📄 নিম্নোক্ত অবস্থায় ও সময়ে সহবাস করা নিষিদ্ধ
১. মসজিদে
২. প্রকাশ্য স্থানে
৩. সহবাসের মর্মার্থ বুঝে এমন কাউকে পার্শ্বে রেখে
৪. পায়খানার রাস্তায়
৫. হায়েয-নেফাসের সময়
৬. হায়েজ-নেফাসের রক্ত বন্ধ হলে, গোসল করে নামাযের তাহরীমা বাঁধতে যতক্ষণ লাগে, ততক্ষণের মধ্যে নিষেধ।
৭. স্বপ্নদোষের পর বিনা গোসলে
৮. খুব ক্ষুধার্ত অবস্থায়
৯. উলঙ্গ হয়ে
১০. গুপ্ত স্থানের দিকে দৃষ্টি দিয়ে
১১. খুব বৃদ্ধ অবস্থায়
১২. দুর্বল শরীরে
১৩. কুষ্ঠ, যক্ষা ইত্যাদির জটিল রোগে নিষিদ্ধ
১৪. নাবালেগ অবস্থায়
১৫. মনে খুব রাগ কিংবা শোক থাকলে নিষেধ
১৬. স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য থাকলে
১৭. ঝড়, তুফান, বজ্র পড়ার সময়
১৮. সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের সময় সহবাস করা নিষিদ্ধ।
📄 পরিত্যাগের অপকারিতা
স্বামী-স্ত্রীর সহবাস আনন্দের কাজ। এতে যেমন স্বামীর অধিকার রয়েছে, ঠিক তেমনি স্ত্রীরও অধিকার রয়েছে। উভয়ের মধ্যে এই কামনা-বাসনা, স্পৃহা বিদ্যমান থাকে। ভাব-ভঙ্গী দ্বারা স্ত্রীর কামস্পৃহায় জ্ঞাত হলে স্বামীর জন্য অবশ্যই সহবাস করা উচিত। বিনা কারণে সহবাস পরিপূর্ণভাবে পরিত্যাগ করা ফিকহ শাস্ত্রবিদদের মতে উচিত নয়; বরং কখনো অত্যাবশ্যকীয় বলেছেন। (আল বারীকা: ১২৭১ পৃষ্ঠায়)
ইতিহাস বিখ্যাত চিকিৎসাবিজ্ঞানী আবু আলী ইবনে সিনার মতে, সহবাসে আধিক্যতা যেমন ক্ষতিকর; তেমনি সহবাস পরিত্যাগ করাও ক্ষতিকর। ইহা পরিত্যাগে শরীয়তের বহুমুখী সমস্যায় পতিত হয়। এর মধ্যে মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা, চক্ষু কালো বর্ণ ধারণ করা, শরীরে মেদ ভূড়ি জমে উঠা। অণ্ডকোষ ফুলে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়।
📄 স্ত্রী সান্নিধ্য থেকে বেশি দিন বিচ্ছিন্ন থাকা নিষেধ
চার মাসের অধিককাল স্ত্রীর সান্নিধ্য থেকে দূরে থাকা এবং সহবাস না করা ইসলামী ফিকহ শাস্ত্রবিদগণ নিষেধ বলেছেন। কেননা; মহিলাদের সংযম শক্তি চার মাসের অধিক স্থায়ী হয় না। ওমর (রা) তাঁর খেলাফতের জামানায় এক রাত্রে মদিনার গলীতে ছদ্মবেশে টহল দেয়া অবস্থায় এক ঘর থেকে এক সময় একজন যুবতীর কণ্ঠে বিচ্ছেদের কবিতা আবৃত্তির শব্দ শুনতে পেলেন, যার মর্মার্থ ছিলো, "আল্লাহর শপথ! যদি আমার অন্তরে আল্লাহভীতি না থাকতো, তাহলে চৌকির পায়াসমূহ চড়চড় করে শব্দ করত।"
আমীরুল মুমিনীন ওমর (রা) ইহা শ্রবণে সন্দেহের উদ্রেক হলে তিনি দ্বার খোলার নির্দেশ দিলেন, দ্বার (দরজা) না খোলায় তিনি দেয়াল টপকিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে প্রশ্ন করলেন, উত্তরে মহিলা বলল, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে জেহাদে চলে গেছে, তাই তাঁর বিচ্ছেদে ব্যাকুল হয়ে তিনি কবিতার এই লাইনগুলো আবৃত্তি করে যাচ্ছিলেন। এটা শ্রবণে ওমর (রা) স্বীয় তনয়া (মেয়ে) উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রা)-এর নিকট গিয়ে প্রশ্ন করলেন, মা তুমি নিঃসংকোচে বল, বিবাহিতা মহিলারা স্বামী ছাড়া কতদিন ধৈর্য ধারণ করে থাকতে পারে? উত্তরে মা হাফসা (রা) দৃষ্টি অবনত করে হাতের চারটি আঙ্গুল উঁচু করে দিলেন, যা দ্বারা ওমর (রা) বুঝতে পারলেন যে, বিবাহিতা মহিলারা স্বামী ছাড়া চার মাস পর্যন্ত ধৈর্যধারণ করতে পারে।
পরবর্তীতে তিনি সর্বত্রই মুসলিম মুজাহিদগণের উদ্দেশ্যে ফরমান ঘোষণা করে দিলেন যে, বিবাহিত পুরুষের চার মাস অন্তর অন্তর ছুটিতে যাওয়ার অনুমতি প্রদান করা হলো।
📄 যা মেনে চলা অবশ্যই প্রয়োজন
সহবাসের পর শরীরে ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভূত হয় এবং অতিরিক্ত সহবাস বার্ধক্য আনয়ন করে। সহবাসে পরে অবশ্যই কিছু পুষ্টিকর খাদ্য শর্ত সাপেক্ষে গ্রহণ করা আবশ্যক।
মৌসুমী ফল, ডিমের হালুয়া, গাজরের হালুয়া, হানী ওয়াটার থেরাপী, মাউল্লাহাম, গরম দুধ, মধু ও দুধের মিশ্রণ হজম শক্তি খুব ভালো থাকলে অথবা খেজুর দুধের মধ্যে রেখে ফুটিয়ে খাওয়া যেতে পারে, দুধের ছানার বরফি, দুধের সর ইত্যাদি।
কাতিলা গাম, খুরমা খেজুর, মোনাক্কা একত্রে কমপক্ষে আট ঘণ্টা ভিজিয়ে মিশ্রণসহ খেলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।
বিঃ দ্রঃ উপরিউক্ত খাদ্যগুলো অবশ্যই মৌসুম বিশেষে এবং রোগ বিশেষে শর্ত-মোতাবেক গ্রহণ করতে হবে। ডায়াবেটিস মেলাইটাস রোগীর ক্ষেত্রে মিষ্টি জাতীয় খাদ্য বর্জন করতে হবে।
অস্বাভাবিক বা বিকৃত পন্থায় সহবাস করা ও বীর্যপাত হওয়ার সময় তা আটকিয়ে রাখার ফলে প্রস্রাবের নালীতে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হয়।
সহবাসের পরে এবং গোসলের পূর্বে অর্থাৎ অপবিত্র অবস্থায় আহার করলে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যায়।
অতিরিক্ত টক জাতীয় খাদ্য বর্জন করতে হবে।
অসুস্থ অবস্থায় সহবাস করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেঙ্গে যায়। ফলে পরবর্তীতে বিভিন্ন রকমের রোগ-ব্যাধি হতে পারে।
ভরাপেটে বা খাদ্য গ্রহণের পর পর সহবাস করলে স্বাস্থ্যহানী ঘটে। শরীরের বিশেষ অঙ্গ প্রত্যঙ্গ যেমন, লিভার ও পাকস্থলীর শক্তি দুর্বল হয় পড়ে।