📄 রৌপ্য
স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেন যে, রৌপ্য, স্বর্ণ, তামা, কাঁসা ও পিতল এদের সবগুলোই স্বয়ংক্রিয় ধাতু এবং এইগুলোর দ্বারা তৈরি কোনো গ্লাস প্লেট ও পাত্রের মধ্য হতে সর্বদাই স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ ক্ষতিকর বিষাক্ত দূষিত পদার্থ নির্গত হয়। তাই ঐসব পাত্রে কোনো রসালো খাদ্য অথবা কোনো পানীয় খাদ্য দ্রব্য রাখলে, উক্ত পাত্রের বিষাক্ত দূষিত পদার্থের প্রভাবে উক্ত খাদ্যদ্বয়ের গুণাগুণ নষ্ট হয়ে ইহা খাদ্যের পরিবর্তে অখাদ্যে পরিণত হয়ে যায়। এছাড়াও উক্ত পাত্রসমূহে কোনো ভিজা খাদ্যদ্রব্য রেখে সাথে সাথে খেলেও উক্ত পাত্রের স্বয়ংক্রিয় বিষাক্ত দূষিত পদার্থ খাদ্যের সাথে মিশে যায় এবং সে খাদ্য খেলে দেহের বিশেষ ক্ষতি সাধন হয়। এছাড়াও সবাই লক্ষ্য করে দেখেছেন যে, স্বর্ণ, রৌপ্য, কাঁসা, তামা ও পিতলের কোনো পাত্রে 'দৈ' কিংবা 'মাঠা দৈ' অথবা ঠাণ্ডা দুধ রাখলে অতিদ্রুত বিষাক্ত হয়ে যায়। এর মূল কারণই হচ্ছে ঐগুলোর সবই স্বয়ংক্রিয় ধাতু, তাই ইহার মধ্য হতে নির্গত বিষাক্ত দূষিত পদার্থ উক্ত দৈ, মাঠা দৈ ও ঠাণ্ডা দুধে মিশে ইহাদের গুণাগুণ নষ্ট করে দিয়ে, ইহাদেরকে খাওয়ার অযোগ্য করে দেয়।
তাই স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেন যে, স্বর্ণ, রৌপ্য, তামা, কাঁসা ও পিতলের নির্মিত কোনো পাত্রে কোনো রসালো খাদ্য দ্রব্য রেখে ভক্ষণ বা পান করলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়। তাই উক্ত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা সকলকেই উক্ত পাত্রসমূহের রসালো খাদ্য দ্রব্য ও পানীয় খাদ্য দ্রব্য খেতে ও পান করতে নিষেধ করেছেন।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের বহু পূর্বেই, স্বর্ণ, রৌপ্য, তামা, কাঁসা ও পিতলের পাত্রে রেখে খাদ্য ও পানীয় পান করতে নিষেধ করে হাদীস বলে গেছেন। যেমন-
عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ لَا تَشْرَبُوا فِي آنِيَةِ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ.
অর্থ: হুজায়ফা (রা) হতে বর্ণিত যে, মহানবী (সা) বলেছেন, তোমরা কখনও স্বর্ণ ও রৌপ্যের নির্মিত পাত্রে কোনো পানীয় দ্রব্য পান করো না। (বুখারী হা/৫৬৩৩, ২য় খণ্ড ৮১৬ পৃ. কিতাবুল আতআমা)
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنَ أَبِي بَكْرِ الصِّدِّيقِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ زَوْجٍ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ الَّذِي يَشْرَبُ فِي إِنَاءِ الْفِضَّةِ إِنَّمَا يُجَرْجِرُ فِي بَطْنِهِ نَارَ جَهَنَّمَ .
অর্থ: উম্মে ছালমা (রা) হতে বর্ণিত যে, রাসূল (সা) বলেছেন, যে ব্যক্তি রৌপ্যে নির্মিত কোনো পাত্রে পান করবে, নিশ্চয় সে যেন জাহান্নামের আগুন দ্বারা তার পেটকে প্রবাহিত করল। অর্থাৎ উক্ত রৌপ্যের পাত্রের কোনো পানীয় দ্রব্য পান করলে, ইহা হতে নির্গত বিষাক্ত পদার্থ পেটে গিয়ে যে অসুখের সৃষ্টি করে, ইহার কষ্ট জাহান্নামের আগুন বা পেরেশান। (বুখারী হা/৫৬৩৪, ২য় খণ্ড ৮৪২ পৃ. কিতাবুল আশরাবা)
📄 লালা
স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেন যে, যার কথা বলার শব্দ উচ্চারণের বাচনভঙ্গি শুদ্ধ ও সঠিক, অর্থাৎ কোনো মানুষ যখন কোনো শব্দ উচ্চারণ করে তখন যদি সে উক্ত শব্দের প্রতিটি অক্ষর, মুখের ভেতরের যে অংশ হতে যে অক্ষরটি উচ্চারণ হওয়ার দরকার ঠিক মুখের ভেতরের সেই স্থান হতে ঠিকভাবে উচ্চারণ করে কথা বলে, তার জীবনে কখনও মুখ দিয়ে লালা পড়বে না। এমনকি বার্ধক্যকালেও তার মুখ দিয়ে লালা পড়বে না। এবং সে যে ভাষারই লোক হউক না কেন? তবুও সে যদি তার নিজ ভাষার প্রতিটি শব্দের অক্ষরগুলোর যে অক্ষরটি মুখের ভেতরের যে স্থান হতে উচ্চারণ হওয়া দরকার, ঠিক সেই স্থান হতে একটু শব্দ করে উচ্চারণ করে, তবে তার মুখ দিয়ে কখনও লালা পড়বে না এবং মুখ বাঁকা হবে না।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের বহুপূর্বেই কুরআন পাঠের প্রতিটি শব্দের উচ্চারণকে পবিত্র কুরআনের আলোকেই সহীহ শুদ্ধ করে মাখরাজ আদায় করে তিলাওয়াত করার নির্দেশ দিয়ে গেছেন।
وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا -
অর্থ: এবং কুরআন আবৃত্তি করুন সুবিন্যস্তভাবে ও স্পষ্টভাবে। (সূরা মুয্যাম্মিল: আয়াত-৪)
অর্থাৎ মাখরাজ আদায় করে কুরআনের প্রতিটি শব্দ উচ্চারণ করে পাঠ কর। মাখরাজ পবিত্র কুরআনের প্রতিটি অক্ষর মুখের ভেতরের যে যে স্থান হতে যে যে অক্ষর উচ্চারণ হওয়া দরকার, কুরআন পাঠের সমুর কুরআনের অক্ষরগুলো মুখের ভেতরের ঠিক ঠিক স্থান হতে উচ্চার করাকেই মাখরাজ বলা হয়।
অতএব, পবিত্র কুরআন কারীম পাঠ করার সময় যে ইহার প্রতিশব্দের প্রতি অক্ষরের মাখরাজ সঠিকভাবে আদায় করে সুবিন্যস্ত ও স্পষ্টভাবে পাঠ করবে। তার জীবনে কখনও মুখ দিয়ে লালা পড়বে না এবং মুখ বাকা হবে না। এ সম্পর্কে মহানবী (সা) একটি হাদীসও বলে গেছেন। যেমন-
حَدَّثَنَا سَعَادُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنِ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيِّ ﷺ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ خَيْرُ الدَّوَاءِ الْقُرْآنُ . (ابن ماجه جلد الثاني صفه . ابواب الطب)
অর্থ : আলী (রা) বলেন যে, মহানবী (সা) বলেছেন, সর্বরোগের উত্তম চিকিৎসা হচ্ছে, 'আল কুরআন' অর্থাৎ সুবিন্যস্তভাবে ও স্পষ্টভাবে মাখরাজ আদায় করে কুরআন পাঠ করলে সর্বপ্রকার রোগ দূরীভূত হয়। এবং এটাই হচ্ছে মানুষের উত্তম চিকিৎসা। (ইবনে মাজা হা/৩৫০১, ২য় খণ্ড ২৫০ পৃ. আবুওয়াবুত তিব্ব।) যয়ীফ
📄 এক শ্বাস
'স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেন যে, এক গ্লাস পানি এক নিঃশ্বাসে পান করলে স্ত্রে চাপ পড়ে, তাতে হৃদযন্ত্রের ক্ষতি হয় এবং হৃদযন্ত্রে চাপ পড়লে চাপ বৃদ্ধি পায়, রক্তচাপ বৃদ্ধি পেলে শারীরিক ও মানসিক অস্থিরতাড়ে। এবং এতে শ্বাস প্রশ্বাসেও কষ্ট সাধিত হয়। তাই স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা লেন যে, মানুষের উপরোক্ত দৈনন্দিন জীবনের উক্ত শারীরিক ও মানসিক কষ্ট হতে পরিত্রাণ পাওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে, যখন এক গ্লাস পানি পান করবে তখন সে পানি ধীরে ধীরে কমপক্ষে কয়েক নিঃশ্বাসে পান করবে। তাহলে, তার জীবনে কখনও হৃদরোগ, রক্তচাপ, অস্থিরতা ও আরও নানা প্রকার রোগ তার হবে না।
মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের বহুপূর্বেই তাঁর উম্মতের লোকদেরকে এক গ্লাস পানি এক নিঃশ্বাসে পান করতে নিষেধ করে গেছেন। যেমন- তাঁর একটি হাদীস:
حَدَّثَنَا يَحْيى عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ عَنْ أَبِيْهِ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ لا وَإِذَا شَرِبَ فَلَا يَشْرَبُ نَفَسًا وَاحِدًا .
অর্থ: আবু কাতাদাহ (রা) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, মহানবী (সা) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ পানীয় পান করবে তখন তোমরা উক্ত পানীয় এক নিঃশ্বাসে পান করবে না। (আবু দাউদ হা/৩১, ১ম খণ্ড ৬ পৃষ্ঠা কিতাবুত তাহারাত।)
মহানবী মুহাম্মদ (সা) তাঁর উম্মতকে যেকোনো পানীয় তিন নিঃশ্বাসে পান করতে আদেশ দিয়েছেন। যেমন তাঁর একটি হাদীস:
حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ أَبِي عَصَامٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ النَّبِيَّ لا كَانَ إِذَا شَرِبَ يَنْفَسُ ثَلَاثًا.
অর্থ : আনাস বিন মালিক (রা) হতে বর্ণিত যে, মহানবী (সা) এর অভ্যাস ছিল যে, যখন তিনি কোনো পানীয় পান করতেন, তখন তিনি তা তিন নিঃশ্বাসে পান করতেন। (আবু দাউদ হা/৩৭২৯, ২য় খণ্ড ১৬৮)
📄 শিংগা
পৃথিবীর যে সকল মানুষের জ্ঞান, স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তি স্বাভাবিকের তুলনায় কম তাদের জ্ঞান-বিবেক, স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তিকে স্বাভাবিক পর্যায়ে আনয়ন করার জন্য অদ্যাবধি পৃথিবীর কোনো চিকিৎসা বিজ্ঞানী কোনো সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারেননি। কিন্তু সমাজকল্যাণ বিজ্ঞানীরা উক্ত প্রতিবন্ধী মানুষের কল্যাণের জন্য নানা শিক্ষা পদ্ধতি চালু করেছেন, কিন্তু তাতেও কোনো আশানুরূপ ফল হয়নি। কিন্তু মহানবী মুহাম্মদ (সা) আজ হতে বহু বৎসর পূর্বে পৃথিবীর উক্ত প্রতিবন্ধি মানুষের জ্ঞান-বিবেক, স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তির উন্নতির জন্য এই পৃথিবীর মানুষদেরকে একটি চিকিৎসার ব্যবস্থা প্রদান করে একটি হাদীস বলে গেছেন। যেমন:
حَدَّثَنَا عُمَانُ بْنُ مَطَرٍ عَنِ الْحَسَنِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ عَنْ مُحَمَّدٍ بْنِ جُحَادَةَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ لا يَقُولُ الْحِجَامَةُ عَلَى الرِّيَّقِ أَمْثَلُ وَفِيهِ شِفَاءٌ وَبَرْكَةً وَتَزِيدُ فِي الْعَقْلِ وَفِي الْحِفْظِ - (ابن ماجه جلد ثاني صفه ابواب الطب)
অর্থ: ইবনে ওমর বলেন যে, নিশ্চয় আমি রাসূল (সা)-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, মানুষের ঘাড়ের রগে শিংগা লাগানো অতি উত্তম এবং এর মধ্যে রয়েছে সুচিকিৎসা ও কল্যাণ এবং এর দ্বারা জ্ঞান ও স্মৃতিশক্তি বাড়ে। (ইবনে মাজা হা/৩৪৮৮, ২য় খণ্ড ২৪৯ পৃ. আবুওয়াবুত তিব্ব।)
লক্ষ্য করলে অবলোকিত হয় যে, যদি আধুনিক বিশ্বের চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা মহানবী (সা)-এর উক্ত বর্ণিত হাদীসের কথামত মানুষের ঘাড় ও তার নানা রগসমূহ নিয়ে নানা গবেষণা করে যদি দেখে, তাহলে তারা অবশ্যই পাবে যে, ঘাড়ের কোনো কোনো স্থানে অথবা কোনো কোনো রগে শিংগা লাগালে অথবা শিংগা লাগানোর মতো কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করলে, মানুষের জ্ঞান-বিবেক, স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি পাবে অথবা অস্বাভাবিক হলে তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। তাহলে তা অবশ্যই মানুষের জন্য কল্যাণকর হবে।