📄 মেসওয়াক এবং দাঁতের স্বাস্থ্য
মানুষ খাদ্য খায়, পানি পান করে এবং বহু রকমের খাদ্য খেয়ে থাকে। আর খানার ছোট কণা দাঁতের মাঝে জমতে থাকে, যা সাধারণভাবে শুধু কুলি করার দ্বারা বের হয় না। এর দ্বারা দাঁতের মধ্যে দুর্গন্ধ জমা হয়ে থাকে, যা বহু রোগের পথ তৈরি হয়। উল্লেখ্য যে, এভাবে লোকের দাঁত ময়লাযুক্ত হলে খারাপ গন্ধ আসতে থাকে। নিকটে উপবেশনকারী ব্যক্তি খারাপ দৃষ্টিতে দেখে। এর সঙ্গে সঙ্গে তার দাঁতের সাথে মাড়িও রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে। মাড়িতে পুঁজ জমা হয়, যার দ্বারা অসহ্য রকমের ব্যথা শুরু হয়। এর প্রভাব শুধু দাঁতের উপরই পড়ে না বরং এই সমস্যা এবং পুঁজ আরও বড় হয়ে মাড়িও আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এ সমস্যা আরও বড় হয়ে গলায়ও প্রভাব ফেলে থাকে। এর প্রভাবে গলা খারাপ হতে থাকে এবং সাথে সাথে সর্দি, কাশি, সর্দি-জ্বর ইত্যাদির প্রকোপ বেড়ে যায়। বুকের ছাতির উপর কফ তৈরি হওয়া শুরু হয়ে যায়। যার দ্বারা মস্তিষ্কও প্রভাবিত হয়। এর প্রভাবে দৃষ্টিশক্তি কমজোর হয়ে যায়। যখন চোখ খারাপ হয়ে যায় তখন এই পুঁজ এবং সমস্যার কারণে কান ও পাকস্থলীও প্রভাবিত হয়। এমনকি এসব জীবাণু দেহের উপরও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
ঐ দাঁতগুলো মেসওয়াক দ্বারা পরিষ্কার না করাতে মানব জীবনকে ধ্বংসের দিকেই নিয়ে যায়। জীবন তো স্বাস্থ্য ও সুস্থতার নাম। জীবনে যদি সুস্থতাই না থাকে তা হলে জিন্দেগীর মূল্য কোথায়? বৎস! মেসওয়াক ছাড়া উপায় নেই এবং মেসওয়াক ব্যতীত কখনোই পুঁজ, দূষণ ও কঠিন জীবাণু কখনো দূর হতে পারে না।
📄 মেসওয়াক ও গলা
যে সব রোগীর গলা খারাপ হয়, তারা টনসিলের রোগী। এসব রোগী নিয়ম মাফিক মেসওয়াক ব্যবহার করলে সুস্থ হয়ে যায়, এরূপভাবে যদি কোনো রোগীর গলার নালী বড় হয়ে যায় তাহলে তিনি শাহতুত এর শরবত এবং নিয়মানুযায়ী মেসওয়াক করলে আরাম পেয়ে থাকেন।
📄 মেসওয়াক ও মুখের ফোঁড়া
অনেক সময় মুখের মধ্যে গর্মি, দুর্গন্ধ এবং অদৃশ্য জীবাণুর কারণে ফোঁড়া হয়ে যায়। এসব ফোঁড়ার মধ্যে এমন কিছু ফোঁড়াও আছে যেগুলো বের হয়ে আসে আবার কখনো গোপন হয়ে থাকে। এটা খুবই কষ্ট ও ক্ষতিকর হয়। এ জীবাণুগুলো পুরো মুখে ছড়িয়ে পড়ে, পুরো মুখকে নিজের আক্রান্ত স্থলে পরিণত করে। যার কারণে খাবার গ্রহণ করা মুশকিল ও অসম্ভব হয়ে পড়ে এবং রোগী ক্ষুধার কারণে শক্তিহীন হয়ে পড়ে। যদি মুখে প্রতিদিন নিয়মিত তাজা মেসওয়াক করা হয়, এর লালা উত্তমরূপে মুখে মিলে যায় ফলে এ রোগ হয় না, আর যদি হয়ও তাহলে নিয়ম মাফিক মেসওয়াক করার দ্বারা রোগী সুস্থ হয়ে যায়।
📄 মেসওয়াক ও দৃষ্টিশক্তি
চোখের রোগ ও দৃষ্টির রোগের মধ্যে দাঁতের অপরিচ্ছন্নতা বড় ধরনের স্থান দখল করে আছে। দাঁতের ফাঁকে ঢুকে থাকা খাবারের কণার কারণে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়ে যায়, যার ফলে চোখের রোগ সৃষ্টি হয়ে যায়। দৃষ্টিশক্তি কমতে থাকে এবং এভাবে এতে যদি দাঁতের দুর্গন্ধ অবশিষ্ট থাকে তাহলে ব্যক্তি চোখের জ্যোতি হতে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হয়ে যায়। কম দৃষ্টি শক্তির রোগীদের অনেকে এমন রোগী হয়ে থাকে যার রোগ অন্যান্য অনেক কারণের মধ্যে দাঁতের ব্যাপারে তাদের গাফলতি সবচেয়ে বড় কারণ হয়।