📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 ক্যামব্রিজের ডাক্তার লোখার জিম-এর মন্তব্য

📄 ক্যামব্রিজের ডাক্তার লোখার জিম-এর মন্তব্য


এ ডাক্তার ছিলেন ফার্মাকোলজি বিশেষজ্ঞ। সবকিছু গভীরভাবে দেখা এবং পর্যালোচানা করা ছিলো তার স্বভাব। তিনি রোযাদার ব্যক্তির খালিপেটের খাদ্যনালীর লালা (স্টোমাক সিক্রেশন) সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করেন। এতে তিনি বুঝতে পারেন, রোযার মাধ্যমে ফুড পার্টিকেলস সেপটিক সম্পূর্ণ আরোগ্য হয়ে যায়। পরীক্ষার পর ডাক্তার লোথার মন্তব্য করেছেন, রোযা হচ্ছে দেহের অসুস্থতায় বিশেষত পাকস্থলীর রোগে স্বাস্থ্যের গ্যারান্টি।

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 সিগমন্ড নারয়েড

📄 সিগমন্ড নারয়েড


সিগমন্ড নারায়েড ছিলেন বিশিষ্ট মনস্তত্ত্ববিশারদ। তাঁর আবিষ্কৃত থিওরী মনস্তত্ত্বের ক্ষেত্রে পথনির্দেশকের ভূমিকা পালন করে। তিনিও রোযা এবং উপবাসের একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন। তিনি বলেন, রোযার মাধ্যমে মস্তিষ্কের এবং মনের যাবতীয় রোগ ভালো হয়। মানুষ শরীরিকভাবে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় কিন্তু রোযাদার ব্যক্তির দেহ ক্রমাগত বাইরের চাপ সহ্য করার যোগ্যতা অর্জন করে। সে খিঁচুনি রোগ এবং মানসিক অবসাদ হতে মুক্তি লাভ করে। এমনকি সে এ দু’টি রোগের সম্মুখীন আর কখনো হয়নি।

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 প্যারাসাইক্রোজি গবেষণা

📄 প্যারাসাইক্রোজি গবেষণা


বস্তুবাদী জীবন এবং বস্তুবাদী সম্পর্কের কারণে মানসিক শান্তি হতে বঞ্চিত হয়ে বতমান যুগের মানুষ শান্তির সন্ধানে ছুটছে আর ছুটছে। এ শান্তি অন্বেষার অন্য নাম হচ্ছে প্যারাসাইকোলজি। পাশ্চাত্যের বিজ্ঞান গবেষক, চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও মনস্তত্ত্ববিদরা ইসলামী জীবনব্যবস্থা সম্পর্কে গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। কারণ পাশ্চাত্যের মানুষেরা বর্তমানে বস্তুবাদী জীবনযাপনে ত্যক্ত বিরক্ত। এ বস্তুবাদী সভ্যতার অনিবার্য পরিণতি হচ্ছে আত্মহত্যা, হত্যা প্রচেষ্টা, দুর্ঘটনা, সতীত্বহরণ, সমকামিতা, অপহরণ, হত্যা, প্রতিশোধ পরায়ণতা, বোমা সন্ত্রাস, সম্মিলিত হত্যাকাণ্ড, জারজ সন্তান, বিবাহ বিচ্ছেদ ইত্যাদি। এরকমের ধ্বংসাত্মক ঘটনাবলি গোটা বিশ্বকে ধ্বংসের অতলে তলিয়ে দিচ্ছে। গোটা ইউরোপ এবং পাশ্চাত্য সমাজ এ সকল ধ্বংসাত্মক তৎপরতায় নিয়োজিত।
পাশ্চাত্যের গবেষকরা বর্তমানে প্রাচ্যের ইসলামী জীবনধারা সম্পর্কে গবেষণা করছেন এবং নিজেদের জীবনযাত্রার সংস্কার উন্নতির উপায় অনুসন্ধান করছেন। রোযা সম্পর্কে ইউরোপীয় গবেষকরা নিয়মিত গবেষণা করেছেন। তারা স্বীকার করেছেন, রোযা একদিকে শারীরিক জীবনকে যেমন নতুন প্রাণশক্তিতে সঞ্জীবিত করে, তেমনি এর মাধ্যমে নানারকম অর্থনৈতিক সমস্যাও কমে যাবে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে, বর্তমানে ইউরোপের লোকেরা আস্তে আস্তে ইসলামের দিকে ফিরে আসছে আর আমরা ইউরোপীয়দের আচার-আচরণ অনুকরণ করে চলছি।

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 হজম শক্তির ওপর রোযার প্রভাব

📄 হজম শক্তির ওপর রোযার প্রভাব


আমরা জানি, হজম ব্যবস্থা দেহের অনেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এর প্রতিটি অঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ। যেমন- মুখ, জিহ্বা, মাঢ়ি, মুখের লালা, গলা এলিমেন্টারি ক্যানেল (গলা হতে পাকস্থলী পর্যন্ত খাদ্যবাহী নালী ইত্যাদি)। এ ছাড়া রয়েছে খাদ্য গ্রহণকারী অস্ত্র, লিভার, অস্ত্রের বিভিন্ন অংশ। এ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর ব্যাপারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, একটি অন্যটির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এর একটি চালু হলে অন্যগুলো আপনা আপনি কম্পিউটারী ব্যবস্থার মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে। যখন আমরা খেতে শুরু করি বা খাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করি, তখনই এ সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সক্রিয় হয়ে ওঠে। প্রতিটি অঙ্গ তার নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করতে থাকে। সমগ্র ব্যবস্থা চব্বিশ ঘণ্টা কর্মরত হতে দায়িত্ব পালন করে।
রোযা এক মাসের জন্যে হজম প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত অঙ্গ প্রত্যঙ্গসমূহের আরামের ব্যবস্থা করে। তবে হজমের ক্ষেত্রে লিভারের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রোযায় লিভারের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে। কারণ লিভার খাদ্য হজম করা ছাড়াও আরও পনেরটি অতিরিক্ত কাজ সম্পন্ন করে। ফলে লিভার ক্লান্ত শ্রান্ত হয়ে পড়ে। রোযার মাধ্যমে এ হজম ব্যবস্থা চার হতে ছয় ঘণ্টা বিশ্রাম লাভ করে। এ বিশ্রাম রোযা ব্যতীত সম্পূর্ণ অসম্ভব। খুব সামান্য পরিমাণ খাদ্য এমনকি এক গ্রামের দশ ভাগের এক ভাগ পরিমাণ খাদ্যও যদি পাকস্থলীতে প্রবেশ করে, এতেই সমগ্র হজম ব্যবস্থা নিজের কাজ শুরু করে দেয়। লিভার সাথে সাথে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ হতে দাবী করা যায়, এ বিরতির মেয়াদ বছরে এক মাস হওয়া আবশ্যক।
বর্তমান যুগের মানুষ জীবনের অসাধারণ মূল্য নির্ধারণ করেছে। তারা চিকিৎসার নানা রকমের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিজেদের নিরাপদ ভাবতে শুরু করে, কিন্তু লিভার যদি কথা বলতে সক্ষম হতো তবে সে মানুষকে বলতো, তোমরা একমাত্র রোযার মাধ্যমে আমার ওপর বড়ো রকমের দয়া করতে পারো।
লিভারের ওপর রোযার বরকতসমূহের মধ্যে একটি রক্তের রাসায়নিক কার্যক্রমের প্রভাবের সাথে সংশ্লিষ্ট। লিভারের জটিল ও কঠিন কাজসমূহের মধ্যে একটি কাজ হচ্ছে হজম করা এবং হজম না হওয়া খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা। লিভারকে হয়তো প্রতিটি লোকমা পাকস্থলীর স্টোরে পৌঁছে দিতে হয় অথবা খাদ্য হজম হয়ে রক্তের সাথে মিশে যাওয়ার কার্যক্রম তদারক করতে হয়। রোযা রাখার সময়ে লিভার শক্তি সঞ্চারক খাদ্যদ্রব্য পাকস্থলীতে পৌছে দেয়ার কাজ হতে বিরত থাকতে পারে। এ সময়ে লিভার রক্তে গ্লোবুলিন সৃষ্টির কাজে মনোযোগী হতে পারে। রোযার মাধ্যমে গলা এবং অত্যন্ত স্পর্শকাতর খাদ্যনালী বিশ্রাম পায়। আল্লাহর পক্ষ হতে বান্দাকে দেয়া এ তোহফার কোনো মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
রোযার মাধ্যমে মানুষের পাকস্থলী অত্যন্ত কল্যাণকর প্রভাব অর্জন করে। এ সময়ে পাকস্থলী হতে বের হওয়া লালা চমৎকারভাবে ভারসাম্য খুঁজে পায়। এ কারণে রোযার সময়ে এসিডিটি সঞ্চিত হয় না। অথচ রোযার সময় ব্যতীত অন্য সময়ের ক্ষুধায় এসিডিটি বেড়ে যায়। কিন্তু রোযার নিয়ত করার পর এসিডিটি তৈরি হওয়া বন্ধ থাকে। এ নিয়মে খাদ্যনালীতে লালা সৃষ্টিকারী কোষ রমযান মাসে বিশ্রামে চলে যায়। যারা সারাজীবনে কখনো রোযা রাখে না তাদের দাবীর বিপরীতে এটা প্রমাণিত হয়েছে, একটি স্বাস্থ্যবান পাকস্থলী সন্ধ্যায় ইফতার করার পর সফলতার সাথে হজমের কাজ সম্পন্ন করে।
রোযা পাকস্থলীর অস্ত্রসমূহকেও বিশ্রাম দেয় এবং এতে সেগুলো সজীবতা লাভ করে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর লালা এবং পাকস্থলীর কার্যক্রম জোরদার হয়। রোযার মাধ্যমে অস্ত্রের জাল যেমন নতুন সজীবতা লাভ করে, ঠিক তেমনি হজম নালীর ওপর হওয়া সকল রোগের আক্রমণ হতেও নিরাপদ থাকে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00