📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 হৃদযন্ত্র

📄 হৃদযন্ত্র


চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেন যে, যখন মানুষ বেশি পরিমাণে চর্বি জাতীয় খাদ্য ভক্ষণ করতে থাকে, তখন তার দেহের রক্তে কোলস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যেতে থাকে এবং কোলস্টেরল হচ্ছে রক্তের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়া। যখন কোনো মানর দেহের রক্তের ঘনত্ব স্বাভাবিকের তুলনায় অস্বাভাবিক হয়ে যায় তখন দেহের উক্ত রক্ত ভারী হওয়ার ফলে, দেহের হৃদযন্ত্র উক্ত ভারী রক্ত ঠিকমত সারা দেহে পরিচালনা করতে পারে না। তখন উক্ত দেহের হৃদযন্ত্র উক্ত রক্তের দ্বারা ভারী হয়ে যায়, তখন উক্ত মানুষ বলে যে, এখন আমার বুক ভার অথবা আমার বুকে ভীষণ চাপ। অর্থাৎ উক্ত কোলস্টেরল যুক্ত রক্তের দ্বারা তার হৃদযন্ত্র অসুস্থ এবং এইভাবে তার হৃদযন্ত্র দীর্ঘদিন থাকলে তার হৃদক্রিয়া একদিন বন্ধ হয়ে সে মৃত্যুমুখে পতিত হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে।
আবার কোনো কোনো চিকিৎসা বিজ্ঞানী বলেন যে, ভয় ভীতি, দুঃশ্চিন্তা, দুঃসংবাদ ও হতাশা ইত্যাদি দ্বারাও রক্তে কোলস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গিয়ে হৃদযন্ত্র অসুস্থ হয়ে যায়।
আবার কোনো কোনো বিজ্ঞানী বলেন যে, খারাপ কাজ ও খারাপ কথা বেশি বেশি করলে ও বললে, হৃদযন্ত্রে ভয়-ভীতি, দুশ্চিন্তা ও হতাশা বেড়ে যায় এবং এর দ্বারা দেহের রক্তে কোলস্টেরল বেড়ে গিয়ে হৃদযন্ত্র অসুস্থ হয়ে পড়ে।
তাই স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেন যে, প্রত্যেক মানুষ যেন তার জীবনের শুরু হতে শেষ পর্যন্ত সুষম খাবার খায় এবং সুষম খাবার বলতে ঐ খাবারকে বুঝানো হয়েছে, যে খাবারটি মধ্যম খাবার অর্থাৎ উক্ত খাবার বেশি উন্নতমানেরও নয় এবং বেশি নিম্নমানেরও নয়। এবং তা প্রতিদিন এক মানের খাবারও নয়।
অথচ এ সম্পর্কে মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের বহুপূর্বেই একটি অমূল্য হাদীস আমাদেরকে উপহার দিয়ে গেছেন। যেমন:
قَالَ النَّبِيُّ ﷺ: خَيْرُ الْأُمُورِ أَوْسَطُهَا .
অর্থ: মহানবী (সা) বলেছেন, মধ্যম বস্তুই হচ্ছে উত্তম বস্তু। অর্থাৎ মধ্যম খাবারই হচ্ছে উত্তম বা সুষম খাবার। (আমছিলাতুল হাদীস লি ইমাম ইবনে শাইবা হা/৩৩৮)
এছাড়াও মহানবী (সা) হৃদযন্ত্র সম্পর্কে একটি হাদীস বলেছেন, যেমন-
عَنِ النُّعْمَانِ ابْنِ بَشِيرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَلَا وَإِنَّ فِي الْجَسَدِ مُضْغَةً إِذَا صَلُحَتْ صَلَحَ الْجَسَدُ كُلُّهُ وَإِذَا فَسَدَتْ فَسَدَ الْجَسَدُ كُلُّهُ أَلَا وَهِيَ الْقَلْبُ - (متفق عليه)
অর্থ: নু'মান ইবনে বাশীর (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (সা) বাণী প্রদান করেছেন: সাবধান! নিশ্চয়ই মানব দেহের মধ্যে এমন একটি গোশতপিণ্ড রয়েছে যা সুস্থ থাকলে গোটা দেহই সুস্থ থাকে, আর অসুস্থ (দূষিত) হয়ে পড়লে সমস্ত দেহটাই অসুস্থ হয়ে পড়ে। (অর্থাৎ যখন এ গোশতপিণ্ড দূষিত হয়ে পড়ে, তখন সমস্ত শরীরই বিষায়িত হয়ে পড়ে) সাবধান! সেটাই হলো হৃদযন্ত্র বা অন্তরকণ। (বুখারী হা/৫২ ও মুসলিম হা/১৫৯৯)
মানুষের হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখার জন্য মহানবী (সা) মানুষের মধ্যে কিছু ভালো কাজ করার ব্যবস্থা ও নির্দেশ দিয়ে গেছেন এবং উক্ত ভাল কাজগুলো করলে হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে এবং কখনও হৃদযন্ত্রে কোনো ভয়ভীতি, দুঃশ্চিন্তা ও হতাশার উদ্রেক হয় না। এবং উক্ত ভালো কাজগুলো হচ্ছে, নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত, আল্লাহ পাকের যিকির, কুরআন পাঠ ও নানা মাখলুকাতের সেবামূলক কাজ ইত্যাদি। এবং এই কাজগুলো নিয়মিতভাবে করলে হৃদযন্ত্র সর্বদাই প্রফুল্ল থাকে এবং হৃদযন্ত্র কখনও অসুস্থ হওয়ার সুযোগ পায় না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00