📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 ব্যাঙের ছাতা

📄 ব্যাঙের ছাতা


বিখ্যাত বিজ্ঞানী আলেকজাণ্ডার ফ্লেমিং কোনো এক সময় কিছু ব্যাঙের ছাতা নামক জীবাণু নিয়ে গবেষণা করতেছিলেন, তখন হঠাৎ তার নজরে এলো যে, এক ধরনের ব্যাঙের ছাতা জীবাণুদের বাড়তে দিচ্ছে না। তিনি পরীক্ষা করে দেখলেন যে, সে ধরনের ব্যাঙের ছাতা লেবু জাতীয় ফলের গাছে জন্মায় এবং তখনকার লোকের নিকট এই জাতীয় ব্যাঙের ছাতা নোটেটাম ব্যাঙের ছাতা নামে পরিচিত ছিল। অবশেষে তিনি এই ব্যাঙের ছাতা হতেই ১৯২৮ইং সালে পেনিসিলিন নামে এক প্রকার অ্যান্টিবাইওটিক ঔষধ আবিষ্কার করেন। এবং তিনি এর উপর ১৯৪৫ইং সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
এরপর বিপুল উদ্দীপনা ও উৎসাহে আরও নানা প্রজাতির ব্যাঙের ছাতা নিয়ে গবেষণা করেন, বিখ্যাত বিজ্ঞানী ওয়াক্সম্যান আবিষ্কার করেন স্ট্রেপটোমাইসিন, বা প্রধানত যক্ষ্মার ঔষধ নামে পরিচিত। এরপর আরও বিভিন্ন প্রজাতির ব্যাঙের ছাতা নিয়ে পরীক্ষা করে বিখ্যাত বিজ্ঞানী সিম্পসন ও হারিসনদ্বয় ক্লোরোফরম আবিষ্কার করেন। তারপর আরও নানা প্রজাতির জীবাণুমূলক ব্যাঙের ছাতা খুঁজে বের করে তৈরি হল আরও নানা ঔষধ যেমন অরিওমাইসিন, ক্লোরোমাইসিন, টেরামাইসিন ইত্যাদি এবং এই ব্যাঙের ছাতা দ্বারা বর্তমানে আরও নতুন ঔষধ বের হয়েছে। যেমন- এফিড্রিন, এরিথ্রোমাইসিন ও টেট্রাসাইক্লিন, এছাড়া আরও নানা ঔষধ।
এ্যালকোহল, পাউরুটি, কেক, জৈব এ্যাসিড ও ভিটামিন "ডি” উৎপাদনে ব্যাঙের ছাতার ব্যবহার হয়ে থাকে। শস্য নষ্টকারী কীট পতঙ্গ দমনে আইজেরিয়া নামে এক প্রকার ব্যাঙের ছাতা কাজে লাগে। প্লাস্টিক ও বন্ধক কণিকার উৎপাদনে বিভিন্ন প্রজাতির ব্যাঙের ছাতার ব্যবহার হয়ে থাকে।
বর্তমানে এক জাতীয় ব্যাঙের ছাতা সবজি হিসেবে আবিষ্কৃত হয়েছে ঐগুলো সম্পর্কে খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞানীরা বলেন যে, সবজি জাতীয় ব্যাঙের ছাতা এক ধরনের সুস্বাদু সবজি যাতে মাছ গোשতের চেয়ে দ্বিগুণ প্রোটিন রয়েছে। এতে স্নেহ ও শর্করা জাতীয় উপাদান নেই বলে ব্যাঙের ছাতা ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ জনিত রোগীদের জন্য খুবই উপকারী। স্যুপ, গোশত সালাদ কিম্বা যে কোনো তরকারীতে ব্যাঙের ছাতা ব্যবহার করা যায়। প্রকাশ থাকে যে, কচুর মধ্যে যেমন জাতি কচু ও অজাতি কচু আছে ঠিক তেমনি সবজি জাতীয় ব্যাঙের ছাতার মধ্যেও একটি মিঠা জাতীয় ব্যাঙের ছাতা অপরটি বিষাক্ত জাতীয় ব্যাঙের ছাতা। যেটি মিঠা জাতীয় ব্যাঙের ছাতা সেইটি আমরা সুস্বাদু সবজি জাতীয় খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করতে পারি কিন্তু যেটি বিষাক্ত জাতীয় ব্যাঙের ছাতা সেটি অবশ্যই আমাদের বর্জন করতে হবে, কারণ ইহা খেলে মৃত্যুও ঘটে যেতে পারে। তাই ইহা গ্রহণ করার সময় জেনে শুনে অথবা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে গ্রহণ করতে হবে।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত চিকিৎসা ও খাদ্য পুষ্টি বিজ্ঞানীদের বহুপূর্বেই চিকিৎসার ক্ষেত্রে ইহার ব্যবহার ও খাদ্য হিসাবে ইহার গ্রহণ সম্পর্কে ইঙ্গিত প্রদান করে হাদীস বলে গেছেন। যেমন:
حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ قَالَ سَمِعْتُ عُمَرِو بْنِ حَرِيثٍ قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ زَيْدٍ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ ﷺ يَقُوْلُ الْكَمَأَةُ مِنَ الْمَنِ وَمَاؤُهَا شِفَاءُ لِلْعَيْنِ.
অর্থ: সাঈদ বিন জায়েদ (রা) বলেন যে, আমি মহানবী (সা) কে বলতে শুনেছি- তিনি বলেছেন, ব্যাঙের ছাতা এসেছে "মান্না" হতে এবং ইহার পানি বা ড্রপ চোখের চিকিৎসার জন্য ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। (বুখারী হা/৫৭০৮, ২য় খণ্ড-৮৫ পৃষ্ঠা কিতাবুত তিব্ব)
এই হাদীসে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, মহানবী (সা) বলেছেন, ব্যাঙের ছাতা এসেছে মান্না হতে, মান্না ছিল মূসা (আ.)-এর আমলে আল্লাহপাকের রহমতস্বরূপ এক প্রকার সুস্বাদু খাদ্য যা মূসা (আ.) আল্লাহপাকের নিকট প্রার্থনা করে পেয়েছিলেন। তা দেখতে প্রায় ব্যাঙের ছাতার মতোই ছিল, এবং তা ব্যাঙের ছাতার মতোই মাটিতে বা গাছের গোড়ায় বা ডালে উৎপাদিত হত। তাই মহানবী (সা) বলেছেন যে, ব্যাঙের ছাতা এসেছে মান্না হতে। সুতরাং মান্না যেহেতু সুস্বাদু খাদ্য ছিল, তাই তার উত্তরসূরী হিসেবে ব্যাঙের ছাতাও সুস্বাদু খাদ্য হিসেবে গণ্য হবে।
অতএব, প্রতীয়মান হয় যে, বর্তমান যুগের বিজ্ঞানীরা ব্যাঙের ছাতা দিয়ে নানা ঔষধ তৈরি করেছেন এবং সবজি জাতীয় খাদ্য হিসেবে খাচ্ছেন, অথচ মহানবী (সা) তাদের বহুপূর্বেই তা পৃথিবীর মানুষদেরকে বলে গেছেন ব্যাঙের ছাতার পানি চোখের ঔষধ এবং ইহা এসেছে "মান্না" জাতীয় খাদ্যের বিকল্প হিসাবে তাই ইহা দেখে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে খাদ্য হিসেবে খাওয়া যাবে।

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 বর্ষা ও বরফ

📄 বর্ষা ও বরফ


বিজ্ঞানীরা বলেন যে, বছরের যে সময়গুলিতে পৃথিবী সূর্যের দিকে সামান্য হেলে থাকে, সেই সময়গুলিতে, পৃথিবীতে গরমকাল বিরাজ করে। এবং বছরের যে সময়গুলিতে পৃথিবী সূর্য হতে সামান্য দূরে হেলে থাকে, সেই সময়গুলিতে পৃথিবীতে শীতকাল বিরাজ করে।
তাই বিজ্ঞানীরা বলেন যে, যখন পৃথিবীতে গরমকাল আসতে থাকে ঠিক তখন হতেই পৃথিবীর বরফ গলতে থাকে এবং সেই বরফ গলার পানি নদীতে পড়তে থাকে, এতে নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়, যাকে বলা হয় যে, নদীতে জোয়ার এসেছে। এইভাবে যখন গরমের আধিক্য তীব্রতর হয় তখন বরফ গলার হারও তীব্রতর হয়। যার ফলে বরফ গলার পানির হার পর্যাপ্ত পরিমাণে বেড়ে গিয়ে পৃথিবীতে বর্ষা বা বন্যার সৃষ্টি করে।
আবার যখন পৃথিবীতে শীতকাল আসতে থাকে, ঠিক তখন হতেই পৃথিবীতে পুনরায় আবার বরফ পড়তে থাকে এবং বর্ষা ও বন্যার পানি কমতে থাকে। যাকে বলা হয় যে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল শুষ্ক হয়ে গেছে, তাই নদীর পানি উক্ত শুষ্ক বাতাসে বাষ্প হয়ে উড়ে যাচ্ছে তাই নদীর পানি শুকিয়ে যচ্ছে এবং উক্ত শুষ্ক বাতাসের জলীয় বাষ্প আসন্ন তীব্র শীতের সাথে একত্র হয়ে বরফে পরিণত হয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে পতিত হচ্ছে। এবং পৃথিবীতে বরফের পাহাড় ও পর্বত সৃষ্টি করছে। (জনকণ্ঠ ৩১-১২-১৯৯৯ ইং)
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত বিজ্ঞানীদের বহুপূর্বেই পৃথিবীতে বর্ষা ও বরফ সৃষ্টির পরিবেশ আসার আগমন উপলক্ষে একটি অবিকল হাদীস বলে গেছেন। এবং সে হাদীসের মধ্যে তিনি বর্ণনা করেছেন যে, পৃথিবীতে বর্ষা ও বরফের পরিবেশ সৃষ্টি করার মূল কারণ হচ্ছে নরকের দুটি শ্বাস প্রশ্বাস। অর্থাৎ যখন জাহান্নাম মানুষের মতো গরম নিঃশ্বাস ত্যাগ করে, তখন পৃথিবী সেই নরকের গরম নিঃশ্বাসের ধাক্কায় সূর্যের দিকে সামান্য হেলে যায়, যার ফলে তখন পৃথিবীর স্তর গরম হয়ে যায়, ফলে তখন পৃথিবীর বরফ গলতে শুরু করে এবং সেই বরফ গলা পানি হতেই পৃথিবীতে বর্ষা বা বন্যার পরিবেশ তৈরি হয়। আর যখন জাহান্নাম মানুষের মতো নিঃশ্বাস গ্রহণ করেন, তখন পৃথিবী সেই নরকের নিঃশ্বাসের টানে সূর্য হতে সামান্য দূরে সরে আসে, যার ফলে তখন পৃথিবীর স্তর শীতল হয়ে যায়, ফলে তখন পৃথিবীতে বরফ পড়তে শুরু করে এবং সেই বরফ হতেই পৃথিবীতে বরফের পাহাড় ও পর্বতের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। যেমন মহানবী (সা)-এর হাদীস-
حَدَّثَنَا أَبُو سَلْمَةَ بْنَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةً يَقُولُ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ اشْتَكَتِ النَّارُ إِلى رَبِّهَا فَقَالَتْ رَبِّ أَكَلَ بَعْضِي بَعْضًا فَأَذِنَ لَهَا بِنَفْسَيْنِ نَفْسٍ فِي الشَّتَاءِ وَنَفْسٍ فِي الصَّيْفِ فَأَشَدُّ مَا تَجِدُونَ مِنَ الزَّمْهَرِيرِ . وَأَشَدُّ مَا تَجِدُوْنَ مِنَ الْحُرِّ . صَحِيحُ الْبُخَارِي جِلْدِ أَوَّلُ صَفِّ كِتَابُ بَدْءِ الْخَلْقِ.
অর্থ: আবু হুরায়রা (রা) বলেন যে, রাসূল (সা) বলেছেন, জাহান্নাম তীব্র হতে তীব্রতরভাবে তার তাপমাত্রা অতিক্রম করার পর সে তার প্রতিপালকের নিকট বিনীতভাবে অভিযোগ করে বলে যে, হে প্রভু! আমার এক অংশ অপর অংশকে খেয়ে ফেলতে চাচ্ছে, তখন মহান আল্লাহপাক তাঁর দোয়া কবুল করেন এবং তাকে দুটি নিঃশ্বাসের ব্যবস্থা করে দেন। ইহাদের একটি হচ্ছে মানুষের মতো গরম নিঃশ্বাস ত্যাগ করার জন্য এবং অপরটি হচ্ছে মানুষের মতো নিঃশ্বাস গ্রহণ করার জন্য। এবং মহানবী (সা) বলেছেন যে, এ দুটি কারণেই তোমরা পৃথিবীতে তীব্রতর শীত ও গরম পেয়ে থাকো।
(সহীহ বুখারী হা/৩২৬০, ১ম খণ্ড-৪৬২ পৃষ্ঠা কিতাবু বাদদিয়ল খালক।)

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 মাটি

📄 মাটি


স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেন যে, মাটির মধ্যে 'নিশাধর' নামে এক প্রকার পদার্থ আছে, যা আমাদের সকল প্রকার ক্ষতিকারক রোগ জীবাণুগুলো ধ্বংস করে। তাই স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা সর্বপ্রকার রোগ জীবাণু সৃষ্টিকারী ক্ষতিকারক বস্তু বা আবর্জনা মাটির নীচে পুঁতে ফেলার জন্য কড়া নির্দেশ দেন।
তার বাস্তব প্রমাণ এই যে, মাটির মধ্যে যে কোনো বস্তু পুঁতে ফেললে, মাটি তাকে ধ্বংস করে, তার দেহে মিশিয়ে ফেলে, যদি মাটির মধ্যে নিশাধর নামে এক প্রকার পদার্থ না থাকত তবে কোনো বস্তুই মাটিতে পুঁতে ফেললে মাটিতে মিশে যেত না তাই এ বিষয়েও মহানবী (সা) বিজ্ঞানী ছিলেন, তাই তিনি বর্তমান বিজ্ঞানীদের প্রায় দেরহাজার বৎসর পূর্বেই জানায়ে দিয়ে গেছেন এবং এছাড়াও মাটির নিশাধর পদার্থ সকল রোগ- জীবাণু ধ্বংস করে একথাও মহানবী (সা) জানতেন তাই মহানবী মুহাম্মদ (সা)-ও উক্ত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের বহু পূর্বেই তার উম্মতকে নানা রোগ জীবাণু হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য মাটি ব্যবহার প্রসংগে হাদীসে বলে গেছেন। যেমন-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ طَهُورُ إِنَاءِ أَحَدِكُمْ إِذَا وَلَغَ فِيهِ الْكَلْبُ أَنْ يَغْسِلَهُ سَبْعَ مَرَّاتٍ أَوْلَا هُنَّ بِالتُّرَابِ .
অর্থ: আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, মহানবী (সা) বলেছেন, তোমাদের কারো পবিত্র পাত্রে যখন কোনো কুকুর 'চাটে' তখন তোমরা অবশ্যই উক্ত পাত্র প্রথমে একবার 'মাটি' দ্বারা ধৌত করে পরপর সাতবার ভালো করে ধুয়ে ফেলবে। (সহীহ মুসলিম হা/৬৭৭)
অন্যত্র মহানবী (সা) বলেছেন, যেমন-
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ إِذَا ذَهَبَ أَحَدُكُمْ إِلَى الْغَائِطِ فَلْيَذْهَبْ مَعَهُ بِثَلْثَةِ أَحْجَارٍ .
অর্থ: আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত যে, নিশ্চয় মহানবী (সা) বলেছেন, যখন তোমাদের মধ্যে কেউ পায়খানায় যাবে, তখন সে যেন অবশ্যই তিনটি মাটির পাথর বা খণ্ড সাথে করে নিয়ে যায়। (নাসায়ী হা/৪৪, ১৮ পৃষ্ঠা কিতাবুত তাহারাত)
মহানবী (সা) আরও বলেছেন। যেমন-
عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ جَرِيرٍ عَنِ الْمُغِيرَةِ عَنْ أَبِي زُرْعَةً عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا أَتَى الْخَلَاءَ أَتَيْتُهُ بِِمَاءٍ فِي تَوْرِ أَوْ رَكْوَةٍ فَاسْتَنْجِي ثُمَّ مَسَحَ يَدَهُ عَلَى الْأَرْضِ ثُمَّ آتَيْتُهُ بِإِنَاءٍ فَتَوَضَّنَا.
অর্থ: আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন মহানবী (সা)-এর অভ্যাস ছিল যে, যখন তিনি পায়খানায় আসতেন, তখন আমি তার কাছে একটি পানির বদনা অথবা একটি পানির ঘটি নিয়ে আসতাম। তারপর জরুরী কাজ শেষ হলে, উক্ত পানি খরচ করতেন। তারপর তাঁর (উক্ত বাম) হাত (পাক) মাটির মধ্যে ভালো করে ঘষতেন, অত:পর আমি তার জন্য পানির পাত্র নিয়ে আসতাম। অত:পর তিনি অযূ করতেন। (আবু দাউদ হা/৪৫, ১ম খণ্ড ৮ পৃষ্ঠা কিতাবুত তাহারাত)
সুতরাং মহানবী (সা)-এর উক্ত তিনটি হাদীস দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, মাটির মধ্যে যে, রোগজীবাণুনাশক পদার্থ আছে, তা তিনি জানতেন। তাই তিনি তার উম্মতগণকে নির্দেশ দিয়েছেন, তোমাদের কারো পাত্রে কুকুরে চাটলে এবং তোমাদের মধ্য হতে কেউ পায়খানা করার পর পানি খরচ করার পর অবশ্যই তোমরা উক্ত পাত্র ও তোমাদের উক্ত পানি খরচকৃত হাত পবিত্র মাটি দ্বারা ঘষে পরিষ্কার করবে।

📘 পরিবেশ ও স্বাস্থ বিজ্ঞানে মুহাম্মদ সাঃ > 📄 মেয়েদের মাসিক

📄 মেয়েদের মাসিক


স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেন যে, মেয়েদের মাসিক অবস্থায় যদি কোনো পুরুষ তার বৈধ স্ত্রীর নিকট গমন করে তবে উক্ত পুরুষের নিম্নলিখিত রোগগুলো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেমন: ১. খুজলী-পাঁচড়া। ২. পুরুষত্বহীনতা। ৩. পেশাবে জ্বালা ও মূত্রনালী দিয়ে পূঁজ নির্গত হওয়া। ৪. মেহ। ৫. সন্তানের কুষ্ঠ রোগ হওয়া অথবা সন্তান জন্মগতভাবে কুষ্ঠ রোগী হয়ে ভূমিষ্ঠ হওয়া। ৬. সন্তান বিকলাঙ্গ হয়ে ভূমিষ্ঠ হওয়া।
মাসিক অবস্থায় সহবাস কৃত মেয়েদেরও নিম্নলিখিত রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেমন- স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেন : ১. সর্বদাই মেয়েরা রক্ত প্রদর রোগে আক্রান্ত থাকে। ২. জরায়ু বের হয়ে ঝুলে পড়ে। ৩. কোনো কোনো মহিলার গর্ভের সন্তান অকালে ঝরে পড়ে যায়। ৪. এইডস রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ইত্যাদি।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের বহু পূর্বেই পবিত্র কুরআনের আলোকে বলে গেছেন যে, কোনো পুরুষ যেন মেয়েদের মাসিক অবস্থায় তার নিকট দৈহিক মিলনের জন্য গমন না করে। যেমন পবিত্র কুরআনের :
فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللَّهُ
অর্থ : মাসিক অবস্থায় তোমরা মেয়েদের সাথে দৈহিক গমনে বিরত থাক। তখন পর্যন্ত তোমরা তাদের নিকটবর্তী হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা পবিত্র না হয়। যখন তারা সম্পূর্ণরূপে পবিত্র হয়ে যাবে, তখন তাদের নিকট গমন কর। যেভাবে আল্লাহ পাক তোমাদেরকে হুকুম দিয়েছেন ঠিক সেইভাবে। (সূরা বাকারা : আয়াত-২২২)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00