📄 স্ত্রী সান্নিধ্য থেকে বেশি দিন বিচ্ছিন্ন থাকা নিষেধ
চার মাসের অধিককাল স্ত্রীর সান্নিধ্য থেকে দূরে থাকা এবং সহবাস না করা ইসলামী ফিকহ শাস্ত্রবিদগণ নিষেধ বলেছেন। কেননা; মহিলাদের সংযম শক্তি চার মাসের অধিক স্থায়ী হয় না। ওমর (রা) তাঁর খেলাফতের জামানায় এক রাত্রে মদিনার গলীতে ছদ্মবেশে টহল দেয়া অবস্থায় এক ঘর থেকে এক সময় একজন যুবতীর কণ্ঠে বিচ্ছেদের কবিতা আবৃত্তির শব্দ শুনতে পেলেন, যার মর্মার্থ ছিলো, "আল্লাহর শপথ! যদি আমার অন্তরে আল্লাহভীতি না থাকতো, তাহলে চৌকির পায়াসমূহ চড়চড় করে শব্দ করত।"
আমীরুল মুমিনীন ওমর (রা) ইহা শ্রবণে সন্দেহের উদ্রেক হলে তিনি দ্বার খোলার নির্দেশ দিলেন, দ্বার (দরজা) না খোলায় তিনি দেয়াল টপকিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে প্রশ্ন করলেন, উত্তরে মহিলা বলল, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে জেহাদে চলে গেছে, তাই তাঁর বিচ্ছেদে ব্যাকুল হয়ে তিনি কবিতার এই লাইনগুলো আবৃত্তি করে যাচ্ছিলেন। এটা শ্রবণে ওমর (রা) স্বীয় তনয়া (মেয়ে) উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রা)-এর নিকট গিয়ে প্রশ্ন করলেন, মা তুমি নিঃসংকোচে বল, বিবাহিতা মহিলারা স্বামী ছাড়া কতদিন ধৈর্য ধারণ করে থাকতে পারে? উত্তরে মা হাফসা (রা) দৃষ্টি অবনত করে হাতের চারটি আঙ্গুল উঁচু করে দিলেন, যা দ্বারা ওমর (রা) বুঝতে পারলেন যে, বিবাহিতা মহিলারা স্বামী ছাড়া চার মাস পর্যন্ত ধৈর্যধারণ করতে পারে।
পরবর্তীতে তিনি সর্বত্রই মুসলিম মুজাহিদগণের উদ্দেশ্যে ফরমান ঘোষণা করে দিলেন যে, বিবাহিত পুরুষের চার মাস অন্তর অন্তর ছুটিতে যাওয়ার অনুমতি প্রদান করা হলো।
📄 যা মেনে চলা অবশ্যই প্রয়োজন
সহবাসের পর শরীরে ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভূত হয় এবং অতিরিক্ত সহবাস বার্ধক্য আনয়ন করে। সহবাসে পরে অবশ্যই কিছু পুষ্টিকর খাদ্য শর্ত সাপেক্ষে গ্রহণ করা আবশ্যক।
মৌসুমী ফল, ডিমের হালুয়া, গাজরের হালুয়া, হানী ওয়াটার থেরাপী, মাউল্লাহাম, গরম দুধ, মধু ও দুধের মিশ্রণ হজম শক্তি খুব ভালো থাকলে অথবা খেজুর দুধের মধ্যে রেখে ফুটিয়ে খাওয়া যেতে পারে, দুধের ছানার বরফি, দুধের সর ইত্যাদি।
কাতিলা গাম, খুরমা খেজুর, মোনাক্কা একত্রে কমপক্ষে আট ঘণ্টা ভিজিয়ে মিশ্রণসহ খেলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।
বিঃ দ্রঃ উপরিউক্ত খাদ্যগুলো অবশ্যই মৌসুম বিশেষে এবং রোগ বিশেষে শর্ত-মোতাবেক গ্রহণ করতে হবে। ডায়াবেটিস মেলাইটাস রোগীর ক্ষেত্রে মিষ্টি জাতীয় খাদ্য বর্জন করতে হবে।
অস্বাভাবিক বা বিকৃত পন্থায় সহবাস করা ও বীর্যপাত হওয়ার সময় তা আটকিয়ে রাখার ফলে প্রস্রাবের নালীতে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হয়।
সহবাসের পরে এবং গোসলের পূর্বে অর্থাৎ অপবিত্র অবস্থায় আহার করলে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যায়।
অতিরিক্ত টক জাতীয় খাদ্য বর্জন করতে হবে।
অসুস্থ অবস্থায় সহবাস করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেঙ্গে যায়। ফলে পরবর্তীতে বিভিন্ন রকমের রোগ-ব্যাধি হতে পারে।
ভরাপেটে বা খাদ্য গ্রহণের পর পর সহবাস করলে স্বাস্থ্যহানী ঘটে। শরীরের বিশেষ অঙ্গ প্রত্যঙ্গ যেমন, লিভার ও পাকস্থলীর শক্তি দুর্বল হয় পড়ে।
📄 দু’জন পুরুষ বা দু’জন মহিলা এক বিছানায় শয়ন করা নিষেধ
হাদীস বর্ণিত হয়েছে- যার মর্ম কথা হলো এক বিছানায় দু'জন পুরুষ অথবা দু'জন মহিলা (বালেগ বা বালেগা) একসাথে শয়ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিবস্ত্র অবস্থায় একজন নারী/মহিলা অন্য একজন নারী/মহিলার স্পর্শ এবং একজন পুরুষ বিবস্ত্র অবস্থায় অন্য পুরুষকে স্পর্শ করা নিষেধ।
অন্যত্র আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা) ইরশাদ করেন, "কোনো পুরুষ অন্য কোনো পুরুষকে বিবস্ত্র অবস্থায় দর্শন করবে না আর কোনো মহিলাও অন্য কোনো মহিলাকে বিবস্ত্র অবস্থায় দর্শন করবে না। দু'জন পুরুষ এক বিছানায় এবং দু'জন নারী এক বিছানায় শয়ন করবে না। (মিশকাত) দশ বছরের ঊর্ধ্বে ছেলে-মেয়েদেরকে পৃথক পৃথক বিছানায় শয়ন করানোর জন্য জোড় তাগিদ দেয়া হয়ছে। (রিয়াদুস সালেহীন)
📄 স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসায় শারীরিক উপকারিতা
শরীরবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীদের মতে, ভালোবাসা দ্বারা শরীরের আগত ভিটামিন- এ. বি. সি. ডি ইত্যাদি অতি তাড়াতাড়ি দেহ কোষে শোষিত হয়। মনে যদি আনন্দ, স্ফূর্তি থাকে তাহলে দেহের প্রতিটি যন্ত্র আনন্দময় হয়ে কাজ করে, ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেড়ে যায়। মনের আনন্দ স্ফূর্তি এক প্রকার টনিক বিশেষ, যা মানবদেহের জৈবরস বা হরমোনকে নিঃসৃত হতে ত্বরান্বিত করে এবং জৈব বিষকে নষ্ট করে। মনের আনন্দেই দীর্ঘায়ু লাভ করে।
স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসার মধ্য দিয়ে যে মৃদ্যু আলোড়নের সৃষ্টি হয়। সেই আলোড়নের অনুভূতি কেউ প্রকাশ করতে না পারলেও এই অব্যক্ত অনুভূতি পরম মাদকতাময়। এর কল্যাণে দেহের প্রতিটি গ্রন্থি স্নায়ুসমূহ সজীব, জাগ্রত ও কার্যক্ষম গুণে গুণান্বিত।