📄 রক্ত উৎপাদন এবং রোযার বৈশিষ্ট্য
হাড়ের টিস্যুর মধ্যে রক্ত তৈরি হয়। দেহের যখন রক্তের প্রয়োজন দেখা দেয় তখন একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা হাড়ের টিস্যুকে স্টিমুলেট করে, দুর্বল লোকদের মধ্যেও এ ব্যবস্থার কোনো ব্যত্যয় দেখা যায় না।
রোযার সময়ে রক্তে খাদ্যের উপাদান কম থাকে। তবে যে ব্যক্তি রক্তজনিত জটিল রোগে আক্রান্ত হয় তাকে ডাক্তারী পরীক্ষা করতে হবে এবং ডাক্তারের মতামত নিতে হবে। রোযার মাধ্যমে যেহেতু লিভার প্রয়োজনীয় বিশ্রাম লাভ করে, তাই এসময়ে হাড়ের টিস্যু প্রয়োজনীয় উপাদানের সরবরাহ পায়। এর ফলে খুব সহজেই অধিক পরিমাণ রক্ত তৈরি হতে পারে।
রোযার বরকতের কারণে একজন দুর্বল লোকের ওজন বেড়ে যেতে এবং মোটা লোকের ওজন কমে যেতে পারে।
আসুন, কুরআনের সূরা বাকারার ১৮৪ নং আয়াতের শেষাংশ আবার পাঠ করি এবং রোযার বরকত ও বৈশিষ্ট্য উপলব্ধি করি। আল্লাহ তায়ালা যথার্থই বলেছেন- যদি তোমরা বুঝতে পারো যে রোযা তোমাদের জন্যে উত্তম, তবে রোযা রাখাই তোমাদের জন্যে কল্যাণকর।
📄 রোযার সামাজিক প্রভাব
ইসলাম ন্যায়নীতি, সুবিচার এবং গরীবের প্রতি ভালোবাসার শিক্ষা দেয়। পেট যখন ভরা থাকে তখন অন্যের ক্ষুধার কষ্ট অনুভব করা যায় না। জিহ্বা যখন পানিতে ভেজা থাকে তখন অন্যের পিপাসার কষ্ট অনুভব হয় না। রোযা মুসলমানদের সহমর্মিতা, করুণা এবং গরীবের প্রতি সমবেদনা শিক্ষা দেয়। আর এর প্রত্যেকটি হচ্ছে ইসলামী সমাজের অংশ।
গরীবদের প্রতি সাহায্য সহানুভূতি করার জন্যে ইউরোপে অনেক আইন প্রণয়ন করা হয়েছে কিন্তু ধনী গরীবের ব্যবধান সম্ভবত ইউরোপেই সবচেয়ে বেশি লক্ষ করা যায়।
মাওসেতুং ছিলেন চীনের মহান নেতা। ধনী গরীব সমস্যার সমাধানের জন্যে তিনি তার ভাষণে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, নিজে যখন খাবে তখন যারা দেখবে তাদের এবং পাড়া প্রতিবেশীদেরও সে খাবারে শামিল করবে। নিজে ক্ষুধার্ত হতে ক্ষুধার্তদের কষ্ট অনুভব করবে। উল্লিখিত শিক্ষা মাওসেতুং-এর নয়; বরং এ শিক্ষা হচ্ছে ইসলামের।
📄 পাকিস্তানের বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সার্ভে রিপোর্ট
রমযান মাসে নাক, কান এবং গলার অসুখ কম হয়। জার্মানি, ইংল্যান্ড এবং আমেরিকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি টীম এ সম্পর্কে গবেষণা করার জন্যে এক রমযান মাসে পাকিস্তানে আসে। গবেষণা কর্মের জন্যে তারা পাকিস্তানের করাচী, লাহোর এবং ফয়সালাবাদ শহরকে মনোনীত করে। সার্ভে করার পর তারা যে রিপোর্ট প্রণয়ন করে তার মূলকথা ছিলো নিম্নরূপ।
মুসলমানরা যেহেতু নামায আদায় করে, বিশেষত রমযান মাসে অধিক পাবন্দীর সাথে নামায আদায় করে থাকে, এ কারণে অজু করে। এ অজু করার কারণে তাদের নাক, কান, গলার অসুখ কম হয়। খাদ্য কম খাওয়ার কারণে পাকস্থলী এবং লিভারের অসুখ কম হয়। রোযার মাধ্যমে এ ডায়েটিং করার কারণে তারা মস্তিষ্ক এবং হৃদরোগে কম আক্রান্ত হয়। (দৈনিক সংবাদ ১৯৮৮)
📄 অভিজ্ঞতার আলোকে মানব দেহের ওপর রোযার প্রভাব
মৌসুম এবং ভৌগোলিক অবস্থানের পার্থক্যের কারণে রোযার মেয়াদ ১২ হতে ১৯ ঘণ্টা পর্যন্ত হয়ে থাকে। রাত বড় হলে সাধারণত ইফতারের পর সাহারীর আগে দু’একবার খাবার খেতে হয়। শুধু বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ হতে একথা পূর্ণ নিশ্চয়তার সাথে বলা যায় না যে, রোযার দ্বারা দেহের ওপর কেমন প্রভাব পড়ে। কেউ কেউ বলেন, রোযার কারণে দৈহিক দুর্বলতা দেখা দেয়। আবার কেউ বলেন, রোযা রাখার ফলে দেহের কোনো দুর্বলতা সৃষ্টি হয় না। রোযা রাখার ফলে দুই ওয়াক্তের আহারের ব্যবধান কিছু বেশি হয়। ২৪ ঘণ্টায় যে খাদ্য গ্রহণ করা হয় এতে যতোটুকু পুষ্টি অর্জন করে তা দেহের জন্যে যথেষ্ট। রোযায় দেহের পুষ্টি অন্য সময়ের চেয়ে মোটেই কম হয় না। তবে একটা বাস্তব সত্য যে, রমযান মাসে মানুষ প্রোটিন এবং কার্বো হাইড্রেটযুক্ত জিনিস অধিক ব্যবহার করে থাকে। এই দৃষ্টিকোণ হতেও বলা যায়, রমযান মাসে দেহ সাধারণ সময়ের চেয়ে বেশি খাদ্যপ্রাণ লাভ করে।