنْ أَنَّ اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ “যেদিন সন্তানসন্ততি এবং ধনসম্পদ কোনো কাজে আসবে না। কেবল সে ছাড়া যে আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে সুস্থ অন্তর নিয়ে'। ।৩৷
সুস্থ অন্তর কী?
সুস্থ অন্তর হলো ওই অন্তর, যা আল্লাহ্ তায়ালার আদেশনিষেধবিরোধী সর্ব প্রকার কামনা বাসনা চাহিদা শখ ও অভিলাষ থেকে মুক্ত। নিজ কল্যাণবিরোধী সমস্ত সংশয় থেকে পবিত্র। আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারও দাসত্ব থেকে নিরাপদ। তাঁর রাসুল ছাড়া অন্য কারও অনুসরণ থেকে নির্মল। তার দাসত্ব আল্লাহ তায়ালার জন্য একনিষ্ঠ। ইচ্ছায়, ভালোবাসায়, ভরসায়, বিনয়ে, তাওবায়, ভয়ে, আশায়। তার সমস্ত কাজ আল্লাহর জন্য ঐকান্তিক। সে ভালোবাসলে, আল্লাহর জন্য বাসে। ঘৃণা করলে আল্লাহর জন্যই ঘৃণা করে। দান করলে আল্লাহর জন্য দান করে। আল্লাহর জন্যই নিষেধ করে, যদি নিষেধ করে। এতটুকুতেই সে ক্ষান্ত হয় না; বরং আল্লাহর রাসুলের বিপরীত সমস্ত শক্তি ও ক্ষমতার আনুগত্য ও দাসত্ব থেকে মুক্ত ও স্বাধীন থাকে। তার অভিলাষকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে এমনভাবে যুক্ত করে যে, একমাত্র তাঁরই অনুসরণ অনুকরণ করে। কথায় কাজে আকিদা বিশ্বাসে আপোষহীন। তাঁর বিপরীত কোনো কথা বলে না, কোনো কাজ করে না ও কোনো আকিদাও লালন করে না। এই হলো সুস্থ অন্তরের পরিচয়। আল্লাহ্ তায়ালা বলেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ وَرَسُوْلِهِ
'হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সামনে কোনো কিছু এগিয়ে দিও না' (অর্থাৎ তাদের আগে কোনো সিদ্ধান্ত নিও না; তাদের বিরোধিতা করো না)।' [৪]
২- মৃত অন্তর
এটা সুস্থ অন্তরের পরিপূর্ণ বিপরীত। সে তার রবকে চেনে না। তাঁর আদেশ অনুযায়ী চলে না। তাঁর ভালোবাসা ও সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করে না। বরং সে নিজ কামনা ও ভোগবিলাস নিয়েই সন্তুষ্ট থাকে; এতে তার রব সন্তুষ্ট কি রুষ্ট তা দেখার কোনো কসরত করে না। সে গাইরুল্লাহ'র দাসত্ব করে। ভালোবাসলে নিজের কামনা অনুযায়ী ভালোবাসে। ঘৃণা করলে নিজের প্রবৃত্তির জন্য ঘৃণা করে। দান করলে নিজের বাসনা অনুসারে দান করে। নিজের ঝোঁক অনুযায়ী নিষেধ করে, যদি নিষেধ করে। তার কামনাই তার কাছে তার রবের চেয়ে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত এবং প্রিয়। কামনা তার পথিকৃৎ, তার সেনাপতি হলো প্রবৃত্তি। মূর্খতা তার চালক, তার বাহন হলো উদাসীনতা। সে তার পার্থিব লক্ষ্য অর্জনের চিন্তায় বিভোর। দুনিয়ার ভালোবাসা এবং প্রবৃত্তির নেশায় বুঁদ। দূর থেকে তাকে আল্লাহ্ এবং পরকালের দিকে আহ্বান করা হয়, সে আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দেয় না; বরং প্রত্যেক অবাধ্য নিকৃষ্ট শয়তানের অনুসরণ করে। দুনিয়াকে ঘিরেই তার সুখ দুঃখ আবর্তিত। বাতিল ও মিথ্যার প্রতি প্রবৃত্তির তাড়নায় সে অন্ধ এবং বধির।
এ ধরণের অন্তঃকরণ বিশিষ্ট ব্যক্তির সাথে মেলামেশা করা একটি রোগ। তার সাহচর্য একটি বিষ। তার সঙ্গের ওপর নাম ধ্বংস।
৩- অসুস্থ অন্তর
অসুস্থ অন্তর হলো এমন অন্তর যার মধ্যে জীবনের কিছু আভা রয়েছে। আবার কিছু অসুস্থতাও বিদ্যমান। সে একবার জীবনের দিকে ছোটে। আরেকবার ধাওয়া করে অসুস্থতার পেছনে। কোনো একটি দিক তার মধ্যে স্থির হয় না। তার মধ্যে জীবনের উপকরণ রয়ছে কিছু। যেমন আল্লাহ্ তায়ালার ভালোবাসা, তাঁর প্রতি ঈমান, তাঁর প্রতি কিছুটা একনিষ্ঠতা, তাঁর ওপর ভরসা ইত্যাদি। পক্ষান্তরে কামনার ভালোবাসা, প্রবৃত্তির অগ্রগামিতা, বাসনা অর্জনে লালসা, হিংসা, [৫] অহমিকা, [৬] দম্ভ- এসব তার রোগের উপকরণ। যুগপৎ তার ধ্বংস এবং নিস্ক্রিয় হওয়ার ধাতু। সে দুজন নিমন্ত্রণকারীর কাছে বাধিতঃ একজন তাকে আল্লাহ্, রাসুল এবং আখিরাতের দিকে আহ্বান করে। অপরজন তাকে ইহকালিন জীবনের দাওয়াত দেয়। সে নিজ সুবিধামতো নিকটবর্তীকে গ্রহণ করে। প্রতিবেশীকে জড়িয়ে নেয় গলায়।
প্রথম অন্তর উজ্জীবিত, বিনয়ী, সতর্ক এবং বাধ্য। দ্বিতীয় অন্তর শুষ্ক, নির্জীব ও মৃত। তৃতীয় অন্তর অসুস্থ; সে হয়তো নিরাপদের দিকে ধাবিত হবে কিংবা ধ্বংসের সাগরে ডুব দেবে।
টিকাঃ
[৩] সুরা শুয়ারা ৮৯
[৪] সুরা হুজুরাত ১
[৫] হাসাদ তথা হিংসা বলা হয়-কোনো মুসলমানের কোনো নিয়ামত দেখে তা অপছন্দ করা এবং তার ধ্বংস কামনা করা। এটি নিন্দিত।
[৬] কিবর তথা অহমিকা বলা হয়ঃ আল্লাহ্র বান্দাদের ওপর অহংকার প্রদর্শন করা, তাদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা এবং তাদের ওপর নিজেকে বড় মনে করা।
📄 ক্বলবের সুস্থতা ও অসুস্থতার নির্দেশনাবলী
ক্বলবের অসুস্থতার নিদর্শন
মানুষের অন্তর অসুস্থ হয়। অসুস্থতা তীব্র আকার ধারণ করে। তবে মানুষ কখনো কখনো তা অনুধাবন করতে পারে না। এমনকি এক সময় অন্তর মারা যায় কিন্তু ব্যক্তি তার মৃত্যু সম্পর্কে থাকে অনবগত। অন্তরের অসুস্থতা কিংবা মৃত্যুর কিছু নিদর্শন হলোঃ গোনাহের আঘাতে ব্যক্তি কষ্ট না পাওয়া। সত্য সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং নিজের ভ্রষ্ট আকিদা তাকে ব্যথিত না করা। অন্তর যদি জীবিত থাকতো, তাহলে তার ওপর মন্দের আগমন এবং সত্য সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে সে ব্যথা ও আক্ষেপ অনুভব করতো।
আবার কখনো কখনো সে রোগের কথা অনুভব করতে পারে কিংবা ঔষধ গ্রহণ করার পর তার তিক্ততা তার কাছে প্রকট অসহ্য লাগে, তখন সে ঔষধের কষ্ট ফেলে দিয়ে রোগের ওপর অবশিষ্ট থাকাকেই প্রাধান্য দেয়। কলবের আরও একটি ব্যাধি হলো, সে উপাদেয় খাদ্য পরিহার করে ক্ষতিকর খাবার গ্রহণ করে। উপকারী ঔষধ বাদ দিয়ে আঁকড়ে ধরে অনিষ্টকর রোগকে। পক্ষান্তরে সুস্থ অন্তর অনিষ্টকর মন্দ খাবারের চেয়ে আরোগ্যকর উৎকৃষ্ট খাবারকেই অগ্রাধিকার দেয়। কলবের জন্য সবচেয়ে উপকারী খাবার হলো ঈমানের খাবার এবং সবচেয়ে কার্যকরী ঔষধ হলো কুরআনের ঔষধ।
📄 ক্বলবের সুস্থতার আলামতসমূহ
দুনিয়াকে সর্বর্তভাবে ত্যাগ করে আখিরাতের বাহনে অবগাহন করা। পরকালে এমনভাবে নিবিষ্ট হওয়া কেমন যেন সে সেখানেরই বাসিন্দা, সেখানেই তার আবাসস্থল। তার অবস্থা এমন হয় যে, সে এই দুনিয়ায় এসেছে মুসাফির হিসেবে; প্রয়োজন পূরণ হলেই পুনরায় ফিরে যাবে আপন নীড়ে, নিজ দেশে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবদুল্লাহ বিন উমর রদিয়াল্লাহু আনহুমাকে বলেছেন—
'দুনিয়াতে এমনভাবে অবস্থান করো, যেন তুমি মুসাফির কিংবা একজন পথিক মাত্র'। [৭]
পক্ষান্তরে কলব যখন অসুস্থ হয়, তখন সে ইহজীবনকে প্রাধান্য দেয়। এখানেই নিজের আবাসস্থল বানিয়ে নেয়। এখানকার অধিবাসী হয়ে থেকে যেতে চায় চিরস্থায়ী।
কলবের সুস্থতার আরও একটি আলামত হলোঃ সে তার অধিকারীর ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করতে থাকে, যতক্ষণ না সে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করে এবং তাঁর দিকে সম্পূর্ণরূপে অভিনিবেশ গ্রহণ করে। আল্লাহ্ তায়ালার সাথে এমনভাবে মগ্ন হয়ে যায়, যেমনটা পাগল প্রেমিক তার প্রেমাস্পদের প্রতি হয়ে থাকে। আল্লাহর ভালোবাসা গ্রহণ করে সে অন্য সমস্ত ভালোবাসাকে ত্যাগ করে। তাবৎ দুনিয়ার স্মরণ ছেড়ে তাঁর স্মরণেই ধ্যাননিবিষ্ট থাকে। সব কিছুর সেবা ছেড়ে তাঁর সেবায় আত্মনিয়োগ করে। অন্তরের সুস্থতার একটি নিদর্শন হচ্ছেঃ যদি তার প্রাত্যহিক কোনো অজিফা কিংবা কোনো সওয়াবের কাজ হাতছাড়া হয়ে যায়, তখন সে তার জন্য এমনভাবে ব্যথিত হয় যে, লোভী কৃপণ লোক তার মূল্যবান সম্পদ হারালেও অতোটা ব্যথিত হয় না।
আরও একটি আলামত হলো-সে সেবা করার জন্য উদগ্রীব হয়ে যায় তেমন, ক্ষুধার্ত ব্যক্তি পানাহারের প্রতি আকৃষ্ট হয় যেমন। ইয়াহিয়া বিন মুয়াজ রহিমাহুল্লাহ বলেন, 'আল্লাহর খেদমত করতে পেরে যার অন্তর প্রশান্ত হয়, সমস্ত সৃষ্টি তার সেবায় খুশি হয়। যার চোখ আল্লাহেত শীতল হয়, তাকে দেখলে সকলেরই চোখ শীতল হয়'।
আরেকটি নিদর্শন হলোঃ তার যাবতীয় চিন্তা এক কথার ওপর আবর্তিত হবে। আর তা হলো, সর্বদা আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকা।
অনুরূপ অত্যন্ত কৃপণ লোক তার সম্পদের ওপর যতটুকু ব্যয়কুণ্ঠ হয়, সে তার চেয়েও নিজের সময়ের প্রতি যত্নশীল হবে- এটিও একটি আলামত। তদ্রূপ একটি লক্ষণ হচ্ছে-যখন সে নামাজে দাঁড়ায়, তখন দুনিয়ার সমস্ত চিন্তা ভাবনা তার থেকে দূরে ভেসে যায়। সে নামাযের মধ্যে শান্তি, প্রশান্তি, আরাম এবং আনন্দ খুঁজে পায়।
আরেকটি বড় আলামত হলো—সে অবিরাম তার রবের জিকির করতে করতে কখনো বিরক্ত হয় না। তাঁর সেবা করতে কখনো ত্যক্ত হয় না। তিনি ছাড়া অন্য কারও সাথে সখ্যতা গড়ে না; তবে যারা তাকে তাঁর কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং তাঁর পথের দিশা দান করে, তাদের সাথেই একমাত্র বন্ধুত্ব গড়ে তোলে।
আমল করার চেয়ে আমল শুদ্ধ করার প্রতি তার অধিক মনযোগী হওয়া। ইবাদতে ইখলাস অর্জন করার আগ্রহ, দ্বীনের জন্য শুভাকাঙ্ক্ষী হওয়া, নিরবচ্ছিন্ন দ্বীনের ওপর অবিচলতা, দয়া ইত্যাদির প্রতি সচেষ্ট থাকা। যুগপৎ নিজের ওপর আল্লাহ্ তায়ালার অপার নিয়ামত এবং তাঁর প্রতি নিজের ত্রুটির কথা অকপটে স্বীকার করা ইত্যাদিও অন্তর সুস্থ হওয়ার অনবদ্য কিছু নিদর্শন।
টিকাঃ
[৭] সহিহ বুখারি ৬৪১৬
📄 অন্তরের রোগের কারণসমূহ
অন্তরের ওপর আপতিত বিপদ অনেক। তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হচ্ছে দুটি। ১- কামনা ও প্রবৃত্তি। ২-সংশয় ও সন্দেহ। প্রথমটি নিয়ত ও অভিলাষকে নষ্ট করে দেয়। আর দ্বিতীয়টি ইলম ও আকিদা-বিশ্বাসকে ধ্বংস করে দেয়।
হুজাইফা বিন ইয়ামান রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
'চাটাই বুননের মতো এক এক করে ফিতনা মানুষের অন্তরে আপতিত হয়। যে অন্তরে তা গেঁথে যায়, সেখানে একটি কালো দাগ পড়ে যায়। আর যে অন্তর তা প্রত্যাখ্যান করে, তার মধ্যে একটি সাদা দাগ পড়ে। তখন অন্তর দুই ধরণের হয়ে যায়। একটি হলো গাঢ় কালো উল্টানো সাদা মিশ্রিত কলসির ন্যায়; তার প্রবৃত্তির মধ্যে যা প্রবেশ করেছে তা ছাড়া ভালো-মন্দ কিছুই বুঝতে পারে না। আরেকটি অন্তর হলো শুভ্র অন্তর; যতদিন আসমান জমিন থাকবে, ততদিন সেখানে কোনো ফিতনা ক্ষতি করতে পারবে না।' [৮]
উক্ত হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কলবকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন। এক প্রকার হলো এমন কলব, যে কোনো ফিতনা তার ওপর আপতিত হলেই সে তা স্পঞ্জের ন্যায় চুষে নেয়। ফলে তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে যায়। এভাবে সে একের পর ক্রমাগত ফিতনা চুষে নিতে থাকে। এক পর্যায়ে তা গাঢ় কৃষ্ণ বর্ণ ধারণ করে এবং উল্টে যায়। যেমন কলসি ভূপাতিত হয়ে উল্টে যায়। যখন তা কালো হয় এবং উল্টে যায়, তখন তার মধ্যে দুটি গুরুতর ভয়ংকর রোগ আক্রমণ করে, যা তাকেও ধ্বংসের বিবরে নিক্ষেপ করে। একটি রোগ হলোঃ সত্য ও ন্যায় তার কাছে সংশয়পূর্ণ হয়ে যায়। ফলে সে ভালো মন্দের মাঝে কোনো পার্থক্য করতে পারে না। আবার কখনো এই রোগ তার মধ্যে এমনভাবে প্রোথিত হয় যে, সে সত্যকেই মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য বলে বিশ্বাস করতে থাকে। সুন্নতকে বিদআত, বিদআতকে সুন্নত; হককে বাতিল, বাতিলকে হক বলে নির্ধারণ করতে থাকে।
আর দ্বিতীয় রোগটি হলো, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনিত শরীয়তের ওপর নিজের কামনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেয়। তাঁর অনুসরণের চেয়ে প্রবৃত্তির অনুসরণকে প্রাধান্য দেয়।
কলবের দ্বিতীয় প্রকার হলোঃ শুভ্র সাদা একটি অন্তর। ঈমানের নূর সেখানে প্রজ্বলিত হয়। বিশ্বাসের বাতি তাকে করে দেয় আলোকিত। তাই কোনো ফিতনা তাকে আক্রমণ করতে চাইলে, কালবিলম্ব না করে সে তা প্রত্যাখ্যান করে এবং তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে তাঁর উজ্জ্বলতা এবং আলো ক্রমান্বয়ে আরও প্রখর ও আভাময় হতে থাকে।
টিকাঃ
[৮] সহিহ মুসলিম ২৬৪