📄 নব দম্পতির অবকাশ যাপনের কক্ষে যা করণীয়
সহবাসের তীব্র আকর্ষণ অনুভূত হলে, সহবাসের পূর্বে বিসমিল্লাহসহ তিনবার সূরা এখলাস এবং সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়তে হবে এবং নিম্নের দোয়া পড়ে সহবাসে লিপ্ত হতে হবে।
দোয়া- بِسْمِ اللَّهِ اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহী আল্লাহুম্মা জান্নিবনাস শায়তান ওয়াজান্নিবিস শায়তান মা রাজাকতানা।
অর্থ: "আল্লাহর নামে শুরু করছি, হে আল্লাহ! আমাদের উভয়কে শয়তান থেকে নিরাপদ রাখুন এবং যে সন্তান-সন্ততি আমাদের দান করবেন, তাকে শয়তান থেকে নিরাপদ রাখুন।" (বুখারী, হা/১৪১)
বীর্যপাতের সময় জিহবা এবং মুখের কোনোরূপ স্মরণ ঘটানো যাবে না। শুধু মনে মনে নিম্নের দোয়া পড়তে হবে। মুখে উচ্চারণ করা যাবে না।
দোয়া : اللَّهُمَّ لَا تَجْعَلْ لِلشَّيْطَانِ فِيمَا رَزَقْتَنِي نَصِيبًا
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমাদের যে সন্তান দান করবেন তাতে শয়তানের প্রভাব রাখবেন না। (মুসান্নাফে ইবনে শাইবা, হা/৩০৩৫৩)
শায়খ আব্দুল হক মোহাদ্দেসে দেহলভী (রহ) বলেন। উক্ত বর্ণনা থেকে প্রমাণিত হয় যে, সহবাসের সময় উল্লিখিত দোয়া পাঠ না করা হলে শয়তান তাতে প্ররোচনার প্রভাব খাটাতে সক্ষম। যার ফলে সন্তান অসচ্চরিত্র এবং নোংড়া চরিত্রের বাহক হয়ে থাকে। (রিফাহুল মুসলিমীন)
📄 নিম্নোক্ত অবস্থায় ও সময়ে সহবাস করা নিষিদ্ধ
১. মসজিদে
২. প্রকাশ্য স্থানে
৩. সহবাসের মর্মার্থ বুঝে এমন কাউকে পার্শ্বে রেখে
৪. পায়খানার রাস্তায়
৫. হায়েয-নেফাসের সময়
৬. হায়েজ-নেফাসের রক্ত বন্ধ হলে, গোসল করে নামাযের তাহরীমা বাঁধতে যতক্ষণ লাগে, ততক্ষণের মধ্যে নিষেধ।
৭. স্বপ্নদোষের পর বিনা গোসলে
৮. খুব ক্ষুধার্ত অবস্থায়
৯. উলঙ্গ হয়ে
১০. গুপ্ত স্থানের দিকে দৃষ্টি দিয়ে
১১. খুব বৃদ্ধ অবস্থায়
১২. দুর্বল শরীরে
১৩. কুষ্ঠ, যক্ষা ইত্যাদির জটিল রোগে নিষিদ্ধ
১৪. নাবালেগ অবস্থায়
১৫. মনে খুব রাগ কিংবা শোক থাকলে নিষেধ
১৬. স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য থাকলে
১৭. ঝড়, তুফান, বজ্র পড়ার সময়
১৮. সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের সময় সহবাস করা নিষিদ্ধ।
📄 পরিত্যাগের অপকারিতা
স্বামী-স্ত্রীর সহবাস আনন্দের কাজ। এতে যেমন স্বামীর অধিকার রয়েছে, ঠিক তেমনি স্ত্রীরও অধিকার রয়েছে। উভয়ের মধ্যে এই কামনা-বাসনা, স্পৃহা বিদ্যমান থাকে। ভাব-ভঙ্গী দ্বারা স্ত্রীর কামস্পৃহায় জ্ঞাত হলে স্বামীর জন্য অবশ্যই সহবাস করা উচিত। বিনা কারণে সহবাস পরিপূর্ণভাবে পরিত্যাগ করা ফিকহ শাস্ত্রবিদদের মতে উচিত নয়; বরং কখনো অত্যাবশ্যকীয় বলেছেন। (আল বারীকা: ১২৭১ পৃষ্ঠায়)
ইতিহাস বিখ্যাত চিকিৎসাবিজ্ঞানী আবু আলী ইবনে সিনার মতে, সহবাসে আধিক্যতা যেমন ক্ষতিকর; তেমনি সহবাস পরিত্যাগ করাও ক্ষতিকর। ইহা পরিত্যাগে শরীয়তের বহুমুখী সমস্যায় পতিত হয়। এর মধ্যে মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা, চক্ষু কালো বর্ণ ধারণ করা, শরীরে মেদ ভূড়ি জমে উঠা। অণ্ডকোষ ফুলে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়।
📄 স্ত্রী সান্নিধ্য থেকে বেশি দিন বিচ্ছিন্ন থাকা নিষেধ
চার মাসের অধিককাল স্ত্রীর সান্নিধ্য থেকে দূরে থাকা এবং সহবাস না করা ইসলামী ফিকহ শাস্ত্রবিদগণ নিষেধ বলেছেন। কেননা; মহিলাদের সংযম শক্তি চার মাসের অধিক স্থায়ী হয় না। ওমর (রা) তাঁর খেলাফতের জামানায় এক রাত্রে মদিনার গলীতে ছদ্মবেশে টহল দেয়া অবস্থায় এক ঘর থেকে এক সময় একজন যুবতীর কণ্ঠে বিচ্ছেদের কবিতা আবৃত্তির শব্দ শুনতে পেলেন, যার মর্মার্থ ছিলো, "আল্লাহর শপথ! যদি আমার অন্তরে আল্লাহভীতি না থাকতো, তাহলে চৌকির পায়াসমূহ চড়চড় করে শব্দ করত।"
আমীরুল মুমিনীন ওমর (রা) ইহা শ্রবণে সন্দেহের উদ্রেক হলে তিনি দ্বার খোলার নির্দেশ দিলেন, দ্বার (দরজা) না খোলায় তিনি দেয়াল টপকিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে প্রশ্ন করলেন, উত্তরে মহিলা বলল, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে জেহাদে চলে গেছে, তাই তাঁর বিচ্ছেদে ব্যাকুল হয়ে তিনি কবিতার এই লাইনগুলো আবৃত্তি করে যাচ্ছিলেন। এটা শ্রবণে ওমর (রা) স্বীয় তনয়া (মেয়ে) উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রা)-এর নিকট গিয়ে প্রশ্ন করলেন, মা তুমি নিঃসংকোচে বল, বিবাহিতা মহিলারা স্বামী ছাড়া কতদিন ধৈর্য ধারণ করে থাকতে পারে? উত্তরে মা হাফসা (রা) দৃষ্টি অবনত করে হাতের চারটি আঙ্গুল উঁচু করে দিলেন, যা দ্বারা ওমর (রা) বুঝতে পারলেন যে, বিবাহিতা মহিলারা স্বামী ছাড়া চার মাস পর্যন্ত ধৈর্যধারণ করতে পারে।
পরবর্তীতে তিনি সর্বত্রই মুসলিম মুজাহিদগণের উদ্দেশ্যে ফরমান ঘোষণা করে দিলেন যে, বিবাহিত পুরুষের চার মাস অন্তর অন্তর ছুটিতে যাওয়ার অনুমতি প্রদান করা হলো।