📄 সর্বোত্তম পদ্ধতি
অর্থ : স্ত্রী চিৎ আসনে শায়িত হবে, আর স্বামী তার ওপর উপুর হয়ে উপগত হবে।
📄 মাত্রাততিরিক্ত রতিক্রিয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর
বুস্তান গ্রন্থে ফকীহ আবু লাইস (রহ) লিখেছেন। আলী (রা) বলেন, "যে ব্যক্তি এ আশা করে যে, তার স্বাস্থ্য সুন্দর সুদর্শন ও দীর্ঘকাল অটুক থাকুক তাহলে সে যেন সকালে ও রাত্রে আহার করে, ঋণ থেকে বেঁচে থাকে নগ্নপায়ে না হাঁটে এবং স্ত্রীর সাথে কম সহবাস করে।" (তিব্বে নববী)
পরনারীর দর্শনার্থে কামভাব জাগ্রত হলে স্ত্রীর সাথে সহবাস করে নেয়াই উত্তম।
ইমাম গাজ্জালী (রহ) লিখেছেন, জুনাইদ বাগদাদী (রহ) বলতেন, আমার কাছে সহবাসের প্রয়োজনীয়তা ততটুকুই, যতটুকু প্রয়োজনীয়তা খাদ্যের। একটি হাদীসে এসেছে, যার মর্মকথা হলো, কখনও কোনো পরনারীর প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ হলে, যদি সে মহিলার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে যাও তখন ঘরে গিয়ে নিজ স্ত্রীর সাথে সহবাস করে নাও। কারণ সহবাস অন্তরের কুমন্ত্রণা দূর করে দেয়।
📄 গর্ভাবস্থায় এবং স্তন্যদান সময়কালে সহবাস না করাই উত্তম
রাসূল (সা) ইরশাদ করেছেন, যার মর্মকথা হলো- “তোমরা নিজ সন্তানদের গুপ্তভাবে হত্যা করবে না। কেননা, স্তন্যপানকারী শিশুর উপস্থিতিতে স্ত্রীর সাথে সহবাস করলে শিশুর ক্ষতি হয়ে থাকে। (আবু দাউদ, হা/৩৮৮৩)
অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে যার মর্মকথা হলো- আমার ইচ্ছে হয়, স্তন্যপানকারী শিশুদের মাতাদের সাথে সহবাস নিষিদ্ধ করে দেই। কিন্তু পারস্য ও রোম লোকদের ব্যাপারে জানতে পারলাম যে, তারা এ রকমই করে থাকে। কিন্তু শিশুদের কারণে তাদের কোনো ধরনের অসুবিধা হয় না।”
উপরিউক্ত হাদীসের আলোকে বুঝা যায়, স্তন্যদানকালে ঘন ঘন সহবাস থেকে পুরুষদের অবশ্যই বিরত থাকা উচিত। যদিও গর্ভাবস্থায় এবং সন্তানের দুগ্ধ পান অবস্থায় ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সহবাস করার অনুমতি আছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও সহবাস থেকে বিরত থাকার জন্য বলা হয়েছে। কারণ এর দ্বারা প্রসূতি মা এবং শিশুর স্বাস্থ্যহানী ঘটবে।
📄 দুই সহবাসের মধ্যবর্তী সময়ে যতটুকু বিরতি দেয়া উচিত
মাওলানা সাঈদ ওসমানী (রহ) তাঁর গ্রন্থ “রিফাহুল-মুসলিমীনে বর্ণনা করেছেন, চারদিন অন্তর অন্তর এক দু'বার সহবাস করবে। সেক্ষেত্রে স্ত্রীর আগ্রহ থাকতে হবে। স্ত্রীর আগ্রহ এর চেয়ে বেশি হলে ক্ষতি নেই। কারণ স্ত্রীর অসন্তুষ্টি ও তার মনের একাগ্রতা হলো, তার সম্ভ্রম সংরক্ষণের জন্য হাতিয়ার স্বরূপ।” তবে সংযত করতে পারলে উভয়ের সুস্বাস্থ্যের জন্য মঙ্গলজনক।