📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 শিংগা

📄 শিংগা


পৃথিবীর যে সকল মানুষের জ্ঞান, স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তি স্বাভাবিকের তুলনায় কম তাদের জ্ঞান-বিবেক, স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তিকে স্বাভাবিক পর্যায়ে আনয়ন করার জন্য অদ্যাবধি পৃথিবীর কোনো চিকিৎসা বিজ্ঞানী কোনো সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারেননি। কিন্তু সমাজকল্যাণ বিজ্ঞানীরা উক্ত প্রতিবন্ধী মানুষের কল্যাণের জন্য নানা শিক্ষা পদ্ধতি চালু করেছেন, কিন্তু তাতেও কোনো আশানুরূপ ফল হয়নি। কিন্তু মহানবী মুহাম্মদ (সা) আজ হতে বহু বৎসর পূর্বে পৃথিবীর উক্ত প্রতিবন্ধি মানুষের জ্ঞান-বিবেক, স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তির উন্নতির জন্য এই পৃথিবীর মানুষদেরকে একটি চিকিৎসার ব্যবস্থা প্রদান করে একটি হাদীস বলে গেছেন। যেমন:
حَدَّثَنَا عُمَانُ بْنُ مَطَرٍ عَنِ الْحَسَنِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ عَنْ مُحَمَّدٍ بْنِ جُحَادَةَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ لا يَقُولُ الْحِجَامَةُ عَلَى الرِّيَّقِ أَمْثَلُ وَفِيهِ شِفَاءٌ وَبَرْكَةً وَتَزِيدُ فِي الْعَقْلِ وَفِي الْحِفْظِ - (ابن ماجه جلد ثاني صفه ابواب الطب)
অর্থ: ইবনে ওমর বলেন যে, নিশ্চয় আমি রাসূল (সা)-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, মানুষের ঘাড়ের রগে শিংগা লাগানো অতি উত্তম এবং এর মধ্যে রয়েছে সুচিকিৎসা ও কল্যাণ এবং এর দ্বারা জ্ঞান ও স্মৃতিশক্তি বাড়ে। (ইবনে মাজা হা/৩৪৮৮, ২য় খণ্ড ২৪৯ পৃ. আবুওয়াবুত তিব্ব।)
লক্ষ্য করলে অবলোকিত হয় যে, যদি আধুনিক বিশ্বের চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা মহানবী (সা)-এর উক্ত বর্ণিত হাদীসের কথামত মানুষের ঘাড় ও তার নানা রগসমূহ নিয়ে নানা গবেষণা করে যদি দেখে, তাহলে তারা অবশ্যই পাবে যে, ঘাড়ের কোনো কোনো স্থানে অথবা কোনো কোনো রগে শিংগা লাগালে অথবা শিংগা লাগানোর মতো কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করলে, মানুষের জ্ঞান-বিবেক, স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি পাবে অথবা অস্বাভাবিক হলে তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। তাহলে তা অবশ্যই মানুষের জন্য কল্যাণকর হবে।

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 সাদা

📄 সাদা


রং ও আলো বিষয়ের বিখ্যাত বিজ্ঞানী ক্রোসোপ্যাথী বলেছেন যে, সাদা পোশাক হলো ক্যান্সার হতে প্রতিরক্ষার সর্বোত্তম ঔষধ। এবং তার মতে সাদা পোশাক মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ড ও চর্মের সংরক্ষক।
বিখ্যাত চিকিৎসক ডা. লহী কুনীর গবেষণা তিনি ছিলেন জার্মানির একজন প্রখ্যাত চিন্তাবিদ ও চিকিৎসক। তিনি বলেন, সমস্ত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাদা পোশাককে অধিক প্রাধান্য দেন।
খলিল জিব্রান: তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত দার্শনিক ও লেখক। তিনি সাদা পোশাককে সাদা ফুলের সমতুল্য মনে করতেন। তিনি বলেন যে, গোলাপের সাদা পাঁপড়ি ও আমার দেহের সাদা পোশাক উভয়টাই সমপর্যায়ের। আর উভয়টাই আমার আনন্দের সামগ্রী।
এমন কি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সাদা পোশাক পরিধানকারী ব্যক্তি (Setaceous Glands) ঘামের ছিদ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফাংগাল ইনফেকশন (Fingal Infection) এর ন্যায় মারাত্মক ব্যাধি হতে রক্ষা পেতে পারে। তারা চর্মরোগ ও এলার্জি এবং উচ্চ-রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের সর্বদা সাদা পোশাক পরিধানের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা এটাও লক্ষ্য করে দেখেছেন যে, সাদা কাপড় সর্বপ্রকার আবহাওয়া পরিবর্তনের মোকাবিলা করে থাকে। কারণ তীব্র গরম মৌসুমেও সাদা পোশাক গরম হয় না। কেননা ইহা যেমনি গরমকে আকর্ষণ করে না, তেমনি প্রচণ্ড শীতের মৌসুমে ঠাণ্ডার কারণে তা শীতলও হয়ে যায় না।
এছাড়াও বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে পেয়েছেন যে, সাদা কাপড় উত্তাপ এবং আলোর একটি উত্তম প্রতিফলক এবং অপরদিকে ইহা উত্তাপ এবং আলোর একটি কুপরিশোষক। তাই বিজ্ঞানীরা বলেন যে, যেহেতু সাদা কাপড়ের উত্তাপ ধারণক্ষমতা কম এবং উত্তাপ বিকিরণক্ষমতা বেশি, সেহেতু গরমের দিনে সাদা কাপড় পরিধান করা সুবিধাজনক ও আরামদায়ক।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উপরোক্ত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের বহুপূর্বেই তিনি সাদা পোশাকের গুণাগুণ রহস্য বুঝতে পেরেছিলেন, তাই তিনি সাদা পোশাক পছন্দ করতেন এবং পরিধানও করতেন। এবং সাদা পোশাক পরিধান করা তার আদর্শ একথা তিনি তাঁর উম্মতগণকে বলেও গেছেন। এবং মৃত্যু ব্যক্তিকে সাদা কাপড় দিয়ে কাফন পরিধান করলো তাঁর আদর্শ, একথাও তিনি তাঁর উম্মতগণকে বলে গেছেন।
আরব দেশে তীব্র গরম ও সূর্যকিরণ প্রখর, এবং সেইখানে সাদা কাপড়ের পোশাক উত্তাপ এবং আলোর উত্তম প্রতিফলক হিসেবে কাজ করবে একথা একমাত্র মহানবী (সা)-ই সর্বপ্রথম এই পৃথিবীতে আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাই তিনি সাদা কাপড়ের পোশাক পরিধান করা তাঁর উম্মতের ওপর সুন্নাত করে গেছেন।
ফেরেশতারা আলোর সৃষ্টি এবং সাদা পোশাক হচ্ছে আলোকের উত্তম প্রতিফলক, তাই ফেরেশতারা সদা সর্বদাই মহানবী (সা)-এর নিকট সাদা পোশাক পরিধান করে আসতেন। এবং প্রত্যেক মানুষের কবরে ফেরেশতারা সাদা পোশাক পরিধান করে যাবে। তাই মহানবী (সা) মৃত্যু ব্যক্তিকে সাদা কাপড় দিয়ে দাফন কাফনের জন্য তাঁর সকল উম্মতগণকে নির্দেশ দিয়ে গেছেন। ফেরেশতারা যে মহানবী (সা)-এর নিকট সাদা পোশাকে আসতেন তার ওপর দু'টি হাদীস নিম্নে দেয়া হলো: যেমন-
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ اللهِ قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ ذَاتَ يَوْمٍ إِذْ طَلَعَ عَلَيْنَا رَجُلٌ شَدِيدُ بَيَاضِ الثِّيَابِ شَدِيدُ سَوَادِ الشَّعْرِ لَا يُرَى عَلَيْهِ أَثَرُ السَّفَرِ وَلَا يَعْرِفُهُ مِنَّا أَحَدٌ . ثُمَّ انْطَلَقَ - فَلَبِثْتُ مَلِيًّا ثُمَّ قَالَ لِي. يَا عُمَرُ أَتَدْرِي مَنِ السَّائِلُ؟ قُلْتُ اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ فَإِنَّهُ جِبْرِيلُ . آتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُمْ - (رواه مسلم)
অর্থ: ওমর ইবনে খাত্তাব (রা) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, একদা আমরা কতিপয় সাহাবী রাসূল (সা)-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। এমনি মুহূর্তে এক আগন্তুক এসে উপস্থিত হলেন। তার পোশাক পরিচ্ছদ ছিলো ধবধবে সাদা, মাথার চুল ছিল কুচকুচে কালো। তাঁর মধ্যে ভ্রমণের কোনো চিহ্নও দেখা যায় নি। আমাদের মধ্যে কেউ তাঁকে চিনতেও পারছে না। তারপর লোকটি চলে গেল। অতঃপর আমরা কিছুক্ষণ চুপ থাকলাম। তারপর মহানবী (সা) আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে ওমর! প্রশ্নকারী কে তা কি জান? আমি বললাম আল্লাহ ও তদীয় রাসূল (সা)-ই ভালো জানেন। তখন রাসূল (সা) বললেন, ইনি জিবরাঈল (আ) যিনি তোমাদেরকে দ্বীনের শিক্ষা প্রদানের জন্যে আগমন করেছিলেন। এই হাদীসখানি ইমাম মুসলিম (র) বর্ণনা করেছেন। (সহীহ মুসলিম হা/১০২)
حَدَّثَنَا مِشْعَرْ عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ سَعْدٍ قَالَ رَأَيْتُ بِشِمَالِ النَّبِيِّ ﷺ وَيَمِيْنِهِ رَجُلَيْنِ عَلَيْهِمَا ثِيَابٌ بَيْضٌ يَوْمَ أَحُدٍ مَا رَأَيْتُهُمَا قَبْلَ وَلَا بَعْدَ - بخاری شریف کتاب اللباس
অর্থ: সাদ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদের দিন আমি রাসূল পাক (সা)-এর ডানে ও বামে দু'জন পুরুষ লোককে দেখতে পেলাম। তাদের পরিধানে সাদা পোশাক ছিল। তাদেরকে আমি কখনও এর আগে ও পরে দেখিনি। (বুখারী হা/৫৮২৬, কিতাবুল লিবাস।)
অতএব, প্রতীয়মান হয় যে, সাদা পোশাকের উত্তাপ ধারণ ক্ষমতা কম এবং উত্তাপ বিকিরণ ক্ষমতা বেশি। তাই গরমকালে সাদা পোশাক পরিধান করা সুবিধাজনক ও আরামদায়ক। তাই মহানবী (সা) তার দেশে তীব্র গরম হওয়ার কারণে এবং ফেরেশতাদের পোশাক সাদা হওয়ার কারণে তিনি সাদা পোশাক পরিধান তাঁর আদর্শ বলে ঘোষণা করে গেছেন। এবং বলেছেন যে, তোমরা নিজেরা সাদা কাপড় পরবে এবং মুর্দাকে কাফনেও পরাবে। (মেশকাত)

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 সুর

📄 সুর


স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেন যে, সুস্থ দেহ ও সুস্থ মনের জন্য সুর অপরিহার্য্য।
যখন কোনো মানুষ সুর করে গান বা কোনো কথা বলে, তখন তার হৃদযন্ত্রে, ফুসফুসে ও মস্তিষ্কে সুর তরঙ্গ প্রবাহিত হয়, এতে তার হৃদযন্ত্র, ফুসফুস ও মস্তিষ্ক হতে এক প্রকার বিষাক্ত গ্যাসীয় ক্ষতিকর পদার্থ বের হয়ে আসে। যার ফলে তার হৃদযন্ত্রের বিষ ব্যথা, জটলা ইত্যাদি কিছুটা হলেও দূরীভূত হয় এবং ফুসফুসের রক্তচাপ দূর হয় এবং মস্তিষ্কের ব্যথা, জ্বালা, ভারসহ সর্বপ্রকার জ্বালা-যন্ত্রণা পূর্বের তুলনায় কমে যায়।
স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা আরও বলেন যে, মানুষের শরীর যেমন দৈহিক নানা পরিশ্রমের দ্বারা ঘেমে অস্থির হয়ে যায়, তখন তাকে বাতাস দিয়ে ঠাণ্ডা করে তার শরীর জুড়াতে হয়, ঠিক তেমনিভাবে যখন কোনো মানুষের মন হতাশা, দুঃশ্চিন্তা, মৃত্যুভয়, দুঃখ-কষ্ট ইত্যাদির মধ্যে ভরপুর থাকে। তখন তার একমাত্র অবলম্বনই হচ্ছে 'সুর'। কারণ এই সুরই তার উক্ত হতাশাসমূহ দূরীকরণে সাহায্য করে এবং মনের ঘাম ও অস্থিরতা জুড়াতে সাহায্য করে।
উক্ত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা এছাড়াও বলেন যে, মানুষের গানের বা কথার সুরে মনের শান্তি ফিরে আসে এবং মস্তিষ্ক ঠাণ্ডা হয়। ফলে শরীরের রক্তচাপ দূর হয় এবং হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক শক্তি ফিরে আসে। মূল কথা হচ্ছে, সুর মানুষকে দুঃশ্চিন্তা হতে বিরত রাখতে সাহায্য করে।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের বহুপূর্বেই মানুষদেরকে দুঃখ-কষ্ট হতাশা, দুঃশ্চিন্তা, মৃত্যুভয় হতে রক্ষা করার জন্য পবিত্র কুরআন পাঠের মধ্যে সুরের বিকল্প হিসাবে কিছু নিয়ম-কানুনের নির্দেশ দেন এবং কুরআনুল কারীম তিলাওয়াত করার উক্ত নিয়ম কানুনগুলো ঠিকমত আদায় করলে ভিন্ন একটি সুর তরঙ্গের সৃষ্টি হয় যা দেহ-মনের শান্তি আনয়নের বিকল্প বা মূলমন্ত্র। যেমন- মহানবী (সা) র একটি হাদীস।
حَدَّثَنَا سَعَادُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنِ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ خَيْرُ الدَّوَاءِ الْقُرْآنُ . (ابن ماجه جلد الثاني صفه . ابواب الطب)
অর্থ : আলী (রা) বলেন যে, মহানবী (সা) বলেছেন, সর্বরোগের উত্তম চিকিৎসা হচ্ছে আল কুরআন। অর্থাৎ মহানবী (সা)-এর নির্দেশমত কুরআন তিলাওয়াত করলে, তাতে যে সুরের সৃষ্টি হয় এবং সেই সুরই হচ্ছে দেহের আভ্যন্তরীণ সকল যন্ত্রাংশের সকল রোগ, অশান্তি ও অস্থিরতা দূরীকরণের মূল মন্ত্র। (ইবনে মাজা হা/৩৫০১, ২য় খণ্ড ২৫০ পৃ. আবুওযাবুত তিব।) এছাড়াও মহানবী (সা) পবিত্র কুরআনের আলোকে আরও বলেছেন যে, তোমরা পবিত্র কুরআনের বাণীকে তাজবীদের সাথে (সুর করে) পাঠ করো। যেমন- পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে-
وَرَيْلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا
অর্থ : এবং কুরআন আবৃত্তি করুন সুবিন্যস্তভাবে ও স্পষ্টভাবে। (সূরা মুয্যাম্মিল : আয়াত-৪)
অর্থাৎ তাজবীদ হচ্ছে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের নিয়ম-কানুনের এক প্রকার 'সুর'। এবং তাজবীদের সাথে কুরআন পাঠ করলে যে সুরতরঙ্গের সৃষ্টি হয় তা মানুষের দেহের আভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশের জন্য খুব উপকারী এবং শ্বাস-প্রশ্বাসেরও উপকার সাধিত হয়।

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 স্বর্ণ

📄 স্বর্ণ


পরিবেশ বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করে দেখেছেন যে, তুলনামূলকভাবে, স্বর্ণের সৌন্দর্য ছেলেদের চেয়ে বেশি, তাই স্বর্ণ ছেলেদের লাবণ্যকে হরণ করে নেয়, ফলে ছেলের সৌন্দর্য তার স্বর্ণ ব্যবহারের পর পূর্বের তুলনায় কমে যায়। অপরদিকে তুলনামূলকভাবে স্বর্ণের সৌন্দর্য্য মেয়েদের চেয়ে কম, তাই স্বর্ণ মেয়েদের লাবণ্যকে হরণ করে নিতে পারে না, ফলে মেয়ের সৌন্দর্য্য তার স্বর্ণ ব্যবহারের পর পূর্বের তুলনায় বেড়ে যায়।
এছাড়াও উক্ত পরিবেশ বিজ্ঞানীরা আরও বলেন যে, ছেলেদের চোখে মেয়েদের সৌন্দর্য স্বর্ণের চেয়ে বেশি, তাই মেয়েরা স্বর্ণ ব্যবহার করলে মেয়েদের সৌন্দর্য্য আরও বেড়ে যায়। ফলে মেয়েদের প্রতি ছেলেদের আকৃষ্টতা আরও বেড়ে যায়। অপরদিকে মেয়েদের চোখে স্বর্ণের সৌন্দর্য্য ছেলের চেয়ে বেশি, তাই ছেলেরা স্বর্ণ ব্যবহার করলে, মেয়েদের আকৃষ্ট হওয়ার প্রক্রিয়া ছেলেদের প্রতি না গিয়ে স্বর্ণের প্রতি চলে যায়, ফলে মেয়েরা ছেলেদের প্রতি আকৃষ্ট না হয়ে স্বর্ণের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে যায়। অর্থাৎ ছেলেরা স্বর্ণ ব্যবহার করলে, তাদের প্রতি মেয়েদের আকর্ষণ কমে যায়। কারণ মেয়েরা স্বর্ণকে ছেলের চেয়ে বেশি মূল্যায়ন করে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে লোভী এবং এই লোভ তাদের যৌবন শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাই ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের স্বর্ণ ব্যবহার উত্তম।
এছাড়াও স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা আরও বলেন যে, স্বর্ণ হচ্ছে একটি স্বয়ংক্রিয় ধাতু, যার বিষাক্ত দূষণীয় প্রভাবের প্রতিরোধ ক্ষমতা ছেলের দেহের চেয়ে মেয়ের দেহে বেশি, তাই ছেলেরা স্বর্ণ ব্যবহার করলে তাদের স্বাস্থ্যে এক বিশেষ ক্ষতি হয়। কিন্তু মেয়েরা স্বর্ণ ব্যবহার করলে উক্ত স্বর্ণের বিষাক্ত দূষণীয় প্রভাব মেয়েদেরকে কোনো ক্ষতি করতে পারে না। কারণ মেয়েরা স্বর্ণের প্রতি আকৃষ্ট হলে তাদের যৌবন শক্তির উগ্রতা কমে গিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে।
তাই পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা নানা গবেষণা করে বলেন যে, ছেলেদের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার করা ভালো নয়। এবং মেয়েদের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার করা ভালো। এছাড়া স্বর্ণ মেয়েদের যৌবন শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করেন।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞানীদের বহুপূর্বেই ছেলেদের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার করা হারাম করে হাদীস বলে গেছেন। যেমন-
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى عَنْ سَعِيدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ عَنْ أَبِي مُوسَى أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ أُحِلَّ الذَّهَبُ وَالْحَرِيرِ لِأُنَاثٍ أُمَّتِي وَ حُرِّمَ عَلَى ذُكُورِهَا - (نسائی شریف جلد الثاني صفه ٢٨٥ كتاب الزنات)
অর্থ : আবু মূসা (রা) হতে বর্ণিত যে, নিশ্চয় মহানবী (সা) বলেছেন, আমার উম্মতের মেয়েদের জন্য স্বর্ণ ও রেশমী কাপড় ব্যবহার করা বৈধ করা হলো এবং এই স্বর্ণ ও রেশমী কাপড় ব্যবহার করা আমার উম্মতের ছেলেদের ওপর অবৈধ বা হারাম করা হলো।
(নাসায়ী হা/৫১৪৮, ২য় খণ্ড ২৮৫ পৃ. কিতাবুজ যিনাত।)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00