📄 স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসায় শারীরিক উপকারিতা
শরীরবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীদের মতে, ভালোবাসা দ্বারা শরীরের আগত ভিটামিন- এ. বি. সি. ডি ইত্যাদি অতি তাড়াতাড়ি দেহ কোষে শোষিত হয়। মনে যদি আনন্দ, স্ফূর্তি থাকে তাহলে দেহের প্রতিটি যন্ত্র আনন্দময় হয়ে কাজ করে, ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেড়ে যায়। মনের আনন্দ স্ফূর্তি এক প্রকার টনিক বিশেষ, যা মানবদেহের জৈবরস বা হরমোনকে নিঃসৃত হতে ত্বরান্বিত করে এবং জৈব বিষকে নষ্ট করে। মনের আনন্দেই দীর্ঘায়ু লাভ করে।
স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসার মধ্য দিয়ে যে মৃদ্যু আলোড়নের সৃষ্টি হয়। সেই আলোড়নের অনুভূতি কেউ প্রকাশ করতে না পারলেও এই অব্যক্ত অনুভূতি পরম মাদকতাময়। এর কল্যাণে দেহের প্রতিটি গ্রন্থি স্নায়ুসমূহ সজীব, জাগ্রত ও কার্যক্ষম গুণে গুণান্বিত।
📄 সন্তানের ওপর স্বামী-স্ত্রীর ভাবাবেগের প্রভাব
পৃথিবীর সব যৌন বিজ্ঞানীগণ একমত পোষণ করেন যে, স্বামী-স্ত্রীর প্রবল ভালোবাসার মধ্যে যে সন্তানটি পয়দা হয় তা প্রফুল্লচিত্ত, সুস্থ্যদেহী, বুদ্ধিমান, উদারমনা, উৎসাহী, বলিষ্ঠ, কর্মবীর হয়। এখানে তারা বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এভাবে দিয়েছেন যে, পুরুষের শুক্রকীট ও নারী ডিম্বের মিলনের ফলেই সন্তান হয়। পুরুষের প্রত্যেকটি শুক্রকীট ও নারীর ডিম্বানুর মধ্যে ২৪টি করে ক্রোমোজোম থাকে এই ক্রোমোজোমগুলোর মধ্যে জাতিগত সাধারণ গুণ ও স্বভাবের অসংখ্য বীজ লুক্কায়িত থাকে। নর-নারী মিলনের পর উভয় পক্ষের ক্রোমোজোমগুলো ঠিকভাবে পরিস্ফুটিত হয়ে মিলিত হলেই সন্তান স্বাস্থ্যবান, বলিষ্ঠ ও সুন্দর হয়। ঐ মুহূর্তে স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসার আকর্ষণ ক্রোমোজোমগুলোকে উদ্দীপিত করতে থাকে, তাতে তারা যথার্থভাবে পরিস্ফুটিত হয়ে স্বামী-স্ত্রীর নিজস্ব গুণাগুণ সন্তানের মধ্যে বিকাশ লাভ করে। তাই অনেক সময় দেখা যায়; নিতান্তই দুর্বল স্বামী-স্ত্রীর মিলনেও তেজস্বী, সুদেহী ও প্রতিভাশালী সন্তান জন্মগ্রহণ করে। ইহা স্বামী-স্ত্রীর প্রবল ভালোবাসারই ফল। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রবল ভালোবাসা থাকলে সন্তান গর্ভে থাকাকালে ও পিতামাতার ভালোবাসজাত আকর্ষণ মাতৃদেহের প্রতিটি কোষকে প্রতিনিয়ত উদ্দিপ্ত রাখে এবং এর প্রতিক্রিয়া গর্ভস্থ সন্তানের দেহকোষকে উন্নত করতে থাকে।
📄 সুস্বাস্থ্য রক্ষায় ভালোবাসার ভূমিকা
স্বামীর-বীর্য হতে আগত ক্যালসিয়াম ফসফেট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জৈব পদার্থ নারীদেহে গ্রহণে ও পরিশোষণে নারীদেহের স্বাস্থ্যের উন্নতি হয় এবং দেহে লাবণ্যতা বৃদ্ধি পায়।
অপরদিকে নারীদেহ থেকে আগত কামরস থেকে একপ্রকার চুম্বকধর্মী শক্তি অর্জন করে পৌরুষ্য অর্জন করে যার ফলে তাদের স্নায়ুগুলো অধিকতর শক্তিশালী ও কার্যক্ষম হতে থাকে। এই দু'প্রকার শোষণের ফলে স্বামী-স্ত্রীর দেহের মধ্যে একটা স্বাভাবিক আকর্ষণের সৃষ্টি হয়, উভয় দেহে স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি হয়, উভয় দেহের মধ্যে অসমাঞ্জস্য এই জৈব আকর্ষণ স্বামী-স্ত্রীর পক্ষে অত্যন্ত মূল্যবান। এতে তাদের অনেক কঠিন সমস্যা ও অনৈক্যতা দূর করতে পারে। একটু পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায়, যে সব মহিলা অল্প বয়সে বিধবা হয়, তাদের অতিসত্ত্বর বহুবিধ শারীরিক সমস্যায় পতিত হয়। অথবা স্বামী থেকে দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন থাকার ফলেও উপরিউক্ত সমস্যায় পতিত হওয়া পরিলক্ষিত হয়।
যে সব স্বামী-স্ত্রী একত্রে জীবন-যাপন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত তারা অভিশপ্ত। সুষ্ঠ ও নিয়মিত মিলনের অভাবে মানুষের কর্মশক্তি, উদ্যম সৃজনশীল প্রতিভা নষ্ট হয়ে যায়। যৌন শক্তি ও সৃজনশীল প্রতিভা কেবল ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। এই সম্পদ নষ্ট হলে গোটা জাতিকেই একদিন তার মূল্য দিতে হয়। প্রত্যেক দেশের সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারী ও শ্রমিকগণ যাতে স্ব-পরিবারে বসবাস করতে পারে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক। যৌন জীবনে বিশৃঙ্খলার কারণে গ্রীক ও রোমান জাতি ধ্বংস হয়েছিল ইতিহাসই এ সাক্ষ্য বহন করছে।
📄 যৌন শক্তি বৃদ্ধিকারী কতিপয় পথ্য
আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। রাসূল (সা) একদা জিবরাঈল (আ)-এর নিকটে স্বীয় কামভাব সম্পর্কে অভিযোগ জানালে জিবরাঈল (আ) বলেন, আপনি হারীসা খেতে থাকুন, এতে চল্লিশজন পুরুষের শক্তি রয়েছে।"
মাযাকুল আরেফীন নামক কিতাবে বর্ণিত হয়েছে এবং তার পাদটীকায় লেখা হয়েছে, “হারীসা” এক প্রকার চূর্ণ গোশত, ঘি এবং মসলাযোগে তৈরি হালীম।
ইমাম গাজ্জালী (রহ) লিখেছেন, চারটি জিনিস যৌনতৃষ্ণা বৃদ্ধি করে- ১. চড়ুই পাখি ২. ত্রিফলা ৩. পেস্তা ৪. টাটকা শাক-সব্জি।
আবু নঈম ইবনে আব্দুল্লাহ জাফর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলে পাক (সা) ইরশাদ করেছেন, যার মর্মবাণী হলো, সিনার গোশতই সর্বোৎকৃষ্ট গোশত”
হক্কানী আলেমগণের মতে, পবিত্র বাণীটির রহস্যের ব্যাখ্যায় বর্ণিত হয়েছে, "সিনার গোশত কামশক্তি বৃদ্ধি করে থাকে। (তিব্বে নববী)
আলী (রা) হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূল (সা)-এর নিকটে এসে অভিযোগ জানাল, আমার কোনো সন্তানাদী হয় না। রাসূল (সা) প্রতিষেধক দিলেন যে, "তুমি ডিম খেতে থাক।"
আবু নঈম (রা) “কিতাবুত তিব্ব” এ লিখেছেন, রাসূল (সা)-এর নিকট মাখন মিশ্রিত খেজুর অত্যধিক প্রিয় ছিল।
ওলামায়ে কিরাম বর্ণনায় লিখেছেন। খেজুর ভক্ষণে কামভাব বৃদ্ধি পায়, শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি পায়। কণ্ঠস্বর পরিষ্কার হয়, মধুযোগে মাখন খেলে নিউমোনিয়ায় উপকার হয় এবং শরীর হৃষ্ট-পুষ্ট হয়। (তিব্বে ন্ববী)
তিরমিযী শরীফে বর্ণিত। উম্মে মুনজীর (রা) বলেন, একবার রাসূল (সা)-কে কেউ খেজুর ও বীটচিনি হাদিয়া স্বরূপ দিলেন, ঘটনাক্রমে আলী (রা) সেখানে উপস্থিত ছিলেন, রাসূল (সা) আলী (রা)-কে খেজুর খেতে নিষেধ করলেন এবং বীটচিনি খেতে বললেন এবং বললেন যে, এটা তোমার জন্য উপকারী।
ওলামায়ে কিরাম লিখেছেন, ঐ সময়ে আলী (রা)-এর চক্ষুরোগ ছিল। চক্ষুরোগ খেজুর ক্ষতিকর সে জন্য রাসূল (সা) আলী (রা) খেজুর খেতে নিষেধ করেছিলেন। রাসূল (সা)-এর সামনে বীটচিনি হাদিয়া স্বরূপ পেশ করা হলে তিনি আলী (রা)-কে বলেছিলেন, এটি খাও, তা তোমার জন্য উপকার হবে এবং তোমার দুর্বলতা দূর করে দেবে।
উক্ত হাদীস দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, সংযম পালন করা সুন্নাত এবং বীটচিনি খেলে দুর্বলতা দূর হয় আর কামভাবের বৃদ্ধি সাধন ঘটে। অন্য রেওয়ায়েতে আয়েশা হতে বর্ণিত আছে, রাসূল (সা) "হাসীস” খেতে পছন্দ করতেন। "হাসীস” তিনটি উপাদান যোগে প্রস্তুত হয়। যথা- ১. খেজুর ২. মাখন ও ৩. জমাট দই।
হুজাইল ইবনে হাকাম (রা) হতে বর্ণিত। রাসূল (সা) ইরশাদ করেছেন, শরীর থেকে অবাঞ্ছিত পশম কেটে ফেলাতেও যৌনপুলক জাগ্রত হয়। (তিব্বে নববী)
জয়তুন তেল খাওয়া ও মালিশ করা, মধু, খেজুরের সাথে তিল ব্যবহার করা, কালিজিরা ও রসুন যৌনতৃষ্ণা বৃদ্ধি করে এবং উত্তেজনা সৃষ্টি করে।