📄 রোযার সামাজিক প্রভাব
ইসলাম ন্যায়নীতি, সুবিচার এবং গরীবের প্রতি ভালোবাসার শিক্ষা দেয়। পেট যখন ভরা থাকে তখন অন্যের ক্ষুধার কষ্ট অনুভব করা যায় না। জিহ্বা যখন পানিতে ভেজা থাকে তখন অন্যের পিপাসার কষ্ট অনুভব হয় না। রোযা মুসলমানদের সহমর্মিতা, করুণা এবং গরীবের প্রতি সমবেদনা শিক্ষা দেয়। আর এর প্রত্যেকটি হচ্ছে ইসলামী সমাজের অংশ।
গরীবদের প্রতি সাহায্য সহানুভূতি করার জন্যে ইউরোপে অনেক আইন প্রণয়ন করা হয়েছে কিন্তু ধনী গরীবের ব্যবধান সম্ভবত ইউরোপেই সবচেয়ে বেশি লক্ষ করা যায়।
মাওসেতুং ছিলেন চীনের মহান নেতা। ধনী গরীব সমস্যার সমাধানের জন্যে তিনি তার ভাষণে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, নিজে যখন খাবে তখন যারা দেখবে তাদের এবং পাড়া প্রতিবেশীদেরও সে খাবারে শামিল করবে। নিজে ক্ষুধার্ত হতে ক্ষুধার্তদের কষ্ট অনুভব করবে। উল্লিখিত শিক্ষা মাওসেতুং-এর নয়; বরং এ শিক্ষা হচ্ছে ইসলামের।
📄 পাকিস্তানের বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সার্ভে রিপোর্ট
রমযান মাসে নাক, কান এবং গলার অসুখ কম হয়। জার্মানি, ইংল্যান্ড এবং আমেরিকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি টীম এ সম্পর্কে গবেষণা করার জন্যে এক রমযান মাসে পাকিস্তানে আসে। গবেষণা কর্মের জন্যে তারা পাকিস্তানের করাচী, লাহোর এবং ফয়সালাবাদ শহরকে মনোনীত করে। সার্ভে করার পর তারা যে রিপোর্ট প্রণয়ন করে তার মূলকথা ছিলো নিম্নরূপ।
মুসলমানরা যেহেতু নামায আদায় করে, বিশেষত রমযান মাসে অধিক পাবন্দীর সাথে নামায আদায় করে থাকে, এ কারণে অজু করে। এ অজু করার কারণে তাদের নাক, কান, গলার অসুখ কম হয়। খাদ্য কম খাওয়ার কারণে পাকস্থলী এবং লিভারের অসুখ কম হয়। রোযার মাধ্যমে এ ডায়েটিং করার কারণে তারা মস্তিষ্ক এবং হৃদরোগে কম আক্রান্ত হয়। (দৈনিক সংবাদ ১৯৮৮)
📄 অভিজ্ঞতার আলোকে মানব দেহের ওপর রোযার প্রভাব
মৌসুম এবং ভৌগোলিক অবস্থানের পার্থক্যের কারণে রোযার মেয়াদ ১২ হতে ১৯ ঘণ্টা পর্যন্ত হয়ে থাকে। রাত বড় হলে সাধারণত ইফতারের পর সাহারীর আগে দু’একবার খাবার খেতে হয়। শুধু বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ হতে একথা পূর্ণ নিশ্চয়তার সাথে বলা যায় না যে, রোযার দ্বারা দেহের ওপর কেমন প্রভাব পড়ে। কেউ কেউ বলেন, রোযার কারণে দৈহিক দুর্বলতা দেখা দেয়। আবার কেউ বলেন, রোযা রাখার ফলে দেহের কোনো দুর্বলতা সৃষ্টি হয় না। রোযা রাখার ফলে দুই ওয়াক্তের আহারের ব্যবধান কিছু বেশি হয়। ২৪ ঘণ্টায় যে খাদ্য গ্রহণ করা হয় এতে যতোটুকু পুষ্টি অর্জন করে তা দেহের জন্যে যথেষ্ট। রোযায় দেহের পুষ্টি অন্য সময়ের চেয়ে মোটেই কম হয় না। তবে একটা বাস্তব সত্য যে, রমযান মাসে মানুষ প্রোটিন এবং কার্বো হাইড্রেটযুক্ত জিনিস অধিক ব্যবহার করে থাকে। এই দৃষ্টিকোণ হতেও বলা যায়, রমযান মাসে দেহ সাধারণ সময়ের চেয়ে বেশি খাদ্যপ্রাণ লাভ করে।
📄 রোযা স্বাস্থ্য রক্ষার একটি অতুলনীয় পদ্ধতি
আল্লাহ তায়ালা সকল প্রাণীর দেহকাঠামো এমনভাবে গঠন করেছেন যে, যতক্ষণ তারা খাদ্য পানীয় নিয়মিত এবং সময়মতো না পায়, ততক্ষণ তাদের পক্ষে জীবনধারণ করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। খাদ্য পানীয় কম বেশি হওয়ার সাথে সাথে তাদের স্বাস্থ্য প্রভাবিত হবে। পশুকুল তাদের বিবেচনা অনুযায়ী খাদ্য পানীয় গ্রহণ করে থাকে। কিন্তু মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব হওয়া সত্ত্বেও সীমালঙ্ঘন করে। এর ফলে তাদের দেহ কাঠামো বিগড়ে যায় এবং তাকে নানা রকম ক্ষতিকর রোগের সম্মুখীন হতে হয়। এ কারণেই অন্যান্য পশু এবং মানুষের রোগের ধরনের মধ্যে সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া যায় না। দেহ রোগমুক্ত রাখার জন্যে এ যাবৎ যত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা হচ্ছে কিছুদিনের জন্যে পানাহার নিয়ন্ত্রণ করা এবং পাকস্থলী খালি রাখা। এর ফলে সারাদেহ সুস্থ থাকে। ক্ষুধার কারণে পাকস্থলীর অপ্রয়োজনীয় উপাদান জ্বলে পুড়ে পরিষ্কার হয়ে যায়। তারপর পাকস্থলী স্বাভাবিকভাবে তার কাজ চালিয়ে যেতে পারে।