📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 নার্ভ সিস্টেমের ওপর রোযার প্রভাব

📄 নার্ভ সিস্টেমের ওপর রোযার প্রভাব


একটা কথা মনে রাখতে হবে, রোযা রাখার সময় কিছু লোকের মধ্যে যে রুক্ষ্মতা উগ্রতা লক্ষ্য করা যায়, এর সাথে নার্ভ সিস্টেমের কোনো সম্পর্ক নেই। এ রকম অবস্থার জন্যে মানুষের ব্যক্তিগত রুক্ষ্ম স্বভাব এবং উগ্র মেজাজ দায়ী। রোযা রাখার সময়ে নার্ভ সিস্টেম সম্পূর্ণ শান্ত থাকে। ইবাদতের মাধ্যমে অর্জিত প্রশান্তি আমাদের মনের সকল কলুষ, কালিমা, ক্রোধ দূর করে দেয়। অধিকতর খুশুখুযু বা বিনয় ও নম্রতা প্রকাশের কারণে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়ার আশায় সকল প্রকার উদ্বেগ উৎকণ্ঠা দূর হয়ে যায়। বর্তমান যান্ত্রিক সভ্যতা মানুষের ওপর যে মানসিক চাপ সৃষ্টি করে রোযার কারণে তা প্রায় সম্পূর্ণই লোপ পেয়ে যায়। রোযা রাখার ফলে আমাদের যৌন আকাঙ্ক্ষা সুপ্ত থাকে, তাই আমাদের মনস্তত্ত্বের ওপর বিরূপ কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় না।
রোযা এবং অজুর সম্মিলিত প্রভাবে যে রকম দৃঢ় আত্মপ্রত্যয় জন্ম নেয়, এর ফলে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে ভারসাম্য সৃষ্টি হয়। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যের নার্ভ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। এক অপার্থিব প্রশান্তিতে মন পরিপূর্ণ হয়ে যায়। মানুষের জন্যে রোযা যে আল্লাহর অনুগ্রহ, এটা বোঝার আরেকটি উপায় হলো, রোযার সময় সকল প্রকার উদ্বেগ হতে মুক্ত ও পরিচ্ছন্ন থাকা যায়।

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 রক্ত উৎপাদন এবং রোযার বৈশিষ্ট্য

📄 রক্ত উৎপাদন এবং রোযার বৈশিষ্ট্য


হাড়ের টিস্যুর মধ্যে রক্ত তৈরি হয়। দেহের যখন রক্তের প্রয়োজন দেখা দেয় তখন একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা হাড়ের টিস্যুকে স্টিমুলেট করে, দুর্বল লোকদের মধ্যেও এ ব্যবস্থার কোনো ব্যত্যয় দেখা যায় না।
রোযার সময়ে রক্তে খাদ্যের উপাদান কম থাকে। তবে যে ব্যক্তি রক্তজনিত জটিল রোগে আক্রান্ত হয় তাকে ডাক্তারী পরীক্ষা করতে হবে এবং ডাক্তারের মতামত নিতে হবে। রোযার মাধ্যমে যেহেতু লিভার প্রয়োজনীয় বিশ্রাম লাভ করে, তাই এসময়ে হাড়ের টিস্যু প্রয়োজনীয় উপাদানের সরবরাহ পায়। এর ফলে খুব সহজেই অধিক পরিমাণ রক্ত তৈরি হতে পারে।
রোযার বরকতের কারণে একজন দুর্বল লোকের ওজন বেড়ে যেতে এবং মোটা লোকের ওজন কমে যেতে পারে।
আসুন, কুরআনের সূরা বাকারার ১৮৪ নং আয়াতের শেষাংশ আবার পাঠ করি এবং রোযার বরকত ও বৈশিষ্ট্য উপলব্ধি করি। আল্লাহ তায়ালা যথার্থই বলেছেন- যদি তোমরা বুঝতে পারো যে রোযা তোমাদের জন্যে উত্তম, তবে রোযা রাখাই তোমাদের জন্যে কল্যাণকর।

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 রোযার সামাজিক প্রভাব

📄 রোযার সামাজিক প্রভাব


ইসলাম ন্যায়নীতি, সুবিচার এবং গরীবের প্রতি ভালোবাসার শিক্ষা দেয়। পেট যখন ভরা থাকে তখন অন্যের ক্ষুধার কষ্ট অনুভব করা যায় না। জিহ্বা যখন পানিতে ভেজা থাকে তখন অন্যের পিপাসার কষ্ট অনুভব হয় না। রোযা মুসলমানদের সহমর্মিতা, করুণা এবং গরীবের প্রতি সমবেদনা শিক্ষা দেয়। আর এর প্রত্যেকটি হচ্ছে ইসলামী সমাজের অংশ।
গরীবদের প্রতি সাহায্য সহানুভূতি করার জন্যে ইউরোপে অনেক আইন প্রণয়ন করা হয়েছে কিন্তু ধনী গরীবের ব্যবধান সম্ভবত ইউরোপেই সবচেয়ে বেশি লক্ষ করা যায়।
মাওসেতুং ছিলেন চীনের মহান নেতা। ধনী গরীব সমস্যার সমাধানের জন্যে তিনি তার ভাষণে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, নিজে যখন খাবে তখন যারা দেখবে তাদের এবং পাড়া প্রতিবেশীদেরও সে খাবারে শামিল করবে। নিজে ক্ষুধার্ত হতে ক্ষুধার্তদের কষ্ট অনুভব করবে। উল্লিখিত শিক্ষা মাওসেতুং-এর নয়; বরং এ শিক্ষা হচ্ছে ইসলামের।

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 পাকিস্তানের বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সার্ভে রিপোর্ট

📄 পাকিস্তানের বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সার্ভে রিপোর্ট


রমযান মাসে নাক, কান এবং গলার অসুখ কম হয়। জার্মানি, ইংল্যান্ড এবং আমেরিকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি টীম এ সম্পর্কে গবেষণা করার জন্যে এক রমযান মাসে পাকিস্তানে আসে। গবেষণা কর্মের জন্যে তারা পাকিস্তানের করাচী, লাহোর এবং ফয়সালাবাদ শহরকে মনোনীত করে। সার্ভে করার পর তারা যে রিপোর্ট প্রণয়ন করে তার মূলকথা ছিলো নিম্নরূপ।
মুসলমানরা যেহেতু নামায আদায় করে, বিশেষত রমযান মাসে অধিক পাবন্দীর সাথে নামায আদায় করে থাকে, এ কারণে অজু করে। এ অজু করার কারণে তাদের নাক, কান, গলার অসুখ কম হয়। খাদ্য কম খাওয়ার কারণে পাকস্থলী এবং লিভারের অসুখ কম হয়। রোযার মাধ্যমে এ ডায়েটিং করার কারণে তারা মস্তিষ্ক এবং হৃদরোগে কম আক্রান্ত হয়। (দৈনিক সংবাদ ১৯৮৮)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00