📄 অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিস্ময়
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র প্রফেসর মোরপান্ড বলেছেন, আমি ইসলাম সম্পর্কে মোটামুটি লেখাপড়া করার চেষ্টা করেছি। রোযা অধ্যায়ে লেখাপড়া করার সময়ে আমি খুবই মুগ্ধ ও অভিভূত হয়েছি। চিন্তা করেছি, ইসলাম তার অনুসারীদের জন্যে এক মহান ফর্মুলা দিয়েছে। ইসলাম যদি তার অনুসারীদের জন্য কোনো বিধান না দিয়ে শুধু এ রোযাই দিতো, তবু এর চেয়ে বড় নিয়ামত আর কিছু হতে পারতো না।
বিষয়টি নিয়ে আমি একটু গভীরভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য চিন্তা করলাম। তাই বাস্তব অভিজ্ঞতার জন্যে আমি মুসলমানদের নিয়মে রোযা পালন করতে শুরু করি। দীর্ঘদিন যাবৎ আমি পাকস্থলীর গোলমালে ভুগছিলাম। রোযা রাখার কয়েকদিনের মধ্যেই আমি বেশ সুস্থবোধ করতে শুরু করলাম। দেখলাম, রোগ অনেকটাই কমে গেছে। আমি রোযা চালিয়ে যেতে লাগলাম। এতে দেহে আরও কিছু পরিবর্তন অনুভব করলাম। কিছুদিন পর লক্ষ্য করলাম আমি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেছি।
📄 পোপ ঈলপ গল-এর অভিজ্ঞতা
পোপ ঈলপ গল ছিলেন পোল্যান্ডের বিশিষ্ট পাদ্রী। রোযা সম্পর্কে তিনি নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনায় বলেন, যারা আমার আধ্যাত্মিক অনুসারী তাদের আমি প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখার আদেশ দিচ্ছি। এ পদ্ধতির মাধ্যমে আমি যে শারীরিক সুস্থতা অনুভব করেছি তা ভাষায় অবর্ণনীয়। আমার দেহ অভাবনীয়ভাবে সতেজ হয়ে উঠেছে। আমার অনুসারীরা আরও কিছু দিক নির্দেশনার জন্যে আমায় পীড়াপীড়ি করে। যেসব রোগের কোনো ওষুধ নেই সেসব হতে আরোগ্য লাভের জন্যে আমি তাদের তিন দিন নয়, বরং একমাস রোযা রাখার পরামর্শ দিয়েছি।
যেসব রোগীর ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং পাকস্থলীর অসুখ রয়েছে, তাদের জন্যে আমি একমাস রোযা পালনের ব্যবস্থা দিয়েছি। এক মাস রোযা রাখার ফলে অনেকের বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস রোগ নিরাময় হয়েছে। হৃদরোগীদের অস্থিরতা এবং নিঃশ্বাস ফুলে যাওয়া কমে গেছে। পাকস্থলীর রোগীদের উপকার হয়েছে সবচেয়ে বেশি।
📄 ক্যামব্রিজের ডাক্তার লোখার জিম-এর মন্তব্য
এ ডাক্তার ছিলেন ফার্মাকোলজি বিশেষজ্ঞ। সবকিছু গভীরভাবে দেখা এবং পর্যালোচানা করা ছিলো তার স্বভাব। তিনি রোযাদার ব্যক্তির খালিপেটের খাদ্যনালীর লালা (স্টোমাক সিক্রেশন) সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করেন। এতে তিনি বুঝতে পারেন, রোযার মাধ্যমে ফুড পার্টিকেলস সেপটিক সম্পূর্ণ আরোগ্য হয়ে যায়। পরীক্ষার পর ডাক্তার লোথার মন্তব্য করেছেন, রোযা হচ্ছে দেহের অসুস্থতায় বিশেষত পাকস্থলীর রোগে স্বাস্থ্যের গ্যারান্টি।
📄 সিগমন্ড নারয়েড
সিগমন্ড নারায়েড ছিলেন বিশিষ্ট মনস্তত্ত্ববিশারদ। তাঁর আবিষ্কৃত থিওরী মনস্তত্ত্বের ক্ষেত্রে পথনির্দেশকের ভূমিকা পালন করে। তিনিও রোযা এবং উপবাসের একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন। তিনি বলেন, রোযার মাধ্যমে মস্তিষ্কের এবং মনের যাবতীয় রোগ ভালো হয়। মানুষ শরীরিকভাবে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় কিন্তু রোযাদার ব্যক্তির দেহ ক্রমাগত বাইরের চাপ সহ্য করার যোগ্যতা অর্জন করে। সে খিঁচুনি রোগ এবং মানসিক অবসাদ হতে মুক্তি লাভ করে। এমনকি সে এ দু’টি রোগের সম্মুখীন আর কখনো হয়নি।