📄 কানীর
কানীর দুপ্রকারের হয়ে থাকে। সাদা ফুল বিশিষ্ট এবং লাল ফুলবিশিষ্ট। এ জাতের গাছ বেশির ভাগ পার্ক, উদ্যান ইত্যাদিতে হয়ে থাকে। এর..মেসওয়াক ব্যবহারের দ্বারা দাঁতের সব কষ্ট, পাইরিয়া ইত্যাদি শেষ হয়ে যায় এবং দুরারোগ্য রোগীও সুস্থ হয়ে যায়। এ মেসওয়াক ঝাঁঝালো হয়ে থাকে কিন্তু এর এই ঝাঁঝ দাঁতের জন্য সীমাহীন উপকারী। ডাক্তারগণ এর চাপের মধ্যে মওজুদ অণুগুলোকে দাঁতের ঔজ্জ্বল্য, মজবুতী এবং পাইরিয়ার মতো রোগের জন্য খুবই উপকারী হিসেবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
সৃষ্টিকুলের স্রষ্টা মানুষ সৃষ্টি করে এর সাথে তার ব্যবহারের জন্য ঐ জিনিসগুলো সৃষ্টি করেছেন যা এর (মানুষের) স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং তাঁর বিশেষ বান্দাগণ অর্থাৎ নবী-রাসূলগণকে পাঠিয়ে মানবজাতিকে এ সকল জিনিসের ব্যবহার শিক্ষা দিয়েছেন। এ সকল জিনিসের মধ্যে মেসওয়াক এমন যা সকল নবীর সুন্নাত এবং অধিকাংশ রোগের নিরাময়।
ইঞ্জিনিয়ার নক্শবন্দী তাঁর ওয়াজে বলেছেন, 'আমেরিকার ওয়াশিংটনে একজন ডাক্তার আমাকে বলেছেন, রাতে ঘুমাবার সময় মেসওয়াক করে ঘুমাবেন। আমি জানতে চাইলাম কেন? ডাক্তার বললেন, আধুনিক চিকিৎসায় বলা হয়েছে, মানুষ যা কিছু খায় সেসব মুখের ভেতর প্লাজমা হয়ে থাকে। সেই প্লাজমা শুধু কুলি করলে পরিষ্কার হয় না। সাধারণত রাতে ঘুমের মধ্যেই দাঁত খারাপের সকল অসুখ দেখা দেয়। কারণ মানুষ যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন মুখ বন্ধ থাকে। মুখের নড়াচড়া বন্ধ থাকে। দিনের বেলায় মানুষ কথা বলে, খাবার খায়, পানীয় পান করে কিন্তু রাতে মুখ বন্ধ থাকে। এ কারণে এ সময় প্লাজমা মুখের ভেতর কাজ করার সুযোগ পায়। তাই দাঁতের অসুখ অধিকাংশই রাতে দেখা দেয়। সকালে দাঁত সাফ করতেও পারেন, নাও করতে পারেন, কিন্তু রাতে ঘুমুতে যাওয়ার সময় অবশ্যই মেসওয়াক করবেন।
ডাক্তারের কথা শুনে আমি বললাম, সকল প্রশংসা আল্লাহর। রাতে ঘুমুতে যাওয়ার সময় মেসওয়াক করা আমাদের নবীর সুন্নাত। তিনি এশার নামাযের পূর্বে মেসওয়াক করতেন, তারপর অজু করতেন, তারপর এশার নামায পড়তেন, তারপর বেশি কথা বলতেন না, তারপর ঘুমের জন্য বিছানায় চলে যেতেন।
📄 মুখে স্বাদ এবং মেসওয়াক
এক লোক কিছু খেয়ে কোনো স্বাদ পেতো না। তার জিহ্বার স্বাদ অনুভব শক্তি নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। অনেক চিকিৎসা করেও কোনো ফল পায়নি। এক ব্যক্তি তাকে পরামর্শ দেয়, জিহ্বায় জোঁক রাখুন, তাহলে স্বাদ ফিরে আসবে। তিনি এ ব্যবস্থাও নিলেন কিন্তুকোনো ফল হলো না। আমি তাকে একমাস যাবৎ পিলুর তাজা মেসওয়াক ব্যবহার করার পরামর্শ দিলাম। এক মাস পর তিনি সুস্থ হয়ে আমাকে জানালেন, এতো রকম ওষুধ ব্যবহারেও বিন্দুমাত্র উপকার পাইনি, অথচ এক টাকার পিলুর মেসওয়াকে এ রোগ হতে মুক্ত হয়েছি। আমার জিহ্বার স্বাদ ফিরে পেয়েছি।
এমন প্রত্যেক গাছের মেসওয়াক দাঁতের জন্যে উপযোগী, যে গাছের আঁশ নরম এবং দাঁতের মাঝের ফাঁক বাড়ায় না এবং মাড়ি জখম করে না। তবে এর মধ্যে পিলু, নিম অথবা বাবলা গাছ এবং কানির গাছের মেসওয়াক দাঁতের জন্য খুবই উপকারী।