📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 সুর

📄 সুর


স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেন যে, সুস্থ দেহ ও সুস্থ মনের জন্য সুর অপরিহার্য্য।
যখন কোনো মানুষ সুর করে গান বা কোনো কথা বলে, তখন তার হৃদযন্ত্রে, ফুসফুসে ও মস্তিষ্কে সুর তরঙ্গ প্রবাহিত হয়, এতে তার হৃদযন্ত্র, ফুসফুস ও মস্তিষ্ক হতে এক প্রকার বিষাক্ত গ্যাসীয় ক্ষতিকর পদার্থ বের হয়ে আসে। যার ফলে তার হৃদযন্ত্রের বিষ ব্যথা, জটলা ইত্যাদি কিছুটা হলেও দূরীভূত হয় এবং ফুসফুসের রক্তচাপ দূর হয় এবং মস্তিষ্কের ব্যথা, জ্বালা, ভারসহ সর্বপ্রকার জ্বালা-যন্ত্রণা পূর্বের তুলনায় কমে যায়।
স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা আরও বলেন যে, মানুষের শরীর যেমন দৈহিক নানা পরিশ্রমের দ্বারা ঘেমে অস্থির হয়ে যায়, তখন তাকে বাতাস দিয়ে ঠাণ্ডা করে তার শরীর জুড়াতে হয়, ঠিক তেমনিভাবে যখন কোনো মানুষের মন হতাশা, দুঃশ্চিন্তা, মৃত্যুভয়, দুঃখ-কষ্ট ইত্যাদির মধ্যে ভরপুর থাকে। তখন তার একমাত্র অবলম্বনই হচ্ছে 'সুর'। কারণ এই সুরই তার উক্ত হতাশাসমূহ দূরীকরণে সাহায্য করে এবং মনের ঘাম ও অস্থিরতা জুড়াতে সাহায্য করে।
উক্ত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা এছাড়াও বলেন যে, মানুষের গানের বা কথার সুরে মনের শান্তি ফিরে আসে এবং মস্তিষ্ক ঠাণ্ডা হয়। ফলে শরীরের রক্তচাপ দূর হয় এবং হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক শক্তি ফিরে আসে। মূল কথা হচ্ছে, সুর মানুষকে দুঃশ্চিন্তা হতে বিরত রাখতে সাহায্য করে।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের বহুপূর্বেই মানুষদেরকে দুঃখ-কষ্ট হতাশা, দুঃশ্চিন্তা, মৃত্যুভয় হতে রক্ষা করার জন্য পবিত্র কুরআন পাঠের মধ্যে সুরের বিকল্প হিসাবে কিছু নিয়ম-কানুনের নির্দেশ দেন এবং কুরআনুল কারীম তিলাওয়াত করার উক্ত নিয়ম কানুনগুলো ঠিকমত আদায় করলে ভিন্ন একটি সুর তরঙ্গের সৃষ্টি হয় যা দেহ-মনের শান্তি আনয়নের বিকল্প বা মূলমন্ত্র। যেমন- মহানবী (সা) র একটি হাদীস।
حَدَّثَنَا سَعَادُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنِ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ خَيْرُ الدَّوَاءِ الْقُرْآنُ . (ابن ماجه جلد الثاني صفه . ابواب الطب)
অর্থ : আলী (রা) বলেন যে, মহানবী (সা) বলেছেন, সর্বরোগের উত্তম চিকিৎসা হচ্ছে আল কুরআন। অর্থাৎ মহানবী (সা)-এর নির্দেশমত কুরআন তিলাওয়াত করলে, তাতে যে সুরের সৃষ্টি হয় এবং সেই সুরই হচ্ছে দেহের আভ্যন্তরীণ সকল যন্ত্রাংশের সকল রোগ, অশান্তি ও অস্থিরতা দূরীকরণের মূল মন্ত্র। (ইবনে মাজা হা/৩৫০১, ২য় খণ্ড ২৫০ পৃ. আবুওযাবুত তিব।) এছাড়াও মহানবী (সা) পবিত্র কুরআনের আলোকে আরও বলেছেন যে, তোমরা পবিত্র কুরআনের বাণীকে তাজবীদের সাথে (সুর করে) পাঠ করো। যেমন- পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে-
وَرَيْلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا
অর্থ : এবং কুরআন আবৃত্তি করুন সুবিন্যস্তভাবে ও স্পষ্টভাবে। (সূরা মুয্যাম্মিল : আয়াত-৪)
অর্থাৎ তাজবীদ হচ্ছে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের নিয়ম-কানুনের এক প্রকার 'সুর'। এবং তাজবীদের সাথে কুরআন পাঠ করলে যে সুরতরঙ্গের সৃষ্টি হয় তা মানুষের দেহের আভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশের জন্য খুব উপকারী এবং শ্বাস-প্রশ্বাসেরও উপকার সাধিত হয়।

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 স্বর্ণ

📄 স্বর্ণ


পরিবেশ বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করে দেখেছেন যে, তুলনামূলকভাবে, স্বর্ণের সৌন্দর্য ছেলেদের চেয়ে বেশি, তাই স্বর্ণ ছেলেদের লাবণ্যকে হরণ করে নেয়, ফলে ছেলের সৌন্দর্য তার স্বর্ণ ব্যবহারের পর পূর্বের তুলনায় কমে যায়। অপরদিকে তুলনামূলকভাবে স্বর্ণের সৌন্দর্য্য মেয়েদের চেয়ে কম, তাই স্বর্ণ মেয়েদের লাবণ্যকে হরণ করে নিতে পারে না, ফলে মেয়ের সৌন্দর্য্য তার স্বর্ণ ব্যবহারের পর পূর্বের তুলনায় বেড়ে যায়।
এছাড়াও উক্ত পরিবেশ বিজ্ঞানীরা আরও বলেন যে, ছেলেদের চোখে মেয়েদের সৌন্দর্য স্বর্ণের চেয়ে বেশি, তাই মেয়েরা স্বর্ণ ব্যবহার করলে মেয়েদের সৌন্দর্য্য আরও বেড়ে যায়। ফলে মেয়েদের প্রতি ছেলেদের আকৃষ্টতা আরও বেড়ে যায়। অপরদিকে মেয়েদের চোখে স্বর্ণের সৌন্দর্য্য ছেলের চেয়ে বেশি, তাই ছেলেরা স্বর্ণ ব্যবহার করলে, মেয়েদের আকৃষ্ট হওয়ার প্রক্রিয়া ছেলেদের প্রতি না গিয়ে স্বর্ণের প্রতি চলে যায়, ফলে মেয়েরা ছেলেদের প্রতি আকৃষ্ট না হয়ে স্বর্ণের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে যায়। অর্থাৎ ছেলেরা স্বর্ণ ব্যবহার করলে, তাদের প্রতি মেয়েদের আকর্ষণ কমে যায়। কারণ মেয়েরা স্বর্ণকে ছেলের চেয়ে বেশি মূল্যায়ন করে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে লোভী এবং এই লোভ তাদের যৌবন শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাই ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের স্বর্ণ ব্যবহার উত্তম।
এছাড়াও স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা আরও বলেন যে, স্বর্ণ হচ্ছে একটি স্বয়ংক্রিয় ধাতু, যার বিষাক্ত দূষণীয় প্রভাবের প্রতিরোধ ক্ষমতা ছেলের দেহের চেয়ে মেয়ের দেহে বেশি, তাই ছেলেরা স্বর্ণ ব্যবহার করলে তাদের স্বাস্থ্যে এক বিশেষ ক্ষতি হয়। কিন্তু মেয়েরা স্বর্ণ ব্যবহার করলে উক্ত স্বর্ণের বিষাক্ত দূষণীয় প্রভাব মেয়েদেরকে কোনো ক্ষতি করতে পারে না। কারণ মেয়েরা স্বর্ণের প্রতি আকৃষ্ট হলে তাদের যৌবন শক্তির উগ্রতা কমে গিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে।
তাই পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা নানা গবেষণা করে বলেন যে, ছেলেদের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার করা ভালো নয়। এবং মেয়েদের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার করা ভালো। এছাড়া স্বর্ণ মেয়েদের যৌবন শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করেন।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞানীদের বহুপূর্বেই ছেলেদের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার করা হারাম করে হাদীস বলে গেছেন। যেমন-
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى عَنْ سَعِيدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ عَنْ أَبِي مُوسَى أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ أُحِلَّ الذَّهَبُ وَالْحَرِيرِ لِأُنَاثٍ أُمَّتِي وَ حُرِّمَ عَلَى ذُكُورِهَا - (نسائی شریف جلد الثاني صفه ٢٨٥ كتاب الزنات)
অর্থ : আবু মূসা (রা) হতে বর্ণিত যে, নিশ্চয় মহানবী (সা) বলেছেন, আমার উম্মতের মেয়েদের জন্য স্বর্ণ ও রেশমী কাপড় ব্যবহার করা বৈধ করা হলো এবং এই স্বর্ণ ও রেশমী কাপড় ব্যবহার করা আমার উম্মতের ছেলেদের ওপর অবৈধ বা হারাম করা হলো।
(নাসায়ী হা/৫১৪৮, ২য় খণ্ড ২৮৫ পৃ. কিতাবুজ যিনাত।)

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 হাঁটা

📄 হাঁটা


আমেরিকার বিখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর পল হোয়াইট বলেছেন যে, মানুষের বয়স যতই হোক না কেন, হাঁটা হচ্ছে তার সুস্বাস্থ্যের সংরক্ষণের একমাত্র প্রধান চিকিৎসা, তিনি আরও বলেছেন, যে মানুষ নিয়মিত প্রতিদিন হাঁটবে, তার জীবনে কখনও হৃদরোগ, রক্তচাপ জনিত রোগ, ডায়াবেটিস, মাথা ব্যথা ইত্যাদি জনিত রোগ হবে না। কারণ হাঁটার মাধ্যমে শরীরের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পেশী ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
সুতরাং হাঁটা হচ্ছে দেহকে সুস্থ, সবল ও সংরক্ষণের জন্য সকলের একটি সহজ, স্বাভাবিক ও উৎকৃষ্ট ব্যায়াম। (শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ৭ম শ্রেণী)
মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের বহুপূর্বেই তাঁর উম্মতের প্রতিটি মানুষকে সকাল-বিকাল হাঁটার অভ্যাস করার জন্য উৎসাহ প্রদান করে হাদীস বলে গেছেন। যেমন:
حَدَّثَنَا مُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ لَغَدْوَةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوْ رَوْحَةٌ خَيْرٌ مِّنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا.
অর্থ: আনাস বিন মালেক (রা) হতে বর্ণিত যে, মহানবী (সা) বলেছেন, সকালে অথবা বিকালে আল্লাহর পথে হাঁটা, দুনিয়া ও ইহার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম। (বুখারী হা/২৭৯২, ১ম, ৩৯২ পৃ. কিতাবুল জিহাদ, মুসলিম: ১৮৮০)
حَدَّثَنَا قَبِيصَهُ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ الرَّوْحَةُ وَالْغَدْوَةُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَفْضَلُ مِّنَ الدُّنِيَا وَمَا فِيهَا.
অর্থ : সাহাল বিন সাদ (রা) হতে বর্ণিত যে, মহানবী (সা) বলেছেন, আল্লাহর পথে সকাল-বিকাল হাঁটা, পৃথিবী ও তার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে অতি উত্তম। (বুখারী হা/২৭৯৪, ১ম খণ্ড ৩৯২ পৃ. কিতাবুল জিহাদ, মুসলিম ১৮৮৯)
এছাড়াও হাদীসে আরও আছে যে, মহানবী (সা) সকাল-বিকাল হাঁটতেন এবং যা করতেন, তা তিনি এই পৃথিবীর সকল মানুষদেরকে করতে নির্দেশ দিয়ে গেছেন। এছাড়া মহান আল্লাহ পাকও মহানবী (সা)-এর কাজ কর্মকে অনুসরণ করার জন্য এই পৃথিবীর প্রতিটি মানুষকে নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন:
قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ
অর্থ : বলুন! যদি তোমরা আল্লাহ পাককে পছন্দ কর, তবে তোমরা আমাকে অনুসরণ কর। তা হলে আল্লাহ পাক তোমাদেরকে ভালোবাসবেন। (সূরা আল ইমরান: আয়াত-৩১)

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 হাসি

📄 হাসি


পৃথিবীর বিখ্যাত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানী ডা. পল গবেষণা করে দেখেছেন যে, সুস্থ দেহ ও সুস্থ মনের অধিকারী হতে হলে হাসি অপরিহার্য্য। হাসি একজন মানুষকে সুস্থ দেহ নিয়ে অনেক দিন বেঁচে থাকতে সাহায্য করে। উক্ত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানী ডা. পল বেশ কিছু ছাত্র-ছাত্রীর ওপর ১৮ রকমের হাসির এক জরিপে দেখেছেন যে, সুন্দর হাসিতে মস্তিষ্কে তরঙ্গ প্রবাহিত হয়ে তাকে সুখী করছে। তিনি বলেন, যখন হাসবেন আপনার মুখমণ্ডল এর ডান দিকে গোশত পেশীর সংকোচনের কারণে মস্তিষ্কে এক ধরনের প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে যা সত্যিকার অর্থে মানুষের মনে সুখানুভূতি জাগায়। সুতরাং ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির সাইকিয়াট্রিস্ট ডাক্তার পল একম্যান বলেন যে, যদি আপনি অনেক দিন বেঁচে থাকতে চান তাহলে হাসুন। (যুগান্তর ০২.০৩.২০০৩ ইং, ডা. প্রমানন্দ মিত্র)
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত বিজ্ঞানীদের বহুপূর্বেই সুস্থ মনের সুস্থ দেহের অধিকারী হওয়ার নমুনা তাঁর উম্মতের মধ্যে সৃষ্টি হওয়ার জন্য তিনি তার সুন্দর হাসির নমুনা তাঁর উম্মতের মধ্যে রেখে গেছেন। যেমন-
أَخْبَرَنَا ابْنُ لَهِيعَةٍ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ الْمُغِيرَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ جِزْءٍ قَالَ مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَكْثَرُ تَبَسَّمًا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ .
অর্থ: আব্দুল্লাহ বিন হারেস বিন জাযায়ী বলেন যে, আমি কাউকে রাসূল (সা)-এর চেয়ে অতি সুন্দর হাসতে দেখিনি। (তিরমিযি হা/৩৬৪১, ১৬ পৃ. আবুওয়াবু শামায়েল)
حَدَّثَنَا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ يَزِيدَ بْنَ أَبِي جَيْبٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ قَالَ مَا كَانَ يَضْحَكُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِلَّا تَبَسَّمَا.
অর্থ: আব্দুল্লাহ বিন হারেস (রা) বলেন যে, সুন্দর করে মুচকি হাসি ছাড়া মহানবী (সা)-এর অট্টহাসি দেয়ার অভ্যাস ছিল না। (তিরমিযি হা/৩৬৪২, ১৬ পৃ. আবওয়াবু শামায়েল।)
মহানবী (সা)-এর উক্ত হাদীসদ্বয়ের নমুনা আমাদের অনুসরণ করাই উক্ত বিজ্ঞানীদের সুন্দর হাসির বিকল্প।
এছাড়াও মহানবী (সা) আরও বলেছেন যে, কারো সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করা ছদকাহ। এটা মূলত মহব্বত এবং প্রেম-প্রীতি বৃদ্ধির বিশেষ উপায়। তিন প্রকার হাসির মধ্যে মুচকি হাসি সর্বোত্তম।
একজন প্রসিদ্ধ মনোবিজ্ঞানী বলেন, আচার ব্যবহারের মূল ভিত্তি হিসেবে মৃদু হাসি বা মুচকি হাসির কথা উল্লেখ করা যায়। যেখানে মুচকি হাসি আছে সেখানে সৌজন্যমূলক আচার ব্যবহার বিদ্যমান, আর যখন এ হাসি খতম হয়ে গেল তখন মহব্বত-ভালোবাসা, সৌহার্দ-সম্প্রীতি, মানবতা, সহমর্মিতার প্রভাব আপনা আপনি শেষ হয়ে যায়। মুচকি হাসির তরঙ্গ বা ঢেউ সহজেই অন্যের অন্তরে মহব্বت ও সহমর্মিতার ঢেউ সৃষ্টি করে। (ইনকিলাব ২১-৬-০৪)
সুতরাং দেখা যায় যে, মহানবী (সা)-এর হাসির নমুনাই হচ্ছে বর্তমান যুগের স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের সুন্দর হাসি আবিষ্কারের বিকল্প।
হাসি মানুষের মানসিক চাপ কমিয়ে দেয়। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, যেসব লোক মানসিক চাপ উপেক্ষা করে এবং সবকিছুকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করে তাদের মধ্যে শতকরা ২% ভাগ লোক ৫০ বছর বয়স হওয়ার আগে মারা যায়। পক্ষান্তরে যারা মানসিক চাপ, টেনশন উপেক্ষা করতে পারে না তাদের মধ্যে শতকরা ১৫ ভাগ লোক ৫০ বছর বয়স হওয়ার আগেই দুনিয়া হতে বিদায় নিয়ে যায়।
খুশী বা আনন্দ হচ্ছে সুস্বাস্থ্যের প্রমাণ। মানুষ যখন আনন্দিত হয় তখন তার দেহের ভেতরে এনড্রোলিন তৈরী হয়। মানুষের মস্তিষ্কে তৈরী হওয়া এই উপাদান সারাদেহে বিস্তার লাভ করে। এর রাসায়নিক উপাদান অনেকটা আফিমের মতো। এই উপাদান মানুষের আবেগ অটুট রাখে এবং তাদের ব্যথা বেদনার অনুভূতি কমিয়ে দেয়। এছাড়া অন্য একটি রাসায়নিক উপাদান রয়েছে যাকে বলা হয় অক্সিটোফিন। এই হরমোন বিশেষ গ্লান্ড হতে তৈরী হয় এবং হরমোন মানুষের দেহমনকে শান্ত করে এবং মানসিক সজীবতা তৈরী করে।
খুশির একটি বিশেষ প্রকাশ হচ্ছে হাসি। আপনি যখন হাসবেন তখন আপনার পেট, ঘাড় এবং কাঁধের হাড়ের মধ্যে উঠানামা চলতে থাকে। হৃদস্পন্দন এবং রক্ত চাপ বেড়ে যায়। শ্বাস-প্রশ্বাস গভীর হতে থাকে। হাসি থামার পর রক্তচাপ এবং নাড়ির স্পন্দন স্বাভাবিক হয়ে আসে। এবং এক ঘণ্টার হাসি ১০ মিনিট নৌকা চালানোর মতো শ্রম সাপেক্ষ। তবে হাসি কৃত্রিম হতে পারবে না। আপনাকে প্রাণ খুলে হাসতে হবে।
বিনোদনমূলক কর্মসূচিতে মানুষের ধৈর্যশক্তি বৃদ্ধি পায়। কারণ বিনোদনমূলক কর্মসূচির, মধ্যে হাসির যথেষ্ট উপাদান থাকে। জীবনে চলার পথে কিছু ঘটনা ঘটে যখন আনন্দ অনুভব করা যায়।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, একজন ছাত্র পরীক্ষা দেয়ার পর তার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি নাম্বার পেলে তার খুশীর সীমা থাকে না।
এখানে রূহানী খুশী বা আত্মিক খুশী সম্পর্কে আলোচনা না করা হলে আলোচনা অসম্পূর্ণ হয়ে যাবে।
গরীব মিসকিনদের সাহায্য করে মানুষ খুশী লাভ করতে পারে। অল্পে তুষ্টি মানুষকে আনন্দিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00