📄 দুই সহবাসের মধ্যবর্তী সময়ে যতটুকু বিরতি দেয়া উচিত
মাওলানা সাঈদ ওসমানী (রহ) তাঁর গ্রন্থ “রিফাহুল-মুসলিমীনে বর্ণনা করেছেন, চারদিন অন্তর অন্তর এক দু'বার সহবাস করবে। সেক্ষেত্রে স্ত্রীর আগ্রহ থাকতে হবে। স্ত্রীর আগ্রহ এর চেয়ে বেশি হলে ক্ষতি নেই। কারণ স্ত্রীর অসন্তুষ্টি ও তার মনের একাগ্রতা হলো, তার সম্ভ্রম সংরক্ষণের জন্য হাতিয়ার স্বরূপ।” তবে সংযত করতে পারলে উভয়ের সুস্বাস্থ্যের জন্য মঙ্গলজনক।
📄 বাসর ঘরের রাত্রিতে যা করণীয়
বিয়ের পর যখন কনে বাসর ঘরে প্রবেশ করবে, তখন কনের হাত ধরে নিম্নোক্ত দোয়া পড়তে হবে। কোনো কোনো কিতাবে হাত ধরার পরিবর্তে কনের চুল ধরার কথা বর্ণিত হয়েছে।
দোয়া: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا جَبَلَتَهَا عَلَيْهِ وَأَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّهِمَا جَبَلَتَهَا عَلَيْهِ
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট তার কল্যাণ ও সৎ স্বভাবের জন্য প্রার্থনা করছি এবং তার দুষ্ট চরিত্র ও অকল্যাণ থেকে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (আবু দাউদ, হা/২১৬২)
📄 নব দম্পতির অবকাশ যাপনের কক্ষে যা করণীয়
সহবাসের তীব্র আকর্ষণ অনুভূত হলে, সহবাসের পূর্বে বিসমিল্লাহসহ তিনবার সূরা এখলাস এবং সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়তে হবে এবং নিম্নের দোয়া পড়ে সহবাসে লিপ্ত হতে হবে।
দোয়া- بِسْمِ اللَّهِ اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহী আল্লাহুম্মা জান্নিবনাস শায়তান ওয়াজান্নিবিস শায়তান মা রাজাকতানা।
অর্থ: "আল্লাহর নামে শুরু করছি, হে আল্লাহ! আমাদের উভয়কে শয়তান থেকে নিরাপদ রাখুন এবং যে সন্তান-সন্ততি আমাদের দান করবেন, তাকে শয়তান থেকে নিরাপদ রাখুন।" (বুখারী, হা/১৪১)
বীর্যপাতের সময় জিহবা এবং মুখের কোনোরূপ স্মরণ ঘটানো যাবে না। শুধু মনে মনে নিম্নের দোয়া পড়তে হবে। মুখে উচ্চারণ করা যাবে না।
দোয়া : اللَّهُمَّ لَا تَجْعَلْ لِلشَّيْطَانِ فِيمَا رَزَقْتَنِي نَصِيبًا
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমাদের যে সন্তান দান করবেন তাতে শয়তানের প্রভাব রাখবেন না। (মুসান্নাফে ইবনে শাইবা, হা/৩০৩৫৩)
শায়খ আব্দুল হক মোহাদ্দেসে দেহলভী (রহ) বলেন। উক্ত বর্ণনা থেকে প্রমাণিত হয় যে, সহবাসের সময় উল্লিখিত দোয়া পাঠ না করা হলে শয়তান তাতে প্ররোচনার প্রভাব খাটাতে সক্ষম। যার ফলে সন্তান অসচ্চরিত্র এবং নোংড়া চরিত্রের বাহক হয়ে থাকে। (রিফাহুল মুসলিমীন)
📄 নিম্নোক্ত অবস্থায় ও সময়ে সহবাস করা নিষিদ্ধ
১. মসজিদে
২. প্রকাশ্য স্থানে
৩. সহবাসের মর্মার্থ বুঝে এমন কাউকে পার্শ্বে রেখে
৪. পায়খানার রাস্তায়
৫. হায়েয-নেফাসের সময়
৬. হায়েজ-নেফাসের রক্ত বন্ধ হলে, গোসল করে নামাযের তাহরীমা বাঁধতে যতক্ষণ লাগে, ততক্ষণের মধ্যে নিষেধ।
৭. স্বপ্নদোষের পর বিনা গোসলে
৮. খুব ক্ষুধার্ত অবস্থায়
৯. উলঙ্গ হয়ে
১০. গুপ্ত স্থানের দিকে দৃষ্টি দিয়ে
১১. খুব বৃদ্ধ অবস্থায়
১২. দুর্বল শরীরে
১৩. কুষ্ঠ, যক্ষা ইত্যাদির জটিল রোগে নিষিদ্ধ
১৪. নাবালেগ অবস্থায়
১৫. মনে খুব রাগ কিংবা শোক থাকলে নিষেধ
১৬. স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য থাকলে
১৭. ঝড়, তুফান, বজ্র পড়ার সময়
১৮. সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের সময় সহবাস করা নিষিদ্ধ।