📄 বিশ্রাম
স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেন যে, দুপুরে খাদ্য খাওয়ার পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেয়া এবং রাতে শোয়ার পূর্বে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করা, স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এতে মস্তিষ্ক ঠাণ্ডা থাকে এবং শারীরিক ক্লান্তি ও মানসিক অবসাদ বিদূরিত হয়। আর খাদ্য খাওয়ার পরই পরিশ্রম করা উচিত নয়। এ সময় আমাদের তন্ত্রীগুলো পরিপাক ক্রিয়ায় ব্যস্ত থাকে। নিদ্রাকালে আমাদের শরীর ও মন বিশ্রাম পায়। প্রকৃতপক্ষে নিদ্রা আমাদের মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেয়। তবুও মস্তিষ্কের কিছু অংশ কর্মরত থাকে বলে আমরা স্বপ্ন দেখি। যদি স্বপ্নবিহীন নিদ্রা হয় তাহলে বুঝতে হবে যে, মস্তিষ্ক পূর্ণ বিশ্রাম লাভ করেছে। কিন্তু মেরুরজ্জু এবং স্বয়ং সচল যন্ত্রগুলো নিদ্রার মধ্যেও কাজ করে। সুতরাং আমাদের শরীরের গোশতপেশী বিশেষ করে মস্তিষ্কের ক্ষয় পূরণের জন্য বিশ্রামের প্রয়োজন। এ সময় দেহতন্ত্রের জীবকোষগুলোর পূর্ণ গঠন ও বৃদ্ধি সাধন হয়ে থাকে।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের বহুপূর্বেই দুপুরের বিশ্রাম প্রসঙ্গে এবং রাতে শোয়ার পূর্বে হাঁটার বিকল্প হিসাবে এশার নামায আদায় করার নির্দেশ প্রদান করে হাদীস বলে গেছেন। যেমন-
حَدَّثَنَا عَبْدَانُ قَالَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ أَخْبَرَنَا حَمِيدٌ عَنْ أَنَسٍ قَالَ كُنَّا نُبَشِّرُ بِالْجُمُعَةِ وَنُقَيْلُ بَعْدَ الْجُمُعَةِ - (كُتاب البخاری جلد اول صفه كتاب الجمعة)
অর্থ: আনাস (রা) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন, আমরা সকাল সকাল জুমআর নামায আদায় করি, তারপর আমরা জুমআর নামাযের পর বিশ্রাম গ্রহণ করি। (কিতাবুল বুখারী হা/৯০৫, ১মখণ্ড-১২৩ পৃষ্ঠা কিতাবুল জুমআ ।)
حَدَّثَنَا خَالِدُ الْحَذَاءُ عَنْ أَبِي الْمِنْهَالِ عَنْ أَبِي بُرْزَةً وَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ كَانَ يَكْرَهُ النَّوْمَ قَبْلَ الْعِشَاءِ وَالْحَدِيثُ بَعْدَهَا . (جامع البخاري جلد اول صفه كتاب الصلوة)
অর্থ: আবু বুরজা (রা) হতে বর্ণিত যে, নিশ্চয় মহানবী (সা) এশার নামায আদায় করার পূর্বে ঘুমানো এবং এশার নামায আদায় করার পর গল্প গুজব করা অপছন্দ করতেন। (বুখারী হা/৫৬৮, ১ম খণ্ড-৮০ পৃষ্ঠা কিতাবুস সলাত।)
এছাড়াও বর্তমান যুগের স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর প্রতিটি মানুষকে বলেন যে, নিয়মিত বিশ্রাম করুন ও দিনের কিছু সময় নিরিবিলি কাটান এবং ব্যায়াম করুন। এতে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, আজ হতে প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বে মহানবী মুহাম্মদ (সা) এই পৃথিবীর মানুষদেরকে সুস্থ থাকার জন্য যে নামাযের ব্যবস্থা দিয়ে গেছেন, তাই হচ্ছে সুস্থ থাকার জন্য বর্তমান যুগের স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের উপদেশ। কারণ লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, নিয়মিত নামাযের মধ্যে নিয়মিত বিশ্রাম আছে এবং নিয়মিত নিরিবিলি সময় কাটানোর ব্যবস্থাও আছে এবং নিয়মিত ব্যায়ামেরও ব্যবস্থা আছে। সুতরাং দেখা যায় যে, নামাযই হচ্ছে একমাত্র স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের সুস্থ থাকার জন্য একমাত্র বিকল্প উপায়।
📄 জান্নাত
জান্নাত কি? এর পরিচয় প্রদান করে মহানবী মুহাম্মদ (সা) একটি বিশেষ হাদীস বলেছেন, যেমন-
حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْنُ فُضَيْلٍ عَنْ حَمْزَةَ الزِّيَاتُ عَنْ زِيَادٍ الطَّائِي عَنْ أَبِي هُرَيْرَةً قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ يَدْخُلَهَا يَنْعَمُ لَا يَبْأْسَ ، وَيُخَلِّدُ لَا يَمُوْتُ ، وَلَا تُبْلَى ثِيَابَهُمْ وَلَا يَفْنِي شَبَابُهُمْ - (ترمذی جلد ثانی صفه ابواب صفت الجنة)
অর্থ: আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, রাসূল (সা) বলেছেন, যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে সে সেখানে অনন্তকাল বসবাস করবে এবং সেখানে তার কখনো মরণ হবে না এবং সেখানে তার পরিধানের কাপড় কখনো পুরাতন হয়ে ছিঁড়ে যাবে না, এবং সেখানে তার যৌবন শক্তির কখনো কমতি হবে না। (তিরমিযী হা/২৫২৫, ২য় খণ্ড ৭৯ পৃষ্ঠা ছিফাতে জান্নাত অধ্যায়।)
এছাড়াও হাদীসের আলোকে কথিত আছে যে, জান্নাত হচ্ছে চির শান্তির আবাসস্থল, সেখানে সময় স্থির, তাই সেখানে সময়ের কোনো হিসাব নেই, সেখানে জান্নাতবাসীরা যখন আল্লাহপাককে এক নজর দেখবে, সেই এক নজর সময় হবে আমাদের এই পৃথিবীর চল্লিশ হাজার বৎসর, সেখানে স্বামী-স্ত্রীর এক এক মুহাব্বত তাদের নিকট এক মিনিট মনে হবে, অথচ ইহা আমাদের এই পৃথিবীর সত্তর হাজার বছরের সমপরিমাণ হবে।
অর্থাৎ জান্নাত মানুষ এমনি আনন্দে থাকবে, যার প্রভাবে পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ বছর তাদের নিকট পৃথিবীর এক সেকেণ্ডের চেয়ে দীর্ঘ মনে হবে না।
সেখানে জান্নাতবাসীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কখনো কিছু হবে না, সেখানে যা কিছু হবে তার সবই জান্নাতবাসীদের ইচ্ছার পক্ষেই হবে। যেমন জান্নাতবাসীরা সেখানে যখন যা চাবে, তখনি তা পাবে, যখন যা খেতে চাবে, তখনি তা পাবে, কিন্তু খাওয়ার পর সেখানে তাদের কখনো পেশাব পায়খানা হবে না, সেখানে খাওয়ার পর তাদের একটি ঢেঁকুর আসবে, সেই ঢেঁকুরই তাদের পেটের যাবতীয় খাবারের বর্জ্য বাষ্প হয়ে বের হয়ে যাবে এবং তা পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবে। সেখানে তাদের শরীর কখনো নাপাক হবে না। সেখানকার পরিবেশের কখনো পরিবর্তন হবে না। অর্থাৎ সেখানকার মানব-দানব, গাছপালা, পশুপাখি, ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্রের কখনো কোনো পরিবর্তন হবে না। আল্লাহপাক যাকে যেভাবে সৃষ্টি করেছেন, তা সদা একই অবস্থায় থাকবে। কখনো পুরাতন ও নষ্ট হবে না।
মহানবী (সা)-এর উল্লেখিত হাদীসটির সত্যতা প্রমাণ করার পক্ষে বিখ্যাত বিজ্ঞানী আইনস্টাইন বলেন যে, যখন তুমি অতি সুখের আনন্দে গল্প কর, তখন তোমার নিকট এক ঘণ্টা এক মিনিট মনে হয়, আর যখন তুমি তীব্র ক্ষুধায় খাদ্য সামনে রেখে কারো জন্য এক মিনিট অপেক্ষা কর তখন তা তোমার নিকট এক ঘণ্টা মনে হয়, এটাই হচ্ছে আমার রিলিটিভিটি মতবাদ বা আপেক্ষিক তত্ত্ব। আইনস্টাইনের এই আপেক্ষিক তত্ত্বই প্রমাণ করে যে, জান্নাতের এক এক মুহূর্ত পৃথিবীর হাজার হাজার বছরের চেয়ে বিশাল, কারণ জান্নাত হচ্ছে সীমাহীন শান্তি ও আনন্দের অবাসস্থল।
এছাড়াও বিজ্ঞানীরা আরো বলেন যে, আমাদের এই পৃথিবীর সর্বত্রই ব্যাক্টেরিয়া ও ভাইরাস নামে দু'টি জীবাণু পদার্থ আছে, যাদের প্রভাবে পৃথিবীর যাবতীয় পদার্থ, প্রাণী ও উদ্ভিদকুলের সবই সৃষ্টি হচ্ছে, ধ্বংস হচ্ছে, পুরাতন হচ্ছে এবং রূপান্তর হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলেন যে, যদি এই পৃথিবীতে ব্যাক্টেরিয়া ও ভাইরাস জীবাণু না থাকত, তবে পৃথিবীতে কখনো কারো সৃষ্টি-ধ্বংস পুরাতন ও রূপান্তর হতো না, মহান আল্লাহ পাক যাকে যেভাবে সৃষ্টি করেছেন সে সদা একই অবস্থায় বিরাজ করত। এতে প্রমাণ করে যে, জান্নাতে ব্যাক্টেরিয়া ও ভাইরাসের কোনো প্রভাব নেই, অর্থাৎ সেখানে মিকাঈল (আ)-এর সৃষ্টি এবং আজরাঈল (আ)-এর ধ্বংস ক্রিয়ার কোনো কাজ নেই, তাই সেখানে কখনো কারো সৃষ্টি বা জন্ম নেই, ধ্বংস বা মৃত্যু নেই, পুরাতন বা নষ্ট নেই, রূপান্তর বা পরিবর্তন নেই। মহান আল্লাহপাক যাকে যে অবস্থায় রাখছেন, সে সদা একই অবস্থায় থাকবেন।
জান্নাতে কখনো কারো ক্ষুধা লাগবে না, পিপাসা লাগবে না। কোনো প্রকার অস্থির ক্লান্তি লাগবে না। কখনো কোনো রোগ হবে না, এর মূল কারণ হচ্ছে, জান্নাতে ব্যাক্টেরিয়া ও ভাইরাসের কোনো অস্তিত্ব নেই, পৃথিবীতে ব্যাক্টেরিয়া ও ভাইরাস আছে বলেই পৃথিবীর সকল প্রাণীর জীবন-মরণ, ধ্বংস, ক্ষুধা, পিপাসা, অস্থিরতা, জ্বালা-যন্ত্রণা, রোগ বালাই ইত্যাদি আছে। জান্নাতে সবকিছু তাঁর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল, যদি কেউ ইচ্ছা করে খাবো না, পান করবো না, পৃথিবীর হাজার হাজার বৎসর চলে যাবে তাতেও কোনো ক্ষুধা লাগবে না, পিপাসা হবে না, এর মূল কারণই হচ্ছে সেখানে ব্যাকক্টেরিয়া ও ভাইরাসের কোনো প্রভাব নেই। প্রকাশ থাকে যে, যদি পৃথিবীতে শুধু ভাইরাস থাকত তাহলে পৃথিবীর প্রতিটি জীব ও উদ্ভিদ হিমালয় পর্বতের ন্যায় বিশাল থাকত এবং এরপরও আরো বিশাল হওয়ার ধারা অব্যাহত থাকত। যদি পৃথিবীতে শুধু ব্যাক্টেরিয়া থাকত তাহলে পৃথিবীতে কোনো জীব ও উদ্ভিদের অস্তিত্ব থাকত না। সুতরাং ব্যাক্টেরিয়া ও ভাইরাস আছে বলেই পৃথিবীতে সকল প্রাণী ও উদ্ভিদের জন্ম ও মৃত্যু আছে।
তা-হলে জান্নাত কোথায়, কত বড়? মহান আল্লাহপাকের আটটি জান্নাতই মহান আল্লাহপাকের আরশে আযীমের নিচে ও এর চারপাশে অবস্থিত এবং ঠিক আরশে আযীমের নিচেই জান্নাতুল ফেরদাউস অবস্থিত এবং এক জান্নাত হতে অন্য জান্নাতের দূরত্ব কোটি কোটি ফেরেশতাবর্ষ মাইল এবং এক ফেরেশতা বর্ষ মাইল হচ্ছে- 9×10²⁰×6×10¹² = 54×10³² অর্থাৎ ফেরেশতাদের গতিবেগ এক বৎসরে 540000, 0000000, 0000000, 0000000, 0000000, 00000, 0000০, মাইল, অর্থাৎ পাঁচ লক্ষ চল্লিশ হাজার, কোটি × কোটি × কোটি × কোটি মাইল। জাহান্নামের আলোচনায় এর ব্যাখ্যা করা হয়েছে। জান্নাতের আয়তন কত বড় তা একমাত্র আল্লাহপাক ছাড়া আর কেউ জানে না। তবে জান্নাতের প্রন্থ সম্পর্কে মহান আল্লাহপাক বলেন, জান্নাতের প্রস্থ হচ্ছে পৃথিবীর মাটি হতে উপরে আকাশের ছাদ পর্যন্ত বিশাল অর্থাৎ জান্নাতের প্রস্থ হচ্ছে এক আকাশ হতে অন্য আকাশ পর্যন্ত। যেমন- মহান আল্লাহপাকের বাণী-
وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا كَعَرْضِ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ.
অর্থ: এবং জান্নাত যার প্রস্থ হচ্ছে যেমন- আকাশ ও পৃথিবীর মাঝের সমপরিমাণ দূরত্বের সমান। (সূরা হাদীদ: আয়াত-২১)
প্রকাশ্য থাকে যে, এক আকাশ হতে অপর আকাশের দূরুত্ব পথ হচ্ছে পাঁচশত ফেরেশতা বর্ষ মাইল, যেমন এ সম্পর্কে মহানবী (সা)-এর একটি হাদীস। যেমন-
حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ قَالَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ قَالَ أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ يَزِيدَ عَنْ أَبِي السَّمْعِ عَنْ عِيسَى بْنَ هِلَالٍ الصَّدِ فِي عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَمْرٍ وَبْنِ الْعَاصِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ وَهِيَ مُسَيْرَةٌ خَمْسَمِائَةِ سنة - الترمزى جلد ثاني صفة جهنم )
অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনে আমর বিন আ'স (রা) বলেন যে, মহানবী (সা) বলেছেন, আকাশ হতে পৃথিবীর বুকের মাটি পর্যন্ত দূরত্ব হচ্ছে পাঁচশত বছরের পথ। অর্থাৎ, এক আকাশ হতে অন্য আকাশের দূরত্ব হচ্ছে পাঁচশত ফেরেশতা বর্ষ মাইল। (তিরমিজি হা/২৫৮৮, ২য় খণ্ড ৮৬ পৃষ্ঠা আবুওয়াবুস ছিফাতু জাহান্নাম)
এবং এক জান্নাত হতে অন্য জান্নাতের দূরুত্ব কোটি কোটি ফেরেশতা বর্ষ মাইল, তবে ফেরেশতাদের গতিবেগ প্রতি সেকেন্ডে কত তা একমাত্র আল্লাহ তায়ালা ছাড়া আর কেও জানে না। তবে বিখ্যাত বিজ্ঞানী আইনস্টাইন-এর E=MC²এই সূত্রের সাহায্যে ফেরেশতাদের প্রতি সেকেন্ডে গতিবেগের একটি সম্ভাব্য ধারণা দেওয়া হলো। যেমন-
বিখ্যাত বিজ্ঞানী আইনস্টাইন দেখান যে, পদার্থ ও শক্তি প্রকৃতপক্ষে অভিন্ন। M ভর বিশিষ্ট কোনো বস্তুকে বা, কোনো পদার্থকে কোনো উপায়ে ধ্বংস করতে পারলে ইহা হতে প্রচুর শক্তি নির্গত হয়, এবং এই শক্তির পরিমাণ হল, E=MC²। এখানে "C" হল আলোকের বেগ। ইহা এক বিস্ময়কর সূত্র। উপরের সূত্রের সাহায্যে প্রমাণ করলে দেখা যায় যে, এক গ্রাম ভরের কোনো পদার্থ হতে প্রাপ্ত শক্তি 1x (3 ×10¹°)² = 9 × 1020 আর্গ। অর্থাৎ এক কেজি ওজনের কোনো পদার্থকে কোনো উপায়ে ধ্বংস করলে ইহা হতে 9 × 1020 কেজির সমপরিমাণ শক্তি নির্গত হয়।
E=MC² এই সূত্রের দৃষ্টিকোণ হতে বলা যায় যে, আলোর স্বাভাবিক গতিবেগ হচ্ছে প্রতি সেকেন্ডে 186000 হাজার মাইল। তাহলে এই আলোর ভর ধ্বংস করে এর দ্বারা মহান আল্লাহ পাক যে ফেরেশতা সৃষ্টি করেছেন, তার গতিবেগ আলোর চেয়ে প্রতি সেকেন্ডে হবে 9 × 10²°x 186000 = 1674 × 10²³ মাইল। অর্থাৎ ফেরেশতাদের গতিবেগ প্রতি সেকেন্ডে 1674000, 00000, 00000, 00000, 00000 মাইল। অর্থাৎ ষোল হাজার সাতশত চল্লিশ লক্ষ, লক্ষ, লক্ষ কোটি মাইল।
তাহলে ফেরেশতারা প্রতি সেকেন্ডে যায় 1674 × 10²³ মাইল, তা হলে ফেরেশতারা এক বৎসরে যায় 9 × 10²° × 6 × 10¹² = 54 × 10³² মাইল। অর্থাৎ ফেরেশতাদের গতিবেগ এক বৎসরে 540000, 0000000, 0000000, 0000000, 0000000 কোটি মাইল। অর্থাৎ পাঁচ লক্ষ চল্লিশ হাজার, কোটি × কোটি × কোটি × কোটি মাইল।
উপরিউক্ত আলোচনা দ্বারা দেখা যায় যে, আল্লাহ তায়ালার এক একটি জান্নাত বিশাল বিশাল, তাই পৃথিবীতে মানুষ সৃষ্টির শুরু হতে কিয়ামত পর্যন্ত যত কোটি কোটি মানুষ সৃষ্টি হবে তার প্রত্যেকটি মানুষকে এই পৃথিবীর দশটি পৃথিবীর সমপরিমাণ জায়গা দেওয়া আল্লাহপাকের শুধু একটি জান্নাতের একটি কোণের অংশ পরিপূর্ণ হবে না।
আল্লাহ তায়ালা যাকে সবচেয়ে নিম্নমানের জান্নাতটি প্রদান করবেন সেটাও আমাদের এই পৃথিবীর আয়তনের দশগুণ সমপরিমাণ হবে। যেমন- এ সম্পর্কে মহানবী (সা)-এর একটি হাদীস। যেমন-
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ﷺ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنِّي لَأَعْرِفُ أُخِرَ أَهْلِ النَّارِ وَخُرُوجًا مِّنَ النَّارِ رَجُلٌ يَخْرُجُ مِنَ النَّارِ زَحْفٌ فَيُقَالُ لَهُ انْطَلِقُ فَإِذَا دَخَلَ الْجَنَّةَ قَالَ فَيَذْهَبُ فَيَدْخُلُ الْجَنَّةَ . فَيَجِدُ النَّاسَ قَدْ أَخَذُوا الْمَنَازِلَ فَيُقَالُ لَهُ أَتَذْكُرُ الزَّمَانَ الَّذِي كُنْتَ فِيْهِ فَيَقُولُ نَعَمْ فَيُقَالُ لَهُ تَمَنَّ فَتَمَنَّى فَيُقَالُ لَهُ لَكَ الَّذِي تَمَنَّيْتَ وَ عَشَرَةَ أَضْعَانِ الدُّنْيَا . (مسلم شریف کتاب الایمان)
অর্থ: আব্দুল্লাহ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন : জাহান্নাম হতে সর্বশেষে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আমি চিনি, তার অবস্থা হবে এই যে, সে হামাগুড়ি দিয়ে জাহান্নাম হতে বের হবে, তাকে বলা হবে চল, যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে তখন দেখবে যে পূর্ব হতেই সকল মানুষ জান্নাতে স্ব-স্বস্থান দখল করে রেখেছে। তখন তাকে বলা হবে তোমার কি ঐ সময়ের কথা স্মরণ আছে, যে সময় তুমি জাহান্নামে ছিলে? সে বলবে হ্যাঁ! তখন তাকে বলা হবে চাও, সে চাইবে তখন তাকে বলা হবে তোমার জন্য রয়েছে তুমি যা চেয়েছ তা এবং তার সাথে আরও তোমাকে এই দুনিয়ার দশ দুনিয়ার সমান সমপরিমাণ জায়গা দেওয়া হলো। (মুসলিম, হা/৪৮০, কিতাবুল ঈমান)
তাহলে জান্নাতের দৈর্ঘ্য কত বিশাল তা একমাত্র আল্লাহপাক ছাড়া আর কেউ জানে না, আল্লাহপাক যখন জান্নাত সৃষ্টি করলেন, তারপর জান্নাতকে হুকুম দিলেন, বড় হতে থাকো, তারপর জান্নাত বড় হতে শুরু করল, অদ্যাবধি সে জান্নাত বড় হতেই চলেছে, তা হলে বুঝা যায় যে, জান্নাত অনেক বিশাল।
জান্নাত হচ্ছে একশ তালা এবং এক তালা হতে অপর তালার দূরত্ব এক আকাশ হতে অন্য আকাশ পর্যন্ত বিশাল। যেমন- এ ব্যাপারে মহানবী (সা)-এর একটি বিখ্যাত হাদীস নীচে বর্ণনা করলাম।
عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ فِي الْجَنَّةِ مِائَةَ دَرَجَةٍ مَا بَيْنَ كُلَّ دَرَجَتَيْنِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ - (ترمذى جلد الثاني صفه ابواب صفت الجنة)
অর্থ: মুয়াজ বিন জাবাল (রা) হতে বর্ণিত, মহানবী (সা) বলেছেন, নিশ্চয় জান্নাতে একশটি তলা আছে এবং প্রত্যেকটি তলার মাঝের দূরত্ব হচ্ছে- আকাশ ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান। (তিরমিযী হা/২৫৩০, ২য় খণ্ড-৭৯ পৃষ্ঠা আবুওয়াবু ছিফাতুল জান্নাত)
জান্নাতের প্রত্যেকটি স্তরেই মহান আল্লাহপাক অসংখ্য গাছ-পালার বাগানসমূহ দ্বারা সবুজ বেষ্টনী সৃষ্টি করে রেখেছেন এবং উক্ত বাগানগুলির এক একটি গাছ এতোই বিশাল যে, তার এক একটি গাছের ছায়া অতিক্রম করতে একটি শক্তিশালী ঘোড়া একশত বৎসর দ্রুত দৌড়িয়েও শেষ করতে পারবে না। যেমন- এ সম্পর্কে মহানবী (সা) একটি বিখ্যাত হাদীস বলেছেন-
حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِنَّ فِي الْجَنَّةِ لَشَجَرَةً يَسِيرُ الرَّاكِبُ فِي ظِلْهَا مِائَةَ عَامٍ لَا يَقْطَعُهَا .
অর্থ: আনাস বিন মালিক (রা) হতে বর্ণিত যে, মহানবী (সা) বলেছেন, নিশ্চয় জান্নাতে যে বৃক্ষ আছে, যার একটি গাছের ছায়া একটি শক্তিশালী ঘোড়া একশ বৎসর দ্রুতগতিতে দৌড়িয়েও শেষ করতে পারবে না। (বুখারী হা/৬৫৫২, ১ম খণ্ড ৪৬১ পৃষ্ঠা কিতাবু বা'দ ইল খালক।)
যেখানে কাজ আছে সেখানে সময় আছে, বিখ্যাত বিজ্ঞানী আইনস্টাইন বলেছেন যে, প্রত্যেক কাজের গতির সাথে সময় রিলেটিভ বা সম্পৃক্ত অর্থাৎ কাজ না থাকলে সময়ের কোনো হিসাব নেই। এছাড়াও বর্তমান বিশ্বের বহুল আলোচিত বিজ্ঞানী উইলিয়াম স্টিফেন হকিং বলেছেন যে, সময় হচ্ছে মহাবিশ্বের প্রতিটি কাজের শুরু হতে শেষ পর্যন্ত হিসাবের মাপকাঠি মাত্র এবং মহাবিশ্বের প্রত্যেক বস্তুরই শুরু হতে শেষ পর্যন্ত একটি নির্ধারিত গতি আছে যা সময় নামে পরিচিত। এছাড়া সময়ের কোনো অস্তিত্ব নেই। তাই আমাদের প্রিয়নবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত বিজ্ঞানীদ্বয়ের বহুপূর্বেই বলে গেছেন যে, জান্নাতে কারো কোনো কাজ নেই, জন্ম নেই, মৃত্যু নেই, তাই সেখানে সময়েরও কোনো হিসাব নেই, তাহলে জান্নাতবাসীদের অনন্তকাল সময় অতিবাহিত হবে কিভাবে? এটাই জানার মূল বিষয়- জান্নাত মহান আল্লাহপাক জান্নাতবাসীদের জন্য অসংখ্য দর্শনীয় স্থান সৃষ্টি করে রেখেছেন, এক এক দর্শনীয় স্থানে যখন জান্নাতবাসীরা বেড়াতে যাবে, সেখানে তারা মহান আল্লাহপাকের সীমাহীন সৃষ্টির সৌন্দর্যের কলাকৌশল দেখে আনন্দে এমনিভাবে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকবে, এতে তাদের এই পৃথিবীর কোটি কোটি বৎসর পার হয়ে যাবে, যা তখন তাদের কাছে ক্ষণকাল মনে হবে। যেমন- অতি আনন্দের গল্প করার সময় এক ঘণ্টা একমিনিট মনে হয়।
এই কোটি কোটি বৎসরে তারা যদি কিছুই না খায়, কিছুই পান না করে, তাতে তাদের কোনো ক্ষুধা লাগবে না। কোনো পিপাসা লাগবে না এবং কোনো ক্লান্তি বা দুর্বলতা অনুভব করবে না। কারণ সেখানে জন্ম-মৃত্যু বা ব্যক্টেরিয়া ও ভাইরাসের কোনো প্রভাব নেই। এভাবেই তাদের সেখানে কোটি কোটি বৎসর পার হতেই থাকবে, যা তাদের কাছে সাদা ক্ষণকাল, ক্ষণকাল মনে হতেই থাকা অব্যাহত থাকবে।
উপরোক্ত জান্নাতের শান্তি প্রত্যেক মুমিন মুসলমানগণ তাদের মৃত্যুর পর হতেই পেতে থাকবে, যেমন মহান আল্লাহপাক বলেছেন- প্রত্যেক মুমিন মুসলমানগণ তার মরণের পর হতে "ইল্লিনে" বসবাস করবে। "ইল্লিন" - হচ্ছে হাশরের হিসাব-নিকাশের পূর্বে মুমিনদের বাসস্থান, যা আল্লাহপাকের বেহেস্তেরই একটি মহান বিকল্প ব্যবস্থা।
📄 ব্যাঙের ছাতা
বিখ্যাত বিজ্ঞানী আলেকজাণ্ডার ফ্লেমিং কোনো এক সময় কিছু ব্যাঙের ছাতা নামক জীবাণু নিয়ে গবেষণা করতেছিলেন, তখন হঠাৎ তার নজরে এলো যে, এক ধরনের ব্যাঙের ছাতা জীবাণুদের বাড়তে দিচ্ছে না। তিনি পরীক্ষা করে দেখলেন যে, সে ধরনের ব্যাঙের ছাতা লেবু জাতীয় ফলের গাছে জন্মায় এবং তখনকার লোকের নিকট এই জাতীয় ব্যাঙের ছাতা নোটেটাম ব্যাঙের ছাতা নামে পরিচিত ছিল। অবশেষে তিনি এই ব্যাঙের ছাতা হতেই ১৯২৮ইং সালে পেনিসিলিন নামে এক প্রকার অ্যান্টিবাইওটিক ঔষধ আবিষ্কার করেন। এবং তিনি এর উপর ১৯৪৫ইং সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
এরপর বিপুল উদ্দীপনা ও উৎসাহে আরও নানা প্রজাতির ব্যাঙের ছাতা নিয়ে গবেষণা করেন, বিখ্যাত বিজ্ঞানী ওয়াক্সম্যান আবিষ্কার করেন স্ট্রেপটোমাইসিন, বা প্রধানত যক্ষ্মার ঔষধ নামে পরিচিত। এরপর আরও বিভিন্ন প্রজাতির ব্যাঙের ছাতা নিয়ে পরীক্ষা করে বিখ্যাত বিজ্ঞানী সিম্পসন ও হারিসনদ্বয় ক্লোরোফরম আবিষ্কার করেন। তারপর আরও নানা প্রজাতির জীবাণুমূলক ব্যাঙের ছাতা খুঁজে বের করে তৈরি হল আরও নানা ঔষধ যেমন অরিওমাইসিন, ক্লোরোমাইসিন, টেরামাইসিন ইত্যাদি এবং এই ব্যাঙের ছাতা দ্বারা বর্তমানে আরও নতুন ঔষধ বের হয়েছে। যেমন- এফিড্রিন, এরিথ্রোমাইসিন ও টেট্রাসাইক্লিন, এছাড়া আরও নানা ঔষধ।
এ্যালকোহল, পাউরুটি, কেক, জৈব এ্যাসিড ও ভিটামিন "ডি” উৎপাদনে ব্যাঙের ছাতার ব্যবহার হয়ে থাকে। শস্য নষ্টকারী কীট পতঙ্গ দমনে আইজেরিয়া নামে এক প্রকার ব্যাঙের ছাতা কাজে লাগে। প্লাস্টিক ও বন্ধক কণিকার উৎপাদনে বিভিন্ন প্রজাতির ব্যাঙের ছাতার ব্যবহার হয়ে থাকে।
বর্তমানে এক জাতীয় ব্যাঙের ছাতা সবজি হিসেবে আবিষ্কৃত হয়েছে ঐগুলো সম্পর্কে খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞানীরা বলেন যে, সবজি জাতীয় ব্যাঙের ছাতা এক ধরনের সুস্বাদু সবজি যাতে মাছ গোשতের চেয়ে দ্বিগুণ প্রোটিন রয়েছে। এতে স্নেহ ও শর্করা জাতীয় উপাদান নেই বলে ব্যাঙের ছাতা ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ জনিত রোগীদের জন্য খুবই উপকারী। স্যুপ, গোশত সালাদ কিম্বা যে কোনো তরকারীতে ব্যাঙের ছাতা ব্যবহার করা যায়। প্রকাশ থাকে যে, কচুর মধ্যে যেমন জাতি কচু ও অজাতি কচু আছে ঠিক তেমনি সবজি জাতীয় ব্যাঙের ছাতার মধ্যেও একটি মিঠা জাতীয় ব্যাঙের ছাতা অপরটি বিষাক্ত জাতীয় ব্যাঙের ছাতা। যেটি মিঠা জাতীয় ব্যাঙের ছাতা সেইটি আমরা সুস্বাদু সবজি জাতীয় খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করতে পারি কিন্তু যেটি বিষাক্ত জাতীয় ব্যাঙের ছাতা সেটি অবশ্যই আমাদের বর্জন করতে হবে, কারণ ইহা খেলে মৃত্যুও ঘটে যেতে পারে। তাই ইহা গ্রহণ করার সময় জেনে শুনে অথবা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে গ্রহণ করতে হবে।
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত চিকিৎসা ও খাদ্য পুষ্টি বিজ্ঞানীদের বহুপূর্বেই চিকিৎসার ক্ষেত্রে ইহার ব্যবহার ও খাদ্য হিসাবে ইহার গ্রহণ সম্পর্কে ইঙ্গিত প্রদান করে হাদীস বলে গেছেন। যেমন:
حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ قَالَ سَمِعْتُ عُمَرِو بْنِ حَرِيثٍ قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ زَيْدٍ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ ﷺ يَقُوْلُ الْكَمَأَةُ مِنَ الْمَنِ وَمَاؤُهَا شِفَاءُ لِلْعَيْنِ.
অর্থ: সাঈদ বিন জায়েদ (রা) বলেন যে, আমি মহানবী (সা) কে বলতে শুনেছি- তিনি বলেছেন, ব্যাঙের ছাতা এসেছে "মান্না" হতে এবং ইহার পানি বা ড্রপ চোখের চিকিৎসার জন্য ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। (বুখারী হা/৫৭০৮, ২য় খণ্ড-৮৫ পৃষ্ঠা কিতাবুত তিব্ব)
এই হাদীসে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, মহানবী (সা) বলেছেন, ব্যাঙের ছাতা এসেছে মান্না হতে, মান্না ছিল মূসা (আ.)-এর আমলে আল্লাহপাকের রহমতস্বরূপ এক প্রকার সুস্বাদু খাদ্য যা মূসা (আ.) আল্লাহপাকের নিকট প্রার্থনা করে পেয়েছিলেন। তা দেখতে প্রায় ব্যাঙের ছাতার মতোই ছিল, এবং তা ব্যাঙের ছাতার মতোই মাটিতে বা গাছের গোড়ায় বা ডালে উৎপাদিত হত। তাই মহানবী (সা) বলেছেন যে, ব্যাঙের ছাতা এসেছে মান্না হতে। সুতরাং মান্না যেহেতু সুস্বাদু খাদ্য ছিল, তাই তার উত্তরসূরী হিসেবে ব্যাঙের ছাতাও সুস্বাদু খাদ্য হিসেবে গণ্য হবে।
অতএব, প্রতীয়মান হয় যে, বর্তমান যুগের বিজ্ঞানীরা ব্যাঙের ছাতা দিয়ে নানা ঔষধ তৈরি করেছেন এবং সবজি জাতীয় খাদ্য হিসেবে খাচ্ছেন, অথচ মহানবী (সা) তাদের বহুপূর্বেই তা পৃথিবীর মানুষদেরকে বলে গেছেন ব্যাঙের ছাতার পানি চোখের ঔষধ এবং ইহা এসেছে "মান্না" জাতীয় খাদ্যের বিকল্প হিসাবে তাই ইহা দেখে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে খাদ্য হিসেবে খাওয়া যাবে।
📄 বর্ষা ও বরফ
বিজ্ঞানীরা বলেন যে, বছরের যে সময়গুলিতে পৃথিবী সূর্যের দিকে সামান্য হেলে থাকে, সেই সময়গুলিতে, পৃথিবীতে গরমকাল বিরাজ করে। এবং বছরের যে সময়গুলিতে পৃথিবী সূর্য হতে সামান্য দূরে হেলে থাকে, সেই সময়গুলিতে পৃথিবীতে শীতকাল বিরাজ করে।
তাই বিজ্ঞানীরা বলেন যে, যখন পৃথিবীতে গরমকাল আসতে থাকে ঠিক তখন হতেই পৃথিবীর বরফ গলতে থাকে এবং সেই বরফ গলার পানি নদীতে পড়তে থাকে, এতে নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়, যাকে বলা হয় যে, নদীতে জোয়ার এসেছে। এইভাবে যখন গরমের আধিক্য তীব্রতর হয় তখন বরফ গলার হারও তীব্রতর হয়। যার ফলে বরফ গলার পানির হার পর্যাপ্ত পরিমাণে বেড়ে গিয়ে পৃথিবীতে বর্ষা বা বন্যার সৃষ্টি করে।
আবার যখন পৃথিবীতে শীতকাল আসতে থাকে, ঠিক তখন হতেই পৃথিবীতে পুনরায় আবার বরফ পড়তে থাকে এবং বর্ষা ও বন্যার পানি কমতে থাকে। যাকে বলা হয় যে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল শুষ্ক হয়ে গেছে, তাই নদীর পানি উক্ত শুষ্ক বাতাসে বাষ্প হয়ে উড়ে যাচ্ছে তাই নদীর পানি শুকিয়ে যচ্ছে এবং উক্ত শুষ্ক বাতাসের জলীয় বাষ্প আসন্ন তীব্র শীতের সাথে একত্র হয়ে বরফে পরিণত হয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে পতিত হচ্ছে। এবং পৃথিবীতে বরফের পাহাড় ও পর্বত সৃষ্টি করছে। (জনকণ্ঠ ৩১-১২-১৯৯৯ ইং)
অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত বিজ্ঞানীদের বহুপূর্বেই পৃথিবীতে বর্ষা ও বরফ সৃষ্টির পরিবেশ আসার আগমন উপলক্ষে একটি অবিকল হাদীস বলে গেছেন। এবং সে হাদীসের মধ্যে তিনি বর্ণনা করেছেন যে, পৃথিবীতে বর্ষা ও বরফের পরিবেশ সৃষ্টি করার মূল কারণ হচ্ছে নরকের দুটি শ্বাস প্রশ্বাস। অর্থাৎ যখন জাহান্নাম মানুষের মতো গরম নিঃশ্বাস ত্যাগ করে, তখন পৃথিবী সেই নরকের গরম নিঃশ্বাসের ধাক্কায় সূর্যের দিকে সামান্য হেলে যায়, যার ফলে তখন পৃথিবীর স্তর গরম হয়ে যায়, ফলে তখন পৃথিবীর বরফ গলতে শুরু করে এবং সেই বরফ গলা পানি হতেই পৃথিবীতে বর্ষা বা বন্যার পরিবেশ তৈরি হয়। আর যখন জাহান্নাম মানুষের মতো নিঃশ্বাস গ্রহণ করেন, তখন পৃথিবী সেই নরকের নিঃশ্বাসের টানে সূর্য হতে সামান্য দূরে সরে আসে, যার ফলে তখন পৃথিবীর স্তর শীতল হয়ে যায়, ফলে তখন পৃথিবীতে বরফ পড়তে শুরু করে এবং সেই বরফ হতেই পৃথিবীতে বরফের পাহাড় ও পর্বতের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। যেমন মহানবী (সা)-এর হাদীস-
حَدَّثَنَا أَبُو سَلْمَةَ بْنَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةً يَقُولُ قَالَ رَسُولُ الله ﷺ اشْتَكَتِ النَّارُ إِلى رَبِّهَا فَقَالَتْ رَبِّ أَكَلَ بَعْضِي بَعْضًا فَأَذِنَ لَهَا بِنَفْسَيْنِ نَفْسٍ فِي الشَّتَاءِ وَنَفْسٍ فِي الصَّيْفِ فَأَشَدُّ مَا تَجِدُونَ مِنَ الزَّمْهَرِيرِ . وَأَشَدُّ مَا تَجِدُوْنَ مِنَ الْحُرِّ . صَحِيحُ الْبُخَارِي جِلْدِ أَوَّلُ صَفِّ كِتَابُ بَدْءِ الْخَلْقِ.
অর্থ: আবু হুরায়রা (রা) বলেন যে, রাসূল (সা) বলেছেন, জাহান্নাম তীব্র হতে তীব্রতরভাবে তার তাপমাত্রা অতিক্রম করার পর সে তার প্রতিপালকের নিকট বিনীতভাবে অভিযোগ করে বলে যে, হে প্রভু! আমার এক অংশ অপর অংশকে খেয়ে ফেলতে চাচ্ছে, তখন মহান আল্লাহপাক তাঁর দোয়া কবুল করেন এবং তাকে দুটি নিঃশ্বাসের ব্যবস্থা করে দেন। ইহাদের একটি হচ্ছে মানুষের মতো গরম নিঃশ্বাস ত্যাগ করার জন্য এবং অপরটি হচ্ছে মানুষের মতো নিঃশ্বাস গ্রহণ করার জন্য। এবং মহানবী (সা) বলেছেন যে, এ দুটি কারণেই তোমরা পৃথিবীতে তীব্রতর শীত ও গরম পেয়ে থাকো।
(সহীহ বুখারী হা/৩২৬০, ১ম খণ্ড-৪৬২ পৃষ্ঠা কিতাবু বাদদিয়ল খালক।)