📄 মেসওয়াক ও গুরু নানক
গুরু নানক-এর ব্যাপারে একথা প্রসিদ্ধি লাভ করেছে যে, তিনি নিজ হাতে মেসওয়াক রেখে দিতেন। তিনি এর দ্বারা দাঁত পরিষ্কার করতেন এবং বলতেন ওহে এই লাকড়ী নাও, এটা সকল রোগ নিয়ে নিবে। বড়ই গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য কথা এই যে, যদি মেসওয়াক নিয়ে ব্যবহার করো, তাহলে রোগ যেতে থাকবে এবং যদি এ ব্যাপারে অলসতা কর তাহলে অসুস্থ হয়ে যাবে।
📄 মেসওয়াক এবং শরীরের বিভিন্ন প্রকারের রোগ
এক লোকের গলা ও ঘাড়ে ব্যথা হচ্ছিল এবং এর সাথে ঘাড় ফুলা ছিল। গলার আওয়াজও ছোট হয়ে আসছিল, মেধাশক্তিও কমতেছিল, এর সাথে মাথাও ঘুরছিল। এ ব্যক্তি মেধাবিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ইত্যাদির দ্বারা চিকিৎসা করাতে থাকেন। কিন্তু সবই ফলহীন প্রমাণিত হলো। কারো পরামর্শে তিনি নিয়মমাফিক মেসওয়াক করতে থাকলেন। এভাবে যে, মেসওয়াক দু টুকরা করে পানিতে সিদ্ধ করেন এবং এ পানি দ্বারা গড়গড়া করতেন। এছাড়াও যেখানে ফুলা ছিল সেখানে কিছু ওষুধের প্রলেপও দিয়েছেন। এ চিকিৎসা বড়ই উপকারী প্রমাণিত হয়। একে বিশ্লেষণ করা হলে জানা যায়, তার থাইরয়েড গ্লান্ড ইনফেক্টেণ্ড ছিল। যার প্রভাব সারা দেহের উপর পড়েছিল। এই মেসওয়াকের চিকিৎসা দ্বারা তার এ রোগ দূর হয়ে যায় এবং তিনি পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন।
📄 মেসওয়াক ও হার্টের পুঁজযুক্ত ঝিল্লি
হাকীম "এস এম ইকবাল" আখবারে জাহান পত্রিকায় লিখেন: এক রোগীর হার্টের ঝিল্লিতে পুঁজ ছিল। সে চিকিৎসা করাচ্ছিল; কিন্তু কোনো উপকার হচ্ছিল না। সর্বশেষে হার্টের অপারেশন করে পুঁজ বের করা হয়। দুর্ভাগ্যবশত পুঁজ আবার ভরে গেল। সকল দিক হতে হতাশ হয়ে ঐ রোগী আমার নিকট আসলো। আমি তাকে পরীক্ষা করতে গিয়ে বুঝতে পারলাম যে, তার মাড়ি খারাপ এবং তার মধ্যেও পুঁজ আছে এবং এই পুঁজ হার্টের ওপরও প্রভাব ফেলছে। এ পরীক্ষা ডাক্তারগণ গ্রহণ করে নিলেন। হার্টের অপারেশনের পরিবর্তে এর দাঁত ও মাড়ির চিকিৎসা করা হলো এবং তাকে পিলুর মেসওয়াক করতে বলা হলো- যার দ্বারা আল্লাহ পাক তাকে আরোগ্য দান করেন।
📄 টুথ ব্রাশ
পরীক্ষা ও অভিজ্ঞতা হতে একথা প্রমাণিত যে, যে টুথ ব্রাশ একবার ব্যবহার করা হয় এর মধ্যে জীবাণুর স্তুপ জমা হওয়ার আশংকা রয়েছে এবং দুবার ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাস্থ্যগত ক্ষতি হওয়ার আশু আশংকা রয়েছে। পানি দ্বারা পরিষ্কার করার ফলে ঐ জীবাণু পরিষ্কার হয় না এবং তার বৃদ্ধি চলতে থাকে। এছাড়াও ব্রাশের ব্যবহারে দাঁতের ওপরের উজ্জ্বল্য এবং সাদা আবরণ উঠে যায়। এর কারণে দাঁতের মাঝের ফাঁকাও বেড়ে যায় এবং দাঁতের মাড়ির স্থান ছুটে যেতে থাকে। এ কারণে খাদ্যের যে অংশগুলো দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকে তা দাঁতের জন্য খুবই ক্ষতিকর হয় এবং অবশেষে সারা দেহে রোগের কারণ হয়ে যায়। এ কারণে এসকল বিপদ হতে আত্মরক্ষার জন্য নবী মুস্তফা (সা)-এর সুন্নতের ওপর আমল করা দরকার। অর্থাৎ সকাল সন্ধ্যা সর্বদা মেসওয়াক করলে সুস্বাস্থ্য বজায় থাকবে।