📄 মেসওয়াকের প্রকারভেদ
মেসওয়াকের জন্য ঐ সকল গাছের ডাল উপযুক্ত যার আঁশ নরম হয়ে দাঁতের মধ্যে প্রবেশ করে এবং মাড়ির ক্ষতি না হয়। সর্বোত্তম এবং উন্নতমানের মেসওয়াক নিম্নলিখিত জাতের হয়ে থাকে।
১. পিলু ২. নিম ৩. বাবলা ৪. কানীর।
📄 পিলু
পিলু মেসওয়াক উপহারের সমতুল্য, যা রাসূল (সা)-এর সুন্নাত। সাহাবী আবু খাইরা (রা) বর্ণনা করেন যে, আমি ঐ দলের মধ্যে ছিলাম যারা রাসূল (সা)-এর খিদমতে হাজির ছিল। রাসূল (সা) আমাদের পিলু গাছের লাকড়ির মেসওয়াক করার জন্য আমাদেরকে হুকুম দিলেন। (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ খ-২, পৃ. ২৬৬)
পিলুর মেসওয়াক নরম আঁশযুক্ত হয়, এর মধ্যে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস থাকে। বেশির ভাগ অনুর্বর, উষর, বিরান ও জঙ্গলে এটি হয়ে থাকে। আধুনিক বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসাগত বিশ্লেষণ হতে এ কথা প্রমাণিত যে, বিভিন্ন জিনিস যা মস্তিস্কের খোরাক ও সহযোগী এবং এর মধ্যে একটা ফসফরাসও বটে। পিলুর মেসওয়াকে বিদ্যমান ফসফরাস লালা এবং লোমকূপের মাধ্যমে মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌছায় যার দ্বারা মস্তিষ্কের শক্তি অর্জিত হয়।
📄 নিম এবং বাবলা
নিম গাছের মেসওয়াকও অনেক উপকারী। এতে দাঁতের সামগ্রিক রোগসমূহের প্রতিরোধকারী চিকিৎসা রয়েছে। এ গাছ সাধারণভাবে পাঞ্জাবে পাওয়া যায়, এরপর হলো বাবলার মেসওয়াকের মর্যাদা। এর দ্বারা দাঁত অত্যন্ত সুন্দরভাবে পরিষ্কার হয়ে থাকে এবং এটা দাঁতকে দুর্গন্ধ এবং পুঁজ হতে রক্ষা করে।
মনে রাখতে হবে সম্ভাব্য সীমা পর্যন্ত মেসওয়াক তাজা হওয়া দরকার। যদি প্রথমে শক্ত জাতীয় মেসওয়াক ব্যবহার করতে হয় তা হলে কঠিন আঁশগুলো কেটে দিন এবং দাঁতের দ্বারা নতুন মাথা চিবিয়ে আঁশ বানিয়ে নিন।
📄 কানীর
কানীর দুপ্রকারের হয়ে থাকে। সাদা ফুল বিশিষ্ট এবং লাল ফুলবিশিষ্ট। এ জাতের গাছ বেশির ভাগ পার্ক, উদ্যান ইত্যাদিতে হয়ে থাকে। এর..মেসওয়াক ব্যবহারের দ্বারা দাঁতের সব কষ্ট, পাইরিয়া ইত্যাদি শেষ হয়ে যায় এবং দুরারোগ্য রোগীও সুস্থ হয়ে যায়। এ মেসওয়াক ঝাঁঝালো হয়ে থাকে কিন্তু এর এই ঝাঁঝ দাঁতের জন্য সীমাহীন উপকারী। ডাক্তারগণ এর চাপের মধ্যে মওজুদ অণুগুলোকে দাঁতের ঔজ্জ্বল্য, মজবুতী এবং পাইরিয়ার মতো রোগের জন্য খুবই উপকারী হিসেবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
সৃষ্টিকুলের স্রষ্টা মানুষ সৃষ্টি করে এর সাথে তার ব্যবহারের জন্য ঐ জিনিসগুলো সৃষ্টি করেছেন যা এর (মানুষের) স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং তাঁর বিশেষ বান্দাগণ অর্থাৎ নবী-রাসূলগণকে পাঠিয়ে মানবজাতিকে এ সকল জিনিসের ব্যবহার শিক্ষা দিয়েছেন। এ সকল জিনিসের মধ্যে মেসওয়াক এমন যা সকল নবীর সুন্নাত এবং অধিকাংশ রোগের নিরাময়।
ইঞ্জিনিয়ার নক্শবন্দী তাঁর ওয়াজে বলেছেন, 'আমেরিকার ওয়াশিংটনে একজন ডাক্তার আমাকে বলেছেন, রাতে ঘুমাবার সময় মেসওয়াক করে ঘুমাবেন। আমি জানতে চাইলাম কেন? ডাক্তার বললেন, আধুনিক চিকিৎসায় বলা হয়েছে, মানুষ যা কিছু খায় সেসব মুখের ভেতর প্লাজমা হয়ে থাকে। সেই প্লাজমা শুধু কুলি করলে পরিষ্কার হয় না। সাধারণত রাতে ঘুমের মধ্যেই দাঁত খারাপের সকল অসুখ দেখা দেয়। কারণ মানুষ যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন মুখ বন্ধ থাকে। মুখের নড়াচড়া বন্ধ থাকে। দিনের বেলায় মানুষ কথা বলে, খাবার খায়, পানীয় পান করে কিন্তু রাতে মুখ বন্ধ থাকে। এ কারণে এ সময় প্লাজমা মুখের ভেতর কাজ করার সুযোগ পায়। তাই দাঁতের অসুখ অধিকাংশই রাতে দেখা দেয়। সকালে দাঁত সাফ করতেও পারেন, নাও করতে পারেন, কিন্তু রাতে ঘুমুতে যাওয়ার সময় অবশ্যই মেসওয়াক করবেন।
ডাক্তারের কথা শুনে আমি বললাম, সকল প্রশংসা আল্লাহর। রাতে ঘুমুতে যাওয়ার সময় মেসওয়াক করা আমাদের নবীর সুন্নাত। তিনি এশার নামাযের পূর্বে মেসওয়াক করতেন, তারপর অজু করতেন, তারপর এশার নামায পড়তেন, তারপর বেশি কথা বলতেন না, তারপর ঘুমের জন্য বিছানায় চলে যেতেন।